| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
Sujon Mahmud
কারো যদি গোপন সাফল্যের চাবিকাঠি থাকে, তাহলে সেটা থাকে তার অন্যের কথার দৃষ্টাকোণ আর নিজের দৃষ্টি কোণ বুঝে নেওয়ার মধ্যে।।
ঈদের ছুটিটা কেমন যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল, এই তো সেদিন বাড়ি গেলাম—মায়ের হাতের রান্না, বাবার গল্প, ছোট মেয়ের হাসি, আর স্ত্রীর সেই নীরব অভিমান… সবকিছু মিলিয়ে একটা ছোট্ট স্বর্গ ছিল।
কিন্তু স্বর্গে তো থাকা যায় না চিরকাল।
ঢাকায় ফিরে আসার দিনটা ছিল ভীষণ ভারী। বাসে উঠার সময় ছোট মেয়েটা আমার হাত শক্ত করে ধরে বলছিল,
— বাবা, তুমি আবার কবে আসবা?
আমি হাসার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু গলায় যেন কিছু একটা আটকে ছিল।
— খুব তাড়াতাড়ি আসবো মা…
সে বিশ্বাস করেছিল।
কিন্তু আমি জানতাম, সেই তাড়াতাড়ি কত দূরের।
ঢাকায় এসে অফিসে ঢুকলাম পরদিন। সবকিছু আগের মতোই—কম্পিউটার, ফাইল, সহকর্মীদের ব্যস্ততা। কিন্তু আমি আগের মতো ছিলাম না।
মনে হচ্ছিল, আমি যেন শরীরটা নিয়ে এখানে আছি, কিন্তু মনটা পড়ে আছে গ্রামের সেই ছোট্ট বাড়িটায়।
মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকি, কিন্তু চোখে ভাসে—
মায়ের ভাত বেড়ে দেওয়ার দৃশ্য…
বাবার পুরোনো গল্প…
স্ত্রীর চুপচাপ পাশে বসে থাকা…
আর মেয়ের সেই নিষ্পাপ হাসি।
একটা ফাইল খুলে কাজ শুরু করলাম।
কিন্তু কয়েক মিনিট পরই বুঝলাম—এক লাইনও পড়িনি।
দুপুরে ক্যান্টিনে বসে খাচ্ছিলাম। খাবারটা ভালোই ছিল, কিন্তু কেন জানি গলায় নামছিল না।
মায়ের রান্নার সাথে এর কোনো তুলনাই হয় না।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল— বউ
রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে আস্তে কণ্ঠ,
— খেয়েছো?
এই একটা প্রশ্নেই বুকটা কেমন যেন হাহাকার করে উঠল।
আমি বললাম,
— হ্যাঁ…
সে বুঝে গেল, আমি ঠিক নেই।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— মন খারাপ করো না… আমরা আছি তো।
আমি কিছু বলতে পারলাম না। শুধু চুপ করে ছিলাম।
রাতে বাসায় ফিরে বিছানায় শুয়ে আছি। চারপাশ নিঃশব্দ।
এই শহরে হাজার মানুষ, হাজার শব্দ—
তবুও নিজের ঘরে ফিরে একা লাগাটা সবচেয়ে বেশি।
ফোনে গ্যালারি খুললাম।
মেয়ের একটা ছবি—ঈদের দিন নতুন জামা পরে হাসছে।
ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন যে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল, বুঝতেই পারিনি।
পরদিন আবার অফিস।
সবাই কাজ করছে, হাসছে, কথা বলছে।
আমি শুধু সময় পার করছি।
মনটা বারবার বলছে—
সব ছেড়ে দিয়ে চলে যাই… বাড়ি চলে যাই…
কিন্তু বাস্তবতা খুব নিষ্ঠুর।
চাকরি না থাকলে সংসার চলবে না।
মেয়ের পড়াশোনা, বাবা-মায়ের ওষুধ, সবকিছু আমার উপর।
তাই নিজেকে শক্ত করে আবার কাজের ভান করি।
দিন যায়, রাত যায়…
কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফোনে কথা হয়, ভিডিও কলে মেয়ের হাসি দেখি।
কিন্তু একটা অদ্ভুত শূন্যতা থেকেই যায়।
কারণ,
ভিডিও কলে আলিঙ্গন করা যায় না…
ফোনে মায়ের হাতের গরম ভাত পাওয়া যায় না…
স্ক্রিনের ওপাশে থাকা মানুষগুলোকে ছুঁয়ে দেখা যায় না…
ঈদের ছুটির পর এই শহরে ফিরে এসে বুঝলাম—
মানুষ শুধু শরীর নিয়ে বাঁচে না,
সে বাঁচে তার মানুষগুলোকে নিয়ে।
আর যখন সেই মানুষগুলো দূরে থাকে,
তখন জীবনটা কেবল একটা দায়িত্ব হয়ে যায়…
বেঁচে থাকা নয়।হয়তো আমরা সবাই এমনই—
স্বপ্নের পেছনে ছুটতে গিয়ে,নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোকে ধীরে ধীরে দূরে রেখে দেই…আর একসময় বুঝি—আমরা সফল হচ্ছি, কিন্তু সুখী হচ্ছি না।
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:২৫
Sujon Mahmud বলেছেন: সত্যি কথা বলেছেন, তখনকার সময়টা ছিল আরও কঠিন।
একটা চিঠির অপেক্ষায় কত দিন কেটে যেত, তবুও সেই ভালোবাসা কমেনি।
মায়ের সেই “খেয়েছ?” প্রশ্নটা যুগ বদলালেও একই রয়ে গেছে।
প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা আর আমাদের টানটা কখনো বদলায় না।
২|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০
শায়মা বলেছেন: একসাথে বাস করা বাবা মা ভাই বোন ছেড়ে একবার চলে গেলে আর ফেরা হয় না.......
নতুন জীবনে স্ত্রী, সন্তান ছেড়ে থাকাটাও শুধুই হারানোর বেদনার.....
কিন্তু কি করার আছে...... জীবন যেখানে যেমন .......
অনেক অনেক ভালোবাসা ভাইয়া..... তোমাদের সবার জন্য!
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:২৮
Sujon Mahmud বলেছেন: কথাগুলো একদম হৃদয় ছুঁয়ে গেল।
জীবন আসলেই আমাদের এমন জায়গায় এনে দাঁড় করায়, যেখানে সবকিছু চাইলেও একসাথে রাখা যায় না।
তবুও ভালোবাসাগুলোই আমাদের টিকে থাকতে শেখায়, সামনে এগোতে শক্তি দেয়।
আপনার ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ, আপনাদের জন্যও অনেক দোয়া রইল।
৩|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:২৭
মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: আমার সয়ে গেছে, মাঝে মধ্যে চেতন ফিরে পাই, খারাপ লাগে আবার সয়ে যায়। কেননা প্রবাস জীবন- দীর্ঘ ২৬ বছর!
৪|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪৫
নূর আলম হিরণ বলেছেন: প্রতিবার ঈদে বাড়িতে গেলে মিনিমাম দশ দিন সবার সাথে কাটাই। এবার কারণবশত ঈদের দুই দিন পরে ঢাকায় চলে আসতে হয়েছে, প্রচণ্ড মন খারাপ ছিল কয়েকদিন।
৫|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৫২
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: ঢাকায় বড়ো হয়েছি। এখন কাজের পারপাসে আর থাকতে পারি না । ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০
হুমায়রা হারুন বলেছেন: লেখার ধরণ সুন্দর।
ভাবছি এখন তো তাও ভিডিও কলের জামানা। আর তখন? দেশ একটা চিঠি আসতে ২১ দিন সময়য় লাগতো। ফোনে শুধু কন্ঠটাই শুনতে পেতাম মায়ের। মায়ের প্রথম প্রশ্ন, 'খেয়েছ?'