নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মোহাম্মদ মইন উদ্দীন। ডাক নাম মাঈনু। কিছু কিছু ফ্রেন্ডের কাছে কিশোর। বাড়ি চট্রগ্রাম। পড়ালেখার কারণে ঢাকায় থাকি। কৌতুহল একটু বেশী, হয়তো বাড়াবাড়ি ধরনের ই বেশী। দূঃসাহসী, কিন্তু সাহসী কিনা এখনো জানতে পারিনি।

কিশোর মাইনু

কিছু কিছু জিনিস জানি। সেগুলা মানুষের সাথে share করার জন্য ব্লগে প্রবেশ। তাতে দুটো সুবিধে। প্রথমত, আমার জানার ভুলভ্রান্তিগুলো দূর হবে। দ্বিতীয়ত, নতুন কিছু জানার সুযোগ সৃষ্টি হবে। দুনিয়াতে জানার কোন শেষ নেই। এবং আমার আগ্রহের ও কমতি নেই। ইনশাল্লাহ কোনদিন হবে ও না।

কিশোর মাইনু › বিস্তারিত পোস্টঃ

মোনালিসা- রহস্যময়ী হাসির অধিকারী

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:১৩


মোনালিসা,চেয়ারে বসে থাকা বাঁকা চোখের চাহনি, চাপা হাসি আর রহস্যে ভরা মুখশ্রীর অধিকারী এক নারীর অর্ধ প্রতিকৃতি যা দুনিয়ার সবচাইতে দামী, আলোচিত, গবেষিত, বিতর্কিত, রহস্যময় পোট্রেট। উইপিডিয়ার যার পরিচয় দেওয়া হয়েছে এইভাবে- "The best known, the most visited, the most written about, the most sung about, the most parodied work of art in the world."

এই বিখ্যাত ছবিটির আকিয়ে ও কোনদিক দিয়ে তার সৃষ্টির থেকে কম জাননা। বরঞ্চ আরো অনেক রহস্যময় ছিলেন তিনি। দুনিয়ার সবচেয়ে রহস্যময় মানুষের তালিকা করলে নিঃসন্দেহেই তালিকার একদম উপরের দিকে থাকবে ইতালিয় চিত্রশিল্পী, বিজ্ঞানী, গবেষক লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (১৪৫২-১৫১৯)-র নাম। এই রহস্যময় ব্যাক্তিকে নিয়ে ভবিষ্যতে অন্য কোন পোষ্টে আলোচনা করব ইনশাল্লাহ। তবে আপাতত এই পোস্টটি শুধুমাত্র সারা দুনিয়া মাতিয়ে রাখা রহস্যময় হাসির অধিকারী মোনালিসার জন্য।

ছবিটির আসল নাম কিন্তু মোন্না লিসা, মোনা লিসা নয়। আসলে মুখে মুখে ঘুরতে ঘুরতে নামের এই অপভ্রংশ যে কখন হয়েছে তা কারও জানা নেই। প্রসঙ্গত, মোন্না লিসা কথার অর্থ হল "মাই লেডি"। রং তুলিতে এই ছবি আকতে গিয়ে ভিঞ্চি জন্ম দিয়ে গেছেন অসংখ্য রহস্যের। ১৫০৩ সালে ভিঞ্চি মোনালিসা আকা শুরু করেন। ১৫১৫ সালে মোনালিসা আকার সময় তিনি রহস্যজনক ভাবে মৃত্যবরণ করেন। ১২ বছর সময় নিয়ে আকা মোনালিসার ছবি সম্পূর্ণ না করেই তিনি মারা যান!!!
অর্থাৎ আমরা মোনালিসার যে ছবিটি এখন দেখি, সেটিতে আরো কিছু আঁকার বাকি ছিল। ভিঞ্চি মোনালিসাকে কোন কাগজ বা কাপড়ে নয়,এঁকেছিলেন পাতলা কাঠের উপর। আরো অবাক করার বিষয় হলো মোনালিসার ছবিটিকে যদি বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে দেখা হয় তবে মোনালিসা তার হাসি পরিবর্তন করে?!?!? এ যেন এক রহস্যময়ী মোনালিসা!!!

১৭৭৪ সালে সর্বপ্রথম প্যারিসের লুভর মিউজিয়ামে মোনালিসার ছবিটির দেখা মিলে। কিন্তু ছবিটা মিউজিয়ামে কিভাবে এল কিংবা কে আনল এমন প্রশ্নের উত্তর মিউজিয়ামের কর্মীরাই জানতোনা। কারণ তারা কাউকে ছবিটি নিয়ে আসতে দেখিনি!!! রহস্যময়ভাবে লুভর মিউজিয়ামে পৌছানো এই ছবি ১৯১১ সালের ২০শে আগষ্ট চুরি হয়ে যায়। রাতের আধারে চোরকে দেখে মিউজিয়ামের এক কর্মী পরদিনই চাকরি ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে সে বলেছিল সে চোরকে দেখেছে। তার মতে সেই চোর আর কেউ নয়, প্রায় ৩৫০ বছর আগে মারা যাওয়া ভিঞ্চি?!?!? পরবর্তীতে অবশ্য সেই রহস্যের সমাধান হয়। তৎকালীন কুখ্যাত ইতালীয় ছবিচোর ভিনসেঞ্জো পেরুগিয়া (৮ ই অক্টোবর, ১৮৮১ - ৮ ই অক্টোবর,১৯২৫) ছিলেন সেই ভিঞ্চিরুপী চোর।

১০ বছর পর এই ছবিটি আবার ওই মিউজিয়ামে পাওয়া যায়। লুভর মিউজিয়াম কতৃপক্ষ ছবিটি সংরক্ষনের জন্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা খরচ করে একটি নিরাপদ কক্ষ তৈরী করে। হয়ত ভাবছেন একটা ছবির জন্য এতো টাকা খরচ!!! এই ছবির বর্তমান মূল্যের তুলনায় ৫০ কোটি টাকা কিছুই নয়। মোনালিসা ছবির বর্তমান অর্থমূল্য ৮৩০ মিলিয়ন ডলার।
টাকায় পরিমানটা প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা?!?!?

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি কি মোনা লিসার থেকে ভাল ছবি আঁকেননি? চিত্র-নন্দন বিশেষজ্ঞরা বলবেন, অবশ্ই এঁকেছেন। কিন্তু তার পরেও একটা প্রশ্ন থেকেই যায় কেন এই ছবিটিই ভিঞ্চিকে সবথেকে বেশি খ্যাতি দিয়েছে? মোনা লিসা অথবা লা জ্যকন্দো, যে নামেই তাকে ডাকা হোক না কেন, ৭৭ সেমি x ৫৩ সেমি-র এই ছোট ছবিটিরগভীরে এমন কিছু রয়েছে, যার পুরোটা আজও জানা যায়নি।
মিশরীয় উর্বরতার দেবতা আমন (Amon), যে ভেড়া মাথাযুক্ত পুরুষ। পক্ষান্তরে উর্বরতার দেবী হিসেবে পূজিতা হতেন আইসিস। এর প্রতীকী নাম ছিল লিসা (Lisa)। উভয়ের নাম একত্রিত করলে দাঁড়ায় AMONLISA। অনেকে মনে করেন, এই ছবির নাম গ্রহণ করা হয়েছে AMONLISA থেকে লিওনার্দো AMON LISA>MONA LISA নামটি গ্রহণ করেছিলেন

মোনালিসা কে???
প্রশ্নটির উত্তর ভিঞ্চি নিজেও দিয়ে যাননি। ২০০৫ সালে খুজে পাওয়া এক চিঠিতে অনেকে মোনালিসার পরিচয় খুজে পেয়েছেন বলে দাবি করেন। ১৫০৩ সালে লেখা এই চিঠিতে ভিঞ্চির বন্ধু ফ্রান্সিস জিয়াকন্ড তার স্ত্রী লিসা জিয়াকন্ডের একটি ছবি আঁকতে ভিঞ্চিকে অনুরোধ করেন। আর ওই সময় ভিঞ্চি মোনালিসার ছবি আঁকা শুরু করেন।

কী সেই রহস্য, যা মোনা লিসা-কে আজও লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে অপ্রতিরোধ্য আকর্ষণের জায়গায় রেখেছে?
• মোনা লিসা-র পিছনে আঁকা ল্যান্ডস্কেপটি রহস্যময়। অনেকে বলেন, ভিঞ্চি আগে ল্যান্ডস্কেপটি আঁকেন এবং পরে মোনা-কে তার উপরে স্থাপন করেন। কেন এমন করেছিলেন তিনি, উত্তর পাওয়া যায় না।
• মোনা-কে অনেকেই ভিঞ্চির দ্বিতীয় সত্তা বলেন। মোনা-র গালে দাড়ি বসিয়ে ভিঞ্চির অবয়বকেও খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন অনেকে।

নামকরা আমেরিকান আর্টিষ্ট ডঃ লিলিয়ান শোয়ার্টজ(১৯২৭) র এর মতে লিওনার্দো তার ছবিতে নিজেকেই একেঁছেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে প্রমাণও দেখিয়েছেন। তিনি প্রথমে ভিঞ্চির সেলফ পোট্রেট ও মোনালিসার ছবি দু'টিকে ডিজিটালে রূপান্তর করেন। এরপর কম্পিউটার ব্যবহার করে ভিঞ্চির সেলফ পোট্রেটটিকে উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দেন এবং ছবি দু'টিকে পরস্পরের সাথে যুক্ত করলে দেখা যায় ছবি দু'টির মুখাবয়বের বৈশিষ্ট্যগুলো আশ্চর্যভাবে মিলে গেছে।
• মোনা-র পোশাক নিয়েও রহস্য রয়েছে। তার হাঁটুর উপরে একটি কম্বল রয়েছে, যা দিয়ে তার পেটটিও ঢাকা।
কেন এই অতিরিক্ত‌ আচ্ছাদন? অনেকে বলেন, সে সন্তানসম্ভবা। কিন্তু সেই সম্ভাবনাকে কম্বল চাপা দেওয়ার চেষ্টা কেন?
• মোনা-র মুখমণ্ডল প্রায় নির্লোম। এমনকী, তার ভুরুও নেই। ১৬ শতকের ইতালিতে দেহোপজীবিনীরাই এমনটা করতেন। ওদিকে মোনা-র পিছনে উচ্চারিত রক্তমাংসের মানবীটি কোনও এলিট-ঘরনী বলেই পরিচিত। কেন এমন এঁকেছিলেন ভিঞ্চি?
• মোনার চোখে আঁকা রয়েছে বেশ কিছু সংকেত। খালিচোখে তা নজরে আসে না। ম্যাগনিফাইং গ্লাস দিয়ে দেখলে বোঝা যায় এগুলির অস্তিত্ব। কীসের সংকেত এগুলি???

বি.দ্র: পড়ালেখা, চাকরী মিলিয়ে খুব ব্যাস্ত সময় যাচ্ছে বলে বলে লেখার জন্য সময় বের করা খুব কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। তাছাড়া এক্সেস প্রবলেম তো আছেই। যাই হোক, এত কষ্ট করে পোস্ট টি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। সামনে আরো লেখা আসবে মোনালিসা কে নিয়ে। পরবর্তী পর্বগুলো জন্য নিয়মিত আমার বাড়ি থেকে ঘুরে যাবেন। তাহলেই হবে। শুভকামনা রইল ততদিন পর্যন্ত। :) ;) :#)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৫

রাজীব নুর বলেছেন: মোনালিসাকে নিয়ে এই সামুতেই কমপক্ষে এ লাখ পোষ্ট আছে।

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ৭:৫১

কিশোর মাইনু বলেছেন: হয়ত,কিন্তু সবচাইতে বেশী ইনফরমেশন আপনি আমার ব্লগে পাবেন, এই কথা বুক হাত দিয়ে বলতে পারব।
ধন্যবাদ।

২| ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১০

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: পড়লাম।
পরবর্তী পোস্টের অপেক্ষায় রইলাম।

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১:৩৬

কিশোর মাইনু বলেছেন: ধন্যবাদ পড়ার জন্য।।।
আশা করি আপনার অপেক্ষা বৃথা যাবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.