নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কেয়ার জন্য উৎসর্গীকৃত ব্লগ।

দানবিক রাক্ষস

অন্ধদের রাজ্যতে এক চোখা মানুষটি রাজা এবং আমি সেই রাজা। না ঈশ্বর, না পিশাচ—আমি তৃতীয় বিশ্বাস।

দানবিক রাক্ষস › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুপস্থিতির ভূগোল - কেয়া ।

২০ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৪



সন্ধ্যা নেমে এলে
আমি দেখেছি—
ধানক্ষেতের ওপর ভেসে আছে
একটি অচেনা বিকেলের নিঃশ্বাস;
কেউ তাকে স্পর্শ করেনি,
তবু শিশিরের মতো
সে পৃথিবীর বুকে ঝরে পড়ছিল—
যেভাবে একদিন
আমার একাকীত্বের পাশে
নিঃশব্দে এসে বসেছিল
তোমার ছায়া।

দূরের বাঁশবনে
হয়তো এখনও বাতাস জন্ম নেয়।
তার গায়ে লেগে থাকে
কোনো বিস্মৃত শৈশবের গন্ধ—
মায়ের ডাকে ফিরে না-যাওয়া বিকেল,
পায়ের ধুলো,
আর নদীর পাড়ে ফেলে আসা
একটি নামহীন প্রতিশ্রুতি।
সেই প্রতিশ্রুতির ভেতরেই
আজও তোমার কণ্ঠস্বর
পাতার আড়ালে আড়ালে
নিঃশব্দে বেঁচে থাকে।

আমার সমস্ত দিনগুলো
এখন শুকনো শালপাতার মতো।
হালকা বাতাস উঠলেই
তারা উড়ে যায়
কোনো অচেনা বনের ভেতর—
যেখানে সময়ের কোনো ঘড়ি নেই,
আছে শুধু
পাতা ঝরার দীর্ঘ শব্দ,
আর আছে তোমাকে মনে করার
অশেষ অবসর।

কত ঋতু পেরিয়ে গেল—
তবু তোমাকে ভুলে যাওয়ার মতো
একটি সকালও জন্ম নিল না।
বরং প্রতিটি ভোর
তোমার অনুপস্থিতিকে
আরও একটু স্পষ্ট করে রেখে যায়
আমার জানালায়।

আমি তোমাকে খুঁজি
ভোরের শিশিরে,
যেখানে প্রতিটি বিন্দু
একটি অপ্রকাশিত অশ্রুর মতো কাঁপে।
আমি তোমাকে খুঁজি
কাশফুলের শুভ্র দোলায়,
যেন সাদা আলোয়
তোমার ওড়নার নীরবতা ভেসে আছে।
আমি তোমাকে খুঁজি
বৃষ্টির প্রথম গন্ধে,
নদীর জলে,
শালবনের দীর্ঘ ছায়ায়,
শিশিরভেজা ঘাসে,
সন্ধ্যার প্রথম তারায়,
আর সেই নীরব বাতাসে,
যে বাতাস প্রতিদিন
আমার মুখ ছুঁয়ে
তোমার অদেখা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলে—
"ভালোবাসি।"

আমি মাঝে মাঝে ভাবি,
আমরা কি সত্যিই হারিয়ে যাই?
নাকি নদীর মতো
শুধু পথ বদলাই—
এক তীর ছেড়ে আরেক তীরে,
এক আকাশ ছেড়ে আরেক আকাশে,
এক জীবনের স্বপ্ন থেকে
অন্য এক নীরবতার দিকে।

যদি কোনো ভোরে
আমাকে আর খুঁজে না পাও,
জেনে রেখো—
আমি হয়তো কুয়াশা হয়ে
ধানের শিষে বসে আছি।
হয়তো বৃষ্টির প্রথম গন্ধ হয়ে
মাটির গভীরে মিশে আছি।
হয়তো কোনো নামহীন পাখির ডানায়
অদৃশ্য আলো হয়ে
আরেকটি ঋতুর দিকে ভেসে চলেছি—
তোমারই অন্বেষণে ।

মানুষের স্মৃতি ক্ষয় হয়,
নদীর জল বদলে যায়,
বনের পাতা ঝরে পড়ে;
তবু কোথাও
একটি নীরব পৃথিবী
অবিরত আমাদের জন্য
স্বপ্ন দেখে যায়।
হয়তো সেই স্বপ্নের ভেতরেই
একদিন আবার দেখা হবে—
হয়েত তুমি, আমি মানুষ হয়ে নয়,

তুমি আসবে
শিউলি ঝরার শব্দ হয়ে,
আমি থাকব
নদীর ওপরে ভেসে থাকা কুয়াশা হয়ে।
তুমি আসবে
শেষ বিকেলের সোনালি আলো হয়ে,
আমি অপেক্ষা করব
বটগাছের নিঃশব্দ ছায়া হয়ে।

তারপর—
নিঃশব্দতায়
শুধু দুই ফোঁটা শিশির
ভোরের প্রথম আলোয়
এক মুহূর্ত কেঁপে উঠবে।
তুমি মিশে যাবে কাশফুলের শুভ্রতায়,
আর আমি নদীর জলে।

তারপর থেকে
যখনই বাতাস ছুঁয়ে যাবে শালবন,
যখনই বৃষ্টি নামবে ধানের মাঠে,
যখনই সন্ধ্যা প্রথম তারাটিকে জ্বালিয়ে দেবে—
তখন কেউ আর জানবে না
শুধু নদী জানবে,
তার স্রোতে এখনও
দুটি নাম পাশাপাশি ভেসে যায়।
শুধু বন জানবে,
পাতা ঝরার শব্দে
আজও দুটি হৃদয়ের কথা লুকিয়ে আছে।
আর আকাশ—
সে নিশ্চুপ ।
শুধু প্রতিটি সন্ধ্যায়
এক ঝাঁক বক
নদীর ওপারে উড়ে যায়।
আমি আজও জানি না—
ওরা ঘরে ফিরছিল,
নাকি
তোমার কাছেই।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪

রাজীব নুর বলেছেন: সুন্দর কবিতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.