নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পাগলের প্রলাপ

একবার তো লিখলাম ।

আবীর আমান

আশে পাশের মানুষ বলে পাগল ছেলে । আড়ালে বলে গাধা । আমি নিজেও বুঝিনা মানুষ জিনিসটা কি?

আবীর আমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

দি ক্লশিং রক- ইয়ান সেরেলিয়ার [অনুবাদ পর্ব ২/৫]

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:১১

৫...রাত্রি বিদায়



পরদিন আরগোর চিল্লাচিল্লীতে সবার ঘুম ভাঙ্গল। জাহাজটা নিজেই সবাইকে ডাকাডাকি করছিল কারন তার আর তর সইছিল না। অবশ্য সওয়ার কথাও নয়। মাউন্ট পেলিওনের মাথায় ততক্ষনে সূর্য হেসে উঠেছে।

দাঁড় টানার লোকজন বসে পড়ল। প্রতি বেঞ্চে দুজন। টাইফিস জাহাজ ছাড়ার আদেশ দিল। অরফিয়াস জাহাজের সামনে জেসনের পাশে এসে দাঁড়াল। তার লাইরের তালে তালে পঞ্চাশ জন মাল্লা দাঁড় বাইতে শুরু করল।

অনেক লোক জড় হয়েছে ওদের বিদায় দেওয়ার জন্যে। তাদের মধ্যে কিরনও ছিল। তার কোলে ছোট্ট আকিলিস। আকিলিসের বাবাও যাচ্ছিল জেসনদের সাথে। দেবতারা স্বর্গ থেকে দেখলেন আরগোনটসদের। জেসন এথেনার দেয়া আলখেল্লাটা পরেছে। সূর্যের আলোয় সেনাদলের অস্ত্র-শস্ত্র চকচক করছে, যেন আগুন লেগেছে। টাইফিস ছিল চালকের আসনে। পুরোপুরি বাতাসের আওতায় আসতেই সে দাঁড়টানা থামাতে বলল আর পাল টানিয়ে দিল। বাতাসের টানে তারা দ্রুত উপসাগর ছাড়িয়ে সাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

অরফিয়াস আবার তার লাইর হাতে নিল। মাছেরা জলের উপরের দিকে উঠে এলো তার গান শুনতে। বিকেলের দিকে বাতাস তাদের প্রতিকূলে বইতে শুরু করলে তারা সেদিনের মত এক জায়গায় জাহাজ ভেড়াল। তারপর তারা ম্যাগনেশিয়ান উপকূল ধরে সোজা উত্তরে যেতে থাকল। চলতে চলতে মাউন্ট অলিম্পাসের মেঘে ঢাকা মাথা দেখা গেলে খোলা সমুদ্রে পূর্ব দিক ধরে চলতে থাকল। লেমনস দ্বীপে একটা ছোট্ট একটা বিরতি নিয়ে মারমারা সাগর দিয়ে সোজা এগিয়ে চলল হেলেস্পন্টের দিকে।

মাঝে তারা তাদের নোঙ্গর বদলানোর জন্য ফেয়ারহেভেনের পোতাশ্রয়ে থামল। সেখানকার অর্থাৎ ডোলিয়নের রাজা সিজিকাস তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল। সিজিকাসের বয়স জেসনের মতই। তার সাথে তার স্ত্রী ক্লেইটও ছিল। সেদিন সকালেই বিয়ে হয়েছে সিজিকাস আর ক্লেইটের। এক ওরাকল রাজাকে বলেছিল আরগোনটসদের সাহায্য করতে। রাতে ডিনারের টেবিলে সিজিকাস মারমারা সাগর সম্পর্কে অনেক কিছু বলল। কিন্তু কৃষ্ণ সাগর সম্পর্কে কিছু বলতে পারল না। তারা কখনও অতদূরে যায়নি।

পরদিন সকালে আরগো পুবের দিকে রওনা হল। মাঝে মাঝে বাতাস একটু সমস্যা করলেও আরগোর যাত্রীরা ভাবল ভালো ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু মাঝরাতে হঠাৎ তারা আবিস্কার করল, তারা অন্ধকার একটা তীরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জেসন তীরে নামার সিদ্ধান্ত নিল । কিন্তু তারা কেউই বুঝল না যে সেটা সেই একই দ্বীপ যেটা থেকে তারা সেদিন সকালেই রওনা দিয়েছে। আবছা অন্ধকারে একদল জলদস্যু তাদের আক্রমন করল। কিন্তু জলদস্যুরা জানেনা কাদের আরক্রমন করেছে। আরগোনটসদের সাথে পেরে ওঠার কথা না কারো। আর পেরে উঠলও না। দলনেতা সহ তার সাত দস্যু মারা পড়ল, বাকিরা সব পালিয়ে বাঁচল।

পরদিন সকালে দুদলই তাদের ভুল বুঝতে পারল। রাতে তারা পরস্পরকে চিনতে পারেনি। সিজিকাসের দেহ পরে থাকতে দেখে জেসনের খুব কষ্ট হল। রাতের অন্ধকারে জলদস্যু ভেবে দুই মিত্রপক্ষ পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করেছে। জেসনরা তিন দিনের শোক পাল করল। সিজিকাসের নতুন বউটাও শোকে মারা গেল।









৬...অন্ধকারের কান্না

এক ফোটা বাতাসও নেই। শুধু দাঁড় বেয়ে বেয়ে এগিয়ে এগোতে হচ্ছে। একসময় বিরক্ত হয়ে সবাই ঠিক করল একটা খেলা খেলবে। কে কতক্ষন ধরে দাঁড় বাইতে পারে। এটাই খেলা। খেলার শুরুতে জাহাজের গতি দেখে মনে হচ্ছিল, সাগর দেবতা পোসাইডনের ঘোড়াও তাদের সাথে পেরে উঠবে না। বিকেলে এলোমেলো বাতাস বইতে শুরু করল। এদিকে সবাই ক্লান্ত হয়ে দাঁড় ছেড়ে বসে পড়েছে। কিন্তু তখনও জেসন আর হেরাকলস দাড় বেয়ে চলেছে। জেসনের চেহারা দেখে অবশ্য মনে হচ্ছিল সে ক্লান্ত, কিন্তু হেরাকলসের কোন বিকার নেই। একসময় কেপ পোসাইডনের উপকূল পেরিয়ে সিওস নদীতে এসে পড়ল আরগো। এবার জেসন ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিল। আর হেরাকলস দুয়েকবার দাঁড় বাইতে না বাইতেই তার দাঁড়টা ভেঙ্গে গেল। সবাই হাসতে শুরু করল কিন্তু হেরাকলসের রুদ্রমূর্তি দেখে সবাই চুপ হয়ে গেল। সবার হাসি দেখে ওর মেজাজ খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

একসময় তার চোখ গেল জেসনের দিকে। জেসনের চেহারাটা একদম রক্ত শুন্য। সে রাগ ভুলে গিয়ে দৌড়ে গেল জেসনের দিকে। পানি দিয়ে সারা শরীর মুছে দিল। আস্তে আস্তে জেসনের চেহারা স্বাভাবিক হতে শুরু করলে সবার কপালের ভাঁজ বিদায় নিল। সবাই হেরাকেলসকে নতুন করে চিনল। কঠিন লোকটার মাঝে নরম একটা মানুষও আছে।

সেদিনের মত তারা একটা নদীর মুখে নোঙ্গর ফেলল। স্থানীয়রা তাদের ভালোভাবেই নিল। উপহার হিসেবে তারা মদ আর মাংসের জন্য অনেকগুলো ভেড়া দিল। জাহাজ থেকে নেমে আরগোনটসদের কেউ আগুন জ্বালানোর কাঠ জোগাড় করতে গেল, কেউ পাতা আনল বিছানা তৈরির জন্য আর কেউ রাতের খাবার রাঁধতে শুরু করল।

হেরাকলস বনের মধ্যে গেল বৈঠা বানানোর জন্য পছন্দ মত একটা গাছ খুঁজতে। একটা গাছ পেয়েও গেল। বৈঠা বানানো শেষ করে সে জাহাজের দিকে ফিরতে শুরু করল।

ঠিক সেই সময় তার ভৃত্য হাইলাস পানি আনতে যাচ্ছিল। সে সমসময় চাইত তার মালিককে খুশি রাখতে। চাওয়ার আগেই সবকিছু মালিকের হাতের কাছে দিয়ে আসত। পানি খুঁজতে খুঁজতে সে উইলো গাছে ঘেরা একটা পুকুর দেখে এগিয়ে গেল। হঠাৎ সে পানিতে একটা মেয়েকে দেখে চমকে গেল। চমকের আতিশয্যেই হোক অথবা ভয়েই হোক, তার গলা দিয়ে একটা চিৎকার বেরিয়ে এল। মেয়েটার চেহারা যেন স্বর্গলোকের দেবীদেরও হার মানায়। মেয়েটা তার গলা জড়িয়ে ধরে তাকে পানিতে নামিয়ে আনল।

শুধু পলাইফেমাসের কান পর্যন্ত পৌঁছল হাইলাসের চিৎকার। হেরাকলসকে খুঁজতে বের হয়ে সে পুকুরের কাছাকাছি এসে পড়েছিল। পুকুরের একদম কাছে গিয়েও সে হাইলাসের কোন চিহ্নই পেল না, পাড়ে শুধু জগটা পড়ে ছিল। সে হাইলাসের নাম ধরে ডাকল, কিন্তু কোন উত্তর নেই। কোন জানোয়ার আক্রমন করতে পারে ভেবে সে তরবারি বের করে ঝোপের দিকে এগিয়ে গেল। একটু দূরে পাতার খসখসানি শুনে দৌড়ে গিয়ে হেরাকলসকে পেল।

সব শুনে হেরাকলস উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ল। ছেলেটাকে সে নিজের ছেলের মত ভালবাসত।

সে হাইলাসের নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে শুরু করল কিন্তু প্রতিধ্বনি ছাড়া আর কোন আওয়াজ আসল না।

এরমধ্যে সব আরগনটসরা খেয়ে দেয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। তারা তিন বন্ধুর অনুপস্থিতি টেরই পেল না। শুধু টাইফিস জলের ধারে বসে ছিল। অপেক্ষা করছিল কখন পুব থেকে জোড় বাতাস বইতে শুরু করবে। ভোরের দিকে সেই বাতাসের দেখা সে পেল আর সবাইকে ডেকে তুলল। কারন এখন না গেলে এরকম বাতাস পেতে তাদের আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাড়াতাড়িই তারা পাল খাটিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করল।

ওরা যখন যাচ্ছে তখন হাইলাসকে খুঁজতে হেরাকলস বনের অন্য পাশে। সে জোরে জোরে হাইলাসের নাম ধরে ডাকছিল। জাহাজ থেকে সেই ডাক শুনে জেসনের মনে হল কোন রাতের পাখি ডাকছে। আরগো পানি কেটে এগিয়ে চলল।





৭...ফিনিয়াস আর হারপিস



বেশ খানিকটা এগিয়ে যাওয়ার পর আরগনটসরা তিন বন্ধুর অনুপস্থিতি টের পেল। কেউ কেউ ফিরে গিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে চাইল কিন্তু টাইফিস বেঁকে বসল। তার মতে বাতাস প্রতিকূলে বলে ফিরতে সমস্যা হবে। এমন সময় সাগর আরেক দেবতা নেরেউসের একজন দূত জেসনকে জানাল দেবতারা চায় আরগনটসরা এগিয়ে যাক। দেবতাদের ইচ্ছাতেই তাদের সহযাত্রীরা পিছিয়ে পড়েছে। সুতরাং তারা এগিয়ে যেতেই থাকল।

পরের দিন তারা একটা দ্বীপে আসল। দ্বীপের রাজা আমিকাস। দ্বীপে কেউ আসলে, সে তাদের তার সাথে বক্সিং ম্যাচ খেলতে বাধ্য করত। কেউ যদি না খেলতে চাইত তাকে পাহাড়ের মাথা থেকে সাগরে ফেলে দিত। আবার যদি কেউ ম্যাচে নামত তাহলে খুব কমই বেঁচে ফিরতে পারত।

তাদের পৌছার খবর শুনে খবর শুনে আমিকাস তীরে আসল। আরগোনটসদের বলল যতক্ষণ না জাহাজ থেকে কেউ এসে তার সাথে খেলবে ততক্ষন সে কাউকে নামতে দেবে না।

জাহাজে সবচেয়ে ভালো বক্সার ছিল পোলাক্স। সে নেমে এল। আমিকাসের দেয়া চামড়ার গ্লাভস পড়ল। রিং-এ নেমে সে দেখল রাজার গ্লাভসে স্পাইক লাগান। কিন্তু মোটেও ভয় পেল না। আমিকাস দাঁতে দাঁত পিষে হাত ঘুরাতে ঘুরাতে জংলী ষাঁড়ের মত তার দিকে এগিয়ে আসছিল। পোলাক্স খুব ধীর স্থির ভাবে তার রণকৌশল খাটাল। একটু সরে গিয়ে বাঁ হাতে কপালে একটা হুক করতেই আমিকাস আঁছড়ে পড়ল।

ভূপাতিত চ্যাম্পিয়ানের পড়ে যাওয়া হেলমেটটা তুলে সেটাতে করে একটু পানি নিয়ে আমিকাসের চোখে ছিটিয়ে দিল পোলাক্স। পিটপিট করে চোখ মেলল আমিকাস। পোলাক্স তার কাছ থেকে আর কখনও কাউকে বক্সিং এর জন্য বাধ্য না করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছেড়ে দিল। আর ওর স্পাইক লাগানো গ্লাভস সাগরে ফেলে দিল।

সেখান থেকে তারা যে বন্দরে ভিড়ল সেটার নাম থ্রেস। বন্দরটা ছিল বসফরাস প্রণালীর মুখে। সেখানকার রাজা ফিনিয়াস। জন্ম থেকেই সে ভবিষ্যৎ বলতে পারত। জিয়ুসের অভিশাপে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল আর কখনই শান্তি মত খাবার খেতে পারত না সে। যখনই খেতে বসত তখনই তিনটা হারপিস এসে তার খাবার নিয়ে কাড়াকাড়ি করত। হারপিসদের মুখ আর শরীর মেয়েদের মত আর সাথে আছে শকুনীর মত থাবা আর ডানা।

আরগনটসদের আসার কথা শুনে ফিনিয়াস খুশি হল। কারন জিয়ুস তাকে আগেই বলেছিল, একদিন আরগনটসরা এসে তাকে হারপিসদের হাত থেকে বাঁচাবে। সে নিজে তাদের স্বাগত জানাতে গেল। হাড় জিরজিরে শরীর নিয়ে সে ঠিক মত হাঁটতেও পারছিল না। জেসনের কাছে যেতে গিয়েও সে পড়ে গেল।

জেসন তাড়াতাড়ি করে তাকে ধরল। বসতে সাহায্য করল।

‘তোমার স্পর্শই আমাকে বলে দিচ্ছে তুমি জেসন। কিন্তু তোমার সামনে অনেক কঠিন পথ, জেসন।’ ফিনিয়াস বলল।

‘সেইজন্যই তো আপনার কাছে এসেছি। আপনিই বলে দিন সামনে আর কি বিপদ আছে আর কিভাবে সেগুলো পাড় হব।’ জেসন বলল।

‘যতটা পারি বলতে চেষ্টা করব। কিন্তু আমারও একটা সাহায্য চাই তোমাদের কাছ থেকে। জিয়ুস বলেছেন তোমার দুজন বন্ধু আমাকে হারপিসের হাত থেকে বাঁচাবে। তবে সবার আগে চলো খাওয়া দাওয়া করে নিই। আর তোমাদের বিশ্রামও তো দরকার, তাই না?’ এই বলে তাদের প্রাসাদের দিকে নিয়ে গেল।

তারা খেতে বসল ফিনিয়াস কেবল খাবারে হাত দেবে ঠিক তখনই কোথায় থাকে এক হারপিসের উদয় হল। ফিনিয়াসের খাবার কেড়ে নিয়ে কর্কশ কণ্ঠে চেচামেচি শুরু করল।

সাথে সাথে উত্তরা বাতাসের দেবতার দুই ছেলে কেলিয়াস আর জিটাস তাদের তরবারি বার করল। দুজনেরই ডানা আছে। তারা হারপিসদের ধাওয়া করে প্রাসাদ থেকে বাইরে নিয়ে আসল। তাদের তাড়া খেয়ে হারপিসরা সাগর-মাঠ-পাহাড়ের ওপর দিয়ে ছোটাছুটি শুরু করল। তাদের পিছে খোলা তরয়াল হাতে দুই ভাই। একসময় তারা হারপিসদের ধরে ফেলল। হয়তো মেরেও ফেলত যদি না দেবী আইরিস তখনই এসে হাজির হতেন।

আইরিস বললেন, ‘জিয়ুস চান না তোমরা ওদের মেরে ফেল। ওদের ছেড়ে দাও। আমি কথা দিচ্ছি, ওরা আর কখনও ফিনিয়াসকে বিরক্ত করবে না।’

এই বলে তিনি হারপিসদের ক্রিটের একটি গুহায় বন্দী করে রাখলেন।

দুভাই প্রাসাদে ফিরে আসল। ফিনিয়াস তাদের ধন্যবাদ দেয়ার ভাষা খুজে পেলেন না। তারপর সবাই খাওয়া দাওয়া শুরু করল। সবাই খুব মজা করে খেল কিন্তু ফিনিয়াসের চেয়ে খুশি আর কাউকে মনে হল না। অনেকদিন পর এই প্রথম সে হারপিসদের উপদ্রপ ছাড়া খাচ্ছে।

খাওয়া শেষে আগুনের পাশে বসে ফিনিয়াস তাদের আসন্ন বিপদের কথা বলতে শুরু করল।

‘বসফরাসের শেষে তোমরা দুটো ভাসমান পাথর দেখতে পাবে। ঠিক কৃষ্ণ সাগরের প্রবেশ মুখে। কিছুক্ষন পরপর তারা নিজেদের মধ্যে ধাক্কা খায়। এজন্য তাদের সংঘর্ষ কঙ্কর বলে সবাই। কোন জাহাজ তাদের মাঝ দিয়ে কৃষ্ণ সাগরে ঢুকতে চাইলেই পাথরের আঘাতে গুড়ো হয়ে যায়। কিন্তু যদি তোমরা আমার কথা শোন তাহলে হয়ত প্রথমবারের মত পাড় হতে পারবে। তোমারা তোমাদের সাথে একটা ঘুঘু নিয়ে যাবে আর ওই পাথরের সামনে গিয়ে ওকে উড়িয়ে দেবে। যদি ঘুঘুটা নিরাপদে পাথর দুটোর মাঝ দিয়ে পাড় হয়ে যেতে পারে তো বুঝবে দেবতারা তোমাদের সাথে আছেন। এগিয়ে যাবে। আশা করি পাড় হতে পারবে।’

সে অন্যান্য বিপদ সম্পর্কেও কিছু কথা বলল কিন্তু কোল্কিসে যাওয়ার পর কি হবে সে ব্যাপারে কিছু বলল না। কারন তাতে দেবতাদের মানা আছে।

তারা কথা বলতে বলতেই ভোরের আলো ফুটতে শুরু করল। প্রতিদিনের মত দর্শনার্থীরাও আসতে শুরু করল। ফিনিয়াস যথেষ্ট সৌজন্য দেখাল বিদায়ের আগে। যতভাবে পারে তাদের সাহায্য করল।

ফিনিয়াস ঠিক তেমন একজন রাজা যেমনটা একজন রাজার হওয়া উচিত। একইসাথে জনগনের নেতা, রক্ষক, ভৃত্য।

















৮... সংঘর্ষ কঙ্কর



বসফরাসে আরগনটসদের অনেক প্রতিকুলতার মুখোমুখি হতে হল। উত্তরের ঠান্ডা বাতাস আর বরফ গলা বসফরাসের জল অতিষ্ঠ করে তুলল। পশ্চিম দিকে পাহাড় সারি পথকে সরু করে তুলেছে। কিছুদূর যাওয়ার পরই তারা বজ্রপাতের মত শব্দ শুনতে পেল। একসময় তারা ফিনিয়াস যে পাথরগুলোর কথা বলেছিল সেগুলো দেখতে পেল। পাথর গুলো স্থির থাকতে জানে না। একবার পরস্পর থেকে দূরে যাচ্ছে, একবার ধাক্কা লাগছে। আর ধাক্কা লাগার সময় বিকট শব্দ হচ্ছে।

জাহাজ আরো কাছে গেল। শব্দে তখন কানের তালা ফেটে যাওয়ার জোগাড়। প্রতিবার ধাক্কা লাগার পর অনেক ভাঙ্গা পাথর পানিতে পরছিল।

জেসন জাহাজের সামনে দাঁড়াল। তার হাতে সাদা ঘুঘু। মনে মনে একটু প্রার্থনা করে সে ঘুঘুটাকে উড়িয়ে দিল। আরগনটসদের সব আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঘুঘুটা আস্তে আস্তে কুয়াশার মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেল। এই সময় পাথর দুটো আবার ধাক্কা খেল। আরগো এবার পাথর গুলোর বেশ কাছে ছিল। ধাক্কার ফলে পাথর গুলো থেকে ছুটে আসা পানি জাহাজকে আকাশের দিকে ছুড়ে দিল। বিরাট ঢেউয়ের মাথা থেকে নামতে নামতেই জাহাজ ঘুরতে শুরু করল। টাইফিসের দক্ষতার কারনেই হয়তো আরগো শেষ পর্যন্ত ভেসে থাকল।

এদিকে কুয়াসার মধ্যে ঘুঘুটা হারিয়ে গেছে। কুয়াশা একটু হালকা হলে সেটাকে আবার দেখা গেল। পাখিটা সহজেই দুই পাথরের মাঝ দিয়ে পাড় হয়ে গেল। পাখিটা পাড় হওয়ার পরই দুই সংঘর্ষ কঙ্করে আবার সংঘর্ষ হল। আরগনটসরা আনন্দে চিৎকার করে উঠল।

সবাই তীর বেগে বৈঠা চালাল। টাইফিস হাল সোজা করে ধরে থাকল। দুই পাথরের মাঝে পাক খাওয়া পানির মধ্যে আরগো কাপতে কাপতে এগিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় পাথর দুটো আবার এগিয়ে আসতে শুরু করল। কিন্তু দেবতারা স্বয়ং নাবিকদের ওপর ভর করেছেন। দ্রুত দাড় বেয়ে তারা পাড় হয়ে যেতেই পেছনের পাথর দুটোতে আবার ধাক্কা লাগল। জাহাজের পেছনের একটা বর্ধিত কাঠ পাথর দুটোর মাঝে পড়ে গুড়ো হয়ে গেল। তারপরই তারা শান্ত-স্নিগ্ধ সাগরে গিয়ে পড়ল।

আরগনটসরা আনন্দে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরল। তারাই প্রথম ওই পাথরের ফাঁদ পাড়ি দিয়ে এপাশে আসতে পেরেছে। সামনে অসীম সাগর দেখেও বুক কাঁপল না কারো।

অরফিয়াস গান গাইতে শুরু করল। গাংচিল নিচ দিয়ে উড়তে শুরু করল, মাছেরা জাহাজের চারপাশে ভীড় জমাল গান শুনতে। আরগনটসরা সবাই গান শুনছে তন্ময় হয়ে। তাদের সব ভয়, উৎকণ্ঠা যেন পালিয়েছে। পৃথিবীটা শান্তিময় লাগতে শুরু করল।











মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.