নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

গফুর মিয়া১৯১

গফুর মিয়া১৯১ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতি

৩১ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ১০:২৫

আমি রাতে ছাদে বসে চা খাই। চায়ের সেই সরল গন্ধটা, খবরের কাগজের কটা লাইন আর পাশের বাড়ির ছোট্ট ছেলে কিশোরের সাইকেলের খটখটে শব্দ — একই সাথে একটা প্রশ্ন এনে দেয়: আমরা কোথায় যাচ্ছি?
দেশটা, কখনো মনে হয়, আমার ছোটটা-বড়টা ঘরের মতো। ভাঁজে ভাঁজে স্মৃতি, ভাঁজে ভাঁজে আশা। আর রাজনীতি? রাজনীতি যেন ওই ঘরের ভিলেন—নটখট, খটকা ধরা, কিন্তু বারবার ঢুকে পড়ে, সবকিছু আলগা করে দেয়।

এক সময় রাজনীতি মানে ছিল মানুষের কথা বলা। আমার বাবার এক বন্ধুর কথা মনে পড়ে—সে বলত, “রাজনীতি হলো মানুষের সাথে মানুষের বন্ধুত্ব।” আজকাল সেই বন্ধুত্বটা কোথায় গেলো? এটা তো আর উচ্চাঙ্গের কথা না—এটা তো রান্নাঘরের পাত্র-পৌষ্ঠিকতার মতোই সাধারণ বিষয়: কে কিভাবে খায়, কে কেমন রান্না করে, খাবার ভাগ করে নেয় কি না—তাই রাজনীতি মানুষকে খাওয়ায় না, তারা ভাগ করে নেয়।

আমি একদিন বাজারে গিয়েছিলাম। রাস্তার ধারে কেউ বলে উঠল, “ভাই, ভোট আসছে।” মুখে শুনলাম খুশির সুর; কিন্তু চোখে দেখলাম টাকা ছড়ানো, প্ল্যাকার্ড, আর গলায় চড়ে থাকা গানের লাইন। পুরনো দিনের নেতা যারা সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে চুলার আগুন জ্বালাতেন, তাদের দাড়ি আজ পলিশ করা। যোগ্যতাকে পাশ কাটিয়ে, সম্পর্ক আর টাকাই হয়ে গেছে সাফল্যের হিসাব। আমি শুনলাম একটি কথাও—“এখানে মিথ্যা বললেই পেট ভরে যায়। সত্য বললেই রুটি ছিন্ন।” কষ্টটা মনে হলে চা খেতে একটু ধীরে ধীরে চুমুক দিই।

রাজনীতির নোংরাটাই কি শুধু টাকার লোভ? না, শুধু তা নয়। এটা মানুষকে ভাঙছে—একই দেশ, একই মাটি, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন দরজা। কেউ দরজা করে দেয় ধর্ম, কেউ করে দেয় ভীতি, কেউ করে দেয় দল। আমি ছোটবেলায় লাঠি নিয়ে খেলতাম। এখন দেখি বড়রা লাঠি না রেখে শব্দ করে—শব্দ দিয়ে মানুষকে একদিকে ঠেলে দেয়া। আর আমরা, ঠিক আমার ছাদের কিশোরের মতো, কেবল দাঁড়িয়ে দেখে থাকি। আমাদের যদি প্রশ্ন করতে মন না চায়, তাহলে আশ্চর্য কি?

রাজনীতিতে যোগ্য মানুষদের অনুপস্থিতি দেখলে হিমশীতল লাগে। সেই মানুষরা, যারা চুপচাপ কাজ করত, এখন কণ্ঠ হারাচ্ছে। তারা কি রাজনীতির বাইরে চলে গেল নাকি রাজনীতির মধ্যেই ভেঙে গেল? আমি ভাবি—একজন প্রকৃত মানুষ নেতা হলে কি করবেন? হয়তো তিনি কেবল চা খাইতে আমন্ত্রণ করবেন, গল্প বলবেন, আর মানুষকে তাদের নিজের চোখেই দেখতে বলবেন।

তবু আমি বিশ্বাস হারাইনি। নতুন প্রজন্ম আছে — তাদের চোখে জ্বলজ্বল একটা প্রশ্ন থাকে, “কেন?” তারা কেবল হ্যাশট্যাগ দেখে থেমে থাকে না; তারা খোঁজে, জিজ্ঞাসা করে, কেঁদে, হাসে। তাদের মধ্যে থাকে অদ্ভুত ধৈর্য আর আলোচনার মন: তারা বুঝতে চায় রাজনীতি কেন নোংরা হল, আর কিভাবে পরিষ্কার করা যায়। আমি তাদের মধ্যে কিছুদিন আগে রিকশায় করে যাওয়া এক তরুণকে দেখেছি—বাইরে থেকে সে সাধারণ, কিন্তু কথা বললেই ভাবা যায় সে বদল আনতে চায়। আমি এমন কয়েকটা চোখ দেখেছি, যার মধ্যে সত্যের অতৃপ্তি আছে। সেই অতৃপ্তিই আমার আশার লাইট জ্বালায়।

শেষ করি একটি ছোটো গল্প দিয়ে—একবার আমার বাড়িতে একটি ছোট পাখি এল। সে ভালবাসা নিয়ে এল না, কেবল একটা কচকচানা গান। আমি জানতাম, যদি আমি তাকেই কাঁচে রাখি, সে মারা যাবে; যদি আমি জানালাটা খুলে দিই, সে উড়ে যাবে। রাজনীতি আমাদের জন্যও একই—আপনি যদি কৌতুক আর বিভাজনের জানালা বন্ধ করে রাখেন, ভালো কিছু আসবে না। জানালাটা খুলে দিন; আশা ওই কমনিয়ার বাতাসে ভরে উঠবে।

আমি চাই না কড়া ভাষায় কথা বলি। আমি শুধু চাই, আপনার চায়ের কাপের পাশে একটু সাহস রাখুন। দেশের প্রতি একটু ভালোবাসা রাখুন—সেটাই বড় কথা। রাজনীতি নোংরা হতে পারে, কিন্তু মানুষকে নোংরা করা যায় না—যদি মানুষ নিজে না চায়।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.