নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর ॥

অর্ক

...

অর্ক › বিস্তারিত পোস্টঃ

কারিনা কায়সারের মৃত্যু, সোশাল মিডিয়া ও কিছু কথা

১৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০৬



কারিনা কায়সারের মৃত্যু দুঃখজনক। কষ্ট পেয়েছি। তার দাদি দাবার জীবন্ত কিংবদন্তি রানি হামিদ সকলের পরিচিত। বহুবার টুর্নামেন্ট খেলতে দেখেছি। অমায়িক মানুষ। কারিনার বাবা কায়সার হামিদও স্বনামধন্য ফুটবলার। মোহামেডান ও জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ছিলেন। খুব ছোটোবেলায় টিভিতে ম্যাচ দেখেছি। কারিনার মৃত্যুতে সোশাল মিডিয়ায় অনেককে উল্লাস করতে দেখে আমি হতাশ, দুঃখিত। এটা ভুল। সেই সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক। অবশ্য সোশাল মিডিয়াকে সেভাবে গুরুত্ব দেবার কিছু নেই। অনেকেই তীব্রভাবে রাগ, ক্ষোভ, হতাশার প্রকাশ করে থাকে। যা কখনও কখনও সীমা ছাড়িয়ে যায়। তারপরও মৃত্যু কিছুতেই উল্লাসের উপলক্ষ্য হতে পারে না। অতিশয় দৃষ্টিকটু ও অমানবিক। জীবন চলার পথে ভুলত্রুটি হয়; থেকে যায়। না চাইলেও হয়। আমরা সবাই আছি এর মাঝে। একই মানুষ কারও কাছে শয়তান তো কারও কাছে ফেরেশতা। একইভাবে ২৪ এর জুলাইয়ে বিভিন্ন জঙ্গি, সন্ত্রাসী হামলায় বহু নির্দোষ আওয়ামী লীগ কর্মী ও সাধারণ পুলিশকে পাশবিক উল্লাসে মব করে হত্যা করা হয়েছে। তখনও বহু মানুষ সোশাল মিডিয়ায় সেসব কদর্যভাবে উদযাপন করেছে। আলহামদুলিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলেছে। রংপুরে নিরপরাধ সাধারণ আওয়ামী লীগ কর্মীর লাশ গাড়ির সামনে বেঁধে নারকীয় উল্লাসে শহরের চারপাশে প্রদর্শন করা হয়েছিলো। একদল মানুষ আমোদ করেছে, উৎসব করেছে। সারাদেশে এরকম বহু ঘটনা ঘটেছিলো। যা বীভৎস, অমানবিক, নৃশংসতার চূড়ান্ত রূপ। তখনও অগুনিত মানুষ বিভিন্নভাবে উল্লাস করেছে সোশাল মিডিয়ায়, উৎসব করেছে। সংখ্যালঘু উপজাতিদের ওপর ভীষণ অত্যাচার নির্যাতন নেমে এসেছিলো বারবার। বাড়িঘরে আক্রমণ। আগুন। ধর্ষণ। লুটপাট। জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করা। একদল মানুষ সোশাল মিডিয়ায় খুব উল্লাস করেছে, হা হা রিয়্যাক্ট দিয়েছে।

যাই হোক অনেক বকলাম, শেষ করে আনছি। অপরাধীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। তা সে শেখ হাসিনা হোক, আমি হই, যে কেউ। অপরাধ, অপরাধীর পক্ষে নই। ভীষণভাবে আইনশৃঙ্খলা, নিয়মকানুন মেনে চলা নাগরিক আমি। অনৈতিক সুবিধা নেয়া, অসাধুতা, দুনম্বরি, শঠতা চরিত্রে নেই। কারিনা কায়সারের মৃত্যুতে আমি শোকাহত। তার ফেসবুক পেজ ঘুরে এলাম। শূন্যতায় ভরে উঠলো বুক। বিশ্বাস করতে পারছি না তিনি আর নেই। গণভবনে সপরিবারে লুটপাটে অংশ নেয়া, ল্যাপটপ চুরি অবশ্যই ভুল ছিলো। সেটা সমর্থন করি না। বেঁচে থাকলে হয়তো জীবনের কোনও পর্যায়ে তিনি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হতেন। এছাড়াও তীব্র ভারত বিদ্বেষী ছিলেন। দিল্লি না ঢাকা... শ্লোগানে রাজপথ প্রকম্পিত করেছেন বারবার। সেটাও ভুল। ভারত আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বিপদ-আপদে সবসময় পাশে পাই। মুক্তিযুদ্ধে সতেরো হাজার ভারতীয় সৈন্য জীবন দিয়েছে। তাদের অনেকেই তরুণ। সদ্য চাকরিতে ঢুকেছে। একমাসের বেতনও পায়নি। ৭১ এর যুদ্ধ অংশ নেয়া ভারতীয় স্বশস্ত্র বাহিনীর প্রাক্তন সদস্যদের সাক্ষাৎকার, আলোচনা শুনেছি বিভিন্ন সময়। তাদের সে অসীম ত্যাগ, বলিদানকে অস্বীকার করা মানে নিজের মা, মাতৃভূমিকে অস্বীকার করা। আরও বহু ভারতীয় নানাভাবে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুক্তিযুদ্ধে। সবাই ভেবেছিলো ধর্মান্ধতা, কট্টরতার অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে এই অঞ্চলের বাঙালিরা তাদের শেকড়ে ফিরে যেতে চায়। এসময় তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ তাদের বারবার হতাশ করেছে। আদতে পাকিস্তানের থেকেও ধর্মাশ্রয়ী দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সেই একই ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, কট্টর চরিত্রের রাষ্ট্র। যেখানে সংখ্যালঘুদের সীমাহীন অত্যাচার, নির্যাতনের শিকার হতে হয়। সুযোগ পেলেই তারা দেশ ছাড়ে। বিপন্ন হয়ে এক কাপড়ে পালিয়ে আরেক দেশে উদ্বাস্তু হয়। ইসলামি মৌলবাদের যে যাত্রা শুরু হয়েছিলো পাকিস্তানে, স্বাধীন বাংলাদেশেও তা একদিনের জন্যে থামেনি। শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে। সে যাত্রা চলমান। বেশ ক'বছর আগে কোলকাতার কফি হাউজে ওখানকার এক প্রবীণ ভদ্রলোক আলাপকালে বলেছিলো, তোমাদের দেশের মানুষ পাকিস্তানিদের থেকেও সাম্প্রদায়িক, ধর্মান্ধ। ৪৭ এ এরাই বেশি পাকিস্তান পাকিস্তান করে লাফিয়েছিলো। পরিস্থিতির একবিন্দু পরিবর্তন হয় নি। হবেও না। ধর্মের আফিমে বুদ রাষ্ট্র, মানুষ। তিনি শতভাগ ঠিক ছিলেন। আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি।

কারিনা কায়সারের পারলৌকিক সুখ কামনা করি। শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য গভীর সমবেদনা। যারা পড়লেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। সবার জন্য শুভকামনা। সবার কল্যান হোক, শুভ হোক।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

নতুন বলেছেন: যেকোন মৃত্যুই আমাদের কস্ট দেয়।

যারা মৃত্যুর খবর শুনে উল্লাস করে তারা তো মানুষ না। যারা বোধহীন তারা অন্যের কস্ট বুঝতে পারেনা। তাদের অনুভুতি নেই বা ভোতা হয়ে গেছে।

বাবার কাথে সন্তানের লাস এমন ভারী কস্ট দুনিয়াতে আর নাই। আমি আমার সত্রুরও এমন কস্ট কামনা করবো না।

আর যারা গনভবনে লুটপাট করেছে তারাও মূর্খ এবং প্রজ্ঞাবিহীন মানুষ। ঐ দিন অনেকেই দেখেছি মানুষকে বাধা দিতে যে কেন গনভবন থেকে জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে।

২| ১৭ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫১

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: আল্লাহ ইয়ারহামু।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.