নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নানা দেশ কত কথা

শোভন শামস

আমার দেখা নানা দেশের কথা সবার জন্য - পাঠকের ভাল লাগাতেই আনন্দ

শোভন শামস › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশ ভ্রমণ – জীবনের নানা সময়ে

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:০৬



এই সুন্দর পৃথিবীর নানা দেশ ভ্রমণ করার আনন্দই আলাদা। বিভিন্ন কারনে সবাই সব সময় দেশ ভ্রমনে যেতে পারে না। ভ্রমণ সাহিত্যের মাধ্যমে পাঠক আরেক জনের চোখে পৃথিবী দেখার আনন্দ পেতে পারে। হুমায়ূন আহমেদের হোটেল গ্রে ভার ইন পড়ার পর আমার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ দেখা ও সেসব দেশের মানুষ ও দর্শনীয় জায়গা গুলো দেখার আগ্রহ জাগে। এরপর সময়ের সাথে সাথে নিজে ও নানা দেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি এবং যেসব দেশে যেতে পারিনি সেসব দেশ ভ্রমণের বই সংগ্রহ করে পড়েছি। নতুন কোন ভ্রমণের বই দেখলেই মনটা খুশিতে ভরে যায়। ভ্রমণ গল্প সবসময় মজার না ও হতে পারে, তবে আমার কাছে সবই ভাল লাগে কারণ প্রতিটি বইতে নতুন কিছু জানা যায়।
একসময় বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ ছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীনতার আগে বা পরের পাকিস্তান ভ্রমণের কোন বই আমি সংগ্রহ করতে পারিনি। বাংলা ও ইংরাজিতে ভারত ভ্রমণের বেশ কিছু বই আছে এবং অনেক বই সুখপাঠ্য। মিয়ানমার ভ্রমণের বই বাংলায় হাতেগোনা হলেও ইংরাজিতে অনেক বই আছে এই দেশ সম্পর্কে। আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ ভ্রমণের উপর বাংলায় ও ইংরাজিতে বই প্রায় নাই বললেই চলে। একজন বিদেশী বা একজন বাংলাদেশের মানুষ দেশ সম্পর্কে জানতে পারবে। ইংরেজিতে এ ধরনের বই থাকা দরকার। বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশান এই ধরনের কিছু উদ্যোগ নিয়েছে তবে আরও বাংলাদেশ ভ্রমণ বিষয়ক বই লিখার সুযোগ আছে। আমাদের দেশের মানুষ অতিথি পরায়ণ এবং এই জনবহুল দেশের পর্যটন অভিজ্ঞতা নিয়ে বই লিখা যেতে পারে।
আমার ভাগ্য ভাল আমি বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় ভ্রমণের সুযোগ পেয়েছি। ভ্রমণের সাথে সাথে নানা কারনে সেগুলো লিখে ফেলতে পারিনি। তাছাড়া আমি সাহিত্যিকও নই। তবে এক সময় লিখার ইচ্ছা থেকে আমার বিদ্বেষ ভ্রমণের উপর লিখা শুরু করি। মিয়ানমার ভ্রমণ ও মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা নিয়ে গবেষণার কারনে লিখালিখি করতে হয়। একসময় মনে হল আমাদের দেশের কথা লিখছি না কেন। তখন থেকেই লিখব লিখব করছি, লিখা হয়ে উঠেনি। যাক শুরু করা গেল। দেখি কতটুকু পারা যায়।
আমরা যেমন অন্যান্য দেশ সম্বন্ধে জানতে চাই, ভ্রমণ করতে চাই তেমনি আমাদের দেশ সম্পর্কেও অনেকে জানতে চায়। বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলাদেশী ভ্রমণকারীদের লিখা ইংরাজি বই আমার চোখে পড়েনি। আমাদের দেশ যেরকম হোক না কেন এই দেশে দেখার ও জানার অনেক কিছুই আছে। এদেশের মানুষ, খাবার, সাগর, পাহাড় ও সংগ্রামের কথাও মানুষের জানার আগ্রহ বাড়াতে পারে। প্রথমে বাংলায় লিখার এই প্রচেষ্টা তারপর যদি সফল হই ও শেষ করতে পারি তাহলে ইংরেজিতে চেষ্টা করা যেতে পারে। ভ্রমণ বিষয়ক বই সংগ্রহ করা এবং পড়া আমার শখ। ভ্রমণের বই পেলে কিনে ফেলার চেষ্টা করি। আমার সংগ্রহে ভ্রমণের ই বুকও আছে বেশ কিছু। তবে কাগজে ছাপা বই পড়তেই ভাল লাগে। আমাদের দেশের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অনেকে খুব সুন্দর ভাবে লিখতে পারে। এই লেখা গুলো নিয়ে ও বই আকারে আমাদের দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার দেখা বাংলাদেশ দিয়ে এই কাজটি শুরু করতে চাই। বাংলাদেশের ৬৪ তা জেলা এবং এর দর্শনীয় জায়গাগুলোর কথা এই বইতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে। আমাদের দেশে ভ্রমণকে খুব বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়নি এখন পর্যন্ত, তবে পর্যটকদের জন্য দেখার অনেক কিছুই আছে। পরিকল্পিত ভাবে এই খাতকে এগিয়ে নিলে দেশ ও বাংলাদেশের মানুষ ও বিদেশী পর্যটক সবাই উপকৃত হবে।
কক্সবাজার

কক্সবাজার বাংলাদেশের প্রধান দর্শনীয় জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সেই কলেজে পড়ার সময় থেকে বেশ কয়েকবার কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। আমাদের নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকে একটু আনন্দ নিতে যাওয়ার জন্য এটা একটা প্রধান গন্তব্য।
বাসে করে ও এখন ট্রেনে করে কক্সবাজার যাওয়া যায়। আশির দশকের কক্সবাজার ছিল শান্ত একটা জনপদ। তখন এত হোটেল ও রিসর্ট ছিল না। পর্যটনের হোটেলগুলোর তখন জমজমাট অবস্থা। কলেজ বাসে করে চট্টগ্রাম থেকে রওয়ানা হই। রাতে পৌঁছাই কক্সবাজারে। সেখানে পর্যটনের পক্ষ থেকে কয়েকটা রুম আমাদেরকে দেয়া হয়। সবাই সেখানে নিজেদেরকে ভাগ করে থাকি। সকালে কলাতলির সাগর সৈকতে গিয়ে প্রথম বারের মত সাগর দেখা হল। কি বিশাল সাগর, সূর্য উঠছে সাগরের মাঝ থেক্‌ দূরে বহু দূরে দিগন্ত বেকে গেছে। তার ওপারে কি আছে দেখা যায়না। খোলা সৈকত, বিশুদ্ধ বাতাস অল্প কিছু পর্যটক, বিচ পরিচ্ছন্ন সব মিলিয়ে অপূর্ব দৃশ্য। বিচে ছোট ছোট লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরন। শামুক ঝিনুকে ভরা বিচ। যা আছে তা নেয়ার জন্য মানুষ অনেক কম। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা শামুক ঝিনুকের মালা বানিয়ে বিক্রি করছে। আমরা সাগরে নেমে গোসল ও আনন্দ করে সকাল কাটালাম। ফিরে এসে নাস্তা করে কলাতলি পয়েন্টের দোকান গুলোতে গেলাম। এখনকার মত স্থায়ী দোকান তখন ছিল না। ছোট ছোট ছাপরা দোকান সেখানে বার্মিজ জিনিস পাওয়া যায়। অন্য দেশের জিনিসের প্রতি টানেই সেই বাজারে যাওয়া। তখন আচার, শুঁটকী, স্যান্ডেল ভ্রমণের হালকা ব্যাগ, চকলেট এবং শামুক ঝিনুকে বানানো অনেক ধরনের জিনিস পাওয়া যেত। আমার মনে আছে আমি বেশ কিছু রঙ্গিন বিদেশী রুমাল কিনেছিলাম সবাইকে দেয়ার জন্য। আমার নানিকে আমি একটা রুমাল দেয়াতে তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন। আরেকটা জিনিস পাওয়া যেত তখন, সেটা হল ছোট চিকন শিশিতে ভরা সেন্ট। বেশ সুন্দর গন্ধ এবং আতরের মত লাগাতে হয়। এটাও বার্মার বলত দোকানীরা। চন্দন কাঠের ছোট ছোট চাবির রিং, মুখে লাগাবার সোনাকার বার সেখানকার কমন আইটেম ছিল। তখন ইনানি বিচের রিসোর্ট গুলো হয়নি। ইনানি একটা নির্জন সাগর সৈকত ছিল। তখন হিমছড়ির ঝর্না বেশ বড় ধারায় নীচে নেমে আসত। আমরা ঝরনার ঠাণ্ডা পানিতে বেশ ভিজেছিলাম তখন। ছোট ছোট কিছু দোকানে স্থানীয় ফল, ডাব ও অন্যান্য কিছু বিক্রি হত। চা বিস্কিট ও পাওয়া যেত সেসব দোকানে। সাগর তখন বেশ দূরে ছিল, বীচ ভেঙ্গে এখনকার মত মেরিন ড্রাইভের কাছে আসেনি। সে সময় মেরিন ড্রাইভ হয়নি তবে কক্সবাজার থেকে রাস্তা ছিল সেখানে যাওয়ার। এখন ও সেই পুরানো রাস্তা রয়েছে, তবে সেখান দিয়ে চলাচল কমে গেছে। তখন ও রাখাইনদের বার্মিজ মার্কেট ছিল। মেয়েরাই দোকান সামলাত তারাই বিক্রেতা। সোনাকা মুখে মেখে তারা ক্রেতাদের সাথে কেনাবেচা চালাত। বার্মিজ লুঙ্গি, সাবান, চকলেট, আচার ও নানা রকম কাপড় সেখানে বিক্রি হত। এখন সেই মার্কেট অনেক জমজমাট, পথে বেশ ভিড়, সেসময় রিক্সা, কিছু বেবি ট্যাক্সি ছিল বাহন। সী বিচে ঘুরে সাগরে গোসল করে আমাদের ভ্রমণের কয়েকটা দিন কেটে গেল। নিজেদের বাসে করেই আমরা চট্টগ্রাম ফিরে এলাম। এরপর আরও অনেকবার কক্সবাজার গিয়েছি। সেসব কথা সামনের দিনগুলোতে লিখব।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: ভ্রমন মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা শিখায় !
..................................................................
দেশে দেশে মানুষের জীবন যাত্রা ভিন্ন ও বিচিত্র
প্রকৃত জ্ঞান ও শিক্ষা আহরন হলে , মনে হবে আগে কত
বোকা ও জ্ঞানহীন ছিলাম ।

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫

শোভন শামস বলেছেন: মানুষ জীবন পথে চলতে চলতে কত কিছু শিখে। একেক জন একেক বিষয়ে জানে বুঝে।
ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে অনেক কিছু দেখা ও জানা যায়।
ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

২| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:০১

রাজীব নুর বলেছেন: লিখুন। সাথে আছি। প্রেম ভালোবাসার উপন্যাসের চেয়ে ভ্রমন কাহিনী উত্তম।

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮

শোভন শামস বলেছেন: ভ্রমণের মধ্যে দিয়ে অনেক কিছু দেখা ও জানা যায়। এটা একটা রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও। যুবক বয়সে ভ্রমণ যত সহজ সময়ের সাথে সাথে তা বেশ কষ্টকরও হয়। আপনারও ভ্রমণ ভাল লাগে জেনে আনন্দিত।
ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

৩| ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৬

মেহবুবা বলেছেন: আমাদের দেশটা ভারী সুন্দর ! আমারও খুব ইচ্ছে করে পুরো দেশটা ঘুরে ঘুরে দেখি! আপনার অনেক আগের কক্সবাজার বেড়ানো কিছুটা মিল পেলাম নিজেদের বেড়ানোর সাথে ! ইনানী তখন বেশী ভালো লেগেছিল।

০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

শোভন শামস বলেছেন: সময়ের সাথে সাথে সব বদলে যায়। প্রত্যেকটা সময় তার নিজস্ব আবেদন নিয়ে থাকে। একসময় ভ্রমণ অনেক সহজ ছিল, এখন অনেক জটিলতা এসেছে নিয়ম কানুনের। তবে নিজের দেশে ভ্রমণ এখন ও আনন্দ দেয়।
ধন্যবাদ সাথে থাকবেন।

৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
"আমাদের দেশের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অনেকে খুব সুন্দর ভাবে লিখতে পারে। এই লেখা গুলো নিয়ে ও বই আকারে আমাদের দেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়া যায়। আমার দেখা বাংলাদেশ দিয়ে এই কাজটি শুরু করতে চাই। বাংলাদেশের ৬৪ তা জেলা এবং এর দর্শনীয় জায়গাগুলোর কথা এই বইতে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।"

- শুভকামনা রইলো।

৫| ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্টে আবার এলাম। কে কি মন্তব্য করেছেন, সেটা জানতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.