নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন মানুষ

সোনালী ঈগল২৭৪

সোনালী ঈগল২৭৪ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির সম্ভাব্য ভয়াবহতা

২৩ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১২:৩০


লেখাটি শুরু করবার আগে আমি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে পাঠককে কিছুটা ধারণা দিতে চাই , যদিও আপনারা ইতিমধ্যেই এই ভাইরাস সম্পকে বিস্তারিত জেনেছেন , করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস - যা আগে মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। এই ভাইরাস সর্বপ্রথম ১৯৬৫ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল , কিন্তু এই ভাইরাসের কারণে এর আগে পৃথিবীতে কোনো সংক্রমণ হয়নি ,করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, বর্তমানে আমাদের পৃথিবী করোনা ভাইরাসের যে প্রজাতির করাল গ্রাসে পর্যুদস্ত ও বিদ্ধস্ত তা হচ্ছে নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯। করোনা গ্রূপের আরো কয়েকটি প্রজাতির ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে , যেমন ২ ০ ০ ২ সালের দিকে ব্যাপক আকারে মহামারী সৃষ্টিকারী সার্স ভাইরাস ছিল একধরণের করোনা ভাইরাস , কোভিড-১৯ এর জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে এর সাথে সার্স ভাইরাসের প্রচুর মিল রয়েছে । কিন্তু এর সংক্রমণ ক্ষমতা ক্ষমতা সার্স এর চেয়ে বহুগুনে বেশি , ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে , এবং এর লক্ষণ মূলত জ্বর , কাশি ও শ্বাসকষ্ট , মারাত্মক পর্যায়ে রোগী মারাত্মক নিউমোনিয়াতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে ।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যাক্তির একটি নতুন মৃত্যুঝুঁকি যা সনাক্ত হয়েছে তা হচ্ছে , শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সক্রমণ বেড়ে যাওয়া , সাধারণত করোনা একটি ভাইরাস , এটি যখন মানুষের শরীরকে আক্রান্ত করে তখন শরীরের সমস্ত ইমিউন সিস্টেম ভাইরাসের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে যায় । এই ফাঁকে শরীরে বিভিন্ন মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সক্রমণ হয়ে রোগীকে আরো দুর্বল করে ফেলে যার ফলে রোগী দ্রুত মারা যায় , সুতরাং পাঠকবৃন্দ একবার ভেবে দেখুন করোনা কি পরিমানে ভয়াবহ একটা ব্যাধি !!!!!

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সন্ধান সর্বপ্রথম এই মাসের মাঝামাঝি সময় সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয় যখন ইতিমধ্যেই করোনা কমিউনিটিতে তার বিস্তার শুরু করে দিয়েছে । কোভিড-১৯ এর ব্যাপকতা চীন এ প্রথম ভালোভাবে বোঝা যায় জানুয়ারি এর মাঝামাঝি সময়ে , ঘনবসতি পূর্ণ দেশ হিসেবে সরকারের উচিত ছিল প্রথম থেকেই এই ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে যাওয়া , দেশে বিদেশী নাগরিক ও প্রবাসীদের আগমনের উপর নজরদারি তখন থেকেই শুরু করা দরকার ছিল , এবং এখনকার মত কোয়ারেন্টাইন সিস্টেম যদি তখন থেকেই সরকার চিন্তাভাবনা করতো তাহলে কিন্তু কমিউনিটি পর্যায়ে এখনকার মত এতো ঝুঁকির সৃষ্টি হতো না । আপনারা হয়তো ভেবে থাকবেন যে বাংলাদেশের মত একটা দেশে কখনোই কোনো ব্যাপারে এতো সতর্কতা কখনোই দেখায়নি !!! এবং জাতিগত ভাবে এসব চিন্তাভাবনাকে আমরা শুচিবায়ুগ্রস্ততা হিসেবে বলে থাকি , কিন্তু ভাই বিষয়টা অন্য কিছু নয় , এটা একটা মহামারী , জনসংখ্যার ঘনত্ব বিচারে আমরা পৃথিবীর সবচাইতে জনবহুল দেশ । যেকোনো মহামারীতে আমাদের পর্যুদস্ত হবার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি , তাই পূর্ববর্তী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছাড়া আমাদের রক্ষা পাবার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ !!!!

এখন আসা যাক আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি কেমন , সবার জেনে রাখা ভালো আমাদের দেশে করোনা প্রথম সরকারিভাবে ধরা পরে এই মাসের মাঝামাঝি কিংবা শুরুর দিকে তার মানে গত ফেব্রুয়ারি মাসেই আমাদের দেশে করোনা ঢুকে গিয়েছিলো । তখন থেকে শুরু করে যদি আমি এই মাসের মাঝামাঝি সময়টাকে ধরি তাহলে বলবো ভাইরাসটি তার প্রাথমিক "exponential phase of growth" এ ছিল , এখন যে পর্যায়টি চলছে তা হচ্ছে "spreding phase " অর্থাৎ ভাইরাসটি ইতিমধ্যেই কমিউনিটিতে ছড়ানো শুরু করে দিয়েছে , এবং এর পরবর্তী তৃতীয় ধাপে "active state" এ ভাইরাস তার চরম ব্যাপকতা নিয়ে একটিভিটি শো করবে , যেটা কিনা হতে পারে সবচাইতে ভয়াবহ !!!!

করোনা তার বিষাক্ত ছোবল ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে দিতে শুরু করেছে । এই মুহূর্তে সরকারকে যা করতে হবে তা হচ্ছে করোনা নির্ণয় এবং শুধুই করোনা নির্ণয়ের ব্যবস্থা গ্রহণকরা একং যা কিনা অতি ব্যাপক আকারে এবং ব্যাপক মাত্রায় এবং দ্রুতগতিতে , বাংলাদেশের বিভিন্নজায়গায় ব্যাপক মাত্রায় করোনা নির্ণয়ের ব্যাবস্থা গ্রহণ ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কমাতে পারবে । বর্তমানে রোগনির্ণয় ব্যবস্থা শুধুমাত্র আইইডিসিআর ভিত্তিক , এবং তাদের নির্ণয়ের গতি ভীষণভাবে শ্লথ এবং তারা আগেই জেনে নেয় রোগী কোনো প্রবাসী আত্মীয় কিংবা প্রতিবেশীর সস্পর্শে এসেছিলো কিনা !!! এই মুহূর্তে এর চেয়ে বড় কান্ডজ্ঞানহীনতা আর হতে পারে না !!! আরে ভাই আমাদের বুঝতে হবে যে করোনা কমিউনিটিতে ঢুকে গেছে , আপনি আজ বাজারে যাচ্ছেন , আপনার পাশ দিয়ে যে হেটে যাচ্ছে সে প্রবাসী কিনা আপনি কি করে জানবেন ??? আপনি মসজিদে যার পাশে নামাজ পড়ছেন কিংবা হোটেলে ঢুকে কিংবা বাস এ যার সাথে সিট্ শেয়ার করছেন সে প্রবাসী কিনা আপনি জানবেন কিভাবে ??? বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে রেমিট্যান্স নির্ভর দেশ , যার জন্য সারা বছরই এদেশে প্রবাসীদের আনাগোনা থাকে , আর শুরু থেকেই তো আমরা তাদের কোয়ারেন্টাইন এর বাহিরে রেখেছি , এখন খুঁজে খুঁজে কোয়ারেন্টাইন করলে কি হবে !!!! যা হবার তা তো আগেই হয়ে গিয়েছে !!! প্রাদুর্ভাব শুরুর পর কোয়ারেন্টাইন শুরু করা ছিল মস্ত বড় ভুল যা পরে বোঝা যাবে !!!!!! চীনের খুব কাছের দেশ তাইওয়ান কিংবা ভিয়েতনাম এবং যুদ্ধবিধ্স্ত দেশ ফিলিস্তিনে কিন্তু করোনা আক্রান্তের হার একেবারেই কম কারণ তাদের সতর্কতামূলক কোয়ারেন্টাইন আগে থেকেই শুরু করে দেয়া ।

বাংলাদশে সরকারি হিসেবে করণে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা এখনো ২ , কয়েকদিন আগে মিরপুরের তোলারবাগে এক বৃদ্ধরোগী করণে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলো , সেই ভদ্রলোকের কোনো নিকটাত্মীয় কিন্তু বিদেশ থেকে আসেনি , এবং এই কারণে আইইডিসিআর তার পরীক্ষাও করাতে চাননি , এই ভুলের ফলস্বরূপ বৃদ্ধ মারা গেলো , তার পরিবারের সকলেই এখন করোনা ঝুঁকিতে , তার একজন ঘনিষ্ট বন্ধু যার সাথে কিনা মারা যাওয়া বৃদ্ধের দেখাসাক্ষাৎ ও মেলামেশা ছিল , সেও গতকাল সন্ধ্যায় মারাত্মক শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে , তার ক্ষেত্রেও কিন্তু করোনা পরীক্ষা করা হয়নি , এভাবে তার পরিবার ও করোনা ঝুঁকিতে চলে গেলো । এরপর প্রথম মারা যাওয়া বৃদ্ধকে চিকিৎসা প্রদানকারী ডেল্টা হাসপাতালের ডাক্তার সেও কিন্তু মারাত্মক শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালের আইসিইউ তে আছে এবং তার অবস্থা ভালো নয় , ধারণা করা হচ্ছে ওই ডাক্তারও করোনা আক্রান্ত , তা হলে সেই ডাক্তারের পরিবারের সবাই করোনা ঝুঁকিতে । গতকাল সিলেটে লন্ডনপ্রবাসী এক নারী একইরকম শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে মারা যায় এবং পরে জানা যায় যে সে করোনা আক্রান্ত ছিল , একইভাবে খুলনায় দুইজন মারাত্মক নিউমোনিয়া ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় !!! এদের কারোরই কোনো শ্বাসকষ্ট কিংবা আজমের ইতিহাস ছিল না , এখন তারা যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে তাহলে তাদের পরিবার থেকে শুরু করে লাশের দাফন পর্যন্ত যারা উপস্থিত ছিল , তারা সবাই ঝুঁকিতে আছে । একইভাবে তারা আরো লোকের সাথে মিশবে আরো লোক অজান্তে ঝুঁকির মধ্যে পরে যাবে !!!! দেখুন ১০ জন মেলামেশা করে ২ ০ জনের সাথে , ২ ০ জন মিশবে ৪ ০ জনের সাথে !!!! এভাবেই অশনাক্ত অবস্থায় হয়তো আমরা খুব শিগ্রই শ্বাসকষ্ট ও জ্বরজনিত অনেক মৃত্যু দেখতে পাবো !!!! এখন থেকেই বোঝা যায় রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থাগ্রহণ কতটা জরুরি !!!!!

করোনা টেস্টকীটের জন্য আমরা এখন চীনের দিকে তাকিয়ে আছি , আমাদের দেশেও গণস্বাস্থ্যের ড. বিজনকুমারের নেতৃত্বে টেষ্টকীটে ডেভেলপ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে , কিন্তু ড. বিজনকুমার তার গবেষণা কর্রেছিলেন ২০০৪ সালে তার করা সার্স ভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্সিং এর রেফারেন্সের আলোকে , কিন্তু এটি নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯, সার্স করোনা ভাইরাস হলেও এর সাথে কোভিড-১৯ এর জিনগত ব্যাপক বৈসাদৃশ্য আছে । এই টেষ্টকীটে খুব একটা কাজে লাগবে বলে মনে হয় না !!!! তাই সরকারের উচিত প্রাথমিকভাবে ব্যাপক টেষ্টকীটে আমদানি করে দেশের আনাচে কানাচে রোগনির্ণয়ের ব্যবস্থা করা এবং উপজেলা লেভেলের হাসপাতালগুলোকে এর জন্য তৈরী করা , একজন বায়োটেক গবেষক হিসেবে যা বলতে এই মুহূর্তে টেষ্টকীট আমাদের দেশে তাৎক্ষণিক ডেভেলপমেন্ট এর ব্যবস্থা করা একান্ত অপরিহার্য , এই জন্য সরকার আমাদের দেশের প্রথিতযশা বায়োটেকনোলোজিস্ট এবং গবেষকদের নিয়ে একটা প্লাটফর্ম তৈরী করতে পারেন , জানামতে আইসিডিডিআরবি ছাড়া আমাদের দেশে ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করার কোনো ল্যাবরেটরি নেই , সরকার একটি রিসার্চ গ্রূপ গঠন করে দিয়ে আইসিডিআরবির এর ল্যাবরেটরি কে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে গবেষকদের টেষ্টকীট ডেভেলপ করার উদ্যোগ নিতে পারে । আর এটা হবে যুগোপযুগী সিদ্ধান্ত , এই মুহূর্তে সরকারের যা করা দরকার তা হচ্ছে :

১ . আগেই বলেছি ব্যাপক আকারে করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং তা বিশাল আকারে ।

২ . আমাদের দেশের হাসপাতাল গুলোতে বিশেষ করে সরকারি হাসপাতাল গুলোতে আইসিইউ এর ব্যাপক স্বল্পতা রয়েছে , জেলা পর্যায়ের অবস্থা আরো খারাপ , স্বাস্থখাতের বরাদ্দের তুলনায় এতো অপ্রতুল সুবিধা স্বাস্থখাতে দুর্নীতি নিয়ে যে অভিযোগ তার সত্যতা কি প্রমান করে না ??? সরকারের উচিত এই কঠিন সময়ে আইসিইউ সুবিধার নিশ্চয়তা বিধান করা ।

৩ . হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন সাপ্লাই এর ব্যবস্থা করা , এই ব্যাপারে সরকারকে এখন থেকেই চিন্তা ভাবনা করতে হবে , কারণ করণে মরণাপন্ন রোগীর একটাই আকুতি থাকে তা হচ্ছে বুকভরে একটু শ্বাস নেয়া !!! ব্যাপকমাত্রায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ছাড়া এটা সম্ভব নয় , সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতাল গুলোতে অস্থায়ী ভাবে কিছু অক্সিজেন তাঁবুর ব্যবস্থা করাটাও জরুরি ।

৪ . সর্বোপরি সব ধরণের জনসমাগম বন্ধের ব্যবস্থা করা উচিত , আইইডিসিআর এর পরিচালক প্রতিদিন জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন করছেন ! মন্ত্রীরা প্রেস ব্রিফিং করছেন অনেক সাংবাদিক নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে , অবশ্যই এটা পরিহার করতে হবে ।

৫ . করোনা একটা ব্যাধি , মহামারী ব্যাধি , এটাকে মোকাবেলায় রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা পরিহার করে বিজ্ঞানসম্মত চিন্তা করতে হবে , যে জিনিসটা নেগেটিভ তাকে নেগেটিভ হিসেবে নিয়ে তাকে মোকাবিলা করতে হবে , কোনোকিছুকে জ্ঞাতসারে পাশ কাটিয়ে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয় , অবস্থা যদি ভয়াবহ হয় তাহলে সেই ভয়াবহতার চিত্রই তুলে ধরতে হবে , এটা কিন্তু ডেঙ্গু নয় !!!


সাধারণ জনগনের জন্য এই মুহূর্তে যা করণীয় তা হচ্ছে :

১ . আপনার শরীরের সেলফ ডায়াগনোস আপনাকেই করতে হবে , আপনার শরীরে করোনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কোনো লক্ষণ দেখা দিলে আপনার নিজ থেকেই আপনাকে কোয়ারেন্টাইন এ যেতে হবে ।

২ . এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে , নিজেকে যতটা সম্ভব আইসোলেশন এ রাখা , কাজের তাগিদে কিংবা জীবিকা নির্বাহের জন্য আইসোলেশন হয়তো সম্ভব নয় সবসময় তার পরেও যতটা সম্ভব গণপরিবহন এড়িয়ে চলুন , আপনার নিকটবর্তী দুরুত্বে হলে , হেটে কিংবা রিক্সা কিংবা সিএনজি ব্যবহার করতে পারেন । এগুলো যদিও ঝুঁকিমুক্ত নয় কিন্তু আমাদের পাবলিক বাসের চেয়ে ঝুঁকি কিছুটা কম এক্ষেত্রে , রিক্সা কিংবা সিএনজিতে উঠলে আগে ভালোমতো নিশ্চিত হয়ে নিন যে চালকের করোনা সম্পর্কিত কোনো লক্ষণ আছে কিনা , এবং অবস্যই মুখে মাস্ক এবং হাতে হ্যান্ডগ্লোভস ব্যবহার করবেন । যাদের নিতান্তই বাস ছাড়া গতি নেই , তারা বাস এ উঠে যতটা পারেন কম কথা বলবেন , এমনকি ভাড়া নিয়ে কন্ট্রাক্টর ও হেল্পার এর সাথে বচসা যতটা কম করা যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন , মুখে মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লোভস ছাড়া বাস এ উঠবেন না , বাসা থেকে বের হবার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন , অফিস এ গিয়ে আরেকবার পরিষ্কার করবেন , অযথা হাত মুখের কিংবা নাকের কাছে আনবেনা না ।

৩ . বেশি করে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাবেন এবং শাকসবজি বেশি খাবেন , যা আপনার শরীরে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাড়িয়ে দিবে ।

৪ . সামনেই আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস ও আগামী মাসেই পহেলা বৈশাখ , ধারণা করা হচ্ছে এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি জটিল হবে , যদিও সরকার স্বাধীনতা দিবসের সব অনুষ্ঠান বাতিল করেছে তারপরেও , ব্যাক্তিগতভাবে আপনি স্মৃতিসৌধ , মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কিংবা আরো জনাকীর্ণ যেসব জায়গা আছে সেগুলো এড়িয়ে চলবেন , কারণ আপনার নিরাপত্তা ও চলাচলের বিধান আপনাকেই ঠিক করতে হবে , একই ভাবে সরকারের উচিত পহেলা বৈশাখের মঙ্গোল শোভাযাত্রা ও রমনা বটমূলের অনুষ্ঠান জনস্বার্থে স্থগিতের ব্যবস্থা নেয়া ।

৫ . যদিও এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ তারপরেও অনেককে দেখা যাচ্ছে দলবেঁধে ভ্রমণ করতে কিংবা গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতে , এটা মোটেও করবেন না , কারণ সরকার আপনাকে ছুটি দিয়েছে ঘরে থাকার জন্য , বেড়াতে নয় ।

৬ . আমাদের সামাজিকতার নিয়ম অনুসারে কেউ অসুস্থ হয়ে বাসায় থাকলে কিংবা হাসপাতালে ভর্তি হলে তাকে দেখতে যাবার একটা রীতি চালু আছে , কেউ না গেলে তাকে পারিবারিক ভাবে হেয় করা হয় , করোনার এই দিনগুলোতে এসব সামাজিক আচার ব্যবহার আপাতত এড়িয়ে চলুন ।

৭. আপনি যদি শ্বাসকষ্ট কিংবা ডায়াবেটিস এর রোগী হয়ে থাকেন আপনাকে বাড়তি স্ট্রোক থাকতে হবে এবং নিজে থেকেই আইসোলেশন থাকা সবচাইতে ভালো

৮ . সংখ্যাগরিষ্ঠ ও ধর্মপ্রাণ মুসলিম দেশ হিসেবে আমাদের একটা আলাদা পরিচিতি আছে এবং ইসলামের আবশ্যিক ফরজ হিসেবে বিনা ওজরে আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা আবশ্যিক , কিন্তু এখন সারা পৃথিবীতেই একটা দুর্যোগ মুহূর্ত চলছে , মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের করুনা ছাড়া এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় , এই দুর্যোগময় মুহূর্তে পবিত্র কাবা শরীফের তাওয়াফ স্থগিত করা হয়েছে , মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের সকল মসজিদ আপাতত বন্ধ আছে , মসজিদ এ জামাত এ নামাজ আদায় প্রত্যেক ধর্মপ্রাণ মুসলিমের একান্ত ব্যাক্তিগত বিষয় , আশা করি তারা তাদের নিজ নির্জন বুদ্ধিবিবেচনা বশত তাদের ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নেবেন ।

৯ . চিকিৎসক সমাজের উদ্দেশে বলতে চাই , যে মানুষের কল্যাণের জন্য নিজের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের শপথ নিয়েই আপনারা এই পেশায় এসেছেন , পৃথিবী এখন একটি ভয়াবহ মহামারীর কাল অতিক্রম করছে , অনেক দেশের ডাক্তাররাই এই পরিস্থিতে তাদের নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছেন আক্রান্ত ব্যাক্তির চিকিৎসায় , ইতালিতে অকাতরে ডাক্তাররা বিরামহীন ভাবে রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন , কেউ কেউ মৃত্যুকে মেনে নিচ্ছেন , চীন থেকে বিশেষজ্ঞ টিম বিভিন্ন দেশে গিয়ে ভলান্টিয়ার সাপোর্ট দিচ্ছেন , কিউবা থেকে চিকিৎসক দল ইতালিতে উপদ্রুত এলাকায় গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছেন , তারা নিজেদের বিপ্লবী চিকিৎসক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন , বাংলাদেশে আমাদের চিকিৎসকদের ও উচিত রোগীর কল্লানে এগিয়ে আসা , কারণ মহামারী আক্রান্ত রোগীর শেষ ভরসা আপনারা ডাক্তাররা , রোগকে ভয় নয় বরং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাহসের সাথে রোগকে জয় করুন ।

সবশেষে বলতে চাই , করোনা কোনো যুবক বৃদ্ধ বাছবিচার করে না , এটা কোনো শীত গ্রীষ্ম মানে না , এটা কোনো সাধারণ ফ্লু নয় , এটা ছোয়াচে ঘাতক মহামারী ব্যাধি । তাই এ সম্পর্কে যেটা সঠিক সরকার এবং দায়িত্বশীলদের উচিত সেটাই মানুষকে জানানো , এটাকে সহজ অসুখ হিসেবে মানুষের নিকট উপস্থাপন মোটেই বুদ্ধিমানের কাজ নয় । সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ পৃথিবীতে করোনার বিলোপ ঘটবে ।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: করোনা সমস্যা নয়, সমস্যা অশিক্ষায়। তার থেকে বেশি কুশিক্ষায়। কাদের সাহেবকে দেখুন। রিজভীকেও দেখুন...

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২২

সোনালী ঈগল২৭৪ বলেছেন: আমাদের সমস্যা আমরা সবকিছুকেই রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলি , আমাদের সমস্যা আমরা সবকিছুকেই রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলি , আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরাও ঠিক তেমনি

২| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৫০

রাজীব নুর বলেছেন: করোনা পরবর্তী দুনিয়ায় ধর্মগুলির উপযোগিতা ব্যাপক হ্রাস পাবে
করোনা শিক্ষায় মানুষ এলাহি ভরসার উপর আস্থা হারাবে
পৃথিবী থেকে ধর্মান্ধতা, গোড়ামি লোপ পাবে
বিজ্ঞান প্রযুক্তিই হবে একমাত্র ভরসা ।

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৫

সোনালী ঈগল২৭৪ বলেছেন: বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ ছাড়া যেমন মানব সভ্যতা অচল , ঠিক তেমনি মানুষের জীবনকে সুশৃঙ্খল আর স্থিতিশীল জীবনাচরণের জন্য ধর্মের ও বিকল্প নেই , সমস্যা হচ্ছে ধর্মকে মানুষের ব্যাক্তিগত স্বার্থ অথবা গোষ্ঠীগত স্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে যখন ব্যবহার করা হয়

৩| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৫৭

চাঁদগাজী বলেছেন:



গরুর রচনা মুখস্হ রয়ে গেছে এখনো?

৪| ২৩ শে মার্চ, ২০২০ বিকাল ৪:৫৭

নেওয়াজ আলি বলেছেন:

২৫ শে মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:২৬

সোনালী ঈগল২৭৪ বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য , দেরিতে উত্তরের জন্য দুঃখিত , কাকের ছবির মানে বুঝলাম না

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.