নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি একজন জ্ঞানের ছাত্র, বাঁধাধরা পাঠ-পুস্তক আমাদের জ্ঞানকে সীমিত করে তুলছে। তাই এর বাহিরে বেড়িয়ে এসে আমি জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছি।ধর্মীয়, বিজ্ঞান এবং ইতিহাস বিষয়ক জ্ঞান আমার কাছে সবচেয়ে ভাল লাগে।

মোহাম্মাদ এনায়েত-উল্লাহ

আমি জ্ঞানের ছাত্র

মোহাম্মাদ এনায়েত-উল্লাহ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আল্লাহ তা\'আলা কোথায় অবস্থান করছেন?

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:২০

আসসালামু আলাইকুম।

একজন মুমিন-মুসলিম হিসেবে আমাদের এটি অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে আমাদের স্রষ্টা কোথায়। এখন আল্লাহ তা'আলা কোথায়? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সমাজের মানুষের কাছে ভিবিন্ন রকমের পাবেন, কেউ বলবে তিনি সাত আসমান উপরে আছেন, কেউ বলবে তিনি মুমিনের কলব বা অন্তরে আছেন, কেউ বলবে তিনি সবস্থানেই আছেন। এখন কোনটি সঠিক ?? এর সঠিক উওর অবশ্যই আল্লাহ তা'আলাই দিতে পারবেন। এবং তা ওহী অর্থাৎ কুর'আনের মাধ্যমেরই আমরা জানতে পারবো। তাহলে দেখি কুর'আনে আল্লাহ তা'আলার অবস্থান সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা সবকিছু অর্থাৎ সব সৃষ্টির উপরে অর্থাৎ আরশের উপরে আছেন। দলিলঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

১।

الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى
“দয়াময় আল্লাহ আরশের উপর সমুন্নত হয়েছেন।” (সূরা ত্বহা আয়াত: ৫)

{اسْتَوَى} ইস্তাওয়া এর অর্থ: প্রখ্যাত তাবিঈ আবুল আলিয়াহ বলেছেন: ইস্তাওয়া অর্থ ইরতাফা’য়া। অর্থাৎ তিনি উঁচু হল। ইস্তাওয়া ইলাস্ সামায়ে এর অর্থ: তিনি আকাশের উপর আরশ এর উপর সমুন্নত হলেন। প্রখ্যাত তাবিঈ মুজাহিদ বলেছেন: ইস্তাওয়া অর্থ ‘আলা। এর অর্থ সে সমুন্নত হল। ‘আলা আলাল আরশে এর অর্থঃ তিনি আরশের উপর সমুন্নত হলেন। দেখুন: সহীহ বুখারী। (বাবু ওয়া কানা আরশুহু ‘আলাল মায়ে অর্থাৎ তাঁর আরশ পানির উপর আছে।)

২।

وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ
“আল্লাহ তিনিই উপাস্য আসমানে এবং জমিনের উপরে। তিনি তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য জানেন। তিনি আরও জানেন তোমরা (ভাল- মন্দ) যা কর। (সূরা আন’আম, ৬ আয়াত: ৩)।

এ আয়াতে في ফী على ‘আলার এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থ তিনিই আসমান সমূহের উপরে আছেন।”

৩।

بَلْ رَفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا
”বরং আল্লাহ তাঁকে( ঈসা আলাইহিস্ সালামকে) উঠিয়ে নিয়েছেন তাঁর নিজের কাছে। আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞানয় (সূরা নিসা: ৪, আয়াত: ১৫৮)

৪।

تَعْرُجُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ إِلَيْهِ فِي يَوْمٍ كَانَ مِقْدَارُهُ خَمْسِينَ أَلْفَ سَنَةٍ
“ফিরিশতাগণ এবং রূহ ( জিবরাঈল) তাঁর (আল্লাহ) দিকে উঠেন, এমন দিনে যার পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছর।” (সূরা মা’আরিজ ৭০, আয়াত: ৪)

৫।

يَخَافُونَ رَبَّهُمْ مِنْ فَوْقِهِمْ وَيَفْعَلُونَ مَا يُؤْمَرُونَ
তাঁরা (ফিরিশতারা) তাঁদের উপর তাঁদের প্রভূকে ভয় করে, আর তাঁদেরকে যা আদেশ দেয়া হয় তা পালন করে। (সূরা নাহল: ১৬, আয়াত: ৫০)

৬।

أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ
“তোমরা কি নিশ্চিত আকাশের উপর যিনি আছেন, তিনি তোমাদেরসহ ভূমি ধসিয়ে দিবেন না। অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে।” (সূরা মুলক: ৬৭, আয়াত: ১৬)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন দাসীকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন:

«أَيْنَ اللهُ؟» قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «مَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللهِ، قَالَ: «أَعْتِقْهَا، فَإِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ»
“আল্লাহ কোথায়? দাসী বলল: আসমানের উপরে। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি কে? দাসী বলল: আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: একে আজাদ (মুক্ত) করে দাও, কেননা সে একজন মুমিনা নারী।” (সহীহ মুসলিম: ১২২৭)

ইমাম আবু হানীফাহ (র)-এর উক্তি:

ইমাম আবু হানীফাহ রহ. বলেন,

«من قال: لا أعرف ربي في السماء أو في الأرض فقد كفر، وكذا من قال: إنه على العرش ولا أدري العرش أفي السماء أو في الأرض، والله تعالى يُدعى من أعلى لا من أسفل» [الفقه الأكبر (1/135)]

“যে ব্যক্তি বলবে, আমি জানি না, আমার রব আসমানে না জমিনে - সে কাফির। অনুরূপ (সেও কাফির) যে বলবে, তিনি আরশে আছেন, তবে আমি জানি না, ‘আরশ আসমানে না জমিনে। (আল ফিকহুল আকবার: ১/১৩৫)


ইমাম মালিক (র)-এর উক্তি:

তার ছাত্র ইয়াহইয়া ইবন ইয়াহইয়া বলেন, একদা আমরা ইমাম মালিক ইবন আনাস রহ. এর কাছে বসা ছিলাম, এমন সময় তার কাছে এক লোক এসে বলল,
«يا أبا عبد الله، (الرحمن على العرش استوى)، كيف استوى؟ قال: فأطرق مالك رأسه، حتى علاه الرحضاء، ثم قال: الاستواء غير مجهول، والكيف غير معقول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وما أراك إلا مبتدعاً، فأمر به أن يخرج. وفي رواية: الاستواء معلوم والكيف غير معلوم، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة. [الاعتقاد للبيهقي (1/67)، حاشية السندي على ابن ماجه (1/167)، حاشية السندي على النسائي (6/38)، مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح (2/17، و13/89)]

“হে আবু ‘আব্দুল্লাহ! (মহান আল্লাহ বলেন) ‘‘রহমান (পরম দয়াময় আল্লাহ) ‘আরশের উপর উঠেছেন” (সূরা ত্বাহা: ২০:৫)। এই উপরে উঠা কীভাবে? এর রূপ ও ধরণ কেমন? প্রশ্নটি শোনামাত্র ইমাম মালিক (র) মাথা নীচু করলেন, এমনকি তিনি ঘর্মাক্ত হলেন: অতঃপর তিনি বললেন: ইসতিওয়া শব্দটির অর্থ (উপরে উঠা) সকলের জানা, কিন্তু এর ধরণ বা রূপ অজানা, এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এর ধরণ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা বিদ‘আত। আর আমি তোমাকে বিদ‘আতী ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না। অতঃপর তিনি (র) তাকে মজলিস থেকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। (ইতিকাদ লিল বাইহাকী ১/৬৭, হাশিয়াতুস সিন্ধী ‘আলা ইবনি মাজাহ ১/১৬৭, মিরকাতুল মাফাতীহ ২/১৭, ১৩/৮৯)।


ইমাম শাফি‘ঈ (র)-এর উক্তি:

«وأن الله على عرشه في سمائه» تهذيب سنن أبي داود، وإيضاح مشكلاته (2/406).

আর নিশ্চয় আল্লাহ আসমানের উপরে স্বীয় আরশের উপর উঠেছেন। (তাহযীবু সুনানে আবী দাউদ ২/৪০৬)


ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল (র)-এর উক্তি:

মুহাম্মাদ ইবন ইবরাহীম আল-কাইসী বলেন, আমি ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বলকে জিজ্ঞেস করলাম,
«يُحكى عن ابن المبارك أنه قيل له: كيف يُعرف ربنا؟ قال: في السماء السابعة على عرشه، قال أحمد: هكذا هو عندنا» تهذيب سنن أبي داود وإيضاح مشكلاته (2/406).

“এ মর্মে ইবনুল মুবারাক (র)-কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘‘আমাদের রবের পরিচয় কীভাবে জানবো? উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘সাত আসমানের উপর ‘আরশে। (এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?) ইমাম আহমাদ (র) বললেন, ‘‘বিষয়টি আমাদের নিকট এ রকমই। (তাহযীবু সুনানে আবী দাউদ ২/৪০৬)


উল্লিখিত দলীল-প্রমাণাদি দ্বারা মহান আল্লাহ তা‘আলার পরিচয় অবস্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.