| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে, তাদের আচরণে আমি শুরু থেকেই অত্যন্ত হতাশ ও বিরক্ত। আগাগোড়াই তাদের উদ্দেশ্য দেশকে ব্যাপক অরাজকতার অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া। এর মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে হঠিয়ে, তাদের পছন্দের সেই বিশেষ ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক, বাংলাদেশ বিরোধী গোষ্ঠীকে ক্ষমতার মসনদে আসীন করা। সে লক্ষ্যেই প্রথম দিন থেকে এরা তৎপর। শুরুতে বোঝা না গেলেও, সময় গড়ানোর সাথেসাথে সব দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। আগাগোড়াই অসৎ উদ্দেশ্য। কোটা আন্দোলনের আড়ালে অন্য মিশন নিয়ে এরা অগ্রসরমান শুরু থেকেই। এছাড়া আরেকটা বিষয় দেখে আসছি যে, প্রথম দিন থেকেই এরা অতিমাত্রায় ফুটেজ লোভী। ক্যামেরা মাইক্রোফোন নজরে এলেই হুঁশ হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশের শিক্ষার মানের দূর্দশা বুঝতে এইসব শিক্ষার্থীদের সমঝদারিতা, কথাবার্তা, আচারআচরণই যথেষ্ট। যা দুর্ভাগ্যজনক। অনিচ্ছাসত্ত্বেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এদের পারিবারিক শিক্ষাটাও বোধকরি যথাযথভাবে হয়নি। সাধারণ শিষ্টাচার, সৌজন্যতাবোধের অনুপস্থিতি স্বভাবচরিত্রে দৃশ্যমান। সবাই দেখেছেন, প্রধানমন্ত্রী নাহয় বাদই দিলাম; তাদের নানিদাদির বয়সী রাষ্ট্রের একজন সম্মানিত সিনিয়র নাগরিককে উদ্দেশ্য করে যে ভাষায় জনসমক্ষে কটু কথা বলা হয়েছে, আক্রমণাত্মক মনোভাবের প্রদর্শন করা হয়েছে, তা আসলে নজিরবিহীন। এর নিন্দা করবার ভাষা আমার জানা নেই। যতোই করি না কেন, তথাপি অপূর্ণই থেকে যাবে এদের এ বেয়াদবি, এ ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ। সত্যি জঘণ্য! ধিক্কার জানাই। একরাশ ঘৃণা। শেখ হাসিনা কখনও এদের রাজাকার বলেননি। যে বক্তব্য নিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছিলো, তা দেখেছি। সাংবাদিকের সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের স্বাভাবিক একটি জবাব ছিলো সেটা যে, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতিরা রাষ্ট্রের বিশেষ সুযোগসুবিধা না পেলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে! যথার্থ বক্তব্য। ভুল কি আছে এতে? সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিপুতি উল্লেখ করে দুপক্ষকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে প্রশ্নটি করে বসেছিলো। উপস্থিত উত্তরে সে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। ব্যাস, বিষয়টা আসলে ঠিক এতোটুকুই। এটা এতো বিরাট কিছু না যে, একে উপলক্ষ্য করে একেবারে আমি রাজাকার, তুই রাজাকার, আমরা রাজাকার, শেখ হাসিনা স্বৈরাচার শ্লোগান দিয়ে পুরো দেশকে একেবারে বেসামাল করে দিতে হবে। এর কোনোই প্রয়োজন ছিলো না। এটা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, মনেপ্রাণে এরা আসলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী। এরা রাজাকাই। শেখ হাসিনা সরাসরি রাজাকার বললেও, তাদের নিজেদের রাজাকার দাবি করে ওইসব নোংরা শ্লোগান দেয়া কোনওমতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যারপরনাই ঘৃণা ও ধিক্কার জানাই। রাজাকার শুধুমাত্র একটি শব্দ নয়। ত্রিশ লক্ষ মানুষের রক্তের দাগ লেগে আছে রাজাকার শব্দে। আড়াই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমহানির দগদগে ক্ষত, যন্ত্রণা জড়িয়ে আছে রাজাকার শব্দে। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল বিশেষ ধ্বংসাত্মক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এদের দর্শন, চিন্তাচেতনা। শুরু থেকেই মিথ্যা প্রপঞ্চ নষ্টামি চলে আসছে এবারের তথাকথিত এ কোটা বিরোধী আন্দোলনে। নিঃসন্দেহে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়েছে। আজ সবার কাছেই আমার জিজ্ঞাসা, কোটা আন্দোলনের নামে সারাদেশে এইসব উগ্রতা হিংস্রতা নাশকতার আদৌ প্রয়োজন ছিলো কি? দেশের প্রতিটি সভ্য বিবেকবান সচেতন নাগরিকের কাছেই প্রশ্নটি রেখে গেলাম। আজকের দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের দিয়ে কোনও সরকারি চাকরির দু’তিন শতাংশ কোটাও পূরণ করা সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবে ধরে নেয়া যায় যে, একাত্তরের কিশোর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদেরও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বয়স পার হয়ে গেছে। তাছাড়া ব্যাপারটা এমনও নয় যে, এই আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটার জন্য নিজেরা কোথাও কোনও নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এরা এখনও শিক্ষার্থী। পড়াশোনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকার কথা। কিন্তু তা না করে দিনের পর দিন তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সারা দেশ অচল করে দেবার প্রবণতা শুরু থেকেই চলে আসছে এদের মাঝে। যা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য ও সাথে নিন্দনীয়। তৃতীয় চতুর্থ দিন থেকেই আমার কাছে এদের উদ্দেশ্য দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়ে যায়। যা সৎ তো নয়ই, স্বাভাবিকও নয়। সে সব ইতোমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যাক, কথা আর বাড়াতে চাই না। কথায় আছে সমঝদারের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। খুব ভালো চলছিলো বাংলাদেশ। শান্তি স্থিতিশীলতায় সমাজের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের সুষ্ঠু সমন্বয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছিলো বাংলাদেশ। এ সময় এ তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দেশকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করবার এ অপচেষ্টাকে তীব্র ধিক্কার জানাই, ঘৃণা জানাই। এখন আর কোটা নেই। ছাত্রদের সবগুলো দাবিই পূরণ হয়েছে। তারপরও এরা আন্দোলনে সরব কেন? এতো অরাজকতা, অশান্তি, দাঙ্গাহাঙ্গামার জন্য উতলাপনা কেন এদের মাঝে? বাংলাদেশ ভালো আছে। বাংলাদেশ সুখে আছে। বাংলাদেশকে আপনারা ভালো থাকতে দিন। এই সুখ-শান্তি, স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। বাংলাদেশকে দয়া করে আর পাকিস্তানের মতো ব্যর্থ, অকার্যকর, অরাজক রাষ্ট্রে পরিণত করবেন না। দেশের প্রচারমাধ্যমের কাছেও করজোড়ে অনুরোধ, এখন থেকে এদের ফুটেজ দেয়া একেবারে বন্ধ করে দিন। ক্যামেরা মাইক্রোফোন নিয়ে এদের পিছে ছোটাছুটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিন। এদের সব দাবি পূরণ হয়েছে। এখন এ আন্দোলন পুরোপুরিভাবে অর্থহীন। শুধুশুধু ফুটেজ দিয়ে এদের আর মাথায় তুলবেন না। এই ফুটেজখোরদের সম্পূর্ণভাবে বয়কট করুন। এই বিষয় একেবারেই সমাপ্ত হয়ে গেছে। নতুন কিছু নিয়ে মাতুন আপনারা।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮
শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু বলেছেন: এনসিপি নেতারা এখন বেঁচে আছে মিডিয়া এবং ইউটিউবারদের দয়ায়। একটা প্রোগ্রাম করলে সেখানে যেকয়জন মানুষ জড়ো হয় তার থেকে মিডিয়ার লোক বেশি থাকে। মিডিয়া এবং জামায়াত এই দুই সাপোর্ট তাদের পিছন থেকে সরে গেলে তখন দেখা যাবে কে সত্যিকারের বেপ্লবী???