| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রূপক বিধৌত সাধু
মন রে, কৃষিকাজ জানো না; এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলত সোনা! রামপ্রসাদ সেন ([email protected])

বিপদ নাকি একা আসে না—দলবল নিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে। প্রবাদটির বাস্তব এবং কদর্যরূপ যেন এখন মৃণালের জীবনেই ফুটে উঠেছে। মাত্র মাসখানেক আগে বাবাহারা হলো। পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন বিপদ—স্ত্রী-সন্তান-শ্যালকসহ পুরো পরিবার স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। পাশাপাশি দাদ। অসহ্য চুলকানিতে সবার অবস্থা খারাপ, আট মাসের ছেলেটাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি।
এদিকে দেশে হামের প্রকোপও বেড়েছে; এরইমধ্যে এই রোগে দুই শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত দুই বছর টিকা না দেওয়ার খেসারত। সরকার দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করেছে, টিকাও দেওয়া হয়েছে—তবুও ভয় কাটে না মৃণালের। সদ্য বাবাহারা হয়েছে সে। যদি ছেলেটার কিছু হয়ে যায়, তবে তার বেঁচে থাকার আর কোনো মানে থাকবে না।
চিকিৎসার জন্য একবার ডাক্তার দেখানো হয়েছিল। কিছুদিন ওষুধে ভালো থাকে, বন্ধ করলেই আবার শুরু হয়। এতদিন ভয় আর অনিশ্চয়তায় আর যাওয়া হয়নি, কিন্তু এখন আর না গিয়ে উপায় নেই—বাচ্চা রাতে কাঁদে, কষ্ট পায়।
শেষমেশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সবাইকে নিয়ে পিজিতে গেল মৃণাল। চারজনেরই ডাক্তার দেখানো হলো। একগাদা ওষুধ লিখে দিলেন ডাক্তার। এক সপ্তাহের ওষুধ কিনতেই খরচ হলো সাড়ে তিন হাজার টাকা।
এরইমধ্যে অফিসের চাপও কম নয়। মৃণাল কাজে যায়, আর তার স্ত্রী দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাইয়ের কাছে বাচ্চাটাকে রেখে পড়াতে যায়। যাওয়া-আসা মিলিয়ে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ফিরে এসে ঘরের কাজ, রান্নাবান্না—সবই সামলাতে হয়।
বাবার চিকিৎসা, মরদেহ গ্রামে নেওয়া, অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা—সব মিলিয়ে জমে থাকা সঞ্চয় প্রায় শেষ। ঠিক তখনই অফিস থেকে সহকর্মীর ফোন—কর্মী ছাঁটাই চলছে। খবর শুনে মৃণালের গলা শুকিয়ে যায়। তবে আপাতত সে টিকে যায়।
কিন্তু দুশ্চিন্তা এখানেই শেষ নয়। মাস না ঘুরতেই শোনা গেল প্রতিষ্ঠানটাই নাকি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! নতুন ছাঁটাইয়ের তালিকায় এবার মৃণালের নামও আছে। বাধ্য হয়ে অন্যত্র চাকরির খোঁজ শুরু করে। এক জায়গায় আগে সুযোগ পেয়েও যায়নি; এবার আবার যোগাযোগ করলে তারা ডাকার আশ্বাস দেয়। এখন আপাতত সেই অপেক্ষা।
কয়েক মাসের টানা ধকল—শোক, অসুখ, অনিশ্চয়তা, অর্থকষ্ট—সব মিলিয়ে মৃণালের যেন একটু বিশ্রাম দরকার। কিন্তু বিশ্রাম নিলে কি সংসার চলবে? গ্রামে থাকলে হয়তো শাক-লতাপাতা খেয়ে কোনোভাবে দিনাতিপাত করা যেত, কিন্তু শহরে তা সম্ভব নয়। এখানে বাসা ভাড়াতেই উপার্জনের বড় অংশ চলে যায়।
মৃণালের জীবনে তাই বিশ্রামের সুযোগ নেই—শুধু টিকে থাকার লড়াই।
১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঢাকা।
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় সবার মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা নেওয়া হচ্ছে অবশ্য, সবকিছু পরিষ্কারও রাখা হচ্ছে। আশা করা যায় দ্রুত সব ভালো হয়ে যাবে।
২|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪
রাজীব নুর বলেছেন: পুরুষ মানুষের কোনো বিশ্রাম নাই। গ্রামের মুরুব্বীরা বলেন- পুরুষের বিশ্রাম কবরে।
আপনি কি হুমায়ূন আহমেদের ''বিপদ'' বইটা পড়েছেন?
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৯
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: আপনি কি হুমায়ূন আহমেদের ''বিপদ'' বইটা পড়েছেন? না।
৩|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০
রাজীব নুর বলেছেন: আপনার এই পোষ্টের প্রেক্ষিতে চাঁদগাজী লিখেছেন। পড়ুন।
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৭
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: পড়েছি।
৪|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: চাকুরির কি হয়েছে ? ঘটনা পড়ে খুবই খারাপ লাগলো। ![]()
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৬
রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
৫|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৪১
অর্ক বলেছেন: স্ক্যাবিস সাধারণ চুলকানি। স্ক্যাবেক্স ক্রিম তিন চারবার করে দিলেই ভালো হয়। দাদ তুলনামূলক জটিল। চিকিৎসাও ব্যায়নহুল। ইকোনেট ক্রিম ট্রাই করে দেখেন। ত্রিশ টাকা। ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এগুলো মলম, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় নেই। খাবার ওষুধের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ আবশ্যক। পাতাটাতা দিয়ে দাদ ভালো হয়না। দাদ সাঙ্ঘাতিক ছোঁয়াচে। দ্রুত চিকিৎসা করান। ইকোনেট মলম অবশ্যই ট্রাই করেন।
ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: পিতৃশোক কাটার আগেই আবার নতুন বিপদ—স্ত্রী-সন্তান-শ্যালকসহ
পুরো পরিবার স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।
..........................................................................................
সবাই ঘুরে আসুন নূতন কোন এলাকা থেকে,
দেখবেন মন মানসিকতা ঠিক হয়ে যাবে,
আর এই ফাঁকে সমস্ত ঘড় জীবানু মুক্তর ব্যবস্হা নিন ।