নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ট্রুথ নেভার ডাই্‌জ

নিজের সম্পর্কে লেখার কিছু নেই । সাদামাটা ।

আহমেদ জী এস

পুরোপুরি একজন অতি সাধারন মানুষ । আমি যা আমি তাই ই । শয়তানও নই কিম্বা ফেরেশতা । একজন মানুষ আপনারই মতো দু'টো হাত, চোখ আর নিটোল একটা হৃদয় নিয়ে আপনারই মতো একজন মানুষ । প্রচন্ড রকমের রোমান্টিক আবার একই সাথে জঘন্য রকমের বাস্তববাদী...

আহমেদ জী এস › বিস্তারিত পোস্টঃ

মহাবেকুব জাতক কথন - চার । ব্লগার চাঁদগাজীর পোষ্টের কাটাচেরা ।

১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫০



সম্প্রতি সহ ব্লগার “চাদগাজী” - “দেশে দরকারী পরিমাণ শিল্প কারখানা কেন গড়ে উঠছে না, চাকুরী কেন হচ্ছে না?” শিরোনামে একটি লেখা দিয়েছেন। মহাবেকুব জাতকের গোবরশূন্য মাথায় পাল্টা প্রশ্ন খেলে গেল -“কেন হবে?”
সেই পোস্টে ব্লগার “এমেরিকা” তো সাবেক এক অর্থমন্ত্রীর উদ্বৃতি দিয়ে তার মন্তব্যে বলেই দিয়েছেন কেন হবেনা - “এই দেশে ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে ট্রেডিং ব্যবসা লাভজনক, ট্রেডিংয়ের চেয়ে দালালি লাভজনক, আর দালালির চেয়ে চোরাচালান লাভজনক।“
এর সাথে সাথে ইয়াবা ব্যবসাকে যোগ করে বলতেই হয়, বাংলাদেশের জন্যে এর চেয়ে জ্বলন্ত সত্য আর নেই। এতো সহজে কোটি টাকা পকেটে এলে কোন বেকুব শিল্পে বিনিয়োগ করতে যাবেন , যেখান চাঁদাবাজী - লাল ফিতার দৌরাত্ম্য - সরকারী নীতির শত ফ্যাকড়া রয়েছে ?

চাঁদগাজী কয়েকটি প্রতিমন্তব্যে বলেছেন - বাংলাদেশে যত গাড়ী চলছে, যত যন্ত্রপাতি দেখছেন, সবই বিদেশী; এগুলো কিনার জন্য দাস বিক্রয়ের দরকার হচ্ছে; সব তেল আসছে ৫০ লাখ মেয়েকে দাসীর মতো ব্যবহার করাতে; এগুলোর জন্য সঠিক আয় করতে হলে, নিজের দরকারী টেকনোলোজী বানাতে হবে, নিজের দেশে।
বাংলাদেশে কত বিলিয়ন ডলারের প্রাইভেট গাড়ী, বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর আমদানী করে, কত বিলিয়ন ডলারের এনার্জি আমদানী করে কত টাকার খাদ্য বিক্রয় করতে পারবে? এখন তেল কিনছে গার্মেন্ট ও রেমিটেন্সের হার্ড কারেন্সী দিয়ে।

চাঁদগাজীর লেখা তাতে সকল মন্তব্য-প্রতিমন্তব্য পড়ে মহাবেকুবের ঘিলুতে একটা আইডিয়া এসেছে, হার্ড কারেন্সী কি করে যোগাড় করতে হবে তা নিয়ে ।
মহাবেকুবের মাথায় ঘুরতে থাকা “হার্ড কারেন্সী”……. “হার্ড কারেন্সী” র এই হার্ড কারেন্সী আসবে কোথা থেকে ?
কোত্থেকে আসবে সেই মহাবেকুবী আইডিয়া বলার আগে চাঁদগাজীর পোস্টে ব্লগার “ঠাকুরমাহমুদ” এর মন্তব্য ঘুরে আসা যাক -
“বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন করে কৃষিপণ্য বিক্রি করে রপ্তানি করে লোহা লক্কর আমাদনি করা ভালো নাকি নিজ দেশে লোহা লক্করের মিল কারখানা করা উচিত? বাংলাদেশের আবহাওয়া সম্পর্কে কি জানেন কেনো এই অবস্থা? - মিল কারখানা। বাংলাদেশে মিল কারখানা বেশী (সঠিক অঠিক বৈজ্ঞানিক অবৈজ্ঞানিক জরুরী না, অতিরিক্ত মিল কারখানা বাংলাদেশে)তৈল গ্যাস কয়লা বানানো যায় না। এটি খনিজ সম্পদ।“
এর সূত্র ধরে বলতে চাই - কলকারখানার জন্যে আবহাওয়া দূষন ? আবহাওয়া দূষনে কলকারখানার চেয়ে ইট ভাটার অবদানটাই মনে হয় বেশী, ৮০%। অথচ ইট একটি অনুৎপাদনশীল পণ্য বা বস্তু।
তৈল গ্যাস কয়লা হয়তো বানানো যায় না কিন্তু বাইরে থেকে কিনে আনা যায়।যা দিয়ে অর্থনীতির চাকা ঘোরে। আর অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হলে কৃষি শিল্পের পাশাপাশি হালকা-মাঝারী-ভারী শিল্পের ও প্রয়োজন আছে। আমরা এখনও একটি “আলপিন”ও বানাতে পারিনে। চায়না থেকে আনতে হয়। এমনি নিত্য প্রয়োজনীয় শিল্প সামগ্রীর ৯৫% ই আমাদের আমদানী করতে হয়। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশীয় নিজস্ব বাজারই কিন্তু ১৭/১৮ কোটি লোকের। এমন সব প্রয়োজনীয় পণ্য আমরা নিজেরা উৎপাদন করলে তা আমদানীর কারনে যেমন সরকারী রিজার্ভ ডলারে হাত দেবেনা তেমনি বহু মানুষের কর্ম সংস্থান তৈরী করবে। এসবের জন্যেই দরকার হার্ড কারেন্সীর।
এজন্যে চাই সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা- দুরদৃষ্টিতা আর প্রজ্ঞা।
চাঁদগাজী ঠিকই বলেছেন - “শিল্প-কারখানা করতে হলে, প্ল্যান থাকতে হয়, বাজার থাকতে হয়, ক্যাপিটেল থাকতে হয়, দক্ষ শ্রমিক ও ম্যানেজমেন্টের মানুষ থাকতে হয়, কাঁচামাল, জ্বালানী থাকতে হয়; এবং সবকিছুর আগে উদ্দেশ্য থাকতে হয়।“

তার মতো এই বেকুবেরও জানতে ইচ্ছে করে ,আসলেই সরকার জানে কি, কত টাকা দেশের ব্যাংকে থাকলে, দেশে কি পরিমাণ শিল্প গড়া সম্ভব ? শিল্পের ঋণ কারা নিচ্ছে, কতটুকু কাজে লাগাচ্ছে, বছরের শেষ কতজনের চাকুরী হচ্ছে, সেটা কি কেউ মিলিয়ে দেখছেন? ঋণের অনুপাতের সাথে চাকুরী সৃষ্টির ব্যাপারে কোন ধারণা কেউই কি রাখেন?

আবার চাঁদগাজীর বলা এ কথায় ও অত্যুক্তি নেই - “শেখ হাসিনাকে যে পন্ডিত হতে হবে, তা নয়; তবে, চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, জার্মানী কি কারণে ভালো করছে, এবং কি কারণে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইয়েমেন ভালো করছে না, সেটুকু বুঝার মতো মাথা থাকতে হবে; সেটুকু বুঝার জন্য তিনি একজন চীনা শিল্প পরিকল্পনাকারী, একজন জার্মান টেকনোলোজিষ্ট, একজন কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদ, একজন সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকারকে ২/১ মাসের জন্য কনসালটেন্ট হিসেবে আনতে পারেন; তারা উনাকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্হিতিটা বুঝিয়ে দিতে ও সম্ভাব্য ভবিষ্যত পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে ধারণা দিতে পারার কথা।“
এখন মহাবেকুব বেকুবের মতো করে ভাবতেই পারে- যদি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে, মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে চান তবে তাঁকে এসব ভাবতেই হবে। দেশকে আরো স্বনির্ভর করে গড়ে তুলতে হলে তাঁকে শুধু বলার লোক হলে চলবেনা, করে দেখানোর লোকও হতে হবে।

দেশের শিল্পায়ন ও বেকারত্ব ঘোচাতে চাই অর্থ। কোত্থেকে আসবে ?
ব্লগার রাজীব নুর বলেছেন -“শিল্প কারখানা দেওয়ার মতো দেশে বহুলোক আছে। তাদের টাকার অভাব নাই। যদিও কালো টাকা। কালো টাকা বলেই, তারা ভয়ে করল্কারখানা দিচ্ছে না। নামে বেনামে টাকা ব্যাংকে রেখে দিচ্ছে।“
চাঁগাজীর কথাটাই সত্য - দেশের মানুষ সরকারী দলের ভয়ে, পুলিশের ভয়ে, প্রশাসনের ভয়ে বিনিয়োগ করছে না।
কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদের বদলে দেশীয় এই মহাবেকুবও এমন সত্যটাই বলতে চায় - শত প্রনোদনা দিয়েও সরকার কি এই হাযার হাযার কোটি কালো টাকাকে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে আনতে পেরেছে ? পারেনি। কালো যতোটুকু সাদা হয়েছে এদেশে তা জমি ক্রয় ও প্রাসাদোতম সাদাবাড়ী নির্মানেই গেছে। ঋণ খেলাপীদের বাকী টাকা , ভূঁই ফোঁড় রাজনীতিক, অসাধু আমলাদের অবৈধ সব আয়ের টাকার সবই বেগম পাড়া, মালয়েশিয়া সহ অন্যান্য জায়গায় সেকেন্ড হোমের বিলাসবহুল বাড়ীতে ঢালা হয়েছে। এই অবৈধ হাযার হাযার কোটি টাকা কি দেশে বিনিয়োগ হয়েছে ? হয়নি। কেন ? ভয়ের কারনে।

ভয়গুলো কি ?
পদে পদে চাঁদাবাজী - লাল ফিতার দৌরাত্ম্য - সরকারী নীতির শত শত ফ্যাকড়া।
নীতি নির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু উদ্ভট সব পরিকল্পনা। শুল্ক-ভ্যাট ইত্যাদির পেষন। এইসব ভয়েই শিল্প কারখানা গড়তে সাহসী নয় কেউ। ফলে চাকুরীর বাজারও বিকশিত হওয়ার কোনও কারন নেই।

এবার মহাবেকুবীয় অর্থনৈতিক ভাবনা থেকে বলি - পুঁজি যোগাড়টা কালো-সাদা-লাল-নীল-সবুজ টাকাওয়ালাদের হাতেই ছেড়ে দেয়া হোক। টাকার উৎস সম্পর্কে তাদেরকে সরকার কোনও প্রশ্নই করবেন না। তাদের কালো-সাদা-লাল-নীল-সবুজ কোন টাকাতেই ট্যাক্স বসাবেন না। কালো টাকা সাদা করতে যে ট্যাক্স প্রনোদনার লেবেঞ্চুস টাকাওয়ালাদের হাতে এযাবৎ ধরিয়ে দেয়া হয়েছে তাতে ক’জন সেই লেবেঞ্চুস চুষে দেখেছেন ? ওভাবে যখন তেমন কোনও লাভই হয়নি দেশের টাকা দেশেই রাখার ব্যাপারে তবে তেমন প্যাকেজের যৌক্তিকতাটাই বা কি ? সরকার তো কতো কিছুতেই ছাড় দেয় , দেয় ভর্তুকি। তাহলে এখানেই দিক, যাতে সব টাকাওয়ালারা কোনও বাঁধার সামনে না পড়ে নিজেদের টাকা পাচার না করে দেশে রেখেই সম্পূর্ণ নিজ নিজ শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারেন।

কেউ কোনও শিল্প গড়ে ব্যবসা করতে চাইলে তিনি তার নিজ খরচেই জমি কেনা, রাস্তা-ঘাট নির্মান-জ্বালানীর জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র -বর্জ্য পরিশোধনাগার সহ “এ টু জেড” অবকাঠামো তৈরী করে নেবেন। এব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য দেবেন মাত্র। কেউ যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করে ব্যবসা করতে চাইলে তিনিই রাস্তা-ঘাট সহ সেতু নির্মান করবেন। সরকার জমি অধিগ্রহন সহ প্রয়োজনীয় সাহায্য করবেন শুধু। জনগণের গাঁটের অবস্থা বুঝে সেখানে বিনিয়োগকারীরা টোলও বসাতে পারবেন কারন তাকে তো কিছু মুনাফা দিতে হবে। তবে সরকারের নজরদারী রাখতে হবে সেখানে।

এমন সব প্রকল্পে সব টাকা যোগান দেবেন কালো টাকাওয়ালারা। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই তাদের টাকার উৎস জানতে চাইবেন না সরকার। তেমন দরকার পড়লে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মান শেষে উৎপাদনে গেলে পরে সরকার তার নিয়ন্ত্রন বোঝাতে ৪ বা ৫% ট্যাক্স বসাতে পারবেন পন্যের উপরে যাতে উভয়পক্ষেরই কিছুটা জবাবদিহিতা থাকে। সরকার এই নীতি আগামী চল্লিশ বছরেও কোনও অবস্থাতেই পরিবর্তন করবেন না তা নিশ্চিত করে শিল্পোদ্যোক্তাদের আস্থায় নিয়ে আসতে হবে। সাদা-কালো সব টাকাওয়ালাদেরই এই একটি জায়গাতেই ভয়, কখন সরকার কি করে বসে! সরকার আজ বলছেন এক আবার পরদিন বলছেন আরেক। আজ ছাড় দিচ্ছেন কাল গলা টিপে ধরবেন না এর গ্যারান্টি কি ? এটা যেন না হয় কিছুতেই। সরকার প্রধানকে এর গ্যারান্টর থাকতে হবে।
এখন কেউ কেউ আমাকে বলতেই পারেন, এমন বেকুব তো দেখি নাই আগে! এভাবে আসকারা দিলে সরকারের রাজস্ব আসবে কোত্থেকে ?
তাদেরকে বলি - ওভাবে আসকারা না দিয়েও সরকারের রাজস্ব বাড়ছে কি ? স্বাভাবিক পথে যে রাজস্ব আসছে এর বাইরে আর কিছু আসছে ? আর সরকার রাজস্ব দিয়ে করে কি ?
দেশের কাজেই তো লাগায়, উন্নয়ন করে সব সেক্টরেই। কিন্তু সব সেক্টরেই যদি ঐসব টাকাওয়ালাদের লাগিয়ে দেয়া যায় তবে সরকারের রাজস্ব আয়ের দরকারটা কি ? সরকারের তো সেখানে কোনও খরচের প্রশ্নই নেই। সেখান থেকে সব ছাড় দেয়ার পরে যা আসবে তাই-ই তো সরকারের নীট লাভ। রাজস্ব ভাঙিয়ে সরকারের বিনিয়োগ ছাড়াই দেশের উন্নয়ন হবে, সবচেয়ে বড় কথা কর্মসংস্থান হবে হাযার হাযার আর কিছু রাজস্বও আসবে সাথে বাড়তি। রথ দেখা কলা বেঁচা একসাথেই সারতে পারবে সরকার।

শিল্পায়ন আর কর্মসংস্থানের আরেকটি স্বাভাবিক পথ আছে -
“মেড ইন জিঞ্জিরা” কে “ আক্ষরিক অর্থেই “ মেড ইন বাংলাদেশ” করে তোলা।
ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্পে ব্যতিক্রমী সাফল্যের মাধ্যমে কয়েক যুগ ধরেই দৃষ্টান্ত হয়ে আছে জিঞ্জিরা। এখানকার ঝুপড়ি বস্তির অজস্র ছোট ছোট কারখানায় খুদে ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি করা হাজারো পণ্যের পাশাপাশি ইঞ্জিন-যন্ত্রাংশ, গাড়ির ক্ষুদ্র পার্টসসহ প্রায় ২০০ ধরনের মেশিনারিজ উৎপাদন করা হচ্ছে সফলতার সাথে অথচ এদের পুঁজি নেই, সরকারী পৃষ্টপোষকতা নেই, বিদ্যুৎ-গ্যাসের লাইন নিতে হয় বৈধ অবৈধ সকল পথেই। পুলিশের দাবড়ানি খেতে হয় অবৈধ বলে।
এখানকার কারিগররা এতটাই দক্ষ যে, তারা কোনো যন্ত্রাংশের নমুনা দিলে হুবহু তা বানিয়ে দিতে পারেন। সেগুলো টেকসই ও মানসম্মত। আর এসব যন্ত্রপাতি তৈরিতে যেসব যন্ত্র বা মেশিন দরকার হয় তা নিজেরাই বানিয়ে নেন।

এটাকে নকল বলবেন আপনারা নাকি বলবেন অনুকরণ? চায়নার জিনিষকে যদি নকল না বলেন তবে আমাদের এই অসহায় -সুযোগসুবিধা বঞ্চিত- পুঁজিহীন ক্ষুদ্র শ্রমিকদের বানানো কিছুকেই আমরা নকল বলছি কোন যুক্তিতে ?

ওদিকে জিঞ্জিরার এপারে ধালাইখাল ব্র্যান্ডের কারিগররা বাইসাইকেল থেকে শুরু করে সব ধরনের গাড়ি, ট্রাক্টর, ক্রেন, রি-রোলিং মিল, এমনকি ট্রেনের বগিসহ যাবতীয় যন্ত্রাংশ অনায়াসে প্রস্তুত করছেন। এ ছাড়াও রাজধানীর মীরহাজিরবাগ, মাতুয়াইল, ডেমরা, চকবাজার, লালবাগ, ইসলামবাগ ও মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে জিঞ্জিরা শিল্পের আদলে অসংখ্য ক্ষুদ্র কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। শুধু ঢাকায় নয়, জিঞ্জিরা মডেল অনুসরণ করে নারায়ণগঞ্জ, বগুড়া, চট্টগ্রাম, যশোরের নওয়াপাড়া, টঙ্গী-গাজীপুর, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ইউনিট। শুধু চোখের দেখায় তৈরি করছেন চীনা-জাপানি মডেলের নানা ধরনের যন্ত্রাংশ।
দেশীয় প্রযুক্তির ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ উদ্ভাবন, উৎপাদন ও বাজারজাতে বদলে গেছে দৃশ্যপট। এই ক’দিন আগেও অতি প্রয়োজনীয় যেসব যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজ শতভাগ আমদানি নির্ভর ছিল, আজ দেশের চাহিদা মিটিয়ে সেগুলো রীতিমতো রফতানিও করা হচ্ছে।
অথচ এই শিল্পায়নের বিশাল সম্ভাবনাকে আমরা ফেলে রেখেছি অবহেলায়। নকল বলে গালাগাল দিচ্ছি। আপনাদের কথায় এসব দুনম্বরী শিল্পকে কতোখানি আর্থিক সহায়তা সহ শিল্প বিকাশের সকল অবকাঠামো করে দেয়া হয়েছে যাতে করে তারা নিজস্ব উদ্ভাবনা নিয়ে “নকল” অপবাদটি মুছে ফেলতে পারেন? ঋণখেলাপ করা হবে জেনেও মহারথীদের বেলায় ব্যাংকগুলো শত শত কোটি টাকা ঋণ দিতে মোটেও কার্পন্য করেনা কিন্তু এসব ক্ষুদ্র শিল্পদ্যোক্তাদের লাখ খানেক টাকা ঋণ দিতেও তাদের অনাগ্রহ।

কেন ?

“কেন”র তো অনেক কারনই আছে কিন্তু যা নেই তা হলো এই “কেন” শব্দটি যাতে কোথাও উচ্চারিত না হয় তার প্রতি দৃষ্টি।
উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবদানের তুলনায় ধোলাইখাল ও কেরানীগঞ্জের উদ্যোক্তাদের কতোটুকু সরকারি সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছি আমরা ?
কেবলমাত্র ১৯৮০’এর দশকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে পাঁচ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। ঐ পর্যন্তই। তারপরে কোনও সরকারই আর এদিকে নজর দেন নি।
মহাবেকুবের প্রশ্ন - সরকার এসব ক্ষুদ্র শিল্পকে এতিম করে রেখে ঋণ নিয়ে হওয়া বৃহৎ শিল্পের কারবারীদের আলোবাতাস খাওয়াচ্ছেন কোন স্বার্থে যারা ঋণ খেলাপি হবেন দু’দিন পরেই ? অথচ সকল ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ পরিশোধের হার একশত ভাগের কাছাকাছি। ব্যাংকিং সেক্টর আর অর্থনীতিবিদরা এ সম্পর্কে ভালোই জানেন। তবুও এসব ব্যাংকিং সেক্টর কখনই যেমন এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেননা তেমনি অর্থনীতিবিদরা কোন দিকনির্দেশনাও দেন না।
ধোলাইখাল ও কেরানীগঞ্জের উদ্যোক্তাদের প্রতি তাদের এই বিমাতাসুলভ আচরণকে হটিয়ে দিয়ে সরকার যদি উদ্যোক্তাদের প্রতি আন্তরিক ভাবেই আন্তরিক হয়ে শিল্পের সকল অবকাঠামো নির্মান সহ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তবে “মেড ইন জিঞ্জিরা” কে সত্যিকার ভাবেই “ মেড ইন বাংলাদেশ” করে তোলা সম্ভব। এতে শিল্পোন্নয়ন আর হাযার হাযার বেকারের কর্মসংস্থানের রাস্তাটি প্রশস্ত হয়।

যদিও ২০১৬ সালে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে টুল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ইনস্টিটিউটে গবেষণা, উদ্ভাবন, নকশা তৈরির পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হবে। আর ইনস্টিটিউটটি পুরোদমে কাজ শুরু করলে নাকি “মেইড ইন জিঞ্জিরা” পণ্যের মান নিয়ে যেসব অপবাদ আছে, তা দূর করা সম্ভব হবে।
বিটাক এর চেষ্টায় না হয় মান বাড়ানো গেলো কিন্তু উৎপাদনের কি হবে ?
তাই শুধু প্রশিক্ষন হলেই চলবেনা, এসব কারখানা চালানোর চলতি মূলধনও তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। নইলে শুধু প্রশিক্ষন নিয়ে গাছ লাগালে লাভ কি যদি গাছে ফলই না ধরে ?
লেখার শুরুতে হার্ড কারেন্সী যোগাড়ের কথা বলা হয়েছিলো। উপরের বেকুবী বুদ্ধিতে কাজ না হলে একেবারে দেশীয় পদ্ধতিতে আর একটি বেকুবীয় কায়দায় হার্ড কারেন্সী যোগাড়ের কথা বলা যেতে পারে -
ঢাকা শহরে খানা-খন্দ, ইট-বালি-রড ইত্যাদি নির্মান সামগ্রী, রাস্তা খোঁড়াখুড়ি, সিটি কর্পোরেশানের ডাষ্টবীন না পেরিয়ে কেউ কি কখোনো ঘরের বাইরে যেতে বা ঘরে ফিরতে পেরেছেন ? কেউ কি আছেন তেলের মতো সুড়ুৎ করে নির্ভেজাল রাস্তায় শিষ দিতে দিতে একচক্কর মারতে পেরেছেন ? যদি থাকেন আওয়াজ দিতে পারেন , মাদাম তুসো’তে একটা মোমের মুর্ত্তি বানিয়ে দেবো ।
এইসব ঝামেলার মধ্যে সব চেয়ে বেশী আর দীর্ঘস্থায়ী ঝামেলা কোনটি ? একবাক্যে সবাই হয়তো রাস্তার প্রতি চল্লিশ গজ অন্তর ঢাই করে রাখা নির্মান সামগ্রীর কথাই বলবেন ।সাথে আছে রাস্তা জুড়ে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে লোহার রড সোজা করার নামে পাকা রাস্তা চৌচির করার কসরত । রাস্তার অর্ধেক বা তার ও বেশী জুড়ে পাথরকুঁচি, ইটের স্তুপ আর বালি ফেলে যানবাহন থেকে শুরু করে মানুষ চলাচলে বাধা দেয়ার স্বতঃস্ফুর্ত্ত ব্যক্তি অধিকারের দোদন্ড-প্রতাপ দেখানো । নাকমুখে বালি আর ইট ভাঙ্গা ধুলো টেনে নিয়ে ফুসফুসের বারোটা বাজানোর কথা না হয় ছেড়েই দিলাম । ওনারাও তো জনগণ । দেশটা তো ওনাদের ও, তাইনা ?
পত্র-পত্রিকায় হাযার লেখালিখি, পরিবেশবিদদের চিল্লাচিল্লির পরেও নির্মানকারী কারো কোনও চেতনাবোধের জন্ম হয়েছে কিনা বলতে পারলে হাত তুলুন ।
এই জাতীয় ভোগান্তি থেকে সরকার হয়তো জনগণকে বাঁচাতে পারবেন না । কিন্তু একটা জব্বর আয়ের পথ করে নিতে পারেন । সরকারী কোষাগারে জমা পরতে পারে মাল্টি মিলিয়ন টাকা প্রতি মাসেই ।
কিভাবে ?
নির্মাণ কাজের জন্যে জনগনের ঝামেলা পোহানোর পাশাপাশি সরকারী রাস্তাঘাটের যে চৌদ্দটা বেজে থাকে তার যৎকিঞ্চিত ক্ষতিপুরন আদায় করা । জায়গা দখল করে নির্মাণ কাজ করার জন্যে ব্যবহৃত প্রতি বর্গফুট সরকারী জমির (যার মালিক জনগন, এর মধ্যে আপনিও আছেন ) জন্যে বাংলাদেশী মাত্র ৫০০/৳ দৈনিক ট্যাক্স আদায় করা । কেবল মাত্র ব্যবসার নিমিত্তে নির্মানকারী যেমন ইমারতের প্রতি বর্গফুট এর জন্যে এর চেয়েও অনেক বেশী গুন ধার্য করে বিক্রি করে থাকেন , তাও আবার এ্যাডভান্স চাই, সেখানে জনগনের সরকার এই সামান্য কটা টাকা ট্যাক্স আদায় করলে দোষনীয় হওয়ার কথা নয় । সরকার তো ব্যবসা করবেন না, কেবল সরকারী জায়গার অননুমোদিত ব্যবহার, জনস্বাস্থ্যের প্রতি মারাত্মক হুমকি, জনগণের দূর্ভোগ ইত্যাদির কথা বিবেচনা করে এই “ক্ষতিপুরন ট্যাক্স” প্রথাটি চালু করলে নিশ্চয়ই কোনও জনগণ নিষেধ করবেন না । বরং জনগনের অকুন্ঠ করতালির মধ্যে দিয়ে সরকারের সাফল্যের মুকুটে আরো একটি পালক যোগ হবার সুযোগ তৈরী হবে । কতো ধরনের ভ্যাট, ট্যাক্সের বোঝায় প্রলেতারিয়েৎ জনগনের পিঠ তো বাঁকা হয়েই আছে । তাই কোনও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ই এযাবৎ ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর কোন সুযোগ পাচ্ছিলেন না । এটা তাঁদের জন্যে ট্যাক্সের আওতা বাড়ানোর লোভনীয় একটা প্রস্তাব হতে পারে ।
এরজন্যে একটা নীতিমালা প্রয়োজন হবে । নীতিমালার একটা খসড়া দেয়া গেল ।
১) প্রতিটি নির্মানকারী তার নিজ দায়িত্বে, নিজের সম্পদ ব্যবহার করেই কেবল নির্মানকাজ চালাতে পারবেন । কোনও অবস্থাতেই সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ব্যবহার করা যাবেনা ।
২) নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদান বলতে একটা কথা আছে । উন্নয়ন সহযোগীদের (কারন এরা সবাই উন্নয়ন করছেন )এটা মৌলিক অধিকার । সেই সুবাদে একজন নির্মানকারীও নিম্নলিখিত ভাবে এই সুবিধার আওতায় আসবেন –
ক) প্রতি বর্গফুট ব্যবহৃত সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি (বিশেষ করে রাস্তাঘাট, পাশের খোলা মাঠ)ব্যবহারের জন্যে নুন্যতম বাংলাদেশী মাত্র ১০০০/৳ হারে ট্যাক্স প্রদান করলে নির্মান কাজ শেষ হওয়া অবধি ব্যবহারের মৌরসী-পাট্টা পাবেন । যা হাতের ময়লা ।
খ) যে সকল ইমারত বা অন্য কোনও স্থাপনা ইতিমধ্যে সম্পূর্ন হয়েছে বা আধা সম্পূর্ন অবস্থায় আছে তার নির্মানকালের শুরুর দিন থেকে এই হার প্রযোজ্য হলেও একত্রে বকেয়া পরিশোধে ১০% রেয়াৎ দেয়া হবে ।

[বোঝার সুবিধার্থে উদাহরন দেয়া গেল – একজন নির্মানকারী যদি সরকারী, আধা-সরকারী, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানের ১০০ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করেন তবে দৈনিক তিনি ১০০বঃফুঃ X ৫০০ = ৫০,০০০৳ (পঞ্চাশ হাযার টাকা)ট্যাক্স প্রদান করবেন । যদি নির্মানের শুরুটি হয় ছয় মাস আগে তবে তিনি ৬ X ৩০ = ১৮০ দিন X ৫০,০০০৳ = ৯০,০০,০০০ ৳ (নব্বই লক্ষ টাকা) পরিশোধ করতে বাধ্য থাকবেন । এককালীল পরিশোধে ১০% ছাড় পাওয়া যাবে ।
এই ছয়মাসে রাস্তাঘাট, আশেপাশের ঘরবাড়ী, ওই পথে চলাচলকারী জনগনের ক্ষতির তুলনায় এই ট্যাক্স অতি নগন্য । হিসাব ঠিক না হলে অর্থাৎ নেট বা গ্রস এর হিসাব গরমিল হলে বুয়েট এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের তলব করা যেতে পারে ।]
৩ ) (এই অংশটুকু আপনাদের জন্যে রাখা হলো । আপনার সাজেশান এখানে দিতে পারেন )
৪ ) (এই অংশটুকু আপনাদের জন্যে রাখা হলো । আপনার সাজেশান এখানে দিতে পারেন )

ভাবুন তো একবার, প্রতি বিল্ডিং থেকে যদি গড়ে ঐ পরিমান আদায় করা যায় তবে কেবল মাত্র ঢাকা শহর থেকেই বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা সরকারী কোষাগারে উপচে পরতে পারে । হার্ড কারেন্সী প্রবলেম সলভড।
আরো সুবিধা হবে এই যে - অনেক নির্মানকারীই এতে ভয় পেয়ে বিকল্প রাস্তা খুঁজে নেবেন এবং আমরা একটুসখানি হাপ ছেড়ে বাঁচবো । শ্বাসকষ্ট নিয়ে শিশুদের পেডিয়াট্রিকস্দের চেম্বারে ভিড় বাড়ানো কমবে । ভেঙ্গে ভর্তা ভর্তা হয়ে যাওয়া রাস্তা পূনঃ মেরামতের নামে কারো কারো পকেট ভারী হতে উঠতে সুযোগ পাবে । মাথাপিছু আয় বেড়ে যাবে । আর জনগনের রুজি-রোজগারের আওতা বাড়ানো যে কোনও কল্যানমুখী সরকারের কর্তব্যও বটে ।
এত্তোগুলো সুযোগ ছাড়া উচিৎ হবে কি সরকারের ?

মহাবেকুব অবশ্য মাঝেমাঝেই বেকুবের মতো ভাবে , এইসব বেকুবী কথা লিখে আসলেই লাভ কি ? কেইবা এসব কথা শোনে ? তবুও লিখে যাই, একটা কিছু করছি এমন বেকুবীয় আনন্দে!

মন্তব্য ৯১ টি রেটিং +২১/-০

মন্তব্য (৯১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আমার সোনার বাংলাদেশ। এখানে মাদক বিক্রি করতে করতে নাম পাল্টে যায় হয়ে ইয়াবা যদু মধু। সে মাদকের টাকায় প্রাসাদ বানায় কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে জন প্রতিনিধি হওয়ার জন্য ভোট চায় আর কারবারী হিসাবে ধরা পড়ে মরে যায় রাম রহিম।

১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:২৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: নেওয়াজ আলি,




প্রথম মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
যদিও মন্তব্যের প্রসঙ্গ এ লেখায় নেই। আছে এসব আঙুল ফুলে কলাগাছদের কালো টাকাকে হালাল পথে দেশের কাজে লাগানোর কথা।

২| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:১১

শাহ আজিজ বলেছেন:

উত্তম প্রস্তাব । ১০ বছর কোন কর বসানো হবে না । কিন্তু শুরু থেকেই ৩% থেকে ১০% ক্রম লভ্যাংশ সরকার কেটে নেবে । টার্গেট উৎপাদন অতিক্রম করলেও সরকারকে বাড়তি কিছু দিতে হবেনা । ১০ বছর পর যদি দেখা যায় এটি কর ছাড়াই একটি উত্তম পন্থা তাহলে আবারো কর বন্ধ । আমি পুরোটা পড়ে আবারো মন্তব্য করব । কে কোথা থেকে টাকা আনছে জিজ্ঞাসা করা যাবে না তবে ঋণ খেলাপিরা এই প্রকল্পে কোন ভাবেই অংশগ্রহন করতে পারবেন না । এই ধরনের প্রকল্পে কোন ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়া যাবেনা । প্রকল্প দাড়িয়ে গেলে উৎপাদন বাড়াতে ঋণ পাওয়া যাবে ।

১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহ আজিজ,





আপনার এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে আরও কার্যকরী।
এই ধরনের প্রকল্পে আগে বা পরে কোন ব্যাঙ্ক ঋণ নেওয়ার বা দেওয়ার প্রশ্নই আসার কথা নয় । সব কর্মকান্ডই, যার যার তার তার। সেকথাই বলা আছে লেখার বক্তব্যে। কারন যে পরিমান কালো টাকা আছে এক একজনের কাছে তাতে তারা এক একজনেই একটা করে পদ্মা সেতু বানাতে পারেন বলে এই মহাবেকুবের ধারনা।

এখানে শিল্পায়নের জন্যে হার্ড কারেন্সী যোগাড়ের তিনটি উপায় বাৎলে দেয়া আছে। পুরোটা পড়ে সে সম্পর্কেও আপনার এমন গঠনমূলক ও মূল্যবান মন্তব্য আশা করছি সঠিক আলোচনার খাতিরেই।

মন্তব্য লাইকড।

৩| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১০:৩১

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: Great job

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৮:৫০

আহমেদ জী এস বলেছেন: মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন ,




থ্যাংকিউ.....................

৪| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: এসব বিষয় আমি কম বুঝি।
তাই মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকলাম।
জোর করে মন্তব্য করতে গেলে সেটা বেকুবি হয়ে যেতে পারে।

তবে আপনার পোষ্ট পুরোটাই পড়েছি। পোষ্টে আমিও আছি কয়েক লাইন। ভালো থাকুন।

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:২৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাজীব নুর,




আপনি কম বোঝেন, এটা কি বিশ্বাস করতে বলেন ? :((
আপনার চা'য়ের টংগুলোর মানুষদের এসব নিয়ে ভাবনার কথাও তো লিখতে পারেন!

৫| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:১১

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনার পরামর্শগুলি ভালো লেগেছে। বিশেষ করে জিঞ্জিরার সরকারী স্বীকৃতি আর কালো টাকাকে শিল্পায়নে ব্যবহার করার প্রস্তাব। আসলে এই দেশে বিনিয়োগের জন্য টাকার অভাব নাই। সমস্যা হোল ব্যবসায়ীদের নতুন আইডিয়ার অভাব আর সহজে টাকা কামানোর ধান্ধা। এই দেশের অনেক বড় শিল্পগ্রুপ এখন মূল ব্যবসার চেয়ে জমির ব্যবসা করে বেশী লাভ করছে। ব্যবসার কষ্ট আর ঝুঁকি নেয়ার পর যা লাভ থাকে তার চেয়ে অনেক লাভ বেশী হয় জমির ব্যবসায়।

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:০৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: সাড়ে চুয়াত্তর,




মন্তব্যে আগেই প্লাস দিয়ে রেখেছি দেখা মাত্রই।
কালো টাকাকে শিল্পায়নে ব্যবহার করার প্রস্তাব আসলে একটা মহাবেকুবী ভাবনা। তবে জিঞ্জিরাকে দ্বিতীয় চায়না বানানোর প্রস্তাবটি কিন্তু কোনও বেকুবী নয়। এটা সম্ভব। কেবল মাত্র সরকারী পৃষ্টপোষকতা আর রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে তবেই।

৬| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৪৪

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:
কম্পিউটারেবিশেষকরেস্পেসবারেসমস্যাদেখাদেয়ায়মন্তব্যলিখতেপারছিনা।
আপাততপ্রিয়তেনিয়েরাখলাম ।
শুভেচ্ছারইল

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৩০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,





অক্ষরগুলোতে সুপার গ্লু লেগেছে বোঝাই যায়। তবে থিনার দিয়ে পড়া গেছে সবটাই। অবশ্য পরবর্তিতে আপনি মন্তব্য করেছেন চা"য়ের স্টিকি ভাবটা ছাড়িয়ে।
প্রিয়তে নেয়ার জন্যে ধন্যবাদ।

৭| ১৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৫৪

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:



প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই,
দেশের ভালো চাইলে দেশের জন্য কাজ করতে হয়, দেশের জন্য শ্রম দিতে হয়। রাজনীতি হচ্ছে ইংরেজের মতো - শাসন করবে শোসন করবে। ব্লগে কেউ যদি রাজনীতির কোনো মহান দিক বলেন - তাকে বলবেন ব্লগে ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন “রাজনীতি হচ্ছে ইংরেজ ক্লস, শাসন করবে শোষণ করবে” - এছাড়া আর কিছুই না। এই কথার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার।

যারা বাংলাদেশে কলকারখানা করতে বলছেন তারা বাংলাদেশের আয়তন জানেন না, তারা বাংলাদেশে কি পরিমাণ ব্রিক ফিল্ড আছে জানেন না, বাংলাদেশে কি পরিমাণ ঔষধ প্রতিষ্ঠান আছে জানেন না। তারা ব্লগে লিখতে জানেন, তাদের বলবেন লিখতে জানেন একজন দেয়াল লেখকও (চিকা মারা) এর অর্থ এই নয় তিনি সাহিত্যক, কথা সাহিত্যাক, লেখক, গবেষক। এগুলো হতে হলে একটি ইনস্টিটিউট থেকে স্বীকৃতি পেতে হয়। আমি লেখক গবেষক নই আমি আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী মাত্র।

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যা মিল কারখানা হয়েছে তাই অভিশাপে রূপান্তর হয়েছে। হাজারীবাগ ট্যানারি শিল্প ১,২০,০০০ টাকার গরুর চামড়ার দাম করেছে ৩০০ টাকা! এছাড়া দেশকে তারা আর কি দিয়েছে? বুড়িগঙ্গার পানি চিরোদিনের জন্য দূষিত করে দিয়েছে হারামজাদার দল। সমগ্র ঢাকাবাসী এই দূষিত পানির অনাদায়ী জের টানছেন।

যারা মিল কারখানা চাচ্ছেন তাদের বলেন মিল কারখানা সম্পর্কে কতোটুকু জ্ঞান রাখেন? বাংলাদেশে কয়টা মিলের ইটিপি প্লান্ট আছে? ইন্টারনেট পড়ে নয় - ইটিপি সম্পর্কে জানেন কয়জন?

আস্ত দেশটিকে ডাম্পিং জোন, গ্যারেজ, জিঞ্জিরা বানিয়ে দিয়েছে সবাই মিলে তারপরও মিল কারখানা চাই?

দুঃখিত রাগ করেছি। আমার মনে হয় রাগ করা জায়েজ আছে। তারপরও কারো যদি মনে হয় আমার রাগ জায়েজ না তাহলে বলবো দেশকে নিজের ঘর ভেবে দেখুন তাহলে বুঝতে পারবেন দেশের অবস্থা কি হয়েছে?


২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




শিল্পায়নের কথা বলাতে আপনার রাগ হয়েছে, এটা খুবই স্বাভাবিক আপনার জন্যে কারন আপনি সব সমসময় কৃষির উপর জোর দেয়ার কথা বলে এসেছেন ব্লগের পোস্টে, বিভিন্ন পোস্টের মন্তব্যেও। আমি দুঃখিত “শিল্পায়ন” এর কথা বলে আপনাকে রাগিয়ে দেয়ার জন্যে। কিন্তু শিল্পায়ন তো কৃষি খাতেও হতে পারে তাইনা ?
মহাবেকুব হিসেবে আমার প্রথম পোস্ট মহাবেকুব জাতক কথন - একয়ে কৃষির দুরবস্থা সহ উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সুগতি করতে বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা বলেছি। বলেছি প্রতি উপজেলায় খাদ্য-সাইলো নির্মানের কথা। বলেছি সমন্বিত খাদ্য সংরক্ষন ও পরিবহনের কথা। এইসব বাস্তব করতে হলে সাইলো নির্মান শিল্প গড়ে উঠতে পারে, তা করতে যা যা লাগে তারও তো শিল্প গড়ে উঠতে পারে যেমন- ফ্রিজিং ইকুইপমেন্টস নির্মান। পরিবহন সংক্রান্ত শিল্পও গড়ে উঠতে পারে। কৃষকের কাছে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম যেমন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ক্রপ মোয়ার, হারভেষ্টর ইত্যাদি ইত্যাদি স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য করতে সেসবের নির্মান শিল্প গড়ে তোলা যায় যা সময়েরও দাবী। সার তৈরী শিল্পকেও কেন বাদ দিচ্ছি ? এটাও হতে পারে। এগুলোর চাহিদা তো প্রতি কৃষক পরিবারেই আছে তাইনা ? গড়ে উঠতে পারে ফুড প্রসেসিং শিল্প যার কথা আপনি অবশ্যই অস্বীকার করতে পারবেন না। কৃষিখাতের জন্যে আরো কতো ধরনের যে শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে তা আমার চেয়ে আপনিই ভালো জানেন।
শিল্পায়ন বলতে আমি সকল ধরনের শিল্পের কথাই বলেছি তাতে কিন্তু কৃষি সংক্রান্ত শিল্পকে আলাদা করা হয়নি। আর ট্যানারীর সহ অন্যান্য শিল্পে যে বর্জ্যের কথা বললেন , সে সব কি কোনও আধুনিক শিল্প ? ওগুলো তো শিল্পের নামে ফাজলামো। আর আমি তো এই পোস্টে পরিষ্কার করে লিখে দিয়েছি “বর্জ্য পরিশোধনাগার সহ এ টু জেড তৈরী করে নিবেন।”

আর জায়গার কথা যদি বলেন তবে জাপান, দক্ষিন কোরিয়ার দিকে চোখ ফেরানো যায়। সেসব দেশ কি আমাদের চেয়ে বেশী বড় ? জাপান কৃষি প্রধান দেশ হয়েও শিল্পায়নে এগিয়ে আছে প্রথম সারিতে। দক্ষিন কোরিয়া এই এতোটুকু এক দেশ, সেখানে শিল্পায়নের ধুম সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়ার মতো।

আসলে শিল্পায়ন করতে হবে সম্পূর্ণ আধুনিক ভাবে, আধা খেচড়া করে নয়; এই লেখাতে তেমন ইঙ্গিতই দেয়া আছে। ইটের ভাটা সরিয়ে সেখানেও শিল্পের জন্যে জায়গা দেয়া সম্ভব। শিল্প জোন গুলোকে আরো সম্পূর্ণ আধুনিক শিল্প প্রতিষ্ঠান যারা গড়ে তুলতে পারবেন কেবল তাদেরকেই লিজ দেয়া হলে মনে হয় স্থান সংকুলান হয়ে যেতে পারে। আর ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পের জন্যে মনে হয়না অনেক অনেক জমি লাগে। জিঞ্জিরা বা ধোলাইখালের দিকে তাকালেই এটা আপনি বুঝতে পারবেন।

আপনি দূষন নিয়ে যে অভিযোগ করেছেন তা শতভাগ সত্য কিন্তু যে কারখানা ( শিল্প বলছিনে ) দ্বারা এসব হচ্ছে সেসব কি শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরে ? যারা এসব গড়ে তুলেছেন তারা কি এসব জানেন না ? জানেন এবং ভালো করেই জানেন । সাথে এটা আরো ভালো জানেন যে, কিভাবে এসব ফাঁকি দিয়ে অল্পতেই বিশাল অর্থের পাহাড় গড়ে তুলতে হয়। আমাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এ ব্যাপারে সহায়তার জন্যে একপায়ে দাঁড়িয়ে।
এখন এর মানে এই নয় যে “ শিল্পায়ন” খারাপ কিছু ।

আমিও আপনার মতোই সাধারণ একজন। আমার কোনও একাডেমিক পান্ডিত্যই নেই তবে সাধারন জ্ঞানে যা বুঝি সেটাই তুলে ধরি। ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে, টেকনিক্যাল বিষয়গুলোও অজানা থাকতে পারে। তাই ব্লগার “চাঁদগাজী”র ঐ পোস্টের মন্তব্যে বলে এসেছিলুম , “অনেক কিছুই আলোচনা করার সুযোগ আছে পোস্ট, তাতে করা মন্তব্য আর প্রতিমন্তব্যের বক্তব্যে।“

আপনার এই মন্তব্যখানিও তেমন একটি আলোচনাই। ব্লগার ডঃ এম এ আলীও সুন্দর আলোচনা করেছেন। এসবই একটি লেখাকে পরিপূর্ণতা দেয়।

পরিশেষে রাজনীতি নিয়ে আপনার এই বক্তব্য - “রাজনীতি হচ্ছে ইংরেজ ক্লস, শাসন করবে শোষণ করবে” প্রসঙ্গে শুধু একটি লিংক দিচ্ছি, দেখুন আপনার মনোমতো কিনা - রাজনীতি

৮| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:০৯

চাঁদগাজী বলেছেন:



শেখ হাসিনা খুবই দীর্ঘ সময় (১৯৮১-২০২০ ) দেশের ক্ষমতার বলয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে গেছেন; জাতির সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে উনার কোন রোডম্যাপ ছিলো না; তিনি পরিবার হত্যার বিচার করেছেন ও স্বাধীনতা বিরোধীদের কট্রোলে রেখেছেন; কিন্তু জাতির উন্নয়নের কোন প্ল্যান উনার ছিলো না।

এখন দেশের যেসব শিক্ষিতরা বিশ্ব ও বাংলাদেশকে বুঝতেছেন, তাঁরা যদি কিছু না করেন, দেশ এভাবেই খোঁড়ায়ে চলতে থাকবে।

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী,



রোডম্যাপ আমাদের কোনও সরকার বা সরকার প্রধানেরই ছিলো না কোনও কালেই। শুধু ক্ষমতার গদি টিঁকিয়ে রেখে নিজেদের অকাতর লুটপাট বজায় রাখতে পোষ্য বাহিনী তৈরীর রোডম্যাপ ছিলো।

দেশের শিক্ষিতরা, যারা বিশ্ব ও বাংলাদেশকে বুঝতেছেন, তাঁদের কিছু করার নেই এখন। সিষ্টেমটাই এমন ভাবে তৈরী হয়ে গেছে যাতে কেউ জনগণের কথা নিয়ে বলা বা করার কোনও সুযোগ না পায়। যতো্ই নিজেদের সাফাই গাইনে কেন এর জন্যে আমরা সবাই দায়ী। কারন সামান্য স্বার্থের জন্যে আমরাই এমন সিষ্টেম গড়ে উঠতে দিয়েছি, রং-চুনকামও করেছি তাতে!

৯| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:১২

চাঁদগাজী বলেছেন:



যেসব মানুষ নিজেদের চেষ্টায় (ধোয়ার খাল, জিন্জিরা) , নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সীমিত টেকনিক্যাল উৎপাদন করছেন, তাঁদেরকে নিয়ে একটা ব্যবসায়িক সংস্হা গড়ে তোলা সম্ভব।

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: চাঁদগাজী,




তেমনটা হয়তো সম্ভব! কিন্তু হাল ধরবে কে ?
শুধু বলতে পারি --
কে আছো জওয়ান হও আগুয়ান...

১০| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ ভোর ৫:০৭

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



বেশ মনযোগ দিয়ে মুল্যবান পোষ্টটি পাঠ করলাম ।দেশের শিল্পায়নের
বিষয়ে অনেক খুটিনাটি বিষয় অনেক ক্ষেত্রে উপভোগ্য রসালো কথামালা
তবে বেশির ভাগইপ্রকৃত সম্যসার প্রকৃতি ওগতিধারা তুলে ধরে উপস্থাপন
করা হয়েছে। মনেহলোযেন বাস্তব চিত্রই লেখাটি উঠে এসেছে।গুণী ব্লগারদের
মন্তব্যতেও অনেক মুল্যবান কথামালা উঠে এসেছে ।

একথা সত্য যে বিশ্ব অর্থনীতিতে শিল্পায়নের ধারণা ক্রমেই পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে মনে করা
হতো বৃহৎ শিল্প স্থাপনের মাধ্যমেই একটি দেশের দ্রুত শিল্পায়ন তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।
তবে এই ধারনার পাশাপাশি চীন, ভারত ও জাপানের মত অনেক দেশই মাঝারী ও
ক্ষুদ্র শিল্প খাতের বিকাশের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে বিশ্বব্যাপী দৃষ্টান্ত
স্থাপন করেছে। মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে পুঁজি হারানোর
ঝুঁকি কম থাকে যদিও আমাদের দেশের ধনকুবেররা শিল্পের চেয়ে ঝুঁকিবিহীন জমি বেচাকেনা
কর্মকেই বেশী, বলতে গেলে কি মুল অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হিসাবেই বেছে নিয়েছেন ।
এই অবস্থার হাত হতে উত্তরনের জন্যা আমার পরশ পাথর পর্ব- এ কিছুটা দিকপাত করেছিলাম ।

উল্লেখ্য স্বল্প পুঁজি প্রয়োজন হয় বলে যে কেউ উদ্যোগ নিলেই মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে
নিজের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং পরিবারের অর্থের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। বড় শিল্প স্থাপনের
প্রয়োজন অবশ্যই আছে, কিন্তু বর্তমানে দেশের গুটিকয়েক ব্যক্তি বা গ্রুপের কাছে ক্যাপিটাল
বেইজড বৃহৎ শিল্প-কারখানা স্থাপনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় , এবং শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য ব্যাংক থেকে
ঋণ নিয়ে তা অন্যখাতে ব্যয় করায় শিল্পায়ন তো হচ্ছেইনা বরং শ্রমশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ ক্রমেই
সংকুচিত হয়ে পড়ছে। তাই বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশের জন্য স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ
( এস এম ই ) শিল্পের উপর অধিক গুরুত্বারোপ ছাড়া কোনো গত্যন্তর নেই বলেইমনে হচ্ছে।
জানা যায় গত অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবারের মতো ‘স্টার্ট আপ বিজনেস’ নামে একটি স্বতন্ত্র খাত সৃষ্টি
করে মাত্র ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। যারা প্রথমবারের মতো এসএমই উদ্যোগ গ্রহণ করবেন,
তারা এই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা পাবেন বলে বলা হয়েছিল। কিন্ত এই কর্মসুচীর এখন কি হাল
তা সঠিকভাবে জানা যাইনি।

তবে এটা ঠিক যে এসএমই শিল্প খাত বিকাশের জন্য সরকার সম্প্রতিককালে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও
এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রচলিত ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি মোটেও কিন্তু সহজ হয়নি।
নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে জামানতবিহীন ঋণ গ্রহণতো আরো কঠীন, কারণ মহিলা উদ্যোক্তারা ব্যাংকে জমি বা অন্য
সম্পত্তি জামানত হিসেবে প্রদানের ক্ষেত্রে নানা সমস্যায় পড়েন। আর ব্যাংকগুলো বন্ধকি সম্পদ ছাড়া কোনো ঋণ
প্রদান করতেও যে আগ্রহী নয় তা সকলেরই জানা কথা ।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, বৃহৎ শিল্প-কারখানা স্থাপন না করে এসএমই শিল্প কেন স্থাপন করা হবে?
তবে এসএমই শিল্প স্থাপন করার অর্থ এই নয় যে, বৃহৎ শিল্পকে অবহেলা করতে হবে। তবে যেহেতু
বিবিধ কারণে সবার পক্ষে বৃহৎ শিল্প স্থাপন ও সফলভাবে পরিচালন করা সম্ভব নয় সেহেতু
দেশের উদ্যমী যুব সমাজকে শিল্পায়নের সঙ্গে যুক্ত করে দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আমাদেরকে
এসএমই শিল্পের ওপর জোর দিতে হবে। উল্লেখ্য এশিয়া অঞ্চলের অনেক দেশই প্রমাণ করেছে, এসএমই
শিল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব। এর প্রকৃষ্ট
উদাহরণ চীন ও ভারত। চীনের শিল্প খাতে এমএসই শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশ। এ খাতে মোট শ্রমশক্তির
৪০ শতাংশের কর্মসংস্থান হচ্ছে। ভারতের শিল্প খাতে এসএমই খাতের অবদান ৪০ শতাংশ এবং তাদের
মোট শ্রমশক্তির মধ্যে প্রায ১২ কোটি মানুষ এসএমই খাতে নিয়োজিত রয়েছে। বাংলাদেশের শিল্প খাতে
ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্প খাতের অবদান বর্তমান সময় পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশের মত। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য
যে জাপানের বড় কোম্পানিগুলো তাদের পণ্যের পুরোটা নিজেরা উৎপাদন না করে সাব-কন্ট্রাক্টের
মাধ্যমে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে উৎপাদন করিয়ে নেয়। তারা অবশ্য উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান শতভাগ
নিশ্চিত করে থাকে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ চমৎকার উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী। তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ,
অর্থিক সহযোগীতা , দেশীয় বাজারে বিপনন সহায়তা ও প্রয়োজনীয় রপ্তানী বানিজ্য সহায়তা
পেলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে বলে দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি । তবে সর্বাজ্ঞে প্রয়োজন
হবে জবাবদিহীমুলক একটি স্থিতিশীল দক্ষ সৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা,সাথে সকলের দেশপ্রেম
ও ঐকান্তিক প্রচেস্টা ।

ভাল বিষয়ে একটি পোষ্ট দিয়ে একটি প্রানবন্ত আলোচনার সুযোগ তৈরী করে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ ।
হাত ফস্কে কি বোর্ডে কিছুটা গরম চা পরে যাওয়ায় লেপটপের স্পেশবার কাজ না করায় প্রথমবার
লেখতে অসুবিধা হচ্ছিল। যাহোক, এখন লেখা যাচ্ছে। পোষ্টটি পুর্বেই প্রিয়তে নিয়েছি ।

শুভেচ্ছা রইল

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: ডঃ এম এ আলী,




আপনার এই ঋদ্ধ মন্তব্যটি সহ অনেক মন্তব্য দেখে মনে হলো , আমরা চাইলেই ব্লগিংটাকে বিদ্যাবুদ্ধির কেয়ালিটি রি-ফুয়েলিং সেন্টার বানিয়ে ফেলতে পারি। ব্লগ নামের প্লাটফর্মগুলো যেটার দাবী রাখে - সুস্থ্য আলোচনা, প্রাজ্ঞ মতামত বিনিময়।

"মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এখানে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি কম থাকে" -
একথা সুন্দর বলেছেন। মাঝারী ও ক্ষুদ্র শিল্প বিশেষ করে ক্ষুদ্র শিল্পে অনেক মানুষের অংশ গ্রহন সম্ভব যদি সরকার থেকে চলতি মূলধনের যোগান দেয়া হয়। কিন্তু ঐ যে বললেন - এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রচলিত ব্যাংকিং সেক্টর থেকে ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়াটি মোটেও কিন্তু সহজ নয়। সমস্যাটা এখানেই।
স্বীকার করি বড় শিল্প স্থাপনের প্রয়োজন আছে, কিন্তু দেশের গুটিকয়েক ব্যক্তি বা গ্রুপের কাছে এর সবটাই কুক্ষিগত হয়ে আছে। এরা ঋণ নিয়ে অন্যত্র ঢালছে, যে কথা আপনি বলেছেন। এখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি মনে হয় কঠিনতর। কারন এমন উদ্যোক্তা সম্ভবত তৈরী হবেনা কারন তারা পূর্বসুরীদের ঋণ লোপাটের ফর্মূলা দেখে অনুপ্রানিত হয়ে একই পথে হাটবে।
বরং হাযার হাযার কর্মদ্যোমী তরুনদের ক্ষুদ্র শিল্পের আওতায় নিয়ে এলে সেটা ঠেকসই ও সুদুরপ্রসারী হবে। এই উদ্যমী তরুন রা একটা কিছু করার জন্যে মুখিয়ে আছে। এর অনেক উদাহরণ আছে আমাদের যারা নিজ উদ্যোগে ছোটখাটো শিল্প গড়ে তুলেছেন। আপনিও এমন কথাই বলেছেন - "বাংলাদেশের তরুণ সমাজ চমৎকার উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী। তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ,অর্থিক সহযোগীতা , দেশীয় বাজারে বিপনন সহায়তা ও প্রয়োজনীয় রপ্তানী বানিজ্য সহায়তা পেলে যে কোনো অসাধ্য সাধন করতে পারবে........."।

আমি অর্থনীতিবিদ নই তাই কোনদিকে এই মূহুর্তে আমাদের নজর ফেরানো উচিৎ তা বলে দিতে পারবোনা। কিন্তু আপনাদের মতো আরো কেউ না কেউ আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে আসবেন বলে ধারনা করি।

তবে শেষ কথা এই - সর্বাজ্ঞে প্রয়োজন জবাবদিহী মুলক একটি স্থিতিশীল, দক্ষ, সৎ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা,সাথে সকলের দেশপ্রেম ও ঐকান্তিক প্রচেস্টা ।

১১| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৬

কবিতা পড়ার প্রহর বলেছেন: এই লেখাটা আমার জন্য বড়ই কঠিন চিন্তা ভাবনার বিষয়। কোনো মন্তব্য না করাটাই ভালো ছিলো তাই। কিন্তু এই যে মেড ইন জিঞ্জিরাকে মেড ইন বাংলাদেশ করানো যায় কিনা এটা অনেকবারই মনে হয়েছে আমার। চাইনিজ স্টুডেন্টদের বু্দ্ধি আর দক্ষতা দেখে মাঝে মাঝে মুগ্ধ হই আমি। তারা শুধু দক্ষই নয় কাজেও রয়েছে একাগ্রতা।

আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমাদের বাংলাদেশীদেরও একই সব গুনাবলী রয়েছে। শুধু তাই না কিছু ক্ষেত্রে বেশিই আছে। এই দক্ষতা, বুদ্ধি কাজে লাগানো গেলো না।

আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন যেমনই জরুরী তেমনই জরুরী নিয়ম কানুন ও বিধি ব্যাবস্থার পরিবর্তন।

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: কবিতা পড়ার প্রহর,




"আমার কাছে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে আমাদের বাংলাদেশীদেরও একই সব গুনাবলী রয়েছে। শুধু তাই না কিছু ক্ষেত্রে বেশিই আছে। এই দক্ষতা, বুদ্ধি কাজে লাগানো গেলো না।"
আপনার এই আক্ষেপ যথার্থ। এমন আক্ষেপ মনে হয় আমাদের অনেকেরই আছে।
কিন্তু কঠিন চিন্তা ভাবনার বিষয় বলে কোনো মন্তব্য না করাটাই ভালো ছিলো , এমন কথায় যথার্থতা নেই । লেখা কঠিন হলে লিখে দেবেন -- মাথার উপ্রে দিয়া গেল। :P

অনেক..... অনেক কিছুর পরিবর্তন-ই আমাদের জরুরী।

১২| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৩

শাহ আজিজ বলেছেন: ছোট থেকে মাঝারি শিল্পে ওভার হেড খরচা নেই বলে উৎপাদক লাভ ভাল করেন । পুরো পরিবার এখানে নিয়োজিত উৎপাদনে । এসব চোখে দেখা এবং আলাপ সালাপ করে জেনে নেওয়া। মাধবদীর দক্ষিন অংশে অনেক শিল্পের মাঝে তাত শিল্পের নানা যন্ত্রাংশ ঢালাই করে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি দিয়ে তারা কাপড় উৎপাদকদের রফতানি সময় কমিয়ে দ্রুত করা যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে । পাট কল থেকে শুরু করে আরও মেশিনারিজের সহজ অংশ তৈরি করে দেন । ঘুরে ঘুরে দেখলাম তাদের কষ্ট । ২০১০ সালে আলাপ করলাম কারো কারো সাথে যে এই জায়গায় সহজ শর্তে কাস্টিং এবং মেলটিং , ডাইস তৈরির পুরো ব্যাবস্থাপনা দিলে একটা এলাকা দাড়িয়ে যাবে । ভাই দেশটা আমারও , আমিও ভাবতে পারি বা অধিকার রাখি এসব নিয়ে । এসবের যাবতীয় উৎস আমার জানা । বাংলাদেশ জানেনা । তো সেই তারা আমায় বলল চেষ্টা করেন এবং কিছুদিন বাদে বিশ্রাম করেন , হাসল তারা । শুধুমাত্র দোভাষীর কাজ করতে গিয়ে বাংলাদেশের পুরো এলাকা এবং শিল্পের হাল চাল দেখে আমারও কিছু ইচ্ছে জেগে উঠল । এসব ইচ্ছে এখন মরে গেছে । ভাল ধান ফলে , দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা আছে তো ডাঙ্গর পোলাপাইন মিল কারখানায় থাকব না টং ঘরে বিড়ি ফুকবে ? ট্রেড কোর্সের গুল্লি মার , ইন্ডিয়ার সীমান্তে মালামাল আনি চল । মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষা দিতে অক্ষম আমরা । আমি কিছু তরুণদের মাঝে উদ্দীপনা দেখেছি । কিছুকাল বাদে তারা ইতালি , মালয়শিয়া চলে গেছে । আবারো আসছি -------------------------- ।।

২১ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: শাহ আজিজ,





ভাল ধান ফলে , দুমুঠো ভাতের নিশ্চয়তা আছে তো ডাঙ্গর পোলাপাইন মিল কারখানায় থাকব না টং ঘরে বিড়ি ফুকবে ?
এটা ভালো বলেছেন- বাঙালী চরিত্র। আসলেই আলসে একটা জাতি।

যেসব তরুণদের মাঝে আপনি উদ্দীপনা দেখেছেন তারা একটু আর্থিক সহায়তা পেলে আর মালয়েশিয়ার জঙ্গলে, ভূমধ্য সাগরের জলে, আফ্রিকার মরুভূমিতে প্রান খোয়াতো না।

আবার আসুন । নিজের অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করে তুলে ধরুন আসলে সমস্যাটা কোথায়।

১৩| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১০:২৫

শাহ আজিজ বলেছেন: রফতানি সময় নয় , আমদানি সময় হবে ।

১৪| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:১৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আহমেদ জী এস ভাই,
আমি দুই হাত তুলে আপনাকে সমর্থন করছি। আপনার মহাবেকুব জাতক কথন প্রতিটি অধ্যায়ে আমার সমর্থন আছে। আমাদের দেশে আগামী দশ বছর নতুন করে মিল কারখানা না করে, পুরাতনগুলোকে রি এ্যারেঞ্জ করতে পারলে দেশ রক্ষা নয়তো এই দেশের কপালে সত্যি সত্যি খারাবি আছে - এটিই আমার বলার উদ্দেশ্য।

আপনি যা যা ব্যখ্যা দিয়েছেন তা হচ্ছে একজন সচেতন মানুষের একজন দেশপ্রেমিক মানুষের চাওয়া। আপনার সুন্দর ব্যাখ্যা সম্বলিত উত্তরের জন্য কৃতজ্ঞতা জানবেন।

একটু পেছনে ফিরে যাই: - বাংলাদেশে বেশ কিছু চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে তার মধ্য অন্যতম - মসুর ডাল, খেসারির ডাল, সরিষা, সূর্যমূখি, সয়াবিন। এছাড়া টান পরছে পেঁয়াজ ও রসুনের প্রতি বছর। কৃষি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করতে পারলে পরিবেশের ক্ষতি না করে আমরা এগিয়ে যেতে পারতাম বলে বিশ্বাস করি।

মাছ চাষের জন্য আমোদের নদীগুলোতে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারতেন। বড় ঘের করে নদীতে মাছ চাষ হতে পারে অথবা ঘের বিহীন উন্মুক্ত মাছও চাষ হতে পারে। শত শত টন মাছের পোনা নদীতে ছেড়ে দিয়ে।

আহমেদ জী এস ভাই, আমি শিল্পের বিপরীতে নই, আমি পরিবেশের ক্ষতি চাই না এটি আপনি বুঝতে পেরেছেন এতেই আমি খুশি। দেশের অবস্থা যা হয়েছে আমরা রিতিমতো নর্দমা ভাগাড়ে বসবাস করছি। আপনি আমি দেখেছি আজ থেকে মাত্র ত্রিশ বছর আগেও দেশের বাতাস দেশের পানি এমন দূষিত ছিলো না। কি থেকে কি হয়ে গেলো তাই না?

ইজি বাইক/টমটম বাংলাদেশের জন্য মরণঘাতক অথচ চলছে কারখানার কাজ প্রতদিন রাস্তায় নামছে ইজি বাইক/টমটম নামক অদ্ভুত যান। রিক্সা চালক সহ লক্ষ লক্ষ লোক ইজি বাইকে ট্রান্ফার হয়েছেন দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি মেটাতে দেশ কি কি না করছে। ইজি বাইক ব্যাটারি কমপক্ষে ৬ - ৮ ঘন্টা চার্জ দিতে হয়।

আমি আবারও মন্তব্য নিয়ে আসবো আপনার পোস্টে আলোচনা হবে। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ডঃ এম এ আলী ভাইকে ধন্যবাদ। - তিনি একই বিষয় নিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন এবং আপনার পোস্ট আলোচনা করছেন।

যারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে আপাতত বিদায় নিচ্ছি।

২১ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,





মন্তব্যে লাইক আগেই দিয়ে রেখেছি। কৃষি- পরিবেশ বিষয়ে আপনার আন্তরিকতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আপনার পোস্টগুলো থেকেই তা বোঝা যায়।

আগের থেকে থাকা সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকতার ছাঁচে ফেলে রি-এ্যারেঞ্জ করতে পারলে ভালো হতো অবশ্যই। তাতে নতুন করে শিল্পায়নের ধকল-সময় আর টাকার সাশ্রয় হতো নিঃসন্দেহে।

কৃষি ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করার কথা বলেছেন । আপনার আগের মন্তব্যে জবাবে তো বলেইছি -কৃষকের কাছে আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম যেমন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, ক্রপ মোয়ার, হারভেষ্টর ইত্যাদি ইত্যাদি স্বল্পমূল্যে সহজলভ্য করতে সেসবের নির্মান শিল্প গড়ে তোলা যায় যা সময়েরও দাবী। সার তৈরী শিল্পকেও কেন বাদ দিচ্ছি ? এটাও হতে পারে। এগুলোর চাহিদা তো প্রতি কৃষক পরিবারেই আছে তাইনা ? গড়ে উঠতে পারে ফুড প্রসেসিং শিল্পও.....
এসব কিন্তু বিশাল এক কর্মযজ্ঞ।

পরিবেশের প্রতি আপনার সচেতনতা অবশ্যই প্রশংসার । পরিবেশের ক্ষতি করে কিছু হোক , সাধারণ মানুষেরা কেউই তা চায়না।
অবশ্য বিশ-ত্রিশ বছর আগের স্নিগ্ধ মোলায়েম পরিবেশ যে এখনও পাবো সেটা আশা করাও ঠিক নয়। কারন মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে গৃহায়ন, বাড়ছে কর্মযজ্ঞ । তাই বাড়ছে দূষনও। এর পেছনে পরিবেশের প্রতি প্রতিটি সেক্টরেই আমাদের অজ্ঞতা, উদাসীনতাই দায়ী। আর শিক্ষা না থাকলে সুন্দরতা জ্ঞানটাও থাকেনা।

ইজি বাইক/টমটম নিয়ে যা বলেছেন তা সবই সত্য । আমি বুঝিনা, ঐরকম একটি ভয়ঙ্কর ও ভালনারেবল যন্ত্র রাস্তায় চলার অনুমতি দেয় কোন বেআক্কেল কর্তৃপক্ষ, কোন কারনেই বা দেয় ?

এখানে আরো অনেক মন্তব্য এসেছে যা থেকে অনেক কিছু বোঝার আছে , জানার আছে, শেখার আছে। দেখে নিয়ে আবারও সুন্দর একটি আলোচনায় আপনাকে নিমন্ত্রন জানাচ্ছি।

১৫| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৪০

পদ্ম পুকুর বলেছেন: জিঞ্জিরার ব্যাপারটা ইফেকটিভ কিন্তু জিঞ্জিরার সরকারি স্বীকৃতি অনেক আত্মস্বীকৃত শিল্পপতি কাম চোরাকারবারির জন্য সমস্যা তৈরী করবে। সমস্যা হলো এই শিল্পপতি কাম চোরাকারবারিরাই সরকারকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে, ফলে এই স্বীকৃতি কোনদিনও মিলবে বলে মনে হয় না।

নোবেলজয়ী দারিদ্র্যর জন্য সম্পদহীনতাকে নয় বরং দুর্নীতিকে দায়ি করেছিলেন। যেটা আমাদের দেশের জন্য শতভাগ সত্য।

২১ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: পদ্ম পুকুর,




আপনার আশংকা একেবারই অমূলক নয়। জিঞ্জিরাকে আধুনিক ছাঁচে ঢেলে সাজালে আত্মস্বীকৃত শিল্পপতি কাম চোরাকারবারিদের জন্য বড় সমস্যা তৈরী হবে। দেশে যন্ত্র আর যন্ত্রাংশ তৈরী হলে ঐসব আমদানীর নামে তাদের বিদেশে টাকা পাচারও কমে যাবে।
প্রকৃতপক্ষে এরাই সরকাররের চারদিকে ঘিরে সরকারকে অন্ধকারে রেখে ঘোলা পানিতে মাছ ধরে।

১৬| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫৭

শায়মা বলেছেন: সবাই আজকাল এতই কঠিন কঠিন পোস্ট দিচ্ছে যে আমি টেবিলের তলেই ভালা আছি। :)

ভাইয়া এক চাঁদগাজী ভাইয়াকে নিয়ে আমরা হিমশিম খাই তোমার উপরে আবার তার আসর পড়লো কেনো?

যদিও এই আসরগুলি ভালো আসর। তবে এরপর ভাইয়ার কমেন্ট কাটাছেড়া করে সবাইকে উপকৃত করলেও ভালো হবে কিন্তু।

২১ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: শায়মা,




আপনার চাঁদগাজী ভাইয়া আমার উপর আছর করেনি বরং আমিই আছর করেছি তার পোস্টের বক্তব্যে। :)

হা...হা... ব্লগার চাঁদগাজীর কমেন্টু কাটাছেড়া ? কাটাছেড়া করতে গেলে ধারালো চাক্কু দরকার। আমার চাক্কুতে এখন আর ধার নেই। :-P আর কাটাছেড়া করতে গেলে তো রক্তপাত হবে, তাইনা ? :((

১৭| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২২

আমি সাজিদ বলেছেন: চমৎকার লেখা স্যার।

মধ্যম আয়ের দেশ নিয়ে বলতে চাই স্যার। আসলেই কি আমরা মধ্যম আয়ের দেশ? ডেটা কি তাই বলে? নাকি এটা আমাদের মনোবল বাড়ানোর জন্য ফেব্রিকেটেড?

আজকের প্রথম আলোতে একটা আংশিক সত্য কথা এসেছে -

তবে একটি দেশ কত ধনী, তা কিন্তু জিডিপি দিয়ে বোঝানো যাচ্ছে না। জিডিপির সমস্যা অনেক। বড় সমস্যা এর বণ্টন। বিশেষ করে একটি দেশের নাগরিকেরা কেমন আছে, সেটা ঠিক জিডিপি দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে একটি উপায় হতে পারত মাথাপিছু জিডিপি। অর্থাৎ মোট জিডিপিকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করা। সমস্যা আছে এখানেও। এটা গড়ের হিসাব। কারও আয় হয়তো অনেক বেশি, অন্যরা কোনোরকম মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছে। একটি দেশের মানুষের সঠিক অবস্থানটা আসলে মাথাপিছু আয় দিয়ে বোঝা যাবে না। আয়ের বৈষম্য প্রকট হলে মাথাপিছু আয় দিয়ে ভালোমন্দ বিবেচনা করা যায় না। বাকি রইল ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেইজিং পাওয়ার প্যারিটি (পিপিপি)।

ওরা এরপর বলেছে -
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ২০১৯ সালে তৈরি আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী। বাংলাদেশের অবস্থান ১৯১টি দেশের মধ্যে ১৪৩তম। তাদের হিসাবে বাংলাদেশের পিপিপিতে মাথাপিছু জিডিপি ৫ হাজার ২৮ ডলার। এবার দেখা যাক অন্য দেশগুলোর অবস্থান। ৬৬তম মালদ্বীপ (২৩ হাজার ৩১২ ডলার), ৯৯তম শ্রীলঙ্কা (১৩ হাজার ৮৯৭ ডলার), ১১২তম ভুটান (৯৮৭৬ ডলার), ১২৪তম ভারত (৮৩৭৮ ডলার), ১৩৪তম মিয়ানমার (৬৭০৭ ডলার), ১৩৮তম পাকিস্তান (৫৮৭২ ডলার), ১৬২তম নেপাল (৩৩১৮ ডলার) ও ১৭৬তম আফগানিস্তান (২০৯৫ ডলার)।



যদিও আমার একাডেমিক বিষয় নয় ইকোনমিকস।


আমি এই গ্যাপ গুলো বুঝতে পারি না। আপনার প্রতিমন্তব্যের ভিত্তিতে আশা করি আলোচনা বেগবান হবে।


২২ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: আমি সাজিদ,



আমরা মধ্যম আয়ের দেশ কিনা জানিনা। অর্থনীতিবিদদের হিসেব আর আমাদের আমজনতার হিসেব এক নয়।

অর্থনীতিতে জিডিপিকে দেখা হয়, একটি দেশের অভ্যন্তরে এক বছরে চূড়ান্তভাবে কতোমূল্যের দ্রব্য উৎপাদিত হয়েছে ও সেবার বাজার মূল্য তাতে কতোখানি সে হিসেবে। আগের বছরের তুলনায় পরের বছরে এ উৎপাদন যে হারে বাড়ে সেটি হচ্ছে জিডিপির প্রবৃদ্ধি।
এই সমস্ত জটিল হিসেব দিয়ে কি প্রতিটি মানুষের আর্থিক সামর্থ্যের হদিস পাওয়া যায় ? মাথাপিছু গড় আয়ের জেল্লা দেখানো তো মনে হয় যেন অন্ধকে হাইকোর্ট দেখানোর মতো। ধরা যাক জনাব কদম আলির বার্ষিক আয় বা জিডিপি ১ কোটি টাকা আর আদম আলির আয় বা জিডিপি বছরে ২ লাখ টাকা ( এতো টাকা আদম আলিরা আয় করে কিনা বা জিডিপিতে এমন অংশ সে যোগ করতে পারে কিনা সন্দেহ আছে ) । এখন এদের দুজনের মাথাপিছু আয় বা জিডিপি দাঁড়ায় ৫১ লাখ টাকা। আসলে কি আদম আলি এতো টাকার সুখে আছে ? নেই। এসব হলো শুভঙ্করের ফাঁকি। পাবিলিককে বেকুব বানানোর কাগুজে তড়িকা।

আপনি "ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পারচেইজিং পাওয়ার প্যারিটি"র কথা বলেছেন । আমাদের বর্তমান পরিস্থিতিতে তা কোনও কালেই সম্ভব নয় যে, সকলের ক্রয় ক্ষমতায় সমতা থাকবে। দেশের সকল মানুষের যথাযথ কর্মসংস্থান ও নিয়মিত আয়ের একটি রাস্তা খোলা থাকলে না হয় সেই একই রাস্তায় সবাই আগে পিছে করে হাটতে পারতো। সেরকম কিছু কি আছে ? নাকি তেমন কোনও আলামত আছে ? কারো জন্যে হয়তো মসৃন রাজপথ আছে, কারো জন্যে ইটের পাকা রাস্তা আর বাকী সবার জন্যে খানাখন্দে ভরা মেঠো পথ। অনেকের তো আবার হাটার রাস্তাই নেই। সেখানে মধ্যম আয় বা উচ্চ আয়ের দেশ হলেই বা বগল বাজানোর কি আছে যদি সকলে মিলে তার সুফল ভোগ করতে না পারে ?

আমি অর্থনীতিক নই। একজন বেকুব আমজনতা হিসেবে আমার বেকুবীয় থিয়রী দিলুম। আপনার মতো আমিও অর্থনীতিবিদদের ঐসব হিসেব নিকেশ বুঝিনে। বুঝি, যদি দেশের প্রতিটি মানুষ একটি মাথাগোঁজার মতো ঠাঁইয়ের নীচে, মোটামুটি সুস্বাস্থ্য আর শিক্ষা নিয়ে দুবেলা খেতে পারছে তবেই দেশটি উন্নতির সড়কে উঠেছে। মহা সড়ক তো পরের কথা।

আশা করি অনেকেই এই আলোচনা বেগবান করতে সহায়তা করবেন।

১৮| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৩৪

জুন বলেছেন: আপনার লেখার সাথে সম্পুর্ন সহমত পোষণ করছি মহাবেকুব জনাব আহমেদ জী এস। কালো টাকার ব্যবহার নিয়ে আপনার যুক্তিটি খুবই যুক্তিপূর্ণ। কোটি কোটি চুরির টাকা শুধুমাত্র স্ত্রী সন্তানদের ফুর্তির পেছনে খরচ না করে দেশের মানুষের জন্য খরচ করলে এতদিনে বাংলাদেশকে আর পরের কাছে হাত পাততে হতো না। রাজনৈতিক এক নেতার কথা শুনেছিলাম যে তার টাকার বান্ডিল বাধতে বাধতে শেষে রবার ব্যান্ড পাওয়া যায় নি। সরকারি কর্মচারীদের অবস্থাও তথৈবচ। স্ত্রী আর ছেলেমেয়ে ছেলে মেয়ে করে রক্ত চুষে জোকের মত অবস্থা। তারপরও তাদের লোভ শেষ হয় না। রামায়ণের রচয়িতা বাল্মিকীর পেশা ছিল ডাকাতি। একদিন এক লোককে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ধরার পর সে প্রশ্ন করেছিল এই টাকা তুমি কি করো? বাল্মিকী জবাব দিয়েছিল পরিবার প্রতিপালন করি। তখন সেই লোক বল্লো আমাকে বেধে রেখে তুমি তোমার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞেস করে আসো তারা কি তোমার এই পাপের বোঝার দায়িত্ব নেবে কি না? বাল্মিকী একে একে বাবা মা ভাই বোন স্ত্রী পুত্র সবাইকে জিজ্ঞেস করলো। তাদের উত্তর না। সেইদিন থেকে বাল্মিকী সব ছেড়ে তপস্যায় বসলো হলো এক বিখ্যাত সাধু রচনা করলো রামায়ণ। আমারও আমাদের দেশের এইসব দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ আর সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মাথা থেকে নিম্ন স্তরের কর্মচারীদের জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে আপনার এই কোটি কোটি টাকা চুরির দায় কে নেবে।
আমার একটা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে রাজউকের এক কেরানিকে ৭৮ হাজার টাকা শুধু গজুষই দিতে হয়েছিল। এই ঘটনাটি আমাকে সাংঘাতিক কষ্ট দিয়েছিল। অন্য একটি মাধ্যমে জানতে পারি ঐ টাকায় উনি বড় একটা ফ্রিজ কিনেছিল তার স্ত্রীর আবদারে।
যাই হোক এই টাকা কোন উপার্জনশীল খাতে ব্যয় করলে দেশেরও উন্নতি হতো সাথে দেশবাসীরও। আসলে তাদের সাহস ও নাই সাথে সীমাহীন দুর্নীতি তো আছেই।

মনে পরে বাংলাদেশে কিন্তু একসময় অনেক বড় বড় কল কারখানা ছিল। চিত্তরঞ্জন কটন মিল, মোহিনী মোহন মিল, আদমজী পাটকল, চিনি কল, কর্নফুলী পেপার মিল। সেগুলো তো এই বাংলাদেশেই হয়েছিল। তবে এখন হবে না কেন। আধুনিক ভাবে মিল কারখানা করলে তো পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কথা না। আর ট্যানারি যারা পানি দুষিত করছে সেই সব কারখানা তো কোনভাবেই আধুনিক কারখানার কাতারে পরে না। অর্থনীতির বড় চাকা না ঘুরলে ছোট ছোট চাকায় ভর করে দেশ আগাবে না। উন্নয়নের মহাসড়ক টরক যাই বলুক ওই সব গার্মেন্টস আর এনজিওর ঋন শেষপর্যন্ত দেশকে অনুন্নতই রাখে। তাকিয়ে দেখুন দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, সিংগাপুর এর দিকে। কত ছোট দেশ। কিন্ত তাদের চেয়ে পাচ ছয় গুন বড় আকারের দেশ নিয়ে ক্যামবোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস কি করছে? আকন্ঠ দুর্নীতিতে ডুবে আছে অফুরন্ত সম্পদ নিয়ে বসে থাকা এইসব দেশ। সাধারণ জনগনের দুঃখ কষ্ট আমার নিজ চোখে দেখা। লাওসের সরকারি কর্মচারীর মেয়ে আমার ছেলের ক্লাসমেট হেলায় বাংলাদেশি এক লাখ, দেড় লাখ টাকায় সান গ্লাস কিনে, কিনে গুচির ব্যাগ।
অনেক কিছু বলতে ইচ্ছা করে। অনেক লিখে ফেল্লুম। আশাকরি বুঝতে পারবেন অনেক ক্ষোভ থেকে লেখা ।

২২ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪২

আহমেদ জী এস বলেছেন: জুন,




কোটি কোটি চুরির টাকা স্ত্রী সন্তানদের ফুর্তির পেছনে খরচ না করে দেশের মানুষের জন্য খরচ করবে এমন বেকুব এখনও
কেউ হয়নি। এই তো গত কালকেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় বললেন, বেগমপাড়ায় নাকি বেশীর ভাগ সরকারী কর্মচারীদের আবাস আর সেখানে থেকেই লেখাপড়া করে তাদের সন্তানেরা।
এটা ঠিকই বলেছেন - আধুনিক ভাবে মিল কারখানা করলে তো পরিবেশ নষ্ট হওয়ার কথা না। আর ট্যানারি যারা পানি দুষিত করছে সেই সব কারখানা তো কোনভাবেই আধুনিক কারখানার কাতারে পরে না।
আমিও কিছু মন্তব্যে তেমন কথাই বলেছি।

অনুন্নত দেশের অনুন্নত ( সুস্থ্য জ্ঞানবুদ্ধি আর দুরদৃষ্টিতে) সরকার আর ততোধিক অনুন্নত আমলা ও রাজনীতিবিদদের কারনেই সে দেশগুলো কখনোই সামনে এগুতে পারেনা। ক্লাশে পড়াশোনা না পারলে বা করলে ছাত্রছাত্রীরা যেমন পেছনের বেঞ্চিতে গিয়ে বসে তেমনি অনুন্নত দেশগুলোর সবাই পড়াশোনা পারেনা বলেই পেছনের সারিতে গিয়ে বসে।

বুঝতে পেরেছি অনেক ক্ষোভ থেকে লেখা। আপনার মতোই ক্ষোভে ভরা অনেকেই কিন্তু "পাছে লোকে কিছু বলে" এই ভয়েই তা প্রকাশ করেন না।

১৯| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪১

রাজীব নুর বলেছেন: আপনার পোষ্টে আবার এলাম।
কে কি মন্তব্য করেছে সেতা জানতে। কে কি মন্তব্য করছে সেটা জানার দরকার আছে কি নাই বলেন?

২২ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাজীব নুর,





আপনিই তো প্রায়ই বলেন , যতো জানবেন জ্ঞান ততোই বাড়বে। বই পড়ে জ্ঞান বাড়াতেও বলেন। তাহলে মন্তব্যে, জানার দরকার আছে কি নেই এমন প্রশ্ন কেন ? সব কিছু ঠিক আছে তো আপনার ? :)

২০| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৫

রাকু হাসান বলেছেন:


বাতাসে কথা ভেসে উড়ে সরকার নাকি জিঞ্জিরা কে নিয়ে ভাবছে।খুব দ্রুত বড় প্রকল্পের সুখবর আসতে পারে।জাহাজ ভাঙা শিল্প এ বড় বিনিয়োগ আসবে ,এ বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।আমি ব্যক্তিগতভাবে মোটেও হঠাৎ UPSET নয় যে বাংলাদেশে এটা হচ্ছে না ,এটা হবে না ,ওটা সম্ভব না ইত্যাদি । অনেক কিছুই শুরু হয়েছে..এটাই প্রাপ্তি । তবে সে কথা স্বীকার করব আমাদের মাঝারি শিল্পগুলো আরও ব্যাপক ভাবে কাজ লাগাতে পারতাম। জিঞ্জিরা দশকের পর দশক এভাবে অবহেলিত করে রাখাতে বাংলাদেশই পিছিয়ে গেছে ...আরও অবহেলিত করলে আরও যাবে। জাহাজ নির্মাণ শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল এখানেই তৈরি হচ্ছে।দুঃখের বিষয় সরকার তাঁদের ব্যবহার করতে পারছে না ।এখান ওয়ালটনের মত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মূলত ম্যানুফাকচারির করেই শুরু করে তাদের ব্যবসা । এখন তারা সাহস যোগাচ্ছে নিজেই তৈরি করার । যারা বিশ্বাস করে বাংলাদেশ একটি পিনও তৈরি করতে পারে না ,তাদের সাথে আমি একমত নই । সাইকেল যন্ত্রাংশ,অটোমোবাইলের ক্ষুদ্র সরঞ্জাম সহ অনেক কিছু দেশেই বানানো যাচ্ছে। তবে সেগুলো ভারি কোন কিছু না । এগুলো এক সময় ভারি শিল্পে রুপ নিবে ,আশাবাদী।

আমরা যদি চীনের শুরুর গল্পটা মনে করি ..তাহলে বলতেই হবে ,চীনারা সস্তাশ্রম বাজার ,উদার শিল্পনীতি এবং সরকারী গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কারণেই আজকের সুপার পাওয়ার চীন।বিশ্বরে নজর কেড়ে ছিল চীনের এই নীতি । প্রথমে তাদের শুরুটা হয় ম্যানুফাচারিং করেই। .. চীনের.আজকের গল্প আমরা সবাই জানি।
বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান,সস্তাশ্রমবাজার,ক্রমেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন এসব বলে বাংলাদেশের সামনে বড় একটা সুযোগ আসছে। সময় বলে দিবে ঠিক কতটা নিতে পারে বাংলাদেশ।চীন ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে ক্ষুদ্রশিল্পগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসতে ,বেশ কিছু এসেছে ব্যবসা করছে। বাকিগুলো আসার অপেক্ষামান। চীনের পক্ষে ক্ষুদ্র এবং ব্যয়বহুল(তাদের শ্রমবাজার আলোকে) শিল্পগুলো অনেকটা বাধ্য হয়েই স্থানান্তর করতেই হবে ..এই সুযোগটা আমাদের নিতে হবে।
আজকরে খবর জার্মানির ১২টি কারখানা পোল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আসার চুক্তি হয়েছে।আস্তে আস্তে আসবে।এই প্রতিষ্ঠানটি আর্ন্তাজতিক মানের ২৭ বিবাহ বিষয়ক পণ্য তৈরি করে।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি(এফটিএ) বাংলাদেশ এখনও করতে পারেনি । যদিও আলোচনা চলছে ....হওয়ার। চীন নেতৃত্বে যে বিশ্বের বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হলো সেখানে বাংলাদেশ নেই ,ভারতও নেই। ২৪ সালে যদি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে যাবার পর ,
বাণিজ্যে বড় ধাক্কা খাবে বলায় যায়। সেটা সামাল দিতে হয় আলাদাভাবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করুক বাংলাদেশ নয়ত চীন নেতৃত্বধীন বাণিজ্য জোটে প্রবেশ করুক বাংলাদেশ । এটা আামার OPINION ।
এ বিষয়ে আপনার মতামত কি ? বাংলাদেশ কি এই মুক্ত বাণিজ্য জোটে যোগ দেওয়া উচিত? নাকি অপেক্ষা করা উচিত? সংকোচন নীতি নিলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভবনা আছে,.....

আপনার গবেষণামূলক পোস্টের জন্য ধন্যবাদ

২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: রাকু হাসান,




সুন্দর আলোচনা করেছেন মন্তব্যে। ধন্যবাদ।

সরকার জিঞ্জিরাকে নিয়ে ভাবছে অনেক আগে থেকেই। কাজের কাজ কি হচ্ছে আল্লাহ-ই মালুম! বাতাসে কথা উড়ুক, ভালো! তবে বোকাট্টা ঘুড়ির মতো লাট না খেলেই হয়!
বাংলাদেশ একটি পিনও তৈরি করতে পারে না নয় তৈরী করার মতো শিল্প নেই অর্থাৎ নজর নেই। কিন্তু বাংলাদেশ জাহাজ তৈরী করে। সবার চোখ বিশাল কিছুতে।

আপনি "ম্যানুফাকচারিং" এর কথা বলেছেন। একটু ধন্দে পড়ে গেছি। ওটা কি " এসেম্বলিং" হবে ? ওয়ালটন তো শুরুতে বিভিন্ন জিনিষ " এসেম্বলিং"ই করতো এখন তারা নিজেরাই তা উৎপাদনে সক্ষম।

মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে আমার তেমন ধারনা নেই। তবে বাজার অর্থনীতি’ বা ‘মুক্ত বাজার অর্থনীতি " মূলত ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এখানে সরকারী নিয়ন্ত্রন থাকেনা বলেই মনে হয়। ব্যক্তি তার উৎপাদিত পণ্যের বাজার সে নিজেই খুঁজে নেয়, নিয়ন্ত্রন করে, চাহিদা ও যােগানের উপর ভিত্তি করে পণ্যে মূল্য নির্দ্ধারন করার ক্ষমতা রাখে। অর্থাৎ কোনো বাধা-বিপত্তি বা প্রতিকূলতা ছাড়াই একটি দেশের ভেতরে ও বাইরে যে কোনো ধরনের পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয়ের সুবিধা বা নিয়মকানুন অব্যাহত থাকে এই ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদের কারনে। এখানে তাকে প্রতি পদে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হয় মান ও মূল্য নিয়ে। এখানে অবাধ প্রতিযোগিতা ও পণ্যের উপস্থিতিতে পণ্যের দাম নির্ধারিত হওয়ার কারনে আমরা মনে হয় বিপদে পড়তে পারি, বিশেষ করে পণ্যের মান নিয়ে । মুক্তবাজার অর্থনীতির ফলে বাজারে কেবল গুণগত উন্নত মানের পণ্য টিকে থাকবে, অপেক্ষাকৃত নিচু মানের পণ্য বাজার থেকে বিদায় নেবে। এই সত্যের পাশাপাশি আবার এটাও দেখতে হবে যে, বিশ্বের সাথে তাল না মেলাতে পারলেতো তো সবখান থেকেই আমাদের ছিটকে পড়তে হবে।
যাই হোক, আমি বেকুবের মতো আমার ধারনা থেকে বললুম , জ্ঞানীরা নিশ্চয়ই তাদের জ্ঞানী ধারনা নিয়ে এখানে বা অন্যত্র আলোচনা করবেন।

মন্তব্য লাইকড।

২১| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ দুপুর ২:০৭

দেশ প্রেমিক বাঙালী বলেছেন: জ্বী জনাব জিঞ্জিরা এবং ধোলাইখালের স্বশিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ারদের একটু যত্ন এবং সংগে তাদের কিছু পুঁজি দিয়ে উদ্যোক্তা করে গড়ে তোলা খুব কঠিন কাজ হবেনা কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? বাংলাদেশের কোন রাজনীতিবিদ কিংবা আমলা কেউই দেশপ্রেমিক না তাদের লক্ষ্যই হলো দুহাতে টাকা কামিয়ে একাউন্ট ভারীকরা এবং বিদেশে টাকা পাচার করে বাড়ি গাড়ী করা।

রাস্তা দখলকারীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অংকে একটা ফি আদায় করা যায় এবং এটা খুবই যুক্তিযুক্ত একটা বিষয় আপনি সামনে নিয়ে এসেছেন; কর্তা ব্যক্তিরা ভেবে দেখতে পারেন তবে সেটা আদৌ হবে বলে মনে হয়না যদি হয় তাহলে সোনার ছেলেরা মাসোহারা তুলে কোটিপতি হবে কি করে সেটাও ভাবার বিষয়।

চমৎকার একটা বিষয় সামনে আনার জন্য আপনাকে আবারও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন নিরন্তর।

২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:২২

আহমেদ জী এস বলেছেন: দেশ প্রেমিক বাঙালী,




পোস্টের বক্তব্যের সাথে আপনার একাত্মতার জন্যে ধন্যবাদ।
একটু আর্থিক সহায়তা পেলে জিঞ্জিরা মিনি চায়না হতে পারে কিন্তু ঐ যে বললেন - বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে? সমস্যাটা এখানেই। সরকারী আমলা, রাজনৈতিক নেতা সাথে ব্যবসায়ীরাও অলরেডী বেগম পাড়ার বাসিন্দা হয়েছেন এবং আরো অনেকেই হওয়ায় দৌঁড়ে অংশ নিচ্ছেন বলে এদেশের জন্যে তাদের চিন্তা ভাবনা না করলেও চলে। তারা ঐদিকেই মালকড়ি সরবরাহে ব্যস্ত । যারা এখনও পারেন নি তারাও ওখানে যাওয়ার যোগাড়যন্ত্র সেরে ফেলতে জানপ্রান দিয়ে কাজ করছেন। তাই আমজনতার আঙুল চোষা ছাড়া আর কাজ নেই !
ভালোই বলেছেন - "সোনার ছেলেরা মাসোহারা তুলে কোটিপতি হবে কি করে সেটাও ভাবার বিষয়।" তাদেরও তো বেগম পাড়ার বাসিন্দা হতে ইচ্ছে করে!!!!!!!

২২| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮

করুণাধারা বলেছেন: সেদিন দেখলাম জিঞ্জিরাতে জাহাজ পর্যন্ত তৈরি হচ্ছে। মাত্র হাজার খানেক কোটি টাকার প্রণোদনা পেলেই এরা ক্ষুদ্র শিল্পে চীনকে ছাড়িয়ে যাবে, নিঃসন্দেহে। একটা কথা মনে পড়লো, মাও সে তুং যখন চীনে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছিলেন, সেই সময় চীনের ঘরে ঘরে ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ শুরু হল, বাচ্চাদের খেলনা থেকে শুরু করে নানা ধরনের "মেইড ইন চায়না" জিনিস এমনি ছড়িয়ে গেল যে আজ তারা আমেরিকার আই ফোন পর্যন্ত বানাচ্ছে।

এই আই ফোনের প্রসঙ্গে মনে পড়ল, শুনেছিলাম (খবরের লিঙ্ক দিতে পারব না) স্যামসাঙ বাংলাদেশে মোবাইল ফোন কারখানা করতে তিন বিলিয়ন ডলার (২৫ হাজার কোটি টাকা) বিনিয়োগ করতে চাচ্ছিল। স্যামসাঙয়ের যে কর্মকর্তা এ ব্যাপারে আলোচনা করতে এসেছিলেন বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহামান্য তাকে দুই ঘন্টা অপেক্ষায় রেখে দেখা দেন নি। শেষ পর্যন্ত এই বিনিয়োগ যায় ভিয়েতনামে, এরপর থেকে স্যামসাঙ ভিয়েতনামেই বিনিয়োগ করছে। হয়ত এইসব কারখানায় কাজ করতে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক যাবে...

আমি শুনেছি যারা এদেশে শিল্প কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত, তারা এ ব্যাপারে খুবই অনাগ্রহী। ফলে বিদেশীদের দ্বারা এদেশে কল কারখানা খুব কমই গড়ে ওঠে।

এইবার আসি মহাবেকুব জাতকের কথায়। একটা প্রশ্ন, শুরুতেই বলা হয়েছে মহাবেকুব জাতকের গোবরশূন্য মাথা, তাহলে সেখানে যে হরেক আইডিয়া কিলবিল করবেই তাতে সন্দেহ নেই!! তাই তিনি কালো টাকা শুভ্র করতে কালো টাকার মালিকদের কল কারখানা স্থাপনের আইডিয়া দিয়েছেন। তারা এটা করেন না প্রধানত তিনটি কারণে:
১) লাল ফিতার দৌরাত্ম।
২) কল কারখানা না করে হোটেল বা হাসপাতাল স্থাপনে লাভ বেশি, ঝুঁকি কম।
৩) লাভের বড় অংশ চলে যায় ম্যানেজ করার কাজে। সুতরাং কল কারখানা করতে তারা আগ্রহী হন না।

আরেকটা আইডিয়া চমৎকার! আমি কিছুদিন থেকেই ভাবছিলাম রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে যারা আমাদের যানজট, বায়ুদূষণ আর রাস্তা পুনঃ নির্মাণের জন্য অর্থ দেবার ঝামেলায় ফেলে অথচ নিজেরা সহজেই কোটি কোটি টাকা আয় করে, তাদের একটা ব্যবস্থা করা দরকার। এদের থেকে হার্ড কারেন্সি যোগাড়ের মহাবেকুব জাতকের আইডিয়া খুবই পছন্দ হয়েছে। এই অসুবিধা নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম, তাই ছবিও তুলেছিলাম। এটা ব্যস্ততম মিরপুর রোড, জুম করে নির্মাতার নাম দেখে নিতে পারেন।





মহাবেকুব জাতকের হিসাব নিকাশে কোন ভুল পেলাম না। এই আইডিয়া বাস্তবায়িত হলে একটা কাজের কাজ হতো। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এদের থেকে আদায় করা টাকা আবার কারো কালো টাকা বাড়িয়ে দেবে।

দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য এদেশের কিছু মানুষের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে, আর অসততা তো আছেই। তাই তেমন আশাবাদী হতে পারিনা। তবে প্রার্থনা করি, মহাবেকুব জাতকের আইডিয়া বাস্তবায়িত হোক।

২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা ,




নিজস্ব পর্য্যবেক্ষন সাপেক্ষে সুন্দর মন্তব্য করেছেন। লাইকড।

মহাবেকুব জাতকের গোবরশূন্য মাথায় যে হরেক আইডিয়া কিলবিল করছে তাতেই বলেছি - "কেউ কোনও শিল্প গড়ে ব্যবসা করতে চাইলে তিনি তার নিজ খরচেই জমি কেনা, রাস্তা-ঘাট নির্মান-জ্বালানীর জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র -বর্জ্য পরিশোধনাগার সহ “এ টু জেড” অবকাঠামো তৈরী করে নেবেন। এব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য দেবেন মাত্র। যাতে সব টাকাওয়ালারা কোনও বাঁধার সামনে না পড়ে নিজেদের টাকা পাচার না করে দেশে রেখেই সম্পূর্ণ নিজ নিজ শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলে শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে পারেন।
সাদা-কালো সব টাকাওয়ালাদেরই এই একটি জায়গাতেই ভয়, কখন সরকার কি করে বসে! সরকার আজ বলছেন এক আবার পরদিন বলছেন আরেক। আজ ছাড় দিচ্ছেন কাল গলা টিপে ধরবেন না এর গ্যারান্টি কি ? এটা যেন না হয় কিছুতেই। সরকার প্রধানকে এর গ্যারান্টর থাকতে হবে।"
তবুও আপনার আশংকার কারনে এটাও ভেবে দেখা যেতে পারে যে, সরকার বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ঠিক করে দেবেন কতোজন কোথায় কোন সেক্টরে বিনিয়োগ করতে পারবেন। দরকার হলে লটারী করে ভাগ করে দেবেন। কেউ যেন একই খাতে একটির বেশী ইউনিট গড়ে তুলতে না পারেন, সেটাও দেখতে হবে।

স্যামসাঙয়ের কর্মকর্তাকে যে বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহামান্য ঘন্টা দুই অপেক্ষায় রেখেও দেখা দেন নি, সে ঘটনা আমিও শুনেছি।

হার্ড কারেন্সি যোগাড়ের মহাবেকুব জাতকের আইডিয়া যখন খুবই পছন্দ আর তা নিয়ে লিখতেও চাচ্ছিলেন, ছবিও তুলেছিলেন তাহলে করুণা করে লিখেই ফেলুন না ! দেরী কেন ? বেকুব তাহলে তার বেকুবীয় ভাবনায় একজন সঙ্গী পায়। ভাবনাটাও জোরালো হয়।

দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য এদেশের কিছু মানুষের সদিচ্ছার অভাব তো রয়েছেই , আমার তো মনে হয় এরা জানেই না কোন উন্নয়নটি আমাদের সবার আগে দরকার এবং তা কখন করতে হবে - কি ভাবে করতে হবে।

মহাবেকুব জাতকের আইডিয়া যাতে বাস্তবায়িত হয় সেজন্যে প্রার্থনা করেছেন। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার দরবারে দেশের জন্যে আমাদের এতো এতো প্রার্থনা যে জমা পড়েছে তাতে তাঁকেও মনে হয় হিমশিম খেতে হচ্ছে, কোনটা রেখে কোন প্রার্থনাটা আগে শুনবেন! :(

২৩| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১০

করুণাধারা বলেছেন: ছবিগুলো বোধহয় এখানে আসতে চাচ্ছিল না, কেমন ওলটপালট খেয়ে গেল :-&

২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২০

আহমেদ জী এস বলেছেন: করুণাধারা,




আমার তৃতীয় ধারনার সাথে একেবারে সম্পৃক্ত বিধায় ওলোট পালোট ছবি দু'টি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে আগে ঠিক করে দিলুম --



২৪| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: দীর্ঘ পোস্ট সকল মন্তব্য সহ পড়লাম। সময় লেগেছে পয়েন্ট পচাত্তর (৪৫মিঃ) শ্রম ঘন্টা। (আহারে কেউ যদি পে করতো!

২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:১৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: গিয়াস উদ্দিন লিটন,




"পে" করার ক্ষমতা যাতে পাবলিকের হয় সে জন্যেই তো এতো এতো বেকুবী থিয়রী দিলুম । এ সব করা গেলে যে কারো শ্রমের পারিশ্রমিক অল্পের বদলে বেশি হবারই কথা। :|

২৫| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন:
বিশেষ করে শাহ আজিজ, ঠাকুর সাহেব ও জুন এর মন্তব্য পোস্টকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। পোস্ট ও মন্তব্য সমুহে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা ও পরামর্শ উঠে এসেছে, যার দশ ভাগ বাস্তবায়িত হলেও দেশের চেহারা পাল্টে যাবে। সমস্যা হচ্ছে যারা ভাবলে দেশের উপকার হত তারা এসব নিয়ে ভাবছেন না। তারা এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় 'দিবানিদ্রা,বাতকর্ম, নাক ঝাড়া নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

২৪ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: গিয়াস উদ্দিন লিটন,



যাদের ভাববার কথা তারা দিবানিদ্রা,বাতকর্ম, নাক ঝাড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বেগমপাড়ায় বাড়ি কেনার খায়েশ পূর্ণ করতে ব্যস্ত আছেন।

মন্তব্যে যাদের কথা বলেছেন তাদের মন্তব্য অবশ্যই মহাবেকুবের বেকুবী ভাবনাকে জোরালো করেছেন নিঃসন্দেহে।

২৬| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: ব্লগার চাঁদজাজীর বেশিরভাগ পোস্টকেই আমি আসলে ফান পোস্ট হিসেবে নেই। সম্পুর্ন অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী সরকারকে সাপোর্ট দিয়ে তিনি দেশের উন্নতি চান!!!! এরচেয়ে বড় রম্য আর কি হতে পারে? এর চেয়ে বড় ভন্ডামি আর কি হতে পারে?

আজ থেকে বিশ বছর আগেও যখন দেশে ছিলাম, দেশের পরিস্থিতি আজকের মত ভয়াবহ ছিল না। যদিও ক্ষমতায় তখন এই বিএনপি আওয়ামিলীগই পরপর ছিল। দুর্নীতি তখনও ছিল কিন্ত তারপরেও দুর্নীতিবাজদের মনে ভয় ছিল। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বহু লোককে ভাল হয়ে যেতে দেখেছি, বহু লোককে টিকিট কেটে বিদেশে পালিয়ে যেতে দেখেছি, পদ হারিয়ে রাস্তায় মাইর খেতে দেখেছি। আর এখনতো সেসবের আর বালাই নাই। ভয় ডরের উর্ধে উঠে গেছে অসৎ ও দুর্নিতিবাজ লোকেরা।

২৫ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঢাবিয়ান,




চাঁদগাজীর বেশিরভাগ পোস্টকেই আপনি ফান পোস্ট হিসেবে নিলেও যে পোস্টটি প্রসঙ্গে আমার এই লেখা তার বক্তব্যকে কি ফান বলা যাবে ? আর উন্নয়ন করতে হলে আমরা চাই বা না চাই, পছন্দের সরকার হোক বা না হোক সরকারের সহায়তা কিন্তু লাগবেই। খেয়াল করলে দেখবেন, দেশে চাকুরী কেন সৃষ্টি হয়না, এতো বেকার কেন, শিক্ষার প্রতি কেন গুরুত্ব দেয়া হয়না এসব নিয়ে চাঁদগাজী কিন্তু সরকারকে সব সময়ই বাঁকা কথা বলে থাকেন।

তবে এটা ঠিক বলেছেন - "ভয় ডরের উর্ধে উঠে গেছে অসৎ ও দুর্নিতিবাজ লোকেরা।"
তাই বলে কি আমরা দেশকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা একেবারেই ছেড়ে দেবো ? ঠিক হবে কি ? আমাদের সর্ব আশাত্যাগী আমজনতার এটুকুই তো যা বিলাস।

২৭| ২০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৫৩

স্থিতধী বলেছেন: ১) কালো টাকার এভারেস্ট যারা তৈরি করেছেন তাঁদের জন্য যে আসলে কোন লেবিঞ্ছুস টা চোষার সবচেয়ে উপযোগী হবে সেটা নির্ণয় করা সম্বভত সবচাইতে মুস্কিল কাজ। সম্পূর্ণ করমুক্ত ও অর্থের উৎসে প্রশ্ন বিহীন বিনিয়োগের সুযোগটাও তাঁরা কতজন সানন্দে গ্রহণ করবেন এনিয়ে একটা সন্দেহের প্রধান কারন এটাই যে তাঁরা যখন বিদেশে টাকা পাচার করেন তখন শুধু বাড়ী-গাড়ি আর বেগম পাড়ার বিলাসেই থাকেন না; বিদেশের বিজনেস ইনভেস্টমেন্ট ভিত্তিক মাইগ্রেশনের যে একটা সুযোগ থাকে, সেটার সুযোগ নিয়ে ব্যাবসা দক্ষতা সম্পন্ন কালো টাকার মালিকেরা বিদেশেই ব্যবসায় টাকা লগ্নি করতে আরো উৎসাহী হন । ব্যবসায়িক নীতি থেকে অন্যান্য যাবতীয় সিস্টেমের সুবিধা বিদেশে বেশী থাকায় তাঁরা বিদেশে ব্যাবসা করাটাকে অধিক নিরাপাদ ও লাভজনক বিবেচনা করবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ ডুয়িং বিজনেস ইনডেক্সে ক্রমাগত অবনমন ( বর্তমানে ১৯০ দেশের মাঝে ১৬৮ তম) ইঙ্গিত দেয় যে এদেশে ক্ষুদ্র থেকে ভারী যেকোন ব্যাবসায় বিনিয়োগ নানাভাবে কতটা কঠিন করে রাখা হয়েছে। যার ফলাফল হচ্ছে জবলেস গ্রোথ। ব্লগার এক নিরুদ্দেশ পথিক এ বিষয়গুলো নিয়ে সম্প্রতি এক দীর্ঘ তথ্য বহুল পোস্ট করেছিলেন । এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থার সঙ্কটগুলো কিভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা দেশেই রাখতে এ নিয়ে নানা ট্রায়াল- টেস্ট চলতে পারে। জাপানের ব্যাবসা নিয়ে কোথাও একটা পড়েছিলাম যে, সেখানে ক্যাপিটেলিজমে ইফিসিয়েন্সি আনার জন্য কাট থ্রোট কম্পিটিশনের বদলে বাজারে এক ধরনের উইন- উইন সিচুয়েশন তৈরি করা হয় যাতে প্রত্যেক কম্পানি-ই মার্কেটে আস্থা রেখে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখে। সেখানে নাকি প্রতিটি প্রাইভেট কম্পানীর তাঁদের ব্যাবসায়িক প্রতিযোগী কম্পানীর কিছু স্টক কেনা থাকে। ফলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যে কোম্পানি -ই বছর শেষে বেশী ব্যাবসা করুকনা কেন তাঁর প্রতিযোগী কম্পানীও তখন তাঁদের স্টক মার্কেট থেকে লাভবান হয়। এভাবে করে বাজারে আস্থার সঙ্কট কে কমিয়ে আনা হয় যেহেতু বাজার থেকে লাভবান হবার এক রকমের নিশ্চয়তা থাকে দুপক্ষের- ই। কালো টাকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এরকম বাজার সম্পর্কে পারস্পরিক আস্থার একটি পরিবেশ তৈরি করতে পারলে, দেশের স্টক মার্কেটেও স্ট্যাবিলিটি আনা সম্ভব হবে হয়তো যা দিন শেষে বিনিয়োগের চাকা কেই সচল করবে।

২) জিঞ্জিরার বিষয়টি এখন এক রকমের সময়ের দাবী। তাঁরা সত্যি- ই আরো সাপোর্ট ও বিনিয়োগের যোগ্য। আরো পাঁচ- ছয় বছর আগে থেকেই শুনছিলাম যে সরকারের নাকি প্ল্যান আছে, কিছু এলিমেন্টারি গবেষণা ও প্রস্তাবনাও ছিলো বাংলাদেশের কিছু ব্যাবসায়িক এসোসিয়েসনের থেকে একে ঘিড়ে। সেসব নিয়ে পরে কি হয়েছে কতটুকু হয়েছে জানিনা।

৩) এস এম ই খাতে দেশের স্টারট আপ ইকোসিস্টেম ডেভলপমেন্টের নিয়ে ভালো কাজ ২০১৩- ১৬ পর্যন্তও হচ্ছিলো ঠিক ঠাক, অনেক তরুণ উদ্দোক্তা নানা আইডিয়া ও ব্যাবসা নিয়ে উৎসাহী, উদ্যমী ছিলো । কিন্তু সেখানেও এক শ্রেনীর বিনয়োগকারী বিনিয়োগের নামে মূলত সরকারী মহলে লিয়াজো করে নিজেদের ব্রান্ডিং করে কিছু সরকারী প্রজেক্ট হাত করার কাজে বেশী আগ্রহী ছিলো এবং তাতে অনেকেই সফল। দ্বিতীয়ত, এই বিনিয়োগকারীরা শুধুই তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ব্যাবসা আইডিয়া গুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, ফলে কৃষি সহ অন্যান্য খাতের ব্যাবসা উদ্যোগ সেখানে সম্পূর্ণ অবহেলিত হয়।

৪) চাঁদগাজী সাহেব যেমনটা বলেছেন, সবকিছুর আগে লাগে একটা উদ্দেশ্য। একটি বোধগম্য ও কর্ম পরিকল্পনা সম্পন্ন সৎ উদেশ্য।সরকার যদি আন্তরিক ভাবে উদ্দেশ্য প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উদ্দোগী হয় তবে যেমন আপনার শেষ আইডিয়াটি সত্যি -ই প্রচুর রাজস্ব আনতে সক্ষম তেমনি আবার শিল্পায়নের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ঠাকুরমাহমুদ সাহেব যে ভয় গুলো করছেন সেগুলোকেও সহজেই সঠিক নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। আপনার সাথে আমিও একমত যে ইটের ভাটার থেকে বেশী দূষণ বাংলাদেশে খুব কম কিছুই করতে পেরেছে, কাছাকাছি আছে হয়তো ট্যানারির বর্জ্য। পোস্ট টির জন্য ধন্যবাদ। এর আলোচনা গুলো অনেক প্রাণবন্ত হয়েছে , যদিও লেখার শেষ বক্তব্যের মত আমরা সবাই আসলে কিছু কথা বলতে পেরেই খুশী বেকুবের মতো। বাকী যাদের করার কথা তাঁরা নিজেরাই আসলে এদেশের ভবিষ্যত নিয়ে আস্থাহীন , নিজেদের নিয়ে নয় যদিও।

২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০২

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্থিতধী,




এমন সুন্দর বিশ্লেষণমূলক মন্তব্যের জবাব দিতে দেরী হলো বলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।

তারপরেও কালো টাকার মালিকদের সম্ভবত এতো এতো টাকা যে, বিদেশে ব্যবসায় টাকা লগ্নি করার পরেও তাদের টাকা ফুরোবেনা। কারন টাকার গাছটা তো এদেশে , ঝাঁকি দিলেই তাদের ক্ষমতার জোরে টাকা ঝরতেই থাকে। অফুরান উৎস। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় তো বলেইছেন, বেগমপাড়ায় বেশির ভাগই সরকারী কর্মচারীদের বাড়ী। আপনার কথামতো, তাই মনে হয় দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা দেশেই রাখতে নানা ট্রায়াল- টেস্ট চলতে পারে। আমিও তেমন একটা ট্রায়ালের কথাই বলেছি।

একথা একদম ঠিক - এদেশে ক্ষুদ্র থেকে ভারী যেকোন ব্যাবসায় বিনিয়োগ নানাভাবে কতটা কঠিন করে রাখা হয়েছে। যার ফলাফল হচ্ছে জবলেস গ্রোথ।
লালফিতের দৌরাত্ম‍্য বলে যে কথাটা আছে সেটা আমাদের দেশে ১০০% এর বেশী কার্য্যকর। তারপরে গোঁদের উপর বিষফোঁড়ার মতো চাঁদাবাজীতো রয়েছেই। তাই এখানে বিনিয়োগে বাইরের কেউই উৎসাহী হতে চান না।

শিল্পে উইন- উইন সিচুয়েশনের জন্যে জাপানের যে উদাহরণ টেনেছেন তা আমাদের জন্যে মোটেও প্রযোজ্য নয় বলে আমার ধারনা। কারন জাপানের শিল্প বিস্তার বা তাকে প্রোটেকশানের পরিবেশ আর আমাদের পরিবেশ এক নয়। আমাদের এখানে তো সবটাই কেমন কেমন । অন্যের মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়ার প্রতিযোগিতা। সেটা ষ্টকমার্কেটই বা কি আর সরাসরি মার্কেটই বা কি! তার উপরে রয়েছে আমাদের ধান্ধাবাজীর মানসিকতা। এটা তাড়ানো যাবে কি করে?

জিঞ্জিরা এলিমেন্টারি গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ অথচ প্রয়োগিক দিকটাতেই যতো গড়িমসি। জিঞ্জিরা কি করতে পারে তা পোস্টেই বলেছি । তাই জিঞ্জিরাকে নিয়ে কমপক্ষে যা করা যেতে পারে তা আগের থেকে থাকা সব শিল্প প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকতার ছাঁচে ফেলে রি-এ্যারেঞ্জ করা। তাতে নতুন করে শিল্পায়নের ধকল-সময় আর টাকার সাশ্রয় হতো নিঃসন্দেহে।

বলেছেন - এস এম ই খাতে বিনিয়োগকারীরা শুধুই তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ব্যাবসা আইডিয়াগুলোতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, ফলে কৃষি সহ অন্যান্য খাতের ব্যাবসা উদ্যোগ সেখানে সম্পূর্ণ অবহেলিত হয়।
এখাতেও অর্থ ঋণের জন্যে যে হ্যাপা পোয়াতে হয় তাতে তরুনদের উৎসাহ দমে যায়। তাই য তরুন যারাই এখানে আসেন না কেন তারা অর্প সময়রই রেজাল্ট দেখতে চান বলেই তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ব্যবসার দিকো ঝুঁকে পড়েন , কৃষির মতো সময় সাপেক্ষ ব্যাপারে তাই তাদের আগ্রহ থাকেনা। আর থাকলেও উৎপাদন, সরবরাহ, বিপণনে পদে পদে বাঁধার কারনে তারা লোকসানের আশংকা করেন। এ ব্যাপারে আমার আরেকটি পোস্ট - মহাবেকুব জাতক কথন - এক দৈকে নিলে কি বলতে চেয়েছি বুঝতে সুবিধে হবে।

আমি আসলেই বকলম এই সব অর্থনীতির বিষয় আসয়ে। তাই বেকুব বলে আপনার এমন বিশ্লেষিত মন্তব্যের ঠিকঠাক বা একাডেমিক জবাব দেয়া হলোনা মনে হয়!

মন্তব্যে অনেক আগেই কিন্তু লাইক দিয়ে রেখেছিলুম একারনে যে, আপনার মন্তব্য এই পোস্টটিকে সমৃদ্ধ করেছে।

২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৮:০৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্থিতধী,



তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে বেশ কিছু টাইপো হয়ে গেছে, লজ্জিত।

২৮| ২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১:৫২

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: আসল বাস্তবতা তারাই জানে,
উৎপাদনমুখী কারখানা করতে গিয়ে শত সহস্র বাধা বিঘ্ন পার হতে হয় ।
উপরন্ত আমাদের দেশের মতো কোন উন্নত দেশে এত চড়া সুদে লোন
নিতে হয়না ।

.......................................................................................................
অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকীরা বিভিন্ন অসহযোগিতার কারনে মুখ থুবড়ে পরে ।
আমার জানা একটি চীনা প্রতিষ্ঠান সর্ম্পকে বলতে পারি, ঐ প্রতিষ্ঠান কিছুদিন পূর্বে
শততম বর্ষ পালন করল, তাদের অতীত বলে ,সরকার তাদের সকল সুযোগ সুবিধা দিয়ে ছিলো,
তাদের কারখানা করার জন্য যে পরিমান স্হান দেয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের কেউ পেলে
বাড়ী বানায়ে টাকা অর্জন করে সিঙ্গাপুর বা টরন্টোর বউবাজারে আলিশান বাড়ী করত ।

২৭ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ৯:৩৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: স্বপ্নের শঙ্খচিল,




বাস্তব কথাই বলেছেন।
সুযোগ পেলেই সেই সুযোগের অপব্যবহার করতে আমাদের জুড়ি নেই।

২৯| ২৩ শে নভেম্বর, ২০২০ ভোর ৬:২৪

সোহানী বলেছেন: জী ভাই বলতে চাই না তারপরও আপনাদের এরকম পোস্ট দেখলে মুখ খুলতে ইচ্ছে করে।

সব বাদ দেন। শুধু বলেন যারা এখন চূঁড়ায় বসে আছে তারা বুকে হাত দিয়ে বলুক দেশের ভালো চাই। যা আয় করেছি তা দিয়ে বেগম পাড়ায় ছেলে মেয়ের চৈাদ্দ বংশ রাজার হালে খেতে পারবে। এবার দেশের দিকে মন দেই।...... দেখবেন রাতারাতি আলো ঝলে উঠছে দেশে।

কিন্তু না তা হবার নয়। আরো চাই, আরো চাই............. দেশ রসাতলে যাক, মানুষ রাস্তায় মরুক না খেয়ে তাতে আমার কি?পোরলে দেশ বিক্রি করে নিজের পকেট ভরি..........নিজে বাঁচলে বাপের নাম। তাই নয় কি??????

শুনেন ভাই, একটা সরকারী প্রজেক্টের গল্প বলি। সেখানে কয়েক'শ মিলিয়ন ডলার বাজেট। দেশের এমন একটি জায়গা থেকে কাজ করে যে সেখানে লাখ লাখ দরিদ্র মানুষ সাহায্য পায় (নাম বল্লাম না সঙ্গত কারনে)। যাই হোক, সামান্য ট্রেনিং এর কয়েক হাজার টাকার ভাগাভাগিতে কম বেশী হওয়ায় এক গ্রুপ ডোনার এজেন্সিকে সব চুরি চামারির রিপোর্ট স্কেন করে পাঠায়ে ডোনেশান বন্ধ করার অনুরোধ করে। এবং তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মাসে দশ লাখ টাকা বেতনে রাখা বিদেশী কনসালটেন্টকে অনুরোধ দেয় ডোনার। এবং উনি আরো রং মেখে তা জানায় এবং যার প্রতিশ্রুতিতে সব সাহায্য বন্ধ করে দেয়া হয়। প্রশ্ন করেছিলাম সে বিদেশী কনসালটেন্টকে। তুমি প্রজেক্ট রক্ষা না করে উল্টো বন্ধ করার প্রপোজাল দিলে কেন? সে উত্তর দিলো, আমার দুই মেয়াদের কন্ট্রাক্ট শেষ। এই লোকগুলো অনেক যন্ত্রনা দিয়েছে। তাই তাদের পানিশমেন্ট হওয়া উচিত। তাই প্রজেক্ট বন্ধ করার প্রপোজাল দিয়েছি। বাংলাদেশে এইবার এ প্রজেক্ট না পেলে আফ্রিকা পাবে। আমার নেক্সট কন্ট্রাক্ট সেখানে নিবো। আমার এক্সপেরিয়েন্স কাজে দিবে। বলে রাখা ভালো উনি ছিলেন ভারতীয়।................

আর বলতে ইচ্ছে করছে না। এবং এ ষড়যন্ত্রে পুরোপুরি সাহায্য করেছিল আমাদের জাতি ভাইয়েরা। আমরা কতটা বেকুব তার কি কোন ইয়াত্তা আছে??

২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোহানী,




প্রতিমন্তব্য করতে অনিচ্ছাকৃত দেরীর জন্যে লজ্জিত।
মনে হয়না উঁচুতে বসে থাকা কেউ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে, "দেশের ভালো চাই" ! এরা আলীশান এক একটা আখের গোছাতে ব্যস্ত।
আমাদের যে চরিত্র তা আপনার দেয়া উদাহরণটায় চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে। তা হলে দেখা যাচ্ছে, আমি একাই নই; আমার মতো বেকুবও তাহলে আছে ভুরি ভুরি ? :(

৩০| ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:২৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: 'মহাবেকুব' এর এসব পোস্ট পড়ে পড়ে বেকুব পাঠকেরাও যথেষ্ট 'বেকুবীয় আনন্দ' পাচ্ছেন, এজন্য 'মহাবেকুব' কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমি নিজেও একজন বেকুব বিধায়, মহাবেকুব এর প্রতিটি বক্তব্য খুব সহজেই বুঝতে পেরেছি এবং এ নিয়ে তার সাথে সহমত প্রকাশ করছি।
বেশ কয়েকজন 'উপ-মহাবেকুব' তাদের মোটা বুদ্ধি দিয়ে মহাবেকুব এর এ পোস্টকে সমৃদ্ধ করেছেন, যেমনঃ শাহ আজিজ, ঠাকুর মাহমুদ, করুণাধারা, জুন, স্থিতধী, সোহানী প্রমুখ। মহাবেকুবসহ তার এ বেকুব টীমকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বেকুবীয় এ পোস্টে অষ্টাদশতম বেকুবীয় প্লাস + +!

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,




একটা কথা আছে - " পাগলে পাগল চেনে কু্উ....ক দিলে।" এখন দেখছি - বেকুবে বেকুব চেনে আওয়াজ দিলে। :P
তবে বাংলা শব্দ ভান্ডারে একটি নতুন শব্দ যোগ করেছেন - 'উপ-মহাবেকুব' । অনবদ্য। মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে এই মহাবেকুবের বেকুবীয় বাত-চিৎ'য়ে তুরীয়ানন্দে আছেন । :)
তবে যা-ই বলুন, অনেকের কাছেই তেতো সত্য কথা পাগলের প্রলাপের মতোই মনে হয় । বেকুব ভেবে বসে। আমিও মনে হয় তাই-ই মাঝে মাঝে বলে ফেলি বলে বেকুবের গোত্রে পড়ে যাই।

আপনার এই রসীয় মন্তব্যে কিন্তু আগেই ভালো লাগা জানিয়ে গেছি।

৩১| ২৯ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১১:৩১

খায়রুল আহসান বলেছেন: ডঃ এম এ আলী, আমি সাজিদ, রাকু হাসান এর নামগুলো ভুলক্রমে বাদ পড়ে গিয়েছিল। তাদের সকলকে বেকুবীয় অভিনন্দন!

০১ লা ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,



আপনার উল্লেখিত সকল 'উপ-মহাবেকুব'রা এই বেকুবীয় অভিনন্দন পেয়ে খুশি হবেন নিশ্চয়ই!

৩২| ৩০ শে নভেম্বর, ২০২০ রাত ১২:২৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




খায়রুল আহসান ভাই, উপ-মহাবেকুব উপাধি টি আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। আমার আন্তরিক ধন্যবাদ গ্রহণ করুন। আমার জীবনের সাথে ওতোপ্রোতভাবে “সহকারী, সিনিয়র সহকারী, উপ, অতিরিক্ত” উপাধিগুলো জড়িত।

আহমেদ জী এস ভাই,
ব্লগার খায়রুল আহসান ভাই, ডঃ এম এ আলী ভাই ও চাঁদগাজী ভাই এর সম্মানে একটি কবিতা উল্লেখ করছি।

----------------------------------------------------
সভ্যতার প্রতি
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,

গ্লানিহীন দিনগুলি, সেই সন্ধ্যাস্নান,
সেই গোচারণ, সেই শান্ত সামগান,
নীবারধান্যের মুষ্টি, বল্কলবসন,
মগ্ন হয়ে আত্মমাঝে নিত্য আলোচন

মহাতত্ত্বগুলি। পাষাণপিঞ্জরে তব
নাহি চাহি নিরাপদে রাজভোগ নব--
চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,
বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,
পরানে স্পর্শিতে চাই ছিঁড়িয়া বন্ধন
অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।
----------------------------------------------------

সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভ কামনা।




০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৪:৪৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




আমরা কেউ কেউ তো এখনও চীৎকার করেই বলি - দাও ফিরে সে অরণ্য.............
তপোবনের পুণ্যচ্ছায়ারাশিতে যে ক্ষনেকের জন্যেও বিশ্রাম নেয়নি, লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তরের এমন নগরবাসীকে ধিক!!!!!!

এমন কবিতা উৎসর্গের জন্যে আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকেও --
আগাগোড়া নগরীর দিকে চেয়ে থাকি;
অতীব জটিল ব'লে মনে হ'লো প্রথম আঘাতে;
সে - রীতির মতো এ স্থান যেন নয়,
সেই দেশ বহুদিন সয়েছিলো ধাতে .....
( জীবনানন্দ )


৩৩| ০১ লা ডিসেম্বর, ২০২০ সকাল ৯:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: @ঠাকুরমাহমুদ,
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর এ বিখ্যাত কবিতাংশটি এখানে উপস্থাপন করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। এ কথাগুলোর আবেদন অমূল্য, চিরস্থায়ীঃ
"চাই স্বাধীনতা, চাই পক্ষের বিস্তার,
বক্ষে ফিরে পেতে চাই শক্তি আপনার,
পরানে স্পর্শিতে চাই ছিঁড়িয়া বন্ধন
অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন।"

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,



"অনন্ত এ জগতের হৃদয়স্পন্দন" কে না চায় স্পর্শ করতে ? কিন্তু এই নিদান কালে সে স্পন্দন কি আদৌ শোনা যায় যে স্পর্শ করা যাবে, করা যাবে অনুভব ?
"ঠাকুরমাহমুদ" ও মনে হয় এমন আক্ষেপ থেকে ঐ কবিতাটি তুলে ধরেছেন!

৩৪| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:২৩

নীল আকাশ বলেছেন: দেরি করে পড়লাম। সবাই অনেক কিছুই বলে গেছেন। কিন্তু কেউ আসল কথা বলেন নি।
আমার পরিচিত একজন বুয়েটের সিনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার বেশ কয়েকবছর দেশে ফিরেছিলেন একটা অটোমোবাইল ফ্যাক্টরী দেবার জন্য। শুধু প্রথম তিনমাস উনাকে ঘুরতে হয়েছে সচিবালয়ে।
যে পরিমান ডিমান্ড করেছিল সেটা শুনার পর দেশে থাকার ইচ্ছেই উনার উবে গিয়েছিল।
এরপর জায়গা কিনেত গেলে আঞ্চলিক এবং জাতিয় পর্যায়ের দলীয় চাদাবাজী। কাস্টমস এবং সিন্ডিকেট পোর্টে।
লাস্ট খবর পেয়েছিলাম উনি আর দেশেই আসেন নি। স্থায়ীভাবেই বিদেশে থেকে গেছেন।

এইদেশে কোন ভাল কাজ করতে যাওয়া পাপ, মহা পাপ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৮:১৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: নীল আকাশ,




দেরী করে পড়েছেন, ক্ষতি নেই। এসব চলমান সমস্যা।
সবাই অনেক কিছুই বলে গেছেন। কিন্তু কেউ আসল কথা বলেন নি।
কেন , আমিতো পোস্টেই বলেছি - " ভয় গুলো কি ? পদে পদে চাঁদাবাজী - লাল ফিতার দৌরাত্ম্য - সরকারী নীতির শত শত ফ্যাকড়া।" এই লালফিতের মুলো ঝুলিয়ে টেবিলে টেবিলে চাঁদাবাজীই করা হয়।
আপনার দেয়া উদাহরণ আরো শত শত আছে। এটাই এদেশের বাস্তবতা- " ফেল কড়ি , মাখো তেল।"

৩৫| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৪৫

রানার ব্লগ বলেছেন: আপনি একটু ভালো করে বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকান, আম জনতা কি নিয়া ব্যাস্ত, সোশ্যাল মিডিয়া বলেন আর ইলক্ট্রনিক মিডিয়া বলেন এরা কি নিয়া ভাবছে? এরদের চিন্তা ভাবনায় কোথাও কি আছে দেশের শিল্প উন্নয়ন বা রাস্ট্রের উন্নয়ন, না , নাই। কি আছে সেটা নাইবা বললাম। মানুষ এখন উন্মাদ হয়ে গেছে, এদের মগোজ এখন শিতল ঘরে রেস্ট নিচ্ছে, তরুন যুবা প্রবিক বৃধ্ব্য যাদের সাথেই আপনি আলোচনা করুন এদের ভেতর কোন মৌলিক কিছুই পাবেন না যা পাবেন তা হোল অন্ধত্ব !!!


আপনার লেখা অনেক বড় হয়ে গেছে একটু ছোট করুন ।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ৯:১৬

আহমেদ জী এস বলেছেন: রানার ব্লগ ,



প্রসঙ্গ কিন্তু আমজনতা এখন কি ভাবছে তা নিয়ে নয়। শিল্পায়নের জন্যে কি করা উচিৎ আর দেশে "হার্ড কারেন্সী"ই বা আসবে কোত্থেকে সে প্রসঙ্গ নিয়ে লেখা। এখানে আমজনতার মৌলিকত্ব নেই বলে আহাজারী করার কিছু নেই সবটাই সরকারের করনীয় নিয়ে নসিহত।

লেখা কি খুব বেশী বড় হয়ে গেছে ? কি করবো বলুন, লিখতে বসলে কলম চলে পঙ্খিরাজের মতো। তার উপরে আবার মহা বেকুব বলে কতো বেকুবী কথাই না বলতে হয় !

৩৬| ০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:৫৯

এমেরিকা বলেছেন: শুরুতেই আমার নাম দেখে চমকে গিয়েছিলাম। আমি আসলে ব্লগার নই, কমেন্টেটর, তাই ব্লগার বলিয়া লজ্জা দিবেন না প্লীজ।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শিল্প ক্ষেত্রে ঢালাও বিনিয়োগ কোন কল্যাণ বয়ে আনবেনা। বাজার যেহেতু সীমিত, তাই এই বাজারের ভাগ নিতে ব্যবসায়ীদের কামড়াকামড়ি দেশের বাণিজ্য বাজারকে আসলে অস্থিতিশীল করে তুলবে। তার চেয়ে আমাদের উদ্বৃত্ত অর্থ বিনিয়োগ করে যদি যদি যোগাযোগ ক্ষেত্রে মহা বিপ্লব সংঘটন করা যায় - খুলনায় উৎপাদিত পণ্য যদি ৩ ঘন্টায় ঢাকায় আনা যায় - তাহলে প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে, যার উপকারভোগী সারা দেশের মানুষই হবে। তবে এই নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে উপযুক্ত পরিকল্পনা আর সুশাসনের কোন বিকল্প নেই।

০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১০:০৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: এমেরিকা,



স্বাগতম আমার ঘরে।

আপনার নামটি আনতে হয়েছে এই কারনে যে , যে উদ্ধৃতি আপনি চাঁদগাজীর পোস্টে দিয়েছেন আমাদের অ-শিল্পমনস্কতার পেছনে এর চেয়ে সরল সত্য আর নেই।

যোগাযোগ ক্ষেত্রে মহা বিপ্লব ঘটালেই বা লাভ কি যদি পণ্যের উৎপাদন-ই না থাকে ? তাই কৃষি থেকে শুরু করে সকল পণ্য উৎপাদন শিল্প যেমন বাড়াতেই হবে তেমনি সাথে সাথে পরিবহনের জন্যেও সমান্তরাল ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে । তবেই প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেড়ে যাবে ।
এ প্রসঙ্গে আমার লেখা মহাবেকুব জাতক কথন - এক দেখে নিলে আপনার কথার মিল পেতে পারেন খানিকটা হলেও।

মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছান্তে।

৩৭| ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৫৫

ফটিকলাল বলেছেন: বাংলাদেশে একটা ব্যাবসা চালু করতে বছর দুয়েক লাগে যেখানে আফগানিস্তানে কয়েক মাস এবং বার্মাতে সপ্তাহ। আপনার ট্রেড লাইসেন্স বের করতেই তো তিন সপ্তাহ। এখন একজন বিদেশী বিনিয়োগকারী যখন দু বছর ধরে বসে থাকবে গ্যাস পানি বিদ্যুৎসহ লাইন আর বিদেশ থেকে টাকা নির্দিষ্ট চ্যানেলে এনে বিনিয়োগের পর বিনিয়োগ বোর্ডের সর্বশেষ গ্রীন সিগন্যাল পেতে সেখানে কার এত ঠেকা।

তার ওপর ঢাকার বাইরে যেসব ইপিজেডে জায়গা পাওয়া যায় সেখানে গ্যাস থাকলেও বিদ্যুৎ নেই বিদ্যুৎ থাকলেও নিয়মিত নয়। বিদ্যুৎ এর জন্য নিজেরা জেনারেটর বসালে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বি কারন তেলের ওপর সরকার ভর্তুকি না দিয়ে প্রায় দ্বিগুন দামে বিক্রি করছে। গ্যাস সংযোগ শুধু নামে কিন্তু গ্যাসের প্রেসার নাই।

বেসিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের যদি এ অবস্থা হয় বাকি গুলোতো পরের ব্যাপার।

আর যার কালো টাকা কামানোর ক্ষমতা আছে তার কাছে কে কোনো সাহসে চাঁদা নেবে? বরংচ চাঁদা বাজরা তার হয়ে এলাকায় পরবর্তী এমপি বা রাজনৈতিক দলে ঢোকানোর জন্য তার পিছ পিছ ঘুরবে।

তার ওপর দেশে দক্ষ পেশাজীবি নেই। যারা মেধাবী তারা দেশ ত্যাগ করেন। ফলে বাইরে থেকে আউটসোর্স করতে গেলে প্রোডাকশন খরচ যায় বেড়ে।

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ফটিকলাল ,



লালফিতের দৌরাত্ম্য আর সরকারী নীতির শত শত ফ্যাকড়ার কথা কিন্তু আমি পোস্টেই বলেছি। বলেছি, নীতি নির্ধারকদের দীর্ঘমেয়াদি কিন্তু উদ্ভট সব পরিকল্পনার কথা এমনকি শুল্ক-ভ্যাট ইত্যাদির পেষন এর কথাও বাদ দিইনি।
এইসব ভয়েই শিল্প কারখানা গড়তে কারো ঠেকা পড়ার কথা নয়।
তাই সেসব পোষাতে এ কথাও বলেছি - "কেউ কোনও শিল্প গড়ে ব্যবসা করতে চাইলে তিনি তার নিজ খরচেই জমি কেনা, রাস্তা-ঘাট নির্মান-জ্বালানীর জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র -বর্জ্য পরিশোধনাগার সহ “এ টু জেড” অবকাঠামো তৈরী করে নেবেন। এব্যাপারে সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য দেবেন মাত্র।"

আপনার মতো আশংকা থেকেই কালো টাকাকে মেইনষ্ট্রীমে নিয়ে আসতে সরকারের কি করা উচিৎ তা পোষ্টেই লেখা আছে।
সে অংশটুকু আর একবার ভালো করে পড়ে দেখুন, আপনার আশংকা মাথায় রেখেই তা দূর করতে করনীয় কি তার উল্লেখ আছে। ঘাটতি থাকলে আপনার মূল্যবান মতামত জানিয়ে আমার লেখাকে আরও জোড়ালো করতে পারেন নিঃসন্দেহে।

৩৮| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:১৫

ফটিকলাল বলেছেন: নিজ খরচে গড়ে তুললেও শেষে আটকে থাকবেন বিদ্যুৎ গ্যাস পানির সংযোগে। আর এসব নিজে ব্যাবস্থা করলে তখন একজোড়া রূপসা চপ্পলের দাম পড়বে ৫০০ টাকা, একটা চিড়ুনির দাম পড়বে আরো বেশী কারন সেখানে আরো অনেক কাজ আছে। সেখানে স্থানীয় ব্যাবসাই তো মার খেয়ে যাবে।

আর সরকার যে ইপিজেড এলাকা গড়ে তুলেছে নতুন সেখানকার অবস্থা আরো ভয়াবহ। আপনি রেসিডেন্সিয়াল লাইন দিয়ে কমার্শিয়াল বা ইন্ডাস্ট্রি চালাতে পারবেন না এবং তার লাইন সহ অনুমতি পেতেই ক্ষেত্রবিশেষে বছর পার। দামি পেট্রল বা ডিজেল কিনে সে ব্যাবসা কোনো লাভজনক হবে না। সরকারী পক্ষ থেকে বলছে তারা এক্সট্রা ক্যাপাসিটির জন্য সবস্টেশন বসাচ্ছে কিন্তু সরকারের নিজেরই তো ধারাবাহিক কাচামালের জোগান নেই। গ্যাসের মজুত ও তার সঞ্চালন ব্যাবস্থা কতট সংকট পর্যায়ে সেটা সাম্প্রতিক রেসিডেন্সিয়াল ব্যাবহার বন্ধ করেও লাঘব করা সম্ভব হয়নি।

মূল সমস্যা এখানে নয়, মূল সমস্যা অতিরিক্ত রেসিডেন্সিয়াল ডিমান্ডের কারনে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেক্টরের ডিমান্ড মেটাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে এবং জ্বালানি উৎস দিন দিন খরুচে ও সঙ্কুচিত হচ্ছে।

এর সমাধানের জন্য নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের কথা বলা হচ্ছে সেক্ষেত্রে যখন ওটা প্রতিষ্ঠিত হবে তখন তার ব্যাবহারযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেবে

৩৯| ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২২

ফটিকলাল বলেছেন: আমি নিজেই আমাদের বাড়ির পাশের শিল্পএলাকার জন্য দৌড়াচ্ছি কিন্তু যখন ভেতরে গিয়ে বুঝলাম সমস্যা কোথায় তখন এই যে উপর থেকে দেখা বিষয়গুলো গৌন পর্যায়ে চলে যায়। ভুল হয়েছে সেই ৭০ এর দশকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন এবং ৮০ এর দশকে নেয়া লাগসই ভূমি বন্দোবস্ত ও বন্টনপ্রথা চালু না করে।

এখন এটা টানলে ওটা নেই, ওটা টানলে সেটা নেই এই অবস্থা। বিদেশীদের এমন কি ঠেকা যেখানে যুদ্ধবিধ্বস্থ আফগানিস্তান বা বার্মাতে এর চে সুলভে ও দ্রুত ব্যাবসা খুলে নির্দ্ধিধায় ব্যাবসা করি যায়। আফগানদের যুদ্ধ না থাকলে একসময় বাংলাদেশ আফগানিস্তানে জনশক্তি রপ্তানী করবে। দেশীয় কোম্পানীগুলোই তো দেশে বিনিয়োগ না করে ইথিয়োপিয়া সোমালিয়া নাইজেরিয়াতে বিনিয়োগ করছে। বেসরকারী শিল্প সংস্থার কর্মকর্তারা নিজেরাই এ কথা বলছে আমাকে। ওখানকার শ্রমবাজার যেমন সস্তা তার থেকে বড় কথা তারা হাজার গুন বেশী স্কিলড

দেশে তাঁরাই এখন বিনিয়োগ করে যারা শেয়ার বাজার ও ব্যাংকে বড় দা মারতে চায়। সাম্প্রতিক এফডিআই ইনডেক্স সেটাই দেখাচ্ছে

০৭ ই ডিসেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১০

আহমেদ জী এস বলেছেন: ফটিকলাল,



বাস্তবের আলোয় করা দু'টো বলিষ্ঠ মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ । প্রতিমন্তব্য কিন্তু একটাতেই দিচ্ছি।

ঠিকই বলেছেন - " ভুল হয়েছে সেই ৭০ এর দশকে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন এবং ৮০ এর দশকে নেয়া লাগসই ভূমি বন্দোবস্ত ও বন্টনপ্রথা চালু না করে।" আসলেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন করতে না পারার জন্যেই বিপুল জনসংখ্যার কারনে আজকে আমাদের চাহিদা যেমন বাড়ছে দিনকে দিন তেমনি পণ্য যোগানের চেইনটা ঠিক রাখতে যে কসরত করতে হচ্ছে তাতে নড়বড়ে অবকাঠামোগুলো সবটাই ধুঁকছে। আপনার মতোই বলতে হয় - "এখন এটা টানলে ওটা নেই, ওটা টানলে সেটা নেই এই অবস্থা।"
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট হয়তো এনার্জী সেক্টরের অনেকটাই চাহিদা মেটাবে কিন্তু আপনার মতো আমারও শংকা তার ব্যবহার যোগ্যতা নিয়ে। সামান্য একটা ত্রুটি বা দূর্ঘটনা বিশাল বিপর্যয় ঘটিয়ে ফেলতে পারে।

বলতে গেলে আপনার বলা সব কথা মোটেও অবাস্তব নয় তবুও দেশীয় কোম্পানীগুলো যে দেশে বিনিয়োগ ( সাদা কালো টাকায় ) না করে বাইরে করছে সেটা ঠেকাতেই আমি অমন প্রস্তাব করেছি। কালোটাকা অন্যের পকেটে থাকলে একটা ভয় বা অনিরাপত্তা-অনিশ্চয়তা থেকেই যায় কিন্তু তা যদি নিজের পকেটে ( দেশে) তাকে তবে ভয়টা কম হয় হয়, নিরাপত্তাবোধটা বেশী হয়।
শত প্রতিকূলতা আর প্রশ্ন থাকলেও এ নিয়ে চেষ্টা করতে তো দোষনীয় কিছু নেই। সকলের সদিচ্ছা থাকলে এই ব্যবস্থার ফাঁকফোঁকড়গুলোও ভরাট করা যাবে একসময়। যদি এভাবে পরিকল্পনা করে কাজটি করা যায় তবে ফটকা দা মরার পথগুলোও বন্ধ হবে এক এক করে । যদিও সব কিছুই নির্ভর করে আমাদের মানসিকতার উপরে যেটার বড়ই অভাব আমাদের সকল স্তরে।
এই একটি জায়গাতেই তো আমরা মার খেয়ে যচ্ছি প্রতিনিয়ত!

৪০| ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২০ দুপুর ১:৩৯

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




আহমেদ জী এস ভাই,
আমার সালাম নেবেন, আপনি কেমন আছেন? পাঁচ সাতদিন যাবত আপনাকে ব্লগে না পেয়ে আপনার পোস্টে এসে খোঁজ করছি। আশা করি আপনি ভালো আছেন। যখনই লগইন হোন প্লিজ মন্তব্য/প্রতি মন্তব্য করে সকলকে চিন্তামুক্ত করবেন।

শুভ কামনা রইলো।


১৩ ই ডিসেম্বর, ২০২০ বিকাল ৫:২১

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ ,



আমাকে ব্লগে দেখতে না পেয়ে আপনার উৎকন্ঠার কথা জেনে চীর কৃতজ্ঞ হয়ে রইলুম। সৃষ্টিকর্তার রহমতে এখন পর্যন্ত ভালো আছি শারীরিক ভাবে। তবে মানসিক ভাবে ভালো নেই । আমার ছেলের অসুস্থতার কথা শুনে ( সে ব্লাড ক্যান্সারের একজন পেসেন্ট ছিলো) আমাকে ছুটতে হবে আমেরিকাতে। আমার ছেলের জন্যে দোয়া করবেন আপনারা সবাই। এর পাশাপাশি বসুন্ধরায় নিজের নতুন বাসাতে ওঠার তোড়জোড় করছি ক'দিন থেকে। এতোদিন ভাড়া বাসাতে ছিলুম। এর মাঝেই ছেলের খবর। তাই ব্লগে অফলাইনে কিছু সময় থাকতে পারলেও লগ্ইন করার সময় এবং মানসিকতা পাইনে।

আপনার এই মন্তব্যখানি দেখে চুপ থাকতে পারলুম না। যে ভালোবাসা আপনারা আমাকে দিয়েছেন তা আমার চীরকাল মনে থাকবে।
আপনারা সবাই ভালো থাকুন।

৪১| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০২০ রাত ১২:৫৭

ঢুকিচেপা বলেছেন: খুব ছোটবেলায় যখন আলপিনের বক্সে চায়না লেখা দেখতাম তখনই অবাক হতাম, যে এই সামান্য জিনিষ চীন থেকে আনতে হয়? এতো বছর পর এখনো আমরা তাদেরটাই ব্যবহার করি, যদিও দেশের আছে তাও নিম্নমানের।
কালো টাকা যেহেতু দেশে থাকছেই না তাই এক্ষেত্রে ছাড় দিয়ে বৃহৎ কাজে লাগানো উচিৎ।
সরকারী পৃষ্টপোষকতা দিলে জিঞ্জিরা থেকে ভালো মানের যন্ত্রাংশ উৎপাদন হতো এছাড়া ধোলাইখালের বিষয়টাও একই যার ব্যাখ্যা আপনি সুন্দরভাবে দিয়েছেন।
আগে অটল সিদ্ধান্ত নিতে হবে দেশের উন্নয়নের তারপর সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন।

বিশ্লেষণ ভালো লেগেছে।

১৪ ই জানুয়ারি, ২০২১ সকাল ১০:৩৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঢুকিচেপা,



বিবিধ কাজের চাপে প্রতিমন্তব্যে দেরী হলো বলে লজ্জিত।
লেখার অনেকগুলো বক্তব্যের সাথে একাত্মতা দেখিয়েছেন বলে ভালো লাগলো।
সাথেই থাকুন এমন করেই।

৪২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:২৫

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: আগে বলুন আমাদের আংকেলের অবস্থা কেমন?

ইশশ...
কি অসম্ভব মনো শক্তি আপনার। আল্লাহ তা আরো বেশি পারিমানে বাড়িয়ে দিন। এবংআংকেলকে সুস্থ করে দিন। শেয়ায়ে কামেলা দান করুন।

আমিও বেশ টানাপোড়েনে অনিয়মিতিই প্রায়! আজ একটু সময় পেয়ে ঢু মেরে এলাম । খুঁজে খুঁজে প্রিয় মানুষ আর প্রিয় পোষ্ট গুলো দেখছিলাম্ । আপনার প্রতিমন্তব্যগুলও পড়তে পড়তে চল্লিশে এসে চমকে থমকে গেলাম্

অন্তহীন দোয়া আর শুভকামনা রইল।
আপডেট জানিয়ে আমাদের চিন্তামুক্ত রাখবেন বলেই তীব্রভাবে আশা করছি। এবং দাবী করছি।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৯:৪৪

আহমেদ জী এস বলেছেন: বিদ্রোহী ভৃগু,




সবিশেষ কৃতজ্ঞতা আপনার এই কনসার্ণের জন্যে।
জ্বী, আমার ছেলে আপনাদের সকলের দোয়ায় এখন ভালো আছে। এখানকার ডাক্তাররা প্রথমে আবারও খারাপ কিছু ধারনা করে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো। হাসপাতালেও ভর্তি হতে বলেছিলো। ওদের বড়দিন, নতুন বছরের সকল উৎসবের জন্যে বেশ লম্বা সময় হাসপাতালের কার্যক্রম স্থবির ছিলো বলে তৎক্ষনাত কোনও পরীক্ষা করা সম্ভব ছিলোনা। শেষে পরীক্ষা করে দেখা গেলো সামান্য ইনফ্লামেশান।
সবই মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া।

আপনাদের এমন সহানুভূতি চীরকাল মনে থাকবে।
শুভকামনা রইলো আপনার জন্যে। টানাপোড়েন থেকে মহান আল্লাহতায়ালা যেন আপনাকে মুক্তি দেন।

৪৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ৮:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রিয় ব্লগার আহমেদ জী এস,
আপনার মানসিক অবস্থাটা আঁচ করতে পারছি। আল্লাহ রাব্বুল 'আ-লামীন এর দরবারে আকুল প্রার্থনা, তিনি দয়া করুন, তিনি আমাদের ভাতিজাকে রহম করুন, শেফা দান করুন, আপনাদের মনে শান্তি দান করুন!
আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম!

১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,



আমার সাময়িক মানসিক অস্থিরতায় আপনার উৎকন্ঠায় কৃতজ্ঞ।
আমার ছেলে আপনাদের সকলের দোয়ায় আল্লাহতায়ালার রহমতে এখন ভালো আছে। এখানকার ডাক্তাররা প্রথমে আবারও খারাপ কিছু ধারনা করে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো। হাসপাতালেও ভর্তি হতে বলেছিলো। ওদের বড়দিন, নতুন বছরের সকল উৎসব আর আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক সংকটের ডামাডোলে বেশ লম্বা সময় হাসপাতালের কার্যক্রম স্থবির ছিলো বলে তৎক্ষনাত কোনও পরীক্ষা করা সম্ভব ছিলোনা। শেষে পরীক্ষা (বায়োপসি) করে দেখা গেলো সামান্য ইনফ্লামেশান।

মহান সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া হয়তো আপনাদের সকলের দোয়াতে আমি পেয়েছি। আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আপনার জন্যেও রইলো সুস্থ্য জীবনের প্রার্থনা।https://s3.amazonaws.com/somewherein/assets/css/images/btn-submit.png

৪৪| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:০২

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:





আহমেদ জী এস ভাই,
আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম। ফি আমানিল্লাহ।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১২:৫৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ,




ধন্যবাদ।
আপনাদের সকলের প্রার্থনায় এই 'সাফা" মিলেছে।

৪৫| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:৫৭

মলাসইলমুইনা বলেছেন: আহমেদ জিএস ভাই,
ক্যালেন্ডারের একটা বছরের সংখ্যাই বদলে গেলো আপনার লেখায় মন্তব্য করতে করতে । সেজন্য স্যরি । অনেক গ্যাপ হলো আবার ব্লগে লগ ইন করে কিছু লিখতে । আপনার এই লেখা নিয়ে খুব বেশি কিছু বলবার নেই । আসলে আমাদের মূল সমস্যাটা হলো সুশাসন । সুশাসন থাকলে শিল্পায়নের অনেক সমস্যাই থাকতো না । কোনো শিল্প প্রফিটেবল হলে যারা এন্টারট্রেনার তারা নিজেরাই নিজের গরজে সম্ভাব্য কাজগুলো করে নিতে পারেন । আমারদের দেশে গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি, শিপ ব্রেকিং ইন্ড্রাস্ট্রির (এটা পরিবেশ বান্ধব না হলেও শুধু ইন্টারপ্রেনিউরিয়াল কনটেক্সট থেকে বলছি ) কথা ভাবুন প্রথম দিকে সরকারের ইনভল্ভমেন্ট না থাকলেও উদ্যোক্তারা নিজেরাই সব করে নিয়েছিলেন নিজেদের জন্য প্রফিটেবল বলে । সামনের দিনেও পারবেন । কিন্তু যার কারণে সেটা হচ্ছে না তা হলো একটা লুটেরা শাসন । পাঁচ/ দশ/ পঞ্চাশ কোটি টাকা দিয়ে যদি কেউ ভোটারবিহীন সংসদের সাংসদ হয় তাহলে সেতো তার টাকা লুট করেই রিটার্ন চাইবে । কারো কোনো একাউন্টিবিলিতো নেই অনির্বাচিত শাসনে। তার কোনো বিচারের ব্যবস্থাতো নেই যে লুটপাটের জন্য সে আইনের মুখোমুখি হবে, শাস্তি পাবে পাবে । তাই সুশাসনের ব্যবস্থা ঠিক না করা গেলে দেশে শিল্পায়নের আশু কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই আমার মনে হয়। আপনি কিন্তু এমন একটাও উধাহরনও দেখতে পারবেন না পৃথিবীর কোনো দেশে যেখানে সুশাসন নেই কিন্তু সফল শিল্পায়ন হয়েছে । আর সুশাসনের অভাবে দেশে পুঁজি বিনিয়োগ করে সেটার রিটার্ন না পাওয়া গেলে বিদেশে অর্থ পাচার থামানো যাবে না পুরোনো ইন্ড্রাস্ট্রিয়ালিস্ট বা ব্যবসায়ীদের থেকে। আর নব্য লুটেরা যারা তারাও তাদের টাকা খুব বেশি বিনিয়োগ করবে না। খুব সুক্ষ ভাবে দেশটাকে ভাগ করা গেছে । এখন সমস্যাটা হলো দেশের পক্ষের মানুষদের লুটেরা রাজনীতিকেও আমরা সাপোর্ট করছি নইলে অন্য জুজুর ভয় আছে সেটা দেখানো হচ্ছে। তাতে সাধারণ মানুষের কোনো উন্নতি হচ্ছে না । শাসন যাদের কাছে তাদের লোকরাই লাখপতি কোটিপতি হচ্ছে শিল্প মালিকানা, সৎ ব্যবসা বাণিজ্য করা ছাড়াই। ঢাবিয়ান মনে হয় এই লেখার উদ্দেশ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি বাস্তবসম্মত মন্তব্য করেছে। অন্যদের মন্তব্যগুলোর বেশির ভাগই শিল্পায়নের টেক্সটবুকে হয়তো জায়গা পাবে চমৎকার কথাবার্তার জন্য কিন্তু সেটা দিয়ে এই মুহূর্তে দেশের কাজের কিছু হবে না সেটাই আমার ধারণা ।যাক এগুলো নিয়ে আর ভাবতে ভালো লাগে না তাই দেশের ইন্ডাস্ট্রীয়লাইজেশনের স্ট্রাটেজি কি হওয়া উচিত সেটা নিয়ে আর কিছু বলার উৎসাহ পাচ্ছি না। আপনার ছেলের জন্য দোয়া রইলো । আল্লাহ তাকে শিফা দান করুন ।নতুন বছরে ভালো থাকুন ।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ২:৫৮

আহমেদ জী এস বলেছেন: মলাসইলমুইনা,




ব্লগে কারো মুখ একটি বছর নয় , কয়েকটি দিনও দেখা না গেলে মনে হয় যুগ পেড়িয়ে গেছে! সেদিক দিয়ে আপনি ম্যারাথন জিতেছেন মনে হয়।

আর " সুশাসন" শব্দটি তো আপেক্ষিক কিছু! এক এক পরিবেশ পরিস্থিতিতে একেক রকম। এদেশে আপনি এটি কোথায় পাবেন যে তার অপেক্ষায় সকল সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়নের চিন্তা বা কাজকে দুরে ছেলে রাখবেন ?
এই সুশাসনকে স্থির বা তার একটা গাইডলাইন করে দেয়া তো জনগণেরই কাজ যেটা হয় ভোটের মধ্যে দিয়ে। সেইরকম কোনও ভোট কি আমরা এই পঞ্চাশ বছরে একবারও দিয়েছি ? আমরা তো " বেগানা শাদী মে আবদুল্লাহ দিওয়ানা"র মতো শাসক গোষ্ঠির শোষন বজায় রাখার নিমিত্তে যেনতেন করে পাতানো ভোট রঙ্গে অংশ নিয়ে ভেবেছি গনতন্ত্র উদ্ধার করে ফেলেছি। গনতন্ত্রে এই-ই তো আমাদের অর্জন ? আপনার কথা মতো বিশ-পঁচিশ কোটি টাকা খরচ করে যিনি আমাদের সার্টিফিকেটটি নিয়েছেন তার কোন ঠেকা পড়েছে "সুশাসন" করতে যাওয়ার ? এই ভোট ভোট"" খেলা থেকে আমরা যতোদিন না বের হতে পারবো ততোদিন "দিল্লী হনুজ দুর অস্ত....." হয়েই থাকবে। লুটেরা রাজনীতি শেষ হবেনা কখনও। অন্য উপায় ভাবতে হবে। সকল ধরনের ভোট বর্জন তেমন একটা উপায় হতে পারে।
তাই নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে এই সব অপশাসনের ভেতর দিয়েও সকল সেক্টরে উন্নয়নের কথা ভাবতে হবে, বলতে হবে - দরকার হলে চীৎকার করে হলেও বলতে হবে। একেবারে থেমে থাকলে তো চলবেনা! চলবে ? তাই এই মহাবেকুবীয় চেল্লানী। পোস্টের একবারে শেষে সে কথাই ঘোষনা করেছি বোল্ড অক্ষরে অক্ষরে।

তারপরেও বলি, অবশ্যই সুশাসনের প্রয়োজন আছে সকল উন্নয়নমূলক কাজে। নইলে সব ধ্যান-ধারনাই স্থান পাবে উন্নয়নের টেক্সটবুকে যদি অপশাসন জারী থাকে সর্বত্র।

আপনাকে দেখে ভালো লাগার অনুভূতি কিন্তু শুরুতেই অন্য ঢংয়ে বয়ান করেছি। আশা করি , আপনার মুখখানি ব্লগের জানালায় জ্বলজ্বল করে জ্বলবে নিয়ত।





৪৬| ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৮:০৭

বলেছেন: মহাবেকুব জাতককে —- হ্যাটস অফ

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সকাল ৯:৩৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: ল ,





শুধু টুপি খোলা অভিবাদন পেলুম !!!!
লুঙ্গির কোচড় ভরা ;) মন্তব্য পেলে আরও ভালো লাগতো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.