নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ট্রুথ নেভার ডাই্‌জ

নিজের সম্পর্কে লেখার কিছু নেই । সাদামাটা ।

আহমেদ জী এস

পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...

আহমেদ জী এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

মহাবেকুব জাতক কথন - এক

৩১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৭


আমি মহাবেকুব জাতক ভেবে মরি, রাষ্ট্র আর সরকার যদি কৃষি বান্ধবই হয় তবে কৃষকের পাতে ভাত নেই কেন ? পুঁজি যোগাড়ে ঋণ নিতে তাকে তার ভিটে-মাটি, গরু-ছাগল সব বন্ধক রাখতে হয় কেন ?

খাদ্য সংরক্ষন আর বিপণন নিয়ে অর্থনীতির গালভরা ব্যবস্থাপনার যতোই কথা থাকুক না কেন, কৃষকের স্বার্থরক্ষা কিম্বা কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য যাতে কৃষকেরা পান তা নিয়ে যতো হাযারো গবেষনা, যতো হাযারো মতামত, যতো পরিকল্পনা নেয়াই হোক না কেন, যতো আহাজারিই হোকনা কেন আমার মতো মহাবেকুব ভেবেই পায়না এতো কিছু থাকার পরেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য কখনই পায় না কেন !
কেন কৃষককে তার ধানে আগুন লাগিয়ে বুক ভরা জ্বালা নিয়ে ঘরে ফিরতে হয় ? কেন সব্জী চাষীকে রাস্তায় তার উৎপাদিত সব্জী ফেলে মাড়িয়ে দিতে হয় প্রতিবাদ হিসেবে ? দুধ উৎপদনকারীকে কেন তার অবিক্রিত দুধ পানিতে ভাসিয়ে দিতে বা রাস্তায় ঢেলে দিতে হয় মনের কষ্টে ?
আমি মহাবেকুব জাতক কোনও অর্থনীতিবিদ নই, কৃষিবিদ নই, নই পরিকল্পনাকারীও। এই মহাবেকুব জাতক আগাগোড়া একজন আমজনতা। শুধু ভেবেই মরি, রাষ্ট্র আর সরকার যদি কৃষি বান্ধবই হয় তবে কৃষকের পাতে ভাত নেই কেন ? পুঁজি যোগাড়ে ঋণ নিতে তাকে তার ভিটে-মাটি, গরু-ছাগল সব বন্ধক রাখতে হয় কেন ?

সবাই বলেন, দেশের খাদ্য সমস্যা মেটাতে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে, কৃষিতে ভর্তুকি দিতে হবে, সেচ-সার সহজলভ্য করতে হবে। পরিকল্পনা করা হয় ভুরি ভুরি। বাস্তবায়নও হয়তো হয় অনেক কিছুই। কিন্তু কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ঘটেনা।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন যে , এক ইঞ্চি জায়গাও খালি ফেলে রাখা যাবেনা। সবাই গলা মিলিয়ে চেচিয়ে, ফাঁটিয়ে দিয়েছেন চারদিক। কিন্তু কৃষককে তার “পণ্যের ন্যায্যমূল্যের একপয়সাও কম দেয়া চলবেনা” এমন হুঙ্কার শুনিনি। আপনারা শুনেছেন কিনা জানিনে! সবাই খাদ্য সংরক্ষনের জন্যে চেঁচাচ্ছেন, করোনা আক্রমনের পর সে চেঁচানো আকাশ বাতাস তোলপাড় করে দিচ্ছে।

মহাবেকুব বলেই এই জাতকের বেকুবের মতো প্রশ্ন - “আরে মিয়া! খাদ্য সংরক্ষন করে আমার মতো অকৃষক-অচাষী বেকুবদের সারা বছর পেট ভরানোর ব্যবস্থা করবেন আর কৃষক অভুক্ত থাকবে ? উৎপাদিত পণ্য জলের দরে ফরিয়া, সিন্ডিকেট দলের হাতে তুলে দিয়ে খাদ্য সংরক্ষন করছেন ভালো কিন্তু কৃষকদের প্রান সংরক্ষন হচ্ছে কি তাতে ? “

কৃষির সাথে জড়িয়ে আছে নাকি আমাদের কৃষকের প্রাণ। কৃষির উন্নতি না হলে কৃষকেরও নাকি উন্নতি হবে না। কৃষির উন্নতি যদি বাধাগ্রস্ত হয় তবে নাকি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে - এই ডায়লগ এই মহাবেকুব জাতক শুনে আসছে ছোট কাল থেকেই । কিন্তু এই কয়েক যুগেও ছনের তৈরী কৃষকের ভাঙা বাড়ীটি অনেকটা তেমনিই আছে , ছিঁটেফোটা জৌলুস বাড়লেও এখনও মনে হয় টিনের চাল ওঠেনি প্রায় সব কৃষকের ছন, গোলপাতার ঘরে। কৃষকের চেহারা সেই হাড় জিরজিরেই আছে এখনও ।

কৃষি প্রধান দেশে কৃষকের এই হাল কেন ? কৃষকের দুঃখে চোখের জলে আমরা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা ভাসিয়ে দেই কিন্তু তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কোন টেকসই পরিকল্পনাই নিতে পারিনি এ পর্যন্ত। কেন?
আমাদের সব চেষ্টাই যে “খাদ্য সংরক্ষন” নামের লাল ফিতেয় বন্দী। আর খেয়াল করলে দেখবেন, খাদ্য সংরক্ষন শুধু আমাদের চাল-গম-আলু সংরক্ষনের মাঝেই সীমাবদ্ধ। সব নজর আর পরিকল্পনা সেদিকেই। তাও সংরক্ষন ব্যবস্থা নাকি চাহিদার তুলনায় নেহাৎ-ই অপ্রতুল। কিন্তু কৃষককে বাঁচাতে এই সংরক্ষন করেই বা লাভ কি যদি কৃষক ন্যায্যমূল্য নাই-ই পান?
খাদ্য সংরক্ষনে সরকার প্রধানত ধান, চাল ও গম কেনেন। কিন্তু সেই কেনা নিয়ে কতো যে সরকারী, বেসরকারী সিন্ডিকেট, কতো যে টালবাহানা তা নতুন করে বলার দরকার আছে কি ? সরকার ধান-চাল-গমের যে দাম নির্ধারণ করে দেয়, সারাদেশের খাদ্য কর্মকর্তাদের সেই দামেই কৃষকের কাছ থেকে কেনার কথা ৷ তা কি কেনা হয়? আর চাল সরকার কৃষকের কাছ থেকে কেনে না,কেনে মিল মালিকদের কাছ থেকে ৷আর এসব সরকার কিনলেও উৎপাদিত এসব পণ্যের কতো ভাগ কেনা হয়? মনে হয় তা ৫ থেকে ১০% এর বেশী হবেনা। আবার এতোটুকু থেকেও তো প্রান্তিক কৃষকরা বঞ্চিত। বাকী সিংহভাগ কৃষিপণ্যের ভাগ্যে জোটেটা কি ?

আসলে আমাদের বিদ্যমান খাদ্যশস্য সংগ্রহ নীতিমালা গরিব প্রান্তিক কৃষকবান্ধব নয়। উপজেলা পর্যায়ে আমাদের কৃষকদের একটি তালিকা থাকার কথা। যদি থাকে তবে সেটি কতো আগে করা হয়েছে ? এই তালিকায় কি আমাদের গরিব প্রান্তিক চাষিদের নাম আছে? পত্রিকা ঘাটাঘাটি করলেই জানতে পারবেন - নেই । থাকার কথা নয়। পত্রিকান্তরে যে তালিকার আভাস পাওয়া যায় সেই তালিকাতেও আছে জোচ্চুরির খবর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পছন্দের লোক বা স্থানীয় সরকারি দলের লোকজনই আছেন এই তালিকার সিংহভাগ জুড়ে। এই সব কৃষিকার্ডধারী যারা থাকেন তারা সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও তাদের আত্মীয়-স্বজন,সরকারী দলের লোকজন, ব্যবসায়ী, কন্ট্রাকটর, দোকানদার, ফড়িয়া, আড়ৎদার এসব পেশার লোক। তারা কেউই কিন্তু প্রান্তিক কৃষক নন। অথচ এইসব লোকজনই আসলে সরকারি গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পান।
তার উপরে রয়েছে সরকারী ফ্যাকড়া । ফ্যাকড়াগুলো এরকম -ধানের আর্দ্রতা হতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ। এছাড়াও ধানে বিজাতীয় পদার্থ থাকতে পারবে দশমিক পাঁচ ভাগ, ভিন্ন জাতের ধানের মিশ্রণ সর্বোচ্চ ৮ ভাগ,অপুষ্ট ও বিনষ্ট দানা ২ ভাগ ও চিটা ধান দশমিক ৫ ভাগ।
অথচ আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষীরা ধান শুকান বাড়ীর সামনের মাটির উঠোনে। তাদের উঠোন তো আর কংক্রীট বা ইটের বাঁধানো নয়। সেখানে আদ্রতা তো থাকবেই কিছু না কিছু। অথচ আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের সময় আর্দ্রতার পরিমাপ করা হয় না। গুদামজাত করার আগে সরকার নিজ দায়িত্বে ধান শুকিয়ে নেয়।

এইসব যতো ফ্যাকড়ার যাতাকলে পড়ে ক্ষুদ্র চাষীরা দৌঁড়ের মাঠের “হিটস”য়েই বাদ পড়ে যান। অর্থাৎ এমন সব অজুহাত দেখিয়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়া হয়, যাতে সরকারী, বেসরকারী কায়েমী সুবিধাভোগীদের ভাগটা ষোলআনা বজায় থাকে। ফলে একজন গরিব কৃষক তার ধান কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন আর সেই ধান কৃষিকার্ডধারী অকৃষক ফড়িয়া , আড়ৎদারেরা কিনে বেশি দামে সরকারি গুদামে সরবরাহ করে থাকেন।

কিন্তু সব চাষীরাইতো কেবল ধান,গম, আলু ফলান না, ফলান সব্জীর মতো অন্যান্য কৃষিপণ্যও।
তাদের এই পচনশীল কৃষিপন্য সংরক্ষনের কোনও ব্যবস্থা আছে কি ?

অথচ গত ৪৮ বছরে দেশে সবজি উৎপাদন বেড়েছে পাঁচগুণ । আর বার্ষিক উৎপাদন বৃদ্ধির হার বিবেচনায় বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেড় কোটি মেট্রিকটন সবজি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদনে বিল্পব ঘটলেও বিপ্লব ঘটেনি খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য নিরাপত্তা বা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকান্ডের।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মতে দেশে ৯০ রকমের সবজির বাণিজ্যিক চাষ হয়, যার ৩০ থেকে ৩৫টি প্রধান।
সবচেয়ে বেশী যে সমস্ত সবজি বাংলাদেশে চাষ হয় তাদের মধ্যে টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, চাল কুমড়া,বেগুন, পটল, ঝিঙা, করলা, লাউ, চিচিঙ্গা, কাঁকরোল, কাঁচা মরিচ, ধুন্দুল, মিষ্টি কুমড়া, ঢেরস, শশা, ক্ষীরা, মুলা, শিম, গাঁজর, পুইশাক, লালসাক, বরবটি, সজনা, ধনে পাতা, মটরশুঁটি, কাঁচা পেঁপে ইত্যাদি।
দেশে সবজির ক্রমবর্ধমান বাজার টাকার অংকে কত বড় তার হিসেব নেই কোথাও। তবে মহাবেকুব হলেও বিভিন্ন জায়গা ঘেঁটে জেনেছি - প্রতি বছর বিশ্বের পঞ্চাশটি দেশে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার সবজি রপ্তানি হয়।
দেশে সবজির ঘাটতি যেমন আছে তেমনি খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সংশয়মুক্ত নয়। দেশে সেই অর্থে পচনশীল সব্জির মধ্যে আলু ছাড়া আর কোনও পণ্যের জন্যে কোনও হিমাগার সম্ভবত নেই। পঁচে যাবার ভয়ে কৃষককে তড়িঘড়ি করে তাদের পন্য পানির দামে ছেড়ে দিয়ে বিনিয়োগকৃত পুঁজির যতোখানি সম্ভব ঘরে তুলে আনতে হয়। কৃষক মার খেয়ে যায় অথচ ঢাকার অদূরে গ্রামীণ হাটে চাষিদের তাজা সবজির যে দাম, ঢাকায় এসেই তার দাম হচ্ছে কমপক্ষে চার -পাঁচ গুণ বেশি। কারওয়ান বাজার, শ্যামপুর, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে গিয়ে আমাদের দেশে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের পাইকারি মূল্য দেখলে মনে হয়, আমরা এখনো শায়েস্তা খাঁর আমলে বসবাস করছি! কিন্তু বিভিন্ন হাত বদল হয়ে যখন ভোক্তার কাছ থেকে ওই কৃষিপণ্যের মূল্য আদায় করা হয়, তখন দৈবক্রমে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকের তা দেখে ও তাঁর উৎপাদিত কৃষিপণ্যের মূল্যের অঙ্ক শুনে অক্কা পাওয়ার জোগাড় হয়......অক্কা পাবার মতো অবস্থা হয় আমার মতো মহাবেকুব মানুষেরও!

মোদ্দা কথা হলো- লাভের বড় অংশ পাচ্ছেন না চাষি,অথচ ভোক্তারা সব্জী কিনছেন উচ্চমূল্যে। তাই উৎপাদিত সব্জীর ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ফসল নষ্ট করার মতো ঘটনাও দেখা যায় এই খাতে। লাভের মূল অংশ নিয়ে যায় যে মধ্যস্বত্বভোগীরা,তাদের আছে নানা ব্যাখ্যা যা এককথায় উছিলারই নামান্তর।
সব্জী চাষিদের জন্য ব্যাংক ঋণের পৃথক সুযোগ না থাকায় আছে কৃষকদের আক্ষেপও।
অথচ এসব পচনশীল পন্যের জন্যে যদি কোনও সংরক্ষনাগার গড়ে তোলা যেতো তবে কৃষকেরা কিছুটা হলেও নিজ পণ্য পানির দরে না বেচে জ্বালানী তেলের দামে বিক্রি করার জোরটা দেখাতে পারতেন।

আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় দেশে এই প্রথম চাল রাখার ৬টি সাইলোসহ মোট ৮টি সাইলো নির্মাণ করার কথা শোনা যাচ্ছে । এ যাবতকাল দেশে কোনো চালের সাইলো ছিল না। যে কয়টি সাইলো ছিল তাতে নাকি গম সংরক্ষণ করা হতো। স্বাধীনতার পর চালু হওয়া চট্টগ্রামের সাইলোসহ দেশের মোট ৪টি সাইলোতে গম সংরক্ষণ করাই হতো। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, আশুগঞ্জ ও সান্তাহারে অবস্থিত এ সাইলোগুলো বিজ্ঞানসম্মত হলেও আধুনিক নয়।
দেশের ৬২৩টি স্থানে ২৭০০ ফ্ল্যাট গোডাউন আছে । এসব গুদামে চাল-গম রাখলে তা ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যেই নাকি পোকায় ধরে যায়। কারন তা আধুনিক নয়।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের অধীনে সরকারি হিমাগারের সংখ্যা ২১। বেসরকারি হিমাগার আছে ৪০৭টি, এর মধ্যে প্রায় ৩৮৫টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়। অথচ কোথাও অন্যসব পচনশীল পন্যের জন্যে সংরক্ষনাগারের কথা কাউকে বলতে শুনিনি।
তার সাথে তাল মিলিয়ে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইন্ডাস্ট্রি তেমনভাবে যদি গড়ে তোলা যেতো তবে দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মেীসুমি কৃষিপণ্য প্রতি বছর নষ্ট হতোনা।
যথাযথ এলাকায় যদি কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ইন্ডাস্ট্রি প্রতিষ্ঠা করা যেতো, তাহলে একদিকে যেমন উৎপাদিত ফসল নষ্টের পরিমাণ কমে যেতো, অন্যদিকে কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পেতো।
প্রধানমন্ত্রীর বলা, “এক ইঞ্চি জায়গাও খালি ফেলে রাখা যাবেনা।“ একথার মূল্য কতোটুকু যদি কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পান ?
সংরক্ষন করার ব্যবস্থা সহ মজুদদারদের চক্রান্ত, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের দমাতে না পারলে প্রধানমন্ত্রীর এমন কথায় কেউই উৎসাহিত হবেন না। এগুলো কি বন্ধ করা যায়না ? কেন যাবেনা ? একটু সদিচ্ছা বা “সাসটেইনেবল ডেপেলপমেন্ট”য়ের যে কথা আমরা বলি তার প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেই এগুলো সামাল দেয়া সম্ভব। কেন প্রতিটি ইউনিয়নে পচনশীল সব্জীর হিমাগার গড়ে তোলা হয়না ?
আমরা জানি, কৃষি হচ্ছে আমাদের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত, এ খাত থেকে জিডিপির আনুমানিক ১৪ শতাংশ আসে। মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬৩ শতাংশ এর সঙ্গে জড়িত। আমরা এও জানি, মোট সব্জীর ৩০ শতাংশই উৎপাদন হয় গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে যার পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টন এবং বাজার মূল্য প্রায় ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলোই এখন কৃষকের জন্য হয়েছে গলার কাঁটা।
রবি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি শাকসবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে যা আমাদের চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু মৌসুমে বাজারমূল্য খুব কম হওয়ায় ও অধিকাংশ শাকসবজি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। অন্য দিকে দ্রুত পচনশীল বলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় না এবং প্রচুর অপচয় হয়ে থাকে। কৃষককেও পানির দামে তার ফসল বিক্রি করতে হয় বাধ্য হয়েই।

পিপিপি আওতায় কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম এর এক তথ্যে বলা হয়েছে - “ বর্তমানে দেশের কৃষিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। রোপণ ও সংগ্রহ মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলছে। এ অবস্থায় কৃষিবিদরা জোর দিয়েছেন শস্যগুদাম ঋণ কার্যক্রমে। এতে ইউনিয়ন পর্যায়ে শস্য সংরক্ষণ কার্যক্রম যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি কমমূল্যে ফসল বিক্রি করতে হবে না কৃষককে।“
মহাবেকুব জাতকের বেকুবি প্রশ্ন -শস্যগুদামের জন্যে সরকার ঋণ কেন দেবে ? কে বা কারা এই শস্যগুদাম বানাবেন ? সরকার নিজে এটা করতে পারেন না ?
কৃষিবিদরা জোর দিয়েছেন শস্যগুদাম ঋণ কার্যক্রমে। এই কৃষিবিদরা কি আমার মতোই মহাবেকুব ? ব্যক্তি পর্যায়ে বা নিদেন পক্ষে সমবায় পর্যায়ে এরকম শস্যগুদাম এদেশে কোথায় আছে ? যা আছে তা আলু সংরক্ষনের জন্যে। অথবা তারা কি জানেন না এমন কৃষক কোথায় আছেন আমাদের দেশে যারা ঋণ নিয়ে এক একটা শস্যগুদাম বানাবেন ? এ তো তেলা মাথায় তেল দেয়া কর্মসূচী। এতে কেবল মাত্র ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ আর টাউট বাটপারদের সোনার খনি হাতে তুলে দেয়া কার্যক্রম। তারাই এই ঋণের সুবিধাভোগী হবেন এবং শস্যগুদামের মালিক হয়ে কৃষকের গলা কাটবেন! সরকারও এমনটা চায় বলেই কি নিজেরা এই ভারটা নিচ্ছেন না যদিও মুখে বলছেন -কৃষিবান্ধব সরকার ? সরকার কি পারেন না , ইউনিয়ন পর্যায়ে না হোক উপজেলা পর্যায়ে একটি করে সরকারী খাদ্যগুদাম তৈরী করতে ? আর তৈরী করতে একটি সমন্বিত বাজার প্রক্রিয়া যেখানে কৃষকরা তাদের পন্যের উৎপাদন মূল্যের উপরে ২৫ থেকে ৩০% লভ্যাংশ পাবেন যা নিজেই কিনে নেবে সরকার? সরকারই তা পরিবহন করবে নিজস্ব খরচে ? অনেকটা সরকারী সমবায় পদ্বতি হবে তা।
আমাদের দেশের মিল্কভিটা, ভারতের আমূল যেভাবে সমবায়ের মাধ্যমে দুধ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে দুধ কিনে নেন এবং নিজেরাই সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন করে থাকেন তেমনি করে কি সরকার সব্জীও সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন করতে পারেন না ? কৃষিতে ভর্তুকি নূন্যতম রেখে ভর্তুকির বাকীটা দিয়ে সমন্বিত এমন একটি প্রকল্প হাতে নেয়া কি খুবই কষ্টকর ? জটিল বটে তবে আন্তরিকতা ও কমিটমেন্ট থাকলে কোনও অসম্ভবই অসম্ভব নয়। যেমন পদ্মা সেতু। কোনও অসম্ভবই কি এটাকে আটকাতে পেরেছে ?
এ পদ্ধতিতে কৃষকরা নিজেরাই তাদের পন্য সরাসরি সরকারের খাদ্যগুদামে দিয়ে তৎক্ষনাত ন্যায্যমূল্য নগদে নিয়ে যাবেন অথবা একটি একাউন্ট তৈরী করবেন যেখানে পণ্য বিক্রির পরে তার টাকা জমা হবে। সরকার এই সব পণ্য অপ্রকৃয়াজাত অবস্থায় বা প্রক্রিয়াজাত করে নিজস্ব হিমাগার সম্বলিত পরিবহনে করে দেশের সকল পাইকারী বাজারে ১০% লাভে বিক্রি করবেন। এতে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য পাবেন, মধ্যসত্বভোগীদের হাত থেকে বাঁচবেন। সরকার তার সব খরচ উঠিয়ে নেবেন ঐ ১০% লভ্যাংশ থেকে। তাতে না পোষালে কৃষি ভর্তুকির টাকা থেকে তা পুষিয়ে নেবেন। কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পেলে আর কৃষিঋণের দিকে ঝুঁকবেন না। সেই হাযার কোটি কৃষিঋণের টাকা সরকার প্রয়োজনে নিজেই এই কাজে খরচ করতে পারবেন।
উদাহরন দিলে মনে হয় ভালো হয় ---বেগুনের উৎপাদন খরচ এখন প্রতি কেজি ৭ টাকা। খামারপ্রান্তে এর দাম ৩০% লভ্যাংশ ধরে হওয়ার কথা ৯ টাকা থেকে ১০ টাকা। তাহলে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার এই বেগুন কিনবেন কেজি প্রতি গড়ে ১০টাকা করে। ঐ টাকা কৃষক পাবে যা সে নিজে ফরিয়াদের কাছ থেকে কোনও কালেই পেতোনা। ( কখনও কখনও এই বেগুন প্রতি কেজি ২ টাকাতেও বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন কৃষক। ) সরকার যদি এই বেগুন ১০% লভ্যাংশে পাইকারী বাজারে বিক্রি করেন তবে কেজি প্রতি পাবেন ১১ টাকা। বেগুনের পাইকারদের লভ্যাংশ ১০% বেঁধে দিলে পাইকারী মূল্য দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ১২ টাকা। ২৫% লভ্যাংশ যোগ করে খুচরা বাজারে সেই বেগুনের মূল্য হতে পারে বেশী হলে ১৫ টাকা ।
অথচ সেই বেগুনই আমরা কতো করে কিনছি? এই মহাবেকুব জাতক প্রশ্নটা আপনাদেরই কাছেই রাখছে! কারন ১০ টাকার জিনিষই আপনাকে গাঁটের পয়সা খরচ করে কেন কিনতে হবে ৬০ -৭০ টাকায়, বিশেষ বিশেষ সময়ে ১০০ বা ১২০ টাকায় ?

ছবি --কৃষকের ন্যায্যমূল্য আর ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষনে করা মহাবেকুব জাতকের একটি ছক ।

এই পদ্ধতিতে সবারই স্বার্থ সংরক্ষন করা সম্ভব কেবল মাত্র ফড়িয়া -বাটপার , মধ্যসত্ত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের বাদ দিয়ে। সরকার যদি নিজেরাই এসব কেনেন তবে ঘাটে ঘাটের অসংখ্য ফড়িয়া -বাটপার , মধ্যসত্ত্বভোগীদের অত্যাচার সহ্য করতে হয়না কৃষকদের। কৃষক তার পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেয়ে যাবেন সরাসরি ৩০% লভ্যাংশে । কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক পলাশ কান্তি নাগ অবশ্য বলেছেন, “উৎপাদনের খরচের সঙ্গে ৩৩ শতাংশ মূল্য সহায়তা দিয়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতিটি ফসল ক্রয় করতে হবে।”

আর সরকার নিজেই যেখানে সংগ্রাহক ও পরিবহনকারী সেখানে চাঁদা তুলবে কে ? এই অসংখ্য মধ্যসত্ত্বভোগীদের বাদ দিতে পারলেই আমরা সাধারণ ক্রেতাদের গলাকাটা মূল্যে আর কিনতে হয়না এসব পন্য। এতে চাঁদা সহ পরিবহণ খাতের ব্যয় কমবে বর্তমানের অর্ধেকেরও বেশী। সরকার তখনই সত্যিকার অর্থেই কৃষি ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারেন সহজেই। আর সরকার যদি এইসব মধ্যসত্ত্বভোগীদের লালন পালন করতে চান তবে তা ভিন্ন কথা!

সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালে সরকার “ভিশন ২০২১” গ্রহণ করে। অথচ জাতীয় কৃষিনীতি ১৯৯৯, জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৩ এবং সর্বশেষ জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮ বিশ্লেষণ করে ধানসহ সব কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিতে চলমান শ্রমিক সংকট প্রশ্নের উত্তর মেলে না।
বাস্তবে কৃষক উৎপাদনের চেয়েও কম দামে তার উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারেন না, কোনো ন্যায্য বাজার পান না এবং যখন কৃষি মৌসুমে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়; তখন পাবলিক মিডিয়াতে এ নিয়ে কিছুদিন আলোচনা চলে। পাবলিক পরিসরে কিছুটা সাড়া তৈরি হয়। নগণ্যমাত্রায় হলেও কিছু মানুষ নানাভাবে কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়ান। উৎপাদিত ফসল রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ জানান বা কৃষকের জমিতে ধান কাটতে এগিয়ে আসেন অনেক সংবেদনশীল অকৃষক নাগরিক। কিন্তু ধানসহ কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয় না।
এতো এতো পরিকল্পনার পরেও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয় নি।
সরকার কি এটা জানেন না, বোঝেন না ? যদি জানেন ও বোঝেন-ই তখন তা করা হয়না কেন ?
এই মহাবেকুব জাতক এযাবৎ সরকারের কাছ থেকে কেবল এমন কথাই শুনে এসেছে - “করা হবে” , “পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে”। কিন্তু কখনই শোনেনি - “করা হয়েছে” বা “পরিকল্পনা মতো কাজ চলছে”।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের “কৃষির সালতামামি”তে বলা হয়েছে -মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপি’তে কৃষি খাতের অবদান ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। কৃষকের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি ও নিরাপদ সবজি/ফল সহজলভ্য করার নিমিত্ত ঢাকায় শেরেবাংলা নগরে কৃষকের বাজার চালু করা হয়েছে যেখানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারজাত করছে। ক্রমান্বয়ে এই ব্যবস্থা জেলা-উপজেলা শহরে সম্প্রসারিত হবে।
এখানেও ঐ একই কথা - “হবে” ! ভবিষ্যত কাল! মহাবেকুব জাতক ভেবে পায়না, এই “হবে”টা কবে নাগাদ “হয়েছে” হবে!

মহাবেকুব জাতক ভেবেই পায়না, সরকারের কৃষি পরিকল্পনাবিদরা সুষ্ঠ বাজার ব্যবস্থাপনায় সরকারী মালিকানায় কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ সামগ্রিক একটি “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করে উৎপাদনকারী থেকে ভোক্তা পর্যন্ত নিরাপদ সবজি পৌঁছানোর ব্যবস্থা কেন করতে পারেন না ? এটা কি খুব কঠিন কিছূ ? যদি কঠিনই হয় তবে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার সাহায্য নেয়া যেতে পারে, কৃষিতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কৃষির উৎপাদন, মজুতকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন ও বহুমুখীকরণের নানা স্তরে নানাভাবে তরুণদের তাদের আগ্রহ, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার নিরিখে যুক্ত করতে বিশেষ প্রণোদনামূলক কর্মসূচিও গ্রহণ করা যেতে পারে।

বেকার লক্ষ লক্ষ তরুনদের সাথে নিয়ে সরকারী ভাবে একটি “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করতে পারলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার কিছুটা লাঘব হতো তেমনি কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হতো । ক্রেতাসাধারণও পর্যাপ্ত পরিমানে ভালোমানের শাকসব্জী ও ফল কিনতে পারতেন। ফলে কৃষক তো বটেই ব্যবসায়ী আর ভোক্তারাও লাভবান হতেন।

সরকার যদি নিজেকে কৃষিবান্ধব বলতে চান এবং তা আন্তরিক চাওয়া হয়ে থাকে, তবে এমন কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছেনা কেন ?


[ লেখাটি উৎসর্গ করছি ব্লগার “ ঠাকুর মাহমুদ ”কে যিনি নিজেই শাকসব্জী উৎপাদন ও বিপণনের সাথে জড়িত। এর অলি-গলি আর ফাঁক-ফোঁকড় তারই বেশি জানার কথা। এই মহাবেকুব জাতকের মতো বেকুবি কথন তিনি নিশ্চয়ই করবেন না। এর চেয়েও ভালো কোনও পথ হয়তো উনি বাৎলে দিতে পারবেন .....................]

তথ্য সূত্রঃ
আনুমানিক ব্যয় ৬০ মিলিয়ন ডলার : প্রথমবারের মতো চালের সাইলো নির্মাণের টেন্ডার এ মাসেই

ধান ও কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য

কেজিতে বেগুনের দাম দুই টাকা, বিপাকে চাষি


https://www.thedailystar.net/bangla/মতামত/ক্রয়-ব্যবস্থার-গোড়ায়-গলদ-সুবিধা-পান-না-কৃষক-112375

ঢাকা টাইমস
সবজি উৎপাদনেও বিপ্লব বাংলাদেশে
প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০৯:১১

প্রথম আলো
হিমাগারের অভাবে সবজি নষ্ট
প্রকাশ - ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১১:০৩

এবং অন্যান্য নেট থেকে ।

মন্তব্য ৫২ টি রেটিং +১৭/-০

মন্তব্য (৫২) মন্তব্য লিখুন

১| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:২৩

মুজিব রহমান বলেছেন: কৃষকদের কোন নেতা নেই, সংগঠন নেই, এমপি নেই, তারা রাজনীতির সাথেও নেই তাই তাদের সুবিধার কথাও কেউ ভাবে না।

৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:১৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: মুজিব রহমান,



বাস্তব তুলে ধরেছেন - কৃষকদের কোন নেতা নেই, সংগঠন নেই, এমপি নেই ।
কিন্তু তাদের নামে "কৃষকলীগ" আছে! :| যাদের কাজ শুধু রাজনৈতিক সভায় লোকসংখ্যা ভারী করা।

প্রথম মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

২| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৪৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: বোগাস বো কবিতার মতো মনে হয় সব!

বিবৃতিতে আছে, মহাপরিকল্পনায় আছে, উন্নয়নের স্বপ্নে আছে
বাস্তব সবটাই পিন ফোটানো বেলুনের মতো সত্য।

কৃষি মন্ত্রনালয়, কৃষি অধিদপ্তর,কত কত প্রতিষ্ঠান। শত কোটি টাকা বেতন ভাতা দিয়ে তাদের পালা পোষা হচ্ছে!
মহাবেকুবের মতো প্রশ্ন জাগে- কেন?

প্রশ্ন শুধু প্রশ্নই থেকে যায়!
সরকার কৃষি বান্ধব শুনে শুনে কান পঁচে যায়
কৃষক সেই কুড়েতেই ঘুমায়- আগামী কালের অনিশ্চয়তায়!!!


৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,



এই বাস্তবের ফুটো বেলুন দেখেই এই মহাবেকুবকে লিখতে হয়েছে -
খাদ্য সংরক্ষন আর বিপণন নিয়ে অর্থনীতির গালভরা ব্যবস্থাপনার যতোই কথা থাকুক না কেন, কৃষকের স্বার্থরক্ষা কিম্বা কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য যাতে কৃষকেরা পান তা নিয়ে যতো হাযারো গবেষনা, যতো হাযারো মতামত, যতো পরিকল্পনা নেয়াই হোক না কেন, যতো আহাজারিই হোকনা কেন আমার মতো মহাবেকুব ভেবেই পায়না এতো কিছু থাকার পরেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য কখনই পায় না কেন !

এই প্রশ্ন যাতে প্রশ্নই না থাকে তার জন্যে আহাজারি আর করতে হবে আমাদের কতো ?

মন্তব্য লাইকড ++

৩| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:২৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: সরকারের জন্য যারা হুমকি সৃষ্টি করতে পারে তাদের জন্য সরকার সুবিধা দেয়। নিরীহ কৃষক কখনও একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করে না। তাই এই নিরীহদের ব্যাপারে সরকার উদাসীন। পরিবহন শ্রমিক, কারখানার শ্রমিক এরা তাদের দাবি আদায় করে নিতে পারে, কারণ সরকার এদের ভয় পায় এবং এদের সরকার তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করে। আমেরিকা সহ অনেক উন্নত দেশে কৃষকদের ভর্তুকি দেয়া হয়। বাংলাদেশে গার্মেন্টসের মালিকরা নগদ প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য হলে কৃষকরা কেন পাবে না। গার্মেন্টসের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ৬০% থেকে ৭০% এর মত কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় হয়ে যায়। থাকে ৩০% থেকে ৪০%। কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে বড় কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গত ৫০ বছরে হয় নাই। কৃষি গবেষণার কারণে কৃষি উৎপাদন কোনও কোনও ক্ষেত্রে বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের কাছে কৃষক অবহেলিত হয়েছে। কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ঘাটতি সৃষ্টি হলে সরকার কৃষককে গুরুত্ব দিত। মাঝখানের ফরিয়ারা সব লাভের গুড় খেয়ে ফেলে। এই সরবরাহ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন। সরকার চাপে না পড়লে গায়ে পরে কারও জন্য কিছু করতে চায় না। বোকা কৃষক সারা জীবন ঠকার পরও এই রাজনৈতিক দলগুলিকে ভোট দিয়ে যায় (যদিও এখন সেটার প্রয়োজনও ফুঁড়িয়ে গেছে)। উন্নত বিশ্বের কৃষকরা সংগঠিত এবং শিক্ষিত। আমাদের কৃষকরা সনাতনী চিন্তাধারা না ছাড়তে পারলে, শিক্ষিত না হলে আর সংগঠিত না হলে তারা তাদের ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবে বলে মনে হয় না। কৃষকদের জ্ঞানহীনতা ও সরকারের উদাসীনতা ও পরিকল্পনার অভাবের কারণে কৃষি ক্ষেত্রের অপার সম্ভাবনা আমরা কাজে লাগাতে পারছি না। এরকম উর্বর আর নদী বিধৌত বিস্তৃত সমতল ভুমি অনেক দেশেরই নাই। আমরা আমাদের নদীর মূল্যও বুঝলাম না আর কৃষকের অবদানও বুঝলাম না। এরা আছে শুধু কবিতা, গান আর সাহিত্যে।

৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:০১

আহমেদ জী এস বলেছেন: সাড়ে চুয়াত্তর,




"সরকার চাপে না পড়লে গায়ে পরে কারও জন্য কিছু করতে চায় না। বোকা কৃষক সারা জীবন ঠকার পরও এই রাজনৈতিক দলগুলিকে ভোট দিয়ে যায়"
আপনার মন্তব্যের উপরের লাইনগুলোর শানে নযুল প্রথম মন্তব্যকারী মুজিব রহমান এর মন্তব্যে আছে - কৃষকদের কোন নেতা নেই, সংগঠন নেই, এমপি নেই, তারা রাজনীতির সাথেও নেই তাই তাদের সুবিধার কথাও কেউ ভাবে না।
এটাই মূল কারন কৃষকের এমন হতাশাজনক জীবনের জন্যে।

কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে বড় কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত গত ৫০ বছরে হয় নাই। নীতিগত সিদ্ধান্ত না হলেও ভাগবাটোয়ারার গালভরা ব্যবস্থাপনা, শস্যভান্ডার ঋন প্রকল্প, খাদ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ প্রকল্পের মতো সীমাহীন প্রকল্পের যেন শেষ নেই।

...........মাঝখানের ফরিয়ারা সব লাভের গুড় খেয়ে ফেলে। এই সরবরাহ ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন প্রয়োজন
আপনার এমন পর্যবেক্ষেন নিয়েই এই মহাবেকুবকে বেকুবের মতো কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ একটি সমন্বিত “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করার কথা বলতে হয়েছে।

মন্তব্যটি এই লেখায় গুরুত্বপূর্ণ একটি সংযোজন নিঃসন্দেহে।
মন্তব্যে ++++

৪| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:২৪

চাঁদগাজী বলেছেন:



ক্যাপিটেলিজমের যেই স্তরে আমাদের অর্থনীতি আছে, ইহা ঠিক কৃষির জন্য কিছু করতে পারবে না, ইহা বরং কৃষি পন্য ব্যবসায়ের পক্ষে। চট্টগ্রামে যারা চাষ করেন, তাদের শতকরা ২০ জনেরও জমি নেই; সামান্য যা জমি আছে, সেগুলোর মালিকেরা বিদেশে শ্রমিক হয়ে চলে গেছে।

সরকার দেশের ধান উৎপাদনে সেই পরিমাণ সাবসিডিয়ারী দেয়, তা দিয়ে পুরো ধান বিদেশ থেকে কিনে আনা সম্ভব; তবে, সাবসিডিয়ারী কে কতটুকু পাচ্ছে, সেটা পরিস্কার নয়।

৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৮:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী,




"সরকার দেশের ধান উৎপাদনে সেই পরিমাণ সাবসিডিয়ারী দেয়, তা দিয়ে পুরো ধান বিদেশ থেকে কিনে আনা সম্ভব; তবে, সাবসিডিয়ারী কে কতটুকু পাচ্ছে, সেটা পরিস্কার নয়।"
২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষককে টিকিয়ে রাখতে কৃষি খাতের কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং পানি সম্পদ এই পাঁচটি খাতে ২৯ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা মোট বাজেটের ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
আর কৃষি খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
ভর্তুকি সহ এই হাযার হাযার কোটি টাকা খরচ করার পাশাপাশি কৃষকদের প্রাপ্তিটা কতো ? তা কি এই হাযার হাযার কোটি টাকার তুল্য ? মনে হয় না। এই টাকায় অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে কিন্তু কৃষকের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিত করতে কোনও প্রকল্পের কথা তাতে নেই।

মহা বেকুবের প্রশ্নটা এখানেই - কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ একটি সমন্বিত “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করার কথা কোথাও নেই কেন ? এই প্রশ্নটার জবাব মনে হয় আপনার কথাটিই --- "ক্যাপিটেলিজমের যেই স্তরে আমাদের অর্থনীতি আছে, ইহা ঠিক কৃষির জন্য কিছু করতে পারবে না, ইহা বরং কৃষি পন্য ব্যবসায়ের পক্ষে।"

৫| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ বিকাল ৪:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: দেশটা দুষ্টলোকে ভরে গেছে।
কোথাও স্বচ্ছতা নেই।

৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৯:১৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাজীব নুর,



প্রশ্নটা দেশের লোকজনের স্বচ্ছতার নয়, কৃষকেরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য কেন পায়না সেই পরিকল্পনার অভাবের।
আপনি কি মনে করেন না, কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া উচিৎ যাতে সে উৎসাহের সাথে কৃষিকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে খাদ্য রফতানীকারক একটি দেশে পরিনত করতে পারে আর আপনিও সুলভ মূল্যে কৃষিপণ্য ভোগ করতে পারেন ?

৬| ৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩৩

ভুয়া মফিজ বলেছেন: মহা বেকুবের এতো ভাবাভাবির দরকার কি? ভাবনা সব মহা চালাকদের জন্য তোলা থাক। যার যেটা কাজ, তাকেই সেটা মানায়। বেকুবদের কাজ শুধু দেখে যাওয়া আর মাঝে মাঝে হাত তালি দেওয়া। খুব বেশী হলে গোপনে স্বপ্ন দেখা.......কারন প্রকাশ্যে স্বপ্ন দেখার কোন রাইট বেকুবদেরকে দেয়া হয় নাই; আর মহা বেকুবদের তো প্রশ্নই আসে না।

এতো কিছু চিন্তা না করে বেকুবদের কাজ হলো, মুখ বুজে কাজ করে যাওয়া। ''ডোন্ট থিঙ্ক, জাস্ট ওয়ার্ক'' এটা হলো বেকুব/মহা বেকুবদের একমাত্র করনীয়। B-)

আপনি সিস্টেম ব্রেক করছেন......কেন? এ'জন্যে আগামী কিছুদিন আপনার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার সুপারিশ করছি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে।

৩১ শে জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ভুয়া মফিজ,




ঠিক কইছেন - "মহা বেকুবের এতো ভাবাভাবির দরকার কি? ভাবনা সব মহা চালাকদের জন্য.......... খুব বেশী হলে গোপনে স্বপ্ন দেখা..."
এই মহা বেকুবও সেইরাম স্বপ্নই দেখতাছে। স্বপ্নে পাওয়া সবকিছু নাকি সবার জন্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা সওয়াব! :| অথচ স্বপ্নে পাওয়া করোনার তাবিজ, স্বপ্নে পাওয়া ক্যানসারের ঔষধ সবই পয়সার বিনিময়ে মেলে । সিস্টেম ব্রেক করিয়াছি এইখানেই যে, সেই সওয়াব হাসিল করিতেই এই স্বপ্নখানারে সকলের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করার খায়েশ জাগিয়াছিলো। তাই পোস্টাইছি।
এ্যাহোন মারেন ,কাডেন য্যা য্যা করনের করেন! :(

আপনি তো দেখতাছি মশাই আসলেই "ভুয়া" । ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার থ্রেট দিলেন! আন্নে ভালা না.................... :P

৭| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৩৩

ঢুকিচেপা বলেছেন: টাইটেল এবং ছবি দেখে খুব খুশি হয়ে এলাম যাক রম্য টাইপ কিছু হবে।
কিন্তু কার মধ্যে এসে পড়লাম!!!!

বেশ ক’মাস আগে আমার বন্ধুর একটা ফার্ম দাঁড় করানোর জন্য অনেকদিন পাশে পাশে ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, পরিকল্পনা মত শুধু কৃষি খাতই যদি উন্নত করা যায় তাহলেই দেশের চেহারা পাল্টাতে বাধ্য।
বেশ কয়েক বছর আগেই দেখেছি, দাম না থাকায় মনকে মন আলু গরু খাচ্ছে। অথচ এই আলু থেকে চিপস, আটা তৈরী করে সংরক্ষণ করা যেত।

যাইহোক, আপনার বিশ্লেষণ এবং গাইড লাইন ভাল লেগেছে।

০১ লা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঢুকিচেপা,




খারাপ কিছুর মধ্যে এসে পড়েন নি , পড়েছেন এক মহাবেকুব জাতকের বেকুবি ভাবনার চাতালে। এই চাতালে আপনার চিন্তার পণ্য দলাই মলাই করে ময়লা ঝরিয়ে, রোদে ঝরঝরে করে বাজারজাত করার কথা বলা হয়েছে।
তেমন একটি কথাই বাজারজাত করলেন - অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি, পরিকল্পনা মত শুধু কৃষি খাতই যদি উন্নত করা যায় তাহলেই দেশের চেহারা পাল্টাতে বাধ্য।

বোঝা গেলো পাবলিক রম্যের রসেই মজা পায় বেশী। এই ঈদে তেমনই একগ্লাস রম্য " শরবতে ছহি" আপনার জন্যে ঈদের শুভেচ্ছা হিসেবে --“শরবতে শাহী” নয় “শরবতে ছহি”য়ের রেসিপি

ঈদ মুবারক।

৮| ০১ লা আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৪৭

সোহানী বলেছেন: কোন লাভ নাই রে ভাই!!! কেউ যদি এক বিন্দু দেশ নিয়ে ভাবতো তাহলে এ দেশ এভাবে রসাতলে যেত না।

এসব চিন্তা করতে করতে মাথা হ্যাং হয়ে গেছে। আর ভালো লাগে না।

০২ রা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:২৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী,




কোন লাভ নাই রে ভাই!!! কেউ যদি এক বিন্দু দেশ নিয়ে ভাবতো তাহলে এ দেশ এভাবে রসাতলে যেত না।

কথাটা তো আপনার সাথে গেলোনা। আপনি প্রায়ই যা বলেন তা তো এই রকমই, কেই শুনুক আর না শুনুক কাউকে না কাউকে তো বলতেই হবে।
আমি মহাবেকুব জাতক এটা লিখে হয়তো বেকুবি একটা কাজ করে ফেলেছি। কি করবো ! মহাবেকুব হোক বা মহাজ্ঞানী হোক কেউ একজনকে তো এসব কথা বলতে হবেই!
নীচে মা.হাসান উপরে ঢুকিচেপা, সাড়ে চুয়াত্তর এদের মন্তব্যটা দেখুন - এভাবেই কেউ না কেউ একজন মহাবেকুবি কথাতেও সাড়া দিয়ে গেছেন।
এমন একটি পথ ছাড়া আমরা কখনই কৃষককে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারবোনা। তাইনা ?

বাসী ঈদের শুভেচ্ছা।

৯| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:৫৯

মা.হাসান বলেছেন: বছরের শুরুর দিকে আমার উপজেলায় ১৬০ টাকা মন (এখন ৪০ কেজির মন) আলু বিক্রি হয়েছে। এখন ৩৫ টাকা কেজি কিনে খাই। চলনবিলে চল্লিশ টাকা মন খিরা গেছে। ঐ সময়ে আমি ঢাকায় কুড়ি টাকা কেজি কিনেছি ।
-আমাদের সময়

সাতশ টাকা মনের ধান থেকে চাল বের হয়ে ঢাকায় আসলে ৪৩ টাকা কেজি হয়ে যায়।আমরা শুনেছি, পূর্ব পাকিস্তান থেকে কাগজ পশ্চিম পাকিস্তানে যেতো, ওখানে একটা জলছাপ দেয়া হতো তার পর ফের দেশে ফেরৎ আসতো, এজন্য পূর্ব পাকিস্তানে কাগজের দাম বেড়ে যেতো। আজ কোন দেশ থেকে চাল-আলু-খিরা-ডাল ফসল ঘুরে আসে?

দশ টাকার অ্যাকাউন্টে কত জন কৃষক উপকার ভোগি? তালিকা আছে? ৫০ লাখ পরিবারকে মোবাইলে অর্থ সহায়তার প্রকল্প ভেস্তে গেলো। মাজেদুল হক মন্ত্রী থাকার সময় কৃষক সার চেয়ে বুলেট পেলো। এখন অবস্থার এই পরিবর্তন যে বুলেটে মরতে হয় না, না খেয়ে মরতে হয়। আগে টাকা যেতো পশ্চিম পাকিস্তান, এখন যায় সুইস ব্যাঙ্কে।

আহমেদ জী এস ভাই, হুমায়ূন আহমেদের একটি টিভি নাটকে (সম্ভবত এই সব দিন রাত্রি) বাবা আক্ষেপ করে ছেলে বুলবুল আহমেদকে বলছিলেন -বুঝি না আমাদের মতো অল্পবুঝের লোকজনদের ঘরে তোমাদের মত এত বুদ্ধিমান ছেলেপুলে কেমন করে জন্ম নিলো।

আমিও ভাবি এত আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নেতৃবৃন্দ আর পরিশ্রমি , আন্তরিক, সৎ আমলা যে দেশে আছে সে দেশে মহাবেকুব জাতকরা কি করে আসলো। ভালো স্কুলে ভালো রেজাল্ট করতে না পারলে যে রকম টিসি দিয়ে বের করে দেয়, আমাদের যে সেরকম টিসি দিয়ে বের করে দেয় না সেটাই ভাগ্য।

০২ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: মা.হাসান,




নিঃসন্দেহে এই মন্তব্যখানি পোস্টের অলংকার হয়ে উঠেছে।

আজ কোন দেশ থেকে চাল-আলু-খিরা-ডাল ফসল ঘুরে আসে?
ঘুরে ঘুরে আসে কৃষিকার্ডধারী যারা থাকেন যেমন সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ও তাদের আত্মীয়-স্বজন,সরকারী দলের লোকজন, ব্যবসায়ী, কন্ট্রাকটর, দোকানদার, ফড়িয়া, আড়ৎদার এসব পেশার লোকদের হাত থেকে হাতে ।
পাকিস্তানী আমলে কর্ণফুলি পেপার মিলের কাগজ যেমন চট্টগ্রাম থেকে করাচী, এক হাত ঘুরে আসতো এখন আমাদের সকল পন্যই মনে হয় এভাবে দশ হাত ঘোরে!

দশ টাকার অ্যাকাউন্টে কত জন কৃষক উপকার ভোগি? তালিকা আছে?
উপজেলা পর্যায়ে আমাদের কৃষকদের একটি তালিকা থাকার কথা। এই তালিকায় কি আমাদের গরিব প্রান্তিক চাষিদের নাম আছে? পত্রিকা ঘাটাঘাটি করলেই জানতে পারবেন - নেই ।

এত আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নেতৃবৃন্দ আর পরিশ্রমি , আন্তরিক, সৎ আমলা যে দেশে আছে সে দেশে মহাবেকুব জাতকরা কি করে আসলো।
আসে আসে ..... প্রকৃতি কখনই ভারসাম্যহীন নয়, সে ব্যালান্স করে নেয় সবকিছুই - হয় এভাবে নয় ওভাবে। যেমন বাতাস খালি জায়গা অপূর্ণ রাখেনা, ভরে তোলে; তেমনি এতো এতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নেতৃবৃন্দ আর পরিশ্রমি , আন্তরিক, সৎ আমলার বিপরীতে আরও অতো অতো মহাবেকুবদের এনে ব্যালান্স ঠিক রাখে।

বুঝি না আমাদের মতো অল্পবুঝের লোকজনদের ঘরে তোমাদের মত এত বুদ্ধিমান ছেলেপুলে কেমন করে জন্ম নিলো। হুমায়ূন আহমেদের একটি টিভি নাটকে আক্ষেপ করে এই যে কথাগুলো বলছিলেন , তার প্রেক্ষিতে বলি ---অল্পবুঝের লোকজনদের বুদ্ধির ঘাটতি মেটাতে প্রকৃতিই ( ছেলেমেয়েরা তাদের আশেপাশের সব বৈসাম্য- অনাচার-লুটপাট- দুর্বৃত্তায়ন দেখে, শুনে বুঝে ফেলে, এটাই প্রকৃতি) বেশী বুঝদার-বুদ্ধিমান ছেলেমেয়েদের গড়ে তোলে। এই সব বুঝদার ছেলেমেয়েদের মনের ভেতরে হরহামেশা যে সব প্রশ্ন জাগে সেসব প্রশ্ন ঐ সব আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া নেতৃবৃন্দ আর পরিশ্রমি , আন্তরিক, সৎ আমলা আর রাজনীতিবিদদের মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। তাদের এ্যান্টেনায় ঐ প্রশ্নের তাৎপর্য আর উত্তর ধরা পড়েনা বলেই প্রশ্নগুলোকে "মহাবেকুব" এর প্রশ্ন বলে মনে হয়।

মন্তব্য সুপার লাইকড ।
বাসী ঈদের শুভেচ্ছা।

১০| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:২১

ওমেরা বলেছেন: আহারে ভাইয়া, একটা নিরিহ জাতিকে নিয়ে লিখেছেন এরা তো শুধু বিপদে হাও মাও করে কাদতে জানে, তাদেরও যে কিছু অধিকার আছে সে সম্পর্কে কোন খেয়ালও রাখে না। যাক ভাইয়া আপনি মহাবেকুব বলেই তো তাদের নিয়ে ভেবেছেন !!
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া ।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:২৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ওমেরা,



মহাবেকুব বলে তাদের নিয়ে ভাবিনি !!
দেশের পরিকল্পনাগুলোতে শুধু "পরি"র রূপ দেখেই বেকুব হয়েছি আর বাকী "কল্পনা"র কথা চিন্তা করতে করতেই মহাবেকুব বনেছি। :(

ধন্যবাদ আপনাকেও মন্তব্যের জন্যে।
ঈদের শুভেচ্ছা।

১১| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই,
আমি অত্যন্ত দুঃখিত আপনার লেখা পোস্ট আমি সঠিক সময়ে লক্ষ্য করিনি। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি আপনি উক্ত পোস্টটি আমাকে উৎসর্গ করেছেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ও শুভ কামনা সহ ঈদ মোবারক জানাচ্ছি।

পড়ালেখা ও জীবন জীবিকার প্রয়োজনে সন্তানরা সবাই দেশের বাইরে, করোনা প্রভাব শেষ হলে আর নিয়িমিত ফ্লাইট চালু হলেই ঘরের সন্তান ঘরে ফিরে আসবেন সবাই। নানান ব্যস্ততার কারণে ও দেশের বাইরে থাকা সন্তানদের সাথে কথা বলে বলে ব্লগে নিয়মিত আসতে পারিনি।

আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ আপনি অত্যন্ত মূল্যবান একটি পোস্ট আমাকে উৎসর্গ করেছেন। সত্যি সত্যি আমি গর্বিত। ধন্যবাদ।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,



ভালো লাগলো আপনাকে দেখে। শেষ কোথায় যেন লিখেছিলেন - আপনি সবজি বাজারজাত করনে ব্যস্ত আছেন , শেষ হলেই আসবেন। সেই ভরসাতেই ছিলুম।
সন্তানদের জন্যে একজন পিতার উৎকন্ঠা স্বাভাবিক। আপনার ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই আল্লাহতা'য়ালার রহমতে নিরাপদেই আছেন।

একজন কৃষক ব্লগারের কাছ থেকে জানার ছিলো - আমার লেখায় যে পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে তাতে ত্রুটি আছে কিনা কিম্বা এর চেয়েও টেকসই আর কিছু আছে কিনা।

অঃটঃ
আমার কীবোর্ডের নম্বর লাইনের কী গুলোর অনেকগুলিই কাজ করছেনা হঠাৎ করে এই অবেলায়। তাই প্রথমে ব্লগে লগইন করতে পাছিলুম না কারন আমার পাসওয়ার্ড নম্বর দিয়ে। তাই এখান ওখানের টেক্সট থেকে একটা একটা নম্বর কপি করে লগইন হয়েছি। কীবোর্ডের নম্বর লাইনটি কাজ না করায় ওখানের অক্ষরগুলো এখন লিখছি সেভাবে কপি পেষ্ট করে ...............

১২| ০২ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৪৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



মন্তব্য নং: ০১ (পেঁয়াজ রচনা)

আহমেদ জী এস ভাই,
বাংলাদেশের বাজারে নিজস্ব পেঁয়াজ স্টক যখন শূন্যের কোটায়, তখন ভারত বাংলাদেশকে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলো, (আপনার ২০১৯ এর কথা খুব ভালো মনে আছে) বাংলাদেশ তখন মরিয়া হয়ে বার্মা, তুরস্ক, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করে, এদিকে পেঁয়াজের খুচরা বাজার মূল্য ২০০ টাকা কিলো পৌছেছে।

বাংলাদেশের কুষকরা জান লাগিয়ে দিলো পেঁয়াজ চাষে, আমি আবারো বলছি বাংলাদেশের কৃষকরা জান বাজি ধরে ফেললো পেঁয়াজ চাষে! এই আশায় যে পেঁয়াজ ৫০ - ৭০ টাকা কিলো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ঘরের জং ধরা নষ্ট টিনের চাল বদলাবেন/অথবা ঘরে দুধের গাভি কিনবেন/জীবনে শখ করে স্ত্রীকে কিছু দিতে পারেন নি এবার হয়তো রুপার একজোড়া বালা বা একজোড়া কানের দুল কিনে দিবেন। - কৃষকরা স্বপ্ন দেখতে লগলেন আর রোদে পিঠ পুড়তে লাগলেন, শীতের কামড়ে হাত পা ফাটিয়ে ফেললেন --- --- ---

যেই বাংলাদেশের ফসলি জমির পেঁয়াজ উঠা শুরু হলো আমাদের বন্ধু দেশ ও দয়ার সাগর ভারত তাদের পেঁয়াজ আমাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন। যেখানে আমাদের চাষীদের পেঁয়াজ চাষে উৎপাদন খরচ কিলো দরে গড়ে ২২ - ২৫ টাকা সেখানে বাংলাদেশের চাষীরা কতো দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে বর্তমান খুচরা বাজার দর ৪০ টাকা কিলো হতে পারে? উত্তর: ২৫ - ২৮ টাকা কিলো।

বন্ধু দেশ ও দয়ার সাগর ভারত জুয়ার স্টেকের মতো বাংলাদেশে পেঁয়াজ নিয়ে স্টেক দেন। আমরা সব সময় হারি, এই ধরনের হেরে যাওয়াতে আনন্দ নেই, তারপরও আমরা হাসি বন্ধু দেশ বলে কথা।



০৩ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




পেঁয়াজের ঝাঝের কথা মনে আছে - পেঁয়াজ ২০০ টাকা কিলোতে নয় আমি নিজে তিনশত টাকাতেও কিনেছি।
" বাংলাদেশের কৃষকরা জান বাজি ধরে ফেললো পেঁয়াজ চাষে! এই আশায় যে পেঁয়াজ ৫০ - ৭০ টাকা কিলো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ঘরের জং ধরা নষ্ট টিনের চাল বদলাবেন/অথবা ঘরে দুধের গাভি কিনবেন/জীবনে শখ করে স্ত্রীকে কিছু দিতে পারেন নি এবার হয়তো রুপার একজোড়া বালা বা একজোড়া কানের দুল কিনে দিবেন। - কৃষকরা স্বপ্ন দেখতে লগলেন আর রোদে পিঠ পুড়তে লাগলেন, শীতের কামড়ে হাত পা ফাটিয়ে ফেললেন --- --- ---"

সে কারণেই তো লিখতে হয়েছে ---
" খাদ্য সংরক্ষন আর বিপণন নিয়ে অর্থনীতির এতো এতো গালভরা ব্যবস্থাপনার যতোই কথা থাকুক না কেন, কৃষকের স্বার্থরক্ষা কিম্বা কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য যাতে কৃষকেরা পান তা নিয়ে যতো হাযারো গবেষনা, যতো হাযারো মতামত, যতো পরিকল্পনা নেয়াই হোক না কেন, যতো আহাজারিই হোকনা কেন আমার মতো মহাবেকুব ভেবেই পায়না এতো কিছু থাকার পরেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য কখনই পাচ্ছে না কেন ! "
কেন তখন দেশের কৃষকদের স্বার্থে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ করা হোলনা ????
কারন - রাষ্ট্র কৃষিকে দেখে খাদ্য উৎপাদনের মূল খাত হিসেবে।
অথচ কৃষি শুধু এককভাবে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাই শুধু নয়; দেশের মানুষের আয় এবং কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি প্রতিটি বাস্তুসংস্থানের অপরাপর জীবিত প্রাণসত্তার বেঁচে থাকাকেও যে সহায়তা করে, তেমন ধারনা রাষ্ট্রীয় চিন্তায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। এসবের দায়িত্বপ্রাপ্তদের চিন্তায় শুধু লাভের বখরা কতোখানি , তার হিসেব । কৃষকের বাচা-মরায় তাদের কিছু যায় আসেনা.........................

১৩| ০৩ রা আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




মন্তব্য নং: ০২ (সবজি রচনা)

আহমেদ জী এস ভাই,
আমি চাষাবাদের রেসিও বুঝাতে কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। বাজারে করোলা কোনো সময় ৪০ টাকা কিলোর নিচে আসে না, এর অর্থ এই নয় আমরা করোলা চাষ করে ফসলি ও আবাদি জমি ভর্তি করবো, কারণ পরিবারে করোলা চাহিদা আধা কিলো তাও হয়তো সপ্তাহে দুই/একদিন হতে পারে, কিন্তু আলুর চাহিদা বেশী তাই এর চাষাবাদও বেশী কিন্তু কৃষকরা আলুর মূল্য কম পাচ্ছেন। কম পাচ্ছেন অন্যান্য সবজির মূল্যও।

দেশে দীর্ঘ মেয়াদে কোল্ডস্টোরেজ করার জন্য আলু একমাত্র সবজি। অন্যান্য সবজি দীর্ঘ মেয়াদে কোল্ডস্টোরেজ করার ব্যবস্থা নেই। আর কোল্ডস্টোরেজ ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসেন না কারণ - দেশে অবাধ ফরমালিন সহ নানা কেমিক্যালের সহজলভ্যতার কারণে সবজি ব্যবসায়ীরা কোল্ডস্টোরে সবজি সংরক্ষণ না করে কেমিক্যালাইজড করে সংরক্ষণ করতে পছন্দ করেন। নয়তো দেশে শীত কালীন সবজি টমেটো, ফুলকপি, পাতাকপি, ব্রুকলি, শীম, লাউ, ইত্যাদি কোল্ডস্টোরেজ করে কৃষকরা এমনকি ব্যবসায়ীরাও লাভবান হতে পারতেন।

টমেটো এমন একটি পর্যায়ে আছে যে সরাসরি বিঁষ খাওয়া আর টমেটো খাওয়া প্রায় সমান সমান। - এর জন্য দায়ী ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও সরকার। চাষী কখনো দায়ী নয় - অথচ আপনি দেখুন সবেচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চাষী।

কৃষিকাজ করাটা এক ধরনের পাপে পরিণত হয়েছে কারণ দেশের যুবক সমাজের আগ্রহ সেলফোন, ফেসবুক ও ইন্টারনেট। কৃষিকাজ না। যদিও মানুষের মৌলিক চাহিদার অন্যতম ও এক নম্বর হচ্ছে খাদ্য। খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে ক্রয় করে খাওয়ার চাহিদা এই দেশে দিন দিন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ আমি মনে করি রেমিটেন্স যোদ্ধা ও রেমিটেন্স পরিবার। দেশের আবহ পরিবেশ ও কৃষিখাত সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ যারা করেছে তাদের মধ্য বড় সংখ্যা হচ্ছে রেমিটেন্স পরিবার।

উপসংহারে বলতে চাই, বাংলাদেশের জনগণ যদি এখনো ঘুরে না দাড়ায় তাহলে আগামীতে বাংলাদেশের সম্পূর্ণ খাদ্যশষ্য আমদানি নির্ভর হবে - আর এটি খুবই ভয়ঙ্কর বিষয় হবে।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




বিবিধ কারনে কৃষিকাজ তেমন লাভজনক নয় বলেই খাদ্য উৎপাদনের চেয়ে ক্রয় করে খাওয়ার চাহিদা এই দেশে দিন দিন বেড়ে চলেছে। কৃষককে যদি তার ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা যেত তবে অনেকেই কৃষিকাজে ঝাপিয়ে পড়তেন যেমন আপনিই আগের মন্তব্যে পেঁয়াজের কথায় বলেছেন -
"বাংলাদেশের কুষকরা জান লাগিয়ে দিলো পেঁয়াজ চাষে, আমি আবারো বলছি বাংলাদেশের কৃষকরা জান বাজি ধরে ফেললো পেঁয়াজ চাষে! এই আশায় যে পেঁয়াজ ৫০ - ৭০ টাকা কিলো বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা ঘরের জং ধরা নষ্ট টিনের চাল বদলাবেন/অথবা ঘরে দুধের গাভি কিনবেন/জীবনে শখ করে স্ত্রীকে কিছু দিতে পারেন নি এবার হয়তো রুপার একজোড়া বালা বা একজোড়া কানের দুল কিনে দিবেন।"
অর্থাৎ বাস্তবতা এই যে, উৎপাদন খরচের চেয়ে ২৫ / ৩০ শতাংশ বেশি দাম পেলেই কৃষক উৎপাদনে ঝাপিয়ে পড়েন।

আর সেলফোন, ফেসবুক ও ইন্টারনেটে আসক্ত দেশের যুবক সমাজের জন্যে কর্মসংস্থানের জায়গা করে দিতে পারলে তারা নিশ্চয়ই আগ্রহ দেখাতেন। তেমন কর্মসংস্থানের জায়গা তো আমরা করে দিতে পারিনি। কৃষিখাতে সমন্বিত পরিকল্পনা যা আমি পোস্টে বলেছি, তেমন কিছু নেয়া হলে অবশ্যই দেশের যুবসমাজ এগিয়ে আসবে। এই খাতেই বৃহদাকারে কর্মসংস্থানের সুযোগ অফুরন্ত।
আপনার কি মনে হয়, যে কথা আমি বলেছি লেখাতে - সরকারী ভাবে কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ একটি সমন্বিত “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করার কথা তা কি একেবারেই অবাস্তব ? অফলদায়ক ? অপ্রতুল ? অবিমৃষ্যকারী কিছু ?

১৪| ০৩ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:

আহমেদ জী এস ভাই, আপনা কী বোর্ডে
NUM
LOCK

বাটনটি চাপ দিয়ে অন করুন, তাতে আপনার সংখ্যা কী বোর্ডে টাইপিং অপশন চলে আসবে।

০৩ রা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ ,



ধন্যবাদ। হচ্ছেনা । ৫৬ - = এই চারটা আসে বাকীগুলো আসেনা।
কাল নতুন কীবোর্ড কিনতে হবে ..................... :((

১৫| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ রাত ১:০৯

নীল আকাশ বলেছেন: হাসান ভাই এবং বড় ভাই ঠাকুর মাহমুদের মন্তব্য এবং প্রতিমন্তব্যগুলি ভালো লেগেছে।
দেশে মধ্যসত্ত্বভোগীরা এইসব লুটপাট এবং দাম বাড়ানো সাথে জড়িত। মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা সবাই রাজনৈতিক মদদ পুস্ট পাপি। এরা একদিকে যেমন কৃষকের পেটে লাথি মারে আবার অন্যদিকে ইম্পোর্টের সময় মজুতদারী করে দাম বাড়িয়ে ফেলে।
যদি মনে করেন উচ্চ পর্যায়ে লোকজন এদের চেনে না কিংবা জানে না তাহলে আপ্নি বোকার স্বর্গে বাস করেন। এরাই দলের নির্বাচনে টাকা পয়সা দেয়া লোক। আন্দোলনের সময় টোকাই সাপ্লাইয়ের লোক। সুতরাং যা লাই তাই কদু।
এইদেশে থাকতে হলে বোবা, কালা হয়ে থাকতে হবে। মুখ খুললেই ডিজিটাল আইন!
লেখা ভালো হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ নেই।
শুভ রাত্রী।

০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: নীল আকাশ,




"দেশে মধ্যসত্ত্বভোগীরা এইসব লুটপাট এবং দাম বাড়ানো সাথে জড়িত। মজার ব্যাপার হচ্ছে এরা সবাই রাজনৈতিক মদদ পুস্ট পাপি।"
এমন কথা জন্যই বলতে বাধ্য হয়েছি - " আর সরকার নিজেই যেখানে সংগ্রাহক ও পরিবহনকারী সেখানে চাঁদা তুলবে কে ? এই অসংখ্য মধ্যসত্ত্বভোগীদের বাদ দিতে পারলেই আমরা সাধারণ ক্রেতাদের গলাকাটা মূল্যে আর কিনতে হয়না এসব পন্য। এতে চাঁদা সহ পরিবহণ খাতের ব্যয় কমবে বর্তমানের অর্ধেকেরও বেশী। সরকার তখনই সত্যিকার অর্থেই কৃষি ও জনবান্ধব হয়ে উঠতে পারেন সহজেই। আর সরকার যদি এইসব মধ্যসত্ত্বভোগীদের লালন পালন করতে চান তবে তা ভিন্ন কথা! "

লেখা ভালো হয়েছে। কিন্তু কোন লাভ নেই।
ঠিক বলেছেন কোনও লাভ নেই। শুধু মহাবেকুব বলেই লিখেছি, বুদ্ধিমান আর ধুরন্ধর হলে লিখতুম না।

মন্তব্যে +
যেখানেই থাকুন ভালো আর নিরাপদে থাকুন।
ঈদের শুভেচ্ছা।

১৬| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৩৫

মনিরা সুলতানা বলেছেন: ঈদ মোবারাক ভাই !
আশা করছি সামাজিক দুরত্বে ভালোই ঈদ উদযাপান করতেছেন।
শুভ কামনা!

০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:৩৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: মনিরা সুলতানা,



ঈদ মোবারক মনিরা।
এবারের ঈদের ভালো তো তেমন কিছুই নেই যেটুকু সম্ভব করার চেষ্টা করেছি ফোনে ফোনে। ;)

শুভেচ্ছা আপনাকেও।
ভালো থাকুন আর থাকুন নিরাপদে।

১৭| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:




অতি গুরুত্বপুর্ণ তথ্য সম্বলিত পোষ্টটি সরাসরি প্রিয়তে।

একবার পড়ে গেলাম । শরীরটা ভাল যাচ্ছেনা,
তাই পরে আবার আসব ।

শুভেচ্ছা রইল

০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:১৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,



আপনার শেষ পোস্টে আমার করা মন্তব্যের উত্তরে আপনার পারিবারিক অঘটনগুলো সম্পর্কে জেনেছি । আশা করি ইতিমধ্যেই মহান আল্লাহতালার অনুগ্রহে আপনার পরিবার স্থিত রয়েছেন। আমিও সবার মঙ্গল কামনা করছি করুনাময় আল্লাহতালার দরবারে।

আপনাকে অসুস্থ শরীর নিয়ে তাড়াহুড়ো করে এখানে মন্তব্য করতে হবেনা। আপনি ভালো হয়ে উঠুন আগে, সে প্রার্থনা রইলো।
তবে আশা করবো, আপনি পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠলে আমার লেখার বিষয়ে আপনার প্রজ্ঞাময় মন্তব্য পাবো।

আল্লাহতায়ালা আপনার হেফাজত করুন!

১৮| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:৩৬

সোহানাজোহা বলেছেন:





আমরা সাধারণ নাগরিক যার যার সক্ষমতা থাকা সত্তেও বিপদে আছি তারাতো অবস্যই বেকুব। কারণ আমরা বিপদে আছি। বিপদে না থাকলে আমরা তো আত্মনির্ভরশীল একটি দেশের নাগরিক হতে পারতাম, কৃষি উৎপাদিত পণ্যগুলো অবস্যই আমাদের চাহিদা শেষে প্রবাসেও রপ্তানি হতো। (যদিও প্রবাসে রপ্তানি হচ্ছে তবে তা অবস্যই অপ্রতুল)

আপনি যথার্থ বলেছেন “মহাবেকুব জাতক কথন” - আমরা অবস্যই বেকুব কারণ আমাদের ভালোমন্দ জ্ঞান নেই, তাহলে আমরা বেকুব না - বেকুব কে আন্দামানবাসী?

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট লিখেছেন। এখানে আলোচনা হওয়া দরকার বলে মনে করি। সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হলে অন্তত সবার একটি সাম্যক ধারণা তৈরি হবে। +++ পোস্ট উৎসর্গে অবস্যই অবস্যই সম্মান করছি আপনারা দুজনই পুরাতন মানুষ। সময়ের ভালোমন্দ আপনারা ভালো জানেন এবং তা আলোচনায় উঠে এসেছে।

আমাদের দেশের যুব সমাজকে যেভাবেই হোক কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে হবে নয়তো উৎসর্গকারীর মন্তব্যই বলছি বাংলাদেশের জনগণ যদি এখনো ঘুরে না দাড়ায় তাহলে আগামীতে বাংলাদেশ নামক দেশটি সম্পূর্ণ খাদ্যশষ্য আমদানি নির্ভর একটি দেশে পরিণত হবে - আর এটি খুবই ভয়ঙ্কর বিষয় হবে। শুধু ভয়ঙ্কর নয় মহা ভয়ঙ্কর বিষয় হবে।


০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানাজোহা,




যৌক্তিক মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।

বলেছেন - এখানে আলোচনা হওয়া দরকার বলে মনে করি
আসলেই, এটা যেমন কৃষকের বাঁচা-মরার প্রশ্ন, তেমনি আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের পকেট সাশ্রয়ের ব্যাপারও বটে।
বিজ্ঞের মতোই বলেছেন - আমাদের দেশের যুব সমাজকে যেভাবেই হোক কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলতে হবে।

মন্তব্যে ++

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা।

১৯| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:০৩

মুক্তা নীল বলেছেন:
ভাই ,
যে মানুষদের সাহায্য ছাড়া আমাদের পুরো দেশ অচল, বলতে গেলে একপ্রকার আমরা অচল অথচ তারাই আজকে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত । পদে পদে হয়রানি এবং ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে
না । কৃষি প্রধান দেশে মাটির মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও
ঘাম ঝরানো খাটাখাটনির বিনিময় আমরা যে বেঁচে আছি ,
তার প্রকৃত সম্মানটুকু তাঁরা পাচ্ছেন না। এখনো আমাদের দেশে এক মণ ধানের দাম ৫০০ টাকা আর সেখানে এক কেজি গরুর মাংস ৫৫০ টাকা এর চেয়ে লজ্জা আর কী ?
আফসোস এবং ভালবেসে আপনি যে পোস্টটি লিখেছেন ,
আমি জানি আমি তার যথার্থ মন্তব্য করতে পারব না তবে
এটা ঠিক এই পোস্ট পড়ে অনেক অজানাকে আবার নতুন করে জানলাম , ভাবলাম এবং ব্লগে আসার সার্থকতা হয়তো এটাই।
আপনি নিজে একজন গুণী মানুষ এবং উৎসর্গ করেছেন আরেকজন গুণী ব্যক্তিকে ।
আপনাদের দু'জনের জন্যই শুভকামনা।
ঈদ মোবারক এবং ধন্যবাদ ।

০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫১

আহমেদ জী এস বলেছেন: মুক্তা নীল,




মন্তব্যে আগেই +++ দিয়ে রাখলুম।

সুন্দর অনুভবের কথা বলেছেন - কৃষি প্রধান দেশে মাটির মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ঘাম ঝরানো খাটাখাটনির বিনিময় আমরা যে বেঁচে আছি , তার প্রকৃত সম্মানটুকু তাঁরা পাচ্ছেন না।
যে বেগুন আপনি রোজার সময় কিনে থাকেন ১৫০ টাকা কেজি সেই বেগুনই কৃষকে বিক্রি করতে হয় কখনও কখনও ২ টাকা কেজি দরেও। দুধের মূল্য না পেয়ে রাস্তায় দুধ ঢেলে দেয়ার মতো ঘটনাও এদেশে হয়!
কেন ?
কৃষকদের বাঁচাতে কোথাও কোনও রক্ষা কবচ নেই বলে।

হ্যা ব্লগে লেখারও এটাই মজা যে, হরেক রকমের বিষয় জানা যায় এবং কোনও লেখার বিষয়ে তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়। সেকারনেই ব্লগে আসা সার্থক এবং কিছু লেখা দেয়াও সার্থক।

ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা। ভালো থাকুন- নিরাপদে থাকুন।

২০| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:০৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:

মন্তব্য নং: ০৩ ( সমস্যা ও সমাধান)

আহমেদ জী এস ভাই,
সরকারী ভাবে কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ একটি সমন্বিত “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টি করার কথা তা কি একেবারেই অবাস্তব ? অফলদায়ক ? অপ্রতুল ? অবিমৃষ্যকারী কিছু ?

বাংলাদেশিকে বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে হবে এবং যে কোনো মূল্যে। বাংলাদেশে কৃষিকাজকে এখনো খুব দুর্বল ও অসচ্ছল পেশা হিসেবে দেখা হয় অথচ কৃষি কোনো সামান্য বা অসচ্ছল পেশা নয়। আর যারা কৃষিকাজ করছেন তারা কৃষিকাজের টেকনিক্যাল ফ্যাক্টগুলো ধরতে পারছেন না বলে পিছিয়ে যাচ্ছেন। কারণ: - শিক্ষার অভাব, সরকারি সহযোগিতা ও সেবার অভাব, আর্থিক অসচ্ছলতা ইত্যাদি। লেবানন ইরাক মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া বা প্রবাসে যারা শ্রমিক পেশাতে আছেন তারা দেশে ভালো থাকবেন এটি আমি বিশ্বাস করি।

১। কোল্ডস্টোরেজ: দেশে কৃষিকাজকে মূল্যয়ান করে খাদ্যশষ্য স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্য কাজ করতে হলে - আপনার প্রস্তাবিত কোল্ডস্টোরেজ স্থাপণা করা অত্যন্ত জরুরী। ঢাকার বড় বাজারগুলো (কাওরান বাজার, কাপ্তান বাজান, বাবু বাজার, যাত্রাবাড়ি, আমিনবাজার, আবদুল্লাহপুর) সহ দেশের বিভাগীয় শহরের বড় বাজারে সরকারিভাবে অবস্যই অবস্যই কোল্ডস্টোরেজ স্থাপণা করা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে সবজি ও ফল পঁচবে না, কৃষক ব্যবসায়ী শ্রমিক সবাই তার ন্যায্য পাবেন বলে বিশ্বাস করি। কোল্ডস্টোরেজ না থাকার কারণে ব্যবসায়ীগণ সবজি ও ফলে কেমিক্যাল ফরমালিন কারবাইড সহ নানা ধরনের বিষদ্রব্য মিশ্রণ করছেন।

২। ফ্রিজিং ট্রান্সপোর্ট: সবজি ও ফল ট্রান্সপোর্টের জন্য ট্রান্স ডিসট্রিক্ট ফ্রিজিং ট্রান্সপোর্ট চালু করা খুবই জরুরী। ফ্রিজিং ট্রান্সপোর্ট না থাকার কারণে পথিমধ্য ৩০% ± সবজি ও ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে যার জন্য বছরে শত সহস্র কোটি টাকার সবজি ও ফল পথে ঘাটে ফেলে দিতে হচ্ছে।

৩। কৃষিবিজ্ঞান: ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষাক্ষেত্রে হাইস্কুল ক্লাস সিক্স থেকে বাংলাদেশের হায়ার এডুকেশন মাস্টার্স পর্যন্ত কৃষিবিজ্ঞান বিষয়টিকে ইংলিশ বিষয়ের মতো প্রাধান্য দিতে পারলে এই দেশে কৃষি বিষয়ক শিক্ষিত জেনারেশন তৈরি হবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।

আহমেদ জী এস ভাই, আপনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পোস্টকে সম্মান করে মাত্র একটি বিষয় বলতে চাই “আপনি যা যা উল্লেখ করেছেন কৃািষখাত ও কৃষিপণ্য রক্ষার্থে তার ৪০% বাস্তবায়ন করতে পারলেও বাংলাদেশে ঘুরে দাড়াবে”। এবং এ বিষয়ে এ সকল কাজে সমন্নয় করে বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষিপণ্য ডেভেলপমেন্টের জন্য যা যা করণীয় বাংলাদেশকে জাইকা সহযোগিতা করবে বলেও আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ও আস্থা রাখি।


০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৮:২৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




যে কারনে পোস্টটি আপনাকে উৎসর্গ করা হয়েছে তার যথার্থতা দেখছি এই পুরো মন্তব্যে।
আপনি একজন কৃষিপণ্য উৎপাদনকারি পাশাপাশি বিপণনকারীও। তাই উৎসর্গে বলেছিলুম - এর অলি-গলি আর ফাঁক-ফোঁকড় তারই বেশি জানার কথা।
আমি জানতে চেয়েছিলুম, মহাবেকুব যে সব বেকুবী রাস্তা দেখিয়েছে তা ঠিক আছে কিনা। যে কয়টি পয়েন্ট আপনি লিখেছেন তাতে আমি সন্তুষ্ট যে, ভুল করে অসম্ভব কোনও বেকুবী করে ফেলিনি! ধন্যবাদ অনেক অনেক।

লিখেছেন - "আপনি যা যা উল্লেখ করেছেন কৃািষখাত ও কৃষিপণ্য রক্ষার্থে তার ৪০% বাস্তবায়ন করতে পারলেও বাংলাদেশে ঘুরে দাড়াবে”। এবং এ বিষয়ে এ সকল কাজে সমন্নয় করে বাংলাদেশে কৃষি ও কৃষিপণ্য ডেভেলপমেন্টের জন্য যা যা করণীয় বাংলাদেশকে জাইকা সহযোগিতা করবে বলেও আমি মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ও আস্থা রাখি।"
আপনার এ বিশ্বাস আর আস্থা যেন বাস্তব হয়ে ওঠে তেমন প্রার্থনা থাকলো।

ঈদের বাসী শুভেচ্ছা।

২১| ০৬ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:০৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আহমেদ জী এস ভাই,
দয়াকরে আপনার পোস্টের ২০ নং ২১ নং মন্তব্য মুছে দিন। অনিচ্ছাকৃত একটি ইমোটিক এসে পুরো মন্তব্য দৃষ্টিকটু করে দিয়েছে বলে দুঃখিত।

২২| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৭:৫৫

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



শিরোনামটি পাঠের পর নীচে নেমে দেখি বলা হয়েছে
আমি মহাবেকুব জাতক ভেবে মরি, রাষ্ট্র আর সরকার যদি কৃষি বান্ধবই হয় তবে কৃষকের পাতে ভাত নেই কেন ?
পুঁঝি জোগাড়ে ঋণ নিতে তাকে তার ভিটে- মাটি ,গরু- ছাগল সব বন্ধ রাখতে হয় কেন?

তারপর যখন দেখি হয়েছে বলা
কৃষি পণ্যের সঠিক মূল্য যাতে কৃষকেরা পান তা নিয়ে যতো হাজারো গবেষণা ,যতো হাজারো মতামত , যতো
পরিকল্পনা নেয়াই হোক না কেন, যতো আহাজারি হোক না কেন আমার মতো মহাবেকুব ভেবেই পায়না এতো কিছু
থাকার পরেও কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য কখনো পায় না কেন!


এত মুল্যবান ও যুগোপযোগী প্রশ্নমালা রাখার পরে কে বলবে এটা কোন মহাবেকুব জাতকের লেখা । আমার বিবেচনায়
এটা নি:সন্দেহে একজন মহাদেব জাতকের লেখা। কারণ সরকার ও তাদের নীতিনির্ধারক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গবেষনা, মতামত আর পরিকল্পনাবিদদের কর্মকান্ড ও তথ্য উপাত্ত দিয়ে সেগুলির আসারতা তুলে ধরে শুধু প্রশ্নবানই নয়, সাথে
পোষ্টের লেখার ভিতরে করনীয় বিষয় সম্পর্কে সুপারিশ আকারে বেশ কিছু বাস্তব সন্মত কথামালার অবতারনা হয়েছে বলে
দেখা যাচ্ছে । এতে বোদ্ধাদের জন্য অনেক দিক নির্দেশনা রয়েছে । এসমস্ত কথামালা যাদেরকে তাছির করবেনা আমার বিবেচনায় তারাই প্রকৃত মহাবেকুব জাতক । কথিত আছে ভগবান ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তিন দেবতার মধ্যে কে সব থেকে
বেশী কার্যকর ক্ষমতার অধিকারী সে বিষয়ে আলোচনার সময় মহাদেব নিজেকে আলোক শিখায় পরিণত করে নীজের
ক্ষমতা প্রদর্শন করেন। তেমনিভাবে পোষ্ট লেখক তাঁর লেখার আলোক শিখায় নীজ জ্ঞানের ও জানার প্রকাশ ঘটিয়েছেন সুন্দরভাবে । এ জন্য পোষ্ট লেখকের প্রতি রইল টুপি খোলা সেলুট।

এ পোষ্টের লেখায় থাকা প্রতিটি লাইন নিয়ে করা যায় বিস্তর আলোচনা । কিন্তু প্রায় সকল বিষয়েই সহমত পোষন করায় লেখাটির উপর লাইন বাই লাইন মন্তব্য করা তেমন প্রয়োজন নেই বলে অনুভুত হল ।

যাহোক প্রাসঙ্গিক বিবেচনায় খাদ্য মজুদ ও সংরক্ষন ‌বিষয়ে দু চারটি কথা সংযোজন করে গেলাম ।বিভিন্ন সংবাদ ভাষ্য
হতে দেখা যায় গত ১৬ মার্চ২০২০ পর্যন্ত দেশে সরকারি পর্যায়ে খাদ্য মজুদ রয়েছে ১৭ লাখ ৫১ হাজার টন। আর সরকারি
মজুদের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ খাদ্য নাকি মজুদ রয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে। দেশের মিলার, পাইকার, আমদানিকারক, খুচরা ব্যবসায়ী এবং কৃষক পর্যায়েও বিপুল পরিমাণ খাদ্য মজুদ রয়েছে বলে খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়। তবে এর বাইরে
একটা ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, ধান কাটা, মাড়াই, পোকা খাওয়া, ইঁদুরে খাওয়াসহ সব মিলিয়ে প্রতি বছর আমাদের ২৮ লাখ
টন চাল নাকি নষ্ট হয়ে যায়। এ বিষয়ে সরকারী পর্যায়ে কি কার্যক্রম নেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে তেমন কোন সরকারী ভাষ্য
জানা যায়নি ।

তবে দুর্যোগ পরবর্তী জরুরী প্রয়োজনে সরকারী এবং পারিবারিক পর্যায়ে কার্যকর মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে
‘আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্প’ নেয়া হয়েছে বলে জানা যায়। ২০১৪ সালের ১১ মার্চ প্রকল্পটি একনেকের সভায় অনুমোদন পায়। মোট ১৯২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ব্যয়ে ২০১৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুন মাসে
শেষ করার সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল ।প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে ছিল -মজুদ বাড়াতে ৫,৩৫,৫০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার
৮টি আধুনিক সাইলো নির্মাণ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় খাদ্যশস্য/বীজ সংরক্ষণের জন্য পারিবারিক পর্যায়ে ৭০ কেজি ধারণ ক্ষমতার ৫ লাখ পারিবারিক সাইলো বিতরণ, বন্যা-সাইক্লোন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্যশস্যের নিরাপদ মজুদ নিশ্চিত করা, খাদ্যশস্যের গুণগতমান এবং পুষ্টিমান বজায় রাখার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রযুক্তির অভিযোজন, পরিমাণ ও
গুণগত মজুদ ঘাটতি হ্রাস করা, খাদ্য মজুদ, চলাচল, সংগ্রহ ও বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাপনা উন্নত করা ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার
ওপর গবেষণা কাজ পরিচালনা এবং ফলাফল বাস্তবায়ন করা।নির্ধারিত সময়ের (২০২০ সালের জুনেই) মধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হয়েছিল। উক্ত প্রকল্পের ডব্লিউ-৩ ফেজে ময়মনসিংহ, মধুপুর ও মহেশ্বরপাশায় সাইলো
নির্মাণে মোট ৬০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে বলে জানা গিয়েছিল , সুত্রhttps://www.dailyjanakantha.com/details/article/253204/৫-লাখ-টন-ধারণ-ক্ষমতার-৮-আধুনিক-সাইলো-হচ্ছে/ আপনার পোষ্টের নীচে থাকা সাইলো নির্মাণ সংক্রান্ত লিংকটি কাজ করছেনা ,তবে লিংকের টাইটেল থেকে বুঝা যাচ্ছে এটা যদি উক্ত প্রকল্পের ডব্লিউ-৩ ফেজের অংগের কাজের জন্য এ মাসে টেন্ডার আহবান করাকে বুঝায় তাহলে জুন ২০২০ এ সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্পের একটি বড় অংগের কাজ বলতে গেলে এখনো শুরুই হয়নি ।এমনটি হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতিতে হতাশাই বাড়ে ।

উল্লেখ্য খাদ্য শস্য, ফল মুল ও সবজি সংরক্ষনের জন্য ইদানিং ব্যয় সাস্রয়ী বহুবিদ পাকৃতিক ও কৃত্রিম পদ্ধতি উদ্ভাবিত
হয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতি যথা শুষ্ককরণ, শীতলীকরণ,হিমায়ন,উত্তাপন,কিউরিং,সুগারিং, হিমায়ন, পিকলিং, কৌটাজাতকরণ, জেলীকরণ,বিকিরণ, বায়ু ইলেকট্রোপোরেশন, পাস্তূরীকরণ, এছাড়া কৃত্রিম পদ্দতির মধ্যে গাঁজন পদ্ধতিতো রয়েছেই।
এতসব ব্যায় সাস্রয়ী পদ্ধতিগুলির মধ্যে সরকারী পর্যায়ে শুধু মাত্র ফ্লাট গোডাউন ও সাইলোতে শুষ্ক খাদ্য সংরক্ষন ও
সীমিত পর্যায়ে হিমায়ন পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষন করছে ।

উল্লেখ্য আমাদের দেশে পূর্বে বেশকিছু পাকৃতিক প্রক্রিয়া অনুসরন করা হতো যে গুলিতে তুলনামূকলভাবে বর্তমানের চেয়ে
কম খরচে খাদ্য সংরক্ষন করা সম্ভবপর হতো। ছোটকালে আমি দেখেছি আমাদের বাড়ীর গোলাঘরে একপাশে শুপারী
গাছের ফালিতে তাক তাক করে সাজানো মাচায় নীচে মাটিতে আলো,তারউপরে পেয়াজ, তার উপরে রসুন মজুদ করে রাখা হতো।আমার দাদীকে দেখতাম মাঝে মাঝে গোলাঘরে গিয়ে সেগুলি নারাচারা করে দিতেন , পরিক্ষা করে দেখতেন আলোতে গেজ বেরিয়েছে কিনা পেয়াজ রসুনে কোন পচন ধরেছে কিনা। এইমজুদ করা কৃষিপন্যে আমাদের সারা বছরের আলো ও
পেয়াজ রসুনের চাহদা মিটে যেতো , কোনটাই পঁচতনা কিংবা নষ্ট হতোনা । আবার মাটির কলসে কাঠাল বিচি রেখে কলসের
মুখ মাটির প্রলেপ দিয়ে রেখে দেয়া হতো যাতে কলসের ভিতরে থাকা কাঠাল বিচিতে অআলোবাতাস না লাগে, এতে করে
আবার কাঠালের মৌসুম না আসা পর্যন্ত বিচিগুলি বেশ তাজাই থাকত।
কৃষক পরিবারে খাদ্য সংরক্ষনের জন্য সে সমস্ত পদ্ধতির উন্নয়ন ও আধুনিকিকরন করা যেতে পারে ।

পোষ্টে থাকা আপনার কৃষি পণ্য বিপনন মডেলটি খুবই পছন্দ হয়েছে ,এর সফল বাস্তবায়নের কামনা রইল ।

পোষ্টে উল্লেখিত আপনার মুল্যবান কথা, যথা কৃষি পন্যের বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রকল্প কর্মসুচী গ্রহণ ও বস্তবায়ন করা হবে মর্মে সরকারী পর্যায় হতে বলা কথা আমরা আর শুনতে চাইনা সম্পর্কিত বক্তব্যটি বেশ ভাল লাগল ।

পোষ্টের আলোচনায় উথ্থাপিত দিক নির্দেনার আলোকে আমরা সববিষয়ে, যদি একান্তই সববিষয়ে সন্ভব না হয়, তা হলে
নিন্মোলিখিত কিছু বিষয়ে হলেও শুনতে চাই বলা হয়েছে :-
* কৃষি পন্যের সুষ্টু বাজার জাতকরনের জন্য প্রয়োজনীয় বাহ্যিক অবকাঠামোর আধুনিকিকরণ, উন্নয়ন এবং নতুন
অবকাঠামো তৈরী করা হয়েছে ।
* প্রাথামিক কৃষি পণ্যের অধিক মূল্য সংযোজনের জন্য দেশে কৃষি ব্যবসা এবং প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অর্থ বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে, যা হতে প্রান্তিক কৃষকগন বেশী উপকার পাচ্ছে ।বাজারজাতকরন ব্যবস্থা হতে মধ্যসত্ব ভোগী দালাল ফড়িয়া বেপারিরা বিতারিত হয়েছে।
* কৃষি বাজার গবেষণা এবং উন্নয়ন সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে যার সুফল এখন দেশের প্রান্তিক কৃষকরা ভোগ করছে ।
* কৃষি বাজার সংক্রান্ত কার্যাবলীতে সহজ শর্তে প্রাতিষ্ঠনিক ঋণের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান ঋণ সুবিধাকে আরও বর্ধিত করে
প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
* কৃষি বিপণনের উপর ভিত্তি করে আধুনিক তথ্য এবং প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
* কৃষকদের দরকষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকার কৃষক সংগঠন যেমন দলগত বিপণন, চুক্তি বিপনন,
উৎপাদক সমবায়, বাজারজাতকরণ সমিতি প্রভৃতি গঠন করে তাদের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং সরকারী
পৃষ্ঠপোষকতায় এগুলিকে প্রাতিষ্ঠানিকিকরণ করা হয়েছে ।
* দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষসহ কৃষি বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত সকল অনাকাংখিত কার্যকলাপ ও প্রতারকদের
বিরূদ্ধে উপযুক্ত আইন প্রণয়ন ও তা প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
* ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে কার্যকরী ভোক্তা সমবায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
* সংগ্রহোত্তর ক্ষতি হ্রাসের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে ,এখন সংরক্ষিত খাদ্যের এক ছটাকো
আর নষ্ট হচ্ছেনা ।
* পচনশীল কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে পরিবহন সুবিধার উন্নয়ন এবং হিময়িত চেইন পদ্ধতির উন্নয়ন সাধন ও প্রচলন করা হয়েছে ।
* কৃষিখাতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে রাজস্ব এবং কৃষক বান্ধব আর্থিক নীতির প্রচলন করা হয়েছে ।
* দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে প্রতিটি উপজেলায় পঁচনশীল কৃষি পণ্যের জন্য আধুনিক কোল্ড ষ্টোরেজ স্থাপন
করা হয়েছে।
* কৃষকের উৎপাদন ঝুঁকি কমানোর জন্য দেশে শস্য বীমা প্রবর্তন করা হয়েছে।
* কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাতকৃত কৃষি পণ্য বিদেশে রপ্তানী বৃদ্ধির প্রতি অধিক গুরত্ব আরোপ করা হয়েছে।কৃষি পন্য রপ্তানীতে
সহায়তা দেয়ার জন্য অধুনিক সাইটোসেনিটারী ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
* সংগ্রহোত্তর ও অননুমোদিত খরচ কমিয়ে বাজারজাতকরণ খরচ কমানোর জন্য এই পোষ্ট লেখক প্রদর্শিত মডেলটির মত কার্যকরী ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হচ্ছে । ফলে কৃষি পণ্যের গুনগতমান মান অক্ষুন্ন রেখে কৃষক বেশী দামে তাদের কৃষি পণ্য
বিক্রয় করতে পারছে ।

এই মুল্যবান পোষ্টটিতে থাকা বিষয় গুলি নিয়ে অনেক কথা বলার ইচ্ছা থাকলেও শারিরিক অবস্থা ভাল না থাকায়
এই মহুর্তে বেশী কিছু লিখতে পারলাম না। পরের পর্ব দেখার অপেক্ষায় খাকলাম ।

উৎসর্গ যতার্থ হয়েছে ।

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ৯:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,



অনেক অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা, অসুস্থ্য শরীর নিয়েও এই তথ্য ও প্রত্যাশা ভরা দীর্ঘ মন্তব্যের জন্যে।

মন্তব্যে “নিম্নলিখিত বিষয়ে হলেও শুনতে চাই বলা হয়েছে” বলে যেসব উদ্যোগ সমূহের কথা আপনি উল্লেখ করেছেন তার কিছু কিছু মন্ত্রনালয়ের যাবতীয় প্রকাশনার পাতায় দেখেছি। (অনেক পরিকল্পনার কথা আমার লেখাতেও আছে।)
সংশ্লিষ্টদের এ সবই যে শুধু গাল ভরা কথার কথা তা ‌এখানেই প্রমানিত যে, কৃষকের ভাগ্য এখনও ফেরেনি , তার কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্যও নিশ্চিত করা যায়নি। নইলে এতো এতো পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে আর তা যদি ফলপ্রসুই হয় তবে কৃষকের হাল এখনও কেন দুর্দশাগ্রস্থ ? কেন এখনও তাদের দরিদ্র আর হতভাগা বলা হয়? অথচ বাস্তব কিন্তু এটাই।

পদার্থ বিজ্ঞানে “কাজ” বা ‌”ওয়র্ক” এর সংঙ্গা দেয়া হয়েছে এভাবে- “কোনও বস্তুর উপরে বল প্রয়োগে যদি বস্তুর অবস্থার পরিবর্তন হয় বা বস্তুর “সরন” হয় তবে “কাজ” হয়েছে বলা হবে।” এর সোজা অর্থ- আপনি হাযার হাযার পাউন্ড বল প্রয়োগ করেও যদি সামান্য এক কেজির একটি বস্তুকে খানিকটা হলেও তার স্থান থেকে সরাতে না পারেন তবে মেনে নিতে হবে আপনি কোনও কাজই করেন নি। আপনার বল প্রয়োগের সমস্ত প্রচেষ্টাই ব্যর্থ।
কৃষির জন্যে এতো এতো প্রকল্প, এতো এতো পরিকল্পনা, এতো এতো সিদ্ধান্ত, হাযার হাযার কোটি টাকা বরাদ্দ নেয়ার পরেও যখন কৃষকের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি তখন এই মহাবেকুব জাতক বলতেই পারে - কোনও কাজ হয়নি।
আমার লেখাতে সে কথাই তুলে ধরেছি।

“এলাকায় বেগুন সংরক্ষণের জন্য কোনও হিমাগার না থাকায় বেগুন সংরক্ষণেরও সুযোগ নেই বলেই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় বেগুনের কেজি মাত্র দুই-তিন টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবাদের খরচ না উঠায় বেগুন চাষিরা বেকায়দায় পড়েছেন। অনেকে বেগুন ক্ষেতে রেখে দিচ্ছেন গো-খাদ্য হিসেবে।“

এই খবর মাত্র গত বছরের শুরুর দিকের। পত্রিকার পাতায় এরকমের খবর আছে এন্তার ।

এবছরের জানুয়ারীতে বিডি নিউজ২৪.কম এ প্রকাশিত জনৈক হাসান ইমাম এর একটি নিবন্ধে লেখা হয়েছে -

“হাতে হাতে মুঠোফোনের বিপ্লব ঘটানো ডিজিটাল বাংলাদেশেও কৃষিতে জড়িত ৬০ ভাগের বেশি মানুষ। জিডিপিতে কৃষির হিস্যা ১৪ শতাংশ। এই পরিসংখ্যানের নির্যাস হলো খাদ্যঘাটতির দেশ আজ খাদ্যে স্বাবলম্বী। সরকারও এই কথাটি নিজের ঢাকের কাঠি করে ছেড়েছে। অথচ বছরের পর বছর ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া এবং কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধিই যেন নিয়তি কৃষকের। জমির বর্গা খরচ, বীজ, সার, মজুরের পারিশ্রমিক, সেচ, কীটনাশক ইত্যাদি খরচের পর লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষককে। এর ওপর আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মার। তবু অকাতরে আমাদের খাদ্যের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন তারা, যার “সনদ” দিয়েছে স্বয়ং বিশ্বব্যাংকও। ...................... কেবল কৃষকের জীবনধারণ দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে।“
তিনি আরও একটি তথ্য দিয়েছেন যা আতঙ্কজনক “দেশের অর্থনীতিতে পুষ্টির জোগানদাতা কৃষি খাতের দুর্দশা এখানেই শেষ নয়। প্রথমবারের মতো করা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএসএস) কৃষি ও পল্লী পরিসংখ্যান প্রতিবেদন বলছে, বারো মাস রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দেশের সাড়ে ৭৭ লাখ কৃষিশ্রমিক মাথাপিছু হিসাবের চেয়ে দৈনিক ৫২ টাকা কম রোজগার করেন। দেশের মানুষের বার্ষিক মাথাপিছু আয় ১ লাখ ৬০ হাজার ৬০ টাকা। এই হিসাবে প্রত্যেকের দৈনিক আয় ৪৩৮ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে শীত-গরম-বন্যা-খরায় সমান শ্রম দেওয়া কৃষিশ্রমিকের গড় মজুরি ৩৮৬ টাকা। এর মধ্যে নারী কৃষিশ্রমিকের আয় গড়ে আরও ৪২ টাকা কম। গাঁওগেরামের এই লৈঙ্গিক অসাম্যের চিত্র করপোরেট বাংলাদেশ থেকে উধাও, এ কথা অবশ্য বলার জো নেই। "

এবছরের জুনের প্রথম দিকে এক ডিজিটাল কনফারেন্সে ব্রাক পরিচালিত গবেষণার দুটি সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরে ব্র্যাক।
গবেষণাপত্রে বলা হয়, মহামারী শুরু দিকে ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থাগুলোর ব্যাপক চাহিদা এবং ভোক্তাদের আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পণ্য কেনার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষ করে- মোটা চাল, মসুরের ডাল ইত্যাদির দাম ও বিক্রি বেড়ে যায়। চাল ও মসুরের ডালের দাম ৩০ থেকে ৩২ শতাংশ এবং ব্যবসায়ীদের এই পণ্যগুলোর বিক্রি ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
তবে বাজারে চাহিদা বাড়লেও তা কৃষকদের কোনও উপকারে আসেনি। কারণ মহামারীর আগেই তারা তাদের মজুদ বিক্রি করে দিয়েছিলেন। অপরদিকে ত্রাণ-বহির্ভূত এবং পচনশীল পণ্যগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং বিক্রি করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই কারণে ৮৮ শতাংশ কৃষক (মাছ চাষীদের ১০০ শতাংশ) আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। কৃষকরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ন্যায্যমূল্য না পাওয়া ৬৬ শতাংশ, সীমিত সময়ের জন্য বাজার খোলা থাকা ৫২ শতাংশ, উৎপাদনের উপকরণসমূহের উচ্চমূল্য ৪৫ শতাংশ এবং শ্রমিক সংকট ২৮ শতাংশ।
আর এই দেড় মাসে পণ্যের ক্ষতি ও কম দামের কারণে প্রত্যেক কৃষকের লোকসান হয়েছে গড়ে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার ৯৭৬ টাকা। সেই হিসেবে সারা দেশে কৃষির প্রতিটি উপখাতের সব কৃষকের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে লোকসান হয়েছে কমেছে ৫৬ হাজার ৫৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সমান।
এই সব তথ্যে কি কৃষি ও কৃষকের কোনও উন্নয়নের ছবি আছে ? যদি আমাদের যাবতীয় কৃষি পরিকল্পনায় সলিড কিছু থাকতো তবে করোনার দুর্যোগেই তা ফুটো করে বন্যার পানি ঘরে এসে ঢুকতোনা।

মজার বিষয় হলো, কনফারেন্সে অংশ পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সদস্য ড. এম এ সাত্তার মন্ডল বলেন, এই সঙ্কট সামাল দিতে আড়তদার, পাইকার, ফড়িয়া এদেরকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সবাইকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা, বাজারে এদের বিরাট ভূমিকা থাকে।
কি অদ্ভুত কথা! এই সব মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা যে পণ্যের মূল্যে টনকে টন বাড়তি ট্যাগ লাগিয়ে দেয় তা কি উনি জানেন না ? নাকি তিনিও আমার মতো মহাবেকুব ?
এর সাথে এসিআই এগ্রিবিজনেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এফ এইচ আনসারীর কথাও বলি। তিনি সুপারিশ করেছেন, কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতি ঘটাতে সরকারের ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।
এখানেও সেই মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের ভুত যে তার ঘাড়েও সওয়ার হয়েছে তা পরিষ্কার। সরকারের কাধে এই ভুত সওয়ার হওয়ার তেমন শংকার কথা প্রকারন্তরে এই মহাবেকুবও বলেছেন তার লেখাতে।

এরকমের শত শত খবর আপনি পাবেন একটু ঘাটাঘাটি করলেই। যা কৃষি ও কৃষকের ছন্নছাড়া চেহারাখানিই দেখাবে।

যাই হোক - এই যে, ডিলারদের সঙ্গে যোগাযোগের উন্নতি ঘটাতে সরকারের ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন বলে ড. এফ এইচ আনসারী বলেছেন; সেই টাকা দিয়েই তো বেশ কয়েকটি উপজেলায় ফল-সব্জীর মতো পচনশীল কৃষি পণ্যের হিমায়িত সংরক্ষনাগার গড়ে তোলা যায়। যেমনটা আপনিও শুনতে চেয়েছেন - “দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে প্রতিটি উপজেলায় পঁচনশীল কৃষি পণ্যের জন্য আধুনিক কোল্ড ষ্টোরেজ স্থাপন করা হয়েছে।” ডিলারদের দেয়ার দরকার কি ?

মন্তব্যে খাদ্য মজুদের আশার কথা শুনিয়েছেন।
মজুদ কতো আছে তাতে আমাদের, যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাঠে ফসল ফলাই নে, তাদের হয়তো স্বস্তি লাগবে যে না খেয়ে দুর্ভিক্ষে মরতে হবেনা । কিন্তু এই মজুদ যদি কৃষকের জীবনটাকেই “মজুদ” করতে না পারে তবে কাজটি কি হবে এতো এতো মজুদ দিয়ে?

৬০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে যে সাইলো নির্মান প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে আপনি আমি জানি তার মেয়াদকাল ছিলো এই বছরের জুনের আগে। সে প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে আরো এক বছর। এতো পিছানোর শুরু! প্রকল্প খরচও নাকি দ্বিগুন হয়েছে!

সব মিলিয়ে কোনও আশার আলো দেখা যায়কি ? যে প্রদীপে অন্ধকার কাটেনা সে প্রদীপের দরকার কতোখানি আছে সেটা আমরা যতো তাড়াতাড়ি বুঝবো ততোই মঙ্গল।

আবারও বলি- ভালো থাকুন। হর্ষ চিত্তে থাকুন , থাকুন সতর্ক।
আপনার সকল মঙ্গল কামনায় .......................



২৩| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৮:০৩

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:


মন্তব্যটি লেখার পরে সাবমিট বাটনে চাপ দিয়ে দেখা যায় অনেক জায়গায় লাইন ভেঙ্গে গেছে ।
একটু কষ্ট করে পাঠ করে নেয়ার জন্য অনুরোধ থাকল ।

২৪| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ৯:৫৬

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: উৎপাদন ব্যবস্থায় শ্রমিকরা মিলিত ভাবে উৎপাদন করে,তাই তারা সংগঠিত,তাদের সংগঠন আছে।কিন্ত কৃষক উৎপাদ করে বিচ্ছিন্ন ভাবে, তাই তারা অসংগঠিত।যারা কৃষকদের সার্থের কথা চিন্তা করে তাদেরকেই কৃষকদের সংগঠিত করতে হবে।নেতৃত্ব আসতে হবে কৃষকদের মধ্য থেকেই তানাহলে তারা প্রতারিত হবে।

২৫| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সকাল ১০:১৭

রানা আমান বলেছেন: একটানে পুরো লেখাটা পড়লাম । অসাধারন লেখা । আরো আগেই এ লেখা চোখে পড়ার দরকার ছিল । আমি নিজে অনিয়মিত হওয়ায় অনেক ভালো ভালো লেখা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে ।

২৬| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫৬

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: কৃষিপ্রধান দেশে কৃষি নিয়ে ভাবনাটাই মনে হয় সবচাইতে কম। অথচ এটা নিয়ে আগালে কত সম্ভাবনার দ্বার খুলে যেত।

২৭| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:০৫

শামছুল ইসলাম বলেছেন: আহমেদ জী এস ভাই, কৃষি নিয়ে আপনার বিস্তারিত পোস্ট পড়ে অনেক কিছু জানলাম।
আপনার প্রস্তাবনা নিয়ে মত প্রকাশ করার মত জ্ঞান আমার নেই।

আপনি যথার্থ ব্যক্তিকে পোস্টটা উৎসর্গ করেছেন।

ঠাকুর মাহমুদ ভাইয়ের চমৎকার বিশ্লেষণে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়েছে।

একটা বিষয় পরিষ্কার, আমাদের সততা ও দেশপ্রেম না থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

২৮| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:০৬

মৃন্ময়ী শবনম বলেছেন:




ব্লগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লেখা আসে যা দেশের মঙ্গলের জন্য লেখা হয়েছে। ব্লগার সোহানাজোহা আপাকে অনুরোধ করবো জনাব আহমেদ জী এস স্যারের লেখাটি সর্বাধিক বিবেচনা করে যদি সম্ভব হয় তাহলে যেনো অবস্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সবাইকে ধন্যবাদ।


২৯| ০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১০:৪৩

সোহানাজোহা বলেছেন:




প্রিয় আহমেদ জী এস স্যার,
আপনার উক্ত লেখা পোস্ট সহ সকল মন্তব্য পিডিএফ ভার্সন আকারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করতে চাচ্ছি যথাক্রমে

বরাবরঃ
কৃষি মন্ত্রনালয়
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রেরণ মাধ্যম: ইলেকট্রনিক মেইল

তাতে করে যদি উক্ত পোস্ট লেখার শ্রম সামান্যতমও কাজে আসে আমি মনে করবো আমরা সার্থক। আপনার অনুমতি আশা করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ লেখাটি পৌছানো খুবই জরুরী মনে করছি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে - এ বিষয়ে দক্ষ সকল শিক্ষক মন্ডলী আছেন এবং ছাত্র ছাত্রীরা আছেন। যারা এই লেখার মূল্যায়ন করবেন বলে আশা করছি।

ধন্যবাদ,


সৈয়দা সোহানা জোহান
সিঙ্গাপুর

ধন্যবাদ: ব্লগার মৃন্ময়ী শবনম


০৮ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানাজোহা ,




এই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রথমেই সকাল পাঠক ব্লগারদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি কারন , প্রতিমন্তব্যগুলো ক্রমিক অনুসারেই হওয়া শোভনীয় এবং তা পাওয়া মন্তব্যকারীদের একটি অলিখিত অধিকারও বটে! সেই ক্রমিক ভেঙে এই মন্তব্যটির জবাব দিচ্ছি এ কারনে যে, এই মন্তব্যটি আগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্যতা রাখে।

সোহানাজোহা, আপনার এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় সবিশেষ কৃতজ্ঞ।
দিতে পারেন তবে কৃষি সংক্রান্ত মন্ত্রনালয় সহ সব দপ্তর, অধিদপ্তরের কাজের যে কড়া সমালোচনা এই লেখাতে করা হয়েছে সেটাও মাথায় রাখুন।
আমার মনে হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহকে এটা পাঠানোই ভালো হবে। তাদের প্রচুর গবেষনা থাকার কথা এ সব বিষয়ে । তারা আসলেই দক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী সহ সকলেই। তারা যদি ভালো মনে করেন তবে সুষ্ঠ বাজার ব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে সরকারী মালিকানায় কোল্ডস্টোরেজ এবং “শীতল চেইন পরিবহনের সুবিধা” সহ সামগ্রিক একটি “সাপ্লাই চেইন” সৃষ্টির প্রয়োজনীয় কাঠামো (সম্ভাবনা- জনবল-অর্থ- সরকারী কর্মসংস্থানের সুযোগ - এন্ডরেজাল্ট সহ) সুপারিশ করে করে সরকারের কৃষি পরিকল্পনাবিদদের পাঠাতে পারেন।

আপনাকে আর ব্লগার মৃন্ময়ী শবনমকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এমন একটি প্রস্তাবনার কথা তুলে ধরেছেন বলে।
ভালো থাকুন।

[ অঃটঃ- "স্যার" বলাটাতে অস্বস্তি বোধ করি। আমি আপনাদেরই একজন, কোনও মতেই স্যার নই।]

৩০| ০৯ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:০০

সোহানাজোহা বলেছেন:




আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, এবং সকল ব্লগারদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করি আমি সকল ব্লগারদের কাছে কৃতজ্ঞতা পোষন করছি। আমি লেখাটি এবং লেখার লিংক সহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেরণের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং একই সাথে আমি একটি কপি সামহোয়্যারইন ব্লগ এডমিনের কাছেও পাঠাবো।

আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকুন - নিরাপদ থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.