নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আলোর আয়না এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্য নয়।লেখা অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

ফকির ইলিয়াস

এই ব্লগের সকল মৌলিক লেখার স্বত্ত্ব লেখকের।এখান থেকে কোনো লেখা লেখকের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও প্রকাশ, ছাপা, অনুলিপি করা গ্রহনযোগ্যনয়। তা সৃজনশীল কাজের পরিপন্থী। লেখা অন্য কোথাওপ্রকাশ, ছাপা করতে চাইলে লেখকের সম্মতি নিতে হবে। লেখকের ইমেল - [email protected]

ফকির ইলিয়াস › বিস্তারিত পোস্টঃ

আহসান হাবীবের কবিতার নতুন দিগন্ত / মজিদ মাহমুদ

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৪৭

আহসান হাবীবের কবিতার নতুন দিগন্ত / মজিদ মাহমুদ

----------------------------------------------------------------

বাংলা কবিতার প্রবল আদর্শায়নের যুগে, ভারত বিভাগের উত্তুঙ্গ মুহূর্তে- সেই উনিশশ' সাতচলি্লশ সালে আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাত্রি শেষ' প্রকাশিত হচ্ছে। প্রচ্ছদে ছবি আঁকছেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ।তখন জয়নুল বলতে ঊনপঞ্চাশের মন্বন্তর, বিদ্রোহী ধেনুর দড়ি ছেঁড়ার আকাঙ্ক্ষা, সাঁওতালিনীর জীবন-যে কোনো উপনিবেশিত বাঙালিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। নজরুলীয় প্রবল অভিঘাতের পর তিরিশের দশকে বাংলা কবিতা মেধা ও মননে যখন কিছুটা স্থিত হয়ে আসছিল -ঠিক তখনই ভারত তথা বাঙালির আসন্ন স্বশাসন পুরো পরিস্থিতি উদ্বেলিত করে তুলে। বিশেষ করে রাজনীতিক ওয়াকিবহাল মহলের এই আশঙ্কা ঘনীভূত হয়ে উঠছিল, ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান হলেও যে পদ্ধতি মসনদে জারি হতে যাচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষের মুক্তি ঘটবে না। এই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা থেকে শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কবিদের অনেকেই মার্কসবাদকে অন্বিষ্ট জানছেন; একই সঙ্গে আদি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা মানুষের বৈষম্য ঘুচাতে পারে বলেও দু'একজন প্রতিভাবান কবির বিশ্বাস প্রবল হচ্ছে। এই সময়ের বিপরীত মেরুর দুই প্রতিভাবান কবির নাম সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও ফররুখ আহমদ। তাদের সময়টি তারা প্রবলভাবে শাসন করলেও সমসাময়িকদের কেউ কেউ আলাদা কাব্যিক ভূখণ্ড নির্মাণে মেধা-মননে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠেন; এদেরই অন্যতম আহসান হাবীব। চলি্লশের আদর্শবাদী কাব্যধারার সঙ্গে আমরা নজরুল ও তার অনুসারীদের অধিকতর মিল খুঁজে পাই। বাংলা কবিতায় দ্রোহ ও সংগ্রামের আবহটি পরবর্তীকালে তৎপর থাকলেও ছন্দবদ্ধ কবিতার বাগাড়ম্বরতা মিলিয়ে যায়। ফলে বাংলা কবিতা আলোচনার ক্ষেত্রে একটি প্রক্ষিপ্ত ধারণা আহসান হাবীবের প্রতি আরোপ করা না গেলেও এ কথা বলতে হয়, ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্যিক বলয় তাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, যা আজ কিংবদন্তির মতো।

চট করে আহসান হাবীবের কবি প্রতিভা নিয়ে মন্তব্য করার ঝুঁকি অনেক। যে যৎসামান্য আলোচনা তার সম্পর্কে জারি আছে, তার সবটিতেই তাকে মৃদুভাষী কবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জীবনের শেষ পর্বে এসে তিনি 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ'-এর তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। অর্থাৎ আহসান হাবীবকে পাঠক যতটা প্যাসিভ মনে করেন, তিনি মোটেও তা নন। কবির এই প্রতিবাদ থেকে আমরা তাকে পুনর্গঠিত করতে চাই- এমন নয়। তাঁর মৃদুভাষিতার মধ্যে দ্রোহ কীভাবে ক্রিয়াশীল ছিল সুবিধামতো আমরা তার কিছু ইঙ্গিত দেব।

ঢাকাকেন্দ্রিক সাহিত্য সাময়িকীর সম্পাদক হিসেবে আহসান হাবীবের পরিমাপকতা এখন আর কোনো আলোচনার বিষয় নয়। বলা চলে, সাহিত্য সম্পাদকদের খরা মৌসুমে তিনি এখন এপিকের চরিত্রের মতো দুর্দান্ত সজীব ও আলাদা। আহসান হাবীবের কোনো আলোচনা কেবল তার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। কারণ গত শতাব্দীর চলি্লশ দশকের বাংলা কবিতার উল্লম্ফনতার যুগে তিনি নিরলসভাবে নিজের ধারায় কাজটি করে গেছেন, যা পরবর্তী দশকগুলোর কাব্যকর্মের ভিত্তি রচনায় কিছুটা সক্রিয় ছিল। তিনি যেসব সহকর্মীর সঙ্গে ঢাকার সাহিত্য নির্মাণে কাজ শুরু করেছিলেন, তারা ঠিক পরবর্তীকালের কবিতার ওপর আহসানের মতো ধারাবাহিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। অবশ্য প্রকাশের কাল বিবেচনায় পঞ্চাশের প্রবল পরাক্রান্তদের আগে তার মাত্র দু'একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি প্রথম কাব্য প্রকাশের প্রায় ১৫ বছর পর ১৯৬২ সালে তার দ্বিতীয় গ্রন্থ 'ছায়াহরিণ' প্রকাশিত হয়। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী কবিদের ওপর তার প্রভাবের দাবি পুরোপুরি ধোপে টেকে না। কিন্তু এ কথা ঠিক, কবিতার নিরলস পথিক হিসেবে বাংলা কবিতার ঐতিহ্যের পথে তিনি প্রবল পদচারণা করেছেন। আর সেটিই বাংলা কবিতার বর্তমান ধারা, যার দৃশ্যযোগ্য পরিবর্তন হলেও প্রবল অস্বীকারের মাধ্যমে নবনির্মিতি হয়নি।

আহসান হাবীবের কবিতা গ্রন্থের নাম 'রাত্রি শেষ' হলেও এর অর্থের দিকটি 'প্রভাতসঙ্গীত'-এর মতো। কবি যদিও একটি সন্ধিক্ষণের মধ্যে আছেন, তবু সে সন্ধিক্ষণের অবসান দিবালোকের মতো সত্য। অসতর্ক পাঠে সবসময় মনে হবে, আহসান হাবীবের ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ এ কবিতায় প্রবল হয়ে এসেছে। মনে হবে, আত্মরতির মগ্ন-চৈতন্যের কবি তিনি। কারণ বয়স্যরা যখন শ্রেণীহীন একটি সুখী-সমৃদ্ধ সময়ের স্বপ্ন দেখছেন, ভাবছেন এতদিন পরদেশি শাসন ছিল বলে সব দুঃখ ও গ্গ্নানি তাদের গ্রাস করেছিল_ এখন নিজের দেশটিকে নিজেদের মতো করে গড়ে তুলতে হবে, বণিক স্বার্থের তীক্ষষ্ট নখরের কাছে ছেড়ে দিলে হবে না, আহসান হাবীব সেখানে তার ব্যক্তিগত দিনগুলোর কথা তুলে ধরছেন। তাছাড়া তার প্রথম গ্রন্থটির নামের মধ্যেই রয়েছে রাজনৈতিক সচেতনতার প্রমাণ। উপনিবেশ শাসিত দেশের সময়কে তিনি যে রাতের সঙ্গে তুলনা করছেন, তার প্রমাণ আছে এই গ্রন্থে। 'রেড রোডে রাত্রি শেষ' কবিতায় তিনি বলছেন_



এরা সেই আপনি গড়া খেয়া নৌকায় হয়তো-

পেরিয়ে যাবে গঙ্গা

মিলিয়ে যাবে পশ্চিম সীমান্তে,

নদীর জলে ঝলকে উঠবে মুক্তি,

বন্যা আসবে রেড রোডের প্রান্তে

কেননা এদিকে আবার জাগবে নতুন সূর্য!'



আহসান হাবীবের কাব্যকে একেবারে মগ্নচৈতন্যের মধ্যে আটকে রাখা যায় না। তার এ কাব্য সম্পর্কে ইতিপূর্বে কথিত জনপ্রিয় মত হলো- জীবনানন্দ দাশের সঙ্গে এ কবির রয়েছে প্রকাশ ও চেতনাগত সম্পর্ক। আমার মনে হয়, যারা এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তারা কবির কাল ও মনোগঠনের বিষয়ের প্রতি অনুপুঙ্খ সজাগ দৃষ্টি রাখতে পারেননি। আমার কাছে মনে হয়েছে, দু'কবিরই বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে জন্ম ভিন্ন বড় ধরনের মিল নেই। তাছাড়া আহসান হাবীবের 'রাত্রি শেষ' যখন প্রকাশিত হচ্ছে, জীবনানন্দ দাশের কবিখ্যাতি তখনও প্রভাব বিস্তারের মাত্রা অতিক্রম করেনি। জীবনানন্দীয় যে অবসন্নতা শুরু হয়েছিল তা মূলত পঞ্চাশ দশক ও তার পরবর্তী সময়ে। বরং আহসান হাবীবের আলোচকরা তাদের নিজেদের জীবনানন্দীয় অবসেশন কবির ওপরে চাপাতে চেয়েছেন। যাহোক, হাবীবের কবিতায় যদি কোনো প্রভাব থেকে থাকে, তাহলে তা রাবীন্দ্রিক। এমনকি উলি্লখিত কাব্যাংশেও আমরা 'পুনশ্চ'ও 'পত্রপুট' এর বর্ণনার গভীর ঢং লক্ষ্য করি। তিরিশের কবিতা আহসান হাবীবকে টেনেছিল সত্য; কিন্তু সে টান যে জীবনান্দীয় নয়, এ কথা বলা যায়। এমনকি নজরুলীয় দ্রোহ যে তার কবি-মানস গঠনে গভীর ভূমিকা রেখেছিল, তিনি তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'সারা দুপুর'-এর 'নজরুলকে মনে রেখে' কবিতায় অবলীলায় স্বীকার করছেন- 'কী অসহ্য এবং দুর্বার তোমার উপস্থিতি আমার জীবনে।' এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর আহসান হাবীব তার কবি হওয়ার কাহিনী বর্ণনা করেছেন। এ কথা স্বীকারে কার্পণ্য করেননি যে, নজরুল ভিন্ন তার কবি হওয়ার আর কোনো অহঙ্কার নেই। তাঁর কৈশোর এবং যৌবন ঘিরে এই বিদ্রোহী কবির নায়ক মূর্তি তাকে অহঙ্কার অর্জনের স্বপ্ন দেখিয়েছিল। এমনকি তার শান্তির সুধা ও শ্যামল ছায়াও নাকি নজরুল।

এবার তার সম্পর্কে চালু তথাকথিত মৃদুভাষিতার অভিযোগের জবাব খুঁজব কবির জবানিতে। কবি যে কাব্যগ্রন্থে নিজের মুখোমুখি হয়েছেন তার নাম 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ'- যেখানে তার জীবন ও কবি হওয়ার অনুপুঙ্খ বর্ণনা রয়েছে।

'সুধীজনদের কেউ কেউ বলেন, বলতে বলতে চালু হয়ে গেছে, আহসান হাবীব মৃদুভাষী কবি। কবিতায় মৃদুভাষিতা কী জিনিস, আমি কিন্তু বুঝতে পারি না। ভালো কবিতা আর মন্দ কবিতা বুঝি, সার্থক রচনা আর অসার্থক রচনা বললে বুঝি।'

আজ আহসান হাবীবের কবিতা নিয়ে কেন এ কথাটি বেশি করে বলতে হচ্ছে? কারণ কবির জীবদ্দশায় এমন একটি অভিধা চালু হয়ে গিয়েছিল, কবির কর্মের সঙ্গে যার মিল খুঁজে পাওয়া দুরূহ। বরং আহসান হাবীব তার সমকালীন কবিদের চেয়ে কোনো অংশে কম জেদি ও সময়সচেতন নন। আর এসবই তিনি শিখেছিলেন জীবনের সহজাত প্রবৃত্তি, পূর্বসূরিদের পঠন-পাঠনের মধ্যদিয়ে। নিজের দাবি প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি যে কেমন নাছোড়, 'দু'হাতে দুই আদিম পাথর' কাব্যগ্রন্থ থেকে কিছুটা তুলে ধরা

যাক-



আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি

মাছরাঙ্গা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম অমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই!'

আমার মনে হয়, কবি শেষ জীবনটায় কাব্য-পাঠক ও সমালোচকদের প্রতি ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে পড়েছিলেন। কারণ আমাদের দেশে সাহিত্য সমালোচকরা কাউকে ব্র্যাকেটবন্দি না করে আলোচনা করতে পারেন না। আর সেই ব্র্যাকেটের মধ্যে পড়লে একজন কবির জীবনব্যাপী সাহিত্যকর্মের বিষয়-আশয় নাস্তানাবুদ হয়ে পড়ে। যে কারণে আহসান হাবীবকেও তার কবিতার পক্ষে দাঁড়াতে হয়েছিল। বলতে হয়েছিল- দোহাই, ওসব মৃদুভাষী-টাষী বলবেন না। ভালো লাগলে পড়ূন নতুবা ফেলে দিন। তবে রোমান্টিক দ্রোহী কবিদের যে দশা, সেখান থেকে আহসান হাবীবেরও মুক্তি ছিল না; সেটি হলো প্রেমের প্রতি অতিমাত্রায় পক্ষপাতিত্ব। নারীর মধ্যদিয়েই জীবনের অনেক জটিল ও গভীর কথা তিনি বলতে চেয়েছেন। সব কালেই কবিরা তা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের হাতে এ ধারাটির সবচেয়ে উৎকর্ষ হয়েছিল। তবে রক্ত-মাংসের বিষয়টি কিছুটা লুকানো-ছাপানো ছিল। নজরুলের নারীরা অনেক বেশি রক্ত-মাংসের বাস্তবের নারী। আহসান হাবীবের নারীরা আরও বেশি উষ্ণতাদায়িনী। আহসান হাবীব জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রেমের কবিতা লিখে গেছেন। ষাটোর্ধ্ব কবি ১৯৮১ সালে 'প্রেমের কবিতা' নামে গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন, রবীন্দ্রনাথের পক্ষেই কেবল যা সম্ভব ছিল। সত্তরোর্ধ্ব রবীন্দ্রনাথ তখন 'শেষের কবিতা' লিখে তিরিশের কবিদের টেক্কা দিতে চাচ্ছেন কিংবা আধুনিকতার দুর্বোধ্যতার দুর্গে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাচ্ছেন। আমার মনে হয়, সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে আহসান হাবীবকেও সারা জীবন অসংখ্য তরুণ কবির সামনে দাঁড়াতে হয়েছে। তিনি যেমন তাদের গুরু ছিলেন, তেমন ছিলেন প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই তার সজীব মনে বার্ধক্যের ছাপ লাগেনি কখনও।

------------------------------------------------------------------

দৈনিক সমকাল সাহিত্য সাময়িকী , কালের খেয়া ১০ জুলাই ২০০৯

মন্তব্য ২০ টি রেটিং +৫/-৩

মন্তব্য (২০) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৮:৫৬

গেওর্গে আব্বাস বলেছেন: আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙ্গা আমাকে চেনে
আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম অমি ভিনদেশি পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই!'

সুন্দর পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ কবি।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:১১

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: কিন্তু এসব লেখা ক'জন পড়ে বলুন।

''পৈতাল'' নামের
একটা বেকুব এর মাঝে মাইনাস ও দিয়েছে।
সে কি বুঝে মাইনাস দিলে আমি বেশীই আনন্দিত হই।
কুত্তার কামড় হাটুর নীচে।

আপনাকে ধন্যবাদ কবিবর।

২| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:০৬

তমিজ উদ্‌দীন লোদী বলেছেন: লেখাটি প্রকাশের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।ধন্যবাদ মজিদ মাহমুদকেও।তিনি খুবই পরিশ্রমী এবং মেধাবী লেখক।কবিতাও লেখেন তিনি।আশীর দশকে তিনি খুব পরিশ্রম করে আশীর দশকের কবি ও কবিতা নামক একটি সংকলন করেছিলেন। সেখানে তিনি আমার একটি সাক্ষাৎকার ও কিছু কবিতাও ছেপেছিলেন।আজ এই সুযোগে তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।আহসান হাবীব চল্লিশ দশকের কবিদের মধ্যে যেমন অগ্রগণ্য তেমনি বাংলা কবিতার এক অপরিহার্য
কবি ব্যক্তিত্ব।সময়োপযোগী এ লেখাটির জন্য মজিদ মাহমুদকে সাধুবাদ।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:১২

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: আমি আলোকিত লেখাগুলো ব্লগে সংরক্ষণ করি।
পড়ার জন্য আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

৩| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:২৪

ইমন সরওয়ার বলেছেন: মিলিয়ে যাবে পশ্চিম সীমান্তে,
নদীর জলে ঝলকে উঠবে মুক্তি,
.... .... .... ....

কোনো এক রাত্রিকালে সমস্ত চরাচর বৃষ্টির জলে ধুয়ে যাচ্ছে ... আর ইতারে ভেসে এলো কবি নেই। আমরা জানলাম, আমাদেরই কালের একজন শ্রেষ্ঠ সম্পাদক আর নেই।
.... ..... ......
আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙ্গা আমাকে চেনে
আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম অমি ভিনদেশি পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই!'

---- ---- --- ---
হঠাৎ শেষ করে দিয়ে আপনি বড় কৃপণতা দেখালেন।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৩৪

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: লেখাটা আমার নয়।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

৪| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৩৪

বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: নির্মল সাহিত্য|

এখানে আবার মাইনাস কেন, বুজলাম না| ব্লগে না পেলে এসব লেখা টাকা দিয়ে কিনে পড়া অনেকের পক্ষেই সম্ভব হতো না|

(পোষ্টে প্লাস)

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৪৮

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: এটাই ব্লগ জামানা।
ইটস ওকে।

ভালো থাকুন।

৫| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৩৫

তানভীর রাতুল বলেছেন: পড়লাম, ভাল লেখা ইলিয়াস ভাই

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ৯:৪৯

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ , কবিবর।

৬| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:২৫

সুনাগরিক বলেছেন: কেউ কেউ আছে খালি আজাইরা লেখার অপেক্ষায় থাকে। তারা একটা ভালো লেখা দেখলেই মাইনাস দেয়।

সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ হে কবি।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৩

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

৭| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫১

এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল বলেছেন: আহসান হাবীব বড়ো বেশী অবহেলার শিকার। তুষার দাশ (আহসান হাবীবের কবিতা: নি:শব্দ বজ্র) ছাড়া তাঁকে নিয়ে কেউ বড়ো কোন আলোচনা করেছেন বলে আমার জানা নেই। ঠিক মতো আমরা তাঁকে স্মরণও করি না। অথচ সেই কোন কালে চারপাশের অনেকের তুলনায় কতো আধুনিক আর অগ্রসর ছিলেন তিনি ! তাঁর ''দু;হাতে দুই আদিম পাথর'' যখন বের হয় তখন সদ্য কলেজে দাখিল হওয়া আমরা সে বই পড়ে মুগ্ধ হয়ে ভেবেছি এই সাদাচুলো বুড়ো মানুষটা এমন কবিতা লিখছে কী করে ! আগন্তুক, অপেক্ষা, দাদাজান বলতেন একেকটি হীরক কবিতা ! রোমান্টিকতায়ও কতো আধুনিক-- ''যার খাঁচাতে নেই দরোজা চন্দনা নয় তার।'' আমরা বলতাম, এ বই হলো আশির দশকের শেষ মিনিটের গোল ! আর কারো পক্ষে নতুন করে গোল দিয়ে জয়ী হওয়াতো দূরে থাক, সমতা আনাও সম্ভব না। মজিদের লেখা কালের খেয়ায় পড়েছি। আজ আবার পড়লাম। আপনি আবার পড়ার সুযোগ করে দিলেন বলে, ব্লগে তাঁকে তুলে আনলেন বলে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৪

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা আপনার প্রতিও ।

৮| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৫৮

অমাবশ্যার চাঁদ বলেছেন: খুব ভাল লেগেছে। ভাল পোস্ট।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৫

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: ধন্যবাদ ।

৯| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৩:০৬

দিব০০৭ বলেছেন: আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থিরদৃষ্টি
মাছরাঙ্গা আমাকে চেনে
আমি কোনো অভ্যাগত নই
খোদার কসম অমি ভিনদেশি পথিক নই
আমি কোনো আগন্তুক নই!'

কবি আহসান হাবিব যখন প্রয়াত হন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র, আধুনিক কবিতা মগজে ধারণ করা সদ্য শিখেছি, আপ্লুত ছিলাম নির্মলেন্দু গুনের তখনকার বিপ্লবী কবিতায়, ভলগা এবং লেলিন নামে রক্ত টগবগ করতো (আহা সমাজতন্ত্র!)। হঠাৎ করে পড়ে ফেলি আমি কোনো আগন্তুক নই আমার মন মগজ এবং পরিপাশ মুগ্ধতায় ছেয়ে যায় সেই মুগ্ধতা এখনো কাটেনি। ধন্যবাদ ইলিয়াস ভাই চমৎকার পোষ্টের জন্য।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৭

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: আহসান হাবীব আধুনিক বাংলা কবিতার এক অনন্য আইকন।
ধন্যবাদ আপনাকে পড়ার জন্য।

১০| ১৫ ই জুলাই, ২০০৯ বিকাল ৫:৪১

নিরব পাঠক বলেছেন: কবি ফকির ইলিয়াছ ভাই,

অাপনাকে শুভেচ্ছা এমন সুন্দর একটা পোষ্ট দেবার জন্য। কিছু কিছু্ ব্লগাররা মনে হয় ওৎ পেতে বসে থাকে আপনার পোষ্টের জন্য, আর যখনি দেখে তখনই না পড়ে মাইনাস দিয়ে যায়।

আপনার পথচলা আরো সুন্দর হউক কবি,। মঙ্গলেই থাকুন এবং সৃষ্টি করুন নতুন ছন্দ।

১৫ ই জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:৩৯

ফকির ইলিয়াস বলেছেন: তা তো থাকেই । থাকবে ই। এতে আমার কোনো ক্ষোভ নেই।
আমার পাশে আপনাদের মতো অনেক পরিশুদ্ধ পাঠক-পাঠিকা আছেন, তা আমার শক্তি।
আপনি ভালো থাকুন সর্বদা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.