নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আশীষ পা ল

আশীষ পা ল › বিস্তারিত পোস্টঃ

পুল তৈরী কর, বেড়া নয়

০২ রা জুলাই, ২০১৩ সকাল ৭:২৮

[জানিনা আমার দেওয়া গল্পগুলো কেউ পড়বে কিনা। সামুর ব্লগের লেখক-পাঠকরা অনেক সচেতন। তারা যদি আমার অনুবাদ ও সম্পাদনার ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দেন তো আমার প্রচেষ্টা স্বার্থক হবে। নতুন লেখক-অনুবাদক হিসাবে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যা আমার চোখে ধরা পড়ছে না, তা অন্যদের চোখ এড়াবে না আমার বিশ্বাস। যাহোক আজকের গল্পটা হবে দুই নম্বর।]



পাশাপাশি দুই ভায়ের দুইটা ফার্ম ছিল। এক সময় তারা প্রচন্ড ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হল। তারা দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছিল কিন্ত এরকম কখনো হয়নি। তারা সবসময় তাদের যন্ত্র-পাতি পরস্পর ভাগাভাগি করত। একজনের শ্রমিক প্রয়োজনে অন্যের ফার্মে কাজ করত। এইভাবে দীর্ঘদিন চলার পর একটি ছোট্ট ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে দুভায়ের মধ্যে বিশাল ব্যবধান সৃষ্টি হল। প্রথমে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন কথা বন্ধ এবং ক্রমেক্রমে সেটা কুৎসিত বাক্য বিনিময়ে রুপ নিল।

একদিন এক অপরিচিত লোক বড়ভায়ের দরজায় এসে করাঘাত করে বলল, স্যার আপনার ফার্মে কোন কাজ পাওয়া যাবে? আমি খুব ভাল কাঠের কাজ জানি। যেকোন ধরনের কাজ আমাকে দিতে পারেন। বড় ভাই বলল, আমি কয়েকদিন ধরে একজন কাঠমিস্ত্রি খুঁজছি। তুমি যদি আমার একটা কাজ করে দিতে পার, খুব ভাল হবে। আমার জমির সীমানার পাশে আমার ভায়ের ফার্ম। সে আমার সাথে কোন সম্পর্ক রাখতে চায়না। গত সপ্তাহে সে সীমানা বরাবর খাল কেটে দিয়েছে, যাতে কোন প্রকার যাতায়াত না থাকে। এবার আমি আরও বেশী কিছু করতে চাই। আমিও দেখিয়ে দিতে চাই। খাল বরাবর আমার জমির উপর দিয়ে কাঠের ৮ ফুট উচু একটা প্রাচীর তৈরী করে দিতে হবে, যাতে ওর সাথে কোনপ্রকার মুখ দেখাদেখিও না থাকে। আমার পর্যাপ্ত কাঠ আছে, আর তোমার যন্ত্রপাতি আছে। কাজে লেগে যাও। আমি কয়েকদিনের জন্য শহরে যাচ্ছি ফিরে এসে দেখতে চাই আমার মনমত সুউচ্চ প্রাচীর তৈরী হয়ে গেছে।

কাঠুরে লোকটি বলল, স্যার, আমি আপনার বিষয়টা বুঝতে পেরেছি। আমাকে তারেকাটা দিন, কাঠ দিন আর সবকিছু ভালভাবে দেখিয়ে দিন। আমি নিশ্চিত, আমার কাজ আপনাকে খুশি করবে। এরপর বড়ভাই সব জিনিসপত্র বুঝিয়ে দিয়ে শহরে চলে গেল।

কাঠুরে লোকটি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রাতদিন কাজ করতে লাগল। মাপামাপি করলো, সাইজমত কাঠ কাঠলো, তারেকাটা মারলো এবং কয়েকদিন পর তার কাজ শেষ হল। আর এর কিছুক্ষণ পরই এক বিকালে বাড়ী ফিরে আসলো বড়ভাই। কাঠুরের কাজ দেখে বড় ভায়ের চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। মুখ হা হয়ে গেল। কোথায় বেড়া, এতো দেখছি খালের উপর দারুন সুন্দর একটা ব্রিজ, তার জমি থেকে ছোট ভায়ের জমিতে চলে গেছে। ব্রিজের উপর প্রসস্ত জায়গা, রেলিং। আর সেখানে দাড়িয়ে আছে তার ছোটভাই আর প্রতিবেশী লোকজন। বড়ভাইকে দেখে ছোটভাই দু‘হাত বাড়িয়ে ছুটে আসল, বলল, ভাই আমার ব্যবহারের জন্য আমি দুঃখিত. অনুতপ্ত, আমাকে মাপ করে দাও। আমি দুজনের জমির মাঝে খাল তৈরী করেছি; আর তুমি তার উপরে ব্রীজ তৈরী করে আমাকে শিখিয়ে দিয়েছ। ভাই, আমি আমার কাজের জন্য সত্যিই লজ্জিত। বড়ভায়ের চোখ দিয়ে জল এসে গেল। দুভাই পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে লাগলো।

এদিকে কাঠুরে লোকটি তার যন্ত্রপাতি গুছিয়ে নিল রওনা দেবে বলে । তখন বড়ভাই তাকে ডেকে বলল, ভাই তুমি চলে যাচ্ছ কেন? তোমার জন্য তো আরও কিছু কাজ আছে। কাঠুরে লোকটি বলল, স্যার, আমি আর থাকতে পারবো না। আমাকে যেতে হবে, কারন, আমাকে এখনো অনেক জায়গায় ব্রিজ তৈরী করতে হবে।

- অনুবাদ ও সম্পাদিত।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.