নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলে যাব- তবু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল।

হাবিব স্যার

বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর, সবার আমি ছাত্র।

হাবিব স্যার › বিস্তারিত পোস্টঃ

আঁধার রাতের গল্প- শেষ পর্ব।

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১০



বিয়েতে ফরহাদের প্রত্যক্ষ মত এবং লাইলির পরোক্ষ সম্মতিতে মাতাব্বররা অনেকেই সম্মত হলেন ঠিকই কিন্তু বংশীয় দ্বন্দ্বটা রয়েই গেলো। অনেকেই শালিসের দিনই বিয়েতে তোড়জোড় শুরু করলো। পাশ থেকে একজন বলে উঠলো "ওরা যে পাপকাজ করেছে তার জন্য তো শাস্তি পেতে হবে, আশিটি করে দুররা মারো আগে। তারপর বিয়ে।" অনেকেই এই মতের সাথে সাঁই দিলো। কিন্তু লাইলির এমন অবস্থায় আশিটি দুররা মারবে কি করে! ফরহাদকে না হয় মারা গেলো। গ্রামের মানুষের অদ্ভুত সব ফতোয়া। আইন তৈরি এবং প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল তাদের জানা আছে। আইন প্রণেতা নিজেই বললো, "আশিটি বাঁশের কঞ্চি আনো। আমরা আমাদের কাজ করে যাই। পরকালে ঠেকা থাকতে পারবো না!" সে সময় এই আইনের প্রতিবাদ করার মতো কেউ ছিলো না। তার কথা মতো আশিটি বাঁশের কঞ্চি একত্র করে দু'জনের শরীরেই একবার করে ছোঁয়ানো হলো মাত্র! ভাব দেখে মনে হলো যেন আদর করছে।

বিয়ে করে লাইলিকে সেদিনই বাড়িতে নিয়ে গেলো ফরহাদ। কিন্তু ফরহাদের বৌ তেমন কোন উচ্চ বাক্য ব্যয় করলো না। রান্নাঘর দেখিয়ে দিয়ে সেখানে থাকতে বললো। নিজের বাসর ঘর এমন হবে তা কি কোনদিন কল্পনা করেছিলো লাইলি? যে ঘরে থাকবে না কোন ফুলের চিহ্ন, থাকবে না কোন নরম বিছানা এমন বাসর কি কোন মেয়ের কাম্য হতে পারে?

বিয়ে করে বাড়িতে আসতে আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। বাড়িতে মানুষের কোন অভাব নেই। এতো মানুষ একসাথে হয়েছে যে, মনে হচ্ছে কোন রাজ পরিবারের বিয়ে। লাইলি সবার পরিচিত, তবু সবাই এক নজর তাকেই দেখার জন্য ফুচকি দিচ্ছে রান্না ঘরের ফাঁক দিয়ে। নিজেকে চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো মনে হচ্ছে লাইলির। সবার সাথে তখনও বেশ হাসি মুখেই কথা বলছিলো সে। হয়তো অনাগত সন্তানের একটা পরিচয় হবে এই ভেবে!

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষজনের ভীরও কমতে থাকে। একসময় একা হয়ে যায় লাইলি। যার সাথে কথা বলার জন্য ফরহাদ নানান বাহানা খুঁজতো আর সেই মেয়ে একা বসে আছে, অথচ ফরহাদের দেখা নেই। বসে থাকতে থাকতে একসময় লাইলির চোখ দু'টি বন্ধ হয়ে আসে। ঘুমের জন্য নয়, ক্লান্তিতে। অনাগত সন্তানের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

আরেকটা দিন শুরু হলো। সূর্য কিরন প্রখর হয়নি কখনো। বেশি রাত করে ঘুমানোর কারনে আজ লাইলির আগেই সূর্য ওঠে গেছে। রান্নাঘরের ফাঁক গলে সূর্যের সোনালী হলুদ রোদের কিরন যখন লাইলির মুখের উপর পরলো, তখনই তরিঘড়ি করে উঠলো লাইলি। কিন্তু সারা বাড়িতে ফরহাদের পরিবারের কাউকেই দেখছেনা লাইলি। ঘুম থেকে উঠে বাইরে বেরুলো লাইলি। বড় ঘরটাতে তখন চাইনিজ তালা ঝুলছে। খিদেয় পেট চু চু করছে। সেই কাল রাতে এ বাড়িতে এসে ঠান্ডা ভাত আর বাসি আলু ভর্তা কপালে জুটেছিলো তার। সকাল বেলা কি তাহলে উপোষ থাকতে হবে?

- "এই নাও, চাল আর আলু আছে এখানে। রান্না করে খাইয়ো। আমি দু'দিন বাড়িতে থাকবো না। ও গেছে বাপের বাড়ি।"
ফরহাদকে দেখে যতটা খুশি হয়েছিলো তার মুখের কথাটা শেষ হতে ততটাই হতাশ হলো। এমন দিনেই তো ফরহাদ তাকে নিজের করে নিয়েছিলো। তখনো তো বাড়িটা ফাঁকা ছিলো। আর এখন! ফরহাদকে যেন লাইলি চিনতেই পারছে না। ক' মাস আগের সেই মানুষটা যেন ফরহাদ নয়! তাহলে কিসের আশায় পড়ে থাকবে এখানে? বেঁচে থেকেই বা কি লাভ! এ জীবন থাকার চেয়ে না থাকাই তো ভালো!

ফরহাদের কথার কোন প্রতি উত্তর করলো না লাইলি। লাইলির নিরবতা দেখে বাজারগুলো রান্না ঘরে রেখেই চলে গেল ফরহাদ। আসলে ফরহাদ ভেবেছিলো যদি লাইলিকে বিয়ে করে তবে তো কোন টাকা দিতে হবে না। আর লাইলিকে এ বাড়িতে কষ্ট দিলে একা একাই বিদায় নিবে। তখন সাপও মরবে লাঠিও থাকবে অক্ষত!

সাত দিন পরের কথা। ফরহাদ দুইদিনের কথা বলে সাত দিনেও ফিরলো না বাড়িতে। লাইলি একবার রান্না করে সারা দিন খায়। আলু ভর্তা আর ক'বেলায় বা খাওয়া যায়। শরীরটাও ক'দিন ধরে খারাপ যাচ্ছে লাইলির। মাঝে মধ্যে এ ও এসে দেখে যায়। সেদিন সন্ধ্যা বেলা লাইলির মাও এসেছে লাইলিকে দেখতে। কে যেন ক'টা মুড়ি দিয়েছিলো, তাই আঁচলে করে এনেছে মেয়ের জন্য। এসে দ্যাখে মেয়ে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে। মনে হচ্ছে আজকেই বাচ্চা হবে।

রাত দশটা অবধি তেমনই ব্যাথা। লাইলির মা ছাড়া আর কেউ নেই সে ঘরে। অবশেষে কষ্টের অবসান হলো। সেই ভাঙ্গা ঘরেই জন্ম নিলো লাইলির সন্তান। লাইলি পুত্র সন্তানের মা হলো। নেই কোন আজান কিংবা মিষ্টির বাড়াবাড়ি। কারো মুখে হাসি নেই লাইলির সন্তানকে নিয়ে। লাইলিও চিন্তিত এই সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে? খুব একটা খুশি হতে পারেনি লাইলিও। যে রাতে লাইলির সন্তান হবে তার আগের রাতে রান্নাঘরে লাইলির পাশে একটা কুকুরও সন্তান প্রসব করেছিলো। একবার ভেবেছিলো কুকুরটিকে তাড়াবে কিন্তু কি মনে করে যেন তাড়িয়ে দেয়নি। কুকুরটিওতো তার মতোই অসহায়। আজ মনে হচ্ছে তার সাথে কুকুরটির কিইবা তফাৎ! দুইপ্রাণীরই তো সন্তান প্রসবের জায়গা এক! কুকুর কোনদিন মানুষ হবে না ঠিকই তবে আজকাল অনেক মানুষই তো কুকুর হয়ে যাচ্ছে! কিংবা তার চাইতেও নিকৃষ্ট!

লাইলির মামা লাইলির সাথে দেখা করতে এসেছিলো সেদিন। তিন-চারদিন পর। লাইলিকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে থানায় মামলা করতে বলছে। লাইলিও ভাবছে মামলা এবার করবেই। নিজের সন্তানের জন্য হলেও। কতদিন আর পড়ে থাকবে এভাবে? সন্তান জন্মের সমস্ত ধকল সামলে নিয়ে শক্ত হবার সিদ্ধান্ত নেয়। তাকে যে নতুন করে বাঁচতে হবে। বেঁচে থাকাকে স্বার্থক করতে হবে!

থানায় মামলা করলো লাইলি। প্রধান আসামী করা হলো ফরহাদকে। ক্ষতিপূরণ বাবদ দুইলক্ষ টাকার মামলা। ওর মামাই সব ব্যবস্থা করেছে। লোক মারফত ফরহাদের কাছে মামলার খবরও পৌঁছে দিয়েছে। এমনকি সমঝোতার প্রস্তাবও রাখেছে গোপনে। অবস্থা বেগতিক দেখে সে প্রস্তাবে ফরহাদ একটা সমঝোতাও করে ফেললো। থানা থেকে মামলা উঠানো হলো। লাইলি অবশ্য প্রথমে রাজি হতে চাইনি। কিন্তু মামার পরামর্শে পরে আর অমত করেনি। শেষমেশ আবার গ্রাম্য সালিশের আয়োজন। পঞ্চাশ হাজার টাকা আগেই নিয়েছে লাইলির মামা, ফরহাদের কাছ থেকে। সে টাকায় অবশ্য অনেকেই ভাগ বসিয়েছিলো। থানার ওসি থেকে শুরু করে গাঁয়ের মাতাব্বর, কেউ বাদ যায়নি। ফরহাদের সাথে চুক্তি অনুযায়ী সালিশে সবার সামনে লাইলিকে পঞ্চাশ হাজার টাকায় তালাক দেয়া হলো। কিন্তু সে টাকাও কি লাইলির ভাগ্য আছে? কিংবা তার সন্তানের!

লাইলির বাবাকে কুপরামর্শ দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকার পুরোটাই লাইলির মামা হাতিয়ে নিলো। লাইলির মামা বললো, '' এই টাকা আমার ব্যবসায় খাটাবো। যা লাভ হবে তার একটা অংশ পাবি। আর বছর শেষে আসল তো থাকবেই।" মামার কথা শুনে লাইলিও আর অমত করে নি।

সন্তানের বয়স ছয়মাস হতে চললো। কিন্তু এখনো কোন নামই কেউ রাখলো না। লাইলির মা কোলে নিয়ে যখন এবাড়ি ও বাড়ি যায় সবায় "ফরহাদের পোলা" "ফরহাদের পোলা" বলে। এটা দেখে লাইলির মা মেয়ের সন্তানের নাম রাখলো "চানু"। সেই নাম ধরেই সবাই ডাকে এখন।

তিন-চার মাস লাইলির মামা লাইলিকে দু'হাজার করে টাকা দিয়েছে। তাতে ভালোই চলছিলো ওদের জীবন। কিন্তু হঠাৎ করেই টাকা দেয়া বন্ধ করে দেয়। টাকা চাইলে বলে, "ব্যবসায় লস হইছে। আর টাকা নাই! পঞ্চাশ হাজার টাকা কয়দিন থাকে?"

লাইলির হাত এখন ফাঁকা। চানুর জন্য যে দুধ কিনবে সে টাকাও নাই। বুকের দুধতো আসেই নি। অভাবের সংসারে না খেতে পেয়ে হাড্ডিসার শরীর, বুকে দুধ আসবে কোত্থেকে? কি করবে লাইলি, ভেবে পায় না!

লাইলিদের সমবয়সী অনেক মেয়েই তখন গার্মেন্টসে কাজ করে। অনেক মেয়ের বিয়েও হয়েছে গার্মেন্টসে কাজ করতে গিয়ে। তাদের সাথে পরামর্শ করে একদিন কাজে যাবার সিদ্ধান্ত নেই ও। সমবয়সীরা তাকে সাহায্যও করলো। তাদের কারখানায় একটা কাজও পাইয়ে দিলো। কিন্তু তা হলে কি হবে, নিজের সন্তানকে রেখে দূরে যাবার কথা ভাবতেই যে লাইলির বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠে। চানুই বা থাকবে কি করে একা!

একদিন ভোরবেলা। চানু তখনও ঘুমে। লাইলি একাই বেড়িয়ে পড়ে কাজের উদ্দেশ্যে। পায়ের নিচের মাটি শক্ত করার জন্য। তাকে যে বাঁচতেই হবে। লাইলির মতো মেয়েদের জীবন থমকে যেতে পারে না! কষ্টের আঁধার শেষে সুখের সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় শহরের পথে পা বাড়ায় লাইলি!

মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৪

করুণাধারা বলেছেন: লাইলীর মত অসহায় গরীব মেয়েদের ভাগ্য এমনই হয়। সবাই সুযোগ নিতে চায়, তার আপন মামা হোক কিংবা ফরহাদ। শেষ পর্যন্ত এদের জীবনে থাকে শুধু দুঃখ আর অভাবের কষ্ট.........

গল্পের পরিসমাপ্তি ভালো হয়েছে।

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৯

হাবিব স্যার বলেছেন: করুনা আপু, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনার মূল্যবান মতামত পেয়েছি। গল্পের প্লাটফর্মে আমি একেবারেই নতুন। প্রথমে এতো বড় করে লেখা অবশ্য উচিত হয়নি। গল্প হিসেবে আমার লেখার স্বীকৃতি পাবে কিনা জানি না, তবে আপনার/আপনাদেরকে যেভাবে পাশে পেয়েছি তা ভুলবার নয়!

গল্পের প্রশংসায় আবারো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভালো থাকবেন পরিজনদের সাথে।

২| ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

চাঁদগাজী বলেছেন:


বাংলাদেশের খুবই পেছনে পড়ে থাকা কোন এলাকার পটভুমিতে কাহিনী; যাক, শেষটা ঠিকমত রেখেছেন, সোনার বাংলার সোনার দর্জি হলো লাইলী, ডলার পাবে জাতি।

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪১

হাবিব স্যার বলেছেন: লাইলিদের দিয়েই এজাতি অনেক উপরে উঠছে; ধনে-সম্পদে। কিন্তু লাইলিদের খবর কজ'নই বা রেখেছে? আবার এরাই বলে নারী অধিকার!

৩| ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৩৮

বলেছেন: তবুও বেঁচে থাক - লাইলী এখন গার্মেন্টস কর্মী - ফরহাদ তারে সংসারে সুখে আছে!
অঁধার তো আর কাটলো না -

০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:৪৩

হাবিব স্যার বলেছেন: লাইলির জীবনে তার শেষ কর্মই এনে দেয় বেঁচে থাকার প্রেরণা। লাইলিদের আঁধার ঘরে আলো বলতেই তো তিনবেলা খেয়ে পড়ে বাঁচা। সে অর্থে বেশ ভালোই আছে এখন।

৪| ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:১৮

মুক্তা নীল বলেছেন:
কারও ঘর ভেঙে কি ঘর পাওয়া যায়? তারপরও লাইলী ভালো থাক নিজের মতো করে।
ফরহাদের স্ত্রী কেমন আছেন?
ভালো লেগেছে।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৮

হাবিব স্যার বলেছেন: ফরহাদের পরিবারের উপর দিয়ে ঝড়ের অভাব নেই। বলতে গেলে সারাদিন লাগবে। ফরহাদের বৌ অবশ্য ভালো আছে। লাইলির আবার বিয়ে হয়েছে, সন্তান হয়েছে কিন্তু চানু বেচারা একা। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ মুক্তা

৫| ০৬ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:৫৫

আরোগ্য বলেছেন: প্রথম প্যারা নিয়ে কিছু লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু ভাবলাম না লিখাই উত্তম ।

গতকালের পর্বটাই একটু গোলমেলে হয়ে গিয়েছিল। শেষটা ভালোই হয়েছে ।

ভবিষ্যতে আরও ভালো গল্পের জন্য শুভ কামনা করছি।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৯

হাবিব স্যার বলেছেন: না লিখলে শিখবো কিভাবে? শেষটা ভালো হয়েছে জেনে ভালো লাগলো। আপনার/আপনাদের পরামর্শ পেলে আমিও চেষ্টা করবো আরো ভালো লেখার জন্য। ধন্যবাদ আরোগ্য।

৬| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১:২৪

মা.হাসান বলেছেন: লাইলিদের ভাগ্যে বেশিরভাগ সময়ে দড়ি আর বিষই জোটে, আপনার গল্পের লাইলি তাও দাস হয়ে বেঁচে থাকলে, খারাপ কি। কষ্টের কাহিনী আর না লেখার জন্য অনুরোধ করবো।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:০১

হাবিব স্যার বলেছেন: লাইলিরা আত্মহত্যা করে নিজেকে শাস্তি দেয় ঠিকই তাতে হয়তো কেউ কিছু শিখে না, তবে জীবিত লাইলিরা অনেকের জন্যই জীবন্ত উদাহরন। আমার চারপাশে যে কষ্টের কাহিনী দিয়ে ভরা, সুখের গল্প পাবো কোথায়? ধন্যবাদ হাসান ভাই, সুন্দর মন্তব্যের জন্য

৭| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৮:০৯

নীলপরি বলেছেন: খুব ভালো লিখেছেন । এইসব মেয়েদের কেউ নারীবাদ শেখায় না । তবু জীবন এদের দায়িত্বশীল মানুষ করে তোলে ।
++++
শুভকামনা

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নীলপরি। এরা নারীবাদ শিখে কি করবে? এরা তো শেওলার মতো। যেখানে সুযোগ পায় আশ্রয় খোঁজে। তবুও যে ভালো লাইলি বেঁচে আছে। হয়তো জীবন থেকে কিছু শিখেছে। নয় তো না। কিন্তু আমরা শিখেছি। পোস্টে লাইক এবং প্লাস প্রদানের জন্য ধন্যবাদ নীলপরি।

৮| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ৯:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: এরকম লাইলী সমাজে অনেক আছে।
তাদের জন্য আমার খুব কষ্ট হয়।
খুব ভালো লিখেছেন। সমাজের বাস্তব চিত্র।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনার মনের ভিতর অনেক মায়া, তাই হয়তো কষ্ট হয়। সমাজের এমন চিত্র যে অনেক।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ রাজিব ভাই।

৯| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১০:৩৯

নীল আকাশ বলেছেন: গল্পের প্লট খুবই ভালো ছিল। আরও চমৎকার করে সম্ভবত লেখা যেত এটা। আমি হলে ২ পর্বেই শেষ করে দিতাম।
ফিনিস কিভাবে দিতে হয় সেটা শিখুন। এটা খুবই জরুরী। আপনার ফিনিসের লাইনগুলি রি আরেঞ্জ করলেও খুবই দুর্দান্ত একটা ফিনিস হতো। সময় থাকলে হাতে আমার নতুন গল্প গুলির শুধুই ফিনিস গুলি পড়ার জন্য বলব। তাহলেই বুঝবেন কি বলতে চেয়েছি।
কুকুরের সাথে লাইলির রুপকের অংশটা ১০০ তে ১০০ পেয়েছেন আমার কাছে। এই ধরনের রূপকের কথাই আমি বলেছি।
মনে রাখবেন, শেখার কোনই শেষ নেই।
ধন্যবাদ এবং শুভ কামনা রইল!

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩১

হাবিব স্যার বলেছেন: সম্ভবত না, অবশ্যই ভালো করে লেখা যেতো। আপনি হলে অবশ্যই পারতেন বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনার গল্প পড়ে দেখি মাঝে মাঝে। আশা করি লেখার উন্নতি হবে। আমার কাঁচা হাতের লেখার প্রতি আপনার মূল্যায়ন আমাকে মুগ্ধ করলো।

আমি সব সময় শিখতে প্রস্তুত। শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় নিয়ে আন্তরিকতার সাথে মন্তব্য করে গেলেন। ধন্যবাদ দিলে এতে কম হয়ে যাবে।

১০| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সকাল ১১:৫৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
নটে গাছটি মুড়ালো
আমার গল্প ফুরালো :)

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩২

হাবিব স্যার বলেছেন: হা হা হা........

১১| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২১

কানিজ রিনা বলেছেন: লাইলির আরও চালাক হওয়া দরকার ছিল
যেসব মেয়েরা ছেলেদের বউ আছে জেনেও
তাদের সাথে প্রেম নামক ক্রাইমে জড়ায় সেই
সব মেয়েরা অনেক চালাক হয়। আমার
জীবনে এমন চালাক মেয়ে দেখেছি যে
বিবাহীত ছেলের সাথে বিয়ে করে স্বামীকে
আর পিছনে তাকাঁতে দেয়না।
স্বামীর পিছনের সংশার ভেঙে সাগরে ডুবলেও
না, তবুও লাইলির ছেলের বাবার পরিচয়
থাকল। এরকম হাজারও লাইলির ছেলে
মেয়ে শিশুরা স্টেশন ফুটপাতে ঘুমায়।
লাইলি হয়ত আবার আর কোনও বিবাহীত
কুলাঙ্গারের হাত ধরে নিজের জীবন চালাতে
সংশার বাঁধবে কিন্তু ছেলের জায়গা হবে
স্টেশন ফুটপাতে। ভাল লাগল গল্পের শেষটা।
ধন্যবাদ।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৪

হাবিব স্যার বলেছেন: লাইলিদের জন্য আমার খারাপ লাগে না, কষ্ট লাগে তাদের সন্তানদের জন্য। লাইলিরা হয়তো মজা পায় কিন্তু এদের সন্তানদের যে দূর্গতি!

১২| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:২৪

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন: পরিণতি যে এমন হবে তা আগেই অনুমিত।

তবুও বেঁচে থাক লাইলীরা জীবন যুদ্ধে।
++++

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৩৬

হাবিব স্যার বলেছেন: আপনাকে অনেকদিন পরে আমার পোস্টে পেলাম। আশাকরি ভালো আছেন। লাইলির মতো কোন মেয়ে আমরা চাই না। তাদের কারনেই সমাজে কিছু বখাটেের জন্ম হয়।

১৩| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ১২:৩৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: লাইলীদের এমন হওয়াই উচিত।
ভালো লেগেছে গল্প

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৪

হাবিব স্যার বলেছেন: তবুও কি লাইলিরা শিক্ষা নিবে জীবনের ঘটনা থেকে?

১৪| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ দুপুর ২:৫৭

নজসু বলেছেন:




প্রথম পর্বটা হালকাভাবে চোখ বুলিয়ে গেছিলাম।
পুনরায় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করার ইচ্ছে রইল প্রিয় ভাই।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৬

হাবিব স্যার বলেছেন: পড়ার পর মন্তব্যে আবার আসবেন আশাকরি। প্রিয় ভাই, আপনাকে যে অনেক মিস করি। আমাদের সেই প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতাকে।

১৫| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৪

অন্তরা রহমান বলেছেন: লাইলি নিজেও তো নির্দোষ ছিল না। কাজেই তার এই দুরবস্থায় খুব একটা কষ্ট পাই নি। ফরহাদের সাজা না হওয়াটাই স্বাভাবিক, বর্তমান কালের প্রেক্ষিতে। ফাঁকতালে লাভ লুটে নিলেন মামাজান। সুন্দর হয়েছে গল্পটা।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৮

হাবিব স্যার বলেছেন:





অন্তরা আপু, আপনি প্রথম থেকে শেষ অবধি গল্পের সাথে থেকে উৎসাহমূলক মন্তব্য করেছেন।
আপনার মন্তব্যগুলো আমার ভালো লেগেছে।

শকুনি মামারা সবসময়ই ফায়দা লুটার অপেব্ষায় থাকে। লাইলিদের দুরাবস্থার জন্য যে তারাই দায়ী।

১৬| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৫২

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
সব মিলিয়ে মনে হয় ভালোই হয়েছে।
আগামীতে আরো ভালো লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।
শুভ কামনা।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৯

হাবিব স্যার বলেছেন: মনে হয় কেন আবার? আপনি কি পড়েন নি?

১৭| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
মানুষের জীবন কোন খেলনা নয়।
অথচ আমাদের দেশের কিছু মানুষ মানুষ নিয়ে খেলতেই মজা পায়।
আমরা কবে যে মানুষ হবো বিধাতাই জানেন।

গল্প পড়েছি। না পড়ে মন্তব্য করা আমার স্বভাব নয়।
শুভ কামনা।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

হাবিব স্যার বলেছেন:




গল্প পাঠ এবং মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ সাজ্জাদ ভাই।

খেলার পুতুল অনেকে ইচ্ছায় হন অনেকে না বুঝে, অনিচ্ছায়।
তবুও আশা করবো সব মানুষ ভালো থাক।

১৮| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৪১

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভন্ড প্রেমিক ফরহাদের সুবিধাবাদী প্রেম, বেকুব লাইলীর নিজের পায়ে কুড়াল মারা আর সুবিধাবাদী মামার চরিত্র....সবই ভালো ফুটিয়েছেন। প্রথম দিককার গল্প হিসাবে ভালো হয়েছে। আরো ভালো করার অবকাশ ছিল তবে লেখককে সময় দিতে হবে।

একলাফেই কেউ একজন হুমায়ুন আহমেদ হয়ে যাবে না।

প্রচুর লিখুন, চরিত্র নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করুন। গল্প লেখা শুরু করার আগেই অন্ততঃ শুরু এবং শেষ নিয়ে ভাবুন, ঠিক করে নিন। বাকীটা এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। :)

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৪

হাবিব স্যার বলেছেন: ভুয়া ভাইয়া, প্রেরণামূলক খুব সুন্দর করে বলে গেলেন। আমি সময় পেলেই লেখার চেষ্টা করবো। কাজের ফাঁকে যতটুকু সম্ভব। আর আপনারা তো আছেনই। আগে তো এতটুকুই লেখার সাহস পেতাম না।

আর গল্পের চরিত্ররা শুধু গল্পে নয়, বাস্তবেরও চরিত্র। তারা সবাই শুধরে যাক। চানুদের মতো শিশু আমরা চাই না।

১৯| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় হাবিবভাই,

গল্পটা গতকালই পড়েছিলাম কিন্তু মন্তব্য করার মতো অবস্থায় ছিলাম না। তারপরে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু মন্তব্য করতে পারিনি। ফিনিশিংটা ভালো হয়েছে। আরো একটু টুইস্ট হলে ভালো হতো। এক জায়গায় দেখলাম ফরহাদের কথা লাইলির মুখে বসে গেছে। আগামীতে আরো ভালো হবে আশা করি।

শুভ কামনা ও ভালোবাসা জানবেন।

০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৯

হাবিব স্যার বলেছেন:




প্রিয়জনেসু, আপনাদের এমন আন্তরিক ভালোবাসা আর আল্লাহর রহমত পেলে বাকিটা হবে অবশ্যই।
শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে সময় দিলেন। সময় নিয়ে লিখবো ভবিষ্যতে।

আপনার ও আপনার পরিবারের উপর শান্তি বরষিত হোক।

২০| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ৯:৪২

আফসানা মারিয়া বলেছেন: Why the girls always have to pay for their deed? This is my question to this society.

২১| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১০:১৩

তারেক ফাহিম বলেছেন: মামা রুপি দালালদের খপ্পরে পড়ে এমন অনেক লাইলী গার্মেন্টস শ্রমিক।

২২| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আগের পর্বটাও পড়েছিলাম, কিন্তু কমেন্ট করা হয় নি। সমাজের একটা বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। অধঃপতিত হওয়ার জন্য পুরুষ এবং নারী দু পক্ষেরই দোষ আছে, পুরুষের দোষটা বরং বেশিই। কিন্তু লোভাতুর ও একচক্ষু সালিশীরা নানা কৌশলে পুরুষদের দোষ মাফ করে দেয়, এবং পারে তো সমস্ত দোষ নারীদের উপরে চাপিয়ে তাকে বেশ্যা বা বহুগামিনী ভ্রষ্টা হিসাবেও চিহ্নিত করে ছাড়ে। ফলশ্রুতিতে, অনেক নারীকেই বেছে নিতে হয় অভিশপ্ত ও ঘৃণ্য পথকে। কিন্তু আপনার লেখায় লাইলিকে আলোর পথ দেখানো হয়েছে। যদিও সেটা খুব কষ্টেরই হবে।

এসব লেখায় নারীদের আরো প্রতিবাদী হিসাবে দেখাতে হবে, পুরুষের শাস্তি কত ভয়ানক হতে পারে, সেটাও দেখানো যেতে পারে। এখানে ২ নং সিকোয়েলটা দেখতে পারেন

সাবলীল ও প্রাঞ্জল ভাষায় লিখিত গল্পটি ভালো লেগেছে হাবিব ভাই। শুভেচ্ছা।

২৩| ০৭ ই এপ্রিল, ২০১৯ রাত ১১:০৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: হাবিব স্যার,




লাইলির জীবনের আঁধার রাত কেটে এক নতুন ভোরের সূর্য্যোদয়ের প্রত্যাশায়।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.