| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা
Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert

জীবনটা বড় অদ্ভুত। মানুষ নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনে মাঝে মাঝে। আজ বরিশালের একটা খবর দেখে মনটা ভারী হয়ে গেল।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের দৃশ্যটা বড় করুণ। বেডে মশারি ঝোলানো আছে, অথচ কেউ তা ব্যবহার করছে না। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তেরো হাজারের বেশি মানুষ। মারা গেছেন উনিশ জন। এই মৃত্যুর মিছিল কি আমাদের চোখ খোলে না?
রোগী ও স্বজনদের কাছে কারণ জানতে চাইলে তারা গরম আর পরিবেশের দোহাই দেন। বলেন, গরমে পাখা টানতে টানতে হাত ব্যথা হয়ে যায়, বেড খালি থাকে না। কথাগুলো হয়তো মিথ্যে নয়। হাসপাতালের পরিবেশ হয়তো সবসময় মনের মতো হয় না। কিন্তু তাই বলে জীবন নিয়ে এভাবে ছিনিমিনি খেলা কি ঠিক? মশারির নিচে থাকলে তো কিছুটা হলেও নিরাপদ থাকা যায়। ডাক্তার সব সময় পাশে থাকে না, এটা সত্যি। কিন্তু নিজের সুরক্ষা তো নিজেকেই করতে হবে।
পরিবেশ খারাপ হতে পারে, গরমও লাগতে পারে; তাই বলে মশারি না টাঙিয়ে মশার কামড় খেয়ে ডেঙ্গু ডেকে আনা তো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। একটু সচেতনতা কি আমাদের জীবন বাঁচাতে পারে না? ভাবার সময় ফুরিয়ে আসছে।
২|
০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫
রাজীব নুর বলেছেন: সরকারি হাসপাতাল গুলোর বেহাল দশা।
©somewhere in net ltd.
১|
০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৯
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
লেখাটি পড়ে সত্যিই ভাবতে হলো। হাসপাতালের বেডে মশারি ঝোলানো আছে, অথচ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও স্বজনদের অনেকেই সেটি ব্যবহার করছেন না—বিষয়টি বাইরে থেকে যতটা সাধারণ মনে হয়, বাস্তবে ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার পরও যদি মশারির প্রয়োজনীয়তা আমরা উপেক্ষা করি, তাহলে চিকিৎসার পাশাপাশি নিজেদের সচেতনতার ঘাটতিও সামনে চলে আসে।
তবে শুধু রোগী বা স্বজনদের দায়ী করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। হাসপাতালের পরিবেশ, অতিরিক্ত গরম, পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা, বেডের সংকট, মশারি ব্যবহারের সুবিধা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি—সবকিছুকেই বিবেচনায় নিতে হবে। রোগীর অসচেতনতা যেমন সমস্যা, তেমনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনাগত সীমাবদ্ধতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক সচেতনতা অনেক সময় বেশি কার্যকর হতে পারে। একজন রোগী যদি মশারির নিচে থাকেন, তাহলে শুধু তিনি নিজেই সুরক্ষিত হন না; তাঁর শরীরে থাকা ভাইরাস যেন মশার মাধ্যমে অন্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে না পড়ে, সেটিও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অর্থাৎ মশারি ব্যবহার ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও।
আপনার লেখার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, খুব ছোট একটি বাস্তব দৃশ্যকে কেন্দ্র করে বড় একটি জনসচেতনতামূলক প্রশ্ন সামনে এনেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা এবং রোগী-স্বজনদের সচেতনতা—দুই পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে ডেঙ্গুর মতো রোগের ক্ষতি কমাতে।
সময়োপযোগী ও মানবিক একটি বিষয়ে লেখার জন্য ধন্যবাদ। আশা করি এই লেখাটি সংশ্লিষ্ট রোগী, স্বজন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ—সবার মধ্যেই কিছুটা হলেও সচেতনতা তৈরি করবে।