![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
পুড়িয়ে কিংবা বিচারবহির্ভূত কোনো ধরণের-ই হত্যাকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। আজ যারা একপক্ষীয় হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করছে আগামীতে তারা-ই এমন নৃশংসতার শিকার হবে তখন তারা কী বলবে? তখনো তাদের বলা উচিত, আমি খুশি কারণ এটি আমার খুবই প্রিয়। যায়হোক হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়েও পুলিশের নির্মমতা ও গুলি থেকে রক্ষা পায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র নয়ন বাছার। পঙ্গুত্ব-ই এখন তার সঙ্গী হতে চলেছে। একটি দৈনিক পত্রিকাতে বলা হয়েছে, এপর্যন্ত পুলিশের গুলিতে নিহতের মধ্যে ৯ জনই রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আর বেঁচে যাওয়া নয়ন বাছারের সংখ্যা এতো বেশি যে কোনো পত্রিকা-ই সঠিক তথ্য নির্ণয় করতে পারছে না। যারা মানুষের জানমাল রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছে, এখন তাদের গুলিতেই জনগণের পঙ্গুত্ব ও মৃত্যু পরওয়ানা লেখা হচ্ছে। ক্ষমতার যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের সাধারণ মানুষ। একদিকে হরতালের আতঙ্ক অন্যদিকে পুলিশ ও র্যাবের নির্মম, নৃশংস কর্মকাণ্ড এবং বাছ বিচার না করে সাধারণ মানুষরা ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো। এর মধ্যে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য তো আছেই। এগুলো থাকবে এটিই স্বাভাবিক কারণ রাষ্ট্র যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দুর্নীতি, ঘুষসহ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থন করে তখন এধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়া স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে, হচ্ছেও। আজ যারা পোড়ার বাছ বিচার না করে অঝরে চোখের জল বর্ষণ করছে তাদের কাউকেই নয়ন বাছারের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষের জন্ম হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ কিংবা অন্যসম্প্রদায়ের হলেও সে তো মানুষ, একজন মানুষ, বুদ্ধিজ্ঞান সম্পন্ন মানুষ এটিই সবচে' বড় পরিচয়। অথচ এই মানুষ সম্প্রদায়-ই কোণঠাসা অবস্থায় উপনীত। মূল কথা আজ যারা এসব পুলিশি কথিত বন্ধুক যুদ্ধ, নির্বিচারে গুলিকে সমর্থন করছে আগামীতে তাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও একই অবস্থা হবে। আমি নই, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। তখন কি তারা এর বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন? অবশ্যই এরা তখন পুলিশের বর্বরতার বিরুদ্ধে কথা বলবেন কিন্তু তখন আর সময় থাকবে না। আমি অনেককেই বড় বড় কথা বলতে শুনছি , নীতির কথা বলতে শুনছি, এটি অন্যায় ওটি ন্যায় বলতে শুনছি, তাদের অনেককেই দেখেছি অন্যায় করে কোনভাবে চাকরি বাঁচিয়ে ডিমোশন নিয়ে অন্যজায়গায় বদলি হতে। তাদের কাছেই যখন নীতির বাক্য শুনতে হয় তখন হাস্যরস ছাড়া অন্যকিছুর উদ্রেক করে না। নিজে ভালো না হয়ে অন্যকে উপদেশ দিতে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনা পৃথিবীতে আর আছে বলে অন্তত আমার জানা নেই। এখনও সময় আছে আসেন, নয়ন বাছারদের বাঁচাই। বিশ্বজিতকে বাঁচাতে পারিনি, দেশের অভ্যন্তরস্থ নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে রক্ষা করতে পারিনি, হাজার হাজার ফেলানিকে বাঁচাতে পারিনি সত্য কিন্তু এদের বাকিগুলোকে বাঁচানোর ক্ষমতা থাকতেও যদি এগিয়ে না যাই। তবে বিবেককে কী জবাব দেবেন অবশ্য বিবেকবোধ যদি থেকে থাকে! তবু আমাদের সত্যিকারের বিবেক জাগ্রত হবে কবে?
©somewhere in net ltd.