নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যা মনে আসে তাই লিখি।

স্বর্ণবন্ধন

একজন শখের লেখক। তাই সাহিত্যগত কোন ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

স্বর্ণবন্ধন › বিস্তারিত পোস্টঃ

চক্রাবর্ত

২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:১৫



উত্তপ্ত জনপদ ছেড়ে উষর মাঠে এসে বসে আছি নিঃশব্দ শিশিরের মতো।
ভেবেছিলাম, সমস্ত কিছু ছেড়ে এসেছি—
জমিজমা, ফসলের ঘ্রাণ, নূপুরের আলতো ধ্বনি।
স্রেফ একা, মহাবিশ্বের শেষ জীবন্ত নক্ষত্রের মতো, মৃত্যুর অপেক্ষায়।

শব্দেরা ক্রমশ ধূসর হচ্ছে—ভেবে ভেবেছিলাম, নির্বাণ সমাগত।
তবু বুকের ভিতর এক ডোরাকাটা অজগর এখনো দিব্যি পাক খায়।
মৃত সমুদ্রের কান্নার মতো হাঁসফাঁস করা বেদনাগুলো উঠে আসে।
আমি আরও বেশি ভারাক্রান্ত বোধ করি।

আমি সবকিছু ছেড়ে চলে আসতে চেয়েছিলাম,
তবু কষ্টকে ছাড়তে পারলাম কই?

একদিন অলকানন্দা দুলেছিল পুরাতন শহরের নবাবী ব্যালকনিতে।
ভেবেছিলাম, হলুদ হয়তো আনন্দের জীবিত অক্ষর।
বলেছিল সে— “সমস্ত রঙই বেদনার বিবিধ স্বাক্ষর।”

মনে পড়ে, কাবাবের মশলামাখা গন্ধের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল তীক্ষ্ণ আতর।
ভেবেছিলাম, পালিয়ে যাব—
চলে যাব সিদ্ধার্থের মতো, হিমুর মতো, রাতের চাঁদকে স্বাক্ষী রেখে;
হেঁটে যাব ধুলো-মাখা পায়ে।

পৃথিবী হোক, কিংবা মহাবিশ্ব হোক—সব এক দৈত্যাকার বৃত্তের মতো।
হারাতে গিয়ে আবার ঢুকে পড়লাম তোমার গলিতে।
বিষণ্ণ দাড়ি-গোঁফে হাত বুলাতে বুলাতে গালিব বললেন-
“ফির তেরে কুচে কো জাতা হ্যায় খায়াল।”

যাকে এড়াতে পালাতে চাইলাম এতকাল,
এখন দ্বিপ্রহর রাতে দেখি—সবই হারিয়ে ফেলেছি, শুধু তাকে ছাড়া।
সে দিব্যি বসে আছে জাগ্রত বিগ্রহের মতো।
আমি যেখানে যেখানে যাই, যা যা বলি—সব গল্পের শব্দের অন্তর্গত প্রাণ হয়ে।
বুঝলাম মানবজনমে কখনোই সারবেনা কিছু ক্ষত।
আমি তাই তার অনিরুদ্ধ উপস্থিতি নিয়েছি এখন সয়ে।

বুঝেছি, নির্বাণ নেই; নেই মুক্তির বিশুদ্ধ পথ।
অন্ধকার রাতে তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনেও, কর্ণের মতো ধনুকে তীর জুড়ে,
শক্ত হাতে ময়দানে নামিয়েছি রথ।

উড়ছে সারসপাখি বিপন্ন নির্জনে,
আমি ঢাকা পড়ে আছি এই জনঅরণ্যে।
সেই অজগর গিলে খায় ঘুম, সমস্ত সুখ।
আমিই মানুষ—যদিও ডাকতে পারো আমাকে তুমি এই নামে;
আমি এক জীবন্ত অসুখ!

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৯

সেজুতি_শিপু বলেছেন: দারুন একটি কবিতা।শুভ কামনা।

২| ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:৫৮

ইসিয়াক বলেছেন:



বিষণ্ণতা, আধ্যাত্মিক টানাপোড়েন এবং নিয়তির চক্রাবর্ত- চমৎকার একটি কবিতা। আমাদের পক্ষে অস্তিত্বের শিকল ভাঙা সত্যি কি সম্ভব? এই যে নিরন্তর লড়াই নিজের সাথে নিজের, এর থেকে মুক্তি নেই। এটাই জীবন এটাই চক্রাবর্ত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.