| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কোন সে পথে হাটছো তুমি,
কোন পথে বা যাত্রা?
কোথায় গিয়ে থিতু হবে,
কার সাথে বা বিরাম নেবে?
চলবে আবার কার বা সাথে,
কোন সুদূরকে বেছে নেবে?
কেমন হবে স্বপ্ন তোমার,
করবে তুমি কেমন জীবনযাত্রা?
নাকি গড্ডালিকার দলের মতো
লোভী হবে ধূর্ত হবে,
নষ্ট অসত মানুষ হবে?
হাজার কোটি হাতিয়ে নিয়ে
সবার থেকে সংগোপনে
নিজের মতো পালিয়ে যাবে?
২|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৫
আবু সিদ বলেছেন: ধন্যবাদ, সেজুতি_শিপু ।
৩|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০২
মহাজাগতিক চিন্তা বলেছেন:
আবু সিদ, আপনার “যাত্রা” কবিতাটি পড়লাম। ছোট্ট কবিতার মধ্যে জীবনের গতিপথ, ভবিষ্যৎ নির্বাচন, স্বপ্ন, নৈতিকতা এবং মানুষের চারিত্রিক পরিবর্তন নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। কবিতাটি শুধু ব্যক্তিগত জীবনের যাত্রার কথা বলে না; এর মধ্যে আমাদের সমাজ ও মানুষের মূল্যবোধ সম্পর্কেও একটি সতর্কবার্তা রয়েছে।
“কোন সে পথে হাটছো তুমি,
কোন পথে বা যাত্রা?
কোথায় গিয়ে থিতু হবে,
কার সাথে বা বিরাম নেবে?”
কবিতার শুরুতেই আপনি মানুষকে তার নিজের পথ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষ প্রতিদিনই কোনো না কোনো গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ জ্ঞান অর্জন করতে চায়, কেউ প্রতিষ্ঠা, কেউ অর্থ-সম্পদ, কেউ ক্ষমতা, আবার কেউ শান্তি ও আত্মতৃপ্তির সন্ধান করে। কিন্তু আমরা কতজন নিজেদের প্রশ্ন করি—যে পথে এগোচ্ছি, সেই পথ কি সত্যিই আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে নিয়ে যাবে? গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আমরা কি মানসিক শান্তি পাব, নাকি অর্জনের পাহাড় গড়েও এক ধরনের শূন্যতা অনুভব করব? আপনার কবিতার এই প্রশ্নগুলো পাঠককে নিজের জীবন ও সিদ্ধান্তের দিকে ফিরে তাকাতে উৎসাহিত করে।
জীবনকে যাত্রার সঙ্গে তুলনা করা বাংলা সাহিত্য ও দর্শনের একটি পরিচিত উপমা। তবে এই যাত্রার বিশেষত্ব হলো, এখানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই বড় কথা নয়; কোন পথে পৌঁছানো হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অসৎ উপায়ে অর্জিত সাফল্য এবং সততার সঙ্গে অর্জিত সাফল্য বাহ্যিকভাবে কখনো একই রকম মনে হতে পারে, কিন্তু নৈতিক বিচারে তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মানুষের প্রকৃত পরিচয় কেবল তার সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক প্রভাব দিয়ে নির্ধারিত হয় না; সে কীভাবে সেগুলো অর্জন করেছে, অন্য মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে এবং নিজের বিবেকের কাছে কতটা দায়বদ্ধ থেকেছে—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।
“নাকি গড্ডালিকার দলের মতো
লোভী হবে ধূর্ত হবে,
নষ্ট অসত মানুষ হবে?”
এই অংশে আপনার কবিতার বক্তব্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোর অর্থ হলো, নিজের বিবেক ও বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করে অন্যদের অনুসরণ করা। সমাজে যখন অসততা স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়, তখন অনেক মানুষ অন্যায়কে অন্যায় বলে চিনতে চায় না। তারা ভাবতে শুরু করে, সবাই যখন করছে, তখন আমিও করলে দোষ কী! অথচ কোনো অন্যায় কাজ বহু মানুষ করলেই তা ন্যায়সংগত হয়ে যায় না। সংখ্যাগরিষ্ঠের আচরণ আর নৈতিক সত্য সব সময় এক জিনিস নয়।
আপনার কবিতার শেষাংশে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গোপনে পালিয়ে যাওয়ার যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা লোভ ও দুর্নীতির একটি তীব্র প্রতীক। এখানে অর্থের পরিমাণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো সম্পদ অর্জনের পদ্ধতি এবং তার পেছনে থাকা মানসিকতা। যখন কেউ নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যের অধিকার নষ্ট করে, জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করে কিংবা দায়িত্বের অপব্যবহার করে, তখন ক্ষতিটা শুধু অর্থনৈতিক থাকে না; মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতা এবং সমাজের ন্যায়বোধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে আমার মনে হয়, এই কবিতার বক্তব্যকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। দুর্নীতি শুধু বিপুল অর্থ আত্মসাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ছোটখাটো দায়িত্বে অবহেলা, অন্যের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেওয়া, ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা বলা কিংবা নিজের সুবিধার জন্য নীতির সঙ্গে আপস করাও অসততার বিভিন্ন রূপ। বড় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও সততা চর্চা করা প্রয়োজন। কারণ সমাজের নৈতিক পরিবর্তন কেবল অন্যের অপরাধের সমালোচনা দিয়ে আসে না; নিজের আচরণ সংশোধনের মধ্য দিয়েও আসে।
কবিতাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা। মানুষ জানে না তার যাত্রা কোথায় গিয়ে শেষ হবে, কার সঙ্গে তার পথ চলা অব্যাহত থাকবে কিংবা কোন স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অজানা হলেও বর্তমানের সিদ্ধান্তগুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। আমরা হয়তো সব পরিণতি নির্ধারণ করতে পারি না, কিন্তু সততা, দায়িত্ববোধ ও বিবেকের ভিত্তিতে পথ নির্বাচন করতে পারি। ভালো ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা না থাকলেও সঠিক পথে চলার মূল্য রয়েছে।
আমার কাছে আপনার কবিতার মূল শিক্ষা হলো—জীবনের যাত্রায় গন্তব্যের পাশাপাশি পথের নৈতিকতাও বিবেচনা করতে হবে। অর্থ, ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠা মানুষের প্রয়োজন হতে পারে; কিন্তু সেগুলো অর্জনের জন্য যদি মানবিকতা বিসর্জন দিতে হয়, তবে সেই অর্জনের সাফল্য নিয়েই প্রশ্ন থেকে যায়। অন্যদিকে, সততার সঙ্গে চলা মানুষের পথ কঠিন হতে পারে, তার অর্জন ধীর হতে পারে, কিন্তু তার আত্মমর্যাদা ও বিবেকের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
আপনার কবিতার ভাষা সরল, প্রশ্নগুলো সরাসরি এবং বক্তব্যটি সহজেই অনুধাবনযোগ্য। এই সরলতার মধ্যেই কবিতাটির শক্তি রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কবিতায় কিছু চিত্রকল্প ও প্রতীকের ব্যবহার বাড়ালে পাঠকের কল্পনায় আরও গভীর প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তবে বর্তমান কবিতার সরাসরি প্রশ্নমুখী ভঙ্গিও এর বক্তব্যকে স্পষ্ট করেছে।
সবশেষে বলব, প্রত্যেক মানুষের জীবনই একটি যাত্রা; কিন্তু সব যাত্রার গন্তব্য এক নয়, আর সব পথও সমান মর্যাদার নয়। কেউ সম্পদের পেছনে ছুটে নিজের মানবিকতা হারায়, কেউ আবার সীমিত অর্জন নিয়েও সততা ও আত্মতৃপ্তির সঙ্গে জীবন কাটায়। শেষ পর্যন্ত মানুষ কী রেখে গেল—শুধু সম্পদের হিসাব, নাকি সততা, ভালো কাজ ও মানবিকতার স্মৃতি—সেই প্রশ্নটিই আমাদের ভাবা উচিত।
আপনাকে ধন্যবাদ, এমন একটি বিষয়কে কবিতার মাধ্যমে সামনে আনার জন্য। আপনার এই যাত্রা হোক আরও অর্থবহ, আর আপনার লেখনী মানুষের বিবেক, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পাঠককে উৎসাহিত করুক।
১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৪
আবু সিদ বলেছেন: আপনার বিশ্লেষণ পড়ে অনেক ভালো লাগলো। বিস্তারিত মতামতের জন্য ধন্যবাদ, মহাজাগতিক চিন্তা। অনেক শুভ কামনা ।
৪|
১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:২৩
রাজীব নুর বলেছেন: ভালো।
©somewhere in net ltd.
১|
১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:১২
সেজুতি_শিপু বলেছেন: ভালো প্রশ্ন, সময়োপযোগী যৌক্তিক প্রশ্ন।