| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
গত সপ্তাহে বাংলামোটর সিগন্যাল জ্যামে বসে আছি। এমটিবির হেডকোয়ার্টারের সামনে। আমার চারপাশে সব মোটরসাইকেলের ভিড়ের মাঝে আমি একাই সাইকেল নিয়ে বসে আছি। যারা সাইকেল চালায় তারা খুব একটা জ্যামে আটকায় না। জ্যাম বাঁধলে সাইকেল ফুটপাতের উপর দিয়ে সাইকেল নিয়ে চলে যায়। আমি এই কাজটা করি না বললেই চলে। জ্যামে পড়লে আটকে বসে থাকি। আমার কোথাও যাওয়ার এত তাড়া থাকে না কোনোদিনই। আর যেখানে যাওয়ার জন্য আমি বের হই নির্ধারিত সময় নিয়েই বের হই। তাই চুপচাপ বসে থাকি জ্যামে। আশেপাশে গাড়িঘোড়া দেখি, মানুষজন দেখি, তাদের চোখের বিরক্তি দেখি। মাঝে মাঝে ফোন বের করে ব্রাউজ করি।
এমন করে যখন আমি, যখন সময় পার করছিলাম তখন হঠাৎ করেই আমার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার ভাইভার কথা মনে পড়লো। ঠিক কেন আমার এই কথা মনে পড়লো আমি জানি না। আশেপাশে কোনো পোস্টার ছিল বলে মনে পড়ছে না। তবুও আমার সেই দিনের কথা মনে হলো। আমাদের ভাইভার তারিখটা এখন আমার মনে নেই আর। আমি যথারীতি সকাল দশটার কিছু পরে গিয়ে হাজির হয়েছি। সমাজবিজ্ঞান অনুষদে আস্তে ধীরে ভাইভা নেওয়া হচ্ছে। দারোয়ান এসে জানালো যে যাদের মেরিট পজিশন একশ তাদের এখন ভাইভা হবে আর যাদের একশর পরে তাদের ভাইভা শুরু হবে দুইটার পরে। আমার পজিশন ছিল ১০৫। তার মানে আমারটা হবে পরে। ভার্সিটির এদিক-অদিক ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। সময় যেন কাটে না।
এক সময় সময় হলো। আমি ভাইভা রুমে ঢুকলাম। সেই সময় ভাইভা বলতে স্যারদের সামনে কোনো সাবজেক্টে পড়তে চাই সেটা বলতে হতো। আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি নিয়ে পড়ার। মেরিট পজিশন ১০৫ ছিল তাই আশা ছিল যে ইংরেজি পাব। কিন্তু ইংরেজি পেলাম না। যে স্যার সেখানে ছিলেন তিনি বললেন ইংরেজির সিট ভর্তি হয়ে গেছে। এটা বাদ দিয়ে আর যেকোনো সাবজেক্ট চাও নিতে পারো।
আমি তখন কী সাবজেক্ট নেব সেটা আর ভাবতে পারলাম না। তারপর আপন মনেই বলে উঠলাম অর্থনীতি। সেদিন আসলে আমি কেন ঠিক অর্থনীতি বলেছিলাম আমি নিজেই জানি না। আমার কোনো ধারণা ছিল না।
বাংলামোটরে বসে আমার ভাবনাটা অবশ্য এটা না। ভাবনাটা ছিল এর পরে। আমার মনে হলো আমি সেদিন অর্থনীতি বলেছিলাম বলেই আজকে আমার পুরো একটা সার্কেল তৈরি হয়েছে আলাদা। আমার বর্তমানে পরিচিত অর্ধেক মানুষ এখন আমার জীবনে রয়েছে কেবলমাত্র সেদিন আমি বেখেয়ালে অর্থনীতি বলেছিলাম বলেই। যদি সেদিন আমি আইন বলতাম কিংবা ম্যানেজমেন্ট বলতাম, আমার জীবনের বর্তমান মানুষগুলোর অর্ধেকের বেশির সাথে আমার পরিচয় হতো না। হয়তো অন্য কোনো একটা সার্কেল তৈরি হতো তবে এই মানুষদের সাথে আমার কোনো পরিচয় হতো না।
আমার এক ক্লাসমেট আমার প্রথম টিউশনি জোগাড় করে দিয়েছিল। সেই টিউশনি শেষ হয়েছে অনেক আগেই। তবে এখন তাদের সাথে আমার যোগাযোগ হয় নিয়মিত। এই যে একটু আগে, এই লেখা শুরুর আগে আন্টি ফোন দিয়েছিল। দাওয়াত দিল। আমি যদি ঢাকাতে কোনো বড় রকমের বিপদে পড়ি আমি জানি সবার আগে এই পরিবারের লোকজন এগিয়ে আসবে। এই যে এত কাছের মানুষ হয়ে ওঠা, সেদিন যদি আমি বেখেয়ালে অর্থনীতি না বলতাম তাহলে তাদের সাথে আমার কোনো পরিচয়ই হতো না।
আপনিও একবার চিন্তা করে দেখেন। আপনি জীবনে এমন কিছু কাজ করেছেন, এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার পরে আপনার পুরো একটা সার্কেল তৈরি হয়েছে। যদি সেটা বাদ দিয়ে অন্য কোনো কাজ করতেন তাহলে এই পুরো সার্কেলের কারো সাথে আপনার কোনো দিন যোগাযোগই হতো না। চিনতেনই না।
ছবি সুত্র
২|
১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:৫৮
ঢাকার লোক বলেছেন: আপনি একটা ভালো ফ্যামিলির সাথে পরিচিত হয়েছেন, আর আমি ঠিক একইভাবে আমার স্ত্রীকে পেয়েছি, যে সাবজেক্টে পড়েছি সে না পড়লে হয়তো আমার শশুরের দেখাই মিলতো না ! Wish you good luck!! ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৯ শে মে, ২০২৬ রাত ১২:২৫
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: অর্থনীতি দারুণ একটা সাবজেক্ট । আজকাল এডটেক সেক্টরে মেন্টরিং করে অনেকেই আর্থিকভাবে বেশ ভালো আছেন।