নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ট্রুথ নেভার ডাই্‌জ

নিজের সম্পর্কে লেখার কিছু নেই । সাদামাটা ।

আহমেদ জী এস

পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...

আহমেদ জী এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

“মাগো, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে .....” [ ছবি ও লেখা ব্লগ ]

২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:০৯


“মাগো, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে .....” [ ছবি ও লেখা ব্লগ ]
[তৃতীয় এবং শেষ পর্ব ]

বিজন আকাশ পারে
কে যেন ডাকিছে মোরে
রঙের পেখম মেলি......


ছবি : ট্যারানটুলা নেবুলা , টেলিস্কোপের চোখে ।

হ্যা, আট হাত-পাওয়ালা ভয়ঙ্কর মাকড়সা ট্যারানটুলার মতোই দেখতে আকাশে এই রঙের খেলাটি । তাই নাম – ট্যারানটুলা নেবুলা । ১ লক্ষ ৭০ হাযার আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই আলোকদৃশ্য আপনার চোখে ধরা দেবে দক্ষিন আকাশে ।
বিশাল ম্যাজেলানিক মেঘমালার (Large Magellanic Cloud) মিয়্যুজিয়ামে ঝোলানো আছে ছবিটি । এতো দূরে থেকেও এর উজ্বলতা এতোটাই যে, যদি ওরিয়ন নেবুলার দুরত্বে এটি আপনার কাছেই থাকতো তবে তার আলোতে সূর্য্যের মতোই আপনার ছায়া পড়তো পৃথিবীর গায়ে । তখন ---- যার ছায়া পড়েছে মনের আয়নাতে.... গানটির মতো আপনার আকাশের আধেকটাই জুড়ে থাকতো তার ছবি । এ পর্য্যন্ত আপনার জানা সবচেয়ে উষ্ণ , সবচেয়ে উজ্বল আর সবচেয়ে বড় দানবাকৃতি নক্ষত্রের রঙ মিশিয়েই আঁকা হয়েছে এই ধুম্র মেঘমালা, ১১০০ আলোকবর্ষ আয়তনের মহাকাশের ক্যানভাসে। নাসার শক্তিশালী তিন তিনটি অবজারভেটরী – হাবল, চন্দ্রা আর স্পিৎজারের টেলিস্কোপিক তুলি দিয়ে আঁকা হয়েছে ছবিটি ।



ছবি : ট্যারানটুলা নেবুলার ব্যবচ্ছেদ .....

ট্যারানটুলা নেবুলার ছবিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে যে বিশাল দৈত্যাকারের তারাগুলো, তাদের রঙের আলোতেই উদ্ভাসিত এই ধুলোর মেঘমালাটি । এই তারাদের মোট ভর চার লক্ষ পঞ্চাশ হাযার সূর্য্যের ভরের সমান । তাই এতোগুলো সূর্য্যের দীপ্তি নিয়ে সে তো সুদূরের আকাশ রাঙিয়ে তুলবেই ! রাঙিয়ে তুলবে আপনার মনটাকে ও ।

মন মোর উড়িবারে চায়
অসীম আকাশের গায়,
নেচে নেচে, গানে গানে -
জানি - জানি তুমি রহিবে চেয়ে
আমারই পানে .....


ছবি : প্রজাপতি, প্রজাপতি পাখনা মেলো.... বাটারফ্লাই নেবুলা ।

সূর্য্যের চেয়ে পাঁচগুন বেশী ভর নিয়ে একটি মৃতপ্রায় নক্ষত্রের শুককীট থেকে জন্ম নিচ্ছে একটি অপরূপ প্রজাপতি । শান্ত একটি প্রজাপতির মতো মনে হলেও আসলে সে তা নয় । পাখনাগুলোকে ছুঁইয়ে দেখার সাধ আপনি ভুলেও করবেন না যেন কোনদিন । কারন প্রজাপতির মেলে দেয়া পাখনায় আগুন যেন তার পরশমনি ছুঁইয়ে গেছে । বিশ হাযার (২০,০০০) ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে উত্তাল কুন্ডলীকৃত গ্যাস, কেন্দ্রে থাকা মৃতপ্রায় নক্ষত্রটির বুক ফেটে ছড়িয়ে যাচ্ছে দু’দিক থেকে ঘন্টায় ৯৫০,০০০ কিলোমিটার বেগে । একটি মরনোন্মুখ নক্ষত্রের কি প্রজাপতি হয়ে পাখনা মেলার ইচ্ছে ? হয়তো !

জ্যোতির্বেত্তারা এমন সুন্দর একটি প্রজাপতিকে “প্লানেটারী নেবুলা”র শ্রেনীতে ফেলেছেন । কারন ছোটখাটো একটি টেলিস্কোপের চোখেও নক্ষত্রটিকে গ্রহের মতো গোলাকারই দেখাবে । মহাশূন্যে ১৯ বছরের পুরনো হাবলকে সারাতে আর আপগ্রেড করতে গিয়ে ২০০৯ সালের মে মাসে নাসার নভোচারীরা যে নতুন একটি ক্যামেরা বসাচ্ছিলেন তাতেই ধরা পড়েছে এই মহাকাশীয় প্রজাপতিটি ।
...নিউ জেনারেল ক্যাটালগ অব নেবুলা এ্যান্ড ক্লাস্টার অব ষ্টারস.... যাকে সংক্ষিপ্ত করে ডাকা হয় এন,জি,সি (NGC) সেখানে এটাকে নথিভূক্ত করা হয়েছে এন,জি,সি – ৬৩০২ নামে । জ্যোতির্বিদ্যায় মহাকাশের গভীরে থাকা সব বস্তুকেই চিহ্নিত করে করা এই ক্যাটালগটি সুপরিচিত হয়তো আপনার কাছে । এন,জি,সিতে এরকম ক্যাটালগকৃত মহাকাশীয় বস্তুই আছে আট হাযারের মতো ।
মাত্র ৩৮০০ আলোকবর্ষ দূরে আপনার ছায়াপথ গ্যালাক্সির স্কর্পিয়াস কনষ্টিলেশনে রয়েছে এন,জি,সি – ৬৩০২ । সেখানে ২২০০ বছর আগে এই বাটারফ্লাই নেবুলাটি তার পাখনা মেলতে শুরু করেছে । এর মধ্যেই তার পাখনার ব্যাপ্তি ২ আলোকবর্ষ ছাড়িয়ে গেছে । বাটারফ্লাই নেবুলাটি তার পাখনা আরও মেলুক আর আপনার মনের সব আঁধার কোনে কোনে রঙের রঙ মশাল জ্বালুক ।

এইখানে শূন্যে, উঠেছে অজেয় পাহাড়
একটি হিমালয় যেন আকাশের ভেতর,
রহস্যে ঘেরা আগুনের তনুখানি তার....


ছবি : দ্য মিস্টিক ফ্যান্টাসী মাউন্টেন ।


ছবি : ফ্যান্টাসী মাউন্টেনের একটুকরো অংশ যেখানে উজ্বলতা ছড়াচ্ছে সদ্য জন্মানো শিশু নক্ষত্রের দল ।

৭৫০০ আলোকবর্ষ দূরের কারিনা নেবুলার ভেতর গড়ে উঠেছে তিন আলোকবর্ষ উঁচু এই গ্যাস আর ধুলোর পাহাড়টি । আগুনের হল্কা তার গায়ে । আশেপাশের উত্যক্তকারী বিশাল বিশাল তারাদের (ষ্টার টিজার) প্রচন্ড রেডিয়েশান আর আয়নিত ধুলিকনার তীব্র ঝড়ো বাতাসে এই পাহাড়ের আবরন খসে খসে যাচ্ছে ধ্রৌপদীর বস্ত্রহরনের মতো । তাই আয়নিত উষ্ণ গ্যাসের বিচ্ছুরন তার প্রান্ত জুড়ে । তার কোলে জন্ম নেয়া শিশু তারাদের রঙে রাঙানো অক্সিজেনের স্বচ্ছ নীল ওড়না উড়ে উড়ে যাচ্ছে তার শীর্ষ থেকে । হাইড্রোজেন আর নাইট্রোজেন কুন্ঠিত হয়ে সবুজ হয়ে উঠেছে । সালফার গ্যাস লজ্জায় হয়ে গেছে কমলা-লাল । রেডিয়েশানের লোলুপ হাতে লজ্জা খসাতে দেবেনা বলে আয়নিত গ্যাস আর ধুলোরা কেউ কেউ ভেতরে ভেতরে জমাট বেঁধে কালচে রঙ ধরে ঘাপটি মেরে বসে আছে যেন । পরতে পরতে গ্যাসীয় এই রঙের লাজরাঙা খেলা তার সারা তনুমন জুড়ে । তবুও শেষ রক্ষা হবে তো ?

২০১০ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী হাবল স্পেস সেন্টারের ওয়াইল্ড ফিল্ড ক্যামেরা -৩ (WFC-3) এর এই ছবি বলছে শেষ রক্ষা বুঝি আর হলোনা ! যে হারে এই পাহাড়ি মেয়ের শরীর থেকে আবরন খসে যাচ্ছে ( ছবিতে মধ্য শিখর থেকে খসে উড়ে যাচ্ছে ধুলোর খন্ড মেঘ ) তাতে মাত্র কয়েক মিলিয়ন বছরের ভেতরেই এই রহস্যে ঘেরা পাহাড়টির রঙ মুছে যাবে আকাশের গা থেকে ।

মহাপ্রস্থানের পথে
মরনের ধুপছায়া মাখি
জুড়াইছি তব আঁখি ।
মরনের পরে ....
কে তুমি পূজিবে মোরে
আজি হতে অযুত বছর পরে ?


ছবি : বাটারফ্লাই নেবুলা M2-9 ।

মৃত্যুর কি কোনও রঙ থাকে ! মৃত্যুর ছবি কি শিল্পে ঐশ্বর্য্যমন্ডিত হয়ে ওঠে ! হয়তো !
তাই আকাশের নিবিড় বুক থেকে হারিয়ে যাওয়ার আগে নক্ষত্রেরা এমনিই রঙ ছড়ায় বুঝি !
আসলেও তাই । মহাপ্রয়ানের পথে দুটি নক্ষত্রের একত্রে জড়াজড়ি করে নিঃশেষ হয়ে যাবার ছবি এটি ।

ছবি : ১৯৯৮ সালে হাবল ওয়াইড ফিল্ড প্লানেটারী ক্যামেরা - ২ এ চারটি ন্যারো ব্যান্ড ফিল্টার ব্যবহার করে তোলা রূপসী M2-9 ।

আদিগন্ত নিঃসীম আকাশের কালো অন্ধকারে এরকম আবেগে জড়াজড়ি করে থাকা অনেক বে-শরম নক্ষত্র জুটিই (binary star system) দেখতে পাবেন আপনি ।
এটিও তাই - M2-9 বা বাটারফ্লাই বা জেট নেবুলা । পৃথিবী থেকে কনষ্টিলেশন “অফিয়্যুকাস”য়ের দিকে ২১০০ আলোকবর্ষ দূরের এই দ্বৈতনক্ষত্র জুটির মরনের আগে হেচকি তোলার নান্দনিক একটি ছবি । প্লুটোর কক্ষপথের চেয়ে দশগুন বড় এলাকা নিয়ে জুড়ে থাকা গ্যাস-বলয়ের ভেতরে অন্তিম শয়ানে একে অপরকে আলিঙ্গনে বেঁধে রেখে নক্ষত্র দুটি গুনছে মৃত্যুপ্রহর ।
ছবির মাঝখানের উজ্বলতাটুকু মূল নক্ষত্রের অন্তিমদশা । পরষ্পরের তুমুল আকর্ষনের আবেগে নক্ষত্র দুটির বুক থেকে যে গ্যাস ফুলে ফেঁপে উঠছে তাইই ছড়িয়ে যাচ্ছে দুদিকে । মাত্র ১২০০ বছর আগে এই উদগার, গ্যাসীয়বলয় থেকে ছুটে চলার পথে তাকে দিয়ে গেছে এই প্রজাপতি রূপটি । প্রতি সেকেন্ডে ২০০ মাইল বেগে ছিটকে বেড়িয়ে আসা এই গ্যাসীয় স্রোতকে আপনি ----- সুপার-সুপারসনিক জেট --- বললেও কোনও ক্ষতি নেই । নভোচারীরা বলছেনও তাই – জেট নেবুলা ।
এমন নৈঃস্বর্গিক রূপ-রঙ নিয়ে আমাদেরও জীবনাবসান হবে কি ? কে জানে .......

আকাশে এখন খুব নীরবতা
জমেছে আঁধার গাঢ়,
হৃদয়ে প্রেমের গল্প
হে প্রিয়তমা, কাছে এসো আরও
.
ছবি : এ্যানটেনা গ্যালাক্সি ।


ছবি : পৃথিবী থেকে ৬২ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে দুটি গ্যালাক্সির কাছে আসা ।

শুধু যে চন্দ্রিমা আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হাত ধরাধরি করে কাছে বসে থাকা জুটির দেখা মিলবে আপনার তা নয়; আকাশের উদ্যানেও আপনি এরকম জুটি দেখতে পাবেন ঢের ঢের ।
এদুটি গ্যালাক্সির দেখা হয়েছিলো ১০০ মিলিয়ন বছর আগে । সে থেকেই তারা প্রেমে মশগুল । দুজনার ভেতরে জমে থাকা প্রচন্ড আবেগের তাড়নায় (combined force of their awesome gravity) দুজনে দুজনাকে ঘিরে নৃত্যরত আজও । এই প্রেমজ ঔরসে জন্ম হচ্ছে আরও হাযার হাযার নক্ষত্র । এদের ভেতরে থাকা বৃহদাকার নক্ষত্রগুলো অনেক আগেই সুপারনোভা হয়ে ঝরে গেছে । নীরব আকাশে এ দুটি গ্যালাক্সির হৃদয়ের এই গল্প পাপারাজ্জিদের মতো তুলে এনেছে নাসার (NASA’s space telescopes) মহাকাশীয় তিন তিনটি টেলিস্কোপ । ছবির নীল রঙ, চন্দ্রা এক্স-রে অবজারভেটরীর তোলা । সুপারনোভা বিষ্ফোরণের ফেলে যাওয়া অক্সিজেন , আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম আর সিলিকন মেশানো মেঘমালার রঙ । হাবল স্পেস টেলিস্কোপ তুলে এনেছে এর সোনালী আর খয়েরী রঙ । স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ ধরেছে তার লাল রঙটি । এই রঙ নতুন জন্ম নেয়া নক্ষত্রদের উত্তাপে উত্তাপে রঙিন হয়ে যাওয়া উষ্ণ গ্যাসের ।
১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল নিয়ে ১১৭ ঘন্টা লেগে থেকে এই তিনটি পাপারাজ্জির তোলা এই অনিন্দ্য সুন্দর ছবিটি শুধু আপনার জন্যেই । তবে কবে যে এরা দুজন একে অন্যের মাঝে বিলীন হয়ে যাবে , জন্ম দেবে অন্ধকারের এক অতল গহ্বর সময়ই তা বলে দেবে । সেদিন কি আপনার কষ্ট হবে খুব !!!

ভবিষ্যতের ছবি আঁকে
কোন বিষন্ন কারিগর এসে !
তবে কি এই পৃথিবীর সব বিজন ঘাস
চাঁপাফুল মাখা এইসব মধুমাস
শেষ হবে রজনী শেষে ?


ছবি : ভবিষ্যতের ছবি । এ্যান্ড্রোমিডা আর ছায়াপথ গ্যালাক্সির যুগলবন্দী । তীব্র আকর্ষনে একে অপরের মাঝে হারিয়ে যেতে নেই মানা ......

কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পান ? যে ধাবমান কাল আমাকে – আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চলেছে এক দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে ?
মহাবিশ্বের এই রূপ-রস-রঙের খেলায় .....মাগো, তোমায় দেখে দেখে আঁখি না ফেরে ..... গানটিতে আর কতোদিন মজে থাকবেন আপনি ? আর কতোদিন আপনার জানালায় সূর্য্যের সোনালী আলোর ঝিলিমিলি দেখতে পাবেন ? কতোদিন মায়াবী চাঁদের জ্যোৎস্নায় আপনার প্রিয়তমা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনবেন আপনার কবিতা ?
যা কিছু চাওয়ার , চেয়ে নিন সব । ভালোবেসে নিন সব তুচ্ছ তৃনলতা – মাটির সোঁদা শরীর – আকাশ,বাতাস আর সমুদ্রের ঘ্রান ।
মাত্র পৌনে চার বিলিয়ন বছর । তারপর হয়তো আর কিছু নেই । বলতে হবে – হে বন্ধু ; বিদায়... ।।

হাবল টেলিস্কোপের ধারন করা তথ্য নিয়ে নাসা (NASA) এমন ভয়ঙ্কর এক আকাশের ছবি এঁকেছেন । আপনার আকাশের হৃদয়কে বিদীর্ণ করে দেবে বলে প্রতি সেকেন্ডে ৬৮ মাইল বেগে ছুটে আসা এ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির এই ভালোবাসার রঙ কী মনোহর ! বড় ভালোবাসা যেমন কাছে টানে তেমনি নাকি দূরেও ঠেলে দেয় ! এ ছবি কাছে টানার নয় – দূরে ঠেলে দেয়ার । এ এক ভাঙনের গল্প ।


ছবি : ফটোশপে চিত্রায়িত মহামিলনের গান .....
ভাঙনের আগে মিলন মূহুর্তের এই অপরূপ ভবিষ্যতের ছবিটি আরিজোনার প্রেসকট এলাকা থেকে দুটি ভিন্ন সময়ে ক্যামরায় তোলা ছবি নিয়ে মনের মাধুরী মিশিয়ে ফটোশপ -৫ এ তুলে এনেছেন সীন পার্কার ।
মফস্বল শহর প্রেসকটের নির্মল আকাশ থেকে নিজের ১৪ ইঞ্চি টেলিস্কোপিক ক্যামেরায় সীন পার্কার তুলেছেন ছায়াপথ গ্যালাক্সির চিরায়ত ছবিটি । আর ছুটে আসা এ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির ছবিটি আলাদা ভাবে তুলে , দুটোকে মিলিয়ে এঁকেছেন এক অচেনা ভবিষ্যতের পালাচিত্র ।


ছবি : রাতের আকাশে একদিন এ্যান্ড্রোমিডা আর ছায়াপথ গ্যালাক্সির শেষ উষ্ণ চুম্বন ...

চার মিলিয়ন বছর পরে এভাবেই বেজে উঠবে বিরহের বীণ , করুন অস্তরাগে । এ্যান্ড্রোমিডা আর ছায়াপথ গ্যালাক্সি যেদিন পরস্পরের টানে হৃদয়ভাঙার খেলায় মেতে উঠবে ।
সেদিন আপনি আর শোনাবেন না কোনও হৃদয়ের গান । কেউ এসে বলবেনা আর , ভালো আছো তো ...!
শুধু সেই মহা মিলনের দিনটুকু পর্য্যন্ত আপনার মনে হবে .........

খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে
হে বিরাট শিশু আনমনে.........
শূন্য মহা আকাশে
তুমি মগ্ন লীলা বিলাসে
ভাঙিছো গড়িছো নিতি
ক্ষনে ক্ষনে
নিরজনে প্রভু নিরজনে ....

সূত্র : NASA / Wikipedia /
https://annoyzview.wordpress.com/
http://www.universeforfacts.com
http://www.skyimagelab.com/m16eanega.html
http://www.astromax.org/

http://earthsky.org/

http://www.spacetelescope.org/

http://apod.nasa.gov
http://www.nasa.gov/vision/universe/solarsystem/stereo1_prt.htm

মন্তব্য ৪০ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৪০) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:১৮

ইমতিয়াজ ১৩ বলেছেন: প্রথম ভাল, বর্ণনা তো পড়াই কিন্তু ছবি দেখার জন্য সময় প্রয়োজন অনেক।



ধন্যবাদ আপনাকে এই পোস্টের জন্য।

২২ শে জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ইমতিয়াজ ১৩ ,



ঃভালো লাগলো মন্তব্যটি ।
কিন্তু .. বর্ণনা তো পড়াই হয় কি করে আগে ভাগে ?
সময় নিয়েই না হয় এই ভয়ঙ্কর ও একাধারে নান্দনিক ছবিগুলো দেখুন ।

শুভেচ্ছান্তে ।

২| ২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:২৪

কাবিল বলেছেন: অসাধারন পোষ্ট। ভাল লাগলো।

২২ শে জুন, ২০১৫ রাত ৮:১৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: কাবিল ,

ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো ।
মন্তব্যের জন্যে শুকরিয়া ।

৩| ২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৪

হাসান মাহবুব বলেছেন: যেন অন্য কোন জগতে চলে গিয়েছিলাম! মহামুগ্ধতা।

২২ শে জুন, ২০১৫ রাত ১০:১২

আহমেদ জী এস বলেছেন: হাসান মাহবুব ,



অন্য এক জগতের গল্পই তো জানাতে চেয়েছি । যেখানে অনন্ত মহাকাল , অনন্ত ডিমেনসনস নিয়ে পড়ে আছে । শুধু দেখি , বোধ বুদ্ধির নাগালে ধরেনা ।

মুগ্ধ আপনার মন্তব্যেও ।

৪| ২২ শে জুন, ২০১৫ বিকাল ৪:২৪

জর্জিস বলেছেন: গ্রেট !!

২২ শে জুন, ২০১৫ রাত ১০:৩২

আহমেদ জী এস বলেছেন: জর্জিস ,



ধন্যবাদ ছোট্ট কিন্তু জোরালো মন্তব্যের জন্যে ।

৫| ২২ শে জুন, ২০১৫ রাত ১০:০০

দীপংকর চন্দ বলেছেন: অসম্ভব উপভোগ্য উপস্থাপনা!!!

খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে
হে বিরাট শিশু আনমনে........


মহাকাশ চিরকালই মহাচিন্তায় ফেলেছে মানুষকে!!

অনিঃশেষ শুভকামনা জানবেন শ্রদ্ধেয়।

অনেক ভালো থাকবেন। সবসময়।

প্রিয়তে পুনরায়।

২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ৯:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: দীপংকর চন্দ ,


সুন্দর মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ দিচ্ছি আগেই ।
হ্যাঁ .... এই জীবন, এই মহাবিশ্ব নিয়ে তো সেই এক শিশুর পুতুল খেলাই ! সব ভেঙেচুরে আবার নতুন করে সাজিয়ে খেলে যাচ্ছে সে নিরজনে বসে, আপন মনে ......।

প্রিয়তে নেয়ায় কৃতজ্ঞ ।
ভালো থাকুন আর সুখে ...

৬| ২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ২:৪৬

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: বর্ননা ছবিগুলিকে সত্যকারের প্রান দিয়েছে।।

২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ৯:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: সচেতনহ্যাপী ,



মন্তব্যে আমিও প্রান পেলুম যেন ।
দিনগুলো সুন্দর হোক আপনার ....

৭| ২৩ শে জুন, ২০১৫ রাত ৮:৪৫

সুমন কর বলেছেন: ছবিগুলো আর বোল্ডকরা লাইনগুলো পড়ে গেলাম - অদ্ভুত সুন্দর।

+।

২৫ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:০৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: সুমন কর ,


ধন্যবাদ পড়েছেন বলে ।
বোল্ড করা লাইনগুলোর কিছু প্রথিতযশাদের বাকীগুলো এই অধমের । আপনার কাছে তা সুন্দর হয়ে ধরা দিয়েছে জেনে খুশি হয়েছি ।
অনিচ্ছাকৃত বিলম্বের জন্যে দুঃখ প্রকাশ করছি ।

৮| ২৪ শে জুন, ২০১৫ সকাল ৯:৪৩

জুন বলেছেন: সেই ছোটবেলা থেকেই মহাশুন্য, পৃথিবী, গ্রহ নক্ষত্র নিয়ে প্রচন্ড কৌতুহল ছিল যা এখনো আছে। রাতের আঁধারে ছাদে বসে খুজে বের করতাম কাল পুরুষ, সপ্তর্ষী মন্ডল, গ্রেট বিয়ারকে । মিলিয়ে নিতাম গ্রিক মিথোলজির চরিত্রগুলোর সাথে। খালি চোখে খুজতাম অরোরা বোরিয়ালিস , অরোরা অস্ট্রেলিসকে । খুজে ফিরতাম এন্ড্রোমিডা ধুমকেতু আরো কত কি ।
আপনার চোখে দেখে নিলাম ছবিতে দেখা ছায়াপথের সাথে কাব্যিক বণর্না । অপুর্ব লাগলো আহমেদ জী এস
+

২৫ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন ,



এই মহাবিশ্বের বিশালতার তুলনায় মানুষের এই পৃথিবী যে কতো ক্ষুদ্রতম আর তুচ্ছ তা বোঝাতেই রূপ-রসের এই ডালি খুলে বসেছিলুম । সে রূপ-রসের গন্ধ যে আপনার বালিকা বেলাতেও মনের উঠোনে ছড়ানো ছিলো , তা জেনে ভালো লাগলো ।

তবুও বলি ------ কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পান ? যে ধাবমান কাল আমাকে – আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে চলেছে এক দুঃসাহসী ভ্রমনের পথে ?

বেলা দ্বিপ্রহরের শুভেচ্ছা ।

৯| ২৪ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১:০৫

জেন রসি বলেছেন: সবকিছুই যেন সবকিছুর সাথে পরম আদরে কিংবা নির্লিপ্ততায় জড়িয়ে আছে......

চমৎকার.....

২৫ শে জুন, ২০১৫ রাত ১০:১৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,


নির্লিপ্ততায় নয় সব কিছুর সাথে সব কিছুই সক্রিয় বন্ধনে জড়ানো । সে সক্রিয়তা টানের , নিয়তির অমোঘ আকর্ষনের ।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।

১০| ২৬ শে জুন, ২০১৫ রাত ১১:৪৫

পাপতাড়ুয়া বলেছেন: বিরাট শিশুর খেলাঘর। সুন্দর বর্ণনা। বাটারফ্লাই নেবুলাটা সুন্দর অনেক।

২৭ শে জুন, ২০১৫ দুপুর ১২:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: পাপতাড়ুয়া ,



ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
হ্যাঁ..... বিরাট শিশুর খেলাঘরই বটে এই বিশ্ব ।

১১| ০১ লা জুলাই, ২০১৫ রাত ১১:৩২

ইনকগনিটো বলেছেন: যাইতে ইচ্ছা করে :(

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ইনকগনিটো ,



কোথায় যাবেন ? মনে মনে তো এর চে' অনেক দূর অবধি যাওয়া যায় ! যাবেন ? B:-)


১২| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:০৫

প্রামানিক বলেছেন: দারুণ পোষ্ট। ধন্যবাদ

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১:০৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্রামািনক ,



মন্তব্যের জন্যে সংযমী ধন্যবাদ ।

১৩| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৩২

প্রোফেসর শঙ্কু বলেছেন: সুন্দর। খুবই সুন্দর ছবিগুলো। দেখে গেলাম আবার।

০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১১:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্রোফেসর শঙ্কু ,




খসে খসে গেছে স্মৃতি ?
আবার দেখে গেলেন মানে ? কবে এসেছিলেন ?

ভুল মেরে দিয়েছেন । তবুও এই যে এসেছেন, তাতেই খুশি । ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।

ভালো থাকুন ।

১৪| ০৫ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৫

ফা হিম বলেছেন: বহুদিন পর ব্লগে এসে সিরিজ টা শেষ করলাম।

০৫ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১১:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ফা হিম ,




অনেক দিনের পরে যেন বৃষ্টি এলো আপনার এই আসাতে ।
সিরিজটি শেষ করেছেন জেনে ভালো লাগলো ।

বহুদিন পরে আর নয় , বারে বারে আসুন ।
শুভেচ্ছান্তে ।

১৫| ০৫ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৪:৩৬

রাবার বলেছেন: আখি ফিরানো কঠিন

০৮ ই জুলাই, ২০১৫ সকাল ১১:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাবার ,



আগেই ক্ষমা চেয়ে নিই জবাব দিতে দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে ।
খুব সুন্দর বলেছেন - আখি ফিরানো কঠিন । যেমন আখি ফিরানো কঠিন আপনার নিক এর ছবিটি থেকে ।

শুভেচ্ছান্তে ।

১৬| ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ বিকাল ৩:২৭

লেখোয়াড়. বলেছেন:
আপনার পোস্ট মানে সত্যিাু দারুন কিছুর সমন্বয়।
অসাম।

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: লেখোয়াড়. ,



কৃতজ্ঞ হয়ে রইলুম এমন মন্তব্যে ।
ভালোলাগলো ।

ভালো থাকুন আর সুখে ...

১৭| ০৮ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:


খুবই সুন্দর; ছবি ও লেখা মিলে খুবউ সুন্দর হয়েছে।

০৯ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১০:১৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী ,


সুন্দর মন্তব্যে সুন্দর একটি ধন্যবাদ ।

শুভেচ্ছান্তে ।

১৮| ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ১২:১৩

রেজওয়ানা আলী তনিমা বলেছেন: ভয়ংকর সুন্দর। দেখে মুগ্ধতার সাথে একধরনের হাহাকার জাগে। কত বড় এই মহাবিশ্বের তুলনায় কত ক্ষুদ্র আমরা!

১৯| ১৩ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৪৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: রেজওয়ানা আলী তনিমা ,



হুমমমম ..কতই ক্ষুদ্র যে আমরা !!!!

মুগ্ধতা হতে পারে , হাহাকার কেন ?

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে সাথে একরাশ শুভেচ্ছা ।

২০| ০৫ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ১০:৫৬

অন্ধবিন্দু বলেছেন:
হাবল, স্পিৎজার বা চন্দ্রার চাইতেও সুক্ষ-সুন্দর মানুষের দৃষ্টি, তার ভঙ্গির বিচ্ছুরন, চিন্তাশীলতার দুর্বার আবরন। আহা ! আপনি যদি একমত না হোন তবে এই পোস্ট/সিরিজটি আপনার চোখের সামনে তুলে ধরবো। হুম।

আপনি দিনকে দিন কবি হয়ে যাচ্ছেন মশাই। রহস্যটা কি ?

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:২৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: অন্ধবিন্দু ,


বুঝতে পেরেছি, সহমত । তাই অসংখ্য বজ্রনিনাদে বলে যাই - ধন্যবাদ আপনাকে ।

রহস্য আর কিছুই নয় । সব মানুষের মাঝেই একখানা কবি বাস করেন । কেউ খুঁজে পায় , কেউ পায়না ।

২১| ১৬ ই জুন, ২০১৬ রাত ১১:২৯

গেম চেঞ্জার বলেছেন: আপনি অলরেডি একধাপ এগিয়ে আছেন জিঃএস ভাই!! :)

১৭ ই জুন, ২০১৬ রাত ৮:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: গেম চেঞ্জার ,



এগিয়ে আছি কিনা জানিনে তবে লিখি , মনের মতো বিষয় হলে লিখি । লিখতে গিয়ে এগিয়ে কিম্বা পিছিয়ে আছি কিনা ভাবিনে ।
মহাকাশের অতলান্ত শূন্যতা আমায় খুব টানে । অনেক ভালোলাগার ভেতরে এটাও একটা ।

মন্তব্যে ধন্যবাদ ।
ভালো থাকুন ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.