| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
অসুস্থ মানুষের সেবা করা, অবশ্যই মহৎ একটি কাজ।
বয়স হয়ে গেলে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে। আসলে মানুষ অসুস্থ হয়ে গেলেই অসহায় হয়ে যায়। অবচেতন মন বারবার বলে- এবার তুমি শেষ। তোমার সময় শেষ। অনেক বেঁচেছো, আর কত! প্রস্তুত হও। মৃত্যু সন্নিকটে! মানুষ মৃত্যুকে ভয় পায়। মৃত্যু থেকে বাঁচতে ধর্মের দিকে ঝুঁকে। মসজিদে যারা নিয়মিত নামাজ পড়ে, এরা বেশির ভাগই বয়স্ক। সারা বছর'ই অসুস্থ মানুষ দিয়ে হাসপাতাল গুলো ভরা থাকে। সরকারি হাসপাতাল গুলোতে ফ্লোরে অসুস্থ মানুষ শুয়ে আছে। অসুস্থ মানুষের সাথে তার পুরো পরিবার। এরা কাঁথা বালিশ আর চাঁদর সাথেই নিয়ে আসে। হয়তো গ্রাম থেকে এসেছে। অসুস্থ মানুষ সেবা চায়। এই সমাজে বহু মানুষ অসুস্থ হলে সেবা যত্ন পায় না। আজকালকার মানুষ গুলো মায়াদয়াহীন। চলার পথে কেউ হঠাত কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে ফিরেও তাকায় না। লোকজন সৌদি গিয়ে হজ্ব করে। লোকজন মন্দিরে গিয়ে পূজা করে। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, জীবে দয়া করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। ধার্মিকেরা মনে করে মসজিদে দান করলেই অনেক সওয়াব। মসজিদে টাকা দেওয়ার চেয়ে, একজন অসহায় দরিদ্র মানুষকে একটা আয়ের পথ করে দিলে অনেক বেশি পূণ্যের কাজ হয়।
১৯১০ সালে আমেরিকার- মন্টানা, আইডাহো এবং ওয়াশিংটনে আগুন লাগে।
ভয়াবহ আগুন। কিছুতেই আগুন নেভানো যাচ্ছিলো না। এদিকে ১৫ দিন পার হয়ে যায়। গাছপালা সব পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায়। আগুন নিভাতে গিয়ে ৭৮ জন ফায়ার সার্ভিসের লোক মারা যায়। এদিকে ১৯১০ সালে আলবেনিয়া'তে এক মহীয়সী নারীর জন্ম হয়। নাম তার 'গোস্কসা'। আলবেনিয়া'র রাজধানী-তিরানা। জনসংখ্যা মাত্র ৩৩ লাখ। আয়তন মাত্র ১১ হাজার বর্গমাইল, যা বাংলাদেশের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। দেশটি ১৯১২ সালে অটোমান সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ছবির মতো সুন্দর দেশ। প্রচুর গাছপালা আছে। দেশটির বেশির ভাগ মানুষ মুসলমান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায়। যাইহোক, 'গোস্কসা' মূলত একটি তুর্কি শব্দ। যার অর্থ 'কুসুমকলি'। গোস্কসা'র বাবা একজন রাজনীতিবিদ। গোস্কসা'র যখন ৯ বছর, তখন তার বাবা মারা যায়। এরপর তাদের পরিবারে নেমে আসে অভাব। অভাব মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু অভাবের কারণে অনেক অভিজ্ঞাতা অর্জিত হয়। অভাব তাদের লড়াইম করতে শেখায়।
গোস্কসা'র ভাইবোন সবাই বিপদে পড়ে যায়। দেখা দেয় সংসারে চরম অভাব।
জামা কাপড় সেলাই করে কোনো রকম সংসার টেনে নেয় গোস্কসা'র মা। অভাব-অনটনে গোস্কসা একদিন বড় হয়ে যায়। একদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠে গোস্কসা বুঝতে পারলো তার বয়স ১৮ হয়ে গেছে! সে অন্য দশটা মেয়ের মতো হবে না। সে হবে সবার থেকে আলাদা। গোস্কসা'র সমাজ, সংসার, প্রেম ভালোবাসা বিয়ে কিছুই তার ভালো লাগে না। এগুলো সে অপছন্দ করে। গোস্কসা ঠিক করেছে, সে যতদিন বাঁচবে মানুষের সেবা করে যাবে। সেবায় আনন্দ আছে। সে আলবেনিয়া থেকে প্যারিস যায়। মানুষের কি করে 'ভালো' করা যায়, সে বিষয়ে দীক্ষা নেয়। তারপর সে নদীপথে ভারত চলে আসে ১৯২৮ সালে। তার ইচ্ছা ভারতের মানুষের সেবা করবে। জাহাজে তার সাথে পরিচয় কয়েকজন সিস্টারের সাথে। ইউরোপের লোকজন সন্ন্যাসীনিদের সিস্টার বলে সম্বোধন করেন। গোস্কসা তেমন ধর্মকর্মে মন নেই। তার ধারনা মানুষের সেবা করা'ই সবচেয়ে বড় ধর্ম। মহৎ কাজ। কুষ্ঠ রোগীকে তিনি হাসি মুখে সেবা করেন।
এখন ঢাকা ও কলকাতা হচ্ছে সমস্যার শহর।
সারাদিন জ্যাম। ফুটপাতে দোকান। জায়গা কম, মানুষ বেশি। জিনিসপত্রের দাম বেশি। শহর ভরতি খারাপ মানুষে। চোর ডাকাত ছিনতাইকারী দিয়ে ভরা কলকাতা ও ঢাকা। শহরের মানুষ গুলো অমানবিক। সবাই সবাইকে ঠকাচ্ছে। হাসি মুখে এবং নামাজ পড়ে এসে মিথ্যা বলে! এই সমাজে কেউ কাউকে বিশ্বাস করে না। গ্রামের মানুষের মধ্যে কিছুটা সততা এখনও টিকে আছে। তবু মানুষ শহরকেই পছন্দ করে। দেশভাগের আগে কি কলকাতা এবং ঢাকা ভালো ছিলো? না তখনও ভালো ছিলো না। হিন্দু মুসলিমের দাঙ্গা লেগেই ছিলো। অর্থ্যাত ধর্ম নিয়ে ক্যাচাল। জ্বালাও, পোড়াও কম হয়নি। মানুষ হত্যা কম হয়নি। একবার কলকাতায় ও ঢাকায় দূর্ভিক্ষ হয়ে সব তছনস হয়ে গিয়েছিলো। না খেতে পেরে মানুষ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, মরে গেছে। আল্লাহর দুনিয়ায় না খেতে পেরে মৃত্যু! তাদের রিজিক নাই। এদিকে শহরের ধনী লোকেরা মদ ও নারী নেশায় আসক্ত! এই সময় কলকাতা শহরে এক মহীয়সী নারীর আগমন ঘটে। নাম তার গোস্কসা। কলকাতা এসে সে সুন্দর এক নাম পায়। তেরেসা! মাদার তেরেসা।
দরিদ্র দেশ গুলোতে ভালো কাজ করতে গেলেও সমস্যা।
নানান বাঁধা বিপত্তি আসে। তেরেসা জীবনের সব শখ, আহ্লাদ সব বাদ দিয়ে কলকাতায় আসেন। কলকাতা দরিদ্র দেশ। বেশির ভাগ মানুষ গুলোই গরীব। রোগা ভোগা। বোকাসোকা। তেরেসা উন্নত জীবন বাদ দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাইলেন। কিন্তু মানুষের চলার পথ মসৃন নয়। অনেকে বলতে শুরু করলো তেরেসা মানুষকে ধর্মান্তরিত করছে। সে সবাইকে খ্রিস্টান বানাচ্ছে। আসতে থাকলো নানান বাঁধা। তেরেসার নিজের উপর আস্থা ছিলো। বিশ্বাস ছিলো। অনেক ঝড়ঝঞ্ঝা পেরিয়ে তেরেসা মাথা উঁচু করেই ছিলেন। তিনি বিয়ে, সংসার বাদ দিয়ে- ইশ্বরের পূজা করা বাদ দিয়ে, মানুষের সেবা করতে থাকলেন। তার নাম ছড়িয়ে পড়লো বিশ্বের চারদিকে। তিনি আজ বেঁচে নেই। কিন্তু তার ভালো কাজ গুলো টিকে আছে। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, উদয়ের পথে শুনি কার বাণী, ভয় নাই ওরে ভয় নাই! নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান- ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই! মাদার তেরেসা তেরেসা গ্রেট। মানুষের সেবা করা অনেক বড় কাজ। ক্ষুধার্থ মানুষকে পেট ভরে খাওয়ানো অনেক ভালো কাজ। অন্যের হাসি মুখ দেখে যখন আপনি আনন্দ পাবেন, তখন আপনি একজন মহৎ মানুষ হতে পারবেন।
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫
রাজীব নুর বলেছেন: তেরেসার ভালো দিক গুলো দেখুন।
২|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৭
আলামিন১০৪ বলেছেন: তেরেসা: মানবতার মুখোশে ধর্মান্তরকারী
অরূপ চট্টোপাধ্যায় নামে একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক ও চিকিৎসক। ১৯৫৮ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী অরূপ চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা। তিনি মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় খুব কাছে থেকেই দেখেছেন তার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। সেই ব্যক্তিগত তথ্যের আলোকে তিনি মাদার টেরিজা: দ্য আনটোল্ড স্টোরি (মাদার টেরিজা: না বলা কথা) গ্রন্থটি লিখে হইচই ফেলে দেন। এ গ্রন্থে মানবতা এবং নিঃস্বার্থপরতার প্রতীকরূপে বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাবমূর্তিকে তিনি প্রথম চেলেঞ্জ ছুড়ে দেন। তেরেসার বিরুদ্ধে অরূপ চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম অভিযোগ ছিলো তিনি সেবার নামে অসহায় দুঃস্থ মানুষদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করতেন। তেরেসার সবকিছুই ছিল খ্রিস্টান হবার শর্তে–সে খাবার হোক অথবা শোবার জায়গাই হোক।
"ড. চ্যাটার্জির কথায়, 'তেরেসা নিজেই ১৯৯২ সালে স্বীকার করেন, তিনি প্রায় ২৯ হাজার লোককে তাদের মৃত্যুর সময় না জানিয়ে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করান। আমার মতে আসল সংখ্যাটা লক্ষের কাছাকাছি হবে।'
'হিন্দু বা অন্য পৌত্তলিক ধর্মকে ছোট করে, শয়তানের ধর্ম বলে চিহ্নিত করে একটি গোঁড়া ক্যাথলিক মধ্যযুগীয় ধারণা তিনি প্রচার করেছিলেন - যা গর্ভ-নিরোধক অবধি ব্যবহার করতে দেয় না, এমন কী ধর্ষিতা হলেও গর্ভপাতের অনুমতি দেয় না,'বলছেন তিনি।"
("সন্ত হলেও সমালোচনা থেকে রেহাই নেই তেরেসার", বিবিসি বাংলা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬)
দুর্নীতিবাজদের সাথে ঘনিষ্ঠতা:
দ্য মিশনারি পজিশন: মাদার টেরিজা ইন থিওরি অ্যান্ড প্র্যাকটিস নামক ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ১২৮ পৃষ্ঠার প্রবন্ধ গ্রন্থে ব্রিটিশ-আমেরিকান সাংবাদিক ক্রিস্টোফার হিচেন্স তথ্য উপাত্তনির্ভর গবেষণায় উল্লেখ করেন, মাদার তেরেসা অনেক অসৎ ও কুখ্যাত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ গ্রহণ করেছেন। যা তাকে বিভিন্ন সময়ে আলোচিত, সমালোচিত করে। মিশনারিজ অব চ্যারিটিকে এক মিলিয়ন ডলার অনুদানকারী চার্লস কিটিং ঋণ জালিয়াতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে মাদার তেরেসা কিটিং-এর পক্ষে বিচারককে এক চিঠি দিয়ে কিটিংকে শাস্তি না দিতে অনুরোধ করেছিলেন। এর বিপরীতে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থা মাদার তেরেসাকে কিটিং এর ২৫২ মিলিয়ন ডলার ঋণ জালিয়াতির তথ্যপ্রমাণ দিয়ে তেরেসাকে দান করা এক মিলিয়ন ডলার অনুদান ফেরত দিতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মাদার তাদের কথা রাখেননি। এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টোফার হিচেন্স তার বইতে উল্লেখ করেন,ক্ষমতাহীনের সাথে ক্ষমতাবানের লড়াইয়ে সবসময় ক্ষমতাবানের পক্ষ নিয়েছেন তেরেসা, যেমন ভোপালের বিপর্যয়ে ইউনিয়ন কার্বাইডের পক্ষ নিয়েছেন, রোনাল্ড রিগানের সমর্থন করেছেন, এমনকি নিকারাগুয়া গিয়ে সন্ডিস্টাদের বিরুদ্ধে টেরিজা সিআইএ-সমর্থিত কট্টরপন্থীদের সমর্থন দিয়েছেন।এমনকি দুর্নীতিবাজ দুভেলিয়েরের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিলো মাদার তেরেসার। কারণ তারা নিয়মিত ডোনেশন করত।
বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপক জার্মেইন গ্রিয়ার (জন্ম, ১৯৩৯) অস্ট্রেলিয়ার একজন খ্যাতিমান তাত্ত্বিক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক; যিনি গত শতাব্দীর শেষার্ধের একজন প্রধান নারীবাদী কণ্ঠ হিসাবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।তিনি মাদার তেরেসাকে 'ধর্মীয় সাম্রাজ্যবাদী' বলে বিভিন্ন সময়ে তীব্রতর সমালোচনা করেছেন।
নিম্নমানের চিকিৎসা সেবা:
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল দ্য ল্যাঞ্চেটের সম্পাদক রবিন ফক্স ১৯৯১ সালে কলকাতায় মাদার তেরেসার সেবাদান প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে চিকিৎসার মানকে অগ্রহণযোগ্য ও অপরিচ্ছন্ন বলে তীব্র সমালোচনা করে। ফক্স বলেন, চিকিৎসাশাস্ত্রীয় বিদ্যা ছাড়াই মাদার তেরেসা এবং মিশনারিজ অব চ্যারিটি রোগীদের দেখাশোনা ও চিকিৎসা করে। চিকিৎসা সেবায় নিম্নমান নিয়ে ডা. অরূপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমি মনেকরি না তিনি সেবার ব্যাপারে খুব একটা যত্নশীল ছিলেন। তিনি ব্যবহৃত সিরিঞ্জগুলো পুনঃব্যবহার করতেন, যা কিনা একটি নীতি বহির্ভূত বিষয়।"রবিন ফক্স, অরূপ চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও ক্রিস্টোফার হিচেন্স ২০১২ সালে মাদার তেরেসার ওপর লিখা “ধর্ম প্রচারকের অবস্থানে: তত্ত্ব ও চর্চার মধ্যে মাদার তেরেসা” নামক বইয়ে, কিছু ডাক্তারদের মিশনারিজ অব চ্যারিটি কর্তৃক পরিচালিত কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সেখানে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের ব্যাপক ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।অনেক বড় বড় অঙ্কের অনুদান পেয়েও মাদার তেরেসা তার প্রতিষ্ঠানে সেবার মান উন্নতিকরণে খুব একটা কিছুই করেননি বলে অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে। তিনি নিজে কখনওই নিজের প্রতিষ্ঠানে সেবা বা চিকিৎসা নিতেন না। তিনি অধিকাংশ সময় সংরক্ষিত বিমানে বিশ্ব পরিভ্রমণে সাথে সাথে চিকিৎসা সেবা নিতেন প্রথম শ্রেণীর বিশ্বসেরা হাসপাতালগুলিতে।
সন্ত নিয়ে মিথ্যাচার:
মাদার তেরেসাকে সন্ত উপাধি দিতে দুটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলা হয়। এর মধ্যে একটি ভারতের।ভ্যাটিকান সিটি ঢাকঢোল পিটিয়ে ঘোষণা করে যে মাদার তেরেসার অলৌকিক মহিমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পশ্চিমবঙ্গের এক আদিবাসী মহিলার জরায়ুতে টিউমার হয়, যা প্রকৃতপক্ষে ক্যানসারের ফলে কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। বহু চিকিৎসার পর ডাক্তাররা জানিয়ে ছিলেন, আধুনিক চিকিৎসায় এ রোগ সারিয়ে তোলা অসম্ভব। এমন অসম্ভবই সম্ভব করেছে মাদার টেরিজার একটি লকেট। ১৯৯৮-এর ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মাদারের মিরাকেলে মুহূর্তে সুস্থ হয়ে ওঠেন সেই আদিবাসী মহিলা। মিশনারিজ অব চ্যারিটি থেকে প্রচার করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসী এক নারীর জরায়ুর মুখে টিউমার থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মাদার তেরেসার ছবির সামনে প্রার্থনা করতে করতে একদিন সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু পরবর্তিতে দেখা যায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির এ বয়ানকে অনেকটাই মিথ্যা বলে বিভিন্ন মিডিয়ার সাক্ষাৎকার দেন রোগীর পরিবার । তাই সন্ত নিয়ে মিথ্যাচারের অভিযোগ করে ডা. অরূপ চট্টোপাধ্যায় মাদার তেরেসাকে সন্ত ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাননীয় পোপকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করে বিবিসি। ২০০২ অক্টোবর মাসে
বিবিসি'র ভারতের প্রতিনিধি সুবীর ভৌমিক যোগাযোগ করেন এ বিতর্কিত বিষয়টির রহস্য উদঘাটনে কাজ করা ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ঘোষের কাছে। এর সম্পূর্ণ বিবরণ প্রবীর ঘোষের 'যুক্তিবাদীর চ্যালেঞ্জাররা' নামক বৃহৎ গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে:
"শ্রীভৌমিক জানালেন, এ বিষয়ে আমার বক্তব্য রেকর্ড করতে চান, বিবিসি-তে প্রচারের জন্যে।
বি বি সি'র স্টুডিওতে পৌঁছলাম ঘণ্টাখানেকের মধ্যে। ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেই বক্তব্য রাখলাম। বলা ভালো—প্রশ্নের প্রেক্ষিতে জবাব। প্রশ্ন ছিল, মাদার টেরিজার মিরাকেল পাওয়ারের পরিচয় পেয়েছে বলে আজ ভ্যাটিকান ঘোষণা করেছে। ঘোষণার বলা হয়েছে, পশ্চিম দিনাজপুরের এক আদিবাসী মহিলার পেটে ক্যানসার হয়েছিল।
মাদার টেরিজার ছবি থেকে জ্যোতি এসে পড়ে মহিলার পেটে। সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার সেরে যায়। মাদারের এই মিরাকেলকে ভ্যাটিকান স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি মাদারের 'সেন্টহুড' পাওয়ার ব্যাপারটা শক্ত করল। এ বিষয়ে আপনি ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কী বলছেন, কী ভাবছেন।
উত্তরে মণিকা বেসরাকে নিয়ে আমাদের সমিতির গাজোল ও মশালদিঘি শাখার তিন সদস্য সুবোধ সূত্রধরের নেতৃত্বে যে তদন্ত চালিয়েছিল, বলেছিল তাঁরা কী পেয়েছেন, কী দেখেছেন, তাও বলেছি। জানিয়েছি আমাদের সমিতির স্ট্যান্ড। মাদারকে গরিবদের সেবা এবং ধর্ম প্রচার ও প্রসারের কাজকর্মের জন্য ভ্যাটিকান তাঁকে সম্মান জানিয়ে 'সেন্ট' উপাধি দিতেই পারত। কিন্তু ভ্যাটিকান এটা কী করল। 'সেন্ট' বানাতে 'মিরাকেল'-এর মিথ্যে পাবি হাজির করে কিংবদন্তি মাদারকে তো অপমান-ই করল। আমরা মণিকার ডাক্তার ও স্বামী সেলকুর সঙ্গে কথা বলেছি। ওঁরা কিন্তু জানিয়েছেন, মণিকা ওষুধ খেয়েই সুস্থ হয়েছে। সেলকু কিন্তু নিজেই বিশ্বাস করেন না যে, মণিকা মিরাকেলে রাতারাতি সুস্থ হয়েছেন। এরপরও মিথ্যেকে 'সত্যি' বলে চালাবার এই অপচেষ্টা অবশ্যই নিন্দনীয়।
এমন মিথ্যে প্রচারে আমাদের মতন গরিব দেশের বিশাল ক্ষতি হবে। শিক্ষার সুযোগ লাভে বঞ্চিত, গরিব, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন গ্রামের মানুষ এই ধরনের প্রচারে বিভ্রান্ত হবে। মেডিকেল ট্রিটমেন্টের বদলে 'মিরাকেল' চিকিৎসার দিকে ঝুঁকবে। ফলে মিথ্যে চিকিৎসায় মৃত্যু বাড়বে। এমন এক সর্বনাশ মিথ্যাচারিতার জন্য মিশনারিজ অফ চ্যারিটির বিরুদ্ধে সমস্ত রকম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে দাবি রাখছি। মিশনারিজ অফ চ্যারিটিকে এবং তাদের প্রধান সিস্টার নির্মলাকে প্রতারণা করার জন্য ইন্ডিয়ান পিনাল কোডের ৪২০ ধারায় অভিযুক্ত করা উচিত। এছাড়া ওদের ড্রাগস অ্যান্ড ম্যাজিক রেমিডিজ' (অবজেকশনেবল অ্যাডভার্টাইসমেন্ট) অ্যাক্ট ১৯৫৪ ধারা লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করা উচিত। এই ধারা মতে কেউ যদি অলৌকিক উপায়ে রোগ সারাবার পক্ষে কোনও ধরনের বক্তব্য রাখেন বা প্রচার করেন, তবে তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধী, মাদারের অলৌকিক ক্ষমতা বিশ শতকের ‘সেরা বুজরুকি।
বক্তব্য শেষ করি একটা সোজাসাপটা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে। আমাদের হাজির করা একজন অন্ধকে ভ্যাটিকান বা মিশনারিজ অফ চ্যারিটি কি দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিতে পারবে। পারলে আমাদের সমিতি অলৌকিক বিরোধী সমস্ত রকম প্রচার চিরতরে বন্ধ করে দেবে। প্রণামী হিসেবে তুলে দেবে কুড়ি লক্ষ টাকা।
বিবিসি এই চ্যালেঞ্জের বিষয়ে মিশনারিজ অফ চ্যারিটির মতামত চায়। ওরা বলে, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে নারাজ। ভ্যাটিকানও চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে নীরবতা পালন করে।
এই সাক্ষাৎকার বিবিসি সারা দিন ধরে প্রচার করেছে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি সহ বিভিন্ন ভাষায়। খরবটা গোটা পৃথিবীকে তোলপাড় করে দেয়। সংবাদসার বিসিসি-র ওয়েবসাইটে 'টপ টেন'-এ জায়গা দখল করে রেখেছিল বেশ কয়েক দিন।"
( প্রবীর ঘোষ, 'যুক্তিবাদীর চ্যালেঞ্জাররা', দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা: এপ্রিল ২০১৭, পৃ. ২৮৩-২৮৪)
শিশু চুরির রমরমা ব্যবসা:
মাদার তেরেসা চ্যারিটি হোমগুলিতে শিশু চুরির অভিযোগ বহুদিনের। অভিযোগটি ধরা পরে সত্যে পরিণত হয় ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। ঝাড়খণ্ডের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান রূপা কুমারীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে বিক্রির অভিযোগে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত মাদার তেরেসার প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অব চ্যারিটির এক নারী কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন তথ্য। তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসি সহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে যে তথ্য দেয় তা গা শিউরে ওঠার মতো। ঝাড়খন্ডের রাজধানী রাঁচিতে অবস্থিত এই কেন্দ্র থেকে পুলিশ উত্তর প্রদেশের এক দম্পতীর শিশু কিনতে অগ্রিম টাকা হিসেবে মিশনারিজ চ্যারিটিকে দেয়া ১ লাখ ৪০ হাজার রুপিও উদ্ধার করে। এ প্রসঙ্গে অভিযোগকারী সিডব্লিউসি চেয়ারম্যান রুপা কুমারি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র রাঁচিতেই নয় অন্যান্য শহরেও ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার রুপিতে চ্যারিটির হোমগুলি থেকে শিশু বিক্রি হয় নিয়মিত। তাই শিশু চুরি থেকে রক্ষা করতে মিশনারির রাঁচি কেন্দ্রে থাকা ১৩ গর্ভবতী নারীকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেয় সিডব্লিউসি।
নরকের দেবদূত :
মাদার তেরেসা ১৯১০ সালের ২৫ আগস্ট বর্তমান আলবেনিয়ায় জন্ম গ্রহন করেন এবং ১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়ে খ্যাতির সর্বোচ্চ শিখরে চলে যান। মাদার তেরেসার বিভিন্ন মানবতার ছদ্মবেশী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে ১৯৯৪ সালে প্রখ্যাত সাংবাদিক তারিক আলি ও ক্রিস্টোফার হিচেন্স টেরিজার ওপর হেল'স এঞ্জেল (নরকের দেবদূত) শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন। তারা দেখিয়েছেন গরিবদের আজন্মকাল দুর্দশার উৎস হিসেবে ব্যবহার করে এ থেকে পরিত্রাণের জন্যে কট্টরপন্থী ক্যাথলিক খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসকে ছড়িয়ে দিতে মাদার তেরেসা যতটা আগ্রহী ছিলেন, তার সামান্যতম আগ্রহ দরিদ্র অসহায়দের দারিদ্র্য লাঘবে আগ্রহী ছিলেন না।তার ছদ্মবেশী মানবতার মুখোশকে উন্মোচন করে দিয়ে অনেক বই আছে। পূর্বে উল্লেখিত দুইতিনটি বই ছাড়াও আগ্রহীরা পড়তে পারেন, প্রবীর ঘোষের লেখা- 'যুক্তিবাদীর চ্যালেঞ্জাররা' (দে'জ থেকে প্রকাশিত) এবং অমলেশ মিশ্রের লেখা- 'টেরেসা আমাদের বদনাম করেছেন নিয়েছেন প্রচুর, দেননি কিছুই -এ বইগুলি।
পরিশেষে:
হিচেন্স এর বইতে পাওয়া যায় মাদার তেরেসা বিভিন্ন সময়ে কলকাতাকে দারিদ্র্যতার 'নরককুণ্ড' বলে উল্লেখ করতেন; নিজে সেই নরককুণ্ড থেকে সবাইকে ত্রাণ করছেন এটা বোঝাতে। বিষয়টিকে কোলকাতার মেয়র বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যও আপত্তি করে বলেছিলেন, "কলকাতার দরিদ্র লোকদের উপর টেরিজার কোন উল্লেখযোগ্য কর্ম নেই।"কিন্তু এর পরেও অবাক হলাম দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মাদার তেরেসার ছবি। কালীঘাটে থেকেও, যাকে কালীঘাটের মাকালী সামান্য আকর্ষণ করতে পারেনি ; সেই তিনিই আছেন দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরে ছবি হয়ে বহাল তবিয়তে। কারণ তার মানবতার ছদ্মবেশে অসংখ্য গরিব অসহায় হিন্দু আদিবাসীকে ধর্মান্তরিতের কাহিনী আমরা কয়জনই বা পূর্ণাঙ্গরূপে জানি বা জানার চেষ্টা করি।
প্রাকৃতিক সুন্দরের অনন্য লীলাভূমি বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল। ২০১৬ সালে আগস্টের শেষ সপ্তাহে মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলোতে ঘুরতে গিয়ে, মনটা বিষাদে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল।একদিকে চা শ্রমিকদের উপরে মালিকপক্ষের অমানবিক দাসসুলভ নিষ্ঠুর আচরণ দেখে হতবাক হই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন খেটে তারা মজুরি পায় মাত্র ৬০ টাকার মত। অন্যদিকে এর সাথে আছে, খ্রিস্টান মিশনারিদের মানবতার মুখোশে নিষ্ঠুর ধর্মান্তরের দৌরাত্ম্য। গরিব আদিবাসী চা বাগান শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানলাম, কিভাবে অসহায় মানুষদের প্রতিনিয়ত ধর্মান্তরিত করছে মিশনারিরা। এক একটি পরিবারের ঘটনাগুলো শুনে হতবুদ্ধি হলাম যুগপৎ কষ্ট পেলাম।ভাবলাম বিষয়ে আমরা জানিনা, খোঁজ রাখিনা।বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণচক্রে ফেলে, শিশুদের দুপুরে মাংসের মত ভারি খাবার দেবার নাম করে, গরু বা ঘরের দুটো-চারটে টিন কিনে দেবার কথা বলে এবং এমন অসংখ্য মানবতাবাদীর ছদ্মবেশে মিথ্যা ছলা-কলাকে আশ্রয় করে বাগানে বসবাসকারী পরিবারদের ধর্মান্তরিত করছে। গরীব মানুষগুলোকে ধর্মান্তরিত বাস্তবায়নে করছে বড় পরিকল্পনা। চা শ্রমিক,তাদের নেতা এবং আমাকে গাইড দেয়া স্থানীয় কিছু যুবকদের কাছে শত-শত প্রবঞ্চনার কাহিনীগুলো শুনে চোখে জল চলে এসেছিল আমার।বারবার মনে হল, এই পনেরোলাখের উপরে লাঞ্ছিত বঞ্চিত মানুষেরা আর কতকাল এভাবে বঞ্চিত হয়ে তাদের পূর্বপুরুষদের ধর্ম সংস্কৃতিতে হারাবে?এরজন্যে আমরাও অনেকাংশে দায়ী । আমরাও সর্বদা তাদের পাশে থাকতে পারিনি বলেই, এ গরীব মানুষগুলো অন্যদের ধর্মান্তর নামক সাজানো-গোছানো ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে। এ ফাঁদের বাইরে দৃশ্যমান থাকে মানবতা এবং সেবার মুখোশ; কিন্তু মুখোশের আড়ালে ভেতরে থাকে ধর্মান্তর।
আমরা বাঙালি হিন্দুরা পশ্চিমবাংলা , ঝাড়খণ্ড, ত্রিপুরা, আসাম, বাংলাদেশ যেখানেই থাকি আমাদের অধিকাংশই হলো চোখ,কান, নাক বন্ধ করা বালিতে মাথাগোঁজা উঠপাখির মত। বাঙালি হিন্দুদের বিশাল একটা অংশই হল, আত্মঘাতী মেকি সেকুলার। তাদের দেখলে মনে হয়, মেকি মানবতায় বিশ্বকাপ তাদের পেতেই হবে -এমন মানসিকতা।তাদের অনেকেই দেখেও দেখে না, শুনেও শুনে না, সাথেপাছে থাকে না, দুম করে প্রকাশ্যেও আসে না; যখন নিজের খাবার খাওয়ার সময় আসে তখন টুক করে খাবারটি খেয়ে নেয়। এই আত্মঘাতী বাঙালি হিন্দুদের কারণেই, যাদের প্রধান লক্ষ্য গরিব অসহায় হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা; সেই মানবতার মুখোশে ধর্মান্তরকারীরা প্রশ্রয় পেয়েছে।
কুশল বরণ চক্রবর্ত্তী
সহকারী অধ্যাপক,
সংস্কৃত বিভাগ,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৬
রাজীব নুর বলেছেন: মানূষের কিছু মন্দ দিক থাকেই। আমাদের উচিৎ ভালো দিক গুলো দেখা। আমার ধারনা তেরেসার নামে কিছু মানুষ মিথ্যা রটিয়েছে।
৩|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৩৬
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সকলে মাদার তেরেসে হতে পারেন না।
৪|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: মাদার তেরেসার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয় বটে, তবে সে সময় উনি যেভাবে মানুষের সেবা করেছেন তা কেউ করেনি। যে উদ্দেশ্যেই হোক, উনি যে এত এত মানুষের সেবা করেছেন, জীবন বাঁচিয়েছেন সেজন্য অবশ্যই সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য।
৫|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:১০
মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আমাদের এই অঞ্চলে নিম্ন বর্ণের হিন্দুদেরকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করেছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত এবং তুরস্ক ও আশেপাশের জায়গা থেকে আগত তথাকথিত ধর্ম প্রচারকেরা।
ফলে এই অঞ্চলে একটি উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে যেটা আগে ছিল না।
৬|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৩৫
আহা রুবন বলেছেন: মাদার তেরেসা ধর্মান্তকরণের উদ্দেশ্যে সেবা করেছেন এসব গোঁজামিলের আলাপ! তিনি মানুষের উপকার করেছেন কি না সেটাই বড় কথা।
৭|
১১ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২১
হুমায়রা হারুন বলেছেন: @ আল আমিন ১০৪ঃ মাদার টেরেসা কে নিয়ে আপনার চমৎকার বিশ্লেষণটি পড়ে ভাল লাগলো।।
সম্প্রতি ,এপ্সটিন গৃহে তার উপস্থিতি নিয়ে রিল দেখেছিলাম।
এছাড়া এপ্সটিনের দ্বীপের গম্বুজের নকশা আর মাদার টেরেসার শাড়ির পাড়ের নকশার মিল দেখেও বিশ্ববাসী বেশ অবাক হয়েছে।
পৃথিবী আসলেই রহস্যময়।
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭
আলামিন১০৪ বলেছেন: তেরেসাকে নিযে যা শোনা যায় তার আড়ালে নাকি অন্য কিছু ছিল?