নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ট্রুথ নেভার ডাই্‌জ

নিজের সম্পর্কে লেখার কিছু নেই । সাদামাটা ।

আহমেদ জী এস

পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...

আহমেদ জী এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিক্ষক” একটি অবহেলিত প্রানীর নাম…..(?)

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:২২



“শিক্ষক” কে ?
একটি চমৎকার প্রশ্ন । ভীষন ভাবে নাড়া দেবে প্রশ্নটি ।

কেউ ই নিজের পছন্দে শিক্ষক হতে চায়না ।
একজন ডাক্তার চান তার সন্তানটিও “ডাক্তার” হবে ..
একজন ইঞ্জিনিয়র চান তার সন্তানটিও “ইঞ্জিনিয়র” হবে ..
একজন বিজনেসম্যান চান তার সন্তানটিও “বিজনেসম্যান” হবে ..
অর্থাৎ সবাই চান তার সন্তানটি তারই মতো হবে ।
তেমনি একজন “শিক্ষক” চাইবেন তার সন্তানটিও যেন “শিক্ষক” হয় ..

কিন্তু বাস্তবের নিষ্ঠুর পরিহাস – কেউই স্বেচ্ছায় “শিক্ষক” হতে চায়না । দুঃখজনক অথচ এই ই সত্য । কারন পার্থিব জগতে বিনিময় মূল্যে একজন শিক্ষকের অর্জন কিছুই নেই । জীবনের কাছে তার প্রাপ্তি অনেকগুলি প্রশ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ।

তারপরেও দেখি একজন অবহেলিত মানুষ, যাকে আমরা “শিক্ষক” বলি আসলে তিনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন ।


কোনও একটি স্কুলের “গ্রাজুয়েশান” অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন পর্বে আড্ডায় বসেছিলেন অভিভাবকেরা । স্বভাবতই আড্ডায় কথা উঠলো জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে । চলে এলো শিক্ষার কথাও । একজন নামকরা “সিইও” শিক্ষার সমস্যা নিয়ে জ্বালাময়ী ভাষন দিচ্ছিলেন । প্রসঙ্গক্রমে তিনি প্রশ্ন তুললেন, “ একজন ছাত্র কি শিখবে স্কুলে ? কি শেখাবে তাকে একজন শিক্ষক, যিনি মনে প্রানে বিশ্বাস করেন “শিক্ষকতার” মতো মহান পেশা নেই ? শিক্ষক হয়ে একজন ছাত্র জীবনে কি পাবে ? কিছুই না ।”
নিজের স্বপক্ষে মতামত জোড়ালো করতে স্কুলের প্রধান শিক্ষককেই প্রশ্ন করলেন, “ আপনিই বলুন, কি পেয়েছেন আপনি জীবনে ?”

প্রধান শিক্ষক নিরব রইলেন ক্ষানিকক্ষন ।
তারপরে বললেন, “ আপনি কি জানতে চাচ্ছেন, আসলেই আমি কি করতে পেরেছি জীবনে ?”
এরপরে শিক্ষক কিছুটা সময় নিয়ে ধীরে ধীরে বললেন –
- “ ওয়েল, আমি একটি শিশুকে কঠিন পরিশ্রম শেখাতে পেরেছি যা সে ধারনাও করতে পারতোনা যে সে তা পারবে কোনদিন ।
- আমি একজন সি+ গ্রেড পাওয়া শিশুকেও এই আত্মবিশ্বাসটুকু দিতে পেরেছি যেন সে একটি মহামূল্যবান মেডাল বিজয়ী হয়েছে ।
- আমি সেই সব শিশুদের ৪৫ মিনিট পর্য্যন্ত ক্লাসে একই জায়গাতে বসিয়ে রাখতে পেরেছি যেখানে বাড়ীতে তাদের পিতামাতা তাদেরকে গেমস কিউব, আই-পড ইত্যাদি হরেক খেলনা দিয়েও ৫ মিনিটের বেশী বসিয়ে রাখতে পারেননি ।



শিক্ষক থামলেন পুনরায় । উপস্থিত সকলের দিকে ঘুরে ঘুরে তাকালেন একবার – “ আপনারা জানতে চাইছেন আমি আসলে কি করেছি ?”
- আমি শিশুদের ভাবতে শিখিয়েছি ।
- তাদেরকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছি ।
- আমি তাদেরকে ক্ষমা চাইবার মতো মহৎ একটি উপলব্ধি অর্জন করতে শিখিয়েছি ।
- তাদের নিজেদের কাজের প্রতি সম্মান জানাতে আর সেই কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখিয়েছি।
- আমি তাদের শিখিয়েছি কি করে লিখতে হয় আর তারা লিখতে শিখেছে ।
- আমি তাদের কেবল পড়তে শিখিয়েছি, পড়ো…পড়ো… আর পড়ো ।
- তাদের প্রতিটি কাজের ভেতরের অংক শিখিয়েছি যাতে তারা তাদের নিজস্ব মাথা খাটাতে শেখে, ক্যালকুলেটর নয় ।
- প্রতিটি শিশুই যেন তার প্রয়োজনীয় শেখাটি শিখতে পারে এমোন করে তাদের তৈরী করেছি আর তাদের জাতীয় সংস্কৃতি যেন ধরে রাখতে পারে সেই বোধের জন্ম দিয়েছি তাদের ভেতরে ।
- আমি আমার ক্লাসরুমটিকে এমোন একটি জায়গা বানিয়েছি যেখানে সব শিশুই নিরাপদ বোধ করে ।
- সবশেষে আমি তাদের শিখিয়েছি, যে মেধা নিয়ে তার জন্ম হয়েছে যদি তার সঠিক ব্যবহার তারা করে, কঠিন পরিশ্রম করে, নিজের হৃদয় দিয়ে অনুভব করতে পারে তবেই তাদের জীবনে সাফল্য নেমে আসবে …………..

শিক্ষক শেষবারের মতো থামলেন ।
তাকালেন সবার মুখের দিকে – “ এর পরেও যদি মানুষ জানতে চায় আমি জীবনে কি করেছি বা কি পেয়েছি আমার উত্তর, অর্থই জীবনের সব নয় । তাই যারা এমোনটা প্রশ্ন করেন তাদের অজ্ঞতা দেখে আমি কষ্ট পাইনা আমি আমার মাথাকে উঁচুতে তুলে রাখতে পারি সেদিকে কোনও ভ্রক্ষেপ না করেই ।

আপনারা জানতে চান আমি কি করেছি ?
……………………… আমি আপনাদের প্রত্যেকের জীবনে বৈচিত্র আর সাফল্য এনে দিয়েছি । কারন আমিই আপনার শিশুকে (হয়তো আপনাকেও আমার মতো কেউ একজন) শিক্ষা দিয়েছি, শিখিয়েছি কি করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র কিম্বা সফল বিজনেসম্যান হতে হয় .................



বিশ্ব শিক্ষক দিবসে উৎসর্গিত ।

[ সংযুক্তি - সুধী পাঠকবৃন্দের প্রতি অনুরোধ , ৪৩ নং মন্তব্যে শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলীর সুলিখিত মন্তব্যটি পোস্টের একটি অধ্যায় বলে ধরে নেবেন । ]

[ পূর্ব প্রকাশ , সামহোয়ারইনব্লগ ডট নেট এ ২০১১ সালে । ]

মন্তব্য ১২৩ টি রেটিং +২৩/-০

মন্তব্য (১২৩) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার, অভিভূত!

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান ,




একজন তেমন মানুষই এরকম অচটকদার একটি পোষ্টে আসেন এবং মন্তব্য করেন প্রথমেই ।
অসংখ্য ধন্যবাদ প্রথম মন্তব্যটির জন্যে । লাইক দেয়াতেও আপনার প্রজ্ঞার পরিচয় প্রকট ।
শুভেচ্ছান্তে ।

২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৫১

মলাসইলমুইনা বলেছেন: বাংলাদেশের এডুকেশন সেক্টরের চুড়ান্ত অব্যবস্থা, ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে শিক্ষকদের অশিক্ষক সুলভ কর্মকান্ড মনে রেখেও আপনার লেখাটা অনেক ভালো লাগলো |

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা ,




একজন শিক্ষক কেমন হবেন , কেমন হওয়া উচিত তার উৎকর্ষতা- প্রজ্ঞা- জ্ঞান- বিবেক - বিবেচনা, এখানে তা-ই তুলে ধরা হয়েছে । বর্তমান কালে এর অভাব প্রকট এবং তীব্র বলেই আমাদেরকে লিখতে হয় -- "বাংলাদেশের এডুকেশন সেক্টরের চুড়ান্ত অব্যবস্থা, ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে শিক্ষকদের অশিক্ষক সুলভ কর্মকান্ড............. "

শুভেচ্ছান্তে ।

৩| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:১৬

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: ভালো লেগেছে লেখাটি।





ভালো থাকুন নিরন্তর। ধন্যবাদ।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৫৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: দেশ প্রেমিক বাঙালী ,




লেখাটি ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলুম । ধন্যবাদ আপনাকে ।

আপনিও ভালো থাকুন , থাকুন সুখে .................

৪| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৩২

স্বতু সাঁই বলেছেন: আপনার লিখাটা পুরানো দিনের গানের মতো মনে হলো। বর্তমান সভ্য সমাজে এসব কথা সম্পূর্ণ অচল। কারণ আপনার রচিত এমন আদর্শ শিক্ষক আর নেই। অধিকাংশ শিক্ষকই এখন নীতি বিবর্জিত পুরুষ। কারণ এখনকার ছাত্রদেরকে বাংলা বিষয়ের উপরেও কোচিং করতে হয়। স্কুল কলেজ এখন কোচিং সেন্টারে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে খুঁজে পাবেন এনজিও অফিসে, রাজনৈতিক দলীয় অফিসে। তোথায় খুঁজে পাবেন আপনার রচিত আদর্শ শিক্ষক পুরুষ?

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৩৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্বতু সাঁই ,




হ্যাঁ .... কথায় বলেনা - " ওল্ড ইজ গোল্ড " ? আবার এও বলা হয় - " পুরোনো চাল ভাতে বাড়ে " ।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে এখানে আমি একজন শিক্ষক কেমন হবেন , কাকে বলে শিক্ষক তা-ই তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি । হালের শিক্ষকদের কথা বলিনি যে, এখনকার শিক্ষক কেমন ! আমার এই লেখাতে আপনার উল্লেখিত "অধিকাংশ শিক্ষক" দের নিয়ে লেখা হয়নি । এখানে একজন শিক্ষক যে সবার উচুতে মাথা তুলে রাখার প্রত্যয় দেখাবার সাহস রাখেন তাদের কথাই বলা হয়েছে । আপনি যে শিক্ষকদের (?) কথা বলেছেন তারা "ব্যবসায়ী" । শিক্ষা তাদের পণ্য । কর্পোরেট বিশ্বে সব কিছুকেই তো বিনিময় মূল্যের ছাপ মেরে দেয়া হয় , তাইনা ? শিক্ষাও এ থেকে বাদ যায়নি ।

আর এটুকুও ভাবুন ---- আমাদের দেশে বর্তমানে মানুষের মানসিকতায় রাতারাতি "আঙ্গূল ফুলে কলাগাছ" হবার প্রবনতা তীব্র । শিক্ষকতার মহান পেশায় কলাগাছ হ্ওয়া একবারেই অসম্ভব। তাই মেধাবী- অমেধাবী সক্কলেই ছুটছেন "টু-পাইস" কামানোর আশায় । আর শিক্ষকতায় আসছেন তারাই যাদের কোন্ও গতি নেই । আবার একটি প্রাইমারী শিক্ষকের চাকুরী পেতে তাকে বেশ কয়েক লাখ টাকা সেলামী দিতে হয় নইলে তার কপালে শিকেটি ছেড়েনা । তিনি কি করবেন ? তাকে ঐ সেলামী বাবদ দেয়া টাকা তুলতে শিক্ষকতার পাশাপাশি বা বদলে রাজনীতি সহ সকল ধরনের ইনকামের ( আয় ) ধান্দায় থাকতে হয় । ইত্যাদি ...ইত্যাদি । সেই শিক্ষককে কে সম্মান দেবে ? তাকে তো অবহেলার শিকার হতেই হবে রাষ্ট্রীয় অক্ষমতা আর নিজের অনিচ্ছাকৃত কাজের ফল হিসেবে ।
আবার কেউ এই পেশায় আসার ইচ্ছে প্রকাশ করলেও সেলামী যোগার করতে না পারার কারনে প্রাইভেট স্কুল-কলেজগুলিতে চলে আসেন । বিনা বেতনে তাকে এই আশায় থাকতে হয় যে একদিন তার প্রতিষ্টানটি সরকারী অনুদান পাবে । দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেও সে সোনার হরিনটি ধরা পড়েনা । এই শিক্ষক কি করবেন ? পেটে ভাত না থাকলে ছাত্রছাত্রীদের শেখাতে তার মন চাইবে ? আর এতে করেই তিনি "অশিক্ষক" হয়ে যাবেন নিজের অজান্তে । লাল-নীল-সাদা দলে যোগ দিয়ে নিজের আয়ের পথটি পরিষ্কার রাখবেন ।
এর বাইরে "ব্যবসায়িক" মনোভাবটিই এখোন বেশী বেশী চোখে বাজছে । তাই একজন "তথাকথিত" শিক্ষককে সম্মান না জানানোর যে অভ্যেস আমাদের মজ্জাগত হয়েছে তা থেকে "সত্যিকারের" শিক্ষক ও বাদ পড়ছেন না ।

মোদ্দা কথা হলো, মন-মানসিকতার পরিবর্তন, শিক্ষকের নিজের এবং বাদবাকী মানুষের

আজ হয়তো কাঙ্খিত " শিক্ষক"দের দেখা মেলা ভার কিন্তু হ্যাঁ, মাঝে মাঝে তাদের দেখা পাওয়া যায় । যে শিক্ষকদের কথা বলেছি আমাদের এখানেও তারা আছেন ।
আমাদের এই ব্লগেই আছেন তেমন একজন --- সুমন কর


ভেতরের তাগিদ থেকে লেখা এই মন্তব্যটির জন্যে ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৫| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৪১

জাহিদ অনিক বলেছেন: শিক্ষক” একটি অবহেলিত প্রানীর নাম…..(?) - দুর্ভাগ্যজনকভাবে উত্তর হ্যাঁ

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাহিদ অনিক ,




"হ্যাঁ" শব্দটি "দুর্ভাগ্য" নয় মোটেও , ওটা আমাদের অর্জিত চিরায়ত ভাগ্য ।
অশেষ সম্ভাবনাময় মগজী মানসজীবন আমাদেরই নিষ্ক্রিয়তায়, অনুশীলনের অভাবে, অপযোগে বৃথা ও বন্ধ্যা ভাবেই অবসিত হয় ।
তাই তেমন ভাগ্যই আমাদের অর্জিত হয় যাকে শ্বান্তনা পাওয়ার আশা থেকে নাম দিয়েছি - "দুর্ভাগ্য" ।

সম্ভবত আপনিও এই অবহেলিত সম্প্রদায়ের একজন । হতাশ হওয়ার কিছু নেই । দৃশ্যমান প্রামানিক ভিত্তিতে মনে হয়, আপনার ভেতরেও সেই কাঙ্খিত একজন শিক্ষক লুকিয়ে আছেন । তাকে আরও বিকশিত করুন , পত্র-পল্লবে ছেঁয়ে দিন চারিধার ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৬| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:২১

আটলান্টিক বলেছেন: আমি তো জাফর ইকবাল ছাড়া এদেশে কোন আদর্শ শিক্ষক দেখিনা।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: একটি আটলান্টিক ,




আপনার দেখাটি ঠিক হয়তো , কিন্তু জানা'টি নয় ।
জাফর ইকবাল শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডে, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মযজ্ঞে নিজেকে নিবেদিত করেছেন বলেই তিনি নমস্য, তিনি আদর্শ । কিন্তু তাঁর মতোই আরও অনেক শিক্ষকই আছেন আদর্শবান । তাঁরা জাফর ইকবাল এর মতো সোচ্চার নন বলেই তাদের কথাটি আমরা জানিনে । তাঁরা সামনে আসেন না ।

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রত্যাশা রইলো , নিরব আর অনুজ্জ্বল হয়ে থাকা ঐসব শিক্ষকেরা একদিন পারিবারিক-সামাজিক-বার্ণিক-ধার্মিক-ভাষিক-গৌত্রিক-জাতিক ও রাষ্ট্রিক স্তরে জ্বলে উঠবেন ।

৭| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৯

বাবুরাম সাপুড়ে১ বলেছেন: আসলে আজকের শিক্ষকেরা অসহায়। এখনকার শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁদের যে এখন জেব্রা কে এলজেব্রা শেখাতে হয়। আজকের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের জ্ঞান সবথেকে কম যেটা জানা তাঁর জন্যে সবথেকে জরুরী বিষয় --তাঁর ছাত্ররা। আমাদের স্কুল, কলেজের কথা আসলে সেই প্রাণীদের স্পোর্টস অলিম্পিকের গল্প মনে পড়ে। এক শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছে, বিভিন্ন জানোয়ারদের প্রাণী অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করানো হবে। প্রথমে খরগোস কে উড়তে শেখানোর ট্রেনিং দেওয়া হলো ,তারপর এক ঈগলকে নামানো হলো দৌড় প্রতিযোগিতায় , কচ্ছপকে হাইজাম্পে। শেষে পাতিহাঁসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলো কারণ সে কিছুটা লাফাতে পারে ,কিছুটা দৌড়াতে পারে ,কিছুটা উড়তে পারে এবং খানিক সাঁতারও কাটে। কলেজ -বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়া ছাত্ররা ওই গল্পের পাতিহাঁসের মতো -- জ্যাক অফ অল ট্রেডস ,মাস্টার অফ নান। দোষটা ছাত্রদের নয় ,শিক্ষকদেরও নয় , দোষটা সিস্টেমের ,সমাজের ,সময়ের।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: বাবুরাম সাপুড়ে১ ,




চমৎকার মন্তব্য । যেন সাপুড়ের বাঁশিতে মুগ্ধ করে রাখা ।

দোষটা ছাত্রদের নয় ,শিক্ষকদেরও নয় , দোষটা সিস্টেমের ,সমাজের ,সময়ের। চরম সত্যটাই বলেছেন ।

তবে একটু দ্বিমত করি । হালের সিংহভাগ শিক্ষক ও ছাত্ররা মাস্টার অফ নান তো বটেই জ্যাক অফ অল ট্রেডস ও নন । এরা আগাগোড়াই অশিক্ষিত বকলম, বেলাহাজ, বেশরম , বেহাল । এরা নামেই শিক্ষক, নামেই ছাত্র । কেবল পড়াতে হয় বলে পড়ায় , ক্লাশে যেতে হয় বলে ক্লাশে যায় শুধু । শেখাতে নয় কিম্বা শিখতে ।
ব্যক্তি মানুষের দায়টা এখানেই ।

শুভেচ্ছান্তে।

৮| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৪০

প্রামানিক বলেছেন: গুরুত্বপূর্ণ একটি পোষ্ট। ধন্যবাদ আহমেদ ভাই।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্রামানিক ,




পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

৯| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:০২

সুমন কর বলেছেন: লেখা হৃদয় ছুঁয়ে গেল। ২০১১ সালে আমি ব্লগে ছিলাম না। তাই লেখাটি আগে পড়া হয়নি। আজ শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

আপনার এই লেখাটি পড়লাম, এই মাত্র চারটি ৫০ মিনিটের ক্লাস শেষ করে। এখন পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবেই আছি। তাই বুঝি, কতটা কষ্ট করে ওদের মানুষ করতে হয়। আমি প্রায়ই বলি, তোমরা প্রকৃত মানুষ হও।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৪৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: সুমন কর ,




আপনাকে সশ্রদ্ধ সালাম ।
একজন শিক্ষককে হতে হবে পিতার মতো, বন্ধুর মতো । সোহাগে-আদরে, শাসনে-যতনে সিক্ত করে রাখতে হবে ছাত্র নামের বীজগুলোকে যাতে সে বীজ থেকে অংকুরিত হতে পারে সতেজ বৃক্ষ ।

শুভেচ্ছান্তে ।

১০| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৫:১৭

উম্মে সায়মা বলেছেন: কালই ২০১১তে করা পোস্ট পড়েছিলাম। খুব সুন্দর লিখেছেন আহমেদ জী এস ভাই। যে জাতি গড়বে সে-ই সবচেয়ে বেশী অবহেলিত। দুঃখজনক। স্বতু সাঁইয়ের মন্তব্যের প্রতিমন্তব্যের সাথে ১০০ভাগ সহমত। ধন্যবাদ।

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: উম্মে সায়মা ,




আসলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও মানুষকেই শিক্ষিত করে তোলার কোনও মাল-মসলা নেই । সীমাহীন অনিয়ম , দুর্নীতি , সবাইকে পাশ করিয়ে তথাকথিত শিক্ষিতের হার বাড়ানোর প্রবনতা, সুষ্ঠ শিক্ষানীতির অভাব, সঠিক মান বিচার এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিবেশ বিবেচনা না করেই যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বানানোর অনুমতি দিয়ে শিক্ষাকে পণ্যে পরিনত করার হঠকারীতা ইত্যাদি শত শত অপরাধে পুরো শিক্ষাঙ্গনটাই কলুষিত । সেখানে কারো "মানুষ" হয়ে গড়ে ওঠার কোনও প্রকার সুযোগ নেই । তার উপর শিক্ষাঙ্গনে যখন ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে রাজনীতির নোংরা খেলায় মেতে থাকেন সর্বক্ষন তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে শিক্ষার বারোটা তো বাজবেই । এমন পরিবেশে আপনি না পাবেন কোন আদর্শ ছাত্র , না শিক্ষক ।

লেখা তো যায় অনেক কিছুই কিন্তু এই ছোট পরিসরে তা আটবেনা বলে এতোটুকুই বলা !
মন্তব্যে ধন্যবাদ ।
শুভেচ্ছান্তে ।

১১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩০

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:



এ জাতি অভাগা....

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ভ্রমরের ডানা ,




এ জাতি অভাগা নয় । এ জাতি কর্মবিমুখ, আহাম্মক, অযোগ্য, অসমর্থ, অক্ষম, অশিক্ষিত আর পাশাপাশি অতিচালাক ।
এ্সব গুনাবলীর কারনেই তাদের প্রতি ভাগ্যদেবী প্রসন্ন নন ।

১২| ০৬ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩১

ধ্রুবক আলো বলেছেন: অভিভূত, লেখা হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। আমিও একসময় শিক্ষকতা করতাম, কোনো এক বিশেষ কারণে শিক্ষিকতা ছেড়ে দেই।

পৃথিবীর সকল শিক্ষদের জানাই শ্রদ্ধা।

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ধ্রুবক আলো ,




হ্যাঁ , শিক্ষকতা করতেন এক সময় । স্মৃতি বিভ্রাট না হলে বলতে পারি ,সম্ভবত আপনিই কোনও এক পোস্টে বলেছিলেন শিক্ষকতা কেন ছাড়লেন সে কথা ।

ধন্যবাদ মন্তব্যটির জন্যে ও লেখাটি যে হৃদয় ছুঁয়ে গেছে তা জেনে ।

১৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:৩৬

নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন বলেছেন: অসাধারণ বুঝিয়েছেন। আপনার শিরোনাম যেন মায়ায় গড়া, তারচেয়েও বেশি মায়ার ছুঁয়া দিয়েছেন হেড স্যারের কথাগুলোতে।
এমন শিক্ষকের জীবন প্রস্তুত রাখতে পারি হাসি মুখে....

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০০

আহমেদ জী এস বলেছেন: নাঈম জাহাঙ্গীর নয়ন ,





খুব ভালো লাগলো আপনার আন্তরিক মন্তব্যখানি ।
হুমম.. কথায়ই তো বলে - শিক্ষকতা একটি মহান পেশা ! তেমন শিক্ষক হতে হলে জীবনকে প্রস্তুত রাখতেই হয় ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

১৪| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:৫৮

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: আমি আপনাদের প্রত্যেকের জীবনে বৈচিত্র আর সাফল্য এনে দিয়েছি । কারন আমিই আপনার শিশুকে (হয়তো আপনাকেও আমার মতো কেউ একজন) শিক্ষা দিয়েছি, শিখিয়েছি কি করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র কিম্বা সফল বিজনেসম্যান হতে হয় ................. সব শিক্ষকদের কথাই তো এটা।।
যদি বলি বর্তমান শিক্ষক সমাজের "একটা গোষ্ঠীর" দোষে যদিও শিক্ষকতার আদর্শ প্রশ্নবিদ্ধ।। তার পরেও বলা যায়, আমি আপনাদের প্রত্যেকের জীবনে বৈচিত্র আর সাফল্য এনে দিয়েছি । কারন আমিই আপনার শিশুকে (হয়তো আপনাকেও আমার মতো কেউ একজন) শিক্ষা দিয়েছি, শিখিয়েছি কি করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র কিম্বা সফল বিজনেসম্যান হতে হয় .................

ধন্যবাদ।।

০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: সচেতনহ্যাপী ,




বর্তমান শিক্ষক সমাজের "একটা গোষ্ঠীর" দোষে শিক্ষকতার আদর্শ প্রশ্নবিদ্ধ নয় বরং সকল গোষ্ঠীর দোষেই তা প্রশ্নবিদ্ধ ।

অপ্রিয় সত্য হলেও বলতে দ্বিধা নেই , বেশ কিছুকাল থেকেই শিক্ষক আর শিক্ষক নেই , তারা চাকুরিজীবি। আর দশটা কাজের মতোই ছেলেমেয়ে পড়ানো তাদের একটি কাজ । যেখানে খুবই কম কিম্বা বিনা পরিশ্রমে টাকা পয়সার আমদানী থাকবে ।
কেন এমনটা হয়েছে ? এই প্রতিযোগিতার বাজারে কিছু একটা করে টিকে থাকার জন্যে । পরিনামে এ কাজের জন্যে যে প্যাশন থাকার কথা , যে অপরিমেয় দ্বায়িত্বজ্ঞান থাকার কথা সেসবের বালাই চুকে গেছে অনেক আগেই । সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাটাই মুখ থুবড়ে পড়া । সেখানে কেউ একজন শিক্ষক হয়ে গড়ে উঠবেন এমন শিক্ষাটাই সেখানে নেই । তেমন শিক্ষা অর্জনের তাগিদটাই কারো নেই ।

এর পরেও বলি , সব শিক্ষকদের কথাই তো এটা - আমি আপনাদের প্রত্যেকের জীবনে বৈচিত্র আর সাফল্য এনে দিয়েছি । কারন আমিই আপনার শিশুকে (হয়তো আপনাকেও আমার মতো কেউ একজন) শিক্ষা দিয়েছি, শিখিয়েছি কি করে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়র কিম্বা সফল বিজনেসম্যান হতে হয় .................

১৫| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১:৫৮

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:

শিক্ষক” একটি অবহেলিত প্রানীর নাম…..(?)

যদি মেরুদন্ড গড়ার কারিগররা এমন অবহেলিত প্রানীর সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত থাকে।তাহলে আর কি বলার থাকে?

''আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।''


যে জাতি শিক্ষকের মর্যাদা দিতে জানে না,সে জাতি কিভাবে উন্নতি করবে?




০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৪৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহরিয়ার কবীর ,





ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য কিন্তু আপনার জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি , মানুষ একটি জীব বা প্রানী বা অজড় বস্তু । । নাকি মানুষ একটি জড় বস্তু ? মানুষ যদি জীবিত বস্তু হয় তবে তার সংজ্ঞা " প্রানী" ।
খুব আক্ষেপ করেছেন মানুষ কে প্রানী বলায় । তাহলে বোঝা যাচ্ছে "প্রানী' বলতে আপনি কেবলমাত্র নিম্ন বর্গের প্রাণী যেমন গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাস, মুরগী ইত্যাদিকেই বোঝেন । এই বোঝাটা ঠিক নয় । মানুষ একটি প্রানীতো বটেই সাথে সমস্ত প্রানীজগতের মধ্যেও শ্রেষ্ঠতম । এই জন্যেই মানুষকে বলা হয় " সৃষ্টির সেরা জীব " । নাকি অন্যকিছু বলে ?
আশা করি বোঝাতে পেরেছি ।

শিক্ষককে এখানে কোনও অবস্থাতেই খাটো বা অবহেলা করা হয়নি । সবটা আপনার বোঝার ভুল বা ত্রুটি । কারন, সম্ভবত আপনি পোস্টটি পড়েননি কেবল শিরোনাম দেখেই আবেগাপ্লুত হয় পড়েছেন ।

জাতি এখন কিভাবে উন্নতি করবে সেতো আপনি বুঝতেই পারছেন !

আবারও ধন্যবাদ । শুভেচ্ছান্তে ।

১৬| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ২:০৬

রোকসানা লেইস বলেছেন: যে শিক্ষক এমন কিছু কথা বলেছেন আপনার পোষ্ট অনুযায়ী তেমন শিক্ষক খুব বেশী নেই। এটা দূর্ভাগ্য

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: রোকসানা লেইস ,




আমি বর্তমানের শিক্ষকদের বোঝাতে চাইনি । একজন শিক্ষক সার্বজনীনভাবে কেমন হবেন তা বুঝিয়েছি । তাই পোষ্টের শুরুতেই বলেছি -----“শিক্ষক” কে ? একটি চমৎকার প্রশ্ন । ভীষন ভাবে নাড়া দেবে প্রশ্নটি । আর দেখিয়েছি একজন শিক্ষক কেমন হবেন তা ।
তবে হালের শিক্ষকদের অবস্থা দেখে আপনার আফসোস - "এটা দূর্ভাগ্য" বলাটা একদম ঠিক । তাকে আমাদের দূর্ভাগ্যই বলতে হবে ।
যদিও আমি নিজে এটাকে "দূর্ভাগ্য" বলতে রাজী নই ।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে । শুভেচ্ছান্তে ।

১৭| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৩:২০

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: ভালো লেগেছে শিক্ষকদের নিয়ে আপনার এ লেখাটি ।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:০৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: :):):)(:(:(:হাসু মামা ,





আপনার ভালো লেগেছে জেনে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ ।
ভালো থাকুন ।

১৮| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৫:২৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংলাদেশের শিক্ষকেরা পুরোপুরি শিক্ষক নন; ১৯৭১ সালের পর, কোন শিক্ষক একবারও উচ্চারণ করেননি, "জাতির সব সন্তানকে শিক্ষার সুযোগ দিতে হবে"; এদের জীবনটা মোটামুটি বৃথা।

০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৩৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী ,




সে তো আমরা ১৯৭১ সালের পর কোনও কিছুই বলিনি । শুধু শিক্ষার কথাই নয় , বলিনি মৌলিক কয়টা অধিকারের কথাও । খাদ্য-বস্ত্র - শিক্ষা - বাসস্থান - চিকিৎসার কথা ।
শিক্ষাঙ্গনে দল বেধে শুধু বলেছি --- অমুক ভাইয়ের হুলিয়া নিতে হবে তুলিয়া । কোনওদিন মনে হয় বলিনি , শিক্ষাব্যবস্থাকে সহজলভ্য আর আমাদের ব্যবহারোপযোগী করে সাজিয়ে তোল ।
নাগরিক কোনও অধিকারের জন্যেই মিছিল মিটিং করিনি , লাগাইনি পোষ্টার ও । অথচ হরতাল করে, মিছিল করে আগুন পর্যন্ত্য লাগিয়েছি । পোষ্টারে পোষ্টারে দেয়াল - মাঠ - ঘাট ভরিয়ে ফেলেছি এই কথা বলে , " ভোট দেয়া আমাদের নাগরিক অধিকার । আমার ভোট আমি দেবো যাকে খুশি তাকে দেবো " কিন্ত একখানা পোষ্টারও লাগাইনি এই কথা বলে -" নগরগুলোকে যানজট মুক্ত , আবর্জনা মুক্ত , বৃষ্টির জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করো ।"

এমন অবোধ সব নাগরিক ও সেই নাগরিকদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে শিক্ষার আশা আর কতোখানি করা যায় ?

১৯| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:২১

সোহানী বলেছেন: একজন ডাক্তার চান তার সন্তানটিও “ডাক্তার” হবে ..একজন ইঞ্জিনিয়র চান তার সন্তানটিও “ইঞ্জিনিয়র” হবে ..
কিন্তু একজন “শিক্ষক” কখনই চাইবেন না তার সন্তানটি যেন “শিক্ষক” হয়। হাঁ কারন সম্পূর্ন ইকোনোমিকেল। বাড়ান শিক্ষকদের বেতন, পে স্কেল ফার্স্ট গ্রেড করেন দেখনে সিনারিও উল্টে গেছে।

শিক্ষক কি পেল আর কি দিল তার হিসেব নিকেশ খুবই কঠিন এ দেশে। যে দেশে শিক্ষককে কান ধরে উঠা বসা করে একজন পেশীধারী রাজনৈতিক মাস্তান সে দেশে আর যাই হোক শিক্ষকের মর্যাদা খোঁজা একটা চরম বোকামী আর শিক্ষকদিবস পালন একটা চরম ভন্ডামী।

অনেক ভালোলাগলো জী ভাই কিন্তু কি হবে, ওনারা যে তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে থাকবেন দিনের পর দিন।

অনেক ভালো থাকেন।

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী ,




লিখেছেন - " যে দেশে শিক্ষককে কান ধরে উঠা বসা করে একজন পেশীধারী রাজনৈতিক মাস্তান সে দেশে আর যাই হোক শিক্ষকের মর্যাদা খোঁজা একটা চরম বোকামী.... "
হ্যাঁ , এ অবস্থা আমরাই অর্জন করেছি । এটা আমাদের দুর্ভাগ্য নয় , আমাদের কর্মফল ।
আসলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও মানুষকেই শিক্ষিত করে তোলার কোনও আয়োজন নেই । সীমাহীন অনিয়ম , দুর্নীতি , সবাইকে পাশ করিয়ে তথাকথিত শিক্ষিতের হার বাড়ানোর প্রবনতা, সুষ্ঠ শিক্ষানীতির অভাব, সঠিক মান বিচার এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিবেশ বিবেচনা না করেই যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বানানোর অনুমতি দিয়ে শিক্ষাকে পণ্যে পরিনত করার হঠকারীতা ইত্যাদি শত শত অপরাধে পুরো শিক্ষাঙ্গনটাই কলুষিত । সেখানে কারো "মানুষ" হয়ে গড়ে ওঠার কোনও প্রকার সুযোগ নেই । তার উপর শিক্ষাঙ্গনে যখন ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে রাজনীতির নোংরা খেলায় মেতে থাকেন সর্বক্ষন তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে শিক্ষার বারোটা তো বাজবেই । এমন পরিবেশে আপনি না পাবেন কোন আদর্শ ছাত্র , না শিক্ষক । এটাই আমাদের অর্জন । অন্যকে দোষ দিয়ে লাভ নেই কারন -- এই টিকে থাকা প্রতিযোগিতার ইঁদুর দৌঁড়ে নিজেদের সামান্যতম আখের গোছানোর খেলায় আমরা সুযোগ পেলেই পদলেহন করেছি ক্ষমতার , যে যে ভাবে পেরেছি। শিক্ষাঙ্গনে দল বেধে শুধু বলেছি --- অমুক ভাইয়ের হুলিয়া নিতে হবে তুলিয়া । কোনওদিন মনে হয় বলিনি , শিক্ষাব্যবস্থাকে সহজলভ্য আর আমাদের ব্যবহারোপযোগী করে সাজিয়ে তোল ।
নাগরিক কোনও অধিকারের জন্যেই মিছিল মিটিং করিনি , লাগাইনি পোষ্টার ও । অথচ হরতাল করে, মিছিল করে আগুন পর্যন্ত্য লাগিয়েছি । পোষ্টারে পোষ্টারে দেয়াল - মাঠ - ঘাট ভরিয়ে ফেলেছি এই কথা বলে , " ভোট দেয়া আমাদের নাগরিক অধিকার ।"
এসব থেকে এটাই ষ্পষ্ট যে আমরা এক একজন অবিরাম ছলচাতুরী প্রবঞ্চনার খেলায় মেতে আছি । এই অযোগ্য- অসমর্থ- অক্ষম - অপদার্থ মানুষগুলো এই খেলায় সব সময় হারার দলে । জিতবে তারাই বাহুবল, অর্থবল, লোকবল যাদের কুক্ষিগত ।
সে কারনেই আপামর জনতা যে তিমিরে সেই তিমিরেই পড়ে থাকবে দিনের পর দিন ।

ইকোনোমিক্যাল সুযোগবৃদ্ধি এই অকালের সময়ে কোনই প্রনোদনা নয় । হলে সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেও দুর্নীতি , ঘুস বন্ধ করা যায়নি । বরং ওসবের রেট দ্বিগুন থেকে তিন-চারগুন বেড়েছে উল্টো ।

এই পাপের সংসারে, যেখানে ক্ষুধা আছে , সন্তান আছে , আছে মারাত্মক লালসা, আছে অন্যকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়ার প্রতিযোগিতা সেখানে ক’জন পারে সব সময় মনের কথা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে ? আপোষ ভিন্ন সংসারে টেকা যায়না । আর আপোষ মানেই কপটতা । আমরা এই কপটতায় আচ্ছন্ন । আমাদের রক্তের ভেতরেই ঘুণপোকাদের ঘর । এ থেকে আমাদের পরিত্রান নেই ।

ভালো থাকুন আপনিও ।
শরৎ শুভেচ্ছা ।



২০| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:৪৯

ঢাকাবাসী বলেছেন: অনেকদিন আগে হয়ত আপনার লেখাটাই পড়েছিলুম । আপনার লেখার শিক্ষক এখন আর নেই। আসলে আমাদের শিক্ষকদের দক্ষতা অত ভাল না এখন। এখন শিক্ষক কারা হচ্ছে তা দেখতে পারলেই বোঝা যাবে। জিপিএ ৫ পেয়ে যে ছাত্র ইংরেজী করে 'আই এম জিপিএ ফাইব (ভ)', তারা বা তার মত ছাত্ররাই এখনকার অধিকাংশ শিক্ষক। সারাক্ষন ব্যাস্ত টিউশনি বা রাজনীতি বা অন্য ধান্ধায় (ঢাবি'র সদ্য সাবেক ভিসি), উপর তলা থেকে বলা হয় শিক্ষার দরকার নাই পাশ আর জিপিএ ৫ বেশী পেলেই চলবে, তাহলে এমপিও থাকবে বা করা হবে। ........এরকম কথা অনেক বলা যায়। এখন আর সে যুগ নেই যখন শিক্ষক পন্ডিত মশায় তা পৈতেয় হাত দিয়ে বলতেন 'হ্যারে রতন আমার বেতন ঐ কুকুরের এক ঠ্যাংএর সমান (২৫ টাকা), তাইনা?'(একটু ঘুরিয়ে লিখলুম)। ধন্যবাদ আপনাকে।

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঢাকাবাসী ,



চমৎকার বলেছেন । একদম বাস্তবসম্মত । এই চিত্রই বর্তমানে পুরো শিক্ষাঙ্গন জুড়ে ।

যদিও আমি একজন শিক্ষক কে বা কেমন, তা নিয়ে লিখেছি; বর্তমানের শিক্ষকদের নিয়ে লিখিনি তবুও আপনার বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে দুঃখজনক একটি উদাহরণ দেই যদিও এমন উদাহরণ আমার অভিজ্ঞতায় আছে হাযারো --------

এইতো মাত্র দিন কয়েক আগের ঘটনা , একদল প্রশিক্ষনার্থীকে যাদের সিংহভাগই এম-বি-এ, এম-এস-এস, এম-এ, বি-বি-এ, বি-এস-এস তাদের পড়াতে গিয়ে একটি শব্দ এলো "প্রোটো " । তারা শব্দটির অর্থ বোঝে কিনা জানতে চাইলুম । সবাই চুপ । বললুম শুধু "প্রোটো" শব্দটি হয়তো নাও শুনে থাকতে পারেন কিন্তু "প্রোটো-টাইপ" শব্দটি নিশ্চয়ই শুনেছেন , বলুন অর্থ কি ? সবাই নিরুত্তর । হঠাৎ মনে পড়লো প্রশিক্ষনার্থীদের ভেতরে একজন আছেন যিনি ইংরেজিতে মাষ্টার্স অনার্স । তাকে আঙুলের ইশারায় বললুম , "এই যে ইংরেজীর হাফেজ "প্রোটো-টাইপ" শব্দের অর্থ কি ? " মাথা নীচের দিকে দিয়ে তিনি নিরুত্তর :(

এরাই বা এদের মতোই কেউ না কেউ একদিন শিক্ষক হবেন । তাহলে বুঝুন .................

২১| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৩

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আসলে বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষকতার মান অনেক নেমে গেলেও শিক্ষকতা একটি মহান সেবা। এটি চিরন্তন সত্য। আমি শিক্ষকতাকে সেবাই বলি, পেশা নয়।

ধন্যবাদ ভাই আহমেদ জী এস।

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম ,




" আসলে বর্তমানে শিক্ষক ও শিক্ষকতার মান অনেক নেমে গেলেও শিক্ষকতা একটি মহান সেবা। এটি চিরন্তন সত্য। আমি শিক্ষকতাকে সেবাই বলি, পেশা নয়।"

আপনার মতো লোক এখন হাতে গোনা । দুঃখজনক হলেও এ ও সত্য ।

ভালো থাকুন আর সহি সালামতে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

২২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৮

কালীদাস বলেছেন: আপনার ২০১১এর পোস্টে কমেন্ট করেছি কিনা এখন মনে নেই।

শিক্ষকরা বাংলাদেশে অবহেলিত প্রাণী কিনা এর উত্তরটা সবসময় আইডেন্টিকাল না। স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি তিনটার অবস্হা পুরাই তিন রকম। কেউ কেউ চরম অবহেলিত, সত্যি। তবে সেটা সবাই না। নিজের অভিজ্ঞতা লিখতে ইচ্ছা করছে না এই মুহুর্তে, তবে সহকর্মী কারও কারও লোভ/হিংসা/বাজনার চেয়ে খাজনা বেশি টাইপের আচরণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে অনেকদিন চিন্তা করতাম পুরাপুরি রিসার্চে চলে যাব।

আপনাকে ধন্যবাদ যে আপনি শিক্ষকদের সম্মান দেখিয়েছেন। রামদা নিয়ে দৌড়ানি দেননি :P

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:১০

আহমেদ জী এস বলেছেন: কালীদাস ,



অনেতদিন পরে আপনাকে এখানে দেখে ভালো লাগলো ।
জ্বি না , ২০১১ এর পোস্টে আপনার কমেন্ট খুঁজে দেখলুম । পাইনি । না পাওয়াটা কোনও ব্যাপার নয় ।
শিক্ষকরা বাংলাদেশে অবহেলিত প্রাণী কিনা সে প্রশ্ন তো আমিই রেখেছি শিরোনামে ---
শিক্ষক” একটি অবহেলিত প্রানীর নাম…..(?)
শিরোনামের প্রশ্নবোধক চিহ্ণটি কিন্তু আপনার বক্তব্যই ।
এখনকার যুগে আপনার অভিজ্ঞতাটি মোটেও অবাস্তব নয় বরং প্রায় সর্বাংশে সত্য । শিক্ষক ও শিক্ষকতার মান এখন অনেক অনেক নিম্নগামী ।

আমি শিক্ষকতাকে মাথার উপরে রাখি । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ধারে কাছে গেলেও আমার মাথাটি এখনও নতজানু হয়ে পড়ে শ্রদ্ধায় । যদিও জানি , এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর আগের মতো নেই এতোটুকুও !তারপরেও যেহেতু এক সময় ওটাই শ্রেষ্ঠ ও মহোত্তম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো তা স্মরণ করেই এখনও শ্রদ্ধাঞ্জলি দেই ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

২৩| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৯

জেন রসি বলেছেন: ব্লগার বাবুরাম বলেছেন দোষটা সময়ের, সিস্টেমের। তিনি ঠিকই বলেছেন। আবার এই সিস্টেম মানুষই সৃষ্টি করে। আর একজন মানুষ কেমন হবে সেখানে শিক্ষদের অনেকটাই ভূমিকা থাকে।

আশা করি ভালো আছেন। :)




০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,



"""""দোষটা সময়ের, সিস্টেমের ....আবার এই সিস্টেম মানুষই সৃষ্টি করে।"""""""""""
কোন দেশের মানুষ ?
আমাদের দেশের মানুষ যা সৃষ্টি করে তা শিব গড়তে গিয়ে বান্দর হয়ে যায় । আমাদের শিক্ষাঙ্গনে কোন ভালো সিষ্টেমটা সৃষ্টি হয়েছে ? হ্যাঁ, হয়েছে ... নিয়মিত ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিষ্টেম চালু হয়েছে । সামনে হয়তো প্রশ্নের উত্তরপত্রও পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌছে দেয়ার সিষ্টেমও চালু করে দেবে সিষ্টেম সৃষ্টিকরনেওয়ালারা । :D

আপনাকে দেখে ভালো লাগলো । আছি চলে যাচ্ছে দিন , বাঁধা বন্ধনহীন ........................।

২৪| ০৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪৮

গেম চেঞ্জার বলেছেন: হেডলাইন দেখে খুব ভাল কোন অনুভূতি পেলাম না। শিক্ষকতার মতো পেশার মানুষকে প্রাণী বলে সম্বোধন আমার কাছে খারাপ লেগেছে! :(

বাস্তবতা হলো শিক্ষকতার মতো পেশাকে একাধিকভাবে ক্ষতি করা হচ্ছে।

১. বেতনভাতা খুব কম রেখে।
২. প্রাইভেট/কোচিং সিস্টেম!
৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সহ শিক্ষার বাণিজ্যায়ন!!


এ থেকে বের হবার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা কে দেবে? আর বাস্তবায়ন করার মতো এত উৎসাহী + রিস্ক নিতে সমর্থ কে আছে?

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:৫১

আহমেদ জী এস বলেছেন: গেম চেঞ্জার ,





হেডলাইন দেখে খুব ভাল কোন অনুভূতি পেলাম না। শিক্ষকতার মতো পেশার মানুষকে প্রাণী বলে সম্বোধন আমার কাছে খারাপ লেগেছে! :( এমনটাই মন্তব্যের শুরুতে বলেছেন ।

আপনাকে একটু ভেবে দেখতে বলি । মানুষ কি একটি জড় বস্তু না জীব ? মানুষ যদি জীব বা জীবিত বস্তু হয় তবে তার সংজ্ঞা " প্রানী" ।

আপনি মর্মাহত হয়েছেন মানুষ কে প্রানী বলায় । তাহলে আপনি কি "প্রানী' বলতে কেবলমাত্র নিম্ন বর্গের প্রাণী যেমন গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাস, মুরগী ইত্যাদিকেই বোঝেন ? এই বোঝাটা ঠিক নয় । মানুষ একটি প্রানীতো বটেই সাথে সমস্ত প্রানীজগতের মধ্যেও শ্রেষ্ঠতম । এই জন্যেই মানুষকে বলা হয় " সৃষ্টির সেরা জীব " । আশরাফুল মখলুকাত । নাকি অন্যকিছু বলে ?
আশা করি আপনার ভালো না লাগার অনুভূতিতে এবার হয়তো কিছুটা পরিবর্তন আসবে ।


শিক্ষকতার মতো পেশাকে কিভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে তা উপরের অনেক মন্তব্যের উত্তরে বলেছি । অনুগ্রহ করে দেখে নেবেন । তবুও সংক্ষেপে আপনার জন্যে এটুকু --
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় কোনও মানুষকেই শিক্ষিত করে তোলার কোনও আয়োজন নেই অনেক কাল আগে থেকেই । ্‌উল্টোদিকে সীমাহীন অনিয়ম , দুর্নীতি , সবাইকে পাশ করিয়ে তথাকথিত শিক্ষিতের হার বাড়ানোর প্রবনতা, সুষ্ঠ শিক্ষানীতির অভাব, সঠিক মান বিচার এবং শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ ও পরিবেশ বিবেচনা না করেই যত্রতত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বানানোর অনুমতি দিয়ে শিক্ষাকে পণ্যে পরিনত করার হঠকারীতা ইত্যাদি শত শত অপরাধ পুরো শিক্ষাঙ্গনটাকেই কলুষিত করে রেখেছে । সেখানে কারো "মানুষ" হয়ে গড়ে ওঠার কোনও প্রকার সুযোগ নেই । তার উপর শিক্ষাঙ্গনে যখন ছাত্র-শিক্ষক নির্বিশেষে লাল-নীল-সাদা-কালো এমন বিভাজনে রাজনীতির নোংরা খেলায় মেতে থাকেন সর্বক্ষন তখন অবশ্যম্ভাবী ভাবে শিক্ষার বারোটা তো বাজবেই । এমন পরিবেশে আপনি না পাবেন কোন আদর্শ ছাত্র , না শিক্ষক ।

আর বেতন ভাতা সহ সুযোগবৃদ্ধি এই নষ্ট সময়ে কোনই প্রণোদনা নয় । হলে সরকারী কর্মচারীদের বেতন ভাতা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করেও দুর্নীতি , ঘুস বন্ধ করা যায়নি । বরং ওসবের রেট উল্টো দ্বিগুন থেকে তিন-চারগুন বেড়েছে ।

কেউ নেই ! আমাদের উদ্ধার করতে কোনও মসীহা নেই ।
এই পাপের সংসারে, যেখানে ক্ষুধা আছে , সন্তান আছে , আছে মারাত্মক লালসা, আছে অন্যকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়ার প্রতিযোগিতা সেখানে ক’জন পারে সব সময় মনের কথা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করতে ? আপোষ ভিন্ন সংসারে টেকা যায়না । আর আপোষ মানেই কপটতা । আমরা এই কপটতায় আচ্ছন্ন । আমাদের রক্তের ভেতরেই ঘুণপোকাদের ঘর । এ থেকে আমাদের পরিত্রান নেই ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

২৫| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৭:৪৮

জুন বলেছেন: শিক্ষক অবহেলিত ছিল সেই প্রাচীন কালে যখন তারা লাট সাহেবের কুকুরের একটি পায়ের সমান নিজেদের মনে করতো ।
এখন বেশিরভাগ শিক্ষকরাই বহুত চালাক চতুর ধুর্ত । আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বললাম । যারা ক্লাসের প্রথম দিন থেকেই নিজের দের কোচিং সেন্টারের ঠিকানা কচি কচি বাচ্চাদের হাতে গুজে দেয় ক্লাশে না পড়িয়ে ।
আপনার লেখা বরাবরের মতই পান্ডিত্যপুর্ন যাতে ভালোলাগা রইলো ।
+

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন ,




দেশের বাইরে থেকেও সময় করে পড়তে পেড়েছেন এবং মন্তব্য করেছেন দেখে ধন্যবাদ ।

ঠিকই বলেছেন , শিক্ষকরা অবহেলিত ছিলেন সেই প্রাচীন কাল থেকেই ।
আবার আমরা এও জানি -
''আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।''

( এমনটা উপরে সহব্লগার "শাহরিয়ার কবীর" ও দেখিয়ে গেছেন )
এই উদাহরণে সম্রাট আলমগীর নিজ পূত্রকে আদেশ দিয়েছিলেন শিক্ষকের পা ধুঁইয়ে দিতে ।

এরকম হঠাৎ হঠাৎ হয়তো কিছু ঘটে যায় কিন্তু বেশীর ভাগটাই শিক্ষক নিগ্রহের কাহিনী, তাদের অবহেলার কাহিনী যেটা আপনার মন্তব্যেও আছে । বর্তমানে তা ছোঁয়াচে রোগের মতো পুরো সমাজটাকেই ব্যাধিগ্রস্থ করে রেখেছে । এখানে সম্রাট আলমগীরের মতো উদাহরণ একটাও নেই সম্ভবত ।
হে মোর দূর্ভাগা দেশ ...............

শুভেচ্ছান্তে ।

২৬| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৫১

বিলিয়ার রহমান বলেছেন: এর পরেও যদি মানুষ জানতে চায় আমি জীবনে কি করেছি বা কি পেয়েছি আমার উত্তর, অর্থই জীবনের সব নয় ।

এই একটা কথাই মাটেরিয়ালিজমের পৃথিবীকে না বলা অনেক কিছুই বলে দেয়।


পেস্টে +

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: বিলিয়ার রহমান ,



একটি বাক্যের মন্তব্যে আপনিও বস্তুবাদী বিশ্বের অনেক কিছুই বলে গেলেন ।
ধন্যবাদ মন্তব্য ও প্লাস দেয়াতে ।

২৭| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩০

শামছুল ইসলাম বলেছেন: শিক্ষক দিবসে এমন একটা লেখা পড়ে মনটা ভালো হয়ে গেল ।

আবার এও ভাবছি, আমার ছাত্রজীবন শেষে যে কয়জন শিক্ষকের কথা মনে ভাসছে, আমার সন্তানের বেলায় সে সংখ্যা কয়টা?

আমার/আপনার জীবন বাঁচানোর জন্য একজন ডাক্তারের আবশ্যকতা অবশ্যম্ভাবী । আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে তারা (ডাক্তাররা) আমাদের হৃদয়ের যতটুকু জায়গা দখল করে রেখেছিল, আজও কী সেই জায়গা তেমন আছে?

যে কোন পেশার ক্ষেত্রেই সেই পেশার সাথে জড়িত মানুষরা ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।

পোস্টে ++ ।

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: শামছুল ইসলাম ,




অনেক আক্ষেপের দীর্ঘশ্বাস মন্তব্যে ।
আপনার এই দীর্ঘশ্বাসের কোনও ঔষধ আমার জানা নেই !

বলেছেন - "যে কোন পেশার ক্ষেত্রেই সেই পেশার সাথে জড়িত মানুষরা ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ।"
তাতো বটেই যদি সেই পেশার মানুষেরা পেশার প্রতি নিবেদিত থাকেন নিষ্ঠার সাথে অবিচল । নইলে তারা হৃদয়ের এতোটুকু জায়গাও দখল করে রাখতে পারবেন না কারো ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

২৮| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০১

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:




শিক্ষক হলো এক অবিসংবাদিত নেতা । যার কাছে বেয়াড়া সৈনিকরা আসে আর তিনি তাদের শৃঙ্খল করে গড়ে দেন যে কোন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য । এক নিঃস্বার্থ খেয়ালি, ছায়া ।

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: কথাকথিকেথিকথন ,




চমৎকার বলেছেন । শিক্ষক এক নিঃস্বার্থ খেয়ালি, ছায়া ; যদি তেমন শিক্ষক হন ।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

২৯| ০৮ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:১৩

নীলপরি বলেছেন: প্রতিটা লাইনই খুব সুন্দর লাগলো । ++++++++

শুভকামনা।

১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: নীলপরি ,



ভালো লাগলো প্লাস সহকারে করা মন্তব্যটি ।
শুভকামনা রইলো আপনার জন্যেও ।

৩০| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৬

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:

ভাই,আমি প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আমি আমার সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের মাধ্যমে আমার মূলবক্তব্য আপনাকে বোঝাতে পারিনি!আসলে আমি বোঝাতে চেয়েছিলাম ‘আমিও আপনার পোষ্টের সাথে একমত’।কারণ,সবাই এখনো শিক্ষকদের অবহেলার চোখে দেখে। যেমনটা,জুন আপু বলেছেন....

জুন বলেছেন: শিক্ষক অবহেলিত ছিল সেই প্রাচীন কালে যখন তারা লাট সাহেবের কুকুরের একটি পায়ের সমান নিজেদের মনে করতো


প্লিজ ভাই,আমাকে ভুল বুঝবেন না।
ধন্যবাদ,ভালো থাকুন সবসময়......


১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহরিয়ার কবীর ,




আপনাকে বুঝতে এরকম ভুলের জন্যে আমি সত্যিই লজ্জিত । মানুষ তো আর ফেরেস্তা নয় যে ভুল হবেনা ।
ক্ষমা করা যাবে কি ?

হ্যাঁ, সম্মানিতা ব্লগার "জুন" ঠিকই বলেছেন । তাঁর মন্তব্যের জবাবে আমি যা বলেছি তেমনটা আপনিও বলেছেন বলে সেখানে আপনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছি ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৩১| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


শিক্ষকদের বলার উচিত, "আমরা জাতির প্রতিটি সন্তানকে পড়াতে চাই, সরকার ব্যবস্হা নিক"!

১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী ,




হয়তো বলা উচিৎ ! কিন্তু বলবে কি ? আর বললে এবং সরকার ব্যবস্থা নিলেও প্রতিটি সন্তানকে শিক্ষাদান সম্ভব নয় । অনেক ফ্যাক্টর জড়িয়ে আছে এর সাথে ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৩২| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৪০

পলষ্টার বলেছেন: অর্থই জীবনের সব নয় । তাই যারা এমোনটা প্রশ্ন করেন তাদের অজ্ঞতা দেখে আমি কষ্ট পাইনা আমি আমার মাথাকে উঁচুতে তুলে রাখতে পারি সেদিকে কোনও ভ্রক্ষেপ না করেই ।

১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:০০

আহমেদ জী এস বলেছেন: পলষ্টার ,



স্বাগতম আমার ব্লগে । ভালো লাগলো লেখার মূল সুরটাকেই কোট করলেন বলে ।

শুভেচ্ছান্তে ।

৩৩| ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৪১

পলষ্টার বলেছেন: রিপোস্টের জন্য ধন্যবাদ।

১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: পলষ্টার ,



আপনাকেও ধন্যবাদ ।

৩৪| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩৮

আরজু পনি বলেছেন: গায়ে কাঁটা দিল পড়ে!

আমি এই পেশায় আসতে চাইনি। চেয়েছিলাম চ্যালেঞ্জিং কোন পেশায় নিজেকে দেখতে।
জল অনেক গড়িয়েছে। ধারণাও অনেক বদলেছে।

যখন স্থির করেছি শিক্ষকতা পেশার কোন স্তরে নিজেকে দেখতে চাই তারপরপরই চাকরী পেয়েছি। এই পেশাকে ভালোবেসেই গ্রহণ করেছি।
বর্তমানে পেশাগত যেই অবস্থানে আছি এখন বুঝি আমি আসলে চ্যালেঞ্জিং পেশাতেই আছি।
অনেক ধন্যবাদ দারুণ একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য হোক না পুরনো।

১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: আরজু পনি ,




ভালো লাগলো অনেক দিন পরে আপনাকে দেখতে পেয়ে ।

পোস্টের অনেক মন্তব্যেই যা বলা হয়েছে তার সারাংশ এই ---
" আদর্শ শিক্ষক আর নেই। হালের শিক্ষকরা এখন নীতি বিবর্জিত । "

মন্তব্যে যা লিখলেন, তাতে প্রমান হলো এখনও আদর্শ শিক্ষক কেউ কেউ আছেন , একদম হারিয়ে যায়নি ।

আজ হয়তো কাঙ্খিত " শিক্ষক"দের দেখা মেলা ভার কিন্তু হ্যাঁ, মাঝে মাঝে তাদের দেখা পাওয়া যায় । যে শিক্ষকদের কথা বলেছি আমাদের এখানেও তারা আছেন । যেমন - আরজু পনি ।
এভাবেই থাকুন , সবচেয়ে মহান পেশাটিতে ।

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৩৫| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৫

জেন রসি বলেছেন: জী এস ভাই,

সিস্টেম সৃষ্টি হয়েছে। যারা সৃষ্টি করেছে তারা বিশেষ একটা উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছে। তাদের দরকার কেরাণী। তাদের দরকার আমলা। কোন গবেষক তাদের দরকার নেই। ডাক্তার, প্রকৌশলী দরকার খুব সুনির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য কিন্তু বিজ্ঞনীর কোন দরকার নেই তাদের। তাদের দরকার চাটুকার শিক্ষক এবং কর্মী ছাত্র যা তাদের পারপোজ এবং স্বার্থ সার্ভ করবে। মোটাদাগে এভাবে আরো অনেক কিছু বলা যায়।

এখন এই সিস্টেম কারা ভাঙবে? যারা নিজেদের স্বার্থে সিস্টেম বানিয়ে রেখেছে তারাত আর ভাঙবে না। তারা বরং এটাকেই টিকিয়ে রাখতে চাইবে।

নতুন সিস্টেম বিনির্মান করতে হলে এমন শিক্ষক চাই যিনি শুধু গৎবাঁধা শিক্ষাই দিবেন না। বরং একই সাথে তিনি হবেন সচেতন অভিবাবক, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, পদার্থবজ্ঞানী।

আমাদের শিক্ষকরা ব্যর্থ। আমরাও ব্যর্থ। প্রশ্নফাঁস যারা করে তারা তাদের স্বার্থেই তা করে। তাদের গালি দিলে, মন্দ কথা বললেই তারা তা করা বন্ধ করে দেবেনা। তার জন্য পাল্টা যে অ্যাকশন আমাদের নেওয়া দরকার তা আমরা নিতে পারিনা বলেই সিস্টেম পরিবর্তিত হয়না।



১১ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,




"""""দোষটা সময়ের, সিস্টেমের ....আবার এই সিস্টেম মানুষই সৃষ্টি করে।"""""""""""
আপনার আগের এমন মন্তব্যের জবাবে আমি বলেছি, কোন দেশের মানুষ ? সাথে এও বলেছি , আমাদের দেশের মানুষ যা সৃষ্টি করে তা শিব গড়তে গিয়ে বান্দর হয়ে যায় । আমাদের শিক্ষাঙ্গনে কোন ভালো সিষ্টেমটা সৃষ্টি হয়েছে ? হ্যাঁ, হয়েছে ... নিয়মিত ভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সিষ্টেম চালু হয়েছে । সামনে হয়তো প্রশ্নের উত্তরপত্রও পরীক্ষার হলে পরীক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌছে দেয়ার সিষ্টেমও চালু করে দেবে সিষ্টেম সৃষ্টিকরনেওয়ালারা ।
এইতো ?
সেকথাই তো আপনি বললেন এখানে । বললেন - " সিস্টেম সৃষ্টি হয়েছে। যারা সৃষ্টি করেছে তারা বিশেষ একটা উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছে । "
তাহলে ভালো সিষ্টেম কে তৈরী করবে ? কোন সে মহাজ্ঞানী, মহাজন / আদর্শ সিষ্টেম করিবে সৃজন ???????

আবার বলেছেন - " নতুন সিস্টেম বিনির্মান করতে হলে এমন শিক্ষক চাই যিনি শুধু গৎবাঁধা শিক্ষাই দিবেন না। বরং একই সাথে তিনি হবেন সচেতন অভিবাবক, দার্শনিক, সমাজবিজ্ঞানী, সাহিত্যিক, পদার্থবিজ্ঞানী। "
তা কি করে হবে ? আগেই তো বললেন , সিস্টেম সৃষ্টি হয়েছে। যারা সৃষ্টি করেছে তারা বিশেষ একটা উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছে। তাদের দরকার অনুযায়ী তারা সৃষ্টি করেছে কেরাণী, আমলা, চাটুকার , বশংবদ ছাত্র ও কর্মী । এমন সেট-আপে নিটোল - নির্ভেজাল - নির্মোক - নিরপেক্ষ - নিশ্চিন্ত সিষ্টেম সৃষ্টি কারা করবে ?? যারা করবে বলে আপনার ধারনা তারা নিজেরাই তো
আপনার উল্লেখিত সিষ্টেমের সুফল ভোগী, বেনিফিশিয়ারী ।

তবে এটা একশত ভাগ সত্য বলেছেন --- আমরা ব্যর্থ ।

আমাদের এই তথাকথিত সভ্যতার ধ্বজাধারীরা ( সিষ্টেম মেকার ) যে মেকী মানসিকতা তৈরী করে দেয় জ্ঞানচক্ষু উন্মীলনের মূহুর্তে তা থেকে আমাদের মুক্তি নেই মৃত্যু পর্যন্ত । ব্যতিক্রম যারা হতে চায়, যারা মানুষের সঠিক জায়গার খোঁজ দিতে বদ্ধপরিকর তাদেরকে হয় পাগল নয় রাজনৈতিক মতলববাজ বলে চিহ্নিত করে দেয় এইসব সিষ্টেম বানানেওয়ালা সুবিধাবাদীরা । আমরা এখানেই ব্যর্থ , ঐসব সুবিধাবাদীদের আমরা রুখে দিতে পারিনি । মেকী মানসিকতাকে হটিয়ে দিতে পারিনি বরং নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থেই সেই মানসিকতাকে লালন করে যাই প্রতিনিয়ত ।

৩৬| ১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৫

কথাকথিকেথিকথন বলেছেন:




'তেমন শিক্ষক' বলে আমি তেমন কোন ধারণা পোষণ করি না । আমি মনে করি, শিক্ষকের সমার্থক ভাল, মর্যাদাবান, শ্রদ্ধেহ...। যারা যোগ্যতা না রেখেও নিজেকে শিক্ষক বলে দাবী করে তারা আসলে, অশিক্ষক, বেশিক্ষক,কুশিক্ষক এমন কিছু একটা হবে !
শিক্ষক সে নয় শুধু যে পুস্তক শিখিয়ে দেয়, শিক্ষক সেও যে জীবনকে শিখিয়ে দেয়।

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: কথাকথিকেথিকথন ,



আপনার সাথে একটু দ্বিমত করি । "তেমন শিক্ষক" হলেন আপনি যেমনটা বলেছেন তেমনটা - ভাল, মর্যাদাবান, শ্রদ্ধেয় ।
আর "অমন শিক্ষক" বা বাকীরা হলেন আপনার কথামতো অশিক্ষক, বেশিক্ষক,কুশিক্ষক ।

আপনার আগের মন্তব্যে আমি "যদি তেমন শিক্ষক হন" বলতে এটাই বুঝিয়েছে যে, তেমন একজন শিক্ষক হবেন আপনার কথামতো এক নিঃস্বার্থ খেয়ালি, ছায়া ।
শিক্ষক সে নয় শুধু যে পুস্তক শিখিয়ে দেয়, শিক্ষক সেও যে জীবনকে শিখিয়ে দেয়।
এটা ঠিক বলেছেন । একমাত্র "মা" ই হলেন প্রতিটি মানুষের তেমন শিক্ষক যিনি জীবনকে শিখিয়ে দেন । জীবনের প্রথম শিক্ষক তিনিই । অক্ষর জ্ঞান থেকে জীবনের সব কিছুর প্রথম পাঠ "মা"য়ের কাছেই ।

আশা করি বোঝাতে পেরেছি ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৩৭| ১২ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২৪

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: আপনাকে বুঝতে এরকম ভুলের জন্যে আমি সত্যিই লজ্জিত । মানুষ তো আর ফেরেস্তা নয় যে ভুল হবেনা ।
ক্ষমা করা যাবে কি ?


ভাই,এইবার মনে হয়,একটু মাইন্ড করলাম ! কারণ, উপরে আপনার এমন লেখা দেখে। আপনি আমার একজন শ্রদ্ধেয় ব্লগার এবং একজন শিক্ষক ! একজন শিক্ষক হয়ে এমন কথা বলা আসলে নজির বিহীন। প্লিজ আর এমন কথা কখনো বলবেন না। ব্লগে প্রথম দিকে আমার অনেক কবিতা আপনি সংশোধন করে দিতেন। এ বিষয়টা আপনার মনে আছে কিনা জানি না, আমার মনে আছে। আপনার কাছে অনেক কিছু শেখার আছে; প্রথমে ভুলটা আমার ছিল,আমি মন্তব্যের মাধ্যমে আপনাকে বোঝতে পারিনি। আপনি কেন এমন কথা বলছেন?আর, এখন থেকে আমার কোন ভুল হলে, অবশ্যই তা ধরে, শিখিয়ে দিবেন।এটা আপনার কাছে আমার বিনীত অনুরোধ রইল।ধন্যবাদ।


১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫০

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহরিয়ার কবীর ,



মাইন্ড কেন করবেন না তার তাফসির বলছি ----- আমি তো মনে করি, সকল সহ-ব্লগাররাই সমান । ব্লগাররা সবাই একে অপরের বন্ধু; জাতি -ধর্ম- বর্ণ - বয়স নির্বিশেষে । আমি কাউকে শেখাই নে । আমি শিক্ষক নই । আমি আপনার বন্ধু । ব্লগের সবাইকেই আমার বন্ধু ভাবতে ইচ্ছে করে। যারা এটুকু বোঝেন তাদের ভুল-ত্রুটিগুলো মাঝে মাঝে নিজের মনে করেই শুধরে দিতে চেষ্টা করেছি এবং করি । সেটা আবার যারা তাদের সুন্দর মন নিয়ে গ্রহন করেন যখন , তখন ভালো লাগে । যারা সেটা মেনে নিতে পারেন না তাদেরকে শুধরে দেয়া থেকে বিরত থাকি কিন্তু বন্ধুর খাতা থেকে নামটি সরিয়ে ফেলিনে ।
আমরা এখানে একটি পরিবার , এটা আমি মনেপ্রানে বিশ্বাস করতে চাই । তাই অনেকের লেখায় বন্ধুর মতো সহজেই মন্তব্য করে বসি । সকলের কাছেই আমি এভাবে অবারিত থাকতে চাই । যারা সে সুযোগ আমাকে দেন , তাদেরকে আমি ভুলিনে । কৃতার্থ হই ।
এখানে আমরা কেউই লেখায় পেশাদার নই । আমিতো মনে করি সবাই মনের খোরাক পেতেই ব্লগে লেখালিখি করেন । ব্যতিক্রম বাদে সকল ব্লগারগণই হরিহর আত্মা । সকল ব্লগারেরই এই আস্থার জায়গাটুকু ধরে রাখা উচিৎ ।

আপনার মন্তব্যের জবাবে যা বলেছি সেখানে " ক্ষমা করা যাবে কি ?" বাক্যটি কি দ্যোতনা ধারন করে ? খেয়াল করে দেখুন, একটি প্রচ্ছন্ন আবদারের দ্যোতনা আছে বাক্যটিতে । আপনাকে বন্ধু ভেবে ওটা আমার আবদার । আপনাকে আস্থার জায়গাটিতে বসাতে না পারলে শুধু লিখতুম - " ক্ষমাপ্রার্থী " ।

এবারে আশা করি, হতাশ হননি । আমাকে বন্ধু ভাবুন । বন্ধু হতে বয়স কোনও ফ্যাক্টর নয় বলে আমি বিশ্বাস করি । আমার ভুল-ত্রুটি হলে আপনিও আমাকে শুধরে দিতে পারেন । কারন শেখার জন্যে কোনও ধরাবাধা নিয়ম নেই , বয়সও নেই । যে কারো কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার থাকে ।

অনেক আবোল-তাবোল বলে ফেলেছি তাইনা ?
শুভেচ্ছান্তে ।

৩৮| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:২৫

শায়মা বলেছেন: হায় খোদা!!!!!

অবহেলিত শিক্ষক!!!!!


:( :( :(

কে বলেছে সবাই অবহেলিত ভাইয়া!!!!

আমি টিচার্স ডে তে কত্ত কত্ত কার্ড পাই। উইশ পাই। ফুল পাই। ভালোবাসা পাই আমার ছোট্ট বেবিদের আর মা বাবাদের কাছ থেকে!

এছাড়াও কত রকম গিফ্ট। খানা খাদ্য.....

সবই তারা করে শিক্ষকদেরকে ভালোবেসেই।

আমি শুধু না আমাদের স্কুলে প্রায় সকল শিক্ষককেই এই ভালোবাসা পেতে দেখেছি। যদিও এটা প্রি স্কুলেই সীমাবদ্ধ হয়তো।
মানুষ যত বড় হয় শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা হয়তো ততই কমে .....

আর তাছাড়া শিক্ষক ছাত্রের মূল্যায়ন ছাড়াও সামাজিক আর্থিক বা অন্যন্য দিক দিয়ে শিক্ষক অধিকাংশ সময়ই অবহেলিতই থেকে যায়। :(

বিশেষ করে আমাদের দেশে ....

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,



কে বলেছে সবাই অবহেলিত ভাইয়া!!!! কেউ বলেনি । আমিও বলিনি । বরং প্রশ্ন রেখেছি শিরোনামে " (?) " চিহ্ণ বসিয়ে । উত্তরটা্তো পাঠকদেরই দেয়ার কথা , শিক্ষকরা অবহেলিত কিনা ।
একজন শিক্ষক কিভাবে তার মাথাটি সমুন্নত রাখতে পারেন তার একটি গল্প বলেছি ।
গল্পের শিক্ষকের মতোই আপনার সাফল্য যেটা আপনার মন্তব্যে ফুটে উঠেছে । কত্ত কত্ত কার্ড , উইশ, ফুল, ভালোবাসা পাওয়ার পাশাপাশি আপনার কি মনে হয়না , আপনার পিচ্চি ছাত্রদের আপনি ভাবতে শিখিয়েছেন ? তাদেরকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন ?? তাদের নিজেদের কাজের প্রতি সম্মান জানাতে আর সেই কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখিয়েছেন ??? যেখানে শিশুদের পিতামাতা তাদেরকে গেমস কিউব, আই-পড ইত্যাদি হরেক খেলনা দিয়েও বাড়ীতে ৫ মিনিটের বেশী বসিয়ে রাখতে পারেননি সেখানে আপনি তাদেরকে ৪৫ মিনিট পর্য্যন্ত ক্লাসে একই জায়গাতে বসিয়ে রাখতে পেরেছেন ????
এগুলো আপনার অর্জন । আপনি বা আপনারা যাদের শিক্ষক তারা নিষ্পাপ, ফুলের মতো বলেই আপনাদের এই অর্জন অনেকটা সহজ হয়েছে । আপনি বা আপনারা এমনই থাকুন, শিশুদের মধ্যমনি হয়ে ।

মানুষ যত বড় হয় শিক্ষা ও শিক্ষকের মর্যাদা হয়তো ততই কমে ....
ঠিক ।
মানুষ যতো বড় হয় ততোই নোংরামীতে ভরে ওঠে তাদের মন , মানসিকতা বিকারগ্রস্থ হয় , লোভ তাকে গ্রাস করে নেয় ।
আপনার মন্তব্যের শেষেরটুকু যে উপলব্ধি করতে পেরেছেন সেটা স্বস্তিদায়ক । আমরা সবাই যদি এদিকটাতে নজর দিতে পারতুম !!!!!!!!

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।

৩৯| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০৪

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া বাচ্চাদের জন্য আমার গল্পবলা আর তাই থেকে আনন্দে শেখা নিয়ে পোস্টটা পড়ো!!!!!


এই পোস্ট পড়লেও হয়তো একটু বুঝবে আমি কতিপয় গুটিকয় সেই সব ভাগ্যবান শিক্ষকদের একজন যে আনন্দ নিয়ে পড়াবার সুযোগ পেয়েছি !


তবে এই আনন্দ নিরানন্দই থাকে যখন দেখি আমাদের দেশের কত শত ফুলের মত শিশুরা শাসনে বারনে ও ভীতি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে বা ভীতিময় শিক্ষা নিতে বাধ্য হচ্ছে !

১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:০৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা ,



দেখেছি আপনার লেখা । পড়বো । আমি পড়তে সময় নেই । প্রথম লাইন আর শেষ লাইন দেখে মন্তব্য করিনে । খুঁটিয়ে পড়ি, ভাবি, লেখককে বুঝতে চেষ্টা করি তারপরে মন্তব্য করি । সন্দেহ নেই এটা আমার বাজে একটি অভ্যেস ।

আবারও আসাতে ধন্যবাদ ।

৪০| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: প্রিয়তে নিয়ে গেলাম, বিষয়টা অন্প কথায় বলা কস্টকর
সময় নিয়ে আবার আসব ।
শুভেচ্ছা রইল ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,



সময় নিয়ে আবার যে ফিরে আসবেন এবং সেটা আমার জন্যে যে কি পরিমান দুরূহ হয়ে উঠবে তা দেখতে পাচ্ছি পরের মন্তব্যে ।
সমস্যায় ফেলে দিলেন বড় !
শুভেচ্ছান্তে ।

৪১| ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৫৪

আখেনাটেন বলেছেন: শিক্ষকেরা সমাজের বাতিঘর। এই বাতিঘর টিম টিম করে জ্বালানোর ব্যবস্থা করে রেখেছে সরকারগুলো। ফলে এই টিমটিমানো আলো থেকে পথ খুঁজে ফেরা জাহাজ (শিক্ষার্থী) গুলো কতটুকু আলো পাবে তা সহজেই অনুমেয়।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: আখেনাটেন ,




চমৎকার উপমায় সাজানো মন্তব্য । প্রতিটিতে সত্যের প্রলেপ মাখা ।
.....আমাদের দেশে বর্তমানে মানুষের মানসিকতায় রাতারাতি "আঙ্গূল ফুলে কলাগাছ" হবার প্রবনতা তীব্র । শিক্ষকতার মহান পেশায় কলাগাছ হ্ওয়া একবারেই অসম্ভব। তাই মেধাবী- অমেধাবী সক্কলেই ছুটছেন "টু-পাইস" কামানোর আশায় । আর শিক্ষকতায় আসছেন তারাই যাদের কোন্ও গতি নেই ..........
এই যখন আমাদের সমাজ - রাষ্ট্রের ছবি সেখানে টিমটিমানো আলো যে আছে সেটাই অনেক ভাগ্যের ।

মন্তব্যে ভালোলাগা ।

৪২| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৩:৩৪

জেন রসি বলেছেন: জী এস ভাই,

সিস্টেম পরিবর্তন করতে চাইলে সিস্টেমও সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত করবে। নিষ্ঠুর সত্য হলো সিস্টেমের বিরুদ্ধে অভিমান করে কোন লাভ নেই। সফল হতে হলে লড়াই করেই হতে হবে। এই লড়াইটা করতে গিয়ে যারা ব্যর্থ হচ্ছে তাদেরও আত্মসমালোচনার মধ্যে দিয়ে নিজেদের কাজগুলোকে বিশ্লেষন করে দেখা উচিৎ।

১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: জেন রসি ,



সিস্টেম পরিবর্তন করতে চাইলে সিস্টেমও যদি সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আঘাত করে তবে লড়াই করে লাভ কি ? যে লড়াইতে লাভ নেই সেখানে সফলতার প্রশ্নও নেই ।

সমস্যার সমাধান প্রচলিত পথে না হলে সেখানে সব সময় একটা তৃতীয় পথ ( থার্ড অপশন ) থাকে ।

৪৩| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ ভোর ৬:২৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: এই মুল্যবান লেখাটির জন্য রইল অভিনন্দন । লেখাটি সাথে বিজ্ঞ পাঠকদের মুল্যবান মন্তব্য ও তার যুক্তি নির্ভর জবাবগুলি দেখলাম, পোষ্টটি এ মহুর্তের জন্য একটি গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বলে হয়েছে অনুভুত ।

শিক্ষকদের মর্যাদার ঘাটতি নিয়ে বাংলাদেশের সমাজে বেশ উদ্বেগ পরিলক্ষিত হয় বলে দেখা গেল , শিক্ষকদের সাধারণ সামাজিক মর্যাদা আসলে যথেষ্ট আছে কিনা কিংবা শিক্ষক সমাজের কার্যকর মর্যাদা ক্রমাগতভাবে কমেই চলেছে বলে ব্যপকভাবে এখন সর্বত্র হচ্ছে আলোচিত ৷

এক্ষেত্রে অবশ্য মোটা দাগে বলা যায় শিক্ষকদের সাধারণ সামাজিক মর্যাদা এখনো যথেষ্টই আছে, যদিও অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক সমাজের কিছু লোক নীজেরাই সেই মর্যাদার অপব্যবহার করে থাকেন৷ বাংলাদেশের শিক্ষকসমাজ শিক্ষকতার চাকরি করেন বলে যে শ্রদ্ধা ও সম্মান ভোগ করেন তা সমাজের অন্যদের থেকে বলতে গেলে অনেকটা বেশীই বলে এখনো দেখা যায় । তথাপিও তাঁদের মর্যাদা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন হওয়াটা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে । তবে এটা সত্য যে শিক্ষকদের মর্যাদার ব্যপারে যাদের এগিয়ে আসার কথা তাদের কোনো মাথাব্যথাই দেখা যাচ্ছে না৷ আর যারা আমাদের মত উদ্বিগ্ন তাদের সত্যিকার অর্থে তেমন কিছু করার ক্ষমতাও নেই ৷ তার চেয়ে বড় কথা শিক্ষকের মর্যাদাটা আসলে কী বস্তু আর তা কার্যকরভাবে বাড়ানোর উপায়ইটাই বা কী, সে সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্তরা একেবারেই বেখেয়াল বলে মনে হয় ৷

বিভিন্ন সুধীজনের আলোচনায় দেখা যায় যে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা বিবিধ কারনে ক্রমাগত কমেছে, তবে শ্রদ্ধা-সম্মানের স্মৃতিটা রয়ে গেছে আমাদের কাছে ৷ আমার জানা মতে আদর্শ শিক্ষকের সংখ্যা এখনো রয়েছে অগনিত । এ পোষ্টেও উদাহরণ হিসাবে যে হেডমাষ্টারের কথা উঠে এসেছে এবং তার চাওয়া ও পাওয়া নিয়ে যে সমস্ত সুন্দর কথামালা উঠে এসেছে তা এখনো বৃহত্তর শিক্ষক সমাজকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে । যে কোন পরিসংখানগত সমীক্ষাতেই এটা উঠে আসবে । তবে দু:খের বিষয় , প্রতিবছর বেছে বেছে হাতে গোনা কয়েকজনকে রাস্ট্রিয়ভাবে আদর্শ/সেরা শিক্ষকের পুরস্কার দেয়া হয় , যা প্রকান্তরে প্রমান করে দেয় আদর্শ শিক্ষক পাওয়া বড়ই দুর্লভ , এধরনের আদর্শ শিক্ষক নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রভাব থাকার কথাও শুনা যায় মাঝে মধ্যে !!! এর ফলে সত্যিকার অর্থে অনেক আদর্শ শিক্ষক থেকে যাচ্ছেন অনেকের অগোচরে ।

যাহোক, এ কথা বলা যায় আধুনিক দুনিয়ায় শিক্ষা এবং শিক্ষকের গুরুত্বের দিকটা একটু আলাদা৷ উন্নত সমাজগুলো মূলত জ্ঞানভিত্তিক সমাজ৷ প্রক্রিয়ার দিক থেকে শিক্ষা এবং শিক্ষার নিয়ন্তা হিসাবে শিক্ষক সমাজ জ্ঞানের কারবারি৷ তাঁরা জ্ঞান নিয়ে কারবার করেন বলে তাঁদের মধ্যে জ্ঞানীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি৷ এই জ্ঞানী শিক্ষকদের কল্যাণেই গোটা পেশাটাই অধিক মর্যাদা পেয়ে যায় সেখানে ৷

তবে যে কোন দেশেই মানুষ তার শৈশব-কৈশোরেই সাধারণত শিক্ষা-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় ৷ ধরে নেয়া হয় এ সময়ের শিক্ষা জিবনটাই পুরো জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানের যোগান দেয়৷ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রক্রিয়ার মুখ্য অনুঘটক হিসাবে শিক্ষকরাই সবসময় পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ৷ আমাদের দেশেও তা সমভাবে প্রযোয্য । শিক্ষকদের মর্যাদার উপরে এর প্রভাব আগেও যেমন ছিল এখনো তেমনিই আছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ।

তবে অধুনা শিক্ষাকে আর দশটা পণ্যের মতোই দেখা হচ্ছে৷ স্বভাবতই শিক্ষার বাজার এখন রমরমা, যে শিক্ষা বাজারে বিকোয় বাংলাদেশেও তেমনি চলছে বলে কিছুটা দেখা যায় । বাজারি শিক্ষকগণ ( কোচিং এর সাথে জড়িড়) যথেষ্ট সম্মান পাচ্ছেন৷ সম্মানটা বাজারের নিয়ম মেনে নগদ মুদ্রাতেই পরিশোধিত হয় বলে৷ শুনা যায় কোচিংএ জড়িত অনেক শিক্ষকের আয় নাকি চোখে পরার মত । তবে বাংলাদেশের শিক্ষার সামগ্রিক অবস্থা আসলেই ভয়াবহ এবং অবস্থার উন্নতিকল্পে দ্রুত উদ্যোগ-আয়োজন শুরু করা দরকার ৷ লোকে সাধারণত অবস্থার ভয়াবহতা আঁচ করতে পারে, কিন্তু বিবিধ কারনে তা ব্যাখ্যা করতে পারে না ৷ ফলে শিক্ষকের মর্যাদাহানির কথা বলা হলেও শিক্ষার দুরবস্থার কথা তেমনভাবে প্রকাশ পায়না । তবে শিক্ষকের এই মান মর্যাদার সমস্যার কথাগুলি এ পোষ্টের লেখাটিতে ফুটে উঠেছে দারুনভাবে ।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা যায় , কিছুদিন আগেও গ্রাম-বাংলায় শিক্ষিতের হার কম ছিল ৷ অন্য পেশাজীবীর সংখ্যাও ছিল কম ৷ হাই স্কুলের হেডমাস্টার তখন অনেক বড় ব্যাপার ছিল৷ এ ধরনের বহু শিক্ষক ব্যাপক খাতির-যত্ন পেতেন, তার মুল কারণ ছিল এঁদের অনেকেই আসলে ছিলেন গ্রামীণ এলিট৷ তাঁদের শিক্ষা, শিক্ষা-প্রদান এবং অপরাপর আভিজাত্যের মধ্যে কোনো ফারাক ছিল না৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কথাই ধরা যাক৷ ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষক উঁচু সামাজিক মর্যাদা ভোগ করতেন৷ এর মূল কারণ তখন সমাজের সাধারণের মধ্যে শিক্ষকরা ছিলেন মাথাতোলা উঁচু অংশ। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে৷ সমাজের আরো বহু গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি হয়েছে৷ শিক্ষক সমাজের আগের সামাজিক প্রাধান্য ধরে রাখার ক্ষেত্র সংকোচিত হচ্ছে৷ তাই এ ব্যাপারে পার্থক্য টা চোখে পড়ার মত ৷ যেমনটি এ পোষ্টে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে প্রাইভেট কোস্পানীর একজন সিইও কেমন করে স্পর্ধাভরে হেডমাষ্টারকে মানহানিকর সব প্রশ্ন করতে পারে তার ধরন দেখলে । যুতসই উত্তর হেড মাস্টার এর জবানীতে তুলে দেয়ার জন্য রইল বিশেষ ধন্যবাদ ।

অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে মুল ভাবনাটা আসলে ভাবা উচিত কাঠামোগত বা সিসটেমের দিক থেকে৷ আসলে আদর্শ শিক্ষক তৈরী হতে পারে আদর্শ শিক্ষা-কাঠামোর উপর ভিত্তি করে ৷ সেই কাঠামোয় সমস্ত ব্যক্তি নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবে৷ কেউ কেউ কাঠামোগত দায়িত্ব পালন করেও নিজের প্রতিভা ও তৎপরতায় ব্যক্তিগত সিদ্ধি প্রদর্শন করবে৷ তাঁরা বাড়তি সম্মান পাবেন৷ কিন্তু কিছুতেই কাঠামোকে গৌণ করে নয়৷ শিক্ষকের মর্যাদা বলে কোনো ধারণা যদি থেকেই থাকে, তাহলে তা অর্জিত হতে পারে একমাত্র শিক্ষা কাঠামোর মর্যাদা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে ৷ শিক্ষা কাঠামো ও সিসটেমের উন্নতি হলে শিক্ষকের মর্যাদাও আপনা আপনিই বৃদ্ধি পাবে বলে ধারনা করি ।

শিক্ষা কাঠামোটাকে শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপেই বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করি । প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকদের মর্যাদা বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কঠিন ব্যাপার, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ শিক্ষকরা কাজ করেন হতশ্রী অফিসে, বেতন পান আশপাশের যে কোনো চাকুরের চেয়ে কম ৷ বিবিধ কারণে অন্য চাকরি জোটাতে ব্যর্থ হয়েই সাধারণত অনেকেই শিইক্ষকতার কাজ নেন বিধায় তাঁর মর্যাদা জন্মাবে কিসের উপর ভিত্তি করে , সেখানে এক বিরাট প্রশ্ন থেকেই যায় , কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের সালাম আদাবকে সম্মান মনে করলে অবশ্য আলাদা কথা৷ তার পরেও কথা থেকে যায় , শিক্ষকতার চাকুরী পেতেও যে পরিমান কাঠ খর বৈধ ও অবৈধবাবে পোড়াতে হয় তার মাসুল গুনতে গিয়ে শিক্ষককে তো কিছুটা ব্যতিক্রমী কর্ম করতে বাধ্য করা হয় । এর দায় যতটা না শিক্ষকের, তার চেয়ে বেশী শিক্ষা প্রসারের জন্য সমাজের কিছু অংশের প্রভাবশালী দায়িত্ববানদের , তারপরেও আঙ্গুলটা তুলা হয় সেই শিক্ষকের দিকেই ।

কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার ক্ষেত্রেও বলা যায় মূল সমস্যা বস্তুগত ও নির্বস্তুক কাঠামোর সমস্যা, সমস্যাটা ভালো অফিসের, পরিবেশের । বাংলাদেশের উচ্চ মাধ্যমিক সরকারী - বেসরকারী কলেজগুলোর শিক্ষকদের অফিস ও শিক্ষক-নিবাস এর দিকে তাকালেও বোঝা যায় অবকাঠামোর দৈন্যতা, শিক্ষকদের মানুষ হিসাবে কতটা খাটো করে রাখা হয়েছে ৷ অনেক উচ্চ মাধ্যমিক কলেজের সকল বিঅগীয় শিক্ষককে গাদাগাদি করে ডিপার্টমেন্টের একই রুমে বসে তাদের কিছু দাপ্তরিক কাজ বা স্টাডি করতে হয় , অথচ তাদের সমতুল্য কিংবা আরো নীচের পদাধিকারী অন্যান্য সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী/কর্মকর্তারা অনেক বেশী শান সৌকতে আলীশান শিতাতপ নিয়ন্ত্রিত অফিস কক্ষে ব্যক্তিগত স্টাফ পরিবেষ্টিত হয়ে অফিসিয়াল কাজ করেন । আমলাতন্ত্রের প্রতাপের কথাও বলা দরকার, এটাও কলেজ-পর্যায়ের আরেকটা বড় সমস্যা ।তবে মুল কথা হল কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য দরকার যথেষ্ট পরিমানে বিনিয়োগ ৷ ভালো অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা শিক্ষকদের সম্মান বাড়াবে৷ আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা আকর্ষণীয় তরুণ-তরুণীকে শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করবে৷ শিক্ষার মান ভালো করার একমাত্র উপায় কার্যকর অবকাঠামো তার জন্যও দরকার পর্যাপ্ত রাস্ট্রিয় বিনিয়োগ ৷পরিস্থিতি পাল্টালে সম্মানটা পায়ে হেঁটে ধরা দেবে বলে ধারনা ৷

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবটা অবশ্য একটু ভিন্ন ৷ এটা অনস্বিকার্য যে বাংলাদেশের শিক্ষকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরাই অন্য চাকরি না পেয়ে পড়াতে আসেন না৷ সাধারণত তাঁরা ক্লাসের সবচেয়ে ভালো মেধাবী ছাত্র, (যদিও দুচারজন শিক্ষকতা ছেড়ে বিসিএস দিয়ে প্রসাসন , কর কিংবা কুটনৈতিক ক্যাডারে চলে যান, তবে বৃহত্তর শিক্ষক সমাজকে তা প্রতিনিধিত্ব করেনা) । এ কারণে তাঁদের নিজেদেরও জোর থাকে, সমাজের কাছেও তাঁরা যথেষ্ট খাতির শ্রদ্ধা পেয়ে থাকেন ৷এইতো কিছুদিন আগে জাতীয় বেতন স্কেলে স্থান-নির্ধারণী লড়াইয়ে রীতিমতো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, আমলাতন্ত্র সবার সাথে লড়ে শিক্ষকরা যে বিজয়ীর বেশে ফিরলেন , তার অন্যতম কারণ ওই যোগ্যতা৷ তবে সে সময়ে আমলাদের সাথে বিশ্ব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাক-বিতণ্ডা থেকেও বেশ বুঝা যাচ্ছিল সমাজে শিক্ষকদের আগে যে পাত্তাটা ছিল, এখন আর তা নেই ৷ সমাজে কিছুটা থাকলেও , রাষ্ট্র যন্ত্র বা নীতি নির্ধারকদের কাছেতো একেবারেই নেই ৷

তবে এটা ঠিক, অনেক আদর্শবান শিক্ষক আগেও যেমন ছিলেন এখনো তেমনি আছেন । কোচিং , কনসালটেনসি এবং রাজনৈতিক দলাদলিতে কিছু শিক্ষক জড়িযে যাওয়ার খবরা খবর নিয়মিত বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পায় ,যা সমাজে ভাইরালোও হয় , তবে এ সংখ্যা দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক সমাজকে কোন মতেই প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনা ।

অনেকেই শিক্ষকদের রাজনৈতিক সক্রিয়তাকেই তাদের মর্যাদার অবনয়নের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করে থাকেন , কিন্তু এখানেও কথা আছে । সারা দুনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যে মর্যাদা পান তা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত , কিন্তু তা না হওয়ার কারণ শুধুই শিক্ষকদের রাজনীতি নয় । উল্লেখ যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় শিক্ষকদের একটা বড় অংশই কিন্তু শিক্ষক গবেষক হিসাবেও ভালো করছেন ৷ রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি এবং নির্লজ্জ পক্ষপাত যথেষ্ট ক্ষতি করে বটে কিন্তু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবনতির মূল কারণ নয়৷ মূল সমস্যা হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুবই কম বাজেটে চলে , বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোনো একাডেমিক পরিকল্পনা নাই এবং উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার লেশমাত্র সম্পাদন না করেই এক-একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় নাম নিয়ে বেশ জেকে বসে আছে৷ ইদানিং অবশ্য দলীয় দৃস্টিকোন হতে শিক্ষক নিয়োগ হওযার কারণে অনেক মেধাবীরাই হচ্ছেন নিয়োগ বঞ্চিত। তবে মেধাবীরা আসলেও তারা যে নীল আর সাদা প্যানেলে জড়াবেন না তার কোন নিশ্চয়তা নেই একেবারেই ।

তাই বলা চলে শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিদ্যা বা কৃতিত্বের সাথে প্রতিষ্ঠান-কাঠামোর উৎকর্ষের সম্পর্ক প্রকৃত পক্ষে অতি অল্পই ৷ বিশ্ববিদ্যালয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায় গবেষণার সাফল্যের জন্য, গবেষণার ফল ব্যবহৃত হয় রাষ্ট্র আর সমাজের বিভিন্ন কাজে,মানুষের সামগ্রিক কায়কারবারে ৷ বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো প্রক্রিয়া চালু নেই বললেই চলে ৷ ফলে খারাপ শোনালেও বলা দরকার,বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাঁদের প্রাপ্যের চেয়ে কিছু বেশি মূল্যই পেয়ে থাকেন ৷

যাহোক মোটাদাগে বলা যায়, গরিবী ও দুর্বল শিক্ষা অবকাঠামোই মুলত শিক্ষা এবং শিক্ষকদের মর্যাদাহানির মূল কারণ৷ বিস্ময়কর হলেও সত্য, বাংলাদেশে শিক্ষায় সরকারী অর্থ বরাদ্দের হার জিডিপির দুই শতাংশের কম, যেখানে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় এ হার চারেরও বেশি৷ উন্নত বিশ্বের কথা না-ই বা বললাম৷ তাই ন্যূনতম বরাদ্দ নিশ্চিত করার ব্যাপারে সকলকে জোড়ালো ভাবে দাবী তুলতে হবে এবং অবিলম্বে সরকারকে তা মানতে বাধ্য করতে হবে । দেশের কোন রাজনৈতিক দল এ দাবী তুলবেনা কিংবা এ নিয়ে হরতাল মিছিলও করবেনা , কারণ সব রসুনের এক রো । তারা চাইবে ভোট, চাইবে ক্ষমতা ,এর জন্য তারা চাইবে কিছু শিক্ষক মেলে ধরুক তাদের মাথার উপরে ছাতা ।

এ দেশে ছাত্র আন্দোলন কিংবা গনমুখী সচেতন জনতার আন্দোলন তো স্তব্ধ হয়ে গেছে অনেক আগেই । এখন আমাদের ব্লগারদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে , সোচ্চার হতে হবে শিক্ষাখাতে বরাদ্ধ ও শিক্ষাসহ শিক্ষকের মান মর্যাদা বাড়াতে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল ।

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




একজন শিক্ষাবিদের কাছে পোস্টের এমন বিষয়টি গুরুত্বের সাথেই বিবেচিত হবে এটা স্বাভাবিক , সহজেই অনুমেয়।
একজন শ্রদ্ধেয় ডঃ এম এ আলী বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন বলেই বিষয়টির সমগ্র দিকটি খতিয়ে তার কারন ও কার্যকরন বিস্তারিত ভাবে তার মন্তব্যে তুলে এনেছেন । এই পোস্টটির লেখকের জন্যে এটি একটি বড় পাওয়া । মন্তব্যটি এই পোস্টের শিরোনামের (?) চিহ্ণটিকে যথার্থভাবেই সংজ্ঞায়িত করে পোস্টের জৌলুস বাড়িয়েছেন । তিনি দেশের শিক্ষাঙ্গনে বিরাজমান অরাজকতা, অবিবেচনা , অক্ষমতাকে আঙ্গুল তুলে চিত্রিত করে দিয়েছেন । রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপটে কোথায় কোন গলদের কারনে শিক্ষা ও শিক্ষকের বিপর্য়য় ঘটে গেছে তার বিশ্লেষণ করেছেন প্রাজ্ঞের মতোই । সেখান থেকে উত্তরণ ঘটাতে কার কি ভূমিকা সেটাও তুলে ধরতে ভুলে যাননি । পোস্টের মূল নায়ক যে শিক্ষক, তিনি আসলেই অবহেলিত কিনা কিম্বা শ্রদ্ধেয় কিনা; হলে তা কোন প্রেক্ষাপটে হলো , এমন ধারনার পশ্চাদভূমিটাও চিহ্ণিত করেছেন অবলীলায় ।

এমন সারগর্ভ বক্তব্যে ভরপুর মন্তব্যটিকে আমি তাই যথাযোগ্য মর্যাদায় পোস্টে সংযুক্তির লেবেলে সেঁটে দিলুম সকল পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যে ।

৪৪| ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১০

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: পোস্ট আর কমেন্ট দুইই উপভোগ্য।
আশা করবো ভালো আছেন।

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: অপর্ণা মম্ময় ,




ভালো লাগলো অনেকদিন পরে আপনার দেখা পাওয়াতে ।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
আছি বেঁচে , এই আর কি ! আপনিও নিশ্চয়ই ভালো ? নইলে দেখা যেতো কি আপনাকে ?

৪৫| ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১:৩২

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ধন্যবাদ, শ্রদ্ধেয় আহমেদ জী এস ভাই । প্রতিমন্তব্যের ঘরে জবাব দানের পাশাপাশি এই পোষ্ট এর সারকথা সুন্দর করে ধরেছেন তুলে । মুল পোষ্টে পাশে রেখে সস্মান দেয়ার মহানুভবতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

১৫ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী ,




আপনাকেও অনেক অনেক শুভেচ্ছা এই পোস্টে আপনার অমূল্য বিশ্লেষন দিয়েছেন বলে ।

৪৬| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৫১

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: চমৎকার পোস্টটি অনেক দেরিতে নজরে এল। এর একটা ভাল দিকও আছে, বোনাস হিসেবে অনেকগুলি কমেন্টস ও পড়া যায়। পোস ও কমেন্টস গুলি চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫১

আহমেদ জী এস বলেছেন: গিয়াস উদ্দিন লিটন ,



মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ দেয়া একটা প্রচলিত সংস্কৃতি । এটা থেকে বেড়িয়ে বলি - ভালো বলেছেন ।
আসলে তেমন কোনও পোস্ট হলে তা এবং তার মন্তব্যগুলি সত্যিই চিন্তার খোরাক যোগায় । আমরা কেউ কেউ সেসব চিন্তা থেকে পরবর্তী চিন্তাকে আরো বেগবান করি আবার কেউ কেউ ওসব চিন্তাকে আমলে আনিনে । ব্লগ পরিসর , সময় স্বল্পতা, অনীহা ইত্যাদি নানা কারনে অনেকেই তেমন সাড়া দিতে পারেন না । এতে দোষনীয় কিছু নেই ।

মন্তব্যগুলি আপনার চিন্তার খোরাক জুগিয়েছে। এবারে সে চিন্তার সিনোপসিস দেখতে পাবো আশা করি ।

৪৭| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১১:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: শায়মা এবং শাহরিয়ার কবীর কে এত সুন্দর করে বুঝিয়ে বললেন কথাগুলো (৩৭ ও ৩৮ নং প্রতিমন্তব্য), খুব ভাল লেগেছে। + +

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:১৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান ,



দেখুন , আমরা তো এখানে আসি একটা প্রানের টানে , যেখানে নিজেকে তুলে ধরা যায়, অন্যকে বোঝা যায় । মন্তব্য প্রতিমন্তব্যে একটা অদেখা বন্ধন রচিত হয়েই যায় তাতে ।
এমন টান থেকেই আমি মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্য করে থাকি। সুতরাং আমার পাঠকদেরকে লেখার বিষয়বস্তু , তাদের আগ্রহের জায়গাটি, দ্বিধা-দন্ধ, তাদের জিজ্ঞাসাগুলিকে বুঝিয়ে বলা ছাড়া উপায় থাকেনা । আরও একটি কারন হতে পারে , ফেসবুকের স্বাদ আমার জানা নেই । আমার পৃথিবীর একটা অংশ এই ব্লগ । তাই ব্লগেই নিজের পৃথিবীটাকে দেখি এবং দেখাতেও চাই হয়তো ।

৩৭ ও ৩৮ নং প্রতিমন্তব্য যে আপনার ভালো লেগেছে এটা জানান দিয়ে আপনি একজন "ব্লগঅন্তপ্রান" এর পরিচয় রেখে গেলেন । একজন তুখোড় পাঠকের চরিত্রই তাতে ফুঁটে উঠেছে । আপনার এ প্রয়াস অনুকরণীয়ও বটে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৪৮| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ১:৫২

শাহেদ খান বলেছেন: আহমেদ ভাই, পোস্টে যা বললেন তা অনেকটা শোনালো কেমিস্ট্রি বইয়ে পড়া ‘আদর্শ গ্যাসের অবস্থার সমীকরণের’ মত; যেখানে ঐ চ্যাপ্টারেই লেখা থাকে বাস্তবে এই অবস্থা সর্বদা বর্তমান নয়!

কমেন্টে অনেকেই সমাজ/সিস্টেম ইত্যাদি বিভিন্ন আঙ্গিকে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন, স্বীকার করে নিচ্ছি আমি সবকটা কমেন্ট পড়িও নি। আমি কমেন্ট করতে আসলাম আপনার পোস্ট-পাঠের ভিত্তিতে।

কোথাও পড়েছিলাম, প্রাচীন ভারতে শিক্ষকদের স্তরবিভাগ ছিল। সর্বনিম্নে ছিলেন ‘উপাধ্যায়’গণ, যারা শিক্ষকতার বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে পড়াতেন।
তাদের উপরের স্তরে ছিলেন ‘আচার্য’রা। তারা উচ্চশ্রেণীর মানুষদের শাস্ত্রীয় শিক্ষা দিতেন। কিন্তু বিনিময়ে উপঢৌকণ বা দক্ষিণা গ্রহন করতেন বলে তাদের পূণ্য একটু লঘু হয়ে যেত। দেবতার প্রসাদ পুরোপুরি তাদের জন্য ছিল না বলে স্বীকৃত ছিল।
আর সবার উপরে ছিলেন ‘গুরু’! শিষ্যরা গুরুগৃহে থাকতো; গুরুর অধীনে কায়িক শ্রমে খাওয়ার বন্দোবস্ত করত, কিংবা সামাজিক মুষ্ঠিভিক্ষার মাধ্যমে হলেও গুরু তাদের ভরণপোষণ করতেন। গুরু’র আশ্রমে তাদের জীবন-যাপনের শিক্ষা হত। গুরু’কে ধরা হত বাবা-মায়ের তুল্য।

সে যুগ এখন নাই, আমরা সবাই জানি। শিক্ষকতা এখন অন্য অনেক উপায়ের মত একটা অর্থনৈতিক পেশা (ব্যতিক্রম কিছু থাকলে সেটা বাদে)। কিন্তু শিক্ষকদের প্রতি সামাজিক শ্রদ্ধার, যা গুরুভক্তির উৎসজাত, তা অনেকটাই এখনও বর্তমান।

তবু পোস্টে যেমনটা বললেন, তাদের অপমানিত হওয়ার ঘটনাও অহরহ দেখা যাচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে কতটা গভীরে যাওয়া প্রয়োজন সে হিসেব বিশেষজ্ঞরা করবেন। আমি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানাই, আপনার পোস্টের আদর্শ শিক্ষকের সাথে বাস্তবের শিক্ষকদের পার্থক্য অনেক প্রকট। আপনার পোস্টের শিক্ষক যে কথাগুলো বললেন, তার বাস্তব প্রেক্ষাপট থেকে যদি আমি নিজের দেখা ঘটনাগুলো মেলাতে যাই, ব্যাপারটা এমন দাঁড়াবেঃ

“- আমি শিশুদের ভাবতে শিখিয়েছি”
-- অধিকাংশ শিক্ষক আমাদের ভাবতে শেখাননি, তাদের নিজেদের ভাবনাটা আরোপ করে দেয়ার ক্ষেত্রে বরং বেশি মনোযোগী ছিলেন। তাদের নিয়মে অংক না করলে সেটা হয় না; তাদের পছন্দমাফিক উত্তর না হলে সেটা মাত্রেই ‘ভুল’ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। দুঃখের বিষয় হল – এই উদাহরণগুলো বিরল নয়; প্রায় সবাই দেখে এসেছি।

“- তাদেরকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছি”
আমাদের প্রজন্মের দেখা অধিকাংশ শিক্ষক প্রশ্ন’কে পছন্দ করতেন না, ঝামেলা মনে করতেন। এমনও হয়েছে, কারও প্রশ্ন বেশি অস্বস্তিকর মনে হলে পুরো ব্যাপারটাকে হালকা করে দিয়ে জবাব দিতেন, “তোমার বাড়ি কই? নোয়াখালী? বা বরিশাল? (বা ঐ শিক্ষকের চোখে অপছন্দনীয় কোনও জায়গা)।” কী ভয়ানক একটা বিষয়। এখানে শুধু ঐ শিক্ষার্থীকেই অপমান করা হচ্ছে না, বরং একটা অঞ্চলের সবাইকে নিয়েই কী বাজে একটা রেসিজমের সুত্রপাত হয়ে যাচ্ছে!

আমি আর এভাবে পয়েন্ট ধরে আগাচ্ছি না।
নির্দিষ্ট করে আমার কোনও শিক্ষকের নামে আমি কখনওই কিছু অভিযোগ এমন পাবলিকলি করব না, এটা আমার নিজস্ব বোধের জায়গা থেকে বলছি। কিন্তু সর্বোতভাবে, শিক্ষকদের কাছ থেকে যেমনটা আমরা পেয়েছি তার অশিকাংশই আদর্শ কিছু ছিলনা।

তবু দিনশেষে আমরা ভক্তিভরে শিক্ষকদের সম্মানের জায়গা থেকেই স্মরণ করি। আমি যখন ছ-সাত বছরের একটা শিশু ছিলাম, তখন যে শিক্ষকেরা আমাদের মস্তিষ্ক’কে মনোযোগী করানোর অদ্ভুত অযুহাতে শারিরীকভাবে পেটাতো, আমরা ওসব মনে রাখি না। (আবারও বলছি, দুঃখের বিষয় হল – এই উদাহরণগুলো বিরল নয়)।

‘শুধুমাত্র পেশার কারণে সম্মান পেয়ে থাকেন’ – এমন মানুষদের মাঝে শিক্ষকেরা এখনও উপরের দিকেই আছেন। আপনি আর্থিকভাবে কথা তুললে সেটা ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু সামাজিকভাবে ‘অবহেলিত’ এখনও সেই অর্থে হয়ত নন।

আর ‘অপমানিত’ হওয়ার ঘটনা যেসব ঘটছে, ওসব কারা করছে এবং তাদের এই মানসিকতা কিভাবে গড়ে উঠেছে - সেটা আগ্রহী গবেষকদের তদন্তের জন্য তোলা থাকলো।

আহমেদ ভাই, আপনি আলোচনাটার অবতাড়ণা করেছেন বলে এই সুযোগে বিস্তর বকলাম। সবটাই হয়ত ছেলেমানুষি কথাবার্তা হল, একান্তই নিজস্ব মতামত। শিক্ষকদের প্রতি অশ্রদ্ধামূলক কোনও আচরণ’কে আমি যাস্টিফাই করিনি এবং করব না; এবং তাদের জন্য আমার সবসময়ের প্রার্থনা।

ভাল থাকবেন। সবসময়ের শুভকামনা!

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:১২

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহেদ খান ,



চমৎকার বিশ্লেষণাত্বক ও জ্ঞানগর্ভ মন্তব্য ।
শুরুতেই আপনাকে লেখার শিরোনামটির দিকে চোখ বোলাতে বলি - শিক্ষক” একটি অবহেলিত প্রানীর নাম…..(?)
শিক্ষকরা বাংলাদেশে অবহেলিত প্রাণী কিনা শিরোনামে সে প্রশ্নই তো আমি রেখেছি পাঠকের কাছে। সম্মানিত পাঠকেরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন । তাদের বেশির ভাগেরই সারমর্ম হলো , শিক্ষকেরা অবহেলিত হন তাদের নিজেদের কারনে । পাশাপাশি
আমাদের সামাজিক, রাষ্ট্রিক আর অর্থনৈতিক দূরবস্থার কারনে শিক্ষাব্যবস্থাটিই যে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেগুলোও উল্লেখ করতে ভোলেন নি । কারনগুলো অভিজ্ঞতার আলোকে আপনিও উল্লেখ করেছেন । এখনকার যুগে আপনার অভিজ্ঞতাটি মোটেও অবাস্তব নয় বরং প্রায় সর্বাংশে সত্য । শিক্ষক ও শিক্ষকতার মান এখন অনেক অনেক নিম্নগামী ।

আসলে লেখাটিতে আমি সার্বজনীন ভাবে একজন শিক্ষক কেমন হবেন , কেমন হওয়া উচিত তার উৎকর্ষতা- প্রজ্ঞা- জ্ঞান- বিবেক - বিবেচনা, তা-ই তুলে ধরতে চেয়েছি। ‌তাই পোষ্টের শুরুতেই বলেছি -----“শিক্ষক” কে ? একটি চমৎকার প্রশ্ন । ভীষন ভাবে নাড়া দেবে প্রশ্নটি । আর দেখিয়েছি একজন শিক্ষক কেমন হবেন তা ।

ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষকদের পদমর্যাদার ছবি তো আপনিই এঁকে দিয়েছেন এখানে । সেখানেও শূদ্র আর ব্রাহ্ম্মন এর স্তর ছিলো । মানে বেশিরভাগই অবহেলিত ছিলেন শূদ্রদের মতো । সে অবস্থার খুব একটা হেরফের হয়নি মনে হয় ।

আমি নিজ অভিজ্ঞতা থেকে জানাই, আপনার পোস্টের আদর্শ শিক্ষকের সাথে বাস্তবের শিক্ষকদের পার্থক্য অনেক প্রকট। --------------- একদম ঠিক ।
অধিকাংশ শিক্ষক আমাদের ভাবতে শেখাননি, তাদের নিজেদের ভাবনাটা আরোপ করে দেয়ার ক্ষেত্রে বরং বেশি মনোযোগী ছিলেন। ---------- বর্তমানে এর চেয়ে তিক্ত সত্যটি আর নেই ।
আমাদের প্রজন্মের দেখা অধিকাংশ শিক্ষক প্রশ্ন’কে পছন্দ করতেন না, ঝামেলা মনে করতেন। ---------- বাস্তব চিত্র ।

শিক্ষকের সম্মান প্রদান , শ্রদ্ধা প্রদর্শন ইত্যাদি সমস্ত বিষয়টি বর্তমান যুগযন্ত্রনার করাত কলের নীচে পড়ে চিরে ফালা ফালা । পুরো বিষয়টি তর্ক সাপেক্ষ । কোন মানসিকতার মানুষ শিক্ষকদের মূল্যায়ন করছেন তার উপর নির্ভর করবে শিরোনামের প্রশ্নের উত্তরটি । তেমনি কোন মানসিকতার শিক্ষকদের মানুষ কি ভাবে মূল্যায়ন করছে উত্তরটি সেখানেও নিহিত ।
তবুও আপনার সাথে একমত এখানে ----- ‘শুধুমাত্র পেশার কারণে সম্মান পেয়ে থাকেন’ – এমন মানুষদের মাঝে শিক্ষকেরা এখনও উপরের দিকেই আছেন।

আলোচনার জন্যেই তো লেখাটি । আপনার নিজের আঙিকে করা আলোচনাটি নিঃসন্দেহে পোষ্টটির জন্যে একটি পুরষ্কার ।

ব্লগে আপনি ইদানীং কম পদচারণা করলেও আমার উঠোনে আপনার সরব উপস্থিতিতে কৃতজ্ঞ ।
ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।






৪৯| ২৩ শে অক্টোবর, ২০১৭ দুপুর ২:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: @শাহেদ খান,
আপনার চমৎকার বিশ্লেষণী মন্তব্য ভাল লেগেছে। +

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান ,




শাহেদ খান আপনার এই মন্তব্যটি দেখে আপনাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

৫০| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৫

শাহেদ খান বলেছেন: @ খায়রুল আহসান ভাই, এই যে আপনি পোস্টের পাশাপাশি কমেন্টের ব্যাপারেও মন্তব্য করে যাচ্ছেন এবং উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন - এটা সত্যিই চমৎকার এবং অনুকরণীয় একটা বিষয়! অনেক ভাল লাগা আর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি!

@ আহমেদ ভাই, নিজের কমেন্ট নিজে পড়ে আজ মনে হল, অভিমানে আপ্লুত হয়ে একটানা অনেক কিছু বলে গেছি সেদিন! ধৈর্য ধরে সুন্দর জবাব দিয়েছেন, তাই আমার কৃতজ্ঞতা জানবেন।

কিন্তু মতামতে আমি আগের অবস্থানেই আছি। ‘যারা’ শিশুদের শেখাবেন, ‘তাদেরকে’ কারা শেখাবেন এবং কীভাবে – এটা নির্ণয় করা খুব জরুরী মনে করি।

প্রাইমারি স্কুলে একটা শিশুর ব্যকরণ কিংবা ল.সা.গু. জানা যতটা দরকার, তারচেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজন আচরণবিধি জানা। এখন চারটা বানান ভুল করা বা ঠিকমত মুখস্ত বলতে না পারা’র জন্য যদি শিক্ষক তাকে নিয়মিত স্কেল দিয়ে পেটায় বা কান ধরে দাঁড়া করিয়ে রাখে, তবে যে কয়েকটা ফলাফল দেখা যেতে পারেঃ
১. সে জেদী স্বভাবের হলে মনে মনে হিংস্রতা ধারণ শুরু করতে পারে।
২. সে চুপচাপ স্বভাবের হলে, সহপাঠীদের সামনে এমন অপমানে তার কনফিডেন্স লেভেলে খুব আঘাত আসতে পারে, বা সে ভয়ানক ইন্ট্রোভার্ট’ও হয়ে যেতে পারে।
৩. ক্লাসশুদ্ধ সবাই মার খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেলে, একটা গা-সওয়া মোটা-চামড়ার জেনারেশান হিসেবে বেড়ে উঠতে পারে।
৪. শাস্তির ভয়ে যদি এরপর থেকে জবরদস্তি করে মুখস্ত করেও, সেটাও হবে সার্কাসের বাঘের মত অবস্থা যে চাবুকের ভয়ে যেভাবেই হোক শিখে ফেলেছে!
এর একটাও কি ভাল পরিণতি?
শিক্ষার আনন্দ নিশ্চিত করতে না পারলে, ব্যাচশুদ্ধ ‘এ-প্লাস’ধারী ছাত্র নিয়ে একজন শিক্ষকের কি আসলেই গর্বিত হওয়া উচিৎ?

আমরা হয়ত এভাবে ভেবে দেখি না, তবে আমাদের অনেকের জীবনে আমরা প্রথম সন্ত্রাসী হামলা’র শিকার হয়েছি স্কুলে। (কোনও শিক্ষক যদি সবকটা শিশুর মনে ত্রাস সৃষ্টি করে, তাকে আর কী বলব?) অনেকে প্রথম ব্ল্যাকমেইলিং-এর শিকারও স্কুলে (নির্দিষ্ট শিক্ষকের ঘরে গিয়ে প্রাইভেট না পড়লে ঐ সাবজেক্টে/প্র্যাকটিক্যালে কম মার্কস)।

মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে আবার, বাজে বকতে শুরু করেছি। আমি আর কথা না বাড়াই।

আর, আমি অবশ্যই সকল শিক্ষককে একভাবে বিচার করছি না। যাদের কথা বলছি সেটা নিশ্চয়ই উপরে স্পষ্ট।

আহমেদ ভাই, শুভেচ্ছা।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৫৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহেদ খান ,



‘যারা’ শিশুদের শেখাবেন, ‘তাদেরকে’ কারা শেখাবেন এবং কীভাবে – এটা নির্ণয় করা খুব জরুরী মনে করি।

আসল কথাটিই বলেছেন । চাইল্ড সাইকোলজী বোঝেন বা বুঝে সে ভাবে শিশুদের হ্যান্ডেল করেন , এটা আমাদের দেশে অনুপস্থিত । গত বিশ বছরে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা রসাতলে গেছে । এটা না বোঝার কিছু নেই । এই বিশ বছরে সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী "সার্টিফিকেট"ই শুধু অর্জন করেছেন , শিক্ষা নয় - জ্ঞানার্জন তো দিল্লী দূর ।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি , এ পর্যন্ত হাযার কয়েক চাকুরীপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ নিয়েছি যাদের ৯০ শতাংশই এম-বি-এ, এম-এস-এস, এম-এ, বি-বি-এ, বি-এস-এস ইত্যাদি । ইংরেজী কতোটুকু পারে এটা বোঝার জন্যে একটি প্রশ্ন সবাইকে করি, যে যেখান থেকে এসেছেন তার সাথে মিলিয়ে জিজ্ঞেস করি - " আপনি তো টাঙ্গাইল থেকে এসেছেন তাহলে, "আমি টা্ঙ্গাইল থেকে বাসে ঢাকায় আসিয়াছি" বাক্যটি ইংরেজিতে ট্রানস্লেশান করুন । শুনবেন , কি বলে তারা ? "আই কাম টাঙ্গাইল ঢাকা " - কেউ বলে "আই কামিং ঢাকা টাঙ্গাইল বাস " - কেউ শুরু করে এভাবে -- আই গো ঢাকা .......... । শুধরে দিয়ে বলি , "ঐ ছেলে , "আসা" ইংরেজী কি "গো" ? " তখন সে বলতে শুরু করে -- ওহ স্যার আসা হইলো কাম । আমি বলি তাহলে এবার বলুন কি হবে ? ----- আই এ্যাম ইজ কামিং ...........
বুঝলেন কিছু ?
আরো বলি , অর্থনীতিতে মাস্টার্স করা এমন কেউ " ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সী" কোনটা এর জবাব দিতে পারেনি । বাংলা তরজমা " আন্তর্জাতিক মূদ্রা" কোনটা বলার পরেও ৯৯% জনই বলতে পারেনি বা পারেনা উত্তরটি দিতে । হা করে চেয়ে থাকে ।
আরও শুনবেন ? এরা "বি-এ" তে কি হয় , "বিবিএস" এ কি হয় তা অনেকেই বলতে পারেনা । একজন তো আক্ষেপ করে অন্যদের বলেই বসলো - আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র অথচ আমাকে কিনা ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করে "পলিটিক্যাল সাইন্স " কাকে বলে ।
এরকম উদাহরন আছে হাযারো । আমি নিজেই পাগল হয়ে যাই ।
একবাক্যে শিক্ষা যে কোথায় গেছে তার নমুনাটা বলি - গত ২০/১৫ বছর ধরে এরা "টিক" প্রজাতি । আমাদের শিক্ষাব্যবসবথা এই "টিক-প্রজাতি"র জন্ম দিয়েছে । কেমন করে ? এদের যদি বলেন - তোমার বাবার নাম কি ? তবে উত্তরে বলবে - " বলতে পারবোনা স্যার , তিনটা নাম লিখে দিন , "টিক" দিয়ে দেই ।"
এরাই তো শিক্ষক হবেন ৭/৮ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে । এরা কি পড়াবেন ? আপনার কথামতো "আচরণবিধি" কি শেখাবেন যেখানে তিনি নিজেই তা জানেন না ? সুতরাং আপনাদের এমন অভিজ্ঞতা না হলেই বড় আশ্চর্য্যের বিষয় হতো ।

আর বেশি বাড়াবোনা, সংক্ষেপে বলি - হালের সিংহভাগ শিক্ষক ও ছাত্ররা মাস্টার অফ নান তো বটেই জ্যাক অফ অল ট্রেডস ও নন । এরা আগাগোড়াই অশিক্ষিত বকলম, বেলাহাজ, বেশরম , বেহাল । এরা নামেই শিক্ষক, নামেই ছাত্র । কেবল পড়াতে হয় বলে পড়ায় , ক্লাশে যেতে হয় বলে ক্লাশে যায় শুধু । শেখাতে নয় কিম্বা শিখতে ।

আশা করি আপনার অনেক "অভিমান" এর জবাব পেয়ে গেছেন ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৫১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:২১

প্রামানিক বলেছেন: শিক্ষক নিয়ে চমৎকার একটি পোষ্ট উপহার দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। বিভিন্নজনের কমেন্ট এবং তার উত্তর পরেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু জানা হলো।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: প্রামানিক ,



ভালো লাগলো আপনাকে দেখে । আসলেই অনেকেই বেশ গুরুত্বপূর্ণ কমেন্ট করেছেন যা ভাবনার যোগান দেয় ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৫২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৯:৪৫

বর্ষন হোমস বলেছেন: কিন্তু বাস্তবের নিষ্ঠুর পরিহাস – কেউই স্বেচ্ছায় “শিক্ষক” হতে চায়না ।[/sb

এটা সত্য কথা।এখনকার কেউই বলেনা আমি বড় হয়ে একজন শিক্ষক হব।সবাই বলে আমি ডাক্তার,ইঞ্জিয়ার হব।বাবা-মা তাদের মাঝে এমন ইচ্ছাই ডুকিয়ে দেয়।অবশ্য তা দোষের কিছু না।আমাদের একজন শিক্ষক ছিলেন।তিনি সবসময় বলতেন তার ছোট বেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল বড় একজন আদর্শ শিক্ষক হবে এবং ছাত্ররা তাকে রাস্তা ঘাটে যেতে আসতে সালাম দিবে।এখন কয় জনেরই বা এমন ইচ্ছে হয়!

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫২

আহমেদ জী এস বলেছেন: বর্ষন হোমস ,



সে দিন আর নেই । যুগ পাল্টেছে , পাল্টেছে মানুষও । জীবনযুদ্ধে খালি দৌঁড় আর দৌঁড় এর প্রতিযোগিতা । এ যুদ্ধে যে জিততেই হয় মানুষকে !

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।

৫৩| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৮:৩৯

সোহানী বলেছেন: নাগরিক কোনও অধিকারের জন্যেই মিছিল মিটিং করিনি , লাগাইনি পোষ্টার ও । অথচ হরতাল করে, মিছিল করে আগুন পর্যন্ত্য লাগিয়েছি । পোষ্টারে পোষ্টারে দেয়াল - মাঠ - ঘাট ভরিয়ে ফেলেছি এই কথা বলে , " ভোট দেয়া আমাদের নাগরিক অধিকার ।"

হাঁ সত্য। আসলে আমরা যে পৃথিবীর সকল নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এ বোধ টুকুই আমাদের নেই। কোন কিছু না পেতে পেতে আমাদের পাওয়ার বোধ টুকুই চলে গেছে। এখন শুধু কোন রকমে বাচাঁর চেস্টা... যে পারে সে কেড়ে নেয় যে পারে না সে সব কিছু হারায়। একটা হারজিতের খেলা। পানি থাকবে না, বিদ্যুত থাকবে না, চালের কেজি ৭০ টাকা, মরিচের কেজি ১১০ টাকা, লাউয়ের পিস ৮০ টাকা..... কোন কিছুতেই কােন বিকার নেই। বেচেঁ আছি এটাইতো বেশী।

আর সরকারী বেতন বাড়ানোর সাথে যে অন্য সকল ইকোনমিক্স এর হিসেব জড়িত সেটা যে বেতন বাড়িয়েছে সে হিসেবটা উনারা ভালোই জানেন। যাহোক ম্যালথাসের থিউরির জন্য জন্য অপেক্ষা, দেখি সত্যটা কতটুকু............

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী ,



মন্তব্যে দেখে ভালো লাগলো ।
কোন কিছুতেই কােন বিকার নেই। বেচেঁ আছি এটাইতো বেশী।
পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই হলো সবচেয়ে দূর্লভ । আমরা বেশীর ভাগ মানুষই শুধু থেকে যাই , বেঁচে নয় ।

৫৪| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ৯:৩৬

শাহেদ খান বলেছেন: আহমেদ ভাই।

অভিমানের জবাব তো চাই নি! কোনও প্রশ্নও রাখিনি, শুধু নিজের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলাম।

গ্র্যাজুয়েশান করার পর কেউ যদি এই সরল ট্রান্সলেশান করতে না পারে; বা ইকোনোমিক্সে মাস্টার্স কারও যদি "ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সী" সম্পর্কে ধারণা না থাকে - তবে সে দায় হয়ত শিক্ষকের চেয়ে ঐ ছাত্রেরই বেশি। (একদম বেসিক জ্ঞানের বিষয়ে বললাম)

তবে, আমার কমেন্টে আমি কিন্তু 'নলেজ লেভেল' নিয়ে কিছু বলতে আসিনি। সে আরেক আরব্য-রজনীর কাহিনী হয়ে যাবে; রাত ফুরাবে, গল্প ফুরাবে না!

যা বলছিলাম, আমার কমেন্ট 'নলেজ লেভেল' নিয়ে ছিল না, 'মানসিকতার গঠন' বিষয়ে ছিল; আপনার পোস্টের আদর্শ শিক্ষক যে বিষয়টার উপর প্রধানত আলোকপাত করেছিলেন। এবং এই গঠনপ্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে অন্য অনেক ফাঁক-ফোকর আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যেত বলে ধারণা করি!

শুভেচ্ছা।

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৪৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহেদ খান ,



আপনার অভিজ্ঞতার সাথে আমার নিজেরটাও শেয়ার করেছি এ জন্যে যে, এই অধঃপতনের জন্যে আপনার আমার কারোই মনে যেন তেমন কোনও অভিমান না থাকে । কারন শিক্ষার হালচাল নিয়ে কমবেশি সবার অভিজ্ঞতাই এক ।

.........দায় হয়ত শিক্ষকের চেয়ে ঐ ছাত্রেরই বেশি......
এখানে দ্বিমত করি । দায়ের সবটা শিক্ষাব্যবস্থা আর অর্থনীতির । কর্মসংস্থানহীন একটি সমাজে একটি কাজের জন্যে প্রতিযোগিতার যে বহর তাতে একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে যে করেই হোক, যে কোনও মূল্যেই হোক একখানা শিক্ষা সনদ জোগার করতেই হয় । আর তা তারা করে , কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত করে খাতায় উগড়ে দিয়ে । ঐ কটি প্রশ্নের বাইরে তাদের আর কোনকিছু সম্পর্কে নূন্যতম ধারনাও থাকেনা । আর এতে সহায়তা করার জন্যে আছে যাবতীয় আয়োজন ।
উপরে ৭নং মন্তব্যে বাবুরাম সাপুড়ে১ এমনটাই বলেছেন --- "দোষটা ছাত্রদের নয় ,শিক্ষকদেরও নয় , দোষটা সিস্টেমের ,সমাজের ,সময়ের। "
তাই ফল যা হবার তাতো বলেইছি ।

'মানসিকতার গঠন' বিষয়ে যা বললেন তা একদম ঠিক । কিন্তু মানসিকতার গঠন হবে কি করে ? করবে কে ? পুরো সমাজ,রাষ্ট্রই যেখানে একে ওকে ঠকিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হবার নেশায় মত্ত সেখানে মানসিকতা, নীতিবোধ , সততা সবগুলোকেই তো নর্দমায় ফেলে মাটি চাপা দেয়া হয়ে গেছে অনেক আগেই । ব্যতিক্রম বাদ দিচ্ছি ।
আপনি বলেছেন - "গঠনপ্রক্রিয়া ঠিকঠাক থাকলে অন্য অনেক ফাঁক-ফোকর আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যেত বলে ধারণা করি! " আপনার এই ধারনার ভেতরেও কিন্তু প্রকারান্তরে সেই সন্দেহই রয়ে গেছে ।
আরও ভালো করে বলতে গেলে আপনার মতোই বলতে হবে ---- "সে আরেক আরব্য-রজনীর কাহিনী হয়ে যাবে; রাত ফুরাবে, গল্প ফুরাবে না! "

ভালো থাকুন । শুভেচ্ছান্তে ।


৫৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫০

জুলিয়ান সিদ্দিকী বলেছেন: বাদশা আলমগীরের আমল এখন নাই, নাই আপনাদের আমাদের আমলও। তাই নেই সেই মর্যাদাবান শিক্ষক। তারপরও কেউ কেউ আছেন। এমন শিক্ষক আমার বন্ধু তালিকায় আছেন। তবে বেশিরভাগ শিক্ষককেই দোকানদারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। তেমন যুক্তি-প্রমাণেরও অভাব হবে না।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৭ সকাল ১০:৩১

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুলিয়ান সিদ্দিকী ,





বদলে যাওয়া জমানায় তবুও কেউ কেউ তো আছেন । এটাই এখনও শিক্ষককে অন্য চোখে দেখতে শেখাবে ।
মন্তব্যে ধন্যবাদ ।

৫৬| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৫৬

কঙ্কাবতী রাজকন্যা বলেছেন: শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রইলো।

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: কঙ্কাবতী রাজকন্যা ,



ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
তবে উত্তর দিতে দেরীর জন্যে দুঃখিত ।

৫৭| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:০০

মোহাম্মাদ আব্দুলহাক বলেছেন: লেখক এবং শিক্ষক হওয়া আসলে কষ্টের। খালি টানাটানি করতে হয় :(

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১১:১২

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোহাম্মাদ আব্দুলহাক ,



শিক্ষক হওয়া আসলে কষ্টেরই শুধু নয় , ধৈর্যেরও ।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।
শুভেচ্ছান্তে ।

৫৮| ০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:১২

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:

৩৭. নাম্বার মন্তব্যের প্রতিউরের জন্য ধন্যবাদ জানবেন, ভাই।

এখানে আমরা কেউই লেখায় পেশাদার নই । আমিতো মনে করি সবাই মনের খোরাক পেতেই ব্লগে লেখালিখি করেন ।

অনেক বার নিয়ত করেছি, এ লেখালেখি ছেড়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনো পাড়িনি। শখের বশে লিখি কবিতা কিন্তু কবি হতে গেলে অনেক হিসাব-নিকাষ করতে হয়। তারপরেও লিখি শুধুমাত্র মনের খোরকের জন্য। আর কবিতা লেখা মানে চিন্তার উত্তম ব্যয়াম করা। এখন যা লিখি না কেন,তা পড়ে ।আপনারা সবাই সবসময় পাশে থেকে উৎসাহ দেন বলে, লিখি।।


অনেক আবোল-তাবোল বলে ফেলেছি তাইনা ?

একটাও মনে হয়নি,যে আপনি কোন কথা আবোল-তাবোল বলেছে। যদি কেউ আপনার এ সকল আবোল-তাবোল কথাগুলো আমল করে, তবে তার জীবন পরিবতন হয়ে যাবে। যদিও কারো সামনে প্রংশাসা করা, মানে তার গলা কাটা। তারপরেও আমি তা করে গেলাম। আপনার সমস্ত কথা আমার ভাল লাগে এবং সকল কথা যুক্তিযুক্ত। আসলে আমাদের জীবন প্রবাহটা মৃত্যতে শেষ,তারপরে মহাকালের পথের পথিক। একারণে, আমিও আমার প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসকে উভোগ করার চেষ্টা করি এবং আমি সবসময় হাসিখুশি থাকারও চেষ্টা করি। আর সময় পেলে নিজে হাসি,এবং অন্যকে হাসানোর চেষ্টা করি।।


০১ লা নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:০৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহরিয়ার কবীর ,



আপনাকে ফের দেখে ভালো লাগলো ।

অনেক বার নিয়ত করেছি, এ লেখালেখি ছেড়ে দেওয়ার জন্য, কিন্তু এখনো পাড়িনি।
একটা শের বলি ---
গো মৈঁ রহা রহীন-এ সিতমহা-এ রোজগার ,
লেকিন তেরা খয়াল সে গাফিল নহী রহা ....

[ বছরের পর বছর জীবিকার উৎপীড়নে আমি নাজেহাল হয়েছি, কিন্তু তোমার ভাবনা মন থেকে সরে যায়নি ! ]
এখানে "তোমার ভাবনা"টাকে "লেখালেখির ভাবনা" পড়ুন ।

আর শেষেরটুকুর জবাবে বলি , পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই হলো সবচেয়ে দূর্লভ । আমরা বেশীর ভাগ মানুষই শুধু থেকে যাই , বেঁচে নয় । বাঁচুন, নিজের মতো করে । কতোবার বাতাস টেনে নেয়া হলো তা দিয়ে জীবন না মেপে , মাপুন কতোবার হাসিতে হাসিতে বাতাসও থমকে গেছে ; তা দিয়ে !

শুভেচ্ছান্তে ।

৫৯| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১২:২৭

সাদা মনের মানুষ বলেছেন: সত্যিই শিক্ষকদের নিয়ে এমন করে আমরা ভাবীনা, তবে এটুকু মোটামুটি জানি সাধারণ শিক্ষকদের অনেক ক্ষেত্রে সচ্ছলতার অভাব অনেকটা প্রকট। তবে তাদের সম্মান দিতে আমাদের সমাজ এখনো কার্পণ্য করে না।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: সাদা মনের মানুষ ,




অনেকটাই সত্য বলেছেন । তবে এখনকার শিক্ষকদের কারনেও তাদের সম্মান দিতে সমাজ কার্পণ্য করে বসে ।
ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে ।


৬০| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৫১

নিশাত১২৩ বলেছেন: নতুন লেখা কই ? অপেক্ষায়।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:০২

আহমেদ জী এস বলেছেন: নিশাত১২৩ ,




অনেকদিন পরে এসেই বললেন , লেখার অপেক্ষায় ?
তাহলে তো কিছু একটা লিখতেই হয় ! দেখি, ২/১ দিনের মধ্যেই কিছু দিতে পারি কিনা !

শুভেচ্ছা জানবেন । ভালো থাকুন ।

৬১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৩৪

সচেতনহ্যাপী বলেছেন: মনোজ বোস ( বা বসু/ ঘোষ হবেন) এর লেখা মানুষ গড়ার কারিগর বইটার কথা এত বছর পরও ভুলি নি।। একজন মানুষ কি ভাবে বিপথে যায়, তারই বাস্তবতা।।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৭ রাত ৮:৩৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: সচেতনহ্যাপী ,



ভালো লাগলো আপনাকে দেখে ।
"মানুষ গড়ার কারিগর" বইটি আমার পড়া নেই তাই সে সম্পর্কে কিছু বলতে না পারার অক্ষমতা আমারই ।

শুভেচ্ছান্তে ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.