নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

এলোমেলো ভাবনা!

Little boxes on the hillside,Little boxes made of ticky-tacky,Little boxes, little boxes,Little boxes, all the same.

অভি মন্ডল

life is like a box of chocolates... Everyday is a different day! Being happy everyday - is my goal! I don't wanna live forever! Everyday i live in this beautiful world, I wanna be happy! Life is beautiful! "Have a great day!"

অভি মন্ডল › বিস্তারিত পোস্টঃ

অন্য মানুষ

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সকাল ১১:৩৯

(০১)



রিক শূন্য চোখে জ্বলজ্বলে দক্ষিন গোলার্ধের ক্রস এর দিকে তাকিয়ে আছে, হাতে অস্ট্রেলিয়ান সস্তা ওয়াইন। গভীর রাতে রিক তার সমুদ্রের পারের ছোট এপার্টমেন্ট এর বেলকনিতে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দেয়। ২০২০ এর অগাস্ট মাসের ক্রিস্পি শীতের রাত। প্রায় একযুগ আগে রিক এই নতুন মহাদেশে এইরকমই এক শীতের রাতে একটা ছোট সুটকেস নিয়ে চলে আসে। তখনও সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন দেখা যেত না। ইন্টারনেট, যেটা ছাড়া আজকের এই ঝকঝকে আকাশও মলিন দেখা যেত, সেটাও তখন ডায়াল-আপ এর টুট তট ক্রোক করুক কক ক ক ক ক বিভিন্ন অদ্ভুত শব্দ পার হয়ে আসত। সেই ইন্টারনেট ৩G ৪G পার হয়ে এখন হলোগ্রাম-২ তে এসে থেমেছে।



আজ সকালেই রিকের জমানো প্রায় সব টাকা খরচ করে এই শতাব্দীর সবথেকে বড় আবিস্কারটা ইনস্টল করেছে সে। বিস্মিত চোখে মাঝে মাঝে সে তাকিয়ে আছে মানুষ সমান গ্লাস বাক্সটার দিকে। একটা ছোট নিল বাতি জ্বলে নিভে জানিয়ে দিচ্ছে, সে প্রস্তুত। তার মেশিন নাম্বার G ৩১৫, এর মানে হচ্ছে সে সারা পৃথিবীর ৩১৫তম মানুষ যার লিভিং রুমে টেলিপোর্ট ডিভাইস বসানো হয়েছে। ছোট একটা বাটনে প্রেস করলে তার সামনে ভেসে উঠবে সারা পৃথিবীর টেলিপোর্ট স্টেশন এর লিস্ট। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে যেতে তার সময় লাগবে কয়েক সেকেন্ড। গত বছর সারা বিশ্বে বসানো হয়েছে হাজারও টেলিপোর্ট স্টেশন। আর কয়েক বছর পর রাস্তায় আর গাড়ির জ্যাম দেখা যাবে না, আকাশে প্লেন উড়বে না। পৃথিবীর খনিজ সম্পদ নিয়ে কাড়াকাড়ি থেমে যাবে। হয়ত চাদে অথবা আলোকবর্ষ দুরের কোনো অজানা গ্রহে টেলিপোর্ট স্টেশন বসানো হবে শিগ্রই। যুগান্তকারী এই আবিস্কার এর কারণে মৃতপ্রায় Apple আবার জেগে উঠবে। তারাই প্রথম এনেছিল মোবাইল ফোন এর স্মার্ট ভার্সন। স্টিভ জবস এর মৃত্যুর পর Apple আর নতুন কিছু দিতে পারে নি দীর্ঘদিন।



সমুদ্রে জোয়ার আসছে, গভীর রাতে সমুদ্র ঢেউ আধারে আছড়ে পরছে সৈকতে। রিক ফসফরাসের সাদা আলোতে ঢেউ দেখছে। গভীর রাতে সমুদ্রের এই রূপ রিকের অসম্ভব প্রিয়। পাশের বাড়ির বৃদ্ধ মহিলা খুক খুক করে কাসি দিল পাশের বেলকনি থেকে। প্রতিদিন গভীর রাতে এলি বেলকনিতে আসে। পাটাতনের একটা কাঠ আলগা করে তুলে ফেলে গোপন একটা কুঠুরি, বের করে ৪ বছর আগে অবৈধ ড্রাগ হয়ে যাওয়া সিগারেটের প্যাকেট। একটা সিগারেট কাপা হাতে তুলে, দীর্ঘ একটা টান দিয়ে, ধোয়া ছেড়ে দেয় সমুদ্রের নোনা বাতাসে। রিকের ইচ্ছে হলো আজ একটা সিগারেট চাইবে এলির কাছ থেকে। আজ যে বিশেষ এক দিন। টেলিপোর্টার এর দিকে চোখের কোন দিয়ে এক পলক তাকিয়ে।



- হেই এলি, একটা সিগারেট দাও না।

- তুমি তো সিগারেট খাও না। মন খারাপ বাবা।

- না উল্টো। খুব ভালো, একটা দাও, আমি তোমাকে পুরো এক প্যাকেট কিনে দিব।

- এলি খুসি হয়ে উঠলো, আচ্ছা নাও।



রিক কাপা হাতে সিগারেট টা ধরালো। নিল বাতি জ্বলছে নিভছে। সিগারেটের ধোয়া হাজার স্মৃতি নিয়ে এলো রিকের কাছে। একটা গাংচিল তীব্র চিত্কার করতে করতে হাড়িয়ে গেল দুরে। অনেকদিন পর নিকোটিন, রিক এলোমেলো পায়ে নেশাগ্রস্তের মতো এগিয়ে গেল রহস্যময় গ্লাস বাক্সের দিকে। থতমত চোখে তাকিয়ে আছে ছোট বাটনটার দিকে। ডিসপ্লে স্ক্রিন এ হাজার নাম, একটা নাম এর দিকে রিক তাকিয়ে রইলো অনন্ত কাল, শহরটার সামনে লেখা আছে 23.7000° N, 90.3833° E. দীর্ঘ ১২ বছর পর রিক ফিরে যাবে তার শহরে। শূন্য চোখে তাকিয়ে রইলো ট্রান্সপোর্ট বাটনের দিকে।



(২)



শুনশান নিরবতা থেকে মুহুর্তে রিক চলে এলো ব্যস্ত ঢাকায়! ঢাকার স্টেশন বসানো হয়েছে ধানমন্ডি লেকের পারে। কাজের শেষে বাড়ি ফিরছে ব্যস্ত ঢাকা। রাইফেল স্কোয়ারের সামনে প্রচন্ড জ্যাম। অদ্ভুত চোখে দেখছে চিরচেনা ঢাকা কে। বিভ্রান্ত পায়ে লেকের পার দিয়ে ব্যস্তমানুষের ভীর ঠেলে রিক এগিয়ে যায়। পরিচিত মুখ খোজে। ১২ বছর দীর্ঘ সময়। পকেটে অল্প কিছু ডলার আর একটা ক্রেডিট কার্ড। এলেমেলো পায়ে হঠাত সে নিজেকে আবিস্কার করলো ব্রিজের পাশের এমফিথিয়েটারে। হাজার স্মৃতি হুরমুর করে চলে আসলো। দুরে রেস্টুরেন্টের আলো আর তরুণ তরুনীর হাসি। গোথে ইনস্টিটিউট এর ছাদে হয়ত কিছু মানুষ মেতে উঠেছে জীবন নিয়ে তর্কে। খুব বেশি একটা বদলায় নি ঢাকা।



মুড়ি চানাচুর নিয়ে এক পিচ্চি এলো গরমের মধ্যে জ্যাকেট হাতে উদ্ভ্রান্ত রিকের কাছে।



- স্যার বানামু একটা।

টেকা নাই রে। ডলার নিবি।

- (চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো পিচ্চির) হ স্যার (মনে মনে ভাবলো হালা কাঠ বলধ)

মরিচ বেশি দিবি কিন্তু

- তৈল দিমু?

দে একটু

- (হালার ফাউল এক্কারে ভইরা দিমু)

নাম কি তোর?

- কমু না স্যার (মুড়ি খাবি খা, বেশি কথা কইলে কইসা একটা থাবর দিমু)

আচ্ছা

- (এইডা তো আসলেই আজিব জীব) মোর নাম টোকলা।

- খুব সুন্দর নাম টোকলা।

টোকলা অবাক হয়ে তাকালো পাগল লোকটার দিকে। মানুষ আজকাল গালি ছাড়া কথা বলে না। এই পাগলটা একটা হাফ পেন্ট পিন্দে আবার জ্যাকেট হাতে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতেছে। (নে বেটা মুড়ি খা। কথা কম বল)

পকেট হাতরে ১৮ ডলার ৩৫ সেন্ট পেল রিক। পুরোটাই দিয়ে দিল টোকলাকে। টোকলা খুব সাভাবিক ভাবে ডলার নিয়ে চলে গেল। ইদানিং কিছু পাগল আসে এখানে। দ্রুত পায়ে সরে গেল রিকের কাছ থেকে। রিক কিছুটা অবাক হলো। ঝাল ঝাল মুড়ি চানাচুর হাতে নিয়ে অচেনা মানুষের ব্যস্ততা দেখতে দেখতে গভীর রাত হয়ে গেল। দুরের রেস্টুরেন্টের আলো নিভে গেছে অনেক আগে। কখন লেকের পারের হাজর মানুষ থেকে সে একা হয়ে গেছে খেয়াল করে নি।



অন্ধকারে একটা মানুষ সন্দেহজনক ভাবে এগিয়ে এলো রিকের দিকে।

- এত রাইতে এইখানে কি করস?

কিছু না, বসে আছি।

- কবি কবি ভাব নাকি? ভাত নাই পাগল। যা বাড়িত যা। কয়টা বাজে খেয়াল আছে?

আচ্ছা।

রিক উঠতে গেল।

- ওই দাড়া। কয় টেকা আছে সাথে দিয়া যা।

(হঠাত রিক চিনে ফেলল অন্ধকারের মানুষটাকে) অর্ক, আমার কাছে টাকা নাই। অর্ক বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছে ২য় বছরে। অদ্ভুত কারণে সে ছেড়ে গিয়েছিল চেনা পরিচিত সহজ রাস্তা।

অর্ক থতমত চোখে তাকিযে রইলো রিকের দিকে।

- টাকা থাকলে দে, বেশি কথা বলিস তুই।

টাকা নাই।

অর্ক উঠে চলে গেল অন্ধকারে। রিক অর্কের চলে যাওয়া দেখল শূন্য চোখে। "অর্ক কি চিনেছে রিক কে? কেউ কি চিনে রিককে?"



রিক উদ্ভ্রান্তের মত বিশাল কালো কনক্রিটের গ্লাস এর মডার্ন স্টেশনের দিকে হেটে চলল। মুখে এখনো ঝাল লেগে আছে। ১২ বছর অনেক সময়,একটু কাচা মরিচের ঝালের জন্য!







রাত ২-১৮। কালো কনক্রিটের আধুনিক স্টেশনের দরজা ঠেলে রিক কন্ট্রোল পেনেলের দিকে এগিয়ে গেল। দরজায় আধো চোখে বসে আছে খাকি পোশাকের দারোয়ান।

- কোই যাইবেন স্যার

বহুত দূর

- আমারেও লইয়া যান। ভালো ঠেকায় না।

মুচকি একটা হাসি দিয়ে রিক কন্ট্রোল পেনেলের কীবোর্ডটা টেনে নিল। ক্রেডিট কার্ড আর ভিসা নাম্বার টিপে, ২-৩ সেকেন্ড চলে আসলো বায়ো মেট্রিক কোড। "সিস্টেম ইস রেডি টু টেলিপোর্ট"

- স্যার বকশিস?

টাকা নাই রে।

- হ! আমনেগো কারো কাছে টেকা থাকে না। কি যে দুনিয়া আইল। কত বড় বড় মানুষ, কয় টেকা নাই! হালা ফকিরনির পুত।

এই গালি রিক আগেও শুনেছে। সে আসলেই তো ফকিরনির পুত। কথা মিথ্যা না। পাগল কে পাগল বলতে হয় না। এইরকম কিছু হয়ত। তার প্রিয় শহরের মানুষগুলোও আগের মতই আছে। রিক দারোয়ানের বুকপকেটে ঝুলানো নেইমপ্লেটটা দেখে, রফিক ভাই আপনার জন্য বকশিস নেক্সট টাইম নিয়া আসবো। আলাদা করে নিয়া আসব।

- ভাই আফনে কি ভাবছেন, আমি ফকিরনি, হারা রাইত ডিউটি, বউ পোলাপান রাইখা। সরকার নতুন নতুন ধং করে, কষ্ট বারে আমাগো। বস্তা ভর্তি ফকিরনির পুত আহে প্রতিদিন। যা দুরে গিয়া চামুচ দিয়া শশা খা, মুড়ি দিয়া মাখাইয়া খা।

রিক হা হা করে হেসে দিল। ভার্সিটি জীবনের হাজারো আড্ডার কথা মনে পরে গেল।



- ওই তরে ঘন্টা ধরে কল দিতেছি, খবর নাই। মোবাইল দিয়া কি করস তুই, ওইটাতে কল দিলে যদি তরে নাই পাওয়া যায় তাইলে ভাইব্রেশন অন কইররা পশ্চাতদেশে ভইড়া রাখ, আমরা মিসকল দিমু, আরাম পাবি।

রিক হাসি হাসি মুখ করে, অর্ক তুই একটা ফাউল। মোবাইল কেমনে পশ্চাতদেশে ভরুম, এইটার সাইজ দেখছস। ফিলিপস ডিগা বিশাল ফোন। -তার চাইতে তুই তোর হাত ভইরা দে।

- ফোন ধরলি না কেন?

ডার্লিং ধরতে দেয় নাই।

- আবার ওই মাইয়া। তুই শেষ। তরে লাটিমের নাহান ঘুরাইয়া ছাইরা দিব।

ফাউ পেচাল পারিস না। কত্ত ভালো পায়।

- তুই মোবাইলটা ভরে ফেল। কষ্ট কম হবে।

হা হা হা হা!

সবাই এখন হাজার হাজার মাইল দুরে। মিসকল আর দেয়া হয় না। সপ্তাহ, মাস, বছর পেড়িয়ে এখন অনেকের কথা মনেও নেই রিকের। কত অনর্থক আড্ডা, তর্ক, হাসি, কান্না। সেই অর্ককে এতদিন পর দেখে রিকের কত প্রশ্ন থাকবার কথা ছিল। মানুষ অদ্ভুত।



রফিক প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে ভিন্ন মহাদেশের মানুষটির দিকে তাকিয়ে চেয়ারে ঢুলে গেল। রফিকের কাজ সহজ। বসে থাকে সারা রাত। বেতন খারাপ না, বকশিসও ভালোই পায়। মাঝে মাঝেই কিছু আজিব ফকিরনির পুত আসে। এদের সময় দেবার কি আছে?

রিক দরজা খুলে সারি সারি গ্লাসবাক্সের একটাতে দাড়িয়ে রেটিনা স্ক্যান করে সবুজ বোতামটা টিপে দিল।



নির্ঘুম রাত, ব্যস্ত দিন অপেক্ষা করছে ঘন্টা খানেকের মধ্যে এক ভিন্ন মহাদেশে।

প্রচন্ড এক ভালো লাগা নিয়ে রিক ফিরে এলো তার এপার্টমেন্টে। সকাল ৬:৩০ অস্ট্রেলিয়া সময়। শীতের দিনে মেলবর্ন আর ঢাকার সময়ের তফাত ৪ ঘন্টা। হলোগ্রাম স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করছে ফিল্টার পার হয়ে আসা কিছু মেইল। রিক ব্যস্ত হয়ে পড়ল আর একটা ব্যস্ত দিনের জন্য। মেইলগুলো রাতে সময় নিয়ে দেখা যাবে। কয়েক লাইনের একটা মেইল আছে সেখানে, পাঠিয়েছে লেকের পারে দেখা হওয়া ভার্সিটির বন্ধু অর্ক। রিক জানলো না আজই তার শেষ কাজে যাওয়া। অর্ক এর ছোট চিঠি বদলে দেবে সময়।



রিক ব্যস্ত পায়ে ট্রেন স্টেশনের দিকে এগিয়ে গেল। সে চাইলে তার রুমের টেলিপোর্ট বাটন চেপে যেতে পারে। সে এখনো একটু পুরোনধাচের। ছোট খাটো অর্থহীন হয়ে যাওয়া কাজগুলো সে নিজের হাতেই করে। মানুষ শূন্য ট্রেন স্টেশনে ট্রেন চলে আসলো। রিক শূন্য বগিতে জানালার পাশে একটা চেয়ারে বসে পড়ল। ট্রেনের গতি বারবার সাথে সাথে দুরের সমুদ্র বাদে কাছের গাছপালা অদৃশ্য হয়ে যায়। রিক হাজার হাজর বার দেখা দৃশ্য আবার গভীর আগ্রহ নিয়ে দেখে।





অর্কর চিঠি



ব্যস্ত দিন শেষে সূর্যটা প্রায় ডুবু ডুবু দূর সমুদ্রের দিগন্তে। রিক রেটিনা স্ক্যান করে তার আগুছালো এপার্টমেন্টে ঢুকলো। এলোমেলো বইগুলো সরিয়ে সোফার কোনায় একটু জায়গা করে বসে পড়ল। স্ক্রিনে ভেসে উঠলো কয়েকটা মেইল। বিস্মিত চোখে দেখল অর্ক হাসান এর মেইল। অন্য মেইলগুলো কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে গেল।





"বিকাল ৬টায় লেকের পারে!

টেলিপোর্ট শুধু পৃথিবীতেই টেলিপোর্ট করে না।

- অর্ক হাসান"





ডিজিটাল ঘড়ির দিকে তাকালো রিক অস্ট্রেলিয়াতে ৬ টা বেজে ৫ মিনিট। লেকের পারে ৬ টা বাজতে আরো ৪ ঘন্টা বাকি। অর্কর কথা পরিস্কার, টেলিপোর্ট যেকোনো স্থানে করা সম্ভব, দরকার শুধু একটা স্টেশন। কিন্তু কোথায়?





অর্ক পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিল অদ্ভুত এক কারণে। পদার্থ বিজ্ঞান পড়বার সময় তার অদ্ভুত প্রশ্নগুলোর জবাব কেউ দিতে পারে নি। সবগুলো পরীক্ষায় হতাশাজনক নম্বর পেয়ে সে আবিস্কার করেছিল ২ পয়সার চাকরির জন্য এই পড়াশুনা তাকে দিয়ে হবে না। অর্ক পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে সবার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। হাজারটা প্রশ্ন।





বস্তিতে ছোট একটা ঘরকে ল্যাব বানিয়ে একা একা থাকতে শুরু করে। টিউশনি করিয়ে জীবন ভালই চলে। বস্তির ছন্নছাড়া বাচ্চাদের পড়িয়ে সবার প্রিয়পাত্র সে। ল্যাবের এক কোনায় গভীর রাতে মেথাইল ফেডামিন বানায়ে নেশা করে। মাঝে মাঝে টাকা পয়সার টানা পরান পরে এই বাজে নেশার জন্য। গত বছরখানেক ধরে সে যেটা বানিয়েছে তার ভাঙ্গাচুরা ল্যাবে তাতে সে বিলিয়ন ডলার কমাতে পারত। পাগলা অর্ক কিছুই করে নি। মাঝে মাঝেই নিজের বানানো মানুষ সমান বাক্সটার দিকে তাকিয়ে থাকে। চারদিকে কেবল আর অদ্ভুত সব ডিভাইস ঝুলে আছে ভাঙ্গাচুরা বাক্স থেকে। রিকের ঘরেও একই ডিভাইস বসানো আছে, কিন্তু অর্কর মত ৩ ডাইমেনশন কো অর্ডিনেট দেখায় না। অর্কর ডিভাইসে অদ্ভুত কিছু স্টেশন দেখায় যেগুলো পৃথিবীতে না। বহু আলোকবর্ষ দুরে কোথাও। অর্ক প্রথম ভেবেছিল যান্ত্রিক ত্রুটি। পরীক্ষা করবার জন্য কিছু মাটির ঢেলা পাঠিয়েছিল অর্ক। গতকাল রাতে রিকের সাথে দেখা হবার পর তার বস্তির ল্যাবে ফিরে দেখেছে এক টুকরো ধাতব পদার্থ। কোনো জানা কেমিকেল পার্টিকেলের গঠনের সাথে মেলে না। অর্ক পরীক্ষা করে দেখেছে, এই পদার্থ ৩ ডাইমেনশনাল না। এটার চতুর্থ একটা মাত্রা আছে। খুব আস্তে আস্তে এই পদার্থর আকার বদলায়। কিন্তু জৈবিক না।





গতকাল রিকের সাথে দেখা হবার পর থেকে কেন যেন মনে হলো, অদ্ভুত ওই স্টেশনের কথা রিককে বলা দরকার।





রিক দাড়িয়ে আছে টেলিপোর্ট স্টেশনের সামনে। ১৫ মিনিট বাকি বাংলাদেশে ৬ টা বাজতে। রিক কাপ হাতে দ্বিতীয়বারের মত টেলিপোর্ট বাটনটা চেপে দিল। শূন্য কয়েক সেকেন্ড! রিক বের হয়ে এলো ধানমন্ডির আধুনিক স্টেশন থেকে। পাগলা বিজ্ঞানী অর্ক হাসান কি চলে আসছে? মেইলটার রিপ্লাই করা হয় নাই তীব্র উত্তেজনায়।



(২)



রিক দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেল লেকের পারের রাস্তা ধরে। ব্যস্ত ঢাকায় বাড়ি ফেরার তারা, কিছু ছেলে মেয়ে এলোমেলো ভাবে বসে আছে, গল্প করছে স্বপ্নিল ভবিষ্যতের। রিকের আজ দেখবার সময় নেই। দূর থেকে অর্ক হাত নাড়ালো। রিক হাসিমুখে হাত নাড়ালো। উত্তজনায় ফেটে যাচ্ছে। কয়েক পা এগিয়ে প্রায় চিতকার করেই বলল, "কিরে দোস্ত কেমন আছিস?"

- হুম ভালো

কি করিস আজকাল?

- এই প্রশ্ন না করলে হয় না। কিছু করি না। বলতে পারিস, নিজের চুল তুলি, আর তুলে তুলে ফেলে দেই।

রিক হেসে দিল, জানতাম তুই বদলাবি না।

- হুমম

রিকের মাথায় অর্কর ইমেইল আর হাজারটা প্রশ্ন। রিক ধুলোমাখা বেঞ্চে ধাপ করে বসে পড়ল।

- কিরে বেটা গাধা, পাছার ছিল মারার দরকার ছিল না তো।

ধুরো! বল, কাহিনী কি?

- আমি ধোলাই খালের এইটা সেইটা দিয়ে একটা ভাঙ্গা চূড়া টেলিপোর্টার বানিয়েছি।

বিস্ময়ের ধাক্কা সামলে নিয়ে রিক গোল গোল চোখে তাকিয়ে রইলো অর্কর দিকে। সর্বাধুনিক টেকনোলজি আর হাজার হাজার বিজ্ঞানী বছরের পর বছর ধরে কাজ করে যে আবিস্কারটা করেছে তা এই কালচে জিন্সের প্যান্ট পরা তরুণ প্রায় খালি হাতে একা একা বানিয়ে ফেলেছে।

বিস্ময়ের ধাক্কা পুরোপুরি কাটবার আগেই অর্ক বলল

- কিন্তু তোদের টেলিপোর্টার এ ৩ ডাইমেনশন আসে না, যেটা আমার মেশিনে আছে। কিছু এক্সট্রা সার্কিট বসাতে হয়েছে।

অর্ক খুলে বলল অদ্ভুত ধাতবের কথা।

কয়েক সেকেন্ড রিক স্তব্ধ হয়ে বসে রইলো।

তার মানে তুই বলছিস, তোর্ কাছে কয়েক আলোকবর্ষ দুরের কেউ একটা জৈবিক পদার্থ পাঠিয়েছে!

- আবারও বলি তোকে, ওটা জৈবিক না। আমি পদার্থবিদ্যার সাথে কেমিস্ট্রিও ভালোই জানি।

রিক তর্ক করতে চাইলো না মেধাবী অর্কর সাথে।

সে দাড়িয়ে গেল, চল তোর বাসায়।

অর্ক হেসে দিল। সেই হাসি, কতো পুরনো, কত চেনা!



(৩)



অর্ক আর রিক অনেকদিন পর একসাথে একটা রিক্সা নিল। রিক আর অর্ক চলে গেল টেলিপোর্টার নিয়ে জটিল আলোচনায়। রিক আরও অবাক হয়ে গেল কিভাবে অর্ক পুরোপুরি রিসাইকেল্ড জিনিস দিয়ে এই শতাব্দীর সেরা আবিস্কারটা করেছে। প্রতিটা ডিভাইস নিজের হাতে বানিয়েছে সে। হাজারটা কথা শেষ হবার আগেই চলে এলো অর্কর বাসার কাছে, বাকিটা হেটে যেতে হবে। রিক্সার ভাড়া মিটিয়ে দিল রিক। তুই এখানে থাকিস?

- হুম। টানাটানিতে থাকি।

তুই জানিস যে তুই বিলিয়ন ডলারের চেকটা শুধুশুধু ফেলে দিছিস।

- হুম।



দুই ঘরের মাঝের ছোট পথ, উচ্ছিস্ট আবর্জনার রাস্তার মাঝ দিয়ে ওরা চলে এলো অর্কর ঘরে। দরজা খোলবার সাথে সাথে রিকের বিস্ময় আকাশ ছুয়ে গেল। ছোট ঘর আধুনিক যন্ত্রপাতিতে ভর্তি। চারদিকে ভর্তি ইলেকট্রিক ডিভাইস লাল নিল বিভিন্ন বাতি জলছে নিভছে। এক কোনায় মানুস সমান বিশাল একটা প্রোগৌতিহাসিক যন্ত্র। নিশ্চই এটাই অর্কর টেলিপোর্টার। এক কোনায় ছোট ছোট কাচের বোতলে কিছু একটা তৈরী হচ্ছে। উত্কট বাজে একটা গন্ধ ছড়াচ্ছে।

- অর্ক বলল সব কিছু সোলার পাওয়ার এ চলে। ছাদ পুরোটাই সোলার সেলে ভর্তি।

রিক কে নিয়ে মানুষ সমান বাক্সটার কাছে এগিয়ে গেল। টেবিলের উপরে রাখা ছিল অদ্ভুত ধাতব। অর্ক হতভম্ব হয়ে দেখল টেবিল খালি। কোনায় একটা ছেড়া কাপড় বাদে আর কিছু নাই। রিক সন্দিহান চোখে তাকালো অর্কর দিকে।

- বিশ্বাস কর, আমি মিথ্যা বলি নাই। ওইটা এইখানেই ছিল।

রিক টেবিলের কাছে এগিয়ে গিয়ে খুটে খুটে দেখল আসেপাশে। ছেড়া কাপড় দিয়ে মুছে নিতে গেল ধুলোমাখা টেবিল।

অর্ক, তোর ধাতু পাল্টে কাপড় হয়ে গেছে।

বিস্ময়ে হতবাক অর্ক অসম্ভব হেভি কাপড়টা হাতে নিতেই লক্ষ্য করলো সেটা আস্তে আস্তে সেইপ আর কালার বদলাচ্ছে।

রিক বিস্মিত গোল গোল চোখ নিয়ে বলল, তুই নিশ্চিত ইটা জৈবিক না?

- আমি নিশ্চিত! তোকে মেইল করবার আগে আমি দুই তিন টা টেস্ট করেছি। এটার ফোর্থ একটা ডাইমেনশন আছে।



অর্ক রিকের দিকে থমথমে মুখে তাকিয়ে বলল, "আমি ওই আলোকবর্ষ দুরের ঠিকানায় যেতে চাই তোকে নিয়ে, অপেক্ষা করতে পারতেছি না একটিভ ফোর্থ ডাইমেনশনাল একটা গ্রহ কিরকম দেখতে!"

রিক এক মুহূর্ত দেরী না করে বলল, "চল, আমাদের স্পেস স্যুট লাগবে।"

অর্ক মুচকি হাসি দিয়ে বলল, গতকালই বানাইয়া রাখছি।



অর্কর বানানো স্পেস স্যুট আকারে একটু বড় হয়ে গেছে, চারদিকে বিভিন্ন অচেনা যন্ত্র আর হাজারো হাতে বানানো হাস্যকর রকম বিশাল শিল্ড। রিক প্রথম ভেবেছিল ওগুলো অর্কর অগুছালো বেড। দেখাগেল বিশাল বেডের হাত পা আছে। সেটা আবার পরে ফেলা যায়। বিশাল সাইজের দুই দৈত্য কোনো রকম এগিয়ে গেল ট্রান্সপোর্টারের দিকে। অর্কর মেশিনটা উত্কট রকমের বড় না হলে এই স্পেস স্যুট পরে ট্রান্সপোর্ট হবার আশা শুধু দুরাশাই হত।

এলিয়েনরা নিশ্চিত আমাদের সাইজ দেখে বিশাল আনন্দ পাবে।

- ফাজলামি করিস না, একটু বড় হয়েছে আরকি।

একটু বড়? আমার মত দশজনকে চাপা চাপি করে এখানে ভরে ফেলা যাবে।

অর্ক রিকের দিকে অগ্নিদৃষ্টি দিয়ে লোকেসন ম্যাপটাতে আলোকবর্ষ দুরের লোকেসনটা সিলেক্ট করে বলল "রেডি?"





অচেনা গ্রহ





কয়েক সেকেন্ড ...

রিক কিছু একটা ভাবল, অর্কর দিকে প্রশ্নবোধক মুখ নিয়ে তাকালো।

- কোনো সমস্যা?

প্রশ্ন হচ্ছে লোকেসনটা কয়েক আলোকবর্ষ দুরের, আমাদের ওখানে যেতে কয়েক বছর লেগে যাবে।

- আমি সত্যিকার অর্থে ভাবছিলাম তুই একদম গাধা হয়ে গেছিস অস্ট্রেলিয়ান গরুর দুধ খেয়ে। যাক প্রশ্নটা করে উদ্ধার করলি। এই বিশাল উত্কট দেখতে মেশিনটার তিনটা মাত্রা আছে সত্য, আরও একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা আছে, সেটা হচ্ছে সময়। তুই তো জানিস আমার মানুষের তৈরী সময়ের সাথে স্থান, কাল আর শক্তির সম্পর্ক নিয়ে বেপক আগ্রহ।

হুম! আমি ভাবছিলাম তুই কেন এত খেপে ছিলি এইগুলো নিয়ে।

- এই মেশিনটা আসলে সহজভাবে বললে স্থান আর কাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তার মানে তুই বলতে চাচ্ছিস, আমি আসলে একটা টাইম মেশিনের সামনে দাড়িয়ে আছি? রিক বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেল।

- না তুই স্থান ও কাল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন একটা মেশিনের বাই প্রডাক্ট ট্রান্সপোর্টার এর সামনে দাড়িয়ে আছিস। সময় কে যদি তুই ক খ গ এর পরে ঘ একটা মাত্রা ধরিস, আমরা এখানে ঘ মাত্রা টা বদলাবো না, কিন্ত ক খ আর গ বদলাবো। কল্পবিজ্ঞানের বইগুলোতে গালভারী একটা নাম আছে এটার "হাইপারডাইভ"!



রিক ভাঙ্গাচুরা মানুষসমান বাক্সটার দিকে একবার, আরো ভাঙ্গাচুরা অর্কর দিকে আর একবার তাকালো। ভুলে গেল সে তার চাইতে দশগুণ মোটা একটা স্যুট পরে আছে, জড়িয়ে ধরতে গেল অর্ককে। ঠিক সুবিধা করতে পারল না। কাটা কলাগাছের মত পরতে পরতে বলল, "ইউ আর জিনিয়াস।



রিক পরল অর্কর উপর, অর্ক টেবিলের উপর। দুজনকে কিছুক্ষণ পরে সুমো কুস্তিগিরদের মতো ধস্তা ধস্তি করতে দেখা গেল।

- অর্ক চিত্কার করে বলল, উঠ উঠ!!

কেমনে উঠব, এইটা থেকে বের কর আমাকে।

- কি করতে চাস?

এই স্যুটে কি কি আছে বল। এটাকে ঠিক করতে হবে। রিক পদার্থবিদ্যার বেচেলর শেষ করে অস্ট্রেলিয়া চলে আসে, এখন নামের আগে dr যোগ করেছে। একটা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে কাজ করে। সে তেজস্ক্রিয়তারোধক পোশাক তৈরিতে মোটামুটি বিশেষজ্ঞ।



অর্ক আর রিক চলে গেল ভার্সিটি জীবনে, দুজনে একটা একটা পার্টস খুলে আবার লাগানো শুরু করলো। শিল্ডগুলো খুলে ফেলল রিক। তেজস্ক্রিয়তার শিল্ডের বদলে তেজস্ক্রিয়তার একটা মিটার নিল। প্লান হচ্ছে বিপদজনক লেভেলের কিছু থাকলে তারা সাথে সাথে চলে আসবে। কখন সন্ধা গড়িয়ে গভীর রাত হয়ে গেছে কেউই খেয়াল করে নি। চারদিকে হাজারটা জিনিসের মাঝে দুটি স্যুট আস্তে আস্তে মানুষ সমান হয়ে এলো।

রিক বলল, চল খেয়ে আসি, ক্ষুধা লাগছে।

- আর একটু করলেই এটা শেষ হয়ে যাবে।

না, তোরে আমি চিনি, উঠ!

- কি খাবি?

সেই দোকানটা আছে?

- তুই অস্ট্রেলিয়ার গরুর দুধ খাওয়া ছাগল এখনো ভুলস নাই।

রিক মুচকি হাসলো, এত রাতে অন্য কোন দোকান খোলা থাকবে।

অর্ক জানে হাজারটা দোকান খোলা আছে, ঢাকা অনেক বদলে গেছে। কিন্তু অর্ক কিছু বলল না।



দুই বন্ধু হেটে হেটে রাস্তার পাশে ইটের দেয়ালের ছাদ ছাড়া দোকানটার সামনের রাস্তায় বসে পড়ল। রিক যুবক দোকানদারের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসু মুখে অর্কর দিকে তাকালো।

- ওর বাবা মারা গেছে ২ বছর আগে।



আশেপাশে রাতের ঢাকার কর্মজীবী মানুষরা দুই যুবককে আড়চোখে বার বার দেখছে। এরকম শার্ট পেন্ট পেন্দা মানুষ এখানে দেখা যায় না।ভাব মারাইতে আসছে। আজকাল পোলাপানের অনেক ভাব, একটা ফটো তুলবে আর ধংএর শ্রাদ্ধ শুরু করবে। কইসা একটা চটকানো দেয়ার কাম।



সবাইকে অবাক করে রিক আর অর্ক খুব পরিচিতভাবে এক গামলা পানি ভাত আর শুকনা মরিচে টুকটুকে লাল হয়ে যাওয়া আলু ভর্তা আর দুটো কাচামরিচ নিল। খুব তৃপ্তির সাথে পুরো গামলা শেষ করে রিক উঠলো। পুরো সময় রিক একটা কথা বলে নি। আশেপাশের সবাই দেখছে রিককে। অতিউত্সাহী একজন বলল, ভাইজান ওই ডাইন কোনায় একটা পিয়াজের কোনা পইরা আছে।

অর্ক খা খা করে তার জঘন্য হাসি দিয়া, তুই দেখাইলি একটা খেইল, আর এক বাটি খাবি নাকি?



ফিরে আসবার পথে অর্ক আরো ডিটেলে বলল রিককে তার মেশিনের খুটিনাটি। রিক আর বিস্মিত হলো না। তার মনে হচ্ছে বিস্মিত হবার আর কি আছে? অর্ক তার পাগলা বন্ধু। পুরো স্যুটটা দ্বার করতে করতে কখন সকাল হয়ে গেছে কেউই খেয়াল করলো না।



দুজনে স্যুটটা পরে নিল অনেক সহজে। দেখতে বেশ স্পঞ্জববের মত লাগছে। এবার সেই মুহূর্ত, অর্ক আর রিক দাড়িয়ে গেল পাশাপাশি, সেটিংস ঠিক করে অর্ক রিক এর দিকে একটা মুচকি হাসি দিয়ে টিপে দিল বাটন।



রিকের মনে হলো কয়েক সেকেন্ড, শূন্য, কালো, নিস্তব্ধ। বিগ ব্যাং এর আগে মনে হয় এরকম কিছু ছিল। অসীমের শুন্যতা। অর্কর মেশিন ঠিক মত কাজ করলে, সময় এখন থেমে যাবার কথা আর তাদের গতিবেগ যেটাকে ঠিক গতি বলা যায় না সেকেন্ডে আলোকবর্ষ হবার কথা।



দুজনে দাড়িয়ে আছে অদ্ভুত একটা কালো চকচকে ধাতব পদার্থের উপর, কিন্তু সামনে যা দেখছে, তাতে দুজনের কেউই প্রস্তুত ছিল না।



(চলবে)

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:১৪

একাকী বালক বলেছেন: Chorom. Choluk. (from mobile)

২| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:১৪

একাকী বালক বলেছেন: Chorom. Choluk. (from mobile)

৩| ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ ভোর ৪:৫৮

অভি মন্ডল বলেছেন: একাকী বালকের ভালো লেগেছে শুনে খুব ভালো লাগলো। চলবে আশাকরি ধৈর্য যতদিন থাকে!) ধন্যবাদ!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.