| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছন্নছাড়ার পেন্সিল
লেখালেখির সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত©লেখক যোগাযোগঃ [email protected]
Richard Dawkins এর The Selfish Gene বইটির অনুবাদ করছি। বিবর্তন সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের মাঝে এটি উল্লেখযোগ্য। বিবর্তন নিয়ে কম জানা, অজানা, এবং ভুল জানা বিষয়গুলোকে এই বইয়ে খুব 'সহজ' ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রথম অধ্যায়...
দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ অনুলিপিকারক
আদিতে ছিল সরলতা। একটা সাধারণ মহাবিশ্ব কেমন করে তৈরি হলো, তা ব্যাখ্যা করা এমনিতেই কঠিন। আমি মেনে নিচ্ছি যে প্রাণের এই চকিত উৎকলন, সুসজ্জিত ও দুর্বোধ্য এই সংস্থান যা নতুন প্রাণের উৎস হিসেবে কাজ করে, তাকে ব্যাখ্যা করা আরো জটিল। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের সাহায্যে বর্ণিত বিবর্তন তত্ত্ব একটি সন্তোষজনক সূত্র, কারণ তা এই জটিল বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে। কীভাবে সরলতা থেকে জটিলতা এলো, কীভাবে বিশৃঙ্খল অণুসমূহ শৃঙ্খলায় সজ্জিত হয়ে যৌগিক কণা তৈরি করলো, কীভাবে সেখান থেকে মানুষের উৎপত্তি হলো এসবের যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছে এই তত্ত্ব। ডারউইন এখন পর্যন্ত আমাদের অস্তিমানতার একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধানটা দিয়েছেন। এই অসামান্য তত্ত্বটিকে সাধারণত যতোটা দুর্বোধ্যভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, আমি তার চেয়ে অধিকতর সহজভাবে ব্যাখ্যা দিবো। বিবর্তন শুরু হবার আগের সময় থেকে আমাদের শুরু করতে হবে।
ডারউইনের ‘যোগ্যতমের উত্তরজীবীতা’ একটি বিশেষ অবস্থা বুঝায়, যা মূলত আরেকটি সাধারণ বাক্যবন্ধ থেকে এসেছে, সেটা হলো ‘সুস্থিতের উত্তরজীবীতা’। মহাবিশ্ব অসংখ্য সুস্থিত বস্তুতে ভরে আছে। একটি সুস্থিত বস্তু হলো কিছু অণুর স্থায়ী বা সাধারণ সমষ্টি যাকে একটা নাম দেয়া যায়। তা হতে পারে ম্যাটারহর্নের মতো কিছু অনন্য অণুর সমষ্টি, যা নামকরণের মতো স্থায়িত্ব ধারণ করে। হতে পারে একই ধরণের কিছু বস্তুর গুচ্ছ, যেমন বৃষ্টিবিন্দু, যেগুলো গুচ্ছাকারে একটা বেশ লম্বা সময়ের জন্যে অস্তিত্ব নিয়ে থাকে, যদিও এককভাবে তারা ক্ষণস্থায়ী। আমাদের চারপাশে আমরা যা দেখি, যাদেরকে বর্ণনা করা যায়, তেমন সবকিছু – পর্বত, নক্ষত্রপুঞ্জ, সাগরের ঢেউ – এগুলো সবই কম বেশি সুস্থিত অণুর বিন্যাস দিয়ে তৈরি। সাবানের বুদবুদ গোলাকার হয় কারণ সেটাই গ্যাসভর্তি সরু ফিল্মের স্থিতাবস্থা। মহাকাশযানে পানির অণুর স্থিতিশীল আকার গোলাকৃতি হয়, কিন্তু পৃথিবীপৃষ্ঠে মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে পানির অণুর স্থিতিশীল আকার হলো আনুভূমিক। যেমন, লবণ স্ফটিকের কণা ঘনক আকৃতির হয় কারণ সোডিয়াম ও ক্লোরিনের আয়নের প্যাকিংয়ের সবচেয়ে সুস্থিত গঠন হচ্ছে ঘনক। সূর্যের ভেতরে সরলতম পরমাণু হাইড্রোজেন থেকে ফিউশন বিক্রিয়ায় হিলিয়াম পরমাণু তৈরি হচ্ছে কারণ সূর্যের ঐ পরিবেশে হিলিয়ামের পারমাণবিক গঠন সবচেয়ে স্থায়ী। পুরো মহাবিশ্বের অসংখ্য নক্ষত্রের ভেতর বহু জটিল পরমাণু তৈরি হচ্ছে আরো অনেক ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু থেকে। বর্তমানে প্রমাণিত তত্ত্বমতে মহাবিস্ফোরণের পর থেকে এই প্রক্রিয়া চলমান। আমাদের বিশ্বজগতের সকল উপাদান এই মহাবিস্ফোরণ থেকেই এসেছে।
যখন একাধিক পরমাণুর মাঝে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তখন সেগুলো মিলে কমবেশি সুস্থিত অণু সৃষ্টি হয়। এরকম অণুগুলো আকারে অতি বৃহৎ হতে পারে। যেমন, হীরকের একটি স্ফটিক যা কিনা নিজেই একটি বৃহৎ অণু, একই সাথে এর স্থায়িত্বও অনবদ্য। অন্তঃআণবিক গঠনের দিক থেকে হীরক খুবই সরল কারণ এটি অসংখ্যবার পুনরাবৃত্তি হয়ে গঠিত হয়। এখনকার জীবিত প্রাণীসত্তার মধ্যে এমন অনেক অণু পাওয়া যায় যেগুলোর গঠন খুবই জটিল এবং বেশ কয়েকটি পর্যায়ে তাদের গঠনের এই জটিলতা দেখা যায়। যেমন আমাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন একটি সাধারণ প্রোটিন অণু। ছোট ছোট অ্যামাইনো এসিডের শেকল দিয়ে এটি গঠিত। এই শেকলের প্রতিটিতে কয়েক ডজন পরমাণু একটি নির্দিষ্ট বিন্যাসে সজ্জিত আছে। একটি হিমোগ্লোবিন অণুতে ৫৭৪ টি অ্যামাইনো এসিডের অণু আছে। সেগুলো চার ধরণের শেকলে সাজানো থাকে, শেকলগুলো একে অপরকে পেঁচিয়ে একটি গ্লোবিউলার বা বর্তুলাকার গঠন তৈরি করে। এই অণুর গঠন বিস্ময়কর রকমের জটিল। একটা হিমোগ্লোবিনের মডেল দেখতে অনেকটা ঘন কাঁটাঝোপের মতোন। পার্থক্য হলো হিমোগ্লোবিন অণু সত্যিকারের কাঁটাঝোপের মতো হিজিবিজিভাবে তৈরি হয় না। একজন সাধারণ মানুষের শরীরে ৬ কোটি কোটি কোটি হিমোগ্লোবিনের অণু একটা সুনির্দিষ্ট গঠন মেনে চলে, অন্তহীনভাবে পুনরাবৃত্তি ঘটে এই অণুর শেকগুলোর, যেগুলোর মাঝে একটা ডাল বা একটা প্যাঁচও এদিক ওদিক হবে না। এই নির্দিষ্ট কাঁটাঝোপের মতোন হিমোগ্লোবিনের অণুকে আমরা সুস্থিত বলতে পারি কারণ একই বিন্যাস মেনে গঠিত যে কোন দুইটি অ্যামাইনো এসিডের শেকল স্প্রিংয়ের মতো প্যাঁচিয়ে একটি নির্ধারিত গঠনের ত্রিমাত্রিক কয়েলই তৈরি করবে। আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিনের এই ‘নির্ধারিত’ কাঁটাঝোপ অণু প্রতি সেকেন্ডে তৈরি হচ্ছে মোট চার কোটি কোটি, এবং একই সংখ্যক অণু প্রতি সেকেন্ডে ধ্বংসও হয়ে যাচ্ছে।
অণুসমূহের সুস্থিত আচরণের উদাহরণ হিসেবে হিমোগ্লোবিন একটি বেশ আধুনিক অণু। এখানে যে বিষয়টি প্রাসঙ্গিক তা হলো পৃথিবীতে প্রাণের উন্মেষের আগে পদার্থবিদ্যা ও রসায়নবিদ্যার এরকম কিছু সাধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অণুসমূহের এক ধরনের প্রাথমিক বিবর্তন ঘটে থাকতে পারে। এখানে কোন নকশা, কোন উদ্দেশ্য বা কোন তত্ত্বাবধানের কথা ভাবার প্রয়োজন নেই। যে কোন শক্তি উপস্থিতিতে কিছু পরমাণু যদি একত্রিত হয়ে কোন স্থায়ী অণু তৈরি করে, তাহলে সেটি অপরিবর্তিত থাকবে। প্রাকৃতিক নির্বাচনের আদিতম ঘটনাগুলো মূলত এই স্থায়ী ঘটনাগুলোর নির্বাচন আর অস্থায়ীগুলোকে বর্জনের মাধ্যমেই ঘটেছে। এর মাঝে কোন রহস্য নেই। সংজ্ঞানুযায়ী, এটা ঘটতোই।
অবশ্যই এর মানে এই না যে মানুষের মতো যৌগিক ও জটিল জীবের অস্তিত্ব আমরা সরাসরি এই নিয়মের কথা বলে ব্যাখ্যা করতে পারবো। সমান সংখ্যক অণু পরমাণু নিয়ে নির্দিষ্ট শক্তি দিয়ে ঝাঁকালে কোন লাভ নেই। সেখান থেকে আদম টপ করে নাজিল হবে না! কয়েক ডজন পরমাণু নিয়ে এভাবে হয়তো একটা অণু তৈরি করা সম্ভব, কিন্তু একজন মানুষের শরীরে দশ লাখ কোটি কোটি কোটির চেয়েও বেশি অণু থাকে। এভাবে কোন জৈবরাসায়নিক ককটেল-মিক্সারে মানুষ তৈরি করতে গেলে আপনার যে সময় লাগবে তাতে মহাবিশ্বের পুরো সময়কাল এক পলকেই শেষ হয়ে যাবে। এমনকি তার পরেও আপনি সফল হবেন এই ব্যাপারে কোন নিশ্চয়তা নেই। আর এখানেই ডারউইনের তত্ত্বের সবচেয়ে সাধারণ রূপটি কাজে আসে। এই ধীর প্রক্রিয়ায় অণু সৃষ্টির গল্পের চালকের আসন এর পরে ডারউইনের তত্ত্বই নিয়ে নিয়েছে।
স্বভাবতই, আমি যে তথ্য দিয়ে প্রাণের উদ্ভব বর্ণনা করবো, তা অনুমানভিত্তিক। সংজ্ঞামতেই, সে সময়ে পৃথিবীতে প্রক্রিয়াটি দেখার জন্যে কেউই বেঁচে ছিলো না। আরো বেশ কিছু একইরকমের তত্ত্ব রয়েছে, যা বিবর্তন তত্ত্বের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু এই সব তত্ত্বের মাঝেই নির্দিষ্ট কিছু বিষয় একেবারে মিলে যায়। আমি যে সাধারণ বর্ণনা দিবো, মূল সত্য থেকে তা খুব বেশি দূরের নয়। [১]
পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টির সময়ে ঠিক কোন রাসায়নিক পদার্থ পাওয়া যেতো তা আমরা জানি না। তবে সম্ভাব্য পদার্থগুলো হলো পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, এবং এমোনিয়া: সবগুলো খুব সাধারণ প্রাকৃতিক যৌগ, যেগুলো সৌরজগতের অন্য কয়েকটি গ্রহেও পাওয়া যায়। রসায়নবিদেরা আদি পৃথিবীর রাসায়নিক পরিবেশ পুনরায় তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন। পরীক্ষাগারে এই সাধারণ যৌগগুলোকে একটা ফ্লাস্কে ভরে তার ভেতরে নির্দিষ্ট শক্তি উৎস দেয়া হলো অতিবেগুনি রশ্মি বা বৈদ্যুতিক ক্ষরণের (আদি পৃথিবীর বিদ্যুৎচমকের কৃত্রিম সিমুলেশানের) মাধ্যমে। বেশ কয়েক সপ্তাহ পরে ফ্লাস্কের ভেতরে মূল অণুগুলোর চাইতেও অনেক জটিল গঠনের কিছু যৌগের অণুর এক ধরণের হাল্কা খয়েরি স্যুপ পাওয়া গেলো। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, ফ্লাস্কে এমাইনো এসিড পাওয়া গেলো – যা প্রোটিনের গাঠনিক একক, জৈবিক অণুর দুই মহান শ্রেণীর একটি। এই পরীক্ষার আগে মনে করা হতো এমাইনো এসিডই কেবল প্রাণের সনাক্তকারী চিহ্ন। এই অণুটি যদি মঙ্গল গ্রহে পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নেয়া যাবে যে অচিরেই সেই গ্রহে প্রাণের উদ্ভব ঘটবে। যাক, এই পরীক্ষা থেকে বলা যায় যে আদি পৃথিবীতে এমাইনো এসিডের উপস্থিতি প্রমাণের জন্যে সেই সময়ের পরিবেশে কিছু সরল গ্যাস, আগ্নেয়গিরি, সূর্যালোক বা ঝড়ো অবহাওয়া থাকলেই চলবে। অতি সম্প্রতি, পরীক্ষাগারে রসায়নবিদেরা আদি পৃথিবীর পরিবেশ সিম্যুলেট করে একইভাবে পিউরিন এবং পাইরিমিডিন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, যা কিনা ডিএনএ’র গাঠনিক একক।
একই ধরণের প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়ই সেই ‘আদি স্যুপ’ তৈরি হয়েছিলো, জীববিজ্ঞানী ও রসায়নবিদেরা মনে করছেন, ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার লক্ষ বছর আগের সমুদ্রে এই স্যুপ পাওয়া যেতো। এই জৈবিক পদার্থ ধীরে ধীরে সম্পৃক্ত এবং ঘন হয়ে, মূলত সমুদ্রের তীরে শুষ্কভূমিতে ছোট ছোট বিন্দুকণায় জমা পড়তো। অতিবেগুনি রশ্মির মতো শক্তির উপস্থিতিতে এই বিন্দুগুলো জড়ো হয়ে আরো বৃহৎ অণু তৈরি করতো। এখনকার সময়ে এমন বৃহৎ অণু খুব বেশিক্ষণ টিকবে না বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণুর দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার কারণে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু সেই সময়ে প্রকৃতিতে ছিলো না, এবং এই বৃহৎ অণুগুলো ধীরে ধীরে জমা হবার সুযোগ পেতো।
ঘটনাক্রমে, এক পর্যায়ে একটি বিশেষ অণু সৃষ্টি হয়েছিলো। আমরা এই অণুটিকে বলবো অনুলিপিকারক। এই অণুই যে সবচেয়ে জটিল গঠনের বা সবচেয়ে বৃহদাকারের ছিলো তেমন না, তবে এটার বিশেষত্ব ছিলো যে তা নিজেই নিজের কপি তৈরি করতে পারতো। মনে হতে পারে যে এই ধরণের ‘ঘটনা’ ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম। এবং আদতেই তা সত্যি। এই ঘটনাটি খুবই ‘অসম্ভাব্য’ ঘটনা। একজন মানুষের জীবনকালে যদি এর সম-সম্ভাবনার কোন ঘটনাকে তুলনা করা হয় তাহলে তাকে বাস্তবিকভাবেই অসম্ভব বলে রায় দেয়া যায়। এজন্যেই আপনি কোন ফুটবল পুলের লটারিতে কোন বড়ো পুরষ্কার কখনো জিতবেন না। কিন্তু আমাদের ব্যক্তিগত সম্ভাবনার হিসাবে অভ্যস্ত মস্তিষ্ক সাধারণত লাখ লাখ বছর সময়ে ঘটা সম্ভাবনা নিয়ে কল্পনা করতে পারে না। যদি আপনি কয়েক হাজার লক্ষ বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে ফুটবল কুপন পূরণ করতে থাকেন, তাহলে বেশ কয়েকবার পুরষ্কার জেতা খুবই স্বাভাবিক।
একটা অণু যা কিনা নিজে নিজেই কপি হতে থাকে, সেটাকে প্রথমে বেশ কষ্টকল্পনা মনে হলেও আসলে তা নয়, আর এই ঘটনাটা কেবল একবারই ঘটতে হবে। মনে করুন এই অনুলিপিকারক একটা ছাঁচ বা টেমপ্লেট। মনে করুন এটা একটা বিরাট অণু যার ভেতরে নানারকম একক অণুর জটিল শেকল রয়েছে। ছোট ছোট শেকলগুলো সেই আদি স্যুপে অনুলিপিকারকের চারপাশে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান ছিলো। এখন ধরে নিন যে প্রতিটা একক অণুতে নিজের সমপ্রকৃতির অণুর প্রতি একটা আকর্ষণ আছে। তাহলে যখনই অণুটি অনুলিপিকারকের কোন অংশে নিজের গঠনের সাথে মিল পাবে, তখনই সেটা সেখানে যুক্ত হয়ে যাবে। যুক্ত হবার সাথে সাথেই অণুটি অনুলিপিকারকের মূল গঠনের সাথে খাপে খাপে মিলে যাবে। তারা তখন যুক্ত হয়ে মূল অনুলিপিকারকের সদৃশ একটা সুস্থিত শেকল তৈরি করবে, এটাও সহজে ভাবা যায়। এই প্রক্রিয়া স্তরে স্তরে বেড়ে উঠতে পারে। এভাবেই বিভিন্ন স্ফটিক তৈরি হয়। অপরদিকে ঐ দুটো শেকল বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা দুটো অনুলিপিকারক পাবো যা কিনা একইভাবে অনুলিপি তৈরি করতে থাকবে।
এর চাইতে একটু জটিল সম্ভাবনার দিকে যাওয়া যাক। ধরে নেয়া যায় যে প্রতি একক অণুর নিজের সদৃশ এককের সাথে নয় বরং নিজের পরিপূরক আরেকটি এককের প্রতি আসক্তি আছে। তখন এককটি নিজের সদৃশ কপির ছাঁচ হিসেবে কাজ করবে না, বরং নিজের ‘নেগেটিভ’ ছাঁচ হিসেবে কাজ করবে, যা অনুলিপি তৈরির সময়ে মূল পজেটিভ এককের মতো ঠিক আরেকটি একক তৈরি করবে (পজেটিভ-নেগেটিভ প্রক্রিয়া)। আমাদের হিসাবের জন্যে অনুলিপিকরণ প্রক্রিয়া পজেটিভ-পজেটিভ নাকি পজেটিভ-নেগেটিভ ছিলো সেটা জরুরি না। যদিও এখানে উল্লেখ করা ভালো যে প্রকৃত অনুলিপিকারকের আধুনিক সংস্করণ, বা ডিএনএ অণু, উল্লেখিত পজেটিভ-নেগেটিভ প্রক্রিয়ায় অনুলিপি তৈরি করে। যে বিষয়টি জরুরি তা হলো তখন হঠাৎ করেই আদি প্রকৃতিতে এক নতুন ধরনের ‘স্থায়িত্ব’ চলে এসেছিলো। এর আগে স্যুপের ভেতরে কোন বিশেষ ধরনের জটিল অণুর সংখ্যা ছিল অপ্রতুল, কারণ প্রতিটি অণু তার গাঠনিক একক ভাগ্যক্রমে সৃষ্টির সম্ভাবনার ওপর নির্ভরশীল ছিলো। কিন্তু যখনই অনুলিপিকারকের সৃষ্টি হলো, তখনই অবধারিতভাবে সেটি অতি দ্রুত নিজের অসংখ্য কপি তৈরি করেছে, যতক্ষণ না গাঠনিক ক্ষুদ্র অণুগুলো একেবারে কমে যায়। অনুলিপিকারক ছাড়া অন্যান্য বৃহৎ অণু এর পরে খুব কমই তৈরি হচ্ছিলো।
তো এখন আমরা বেশ বড়োসংখ্যক সদৃশ অনুলিপির একটা সমষ্টি পেলাম। কিন্তু এখানে অনুলিপিকরণের একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বলে রাখা ভালোঃ এটা নিখুঁত নয়। কপি তৈরির সময়ে ভুল হবেই। যেমন আমি আশা করছি এই বইটায় কোন বানান-বিভ্রাট নেই, তবে আপনি যদি খুব খেয়াল করে পড়েন, তাহলে হয়তো একটা বা দুটো ভুল পেতেও পারেন। সেগুলো হয়তো বাক্যের অর্থ খুব বেশি বদলে দিবে না, কারণ সেগুলো হচ্ছে ‘প্রথম প্রজন্মে’র ভুল। কিন্তু মুদ্রণব্যবস্থার আগের কথা চিন্তা করুন, যখন হাতে লিখে গসপেলের মতো বই কপি করা হতো। যতোই সচেতন থাকুক না কেন সব লিপিকারই কোন না কোন ভুল করেছেন, আবার কেউ কেউ হয়তো স্বেচ্ছায় ছোটখাট ‘সংশোধন’ও করেছেন। যদি তারা সবাই একটা আদি সংস্করণ থেকে কপি করে থাকেন, তাহলে হয়তো বাক্যের অর্থের খুব একটা বিকৃতি ঘটবে না। কিন্তু যদি মূল সংস্করণ থেকে না হয়ে কপি থেকে কপি করা হতে থাকে, আবার সেই কপি থেকে আরো কপি করা হতে থাকে, তাহলে ভুলের সংখ্যা যোগানুপাতে বাড়তেই থাকবে, এবং ভুলগুলো হবে গুরুতর। এমন অসাবধানী কপি করাকে আমরা খারাপ বলেই বিবেচনা করি, আর মানুষের বেলায় এমন অনুলিপিকরণে ভুলগুলোকে উন্নয়ন মনে করা কষ্টকল্পনা। আমি মনে করি সেপ্টুয়াজিন্ট-এর পণ্ডিতেরা যখন তোরাহের অনুবাদ করতে গিয়ে হিব্রু ভাষার ‘তরুণী’ শব্দের গ্রীক ভাষান্তর করলেন ‘কুমারী’, তখন বড়োসড়ো গড়বড় ঘটে গেছে। তাদের অনুবাদের ফলে ঐশীবাণীটির চেহারা দাঁড়ালোঃ “ শোনো, এক কুমারীর গর্ভে ভ্রূণসঞ্চার হবে আর জন্ম নিবে এক ছেলে…” (Isaiah 7:14)। [২] যাই হোক, আমরা দেখাবো যে জৈবিক অনুলিপিকারকগুলোর মধ্যে এমন অসাবধানী নকলের প্রবণতা থেকে সত্যিকার অর্থেই উন্নতি ঘটে, আর প্রাণের ক্রমবিবর্তনের ধারায় এই ভুলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। ঠিক কতোটা নিখুঁতভাবে প্রাথমিক অনুলিপিকারকগুলো নকল তৈরি করতো তা আমরা জানি না। তাদের বর্তমান বংশধর, অর্থাৎ ডিএনএ অণু এই কাজে অবিশ্বাস্য মাত্রায় নিখুঁত, সবচাইতে বিশ্বস্ত মানুষের চাইতেও তারা শ্রেয়। কিন্তু সেখানেও মাঝে মাঝে ভুলচুক হয়ে যায়। এই হুট করে ঘটা ভুলগুলোতেই মূলত বিবর্তন ঘটে। সম্ভবত প্রাথমিক অনুলিপিকারকগুলো অতিমাত্রায় বেখেয়ালী ছিলো, যেটাই হোক না কেন, সেই সময়ে ভুল হয়েছিলো এই ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত, আর সেই ভুলগুলো যথারীতি ক্রমাগত ঘটেছিলো ভাবাটাই যৌক্তিক।
যখন এই ক্রমান্বয়ে ঘটে চলা ভুল যতো বেড়েছে, তখন সেই আদিম স্যুপে নানারকমের অনুলিপিকারকের সংখ্যা বেড়েছে। এই বিচিত্রতা সহজেই অনুমেয়, আর একই প্রকৃতির অনুলিপিকারক না থাকাটাও স্বাভাবিক। এই সকল ‘উত্তরবংশ’ আসলে এক আদিম পূর্বপুরুষ থেকেই উৎপন্ন। কোনো কোনো ধরণের অনুলিপিকারক কি অন্যগুলোর চাইতে বেশি তৈরি হয়েছিলো? অবশ্যই হ্যাঁ। কিছু কিছু অনুলিপিকারক অন্যগুলোর চাইতে বেশি সুস্থিত ছিলো, কিছু কিছু অণুর সৃষ্টির পরে ভেঙে যাবার সম্ভাবনা অন্যান্য অণুর চাইতে কম ছিলো। এই ধরণের অণুর সংখ্যা খুব কম সময়েই স্যুপে বেড়ে যাওয়ার কথা। চিন্তা করলে, সেগুলোর দীর্ঘায়ু যেমন সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ, তেমনি দীর্ঘ আয়ুকালে তারা বেশি বেশি অনুলিপি তৈরি করতে পারতো এটাই বড়ো কারণ। সুতরাং দীর্ঘায়ুর অনুলিপিকারকের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পেলো, তেমনি বাকি সবকিছু ঠিক থাকলে সেই অণুর জনসংখ্যায় এই দীর্ঘ আয়ুর একটি ‘বিবর্তনিক প্রবণতা’ও তৈরি হলো।
অথচ সেখানে বাকি সব কিছু সম্ভবত ঠিক ছিলো না। আর অনুলিপিকারক বৈচিত্র্যের বিশ্লেষণে তাদের আরেকটি বৈশিষ্ট্যও গোনায় ধরতে হবে। অনুলিপিকারক বৈচিত্র্যের মাঝে দ্রুত বিস্তার ও বৃদ্ধির একটি জরুরি বৈশিষ্ট্য হলো উর্বরতা (fecundity)। যদি অনুলিপিকারক ক নিজের অনুলিপি তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ লাগায়, আর অনুলিপিকারক খ নিজের অনুলিপি কয়েক ঘন্টায় তৈরি করে ফেলে, তাহলে সহজেই বুঝা যায় যে খুব তাড়াতাড়িই ক-এর অণুর সংখ্যা খ-এর অণুর তুলনায় নগণ্য হয়ে যাবে (এমনকি সেগুলো ‘দীর্ঘায়ু’ হলেও)। তাহলে এটা বলা যায় যে সেখানে ‘উর্বরতা’র গুণের দিকেও একটা ‘বিবর্তনিক প্রবণতা’ সেই স্যুপে তৈরি হয়েছিলো। তৃতীয় আরেকটি বৈশিষ্ট্য অনুলিপিকারকের মাঝে দরকারী ছিলো, সেটি হচ্ছে অনুলিপি তৈরির শুদ্ধতা। যদি অনুলিপিকারক গ এবং ঘ একই হারে অনুলিপি তৈরি করে, আর তাদের আয়ুও সমান হয়, সেক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য নির্ধারক হয়ে দাঁড়ায়। গ-এর অনুলিপির প্রতি দশম ধাপে যদি একটা করে ‘ভুল’ হতে থাকে আর ঘ-এর অনুলিপির প্রতি একশতম ধাপে একটা করে ভুল হয়, তাহলে অবশ্যই ঘ-অণুর সংখ্যা বেশি হবে। গ-অণুগুলো কেবল যে নিজের ভুলভাল ‘সন্তান’গুলোকেই হারাবে না তা নয়, তাদের ভবিষ্যত প্রকৃত ও সম্ভাব্য বংশধরও হারিয়ে যাবে।
আপনি যদি বিবর্তন সম্পর্কে একটু ধারণা রাখেন তাহলে শেষ পয়েন্টটা হয়তো স্ববিরোধী মনে হবে। “উচ্চ অনুলিপি-শুদ্ধতার দিকে প্রাকৃতিক নির্বাচন পক্ষপাতী” এই বক্তব্যের সাথে “ভুল অনুলিপি বানানো বিবর্তন ঘটার একটি জরুরি পূর্বশর্ত” – এই দাবির কোনো সামঞ্জস্য কি আমরা আনতে পারি? এর উত্তর হলো, যদিও ভাসাভাসাভাবে দেখলে বিবর্তন প্রক্রিয়াটিকে ‘ভালো ঘটনা’ বলে মনে হয়, যেহেতু আমরা সবাই এই প্রক্রিয়ার উপজাত, আসলে কেউই বিবর্তিত হতে ‘চায়’ না। চান বা না চান, বিবর্তন এমন এক প্রক্রিয়া যা ঘটবেই, সব অনুলিপিকারকের (এখনকার ডিএনএ’র) সব ধরণের বিরোধিতা সত্ত্বেও। এই বিষয়টি Jacques Monod তার হার্বার্ট স্পেন্সার বক্তৃতায় খুব পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেছেন। তার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যটা ছিলোঃ ‘বিবর্তনের ব্যাপারে আরেক মজার কথা হলো সবাই মনে করে যে সে বিবর্তন খুব ভালো বুঝে!’
তো, চলুন আবার সেই আদিম স্যুপের কাছে ফিরে যাই। এতোক্ষণে নিশ্চয়ই নানান বৈচিত্র্যে ভরা সুস্থিত অণুতে গিজগিজ করছে। সুস্থিত এ অর্থে বললাম, যে হয় সেগুলো দীর্ঘসময় টিকে আছে, অথবা সেগুলো দ্রুত অনুলিপি তৈরি করছে, অথবা সেগুলো নিখুঁতভাবে অনুলিপিত হচ্ছে। বিবর্তনগত প্রবণতা এই তিন ধরনের স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করে নিম্নরূপেঃ যদি দুটা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই স্যুপ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাহলে পরের নমুনাটিতে বেশি দীর্ঘ/বেশি উর্বর/বেশি নকল-বিশ্বস্ত বৈশিষ্ট্যের অণু অধিক পরিমাণে পাওয়া যাবে। এই একই কথা একজন জীববিজ্ঞানীও বিবর্তন নিয়ে বলে থাকেন যখন তিনি জীবিত প্রাণিজগত নিয়ে আলোচনা করেন, আর দুইক্ষেত্রেই মূল পদ্ধতি একই – প্রাকৃতিক নির্বাচন।
আমরা কি তবে আদি অনুলিপিকারক অণুগুলোকে ‘জীবিত’ বলতে পারি? হু কেয়ারস? আমি হয়তো আপনাকে বললাম ‘ডারউইন পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ’, আর আপনি হয়তো বললেন, ‘না, নিউটন’। আশা করি আমরা সেই তর্ক বেশিক্ষণ চালাবো না। কথা হলো আমাদের তর্ক মীমাংসায় কোন উপসংহার বা সিদ্ধান্তই প্রভাব রাখে না। আমরা তাঁদেরকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মানি বা না মানি, নিউটন এবং ডারউইনের জীবন ও অর্জনের প্রকৃত তথ্য তাতে বদলায় না। ঠিক তেমনি, আমি যেভাবে বললাম সেভাবেই অনুলিপিকারক অণুর গল্পটা ঘটেছিলো বলে প্রমাণিত, আমরা সেগুলোকে ‘জীবিত’ বলি বা না বলি, তাতে কিছু যায় আসে না। আমাদের এতো জ্বালা-যন্ত্রণার কারণ আমরা মেনে নিতেই পারি না যে শব্দ আসলে আমাদের ব্যবহৃত প্রকাশ মাধ্যম ছাড়া কিছুই না, আমরা বুঝতে চাই না যে অভিধানে ‘জীবিত’ শব্দ থাকা মানে এই না যে সেটা এই পৃথিবীতে কোন রক্তমাংসের অর্থ বুঝায়। প্রাথমিক অনুলিপিকারকদের আমরা জীবিত বলি আর না বলি, এতে কোনো সন্দেহ নাই যে তারাই প্রাণের পূর্বপুরুষ; তারাই আমাদের আদি-পিতা।
এই প্রসঙ্গে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হলো প্রতিযোগিতা, যা নিয়ে খোদ ডারউইন প্রচুর আলোচনা করেছেন (যদিও তিনি প্রাণী ও উদ্ভিদ নিয়ে কথা বলেছেন, অণু নিয়ে না)। আদিম স্যুপে অসীম সংখ্যক অণুর জায়গা হতে পারে না। প্রথমত, পৃথিবীর মোট আয়তন সীমিত, তবে এর চাইতেও বড়ো প্রভাবক উপাদান ছিলো। আমরা যেভাবে এই অনুলিপিকারকের ধারণা তৈরি করছি, যা একপ্রকারের ছাঁচ বা টেমপ্লেট হিসেবে কাজ কছে, সেগুলো প্রথমে নিশ্চয়ই প্রচুর ছোট ছোট গাঠনিক একক অণুর সাগরে ভাসছিলো। কিন্তু যখন দ্রুত অনুলিপিকরণ চালু হলো, তখন ধীরে ধীরে সেই ক্ষুদ্র গাঠনিক এককের সংখ্যা কমে যাবেই। বিভিন্ন ধরণের অনুলিপিকারক তখন সেগুলোর জন্যে প্রতিযোগিতা করেছে। অধিক সুস্থিত প্রকারের শ্রেণীগুলো যে যে ভাবে পক্ষপাত পায় সেগুলো আমরা এতোক্ষণ দেখেছি। আর এখন দেখা যাচ্ছে যে কম-সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেণীগুলো প্রতিযোগিতার কারণে অপেক্ষাকৃত কম পক্ষপাত পাবে, এবং শেষ পর্যন্ত অনেকেরই ধারা বিলুপ্ত হবে। অনুলিপিকারকের বৈচিত্র্যের শ্রেণীগুলোর মাঝে টিকে থাকার লড়াই ছিলো। তারা জানতো না যে তারা লড়াই করছে, কিংবা এ নিয়ে দুশ্চিন্তাও করতো না; একেবারে বিদ্বেষ ছাড়াই এই লড়াই চলেছিলো, এমনকি আদৌ কোন ধরণের অনুভূতিই সেখানে ছিলো না। কিন্তু তারা লড়ছিলো নিশ্চয়ই, এতোটাই যে কোনো ভুল-নকলীকরণের ফলে যদি নতুন অধিক-স্থায়ী গঠন পাওয়া যায়, বা কোনোভাবে তা প্রতিদ্বন্দ্বীদের স্থায়িত্ব হ্রাস করে, তাহলে সেই ভুলটাই সংরক্ষিত হবে এবং গুণাকারে বেড়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ার উন্নতি ছিলো ক্রমবর্ধিষ্ণু। নিজের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি বা প্রতিদ্বন্দ্বীর স্থায়িত্ব হ্রাসের নানান পথ ধীরে ধীরে বাড়লো। কেউ কেউ হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী অণুকে ভেঙে ফেলার কায়দা-কানুনও ‘আবিষ্কার’ করে ফেললো, আর ভেঙে ফেলার পরে সেগুলোর গাঠনিক একক কাজে লাগিয়ে নিজের কপি তৈরি করলো। এই আদি-মাংশাসীরা একইসাথে নিজেদের খাবার জোগাড় করলো আর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিলুপ্তি ঘটালো। অন্যান্য অনুলিপিকারকেরা হয়তো নিজেদের রক্ষা করার উপায় বের করে ফেলেছিলো, হয় রাসায়নিকভাবে, নয়তো নিজেদের চারিদিকে প্রোটিনের দেয়াল তৈরি করে। হয়তো এভাবেই প্রথম জীবিত কোষের জন্ম হয়। অনুলিপিকারকেরা শুধু টিকে থাকাই শুরু করলো না, ধীরে ধীরে নিজেদের জন্যে ধারক তৈরি করলো, যে ধারক বা বাহকে তাদের অস্তিত্ব বহাল থাকবে। সেই অনুলিপিকারকগুলোই টিকে গেলো যারা নিজেদের বসবাসের জন্যে উত্তরজীবীতার যন্ত্র বানাতে পেরেছিলো। এরকম যন্ত্রের প্রথমটার হয়তো একটা সুরক্ষা-আবরণ ছাড়া কিছুই ছিলো না। কিন্তু যতোই নতুন ও কার্যকর উত্তরজীবীতার যন্ত্র নিয়ে নতুন নতুন প্রতিস্বন্দ্বী তৈরি হতে থাকলো, ততোই টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠলো। এই যন্ত্রগুলোও হয়ে উঠলো আরো বড়ো ও আরো সুনির্মিত, এই প্রক্রিয়াটিও ছিলো ক্রমবর্ধমান এবং প্রগতিশীল।
পৃথিবীতে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে অনুলিপিকারকদের এই কৌশল আর চাতুর্যের সাথে ক্রমশ উন্নত হয়ে ওঠার কি কোন শেষ ছিলো? এরকম উন্নতির জন্যে তো অনেকটা সময় পড়ে আছে। স্বরক্ষার কোন উদ্ভট উপায়, কৌশল সামনের হাজার হাজার বছর নিয়ে এসেছিলো? প্রায় চল্লিশ হাজার লক্ষ বছর পরে সেই আদি অনুলিপিকারকের ভাগ্যে কি ঘটেছিলো? তারা তো নিশ্চয়ই বিলুপ্ত হয়ে যায় নি, কারণ তারাই টিকে থাকার লড়াইয়ের আদি-যোদ্ধা। কিন্তু তাদেরকে সাগরে খুঁজতে যাবেন না; তারা সেই শৌখিন স্বাধীনতা বহু আগেই বিসর্জন দিয়েছে। তারা এখন বৃহৎ উপনিবেশে দলবেঁধে সাঁতরে বেড়ায়, বিশাল জগদ্দল রোবোটের ভেতরে, [৩] বাইরের পৃথিবীর সাথে এখন তাদের সংশ্রব নেই, তেমন যোগাযোগের জন্যে আঁকাবাঁকা বক্র কুটিল পথের প্রয়োজন পড়ে, রিমোট কন্ট্রোল কাজে লাগাতে হয়। তারা আমার ভেতরে আছে, তারা রয়েছে আপনার ভেতরেও; তারাই আমাদের সৃষ্টি করেছে, আমাদের দেহ আর আমাদের মন; আর তাদের সংরক্ষণশীলতাই আমাদের অস্তিত্বের চূড়ান্ত মৌলিক যুক্তি। ওই অনুলিপিকারকেরা এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। এখন তাদেরকে জিন বলে ডাকা হয়, আর আমরা হলাম তাদের উত্তরজীবীতার যন্ত্র।
***
মুক্তমনা'য় প্রকাশিত পোস্টের লিঙ্ক।
[অনুবাদ, ভাষাভঙ্গি এবং তথ্য সব দিক নিয়ে সকলের মতামত জানতে 'হা' করে বসে রইলাম!
এই অধ্যায়ের তিনটা ফুটনোট দিয়েছেন লেখক। সেগুলো মন্তব্য সেকশনে হুবহু তুলে দিচ্ছি বোঝার সুবিধার্থে। আগ্রহী যে কেউ নোটগুলোকে অনুবাদ করতে পারেন, অশেষ কৃতজ্ঞ হয়ে থাকবো! ]
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আংরেজিতে মাইনাচ। ![]()
২|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৪
ধরারনি বলেছেন: একটি অসাধারন বই................Richard Dawkins boss..............
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪০
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: হুম। এই বইয়ের গত বছর ৩০ তম বার্ষিকী পালিত হলো। আর লেখক ডকিন্স তো স্বনামধন্য!
৩|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৮
হুমায়রা হারুন বলেছেন: অসাধারন!
++++++++++++++++++++
অভিনন্দন অনেক।
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৫৮
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ হুমায়রা হারুন। শুভেচ্ছা রইলো।
৪|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩৩
রাতমজুর বলেছেন: আমার দৌড়তো জানেনই
সাইন্স বুঝি না ![]()
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:১৬
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: মাঝে মাঝে আমিও বুঝি না। দুনিয়া বড়োই জটিল জায়গা! ![]()
৫|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৩৮
এ,রহিম বলেছেন: অসাধারন!+++++++
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:২২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ধন্যবাদ রহিম।
৬|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:৪৮
পিটার প্যান বলেছেন: আপনার জন্যে অনেকগুলা হুরপরীর দুয়া করলাম। +
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:২৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: হা হা হা! হুরপরী দিয়ে কি করবো? এখনি আমারে মারতে চান?
৭|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:০১
বাবুল হোসেইন বলেছেন: অনিক ভাই
প্রিয়তে রাখলাম।
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:২৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ!! ![]()
৮|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:০৪
অপ্রয়োজন বলেছেন: আমার ব্রেইন মনে হয় পুরাপুরি বিবর্তিত হয়নাই ... কিছুই বুঝি না ... লুকজন এত কঠিন কথা পড়ে বুঝে তো বুঝে ... অনুবাদ ও করে ফেলে ... ![]()
অনুবাদ শেষ হৈলে বই ছাপায়া পড়বোনে
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:৩৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: কঠিন ভাবলেই কঠিন বস। আপনি যেগুলো বুঝেন আর যে বিদ্যা নিয়ে কাজ করেন, সেগুলার নামগন্ধ শুনলেও আমি দৌড়ায় পালাই! ![]()
অনুবাদ শেষ হইতে আরো এক বছর লাগিবেক। বইখানা ৩৫০+ পৃষ্ঠার! ![]()
৯|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:২৪
ধূসরমেঘ বলেছেন: সো জা জা আ আ প্রিয় তে.....
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১:৪২
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আপনাকে উল্টাপাল্টা লেভেলের ধন্যবাদ!
অট: প্রোফাইলে কি আসলেই কেউ উল্টায়া আছে নাকি? ![]()
১০|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:০৮
মনির হাসান বলেছেন: হাজারটা "বুখে আয় বাভুল" ... অভিবাদন
... কাজের মতো কাজ হচ্ছে একটা।
অনুবাদে - ৯৫
ভাষাভঙ্গি - ১০০
শব্দানুবাদ - ১০০
তথ্য - ( আপাতত দিতে পারলাম না ... স্যরি)
অনুমান এবং সম্ভাবনার উপর দাঁড়িয়ে থাকা ডকিন্সের এই মডেলটা নিয়ে বিপরীত শিবিরে কিছু (যদি সেরকম আগ্রহী কেউ থেকে থাকে আর কি) প্রশ্ন আসতে পারে। তার জন্য যেসমস্ত প্রমানিত জীবতত্ত্বের নিরিখে মডেলটা দাড় করানো তার কিছু লিঙ্ক দরকার হতে পারে। পারলে দিয়ে যাবো। তবে সময় লাগবে।
প্রিয়'তে।
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:৪১
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: বুখে আয় বাভুল! হা হা হা! ![]()
অনেক ধন্যবাদ মনির ভাই। অনুবাদের সকল ক্লেশ এরকম মন্তব্য পেলে ভুলে যাই।
অনুমানের ওপরে ভিত্তি করে দাঁড় করালেও মডেলটি কেন যৌক্তিক আর কেন নেয়া হলো সেটা ডকিন্স আবার ফুটনোটে বলে দিয়েছেন। আর প্রাণের উৎপত্তি তো বিবর্তনের এরিয়া না, প্রাণ সৃষ্টির পর থেকে বিবর্তনের এরিয়া শুরু। সুতরাং এখানে ডিবেট করার (বা ভুল প্রমাণের) কিছু নাই।
যে কেউ যে কোন থিউরি বা স্পেকুলেশন গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু ফ্যাক্ট হলো যে অণু থেকেই প্রাণ তৈরি হয়েছে। তারপরে এককোষী, বহুকোষী এই ধারায়।
বিবর্তন তত্ত্বের 'জোর'টা হলো এখানে স্পেকুলেশন নাই। সবই প্রমাণিত, ফ্যাকচুয়াল। ![]()
১১|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৭:৪২
আকাশ_পাগলা বলেছেন: দারুণ লাগল পড়ে।
শুধুমাত্র জানার উদ্দেশ্যে (অন্য কোন পারপাসে নেবেন না প্লিজ) বিবর্তনের যে দু একটা বিষয় আমি বুঝি না, সে ব্যাপারে জানতে চাই।
কিন্তু পোস্টের সাথে রিলেটেড না। তাই অনুমতি ছাড়া জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছিনা।
আমি কী প্রশ্ন করব? এখানে বা অন্য কোথাও !!
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ১০:৩৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: অবশ্যই প্রশ্ন করবেন। ব্লগের পরিবেশে এভাবে জিজ্ঞাসা করা লাগলো, যদি আরো সুস্থ চর্চা থাকতো তাহলে আরো প্রাণবন্ত আলোচনা হতো। আফসুস।
আমার যতোটুকু পড়াশুনা, তা খুবই নগণ্য। তারপরেও যদি উত্তর জানি, আপনার প্রশ্নের জবাব দিবো অবশ্যই।
১২|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪৭
আকাশ_পাগলা বলেছেন: কয়েকদিন আগে বিবর্তনবাদের উপর বেশ কিছু ঘাটাঘাটি করলাম। আসলে এত এত প্রমাণ এর পক্ষে যায়, যে বিপক্ষে কথা বলার সুযোগ খুব কম।
কিন্তু সূক্ষ্ম ব্যাপারগুলাতে এসে পুরো ধারণাটা আমার কাছে এলোমেলো হয়ে যায়। আপনি অভয় দেয়াতে আমি প্রশ্ন করছি।
১) যেই ফসিল গুলা পাওয়া গেছে, বা মিসিং লিংক গুলার ক্ষেত্রে অনেক সময়েই জীবের একটা মাত্র অংশ পাওয়া গেছে। ধরা যাক, একটা মাত্র হাড় বা পাখার অংশবিশেষ বা চোয়াল।
এখন শুধু এটুকুতে প্রাণীটাকে মিসিং লিংক হিসেবে চিনহিত করলে, সেখানে অনুমানের ভূমিকা কতটুকু? মানে, ডারউইনের সম্মানে যে মিসিং লিংকের প্রাণীটার নাম দেয়া হল, সেটার ত দেখলাম শুধু চোয়াল পাওয়া গেছে।তাহলে প্রাণীটার যে ইমেজ দেখলাম, এটা কীভাবে তৈরি করা হল? ওটা বোধহয় আদিম বৃহদাকার পিঁপড়াভূক। সেটা যে আদিম ঘড়িয়াল ছিল না বা আদিম বাচ্চা ম্যামাল ছিল না, তার নিশ্চয়তা কী?
কার্বন ডেটিং এ জানা গেল এটা অনেক আগের। সে সময় বাচ্চা হাতি থাকা সম্ভব না(প্রথমেই মেনে নেয়া হল), তাই বাচ্চা হাতির চোয়াল হিসেবে এটা কনসিডার করা হল না(আগের মেনে নেয়া অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হল)। ব্যাপারটা ত উলটা হবার কথা ছিল। আগে পাব, পরে মেনে নিব।
শুধু চোয়াল পেয়ে পুরো প্রাণীটার কাঠামো কিভাবে তৈরি করা হয়? এখানে আগে থেকে নেয়া সিদ্ধান্ত আর অনুমান কতটুকু জড়িত ??
--------------------
আগে এই ব্যাপারটা বুঝে নেই। পরে বাকি দুটা প্রশ্ন করব।
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৩:২৭
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: (সারাদিন বাইরে ছিলাম, তাই দেরি হলো। সামু'র ভুল না আমার, নোটিফাই করেনি বা আমি দেখিনি। এটাও একটা কারণ বটে।)
প্রশ্নে আসি। যে মিসিং লিংকগুলো এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে, সেগুলোর সবগুলোর পুরো ফসিল পাওয়া যায় নি। হাড়ের মাঝে বৈশিষ্ট্য তাহলে কীভাবে বুঝা গেল?
উত্তরটা ভেঙে ভেঙে দেই। প্রথমত যখন কোন ফসিল বা ফসিলের অংশ পাওয়া যায়, সেটার গঠনের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য দেখা হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোকে বলে প্লেসিওমরফিক চিহ্ন। যেমন মেরুদণ্ড থাকা, বা ডানা থাকা, বা লেজের গঠনের বিশেষ চিহ্ন - এগুলো একেবারে শ্রেণী পর্যন্ত নির্দেশ করে দেয়।
এর পরের যে চিহ্নগুলো দেখা হয়, সেটা হলো ফসিলের 'এরা'। অর্থাৎ সেটা কোন যুগের পাথরে পাওয়া গেছে। সোজা বাংলায় ফসিলের বয়স।
ডারউইনের সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিবর্তনের গবেষণায় মূল কাজ যেটা আমার কাছে খুব জরুরি মনে হয় সেটা হলো এই বয়সের হিসাব আর ক্ল্যাডিওগ্রাম। এই ক্ল্যাডিওগ্রাম হলো এক ধরনের লেখ বা চিত্র, যেখানে সকল প্রজাতির ক্রমানুসারে লিস্ট করা থাকবে। কোন প্রজাতির পরে কোন প্রজাতি এসেছে, কে কে কার 'পিতা', কে কার 'ভাই', কার সাথে কার কোন সম্পর্কই নাই - এগুলো সব ঐ ছবি থেকে দেখা যায়। এমনকি মিসিং লিংক বা ট্রানজিশনাল প্রজাতির জায়গাও সেখানে রাখা আছে।
এই জায়গাতেই আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন। সেটা হলো আগেই কেমন করে ধরে নেয়া হলো কোনটা আগে কোনটা পরে। এই সিদ্ধান্তটাও এমনি এমনি নেয়া হয় নি। বিবর্তনের নিয়ম মেনেই এটা করা হয়েছে। প্রাণিজগত যেভাবে বিবর্তিত হয়েছে সেখানে ডিএনএ'র গঠন, জটিলতা, দেহের গঠন, মগজের পরিমাণ ও গঠন, অঙ্গসংস্থান বা মরফোলজির বিবর্তন প্রমাণিত তথ্য দিয়েই বের করা হয়েছে। দেখা গেছে যে জিনের বৈশিষ্ট্যই হলো পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া। প্রাণীর যে যে অঙ্গ বা দেহের "ত্রুটি"** দেখা যায়, সেগুলো কয়েক হাজার বছর পরে সেই প্রাণীর মধ্যে আর থাকে না। ডিএনএ- তার ভেতরে ভেতরে বদল ঘটিয়ে সেটা পাল্টে নেয়। এই পাল্টানোর কাজটাই মিউটেশন, ধীরে ঘটে বলে যাকে আমরা বিবর্তন বলি।
(** ত্রুটি বলা হচ্ছে পরিবেশের বদলের কারণে। আগে সেই বৈশিষ্ট্যটা তার কাজে আসতো, পরিবেশের বদলের কারণে সেটা এখন নেগেটিভ কাজ করছে বিধায় সেটা এখন ত্রুটি।)
আপনি যেটা বলেছেন, কার্বন ডেটিং দেখে ফসিলকে হাতি হিসেবে নাকচ করে দেয়ার কারণ ছিলো সেটাই। বিবর্তনের চেইনে হাতির আগমন যে যুগে, ফসিলটি সম্ভবত তার অনেক আগের (বা পরের)। সম্ভবত বললাম কারণ আপনি নামটা বলেন নি। ডারউইনের নামে নাম তো Darwinius masillae, যার প্রচলিত নাম আইডা (Ida)। এটি এডাপিফর্ম গোত্রের, যা প্রাইমেটের একটা বিলুপ্ত গোত্র। এর অনেক অনেক পরের প্রজাতি হলো বর্তমান লেমুর (এইপ বা বানর নয়)। আইডা'র লেজ, চোয়ালের গড়ন বর্তমান লেমুরের সাথে ৯৫ভাগ মিলে যায়। এবং এই কারণেই তাকে সেই গোত্রের প্রজাতি হিসেবে ধরা হয়েছে। হাতির গড়নের মতো হলে সেটা ধরা হতো।
আর শুধু চোয়াল পেলেও বর্তমানে ডিএনএ ম্যাপিং দিয়ে ক্ল্যাডিওগ্রামে যে কোন প্রজাতিকে পিনপয়েন্ট করা যায়। গড়ন আকার বা কল্পনা করারও দরকার পড়ে না।
আমি নিজেও প্রাপ্ত মিসিং লিংকগুলোর লিস্টটা (Click This Link) আরেকবার দেখলাম। বেশিরভাগেরই কিন্তু চিহ্নিতকরণের মতো অংশ পাওয়া গেছে। না পাওয়া গেলে সেটাকে নিয়ে হুট করে ডিসিশন কেউই দিতে পারতো না। জানেন তো, বিজ্ঞানীরা খুবই পরশ্রীকাতর। ভুলভাল বললে বাকিরা ক্যাঁক করে ধরতো! ![]()
১৩|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ সকাল ৮:২৭
আকাশ_পাগলা বলেছেন: বুঝছি। ডিএনএ দিয়ে পরীক্ষা করার কথা খেয়াল আসে নি। এটা পরিষ্কার হয়েছে।
আরেকটা জিনিস জানতে চাই।
চোখের বিবর্তন নিয়ে পড়লাম। পুরো ব্যাপারটা খুব সহজ প্রক্রিয়ার মত মনে হল। কিছু কোষ ছিল যারা আলোর উপস্থিতি ধরতে পারত। পরে, সেগুলা জমা হল একটা পয়েন্টে। এরপর সে জায়গাটা একটু ডেবে গেল। পরে আরও ডেবে গেল।জিলেটিনের মত হল। পরে সামনে স্বচ্ছ লেন্স তৈরি হল। এতে আলো আরো স্পষ্ট ভাবে কোটরে ঢোকে আর টেরপাওয়া যায়।
আমি যতদূর পড়লাম, চোখের বিবর্তনটা এভাবেই বলল।
এই যে সামনে লেন্স তৈরি হল, এটাই যে চক্ষু কোটরে স্পষ্ট আলো ঢোকানোর সবচেয়ে স্ট্যাবল উপায় সেটা ডিএনএ কীভাবে টের পায়? মানে, প্রথম দিকে যেমন কোষের রেপ্লিকেশনে অহরহ ভুল হত, যখন চোখের সামনে লেন্স তৈরি হচ্ছিল তখনও কি ডিএনএ রেপ্লিকেশনে অহরহ ভুল করার মত প্রিম্যাচিউর ছিল?
আমি যা বুঝাতে চাচ্ছি সেটা হল, সামনের লেন্সটা প্রথমে নিশ্চয়ই পাতলা হয়ে তৈরি হল। এরপরে এটা আরও ঘন হলে আলোর আসার পথ ভাল হবে, তাই আরও হালকা হলে আলো আসার পথ ভাল হবে, সেটা ডিএনএ কিভাবে ডিসিশান নিল?
ডিএনএ কী ডিসিশান নিতে পারে?
প্রথম দিকের প্রাণীর ভ্যারিয়েশন আমি বুঝেছি (রেপ্লিকেশনের ভুল)। সাধারণ পরিবর্তনগুলার বিবর্তনও বুঝি (যেমন একই প্রাণীর আলাদা প্রজাতির পার্থক্য)।
কিন্তু উঁচু দিকের প্রাণীগুলার এত বড় বড় বিবর্তন বুঝতেছিনা। আবার চোখের ভেতর আলো আসলেই হবে না, অপটিকাল লোব দিয়ে সেই সিগনালটাও যেতে হবে। অপটিকাল লোব কীভাবে আসল?
উপরের প্রশ্নটাই ঘুরিয়ে করি।
মানে, ধরেন পাখা বা পালক যে উড়তে সহায়তা করবে সেটা ডিএনএ টের পেল কী করে? এটা তৈরি হল কেন? কেন স্টিলের মত শক্ত শিটের পাখা তোইরি না হয়ে হাল্কা পালক তৈরি হল? ডিএনএ কিভাবে বুঝল যে কোনটা উড়তে বেশি সহায়ক?
প্রাণী নিশ্চয়ই প্রথমে আকাশে উড়ে সুবিধা করতে পারে নি। ডানা গজাতে হাজার বছরেরও বেশি লাগার কথা। জীবন ধারণের জন্য ওড়া যদি এতই প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে এই হাজার বছর টিকে থাকল কী করে?
অর্থাৎ একটা স্টেজ ছিল যখন প্রাণীর যেই ডানা তা দিয়ে ২০% উড়তে পারবে। মানে ৮০% মাটিতে। তখন বিবর্তনে ১০০% উড়ার জন্য পাখা গজালো কেন? মাটিতেই ত জীবন ধারণ করতে পারত। কারণ, ২০% উড়ার ক্ষমতা নিয়ে এখনও সে জীবিত। কিছু প্রাণী মাটিতে জীবন ধারণ করতে পারছে, তাহলে তার বিবর্তন সেদিকে হল না কেন?
এক কথায়, যেটা সবচেয়ে সহজ সেটাই ত হবার কথা। আকাশে ওড়া প্রাণী তখন নেই। মাটিতে সবাই। তাহলে তার বিবর্তন আকাশে ওড়ার দিকে যাবে কেন? আর সবার মত মাটিতেই থাকবে। আর, মাটিতে যদি জীবন ধারণ বেশি কষ্ট থাকে তাহলে বেশি বেশি উড়তে পারার ক্ষমতা পাবার আগে প্রাণীটা টিকে ছিল কীভাবে? অল্প অল্প উড়াটা কী জীবন ধারণের জন্য এতই প্রয়োজনীয় ছিল, যে এত বড় বিবর্তন হতে হল !! এটা কী শুধুই ডিএনএর রেপ্লিকেশনে ভুল দিয়ে শুরু? নইলে ডিএনএ কিভাবে ডিসিশান নেয়?
------
আমি বুঝতেছিনা, যা বুঝিনি তা বুঝাতে পারছি কীনা !!
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:১৫
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: "আমি বুঝতেছিনা, যা বুঝিনি তা বুঝাতে পারছি কীনা !!"
হাহাহা! আকাশ, আমি বুঝতে পেরেছি প্রশ্নটা। একাডেমিক পড়াশোনা আমার নাই, নিজে নিজে উত্তর বের করি বলে ঠিক 'বইয়ের মতো' সংজ্ঞা বা উত্তর দিতে পারি না। উত্তর তো পরের কথা, প্রশ্নগুলোও গোছানো হয় না। আপনার প্রশ্নগুলো সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। ভালো লাগছে, কারণ এইরকমের প্রশ্ন সচরাচর পাই না (আলোচনায় আসে না, সবাই ঐ এক "ইস্যু" নিয়েই টিস্যু পেঁচাতে থাকে)। ![]()
ডিএনএ সোজা বাংলায় ভাবতে পারে না।
এক কথায় উত্তরটা এই।
একটু বুঝায়ে বলি। এই যে আপনি বললেন, যে চোখের বিবর্তন বা পাখির ডানার বিবর্তন, এই ঘটনাগুলোতে ডিএনএ কিভাবে টের পাইলো যে এইদিকে বদলাতে হবে?
'টের পাওয়া' টার্মটা একটু অন্যভাবে চিন্তা করি, আসেন। আমরা কিভাবে 'টের' পাই। প্রসেসটা হলো, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতার স্মৃতি তথ্য হিসেবে আমাদের মগজে স্টোর করা আছে। যখন একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে, তখন আমরা অতীতের ঘটনার সাথে মিলিয়ে এক্সট্রাপোলেট করি।
যদি হুবহু অতীতের সাথে মিলে না'ও যায়, কাছাকাছি ঘটনায় আমরা সতর্ক থাকি। ডানা ওড়ার বিষয়টাকে সাইকেল চালানোর বিষয়ের সাথে মেলান। ধরেন আপনি খালি হাঁটতে পারি, দৌড়াতেও শিখেছি। সাইকেল চড়ার পরে প্রথম যে টলোমলো অনুভূতি, সেটা আমাদের কাছে ভীতিকর লাগে কারণ এই ভারসাম্যহীনতার স্মৃতি তৈরি হয়েছিলো শিশুকালে, হাঁটতে শেখারও আগে। সেটা ঠিকমতো স্টোর হয় নাই, বা স্টোর হলেও মুছে গেছে। তাই তখন আপনি বারবার পড়ে যাবেন, আছাড় খাবেন। একটা সময়ে বিদ্যা রপ্ত হয়ে যাবেই।
এখন ধরেন সাইকেল চালানো শেখার পরে ১০-২০ বছর আর চড়েন নি। তারপরে মধ্যবয়সে গিয়ে আবার সাইকেলে উঠলে দেখা যাবে সেইটা একটু বাধো বাধো ঠেকবে, কিন্তু তিন চার পাক প্যাডেল মারলেই আবার সেই পুরানো বিদ্যার স্মৃতি চালু হয়ে যাবে। ব্রেইন তখন হাত ও পায়ের পেশিগুলোকে নির্দেশ দিবে।
ব্রেইনে যেভাবে স্মৃতি জমা থাকে, ডিএনএও সেভাবে স্মৃতি জমা করে। এই স্মৃতিগুলো হলো বংশগতির তথ্য। এই তথ্য যখন পরের বংশে যায়, তখন নিষেকের পরে যাচাই বাছাই হয়। কোন কোন তথ্য জরুরি**, সেগুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জিনের গঠনে। আর যেগুলো একটু কম জরুরি, সেগুলো চাপা থাকে।
**জরুরি=পুরানো। কয়েকশ জেনারেশন ধরে যে তথ্য জমা আছে, সেটা আমাদের অস্তিত্বের জন্যে সবচেয়ে জরুরি। আর ঠিক আগের বা তার আগের জেনারেশনের তথ্যগুলো একেবারেই নতুন। সেগুলো ঠিক ততোটা জরুরি না। বিবর্তন স্বভাবে খুবই ধীর প্রক্রিয়া। তবে কাছিমের মতো, ইফেক্টিভ।
ডিএনএ'র ডিসিশনটা আসলে সেই তথ্যভিত্তিক। আমাদেরও তাই, তবে আমরা প্রচলিত অর্থে সেটা বুঝি না। আমরা ভাবি কল্পনা কতো সুন্দর। আসলে তা ব্রেইনের সিন্যাপসের ভেতরে ইলেকট্রোলাইটের লাফালাফি!
১৪|
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৯:২৭
রণদীপম বসু বলেছেন: প্রিয় +
০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:১৫
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ধন্যবাদ রণ'দা। ভালো থাকুন! ![]()
১৫|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ২:৫৭
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনেকটুকু পরিষ্কার হচ্ছে।
কিন্তু মূল ব্যাপারটা এখনও ধরতে পারিনি। স্যরি আপনাকে কষ্ট দিচ্ছি।
আপনি আলাদা উদাহরণ না দিয়ে কাইন্ডলি যদি আমার উদাহরণটাই একটু ব্যখ্যা করে দেন, আমার হয়ত বুঝতে সোজা হবে।
আগের কমেন্টের শেষের দিকটা আবার একটু রিপিট করি। ""প্রথম দিকের প্রাণীর ভ্যারিয়েশন আমি বুঝেছি (রেপ্লিকেশনের ভুল)। সাধারণ পরিবর্তনগুলার বিবর্তনও বুঝি (যেমন একই প্রাণীর আলাদা প্রজাতির পার্থক্য)।
কিন্তু উঁচু দিকের প্রাণীগুলার এত বড় বড় বিবর্তন বুঝতেছিনা। আবার চোখের ভেতর আলো আসলেই হবে না, অপটিকাল লোব দিয়ে সেই সিগনালটাও যেতে হবে। অপটিকাল লোব কীভাবে আসল?
উপরের প্রশ্নটাই ঘুরিয়ে করি।
মানে, ধরেন পাখা বা পালক যে উড়তে সহায়তা করবে সেটা ডিএনএ টের পেল কী করে? এটা তৈরি হল কেন? কেন স্টিলের মত শক্ত শিটের পাখা তোইরি না হয়ে হাল্কা পালক তৈরি হল? ডিএনএ কিভাবে বুঝল যে কোনটা উড়তে বেশি সহায়ক?
প্রাণী নিশ্চয়ই প্রথমে আকাশে উড়ে সুবিধা করতে পারে নি। ডানা গজাতে হাজার বছরেরও বেশি লাগার কথা। জীবন ধারণের জন্য ওড়া যদি এতই প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে এই হাজার বছর টিকে থাকল কী করে?
অর্থাৎ একটা স্টেজ ছিল যখন প্রাণীর যেই ডানা তা দিয়ে ২০% উড়তে পারবে। মানে ৮০% মাটিতে। তখন বিবর্তনে ১০০% উড়ার জন্য পাখা গজালো কেন? মাটিতেই ত জীবন ধারণ করতে পারত। কারণ, ২০% উড়ার ক্ষমতা নিয়ে এখনও সে জীবিত। কিছু প্রাণী মাটিতে জীবন ধারণ করতে পারছে, তাহলে তার বিবর্তন সেদিকে হল না কেন?
এক কথায়, যেটা সবচেয়ে সহজ সেটাই ত হবার কথা। আকাশে ওড়া প্রাণী তখন নেই। মাটিতে সবাই। তাহলে তার বিবর্তন আকাশে ওড়ার দিকে যাবে কেন? আর সবার মত মাটিতেই থাকবে। আর, মাটিতে যদি জীবন ধারণ বেশি কষ্ট থাকে তাহলে বেশি বেশি উড়তে পারার ক্ষমতা পাবার আগে প্রাণীটা টিকে ছিল কীভাবে? অল্প অল্প উড়াটা কী জীবন ধারণের জন্য এতই প্রয়োজনীয় ছিল, যে এত বড় বিবর্তন হতে হল !! এটা কী শুধুই ডিএনএর রেপ্লিকেশনে ভুল দিয়ে শুরু? নইলে ডিএনএ কিভাবে ডিসিশান নেয়?
""
আপনি মাথায় আরেকটা প্রশ্ন ঢুকিয়ে দিলেন। আচ্ছা, ডিএনএ কীভাবে স্মৃতি ধারণ করে? মানে, ৩ হাজার বছর আগের মানুষের ডিএনএ(যেটাতে স্মৃতি কম) আর আজকের মানুষের ডিএনএ(যেটাতে স্মৃতি বেশি) তে কী কেমিক্যালি কোন পরিবর্তন থাকে? বা অরিয়েন্টশনে?
যদি থাকে, তাহলে শুধু অরিয়েন্টশনের উপর ভিত্তি করে কমপ্লেক্স অনুভূতি বা স্মৃতি স্টোর করা থাকে কীভাবে? প্রাচীন আমল থেকেই কী ডিএনএ এত শক্তিশালী ছিল? আর যদি পার্থক্য না থাকে, তাহলে স্মৃতিটা স্টোর করল কীভাবে?
শুধু মাত্র কিছু মৌলিক পদার্থের অরিয়েন্টেশনে তৈরি এই বিশাল অণুর এত ক্ষমতা? আচ্ছা, কোন তথ্য ডিএনএ তে জমা করা হবে আর কোনটা হবে না, সেটা কিভাবে ঠিক করা হয়?
শরীরের সবগুলা ডিএনএ মিলে তথ্য জমা করে, নাকি প্রতিটা আলদা ডিএনএ পুরা তথ্য ধারণ করে (তাহলে বিরাট এবিউজ,তবে সেইফ)!!
------
এত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছি বলে কি বস বিরক্ত হচ্ছেন? বিরক্ত করার জন্য স্যরি। ব্যস্ত থাকলে সময় নিয়ে উত্তর দেন। পরীক্ষা শেষ,আমার মোটামুটি অফুরন্ত সময়।
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: না না, মোটেই বিরক্ত হচ্ছি না। বরং ভালো লাগছে। কারণ এ'রকম আলোচনা, শেয়ারিং সামু'তে বিরল, দিন দিন এইটা 'বিলুপ্ত' হইয়া যাইতেছে! ![]()
চোখের বিবর্তন নিয়ে আমি বিস্তারিত জেনেছি নিচের পোস্টটা থেকে। এটা নিয়ে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে একটা অনুষ্ঠান ছিলো। মোটামুটি সেই অনুষ্ঠানের সারাংশটাকেই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। পোস্টটা থেকে উদ্ধৃতি করি:
"...একটি ক্যামেরার মতো চোখেরও আলোকরশ্মি কেন্দ্রীভূত করার জন্য লেন্স, আলোকরশ্মির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আইরিস, আর এই আলোকরশ্মি থেকে ছবি আবিষ্কার করার জন্য একটি ফোটোরিসেপ্টর প্রয়োজন। এই তিনটি যন্ত্রাংশ একসাথে কাজ করলেই কেবলমাত্র চোখ দিয়ে কিছু দেখা সম্ভব হবে। যেহেতু বিবর্তন তত্ত্বমতে, বিবর্তন প্রক্রিয়া চলে স্তরে স্তরে- তাহলে লেন্স, রেটিনা, চোখের মণি সবকয়টি একসাথে একই ধরনের উৎকর্ষ সাধন করলো কীভাবে? বিবর্তন সমালোচনাকারীদের প্রশ্ন এটাই।
ক্যাম্বরিয়ান যুগে শরীরের উপর আলোক সংবেদনশীল ছোট একটি স্থানবিশিষ্ট প্রাণীরা আলোর দিক পরিমাপের মাধ্যমে ঘাতক প্রাণীদের হাত থেকে বেঁচে যাবার অতি সামান্য সুযোগ পেত। সময়ের সাথে সাথে এই রঙিন সমতল স্থানটি ভেতরের দিকে ডেবে গিয়েছে, ফলে তাদের দেখার ক্ষমতা সামান্য বেড়েছে। গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে আলো ঢোকার স্থান সরু হয়েছে। অর্থাৎ দেখার ক্ষমতা আরও পরিষ্কার হয়েছে। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন প্রানীকে সামান্য হলেও টিকে থাকার সুবিধা দিয়েছে।
সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যান এরিক নিলসন গবেষণার মাধ্যমে বের করে দেখান যে, কীভাবে কোনও প্রাণীর শরীরের উপর আলোক সংবেদনশীল ছোট এবং রঙিন স্থান পরবর্তীতে মানুষের চোখের মতো জটিল যন্ত্রে পরিবর্তিত হতে পারে।..."
"...এখন প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি পরিবর্তনই প্রাণীকে কিঞ্চিৎ হলেও আক্রমণকারীর হাত থেকে বাঁচার সুবিধা প্রদান করেছে। যারা সামান্য দেখতে পাচ্ছে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেড়েছে, বেড়েছে তাদের সন্তান বংশবৃদ্ধির সম্ভাবনা। অপরদিকে অর্থবরা হারিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে বংশানুক্রমে উন্নতি হয়েছে দৃষ্টিশক্তির। সময়ের সাথে সাথে শুরুর এই আলোক সংবেদনশীল স্থান রেটিনায় পরিণত হয়েছে, সামনে একটি লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে।
ধারনা করা হয়, প্রাকৃতিক ভাবে লেন্সের সৃষ্টি হয়েছে যখন চোখকে পূর্ণকরে রাখা স্বচ্ছ তরলের সময়ের সাথে সাথে ঘনত্ব বেড়েছে। ছবিতে দেখুন সাদা অংশটি তৈরি হচ্ছে চোখকে পূর্ণ করে রাখা স্বচ্ছ তরলের মাধ্যমে। তরলের ঘনত্ব যত বেড়েছে লেন্সের গঠন ততো ভালো হয়েছে, দৃষ্টিশক্তি প্রখর হয়েছে।
বলে রাখা প্রয়োজন বিজ্ঞানীদের তৈরি করা চোখের বিবর্তনের প্রতিটি স্তর বর্তমানে জীবিত প্রাণীদের মধ্যেই লক্ষ করা যায়। এছাড়াও শুধুমাত্র আলোক সংবেদনশীল স্থান বিশিষ্ট প্রাণী ছিল আজ থেকে ৫৫ কোটি বছর আগে। বিজ্ঞানীরা গণনা করে বের করেছেন, এই আলোক সংবেদনশীল স্থানটি মানুষের চোখের মতো হবার জন্য সময় প্রয়োজন মাত্র ৩৬৪ হাজার বছর।"
সূত্রঃ Click This Link
এই রায়হান আবীরের সিরিজটা পুরাটাই দেখতে পারেন (যেহেতু হাতে সময় আছে)। খুবই ইনফরমেটিভ, এবং সরলভাষায় বর্ণনা।
====
পাখির ওড়ার বা বিবর্তিত হওয়ার হাইপোথিসিস (কারণ এ বিষয়ে দ্বিমত আছে) পড়লাম। সবচেয়ে পপুলার যে ধারণা সেটা হলো আদি পাখির পূর্বপুরুষ ডাইনোসর ছিলো। সেই ডাইনোসরের নাম আর্কিওপ্টেরিক্স (Archaeopteryx)। জার্মানিতে ডারউইনের মৃত্যুর দুইবছর পরে তার ফসিল পাওয়া গেছে। এই ডাইনোসরটি দুই পায়ে দৌড়াতে পারতো। এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পাখা ছিলো তার। ওড়ার ধারণাটা সেখান থেকেই আসে।
ওড়ার সুবিধার্থে তার টোটাল বডি ওয়েটের প্রায় পুরাটাই ছিলো মাঝখানে, পা দুটো সরু ও হালকা, মাথাটাও হালকা। মাথাকে হালকা করার জন্যে চোয়ালের ভেতরে দাঁতও ছিলো না।
আর্কিওপ্টেরিক্স ছিলো মাংশাসী। কিন্তু যেহেতু দাঁত নাই, সেহেতু তার শিকারে অসুবিধা হচ্ছিলো। সামনের 'লিম্ব' প্রসারিত এবং পেছনের লিম্ব লিকলিকে বলে দেখা গেলো সে থেমে থেমে উড়তে পারছে। এইটা ডাইনোসরের জন্যে ব্যতিক্রম (সিমিলার টু "ভুল প্রকরণ")। এবং এইরকমের ভুল কম্বিনেশন থেকেই আজকের পাখির জন্ম।
অন্যান্য ডাইনোসর থেকে বাঁচতে আর নিজের শিকার আরো সহজ ধরতে ধীরে ধীরে আর্কিওপ্টেরিক্সের বংশধর উড়তে শুরু করেছে।
পাখির মরফোলজির ইউনিকনেস খালি ডানায় না, পুরা শরীরটাই! (Click This Link)
যেমন তার হাড়ের ভেতরে এয়ার পকেট থাকে, বা ফুসফুস ও বাতাসের থলি থাকে, ব্যতিক্রমী শ্বসন পদ্ধতি যাতে করে রক্ত ও বাতাসের মিশ্রণের সময় ওড়ায় ব্যাঘাত না ঘটে, মাথার ওজন খুব কম, দৃষ্টিশক্তি প্রখর (শিকারি পাখিদের শিকারে সুবিধা)। এগুলো সবই একে একে এসেছে। মজার ব্যাপার, সাউথ পোলের যে পেঙ্গুইন, সে কিন্তু উড়তে পারে না, কারণ সেখানে জীববৈচিত্র্য এতোই কম যে হাঁটলেই হয়। জমিনে খাবার আছে, আবার পানিতেও খাবার আছে। পানির খাবার খাইতে পেঙ্গুইন তাই সাঁতার শিখে ফেলেছে! এমেইজিং না? ![]()
"কারণ, ২০% উড়ার ক্ষমতা নিয়ে এখনও সে জীবিত। কিছু প্রাণী মাটিতে জীবন ধারণ করতে পারছে, তাহলে তার বিবর্তন সেদিকে হল না কেন?"
বিবর্তন সেদিকেও হয়েছিলো। কিন্তু বিবর্তনের 'স্থান'ও খুব জরুরি ফ্যাক্টর। যদি ২০% ওড়ার ক্ষমতার পাখির বিবর্তন ঐ সাউথ পোলে হয়, তাহলে সে টিকতে পারবে, কারণ স্থলে প্রতিযোগিতা কম। কিন্তু যদি সেই বিবর্তন মূল স্থলভাগে হয়, তাহলে খাবার সংগ্রহ ও আত্মরক্ষা করতে পারবে না বলে ধীরে ধীরে সেই প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাবেই। ডোডো পাখির কথা মনে আছে তো? শেষ দেখা গিয়েছিলো ১৬৬২ সালে, তার না ছিলো দ্রুত গতি, না ছিলো বৃহদাকার, না ছিলো পাখনায় জোর। এরকম বিবর্তনও হচ্ছে, এবং সেটা পরিবেশে খাপ না খাইতে পেরে হারিয়েও যাচ্ছে।
দ্রঃ পাখা কেন স্টিলের মতো পাতলা শক্ত না হয়ে পালকের মতো নরম হলো সেটার ব্যাখ্যাটা ছবিসহ পাবেন উপরের মরফোলজি'র লিংকে। দেখতে পারেন।
=====
*ডিএনএ'র স্মৃতি ধরে রাখার পদ্ধতিটা জটিল। এ ব্যাপারে আমার নিজের পড়াশোনাও ভাসা ভাসা। যদি আরো কিছু জানতে পারি, অবশ্যই জানাবো। ![]()
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:৪৯
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আকাশ, পাখির বিবর্তনের আরো ডিটেইল একটা পেইজ পেলাম।
Click This Link
এখানে ওড়ার মেকানিজম পাখি কীভাবে শিখলো সেটা ছবি দিয়ে ব্যাখ্যা করেছে। দুইটা হাইপোথিসিস আছে, উপর থেকে নিচে (গাছের ডাল থেকে মাটিতে) এবং নিচ থেকে ওপরে (মাটি থেকে আকাশে)।
এগুলোর ফসিল পাওয়ার কোন উপায় নাই, তাই হয়তো অনেক আগে বের হলেও এগুলো সারাজীবন হাইপোথিসিস হয়েই থাকবে। ... কিংবা কে জানে, হয়তো নতুন কোন আবিষ্কার নতুনভাবে এগুলোকে ব্যাখ্যা করবে! ![]()
১৬|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৩১
আকাশ_পাগলা বলেছেন: বিবিসির একটা অসাধারণ ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম, এই যেই আদিম পাখিটার ফসিলের উপর। বিবর্তনবাদে এর ভূমিকা অসাধারণ।
সরসৃপের মত ডাইনোসোর থেকে যে পাখি হওয়া সম্ভব, সেটার প্রমাণ এই ফসিল।
এটার একটা প্রকরণ এখনও দেখা যায়। ওটারও ডানা গজানোর আগে ডানায় আঙ্গুলের মত কিছু একটা থাকে, ডাল ধরার জন্য।
ডারউইনের লাক দারুণ, এত বছর অপেক্ষা করে যখন প্রকাশ করেই ফেলল সব, তার দুইটা বছর পরেই এই ফসিলের আবিষ্কার।
ডাইনোসরের ভুল প্রকরণ কেন হল ? মানে, তখনও কী ডিএনএ এত প্রিমিটিভ আর দুর্বল ছিল যে রেপ্লিকেশনে ভুল করত? যেহেতু মস্তিষ্ক তৈরি হয়ে গেছে, তখন ত আরও শক্তিশালী ডিএনএ থাকার কথা। ভুল প্রকরণে আর্কিওপটরিক্স নামে একদম আলাদা গঠনের কিছু একটা এসে পড়ল?!!
পুরো ব্যাপারটা বেশ কিছুটা পরিষ্কার হয়েছে। তাও কিছু কনফিউশান আছে। লিংক গুলো দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি আরও ভাল করে পড়ব। আরও পরিষ্কার বোঝার জন্য।
-----------------------------
আরেকটা প্রশ্ন আমাকে খুব জ্বালায়। বিবর্তনে কবে থেকে লিঙ্গের ব্যাপারটা আসল?? কেনই বা আসল !! শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর কী অনেক প্রয়োজন? এর চেয়ে সরাসরি নিষিক্ত জাইগোট তৈরি হলে সমস্যা কী হত??
বিবর্তন হয় জীবের সম্প্রসারণ আর টিকে থাকা যেন বাড়ে, তার জন্য। তাহলে প্রাণীটা দুই ভাগ হয়ে গেল কেন ! কেন একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে ?? বিবর্তনে এই বিভাজনটা কেন হল ??? কবে থেকে?
(প্রশ্নটা কী খুব বোকার মত? আমি ব্লগে অনেক আগে একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। যতদূর খেয়াল আছে উনি ঝাড়ি দিয়ে আমাকে ভাগায়া দিছিলেন।)
প্রাণী আর গাছ কেন? প্রথম যেই কোষটা তৈরি হল, সেখান থেকে প্রাণী আর গাছ তৈরি হল কেন?? হাজার হাজার বছর ধরে গাছ টিকে আছে, আমাদের বিবর্তন ওদের মত হল না কেন?
ধরেন, আমার হাত কেটে ফেললে আবার শরীর থেকে হাত গজালো। কাটা হাত মাটিতে পুঁতলে সেখান থেকে আবার আমি হলাম। এমন সিস্টেম গাছে আছে। গাছ আর আমি একই আদি কোষ থেকে এসেছি। তাহলে আমার ডিএনএ ও কি সেই ডাটা রাখে না? যদি নাও রাখে, তাও অমন বৈশিষ্ট্য না নিয়ে চোখ, ডানা, মস্তিষ্ক এত সব জটিল অর্গান তৈরির মাধ্যমে প্রাণীকে টিকিয়ে রাখার কী মানে ?? !! আরও অনেক সহজ ভাবেই ত সেটা সম্ভব হত। অপ্রয়োজনীয় বিবর্তন ত সম্ভব না। তাহলে এটাকে বিবর্তন বলা যেত না।
সূর্য থেকে গাছ শক্তি নেয়। আমরা কেন বিবর্তনে সেটা পাইনি !! পাখা গজানোর চেয়ে সূর্য থেকে শক্তি নিলে প্রাণীটা অনেক ভাল ভাবে টিকে থাকতে পারত। প্রাণীটা টিকে থাকার জন্য পাখির মত শরীরে বিবর্তিত হল, এয়ার পকেট তৈরি হল, পালক হল, ডানা হল। অথচ, সূর্য থেকে শক্তি নেবার মত চামড়া থাকলে তার আর কিছুই লাগত না।
তাহলে কোন দিকে বিবর্তন হবে সেটার সিদ্ধান্ত কে নিল? এখন ত মনে হচ্ছে, এসবের তুলনায় বানর থেকে মানুষ আসা কোন সমস্যাই না। পাবলিক অযথাই এটা নিয়ে প্রশ্ন করে ব্যস্ত ।অথচ, বিবর্তনের জটিলতা ত আরও পিছে।
মোটামুটি ভাবে মাথায় আর কোন প্রশ্ন নেই। বিবর্তনবাদ নিয়ে আপাতত প্রশ্ন শেষ।
১৭|
০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৩৪
আকাশ_পাগলা বলেছেন: আর্কিওপটরিক্সের উপর প্রশ্নটা ফিরিয়ে নিচ্ছি। লিংকটা পড়ে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়েছে।
গাঠনিক স্ট্রাকচারটা দেখলে বুঝা যায়, খুব বেশি পার্থক্য নেই।
১৮|
০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:১৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: ডাইনোসরের ভুল প্রকরণ কেন হল ? মানে, তখনও কী ডিএনএ এত প্রিমিটিভ আর দুর্বল ছিল যে রেপ্লিকেশনে ভুল করত?
ডাইনোসরের জেনেটিক্সের যে 'প্রথা' ছিলো, সেটার সাথে আর্কিওপ্টেরিক্সের অনেক বৈশিষ্ট্যই মিলে না। এটাকে প্রথাবিরোধী হিসেবে ভুল বলছি। ডিএনএ প্রিমিটিভ হোক বা না হোক, সেটা এমন ভুল করেই। এখনও দেখবেন নানারকম মিউটেশন ঘটে প্রাণীদের মধ্যে। এগুলো সবই ঐ ধরনের 'ভুল'। কিছু ভুল পরিবেশের সাথে খাপ খায়, কিছু খায় না।
===
বিবর্তনে কবে থেকে লিঙ্গের ব্যাপারটা আসল??... কেন একটা ছেলে আরেকটা মেয়ে ?? বিবর্তনে এই বিভাজনটা কেন হল ??? কবে থেকে?... শুক্রাণু আর ডিম্বাণুর কী অনেক প্রয়োজন?...
প্রাণীর যে ফাইলামগুলো আমাদের পরিচিত - প্রোটোজোয়া, পরিফেরা, সিলেনটেরাটা, ... সেখানে লিঙ্গের প্রকাশ ঘটেছে (যদ্দুর মনে পড়ে) ৪র্থ বা ৫ম ফাইলামে। তার আগে প্রজনন ছিলো অযৌন অথবা অঙ্গজ। আর্থ্রোপোডার আগে পর্যন্ত ফাইলামগুলো উভলিঙ্গিক। আর্থ্রোপোডা থেকে ভার্টিব্রাটা পর্যন্ত একলিঙ্গিক।
এককোষী জীব অঙ্গজ প্রজনন করে। প্রাণীদেহে যতো কোষ বেড়েছে ততোই এই অঙ্গজ প্রজনন কঠিন হয়ে গেছে। কারণ কোষের বৃদ্ধির ফলে টিস্যু, টিস্যু থেকে অঙ্গ তৈরি হয়েছে। তখন সরাসরি অর্ধেক ভাগাভাগি করা আর সম্ভব হবে না এটা সহজেই বুঝা যায়।
যে শ্রেণীতে এসে প্রাণীদের শরীরে ক্যাভিটি তৈরি হলো, সম্ভবত সেই শ্রেণীতেই লিঙ্গের উদ্ভব। প্রথম থেকে তা ছিলো উভলিঙ্গিক। কিন্তু নিজের শরীরে অবস্থিত পুং ও স্ত্রী লিঙ্গের মাঝে প্রজনন ঘটানো যায় না। এটি জেনেটিকালি ক্ষতিকর, এতে কোন ভ্যারিয়েশনও নাই। সুতরাং প্রজনন ঘটাতে হলে আরেকটা উভলিঙ্গিক প্রাণী দরকার।
উভলিঙ্গের প্রজননে মূল সমস্যা হলো পরবর্তী বংশে জেনেটিক বৈচিত্র্য কম ঘটা। এছাড়াও, উভলিঙ্গের শরীরে একই সাথে দুই ধরনের লিঙ্গের পাশাপাশি স্থাপনাও ধীরে ধীরে জটিল হতে থাকে। এর পরের ধাপেই এক লিঙ্গের সূচনা।
এক লিঙ্গের প্রজননে মূলত এই অসুবিধাগুলো আর থাকে না। বৈচিত্র্য বা জননাঙ্গের সুবিধা পাওয়া যায়। এ'কারণেই এই পর্যায়ের প্রাণীর জেনেটিক উন্নতি বেশি। উভলিঙ্গিক বা অঙ্গজ প্রজনন করা প্রাণীগুলো এ'কারণেই অনুন্নত।
===
প্রাণী আর গাছ কেন? প্রথম যেই কোষটা তৈরি হল, সেখান থেকে প্রাণী আর গাছ তৈরি হল কেন?? হাজার হাজার বছর ধরে গাছ টিকে আছে, আমাদের বিবর্তন ওদের মত হল না কেন?
প্রাণী আর গাছ কিন্তু বেশ পরে এসেছে। কোষ সৃষ্টির পরে একটা সময় পর্যন্ত কিন্তু অরগ্যানিজমগুলোকে প্রাণী বা উদ্ভিদে ভাগ করা যায় না। এদের বলে ইউক্যারিওট (ব্যাকটেরিয়া, আর সমগোত্রের প্রাণ)।
বর্তমানে যে প্রধান কিংডমগুলোর শ্রেণীবিন্যাস প্রচলিত সেটা নিম্নরূপ:
ব্যাকটেরিয়া | প্রটোজোয়া | ক্রোমিস্টা | ফাঙ্গাই | প্ল্যান্টি | অ্যানিম্যালিয়া
এই খানে দেখেন, প্রথম দুইখানা ইউক্যারিওট। ক্রোমিস্টাও ইউক্যারিওট, এর পরিচিত প্রজাতি হলো নানা ধরনের শৈবাল। ফাঙ্গাই অতিপরিচিত ফাঙ্গাস বলে যাদের চিনি।
শেষ দুইখানে এসেই গাছ আর পশুতে ভাগ করা যায়। এবং এই দুইটা কিংডমের আদি কিন্তু সেই এক - - ইউক্যারিওট কোষী জীব। দুইটা আলাদা ধরনের কোষ থেকে এই দুইটা আলাদা কিংডম সৃষ্টি হৈছে। এদের মূল পার্থক্য - একজন খাবার তৈরি করতে পারে, আরেকজন পারে না। এই বিবর্তনও সেই আলাদা আলাদা ধরনের ইউক্যারিওটের কারণেই হয়েছিলো।
*আগে ফাঙ্গাইকেও প্ল্যান্টের মধ্যে ধরা হইতো। ক্যারোলাস লিনিয়াসও ধরছিলেন। পরে এদের সম্পূর্ণ আলাদা বৈশিষ্ট্যের বলে আলাদা কিংডমে জায়গা দেয়া হয়েছে।
===
পাখা গজানোর চেয়ে সূর্য থেকে শক্তি নিলে প্রাণীটা অনেক ভাল ভাবে টিকে থাকতে পারত। প্রাণীটা টিকে থাকার জন্য পাখির মত শরীরে বিবর্তিত হল, এয়ার পকেট তৈরি হল, পালক হল, ডানা হল। অথচ, সূর্য থেকে শক্তি নেবার মত চামড়া থাকলে তার আর কিছুই লাগত না।
সূর্য থেকে শক্তি নেয়াটা কিন্তু একেবারে বেসিক আচরণ। এইটা করার জন্যে যে বস্তুটা লাগে, তা হলো ক্লোরোফিল। পশুদের সেই পিগমেন্ট নাই। আরো অনেক অনেক জরুরি জিনিস হয়তো দরকার, আমি ডিটেইল সেগুলো জানি না বিধায় বলতে পারছি না।
এই আলাদা হওয়ার ঘটনাটা এতো এতো আগে ঘটেছে (প্রিক্যাম্ব্রিয়ান যুগে), যে সেই সময়ের পর থেকে আবার মিলেমিশে যাবার পথ একেবারেই বন্ধ। এটা অনেকটা পাহাড় থেকে বরফের বল গড়িয়ে দেয়ার মতো। একবার কোষে বা জিনে বদল ঘটে গেলে, সেটাকে রিভার্স করা খুব খুব অসম্ভব ব্যাপার। জোর করে করলে হয় মিউটেশন, এবং তার ব্যাপক সমস্যা।
****
এই প্রশ্নগুলো ভালো লেগেছে। অনেক পুরানো পড়াশোনা আবার ঝালাই করা হলো, এতে আমারও লাভ হয়েছে। বিবর্তনের মূল বিষয়টা হলো ঐ 'সুস্থিতি' লাভের চেষ্টা। একবার এইটাকে মাথায় গেঁথে নেন। যা ঘটবে, সবকিছুই স্থায়ী অবস্থা পাওয়ার জন্যে। আর একবার সেটা পেয়ে গেলে, আর বদলাবে না।
যদি যে কোন বিষয়ে কনফিউজ হয়ে পড়েন, এই সূত্রটা মিলিয়ে দেখবেন খাপে খাপে মিলে গেছে। আমি সেটাই পেয়েছি সবসময়ে! ![]()
অটঃ কে সেই নাফরমান যে আপনেরে ঝাড়ি মারছিলো! তারে মাইনাচ!
১৯|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ দুপুর ১২:১৪
আকাশ_পাগলা বলেছেন: গাছ আর প্রাণীর ব্যাপারটা পরিষ্কার বুঝেছি।
কিন্তু লিঙ্গ বিভাজনের ব্যাপারটা এখনও বুঝি নি। যেহেতু আমার আর কোন প্রশ্ন নেই, তাই এই ব্যাপারটা বুঝার জন্যেই ভেঙ্গে ভেঙ্গে এই প্রশ্নটাই আবার করছি।
মাঝে মাঝে দেখতেছি, একদম কম প্রয়োজনে বা বলতে গেলে মোটামুটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে পরিবর্তন ঘটছে। আর, অনেক বড় বড় পরিবর্তন।
বিবর্তনের রুলসে এসব কম প্রয়োজনীয় অথচ বিশাল পরিবর্তন মেলাতে গেলে কনফিউজড লাগছে।
আমি যতদূর বুঝি, বিবর্তনের কোন আল্টিমেট উদ্দেশ্য থাকে না। প্রতিটা পরিবেশে যতটুকু লাগে, ততটুকুই বিবর্তন হয়। অনেক সামনের জন্য প্ল্যান করে বিবর্তন হয় না। আর, ডিএনএ ভাবতে পারে না।
তাহলে, লিঙ্গ আলাদা হলে প্রাণী বৈচিত্র্য বেশি হবে।
১। সেটা যে প্রাণীর জন্য খুবই ভাল এটা ডিএনএ কী করে বুঝল?
২। শুধু মাত্র বৈচিত্র আনার জন্য এত বিশাল পরিবর্তন?
৩। একটা প্রাণী, একই প্রজাতি। কিন্তু একটা পুং আরেকটা স্ত্রী। তাহলে দুটা লিঙ্গ কেন? তিনটা হত, আরও বেশি বৈচিত্র্য আসত।
৪। বৈচিত্র ছাড়াই ত টিকে ছিল, তাহলে বৈচিত্র জীবন ধারণের জন্য এমন কী আহামরি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছিল? এটার জন্য এত বিশাল পরিবর্তন হতে হল?
৫। প্রাণীর বেলায় যেই ধাপে ধাপে বিভাজনটা হল, সেটা কীভাবে ?
চোখের বিবর্তনটা খুব ভাল লাগছে। পুরা ব্যাপারটা এত সহজে হয়ে গেল, ধাপে ধাপে না দেখতে বুঝা যেত না। তখন এমন একটা কথা মনে হয়েছিল যে,
প্রশ্ন হিসেবে একটা গাণিতিক সমীকরণ আর তার উত্তর পাশাপাশি দিলে চট করে মানুষ অবাক হয়ে যায়, যে এই প্রশ্ন থেকে এই উত্তর কিভাবে আসে? কিন্তু খাতায় ধাপে ধাপে করলে বুঝা যায়, একটা লাইন থেকে পরের লাইনের খুব বেশি পার্থক্য নেই। একই ভাবে তার পরের লাইন থেকে তার পরেরটায় যাওয়াটা খুব বড় কিছু না। এভাবে অনেক ধাপ যাওয়ার পর শেষের লাইনের সাথে প্রথম লাইনের হঠাৎ করে অনেক পার্থক্য লাগে।
বিবর্তনকে আমি মোটামুটি এমন ভাবে ভেবেছিলাম।
কিন্তু উড়তে পারা(পুরো শরীরের পরিবর্তন) আর লিঙ্গের মত এত বড় বড় পরিবর্তন দেখে আর সেই অনুপাতে এগুলার প্রয়োজনীয়তা কম মনে হওয়াতে কনফিউজড। চোখ যেমন লিনিয়ার ডেভলপমেন্ট, কিন্তু উড়তে পারা শুধু ডানা না, ইয়ার পকেট, পালক, ভারসাম্য, গঠন আরও কতকিছু। আর সবগুলোই বড় বড় পরিবর্তন। অথচ এগুলা ছাড়াও সে সময় প্রচুর প্রাণী টিকে ছিল।
লিঙ্গ বিভাজনটা আরও বড় ব্যাপার। শুধু বৈচিত্র রাখার জন্য। অথচ, বৈচিত্র রাখাটা ভাল না খারাপ, সেটা বুঝার ক্ষমতা ডিএনএ কিভাবে পেল বুঝলাম না।
উপরের চিন্তায় এখন প্রশ্ন এসে পড়ে। ওই গাণিতিক সমীকরণের এক লাইন থেকে পরের লাইনে যেতে মাঝে মাঝেই ডিফারেন্সিয়েশন বা ইন্টিগ্রেশনের সূত্রগুলা এপ্লাই করা দরকার হয়। সেটার জন্য আগে থেকে শিখতে হয়, জানতে হয়। দেখে মনে হচ্ছে ধাপে ধাপে, কিন্তু এক ধাপ থেকে পরের ধাপে যেতে যেসব সূত্র লাগে, সেগুলা কিভাবে শিখল? এত কঠিন সূত্রগুলা নিজে নিজে বের হয়ে, সমীকরণে ইম্পলিমেন্ট কঠিন ব্যাপার।
যেই ফোরামে বা আড্ডায় যাই, কেউ বিবর্তনের কথা বললে খালি দেখি এপ আর মানুষ নিয়ে পাবলিক লাগছে। আজব! যত বুঝতেছি, যত দেখি, মনে হয় এপ থেকে মানুষ আসা খুবই সম্ভব। আসল জটিলতা গুলা ত আরও বহু পিছে।
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:০৪
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: লিঙ্গ উদ্ভবের ফলে বৈচিত্র্য বেড়েছে এটা কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন। আর সেটা কেন ঘটলো এটাও দেখা যাক। ধরেন, একটা উভলিঙ্গিক প্রাণীর দেহে দুইধরনের জননাঙ্গই বিকশিত, সক্ষম। এখন যদি পরবর্তী প্রজন্মটি তার দেহের পুংকোষের সাথে স্ত্রীকোষের মিলনে জন্ম নেয়, তাহলে প্রথম প্রজন্মের সকল বৈশিষ্ট্যই হুবহু চলে আসবে। বৈশিষ্ট্য মানে ভালো আর খারাপ, দুটাই। তার মানে আগের প্রজন্মের যা ত্রুটি ছিলো, সেটাও পরের প্রজন্মে থাকবে। কিন্তু বিবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই হলো বংশানুক্রমে ত্রুটি দূর করা। এটার জন্যে দরকার ঐ বৈচিত্র্য, যা নিজের দেহের মধ্যে পাওয়া যাবে না।
এই কারণেই উভলিঙ্গ থেকে একলিঙ্গ প্রাণীর উদ্ভব।
"প্রশ্ন হিসেবে একটা গাণিতিক সমীকরণ আর তার উত্তর পাশাপাশি দিলে চট করে মানুষ অবাক হয়ে যায়, যে এই প্রশ্ন থেকে এই উত্তর কিভাবে আসে? কিন্তু খাতায় ধাপে ধাপে করলে বুঝা যায়, একটা লাইন থেকে পরের লাইনের খুব বেশি পার্থক্য নেই। একই ভাবে তার পরের লাইন থেকে তার পরেরটায় যাওয়াটা খুব বড় কিছু না। এভাবে অনেক ধাপ যাওয়ার পর শেষের লাইনের সাথে প্রথম লাইনের হঠাৎ করে অনেক পার্থক্য লাগে।
বিবর্তনকে আমি মোটামুটি এমন ভাবে ভেবেছিলাম।"
বিবর্তন কিন্তু মোটামুটিভাবে এটাই। ধাপে ধাপে একটা একটা করে বদল ঘটেছে। আবার সরল অঙ্ক করার সময়ে আমরা যেমন আলাদা ব্র্যাকেটের হিসাব এক ধাপে করে ফেলতাম, সে'রকম ডানার বিবর্তনটা ঘটতে পারে। একই ধাপে হয়তো ডানা তৈরি আর হাড়ের মাঝে এয়ারপকেট তৈরির কাজ এগিয়েছে। কারণ পাখির জন্যে দু'টাই জরুরি।
"একটা প্রাণী, একই প্রজাতি। কিন্তু একটা পুং আরেকটা স্ত্রী। তাহলে দুটা লিঙ্গ কেন?"
লিঙ্গের সাথে তো বৈচিত্র্যের সম্পর্ক নাই। প্রজননের নিয়ম হলো দুটো ভিন্নধর্মী জননকোষের মিলনে একটা জাইগোট বা নতুন দেহকোষ তৈরি হবে। এই ভিন্নধর্মের দুটো কোষ হলো পুং আর স্ত্রী। যদি প্রকৃতিতে তিন ধরনের আলাদা আলাদা লিঙ্গ থাকতো , তাহলে তিন কোষের নিষেক ঘটে একটা দেহকোষ তৈরি হতো। এই নিয়মটা অযৌন জননেও আছে। একটা কোষ ভেঙে সাধারণত দুইটা কোষ হয়, তিনটা না। আর মাইটোসিস মায়োসিস -এর ব্যাপারও থাকতে পারে, আমি ডিটেইল জানি না বলে বলতে পারছি না।
তবে দুইটা লিঙ্গ থাকতেই হবে এই নিয়মটা মনে হয় না ডিএনএ বা জিন বানিয়েছে। ![]()
"বৈচিত্র ছাড়াই ত টিকে ছিল, তাহলে বৈচিত্র জীবন ধারণের জন্য এমন কী আহামরি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াচ্ছিল? এটার জন্য এত বিশাল পরিবর্তন হতে হল?"
বৈচিত্র্য দরকার কারণ জিন আসলেই জানে না ভবিষ্যতে কি ঘটবে। কোন কম্বিনেশন সবচে ভালো সেটাও তার অজানা। এজন্য দরকার ট্রায়াল এন্ড এরর সিস্টেমে বারবার নানা কম্বিনেশন বানিয়ে দেখা কোনটা সবচে ফিট, কোনটা সবচে স্টেবল। ডিএনএ'র বুদ্ধি নাই বলেই সে অন্ধের মতো কম্বিনেশন, রিকম্বিনেশন ঘটাইতে থাকে। যদি বুদ্ধি থাকতো বা বুঝতে পারতো তাইলে হয়তো এরকম করতো না।
বৈচিত্র্য আসে ঐ বারবার পারমুটেশন করতে করতে, এটা যে সবসময় ভালো তা-ও না। অনেক সময়েই উল্টাপাল্টা ঘটে যায়, তখন জেনেটিক ডিজওর্ডারগুলো তৈরি হয়। আমরা তো অল্পদিন বাঁচি, তাই সেই ডিজওর্ডারগুলোকে অসুখ বলে চিহ্নিত করি। কিন্তু ডিএনএ তো সেটা জানে না যে কোনটা নরমাল বা কোনটা অ্যাবনরমাল। তাই সে হয়তো সেই ডিজওর্ডারকেই টিকায় রাখে (রাখার চেষ্টা করে)। ডিজওর্ডারের প্রাণী প্রকৃতিতে টিকে গেলেই সেটা আলাদা প্রকরণ তৈরি করে ফেলে।
এককালে গাছে চড়া বানর মাটিতে নেমে আসছিলো আর ধীরে ধীরে লক্ষ বছরে তার লেজ ক্রমেই ছোট হয়ে আসছিলো। এই মাটিতে নেমে আসা বা লেজ ছোট হয়ে আসাটা একধরনের বৈচিত্র্য। যা না ঘটলে মানুষের উদ্ভবই হয়তো হতো না। গাছের ডাল ধরে চলতে অপোজিবল গ্রিপ যতোটুকু হলেই হয়, সেটা বানরের ছিলো। মাটিতে নেমে আসার পরে আরো অনেক শক্ত গ্রিপের দরকার হয়েছে, তাই সেই গ্রিপটাও বদলে আমাদের এখনকার মতো হয়েছে। এই অপোজিবল গ্রিপ না থাকলে মানুষ টিকতেই পারতো না বাঘ সিংহ বাইসনের সাথে লড়াই করে। এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ এই বিবর্তনের বৈচিত্র্য।
আর শেষ যে প্রশ্নটা করলেন, প্রাণীর ধাপে ধাপে বিবর্তন, এটা বিশাল পড়াশোনার ব্যানার। এককোষী ফ্ল্যাজেলেটেড ব্যাকটেরিয়া থেকে যে প্রাণী কিংডম, সেটার পুরোটা আমি বলতেই পারবো না! আপনি উইকির পাতাগুলো দেখতে পারেন। অ্যানিম্যালিয়া কিংডম। পুরো ইতিহাসটাই ওখানে সংক্ষেপে পাবেন। ![]()
২০|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪০
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম।
অনেক কষ্ট করলেন বস।
থ্যাংক্স।
কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তরটা বুঝি নাই এখনও। মানে, ""লিঙ্গ উদ্ভবের ফলে বৈচিত্র্য বেড়েছে এটা কিন্তু একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন""
আমি কিন্তু এটা আগেই বুঝছি। আমি এটা জিজ্ঞাসা করি নি।
আমি বলতে চাইছি, এই বেচিত্র্য হওয়াটা যে এত গুরুত্ব রাখে সেটা ""ডিএনএ কিভাবে বুঝল?"" একটা ডিএনএ এটা বুঝে পারমুটেশন করতে যাবে কেন?
মস্তিষ্ক ছাড়া কী এসব ব্যাপার চিন্তা করে বের করা সম্ভব? ডিএনএ বুঝল কী করে যে বৈচিত্র এতই গুরুত্বপূর্ণ??
হোক উভলিঙ্গিক, প্রাণীতে এই লিঙ্গের ধারণার দরকারটাই বা কী? মানে, দরকার আছে। ভুলগুলো যেন রিপিট না হয় তাই।সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু ডিএনএ কিভাবে এই ভবিষ্যত প্রয়োজন টা বুঝল? প্রতি যুগে কী বৈচিত্র কী খুব আর্জেন্ট ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়?
লিঙ্গের মাধ্যমেই যে বৈচিত্র্য হবে, এটা আগে থেকে বুঝে ডিএনএ উভলিঙ্গ পরে এক লিঙ্গ তৈরি করল?? যখন উভলিঙ্গ ছিল, তখনই বা কেন লিঙ্গ আসল ক্যান(এতে আমরা অনেক সুবিধা পেয়েছি। কিন্তু সেটা বোনাস। সেই যুগে বেঁচে থাকার জন্য অঙ্গজ প্রজনন হয় এমন একটা কোষের মাঝে লিঙ্গ ডেভেলপ করাটা কী আর্জেন্ট প্রয়োজন নাকি?)? বাঁচার জন্য অঙ্গজ প্রজননই যথেষ্ট।
লিঙ্গ মাত্র দুইটা ক্যান? ভ্যারিয়েশন নাই ক্যান??
মাথা ঘুরাইতেছে বস।
উইকি তে যাচ্ছি।
২১|
০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৩
আকাশ_পাগলা বলেছেন: বিবর্তন একটা ইয়া বিশাল সাংঘাতিক ব্যাপার।
২২|
০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৪৬
আকাশ_পাগলা বলেছেন: অনিক ভাই কী খুব ব্যস্ত নাকি?
ঈদ কোথায় করবেন?
২৩|
০১ লা ডিসেম্বর, ২০১০ সকাল ১১:১২
শুভ রহমান বলেছেন: @আকাশ পাগলা,
আপনার প্রশ্ন আর আলোচনাগুলো চমৎকার। ভালো লাগলো। দুঃখের বিষয়, কমেন্টে রেটিং করার কোন উপায় নেই। যাই হোক, আপনাকে উত্তম জাঝা!
ডিএনএ-র ব্যাপারে আসি। ডিএনএ কি কিছু বোঝে? ডিএনএ কি কি ঠিক করে রাখে যে তার পরবর্তী বিবর্তন কোন দিকে হবে?
আণবিক পর্যায়ে বিবর্তন হচ্ছে ডিএনএ-র উপর ভিত্তি করা একটা জিনিস। ডিএনএ নিজে কোন দিকেই চলতে পারে না। সে আগে থেকে বলতে পারে না তার বিবর্তন কোন দিকে হবে।
ডিএনএ-র তিনটি কাজ।
প্রথমত, রেপ্লিকেশন। সে নিজেকে কপি করে। নতুন কপিগুলোকে কোষ নতুন কোষ আর নতুন প্রজাতির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়।
দ্বিতীয় কাজ, ট্রান্সক্রিপশন। ডিএনএ-র মধ্যে বিভিন্ন জিন থাকে। এ জিনগুলো হলো তথ্য। এ জিনের নির্দেশ মতো কোষ প্রোটিন তৈরি করে। এই প্রোটিন হলো কোষের কর্মী। কোষের ভিতর যত কাজ হয় তা করে প্রোটিন।
তৃতীয় কাজ, মিউটেশন। কোষ যদিও অনেক দক্ষ ডিএনএ কপিপেস্ট করাতে, তারপরও তার কিছু ভুল হয়। এ ভুল হলো মিউটেশন। অধিকাংশ মিউটেশনই ক্ষতিকর। কিন্তু কিছু কিছু মিউটেশন ভালোও হতে পারে।
মিউটেশনের ফলে তৈরি হবে ভ্যারিয়েশন। বা বৈচিত্র্য। একই প্রজাতির বিভিন্ন মধ্যে বিভিন্ন গুণের কম-বেশি তৈরি হয়। এটা হয় মিউটেশনের মাধ্যমে ভ্যারিয়েশনের ফলে।
এখন চিন্তা করতে হবে একটা পপুলেশন বা জনপুন্জের কথা। কোন অঞ্চলে কোন প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের যে সমষ্টি তাই হলো পপুলেশন। যেমন সুন্দরবনে সকল বাঘের একটি পপুলেশন।
কোন পপুলেশনে তাদের বিভিন্ন সদস্যদের মাঝে মিউটেশন হয়। এই মিউটেশন একেবারেই অনিশ্চিত বা ড়্যান্ডম। বিভিন্ন মিউটেশনের ফলে ঐ পপুলেশনের বিভিন্ন সদস্যদের মাঝে বিভিন্ন গুণের ক্ষেত্রে কমবেশি হবে। অর্থাৎ বৈচিত্র্য তৈরি হবে।
এখন, প্রকৃতি নির্বাচিত করবে কোন বৈচিত্র্যের সদস্যরা টিকে থাকবে, কারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে প্রজননের আগেই।
যারা টিকে থাকবে, তাদের পপুলেশনের মাঝে আবার ভ্যারিয়েশন তৈরি হবে, তাদের গুণগুলির মাঝে বৈচিত্র্য তৈরি হবে। প্রকৃতি আবার তাদের মধ্য থেকে উন্নত গুণধারীদেরকে নির্বাচিত করবে টিকে থাকা আর বংশবৃদ্ধি করার জন্য। তখন দেখা যাবে, ঐ নির্বাচিত গুণটি আরো উন্নত হয়ে গেছে।
এই প্রক্রিয়া প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চললে একসময় নতুন প্রজাতি তৈরি হবে।
সুতরাং ডিএনএ কিছু বোঝে না।
আর লিঙ্গ নিয়ে একটা খবর দিতে পারি। এক্স ক্রোমোজমের তুলনায় ওয়াই ক্রোমোজম ছোট। অর্থাৎ পুরুষদের ক্রোমোজম ছোট। দেখা যাচ্ছে যে এই ক্রোমোজম ক্রমে ছোট হয়ে যাচ্ছে। একটা হাইপোথিসিস আছে যে একসময় বিবর্তনের পথ ধরে কোন ওয়াই ক্রোমোজম থাকবে না!
২৪|
১২ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৩২
শত রুপা বলেছেন:
পড়ে পড়বো।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১২:২৩
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: 1. There are many theories of the origin of life. Rather than labour through then in The Selfish Gene I chose just one to illustrate the main idea. But I wouldn’t wish to give the impression that this was the only serious candidate, or even the best one. Indeed, in The Blind Watchmaker, I deliberately chose a different one for the same purpose, A.G. Cairns-Smith’s clay theory. In neither book did I commit myself to the particular hypothesis chosen. If I wrote another book I should probably take the opportunity to try to explain yet another viewpoint, that of the German mathematical chemist Manfred Eigen and his colleagues. What I am always trying to get over is something about the fundamental properties that must lie at the heart of any good theory of the origin of life on any planet, notably the idea of self-replicating genetic entities.
2. Several distressed correspondents have queried the mistranslation of ‘young woman’ into ‘virgin’ in the biblical prophecy, and have demanded a reply from me. Hurting religious sensibilities is a perilous business these days, so I had better oblige. Actually it is a pleasure, for scientists can’t often get satisfyingly dusty in the library indulging in a real academic footnote. The point in fact is well known to biblical scholars, and not disputed by them. The Hebrew word in Isaiah is עלמה (almah),which undisputedly means ‘young woman’, with no implication of virginity. If ‘virgin’ had been intended, בתולה (bethulah) could have been used instead (the ambiguous English word ‘maiden’ illustrates how easy it can be to slide between the two meanings). The ‘mutation’ occurred when the pre-Christian Greek translation known as the Septuagint rendered almah into παρθένος(parthenos), which really does usually means virgin. Matthew (not, of course, the Apostle and contemporary of Jesus, but the gospel-maker writing long afterwards), quoted Isaiah in what seems to be a derivative of the Septuagint version (all but two of the fifteen Greek words are identical) when he said, ‘Now all this was done, that it might be fulfilled which was spoken of the Lord by the prophet, saying, ‘Behold, a virgin shall be with child, and shall bring forth a son, and they shall call his name Emmanuel’ (Authorized English translation). It is widely accepted among Christian scholars that the story of the virgin birth of Jesus was a late interpolation, put in to presumably by Greek-speaking disciples in order that the (mistranslated) prophecy should be seen to be fulfilled. Modern versions such as the New English Bible correctly give ‘young woman’ to Isaiah. They equally correctly leave ‘virgin’ in Matthew, since there they are translating from his Greek.
3. This purple passage (a rare – well, fairly rare – indulgence) has been quoted and requoted in gleeful evidence of my rabid ‘genetic determinism’. Part of the problem lies with the popular, but erroneous, associations of the word ‘robot’. We are in the golden age of electronics, and robots are no longer rigidly inflexible morons but are capable of learning, intelligence, and creativity. Ironically, even as long ago as 1920 when Karel Capek coined the word, ‘robots’ were mechanical beings that ended up with human feelings, like falling in love. People who think that robots are by definition more ‘deterministic’ than human beings are muddled (unless they are religious, in which case they might consistently hold that humans have some divine gift of free will denied to mere machines). If, like most of the critics of my ‘lumbering robot’ passage, you are not religious, then face up to the following question. What on earth do you think you are, if not a robot, albeit a very complicated one? I have discussed all this in The Extended Phenotype, pp.15-17.
The error has been compounded by yet another telling ‘mutation’. Just as it seemed theologically necessary that Jesus should have been born of a virgin, so it seems demonologically necessary that any ‘genetic determinist’ worth his salt must believe that genes control every aspect of our behaviour. I wrote of the genetic replicators: ‘they created us, body and mind’ (p.20). This has been duly misquoted (e.g. in Not in Our Genes by Rose, Kamin, and Lewontin (p.287), and previously in a scholarly paper by Lewontin) as ‘[they] control us, body and mind’ (emphasis mine). In the context of my chapter, I think it is obvious what I meant by ‘created’, and it is very different from ‘control’. Anybody can see that, as a matter of fact, genes do not control their creations in the strong sense criticized as ‘determinism’. We effortlessly (well, fairly effortlessly) defy them every time we use contraception.