![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
life is like a box of chocolates... Everyday is a different day! Being happy everyday - is my goal! I don't wanna live forever! Everyday i live in this beautiful world, I wanna be happy! Life is beautiful! "Have a great day!"
মাস দুয়েক আগে মেলবোর্নে একটা "Mind body festival" এ যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল! ভুত প্রেত শাকচুন্নি শুধু বাংলাদেশের অজপাড়া গায়েই থাকে না, ইহারা দুনিয়ার সব খানেই সমান ভাবে ছড়ানো! শখানেক পাল্ম রিডার আর হাজারও সাধু সন্নাসীরা কোট টাই পরে বসে আছে! চারিদিকে শুভো আত্মার ভিড়ে আমার আত্মা লুকোনোর জায়গা খুঁজে পাচ্ছিল না! আমার বৌ জন্মগতভাবে কোনো ধর্ম অনুসরণ করে না, কিন্তু বিশ্বাস আর আলৌকিক বিষয়ে তার বিরাট আগ্রহ। তার বড় সুবিধা হচ্ছে, হিন্দু বৌদ্ধ জেসাস আল্লাহ যাকে সামনে পায় তাকেই প্রেন্নাম ঠুকে দেয়। আবার কখনো বাসায় সারা রাত মোম বাতি জ্বালিয়ে জেসাসের এন্জেল কে খুসি করা হয়! আমি গভীর আগ্রহে মানুষের অদ্ভুত বিশ্বাস আর সংস্কার দেখি। কোথায় যেন একটা গভীর মিল খুঁজে পাই।
কাওসার আহমেদকে হাত দেখাতে গিয়েছিলাম অনেক আগে (আমার এই ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ)! আমাকে বিস্মিত করে সে অনেক কিছু নির্ভুলভাবে বলছিলেন। কিভাবে এখনো আমার কাছে এক বিস্ময়। তবে ভবিষ্যত নিয়ে মোটামুটি পুরা জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছিলেন। যেখানে বলছে আমি যাব পশ্চিমে, আমি গেছি পূর্বে! এই উদ্ভট আগ্রহের কারণে, আমি অনেক ভন্ড দেখেছি। "তোমাকে সবাই ভুল বোঝে!, অনেক জেদী, অনেক কষ্ট!" এইরকম হাজারও ভন্ডামি শুনেছি! কিছু মানুষ আবার পাথর পড়ে, শিশিতে করে জীন নিয়া ঘোরে, এইখানে ঐখানে সুতা বাঁধে! হাজারও সংস্কার অদেখা ভুতের ভয়ে! আমি ভাবতাম এই পাগলামো বোধকরি উপমহাদেশেই সীমাবদ্ধ। মেলবোর্নে বিশাল আয়োজনে অলৌকিক মানুষদের নিয়ে উত্সব করা দেখে ভুল ভাঙ্গলো। লাইন দিয়ে ১২-১৫ ডলার দিয়ে টিকেট কেটে মানুষ ঢুকছে মনের ভুত তাড়াবার জন্য। আমার বউ কোথাথেকে দুইটা ফ্রি টিকেট যোগার করে আমাকে নিয়ে অতি উত্সাহে গিয়ে হাজির। নইলে শীতের সকালে বন্ধের দিনে আমাকে বোমা মেরে উঠানোও প্রায় অসম্ভব।
রিকি মাস্টার, পাল্ম রিডার, মেজিক বল, মন্ত্র পড়া পানি, পশুপাখি/মানুষের হাড্ডি আর হাজারও কুসংস্কারছন্ন মানুষ এ বিশাল হলঘর ভর্তি। যথারীতি আমি হাত দেখাতে চাইলাম! ৬০ ডলার। গাজাখুরির জন্য ৬০ ডলার একটু বেশিই! সস্তায় আরেকজন পেলাম, বউকে বসিয়ে দিলাম! একটাই বুদ্ধি দিলাম, যেটা বলবে তাতেই আশ্চর্য হয়ে যাবে, দেখবে বেটা কত্ত বড় ভন্ড! পাল্ম রিডারকে নাকানি চুবানি খাইয়ে বউ বেজায় রাগ! এক বয়স্ক ভদ্রলোক আমার দিকে এগিয়ে এসে বললো, "আর ইউ ফ্রম ঢাকা?" সরাসরি ঢাকা বলে আমাকে ভরকে দেবার ধান্দা! আমি বললাম, "হাউ ডু ইউ নো?" সে ভন্ডামি না করে বললো যে সে ঢাকা গিয়েছিলো ২ বার, তাই অনুমান করেছে! ভালো অনুমান! খুবই ভালো অনুমান! আমার ধারণা, সব ভালো পাল্ম রিডার এর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা খুবই ভালো। আর বিশ্বাসীকে একবার বিশ্বাস করানো গেলেই হলো! আর সাথে, "তোমাকে কেউ বোঝে না!" তো আছেই! ১০ টা অনুমানের মধ্যে দুই একটা লেগে গেলেই খুশি! তারপর সেই সুতো ধরে লতায় পাতায় কিছু অতীত বেশিরভাগ ভবিষ্যত বলে যেতে হবে। এই থিওরি ধরে ভার্সিটির বহু লাজুক ছেলে মেয়দের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকে। "তুমি একটা ছেলেকে ভালো পাও (অথবা ভালবাসা আসিতেছে), সে হচ্ছে ........বর্ণনা আশ্চর্যজনক ভাবে ওই লাজুক ছেলের মত!"
মেলবোর্নের এক নতুন ট্রেন্ড হচ্ছে ভেজিটারিয়ান! ভেজিটারিয়ানদের সাথে কিভাবে জানি এই অলৌকিক গুষ্টির একটা গভীর সম্পর্ক আছে। দুই তিনটা খাবার দাবারের দোকান, সবই ভেজিটারিয়ান! আমার একটা বিরাট দোষ আছে। সমুদ্রে, লেকে হাস, রাজহাস সাতার কাটতে দেখলে আমার কেন জানি প্রথমে মাথায় আসে, "আহারে এইগুলা খেতে কতই না মজা হবে!" তাই ভেজিটারিয়ান কনসেপ্ট আমার খাদক মাথায় কখনই ঢোকে না। আমি হলাম সেই পাবলিক যে কিনা রাজস্থানের এক ভেজিটারিয়ান রেস্তরাতে উটের মাংস আছে কিনা জিজ্ঞেস করে প্রায় মাইর খাইছিলাম! তবে, এই পাগলাটে আচার আচরণে আমি বিরক্ত নই, আমার বরং ভালই লাগে! সুখী মানুষের নাকি রোগ বালাই কম হয়! একটু মানুষিক প্রশান্তির জন্য তাই এইসব পাগলামি মেনে নেয়া যায়।
যে কারণে লিখলাম, এত এত অলৌকিক মানুষের সান্নিধ্যে এসে আমার মাঝেও কিছু ভালো আত্মা ভর করেছে! মেয়েদের হাত ধরলেই অতীত ভবিষ্যত আমার সামনে এইচ ডি টিভির মত পরিস্কার হয়ে যায়! ফি বেশি না। নামটাও বদলে ফেলবো ভাবছি "প্রফেসর গুলগুলায়ে হস্তবিশারদ মন্ডলঙ"! আমার প্রাক্তন মেয়েবন্ধু প্রতিদিন বলত, "তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, কাতারে কাতারে ছেলেরা তাকে দেখতে আসছে!" প্রথম প্রথম একটু মাথা নষ্ট হত, পরে ছেলেদের বাপ মা আসলেও পাত্তা দিতাম না! অলৌকিক ক্ষমতাটা আর একটু আগে আসলে কি যে ভালো হইত!
(কারো অনুভুতিতে কুতকুতি লাগলে, অনুভুতিতে কলা পাতা রঙের একটা পাথর লাগাবেন, আর প্রতিদিন দুপুর ১২টা ১১ তে দুই হাত উপরে তুইল্লা দুইটা লাফ দিবেন)
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫৮
অভি মন্ডল বলেছেন:
২| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:১৬
খেয়া ঘাট বলেছেন: অতীব চমৎকার হয়েছে। গন্জিকাসেবীদেরও বিশ্বাস করা যায়, কেননা এরা চোখের সামনেই পাগলামী করে, কিন্তু এরাতো জীবন্ত মানুষকে শুণ্যে ভাসায়, তারপর অতীত, বর্তমান, ভবিষতে চক্কর খাওয়াইয়া আংটির ভিতরে ভাগ্য বন্দী করিয়া বলে যা-তোর ভাগ্যকে সোনার প্রলেপে বাঁধানো হইলো।
খতম খেল
দানের বাক্সে এবার নগদে ডলার,পাউন্ড, টাকা ফেল।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৫৯
অভি মন্ডল বলেছেন: আপনার একটা মন্ত্রপড়া পাথর দরকার, অতি স্বত্তর যোগাযোগ করুন!
৩| ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ৮:৫৬
শের শায়রী বলেছেন: আরে ভাই ভাল লিখছেন তো ভাল মজা পেলাম।
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:০০
অভি মন্ডল বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই!
©somewhere in net ltd.
১|
২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৩ ভোর ৫:০০
htusar বলেছেন: মজা পেলুম ।