নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি একজন অনুসন্ধানী মনের মানুষ

খসরু ওয়াহিদ

সাধারন মানুষ

খসরু ওয়াহিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোলেস্টেরল কি শুধু ক্ষতিই করে

১৮ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২১

কেন কোলেস্টেরল নিয়ে সমস্যা হয় ?
কোলেস্টেরল এক ধরনের আঠালো ও তৈলাক্ত পদার্থ যা সব ধরনের দেহ কোষের দেয়ালে থাকে । শরীর কোলেস্টেরল থেকে হরমোন, বাইল এসিড , ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য পদার্থ তৈরি করে । কোলেস্টেরল শরীরের জন্য একটি জরুরী পদার্থ ।
শরীরের জন্য যতটুকু কোলেস্টেরল দরকার তা শরীর নিজেই তৈরি করে । কোলেস্টেরল শরীরে রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় । তবে জলীয় রক্ত ও তৈলাক্ত কোলেস্টেরল এক সাথে মিশতে পারে না । তাই কোলেস্টেরল পরিবহনের জন্য লাইপোপ্রোটিন নামের বাহকের সাহায্য নিতে হয় । লাইপোপ্রোটিনের ভিতরে থাকে কোলেস্টেরল বাইরে থাকে প্রোটিন ।
দুই ধরনের লাইপোপ্রোটিন শরীরে কোলেস্টেরল সরবরাহ করে
লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন যার আরেকটা নাম “ব্যাড’’ বা খারাপ কোলেস্টেরল কারন এই এল ডি এলই ধমনী ও কোষকলায় কোলেস্টেরল পৌছে দেয় । রক্তের অধিকাংশ কোলেস্টেরল এল ডি এল ফর্মে থাকে । রক্তে যত বেশী এল ডি এল কোলেস্টেরল থাকে তার হৃদরোগের ঝুঁকি তত বেশী ।
এইচ ডি এল বা হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন যার আরেক নাম “গুড’’ বা ভাল কোলেস্টেরল কারন এই এইচ ডি এল কোষকলা থেকে কোলেস্টেরল লিভারে পরিবহন করে নিয়ে আসে । লিভার পরিশেষে কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে বের করে দেয় । রক্তে এইচ ডি এল কম থাকলে হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে ।
যদি কারো শরীরে অনেক বেশী কোলেস্টেরল থাকে তবে এই কোলেস্টেরলের কিছু কিছু রক্তনালীতে আটকা পড়ে । সময়ের সাথে সাথে সেখানে আরো কোলেস্টেরল জমতে থাকে এই জমতে থাকে কোলেস্টেরলের পরিমান এত বেশী হয় যে একসময় রক্তনালীর দেয়াল ফুলে উঠে । তখন এটাকে বলা হয় প্লাক । প্লাক ধমনীর ভিতরের অংশকে সরু করে এবং ধমনীর নমনীয়তা কমিয়ে দেয় ।এই অবস্থাকে বলা হয় “ধমনী কাঠিন্য’’ বা ইংরেজিতে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ।
এই অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস শরীরের যে কোন ধমনীতে হতে পারে । এমনকি হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন করে যে করোনারী ধমনী সেখানেও অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস হতে পারে । যদি করোনারী আর্টারী প্লাক দিয়ে আংশিকভাবে বন্ধ হয়ে যায় তখন হৃদপেশীতে পর্যন্ত রক্ত এবং পুষ্টি দিতে পারে না । তখন বুকে ব্যাথা অনুভুত হয় । সেটাকে এনজাইনা বলা হয়ে থাকে ।
কিছু কিছু প্লাক ঠুকনো ধরনের হয় । এই প্লাকগুলোর উপরে যে আবরন থাকে তা খুব পাতলা ধরনের হয়ে ফলে সেই প্লাক ফেটে গিয়ে রক্তে প্লাক থেকে বের হওয়া চর্বি ছড়িয়ে পড়ে । ফলে যদি হৃদধমনীতে প্লাক ফেটে যায় তাহলে হার্ট অ্যাটাক হয় ।
যখন অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস হৃদধমনীকে আক্রান্ত করে তখন একে বলা হয় করোনারী আর্টারী ডিজিজ । এখানে হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগ বলতে করোনারী আর্টারী ডিজিজ ই বোঝানো হয়েছে ।
যেহেতু রক্তে উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল হৃদ ধমনী বা করোনারী আর্টারীকে আক্রান্ত করে তাই কোলেস্টেরল হৃদরোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয় ।
হৃদরোগের রিস্ক ফ্যাক্টরসমূহ
কিছু ঝুঁকি আছে যা আমরা পরিবর্তন করতে পারি না । আর কিছু ঝুঁকি আছে যা আমরা পরিবর্তন করতে পারি , আশার কথা অধিকাংশ হৃদরোগের ঝুকিই আমরা পরিবর্তন করতে পারি ।
যে ঝুঁকি গুলো পরিবর্তন করা যায় না
৪৫ বছরের বেশী বয়স ।
পরিবারে রক্ত সম্পর্কিয় নিকটজনের কম বয়সে হৃদরোগের ইতিহাস ।
যে ঝুঁকি পরিবর্তন করা যায়
ধূমপান
উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ কোলেস্টেরল
অতিরিক্ত ওজন
আয়েশী জীবন – হাঁটাচলা কম করা
ডায়াবেটিস

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে আগস্ট, ২০১৮ বিকাল ৫:০৯

সনেট কবি বলেছেন: ভাল পোষ্ট।

২৯ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৩৪

খসরু ওয়াহিদ বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে

২| ৩০ শে আগস্ট, ২০১৮ ভোর ৪:৫৫

উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: পোস্ট সম্পুর্ন না। একটা প্রশ্ন ক্রিয়াটিনের সাথে হৃদরোগের সম্পর্ক কতটা? মানে যারা ক্রিয়াটিন ট্যাবলেট থেকে গ্রহন করে সেই ক্রিয়াটিন রেড মীট থেকে পাওয়া ক্রিয়াটিন নয়

৩| ৩১ শে আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১২:২২

খসরু ওয়াহিদ বলেছেন: আমি শুধু কোলেস্টলের ভুমিকার কথাই বলছিলাম ।
আমি জানতে চেয়েছেন ক্রিয়েটিন আর ক্রিয়েটিনিনের ভুমিকার কথা । ক্রিয়েটিনিন হচ্ছে প্রোটিন মেটবলিজমের শেষ প্রোডাক্ট । এটা কিডনি ডিজিজের ডায়াগোনস্টিক টুল , হৃদরোগের সাথে সরাসরি সম্পর্ক নাই যদিও কিডনির সাথে হাইপারটেনশনের সরাসরি সম্পর্ক আছে ।
আর ক্রিয়েটিন পাওয়া যায় ভার্টিব্রেটদের মধ্যে তারমানে আমাদের দেহেও এটা আছে । ক্রিয়েটিন কাইনেজ নামে একটি এনজাইম আছে যা ক্রিয়েটিনকে ফসফোক্রিয়েটিনে পরিনত করে । এই এনজাইমের আধিক্য ইঙ্গিত দেয় আপনার অদুর ভবিষ্যতে একটি মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট এটাকের সম্ভাবনা আছে । এটি হার্ট ডিজিজের সাথে জরিত।
তবে ক্রিয়েটিন ট্যাবলেটের সাথে আসলে জরিত কিনা আমি জানি না , আমি স্টাডি করে জানাবো

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.