| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আটলান্টার আকাশটা সেদিন কি খুব বেশি ভারি ছিল? নাকি স্টেডিয়ামের বাতাসে মিশে ছিল কোনো অশুভ সংকেত? ৮৫ মিনিট পর্যন্ত স্কোরবোর্ড-এর দিকে তাকালে যে কেউ বলতো—এটি কেবল হার নয়, এটি এক সাম্রাজ্যের পতন। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া আর্জেন্টিনা তখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির দিকে ধাবিত হচ্ছিল। নীল-সাদা জার্সি পরা হাজার হাজার মানুষের চোখের জল তখন আটলান্টার ঘাসে শিশিরের মতো জমতে শুরু করেছে।
মিশরের প্রতিটি আক্রমণ ছিল যেন এক একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ইব্রাহিম আর মোস্তফা জিকোর পা থেকে আসা গোলগুলো শুধু জালেই জড়ায়নি, বরং আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের বিশ্বাসের বুকে বিঁধেছিল। মাঠের প্রতিটি ঘাস, প্রতিটি ইঞ্চি যেন আর্তনাদ করছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সেই দম্ভ, সেই ছন্দ—সবই যেন তখন ধুলোয় লুটোপুটি খাচ্ছিল। মেসি? তাকে তো আজ বড্ড একা লাগছিল। তার চোখের স্থির চাহনিতে কোনো জাদুর ছাপ ছিল না, ছিল শুধু এক অসম্ভবকে জয় করার মরিয়া আকুতি।
কিন্তু রূপকথার নায়ক কি কখনো শেষ অঙ্কের আগে বিদায় নেয়?
ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সেই গোলটি ছিল যেন এক ঘুমন্ত দানবের জেগে ওঠা। ২-১ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। প্রতিটা সেকেন্ড যেন একেকটি যুগ। আর তারপর সেই মুহূর্ত—ফ্রি-কিক। পুরো স্টেডিয়াম তখন মহাশূন্যের মতো নিস্তব্ধ। মেসি যখন বলের সামনে দাঁড়ালেন, সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে গেল। যেন মহাবিশ্বের সবটুকু শক্তি তার বাঁ পায়ে এসে জমা হয়েছে। তিনি শট নিলেন। বলটি যখন জালে আছড়ে পড়ল, সেই শব্দটা কোনো গোল ছিল না, সেটি ছিল কোটি মানুষের হৃদপিণ্ড পুনরায় চালু হওয়ার স্পন্দন। ২-২।
খেলা তখন শেষ হওয়ার পথে। ড্র হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সবাই। কিন্তু ভাগ্যের লিখন তো অন্য কিছু ছিল। এনজো ফার্নান্দেজ যখন মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে ছুটছিলেন, মনে হচ্ছিল তিনি ফুটবল নয়, নিজের জীবনের সমস্ত স্বপ্নকে নিয়ে ছুটছেন। ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে, গোলরক্ষকের সব অহংকার চূর্ণ করে, যখন তিনি বলটা জালে জড়ালেন—আটলান্টার স্টেডিয়াম সেদিন ফেটে পড়ছিল এক অমানবিক চিৎকারে।
চূড়ান্ত বাঁশি বাজার পর মাঠের দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। মেসি ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়লেন। এ জয় কেবল কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার জয় নয়, এ জয় মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তির। মিশরের সেই অজেয় লড়াই আর আর্জেন্টিনার সেই ঘুরে দাঁড়ানো—এই দুইয়ের দ্বন্দ্বে ফুটবল সেদিন আবার প্রমাণ করল, কেন আমরা একে ধর্ম বলে মানি।
আজকের রাত শেষে, যারা স্টেডিয়ামে ছিল, তাদের গা হিম হয়ে গিয়েছিল। কারণ তারা কেবল একটি খেলা দেখেনি, তারা দেখেছে কীভাবে মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে ফিরে আসতে হয়। আটলান্টার এই রাতটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম লেখা থাকবে ফুটবলের সেই পাতায়—যেখানে অসম্ভব কেবল একটি শব্দ মাত্র।
-‐------
স্বপ্নবাজ সৌরভ এর ফেসবুক থেকে।
©somewhere in net ltd.