নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দূরন্ত -- ওমর শরীফ পল্লব।। ফেসবুকে আমাকে খুঁজে পাবেন এখানে- ospallab [অ্যাট] hotmai.com

দূরন্ত

আমি ওমর শরীফ পল্লব। ব্লগিং শুরু করি প্রায় এক যুগ আগে। এখনো লেখালেখিটাই ভালো লাগে। এছাড়া ভালো লাগে বন্ধুদের নিয়ে মজা করতে, ঘোরাঘুরি করতে, নানা ধরনের বিষয় পড়তে।

দূরন্ত › বিস্তারিত পোস্টঃ

চীনের এক সন্তান নীতি (জনসংখ্যা-৯)

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮

প্রায় দুই দশক আগে চীন তার এক বিলিয়ন মানুষকে জানিয়েছিল, তারা যদি দুটি করে সন্তান নিতে থাকে তাহলে তাদের জনসংখ্যা বিশাল বোঝা হয়ে যাবে এবং তা এক সময় ১.৮ বিলিয়নে পৌছবে। শুধু চীনের জন্যই নয় এটা সমগ্র পৃথিবীর জন্যই ছিলো এক বিশাল বিপদ। এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই চীন এক পরিবার এক সন্তান নীতি গ্রহণ করে। সে সময় চীনের জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কমিটি সরকারের এই নীতির যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানায়, কঠোর আইনের মাধ্যমেই একমাত্র জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব।



তিয়ানজিন স্ট্যাচু, চীনের এক সন্তান নীতির প্রতিক



এক সন্তান নীতির ভালো দিকের পাশাপাশি বহু খারাপ দিকও আছে। এখানে উভয় বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, নানা সমস্যা আর খারাপ দিক সত্ত্বেও কঠোর নীতির সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীনের জনসংখ্যার পাগলা ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা গেছে।

এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক সন্তান কোটা নির্ধারণ করে দেয়। সাধারণত চীনের শহর অঞ্চলে একটার বেশী সন্তান নেয়া অনেক কঠিন হলেও গ্রাম অঞ্চলে সহজ। তরুণদের নিজস্ব এলাকা থেকে বিয়ের এবং সন্তান গ্রহণের অনুমতি নিতে হয়। যেসব মহিলা এ নিয়মের বাইরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণকর্মী এবং স্থানীয় পার্টি অফিশিয়ালরা গর্ভপাত করার জন্য প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে। আর যেসব পরিবার একটি মাত্র সন্তান গ্রহণ করে সরকার তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়।

ফলে চীনের শহরগুলোতে এক সন্তান এখন সাধারণ বিষয় কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবারে দুটি বা তিনটি সন্তান দেখা যায়। কারণ যেসব পরিবারের (সাধারণত কৃষক পরিবার) প্রথম একটি বা দুটি সন্তান মেয়ে হয় তাদের প্রায়ই আরো সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এছাড়াও চীনের মূল জাতিগোষ্ঠীর (Han) বাইরের প্রায় প্রত্যেকের জন্যই আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণত শহর অঞ্চলে এদের দুটি পর্যন্ত সন্তান নেয়ার অনুমতি দেয়া হয় তবে গ্রাম অঞ্চলে তিনটি বা চারটিরও অনুমতি দেয়া হয়।

বেইজিং রিভিউ পত্রিকা জানায়, এক সন্তান নীতির কারণে চায়নায় মাতৃগর্ভেই অনেক কন্যাসন্তানের ভ্রণ হত্যা করা হয়। অনেকেই এ জন্য দায়ী করে হাজার বছরের পুরনো কনফুসিয়াজমকে। চায়নার অধিকাংশ লোকই কনফুসিয়াজমে বিশ্বাসী আর এই নীতিতে পুরুষদের শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাস করা হয়। বহু শতাব্দী ধরে মানুষের অন্তরে শেকড় গেড়ে থাকা অন্ধবিশ্বাস, "নারীর তুলনায় পুরুষ শ্রেষ্ঠ" এটি দূর করা খুব সহজ নয়।



চীনের যমজ শিশু

পরপর দুটি সন্তান নিলে বাবা-মায়ের শ্বাস্তি হয়। কিন্তু প্রথম সন্তান যমজ শিশু হলে পিতা-মাতার কোনো জরিমানা হয় না। এ কারণে বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে যমজ শিশু জন্মানোর ঘটনা এখন অনেক বেড়েছে।



ছেলে বেশি মেয়ে কম

২০০০ সালে চীনে ছেলেমেয়ের জন্ম অনুপাত ছিল ১১৭:১০০। প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এটি ১০৩:১০০ থেকে ১০৭:১০০-এর মধ্যে থাকা উচিত। এ ছাড়া বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে চীনের মেয়ে শিশুদের মৃত্যুর হার বেশি বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। অনেকে মেয়ে শিশুর জন্ম গোপন করে রাখে। অযত্ন-অবহেলায় তাদের অনেকেরই মৃত্যু হয়।

সরকার নতুন পরিকল্পনায় ২০১০ সালের মধ্যে এই বৈষম্য কমানোর পরিকল্পনা করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ছেলেমেয়ে নির্ণয় করার পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ করা এবং মেয়ে শিশুদের পিতা-মাতার জন্য বিশেষ ভাতা উল্লেখযোগ্য। যেসব দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তাদের বয়স ৬০ পেরিয়ে গেলে তারা বছরে ১২০০ ইউয়ান (১৫৪ ইউএস ডলার) করে পাবে।

(চলবে)

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:৫৩

নুভান বলেছেন: আমি যখন প্রথম আমার চায়নিজ বন্ধুদের কাছে শুনি যে চায়নায় গর্ভপাত নাকি নিষিদ্ধ নয়, শুনে বেশ অবাক-ই হয়েছিলাম। পরে ওরা বললো যে, জনসংখ্যার কারনেই সরকারী ভাবে এটা রীতিসিদ্ধ।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৪৮

দূরন্ত বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। পশ্চিমা অনেক দেশে এটা রাজনীতির মাঠ পর্যন্ত গড়ায়।

২| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:২৩

শরিফ রনি বলেছেন: যেসব মহিলা এ নিয়মের বাইরে গর্ভবতী হয়ে পড়ে তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণকর্মী এবং স্থানীয় পার্টি অফিশিয়ালরা গর্ভপাত করার জন্য প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে।... এটুকু পড়ে ব্যথিত হয়েছি খুব।

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫৪

দূরন্ত বলেছেন: চীনের সরকারের কাছে জন্মনিয়ন্ত্রণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্যই তারা এমন কঠোর নিয়ম করেছিলো। তাদের হয়তো যুক্তি ছিলো যে, যে কোনো মূল্যে জনসংখ্যা সীমিত রাখতে হবে। জন্মের পরে খাদ্যাভাবে, রোগে শোকে নানাভাবে না খেয়ে মরার চেয়ে পৃথিবীর আলো না দেখাই ভালো।

৩| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৩১

জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ধন্যবাদ তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টের জন্য

তবে গ্রামাঞ্চলে, বিশেষ করে চাষীদের জমিজমা থাকে বলে পুত্রসন্তান কামনা করাটার পেছনে শুধুই "কনফুসিয়াজমের শিক্ষার নারীর তুলনায় পুরুষ শ্রেষ্ঠ"র মতো ভাববাদী কারণ কাজ করেনা। এটার চেয়ে বরং বাস্তববাদী কারণই বেশী দায়ী ... চীনেও বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো গ্রামাঞ্চলে বিয়ের পর মেয়েরা স্বামীর সাথে থাকে ... গৃহস্থ কৃষকদের বেলা তাই মেয়ে হওয়া মানে হলো এক সময় তার বাড়ী খালি হয়ে যাবে ... তার সম্পত্তি সব চলে যাবে অন্য গৃহস্থের ঘরে

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫৭

দূরন্ত বলেছেন: তা তো অবশ্যই। মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

৪| ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৩৭

শেরজা তপন বলেছেন: পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ। জানলাম অনেক কিছু

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ৮:৫৭

দূরন্ত বলেছেন: পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন।
শুভেচ্ছা রইলো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.