| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
তারেক আশরাফ
মাঝে মাঝে আমার খুব ইচ্ছে হয় চারোদিকে শুধু হাসিমুখ দেখতে... ঘুম থেকে উঠে পূর্নিমা হোটেলে নাস্তা খেতে গিয়ে দেখবো 'গ্লাস বয়-ম্যাসিয়ার, ক্যাশিয়ার, খদ্দের' সবাই হাসছে... হাসছে রাস্তার অচেনা পথচারীরা... চা খেতে মোশারফ মামার টং দোকানে গিয়ে দেখবো সবাই হাসছে... হাসছে রিকশাওয়ালারা, বাস কিংবা প্রাইভেটকার চালকরা... হাসছে হকাররা... হাসছে গার্মেন্টস্ শ্রমিকরা... হাসছে স্কুলের ক্ষুদে শিক্ষার্থী থেকে ভার্সিটির বুদ্ধিজীবি টাইপের গম্ভীর ছেলেটাও! হাসছে পিঠা বিক্রেতা ময়না বানু... হাসছে নির্মান শ্রমিক জালাল মিয়া... হাসছে টোকাই শফিক... হাসছে ফুলওয়ালী কুসুম! আহারে! চারোদিকে কি দারুন প্রানবন্ত সব হাসিমুখ আর হাসিমুখ... ইট,কাঠ,কংক্রিটের এই শহরের রাস্তা-ঘাটে মলিন মুখ দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গেছি! যদি কোনদিন সত্যি সত্যি এই রকম হাসিমুখ দেখতে পেতাম তবে কেমন হতো কে জানে... নিশ্চয় ভয়ংঙ্কর আনন্দময় কিছু একটা হয়ে যেতো! একদম চোখ ভিজে যাবার মত আনন্দময়...
উম্মাতাল এই সময়ে, জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, জামাত-শিবির, প্রজন্ম চত্বর, আওয়ামী লীগ, সাধারন জনতা, বিদেশী সরকার বা সংস্থা, পুলিশ, আস্তিক-নাস্তিক, ডান-বাম ইত্যাদি যে যার অবস্থান থেকে যার যার বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সঠিক কাজটি করতে সচেষ্ট (অন্য পক্ষের কাছে তার গুরুত্ব বা গ্রহনযোগ্যতা যা-ই হোক)। (বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা অদূর ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চায় এবং শেষ পর্যন্ত একমাত্র তারাই ঠিক করবে এই পরিস্থিতিতে তাদের অর্জন বা ভুল কতটুকু।) কেননা পৃথিবীর কোন আন্দোলনই কোন কালেই আসন্ন সমগ্র ভবিষ্যতের ভাগ্য নির্ধারন করেনি; মানবমুক্তির, মানব-উন্নয়নের লড়াই একটি সদা চলমান, নিরন্তর সংগ্রাম- এ থেকে মানব জাতির অবসর নেবার কোন সুযোগ নেই) এক্ষেত্রে, চলমান পরিস্থিতিতে- শেষ বিচারে কারও পক্ষেই নিরপেক্ষ থাকা অসম্ভব! (যদিও নিজেদের নিরপেক্ষ, অরাজনৈতিক প্রমানে সচেষ্ট মানুষের সংখ্যা যে কোন মানব-সমাজেই যে কোন সামাজিক প্রেক্ষাপটেই বিস্তর!) আর যদি প্রশ্ন ওঠে মানবতার; “অস্তিত্ববাদ” ও “মানবতাবাদের” দার্শনিক, প্রবাদ পুরুষ জ্যাঁ পল সাত্রে কিন্তু মানবতাবাদের অজুহাতে কোন গনতান্ত্রিক বা নৈতিক আন্দোলন থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেননি! আরেকটা বিষয়ও আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা (বরং এটা নিয়ে একটা গুরুতর গবেষনা হওয়া উচিত!) মহাত্মা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র, আব্রাহাম লিংকন, জন এফ কেনেডি, বংগবন্ধু শেখ মুজিব, জন লেলন, শহীদ জাতীয় চার নেতা, এমনকী ইসলামের চার খলিফার মধ্যে তিন খলিফা, ইমাম হাসান-হোসেন, ৭১-এর শহীদ বুদ্ধিজীবিরা প্রমুখ সমস্ত জীবন সত্য, সুন্দর ও অহিংসার বানী প্রচার করলেও তাদের সবাইকেই নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল!! সত্য ও ন্যায় যতই অহিংস হোক তাকে ইতিহাস জুড়ে বারবার রক্তাক্ত হতে হয়, থেকে থেকে নিষ্পেষিত হতে হয়, আত্মরক্ষার তাগিদে রুপ বদলাতে হয়! আর তাই বুঝি- যখন চারিদিক অন্যায়, অশান্তি, অবিশ্বাস, প্রতিহিংসা, অনাচারে ভরে যায় তখন একটি দৃপ্ত, অকুন্ঠ সত্য-ভাষনই অনেক বেশী বৈপ্লবিক হয়ে ওঠে, একটি শ্লোগানই জাগিয়ে তোলে অসংখ্য মানুষকে, একটি মিছিলই জানান দেয় সমগ্র সমাজের; সমাবেশের এক একটা মানুষ, মিছিলের এক একটা মুখ একটু একটু করে পার্থক্য নির্নয় করে দেয় সত্যের সাথে মিথ্যার, ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের, অগ্রসরতার সাথে পিছু হটার, প্রেমের সাথে হিংসার, আপোষের সাথে দ্রোহের!
আজ সেই সময়, আজ সেই কাল, আজ সেই ক্ষণ!!
আজ সেই সময়, আজ সেই কাল, আজ সেই ক্ষণ!!
©somewhere in net ltd.
১|
০১ লা মে, ২০১৩ বিকাল ৫:২৩
তারেক আশরাফ বলেছেন: আজ সেই সময়