নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

প্রতিবেশী পড়শী

প্রতিবেশী পড়শী › বিস্তারিত পোস্টঃ

নারী স্বাধীনতা কতটুকু দরকার?

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:৪৭

শামসুর রাহমানের "পণ্ডশ্রম " কবিতাটা প্রতিটা বাঙালির জন্যই প্রযোজ্য! কাল থেকে টানা এক মাস যদি টেলিভিশনে দেখানো হয় ঘাস খেলে মানুষ অমরত্ব লাভ করবে, ৫০০ বছর বাঁচবে, ব্যাস, মানুষ ঘাস খাওয়া শুরু করবে। নিজের বিবেক বুদ্ধি দিয়ে এক বারও ভালোমন্দ চিন্তা করবে না।
.
BEST BUY এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, হাতে সময়ও ছিল। ভাবলাম দোকানটা কেমন, দেখি! ঢুকতেই দুপাশ থেকে দু মেয়ে আসলো। "এক্সকিউজ মি, স্যার! কি হেল্প করতে পারি?" মুখে কড়া মেকাপ, মুচকি হাসি!
আমি কিছু বললাম না। হেঁটে হেঁটে এটা ওটা দেখছিলাম। আর ওরাও পিছু পিছু কোকিল কণ্ঠে "স্যার, এইটা ভালো, ওইটা ভালো" বলেই যাচ্ছে।
আমি বেরিয়ে আসলাম। হাসিমুখে "ধন্যবাদ, স্যার! আবার আসবেন!" যেকোন মূল্যে কাস্টমারদের খুশি করাই এদের ব্রত!
.
মোবাইল ফোনের কাস্টমার কেয়ারের মেয়েদের প্রসংগে আসি। অনেক বখাটে ছেলেকে দেখেছি, অযথাই ফোন করে ওদের গালি দেয়।আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, গালি শুনেও কিন্তু ওরা একটুও রাগ করে না। উল্টো "স্যরি স্যার, স্যরি স্যার" করে।
.
মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির কর্পোরেট অফিস তো শয়তানি নষ্টামির স্বর্গরাজ্য! অফিসের মেয়েগুলো তো পারলে "সবকিছু" দিয়ে ক্লায়েন্টকে খুশি করে! বস কিংবা সহকর্মীদের তো "খুশি" করেই!
.
এই যে খুশি করার প্রবণতা, এগুলোকে এক কথায় কী বলে? "নারী স্বাধীনতা"
.
ঠিক এই কাজগুলোই যদি মেয়েটা ফ্যামিলিতে করে! নিজের ছেলেমেয়ের জন্য খাবার তৈরী করে। সংসার দেখাশোনা করে। স্বামী শ্বশুর শ্বাশুরীর সাথে হাসিমুখে কথা বলে, তারা একটু আড্ডু রাগ করলেও "ধৈর্য্য" ধরে! তাহলে?
"নারী অধিকার শেষ হয়ে গেলো" "বৈষম্যের শিকার নারী" "নির্যাতন নির্যাতন" বলে গলা ফাটানো হবে!
.
বাহ! বাইরের লোকের গোলামি করলে, সেটা নারী স্বাধীনতা, আর নিজের সংসারের জন্য কিছু করলে, সেটা "নির্যাতনের শিকার!" দারুণ না!
.
... যেসব মেয়েরা চাকরির পেছনে ছুটে, আপনার কি মনে হয়, টাকার জন্য ছুটে? নাহ, জনাব, অধিকার দেখানোর জন্য ছুটে! অনেক মেয়েরা বলেন, "আত্মনির্ভরশীল হওয়ার জন্য"!
আচ্ছা, গত পনেরো বছরে এদেশে যত বিয়ে হয়েছে, খোঁজ নিয়ে দেখুন, সকল ফ্যামিলই স্ত্রীর কথামতোই চলে, আর বেতনের টাকাটা স্বামী তার স্ত্রীর হাতেই তুলে দেন!(নিম্নবিত্ত শ্রমিক শ্রেণী ব্যাতিক্রম)
.
ইউরোপ আমেরিকার দিকে তাকান। চাকরি করে "অধিকার" দেখাইতে গিয়া আজ ওদের পুরো পরিবার ব্যাবস্থাটাই ভেংগে পড়েছে!
.
আপনি নিজের ছেলেমেয়েকে কাজের লোকের জিম্মায় রেখে, নিজে চলে গেলেন অধিকার দেখাতে। দিনশেষে বাসায় এসে টায়ার্ড! বৃদ্ধবয়সে যদি এসব ছেলেমেয়ে আপনাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, দোষটা কার?
বছরের পর বছর ধরে দিনের একটা বড় অংশ বাইরের লোকের সাথে কাটাচ্ছেন, স্বামীর সাথে একটু শান্তিতে কথা বলারও সুযোগ নেই, নিজের অজান্তেই তো পরকীয়ায় জড়াবেন! শুরু হয়, অশান্তি, ঝগড়াঝাটি বিচ্ছেদ! যে "আত্মনির্ভরতা" আপনার জীবন থেকে সুখ শান্তি কেড়ে নেয়, সেই আত্মনির্ভরতা কি খুব জরুরি?
.
এই সাধারণ ব্যাপারটা বুঝার মতো মগজও হারিয়ে ফেলেছে এরা! টেলিভিশন, বিলবোর্ড, সেমিনার শিখিয়েছে "এটা স্বাধীনতা"! ব্যাস, এইটাই স্বাধীনতা! নিজের মগজ খাটানোর চিন্তা করলেন না!
...ওয়ান্ট পিস? থিংক এগেইন!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.