![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশে মানুষের জন্য কে কবে রাজনীতি করেছে, ক্ষমতা গ্রহণ করেছে তা ছাব্বিশ বছর অবধি বই ঘেটেও উদ্ধার করতে পারিনি। হয়তো যাঁরা জনগণের জন্য ক্ষমতা নিয়েছে কিংবা নিয়েছিল তাঁদের ইতিহাস পুরাকীর্তি খনন করে বের করতে হবে এবং কতো যুগ পরে আবিষ্কার হবে তা সুচিন্তিত গবেষণার বিষয়। তবে এসব ইতিহাস কোথায় মাটি চাপা পড়ে আছে তাও কেউ আবিষ্কার করতে পারিনি। হয়তো সমগ্র দেশের মাটি কেটে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিলেও পাওয়া যাবে না। যা পাওয়া যাবে তা বঙ্গভূমির জন্মলগ্ন থেকে জনগণের রক্ত ঝরার বিভীষিকাময় ইতিহাস, শোষণ নিপীড়ন নির্যাতনের ইতিহাস যা আজও ম্লান হয়নি বরং এসব ধারা অব্যাহত আছে। যা কখনই শেষ হওয়ার নয়, শেষ হয় না, কেবল বংশ পরম্পরা অনুযায়ী সামনে এগোতে থাকে।
বিএনপির ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ও খণ্ড খণ্ড হরতালে সারাদেশে আজ জনজীবন বিপর্যস্ত! পেট্রোল ও হাত বোমা, গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের গুলিতে এ পর্যন্ত ৩৩ জন (২৪জানু....প্র.আ.) মারা গেছে! ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভুগছে শত শত মানুষের চামড়া গায়ে নিরীহ প্রাণী। এই প্রাণী শব্দটিকে জন্তু হিসেবে ব্যবহার করেছি। কারণ মানুষের চামড়া গায়ে থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না। প্রকৃত মানুষ হতে হলে ক্ষমতা ও ধন সম্পদ থাকা লাগে, লাগে গড্ডলিকা প্রবাহের দলীয় লেবাস। যা ঢামেক এ অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর কারো-ই নেই।
যাঁরা পুড়ছে, মরছে, যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে তাঁরা যদি মানুষ হতো তবে রাষ্ট্রীয় বিবৃতি আসতো, রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হতো, রাষ্ট্রপতি হাসপাতালে ছুটে যেতেন। কিন্তু না হয়নি তা হবার নয় কারণ যাঁদের গায়ে কম দামের কাপড় থাকে দিকে তাকানোর সময় এ দেশি রাষ্ট্রীয় অধিপতিদের নেই আর পুড়ে যাওয়ার ফলে গায়ে কাপড় নেই অতএব তাঁদের দিকে তাকানো! প্রশ্নই আসে না! সৌদি আরবের বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মারা যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। প্রবাদে আছে, 'দাদার কবর কোথায় দাদি কাঁদে কোথায়?' আমাদের অবস্থাও ওই দাদির মতো! যাঁদের জন্য রাষ্ট্র, যাঁদের জন্য সরকার ক্ষমতা পায় তাঁদের কথা ভাববার সময় কোথায়? আবার সৌদি বাদশার কাছে শোক ও দেশে পতাকার বিষয় অবহিতি করতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এইচ মাহমুদ আলী আজ সৌদির উদ্দেশ্যে চলে গেছেন। কিন্তু ঢামেকের বার্ন ইউনিটে এঁদের কাউকে একদিনের জন্যও দেখতে পেলাম না! এমন ক্ষেত্রে গ্রামের মুখে বলতে শুনি, 'গোয়ালের ধারের ঘাস গরু খায় না।' আমরা শেখ সাদির পোশাকের গল্প সবাই জানি ও মনের ভিতরে উপলব্ধি করি কিন্তু পালন করি না। ক্ষমতা মানুষকে তার ন্যূনতম মানবিকতা হতে বঞ্চিত করে। 'হায় রে আমড়া কেবল আঁটি আর চামড়া।' আমড়া ঠিক যেন ক্ষমতার প্রতিরূপ। এখানে নিজের জন্যই সবই, অপরের জন্য ভড়েও ভবানী।
এ জন্যই, আমরা দেশের মানুষকে মৃত্যুকূপে রেখে ছুটে যায় ক্ষমতার কাছে দেশ থেকে বহুদূরে যেঁ/যাঁরা কখনই আমাদের দেশের ভূমি স্পর্শ দূরে থাক নিজের চোখে পর্যন্ত দেখিনি! যাঁদের পোশাক পরিচ্ছেদ, অর্থবিত্ত আকাশ ছোঁয়া তাঁদের-ই কাছে। এ জন্যই ৩৩ জন নয় ৩৩ হাজার জন মরলেও অসুবিধা নেই। কারণ ক্ষমতা কখনই এসব ছিন্নমূলের কাছে থাকে না, থাকে বিদেশি রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে। জয়তু বাঙালি।
২৪.০১.'১৫
বিকাল ৩.৩৮ মিনিট।
©somewhere in net ltd.