| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা
Founder & Editor-in-Chief: priyobarishal.com | Journalist | Construction & Real Estate Expert

মানুষ আসলে পেট ভরানোর জন্য খায়, নাকি মনের তৃপ্তির জন্য? ঢাকা শহরের দামি রেস্টুরেন্টগুলোতে গেলে আমার প্রায়ই এই প্রশ্নটা মাথায় আসে। চকচকে আলো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর, অথচ খাবারের প্লেটে হাত দিলে মনে হয় আত্মাহীন কিছু একটা গিলছি। ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার গরম করে সামনে দিলে পেট হয়তো ভরে, কিন্তু মন ভরে না।
সেদিন গুলশান এক নম্বরের ১৩২ নম্বর রোডে গিয়ে এই ধারণাটা হঠাৎ বদলে গেল। রবির নতুন অফিসের পাশেই একটি রেস্টুরেন্ট। নাম ‘জোনাকি ফাস্ট ফুড ও রেস্টুরেন্ট’। নামটা বেশ সহজ ও মায়াবী। ভেতরে ঢুকে যখন জানলাম এর কর্ণধার আমির সোহেল মল্লিক আমাদের বরিশালেরই মানুষ, তখন নিজের অজান্তেই মনের ভেতর একটা আলাদা ভালো লাগা কাজ করল।
গুলশানের মতো জায়গায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করা চাট্টিখানি কথা নয়। চারপাশে কর্পোরেট হাঙর আর আকাশছোঁয়া ভাড়ার ভিড়ে টিকে থাকতে হলে বুকে সাহস লাগে। সোহেল মল্লিক সেই সাহসটা দেখিয়েছেন। এবং সবচেয়ে বড় কথা, তিনি ব্যবসার সাথে সততার আপস করেননি।
এখানে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন তৈরি হয়। কোনো বাসি বা পুরাতন খাবারের অস্তিত্ব নেই। কাচ্চি, তেহারি, চুইঝাল, কিংবা লুচির সাথে হাঁসের মাংস ভুনা—প্রতিটি খাবারেই একদম ঘরোয়া টাটকা স্বাদ। পাশাপাশি চাইনিজ বা সেট মেনুও আছে। গুলশান এলাকায় এত প্রিমিয়াম খাবার যে এতটা সুলভ মূল্যে দেওয়া সম্ভব, তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।
রেস্টুরেন্টের ওপরের তলাটাও ঘুরে দেখলাম। সোহেল ভাইয়ের চোখেমুখে আরও বড় স্বপ্নের ছাপ। প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যবহার এতটাই আন্তরিক যে মনেই হয়নি আমি কোনো বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্টে বসে আছি। মনে হচ্ছিল নিজেরই কোনো আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছি।
ফিরে আসার সময় সোহেল ভাইকে বললাম, ভাই, আমাদের বরিশালেও জোনাকির একটা শাখা খুলুন। ভালো খাবারের কদর বরিশালের মানুষ বরাবরই জানে। আমি মন থেকে চাই সোহেল মল্লিকের মতো সৎ ও পরিশ্রমী মানুষেরা ব্যবসায় সফল হোক। ইট-পাথরের এই শহরে জোনাকি রেস্টুরেন্ট সত্যিই যেন জোনাকি পোকার মতো আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। সবাই ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক—এইটুকুই চাওয়া।
©somewhere in net ltd.