| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আরাফাত শাহরিয়র
আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা- প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস! আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর, আমি দুর্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল! আমি মানি না কো কোন আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন!
যৌতুক। দেশের গণমাধ্যম-গুলোয় অহর্নিশ গণসচেতনতামূলক প্রচারে অধিকাংশ শিক্ষিত মানুষ, চক্ষু লজ্জায় কিংবা উপলব্ধিতেই, প্রকাশ্যে যৌতুকের বিপক্ষে নিজের অবস্থান দাবি করলেও তাদের অনেকেই কিন্তু লোভের লালাভ আকাঙ্ক্ষা স্বাদরে লালন করে তথাকথিত শিক্ষিত হৃদয়ের আরক্ত সিন্ধুকে। এবং এর ঝাঁপি খুলে শুধুই রীতির কোলে, লোকচক্ষুর অন্তরালে, পরিবার-দ্বয়ের বিবাহ-পূর্ব পারিবারিক সমঝোতার বৈঠকে। অবশ্যই এটা সত্যি যে অন্তত শহুরে মানুষের এবং বিশেষ করে শিক্ষিত মানুষের অবস্থান, চোখের শরমের অভ্যস্ততাতেই হোক আর সত্যিকার অর্থেই হোক, এখন যৌতুকের বিপক্ষে। শিক্ষিত প্রমাণে যৌতুক বিদ্বেষের আবেশ গ্রামে গঞ্জেও পৌঁছেছে। ভেতরে ভেতরে যত লালসাতেই রক্তাভ হয়ে থাকুক না কেন, কিংবা সুযোগ বুঝে গোপনে লোভের লিকলিকে জিভ যতই বেরিয়ে পরুক না কেন, অন্তত প্রকাশ্যে লোভী বর্ণচোরারা লক্ষ্মী গিরগিটি হয়ে রং বদলে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে রীতিমত চমকে দেওয়া যে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে দিনে দুপুরে সংস্কারের, রীতিনীতির নামে এখনো যৌতুক প্রথা সুপ্ত লাইফ সাপোর্টে নয়, বরং সুস্থ ফুসফুসে নিঃশ্বাস ফেলে কন্যার “অধিকার ছাড়িয়া দিয়াও” দায়গ্রস্ত পরিবারের ঘাড়ে।
শুধু আঞ্চলিক রীতির এক অদ্ভুত তকমা সাটা আছে তাই পুরাদস্তুর যৌতুক হয়েও যৌতুকের অপবাদ পায় না। লোকচক্ষুর/লজ্জার অন্তরালে নয় বরং এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের (শিক্ষিত ও অশিক্ষিত) মাঝে স্বীকৃত-ভাবেই ভিন্ন নামে কিংবা নামবিহীন অবস্থায় বেঁচে আছে বিবাহ পরবর্তী যৌতুক প্রথা। এই যৌতুক নেওয়া হয় অতি সুকৌশলে। টাকা নয়, কোরবানির ঈদে কন্যার পরিবারকে ছেলের বাড়ি কখনো পাঠাতে হয় আস্ত গরু, ফলের মৌসুমে বস্তা বস্তা ফল, বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে চাঙ্গাড়ি ভরা মাছ এবং আরও নানা ভাবে চলে এই যৌতুক আদায়। যৌতুক আদায়ের এ এক সুকৌশলী ঐতিহ্যবাহী ফন্দি! এই অনাচারের নকশা ও ভিত্তি এতই সুচারু রূপে অঙ্কিত ও প্রোথিত যে এই দায়বদ্ধতা শুধু অর্থকড়ির সামর্থ্যে নয়, বরং সামাজিক মর্যাদার সাথে বেঁধে দেওয়া। এতে কোন জোরজবরদস্তি নেই, কিন্তু পালনে ব্যর্থতা, হেঁচড়ে টেনে নিয়ে যাবে অপারগের মর্যাদা।
ছোট কাল থেকেই দেখে এসেছি নববিবাহিত বড় ভাইয়ের বদৌলতে চট্টগ্রাম-বাড়ি বন্ধুদের বাসার সামনে দুটি গরু বাঁধা। একটি নিজেদের কেনা। আরেকখান মেয়ের বাবার পাঠানো। নিজেদেরটা দুবলা-পাতলা। আর মেয়ের (ভাবির) বাবারখানা মোটাতাজা। আমাদের অফিসের গাড়ি চালায় যে ড্রাইভার, সে আস্ত গরু না হোক, প্রচুর মাংস পাঠানোর, তার অর্থনৈতিক-মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে গেলেও, সংস্কার পালনে মরিয়া। না হলে যে নির্দোষ মেয়েটির মান যাবে শ্বশুর বাড়িতে! নিজেরা কিছু না কিনে, বোনাস সহ বেতনের প্রায় সবটা দিয়ে তাই সংস্কার পালন করতেই হয়। এতে শ্বশুর বাড়ির মানুষকে দুষতেও পারে না কারণ কেউই মুখ ফুটে চায় না যদিও নাসিকা উর্দ্ধে তুলে মেয়েটির দিকে তাক করে রাখে বাক্য বান। রীতির নিষ্ঠুর নিয়ম এমন কি মুখ ফুটে চাওয়ার চক্ষু লজ্জাটুকু থেকেও মুক্তি দিয়ে রেখেছে ছেলের পরিবারকে।
শুধু চট্টগ্রাম নয় এইসব শোষণের রীতি আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রেখেছে দেশের সব জেলার মানুষের জীবনকে। নিজে চট্টগ্রামের বাসিন্দা তাই চট্টগ্রাম কে তুলে ধরা।
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:১৫
আরাফাত শাহরিয়র বলেছেন: একেবারে ঠিক কথা। কিন্তু শুধু চট্টগ্রাম নয় মূলত বরং অন্যান্য জেলার মানুষের মাঝেও বিভিন্ন রূপে আছে যৌতুক আদায়। আমি চট্টগ্রামের, তাই চট্টগ্রাম নিয়ে লেখলাম।
২|
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১:৫৭
হাসি .. বলেছেন: যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে জোর দার আন্দোলন গড়ে তুলা প্রয়োজন, সাথে জন সচেতনতাও প্রয়োজন সকলের মনে।
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:১৭
আরাফাত শাহরিয়র বলেছেন: জ্বি, ঠিক।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১:৩১
জিললুর রহমান বলেছেন: যৌতুক প্রথা চট্টগ্রামের মানুষের রক্তে মিশে আছে; কি শিক্ষিত কি অশিক্ষিত সবাই।