| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ক্লাস ফাকি মারার মজাই আলাদা, যদিও সুযোগ পেতাম না স্কুল লাইফে। তবে মনোবাসনা ছিল চরম পর্যায়ে। একদিন চান্স পেয়েয় চান্স মোহাম্মদ হয়ে গেলাম। ৫ বন্ধু স্কুল পালালাম টিফিনের পর, মুক্তির আনন্দে আত্মহারা অবস্থা। আবু গারিব বা গুয়ান্তনামা কারাগারের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেলেও বন্দীরা এতটা খুশী হয় না হইতো! মনের সকল মাধুরী মিশায়ে পার করলাম ২/৩ ঘণ্টা। আনন্দের সুখসৃতি কর্পূরের মতো বাতাসে মিলিয়ে গেলো পরেরদিন স্কুলে যেয়ে, হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো নোটিস, বাবাকে নিয়ে স্কুলে আসতে হবে ৩ দিনের মধ্যে। বসবে পঞ্চায়েত, শাস্তি কি অপেক্ষা করছে আল্লাই মালুম! বিচারে কি রায় হয়েছিল তা আজকে আর বলবো না, নিজের ইজ্জতের ফালুদা হওয়ার গল্প শোনানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। এতো নিয়মের বেড়াজালে স্কুল পালানোর ইচ্ছা আর জাগে নাই পরবর্তীতে। এসএসসির রেজাল্টও হয়েছিল আশানরুপ, স্কলারশিপও জুটেছিল কপালে।
কলেজে উঠে পালানোর ফাঁকে ফাঁকে কদাচিৎ ক্লাসে যেতাম। বলারও কেও নাই আবার বাধা দেওয়ারও কেও নাই। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ক্লাস পালিয়ে মজার লেশমাত্রও অনুভব করিনি কলেজ লাইফে। সেদিন বিশ্বাস করলাম, “পরাধীনতার মধ্যেই আসলে স্বাধীনতার মজাটা বোঝা যায়"। ইন্টারমিডিয়েটে ফলের কথা কিইবা বলবো ! রেজাল্ট হাতে আকাশ ভেঙ্গে পড়েছিল মাথায়, স্কুলের সেই শাস্তি এবং শাস্তির পরবর্তী ইফেক্টের কথা খুব মনে পড়েছিল, কেনযে হেড স্যার ছিলেন না কলেজে --- খুব আফসোস হলো সেদিন। নিয়মের রস যতই তিতা হোক ফল মিষ্টিই বয়ে নিয়ে আসে।
ক্লাস ফাকি দেওয়ার প্রবণতা আমাদের রাজনীতিবিদদের মধ্যেও প্রবল, পালিয়ে বেড়ান এদিক সেদিক। পৃথিবীর সবচেয়ে দামী স্কুলেও তাঁদের মন বসতে চাই না ! তাঁরা সবাই ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি প্রাপ্ত। বলারতো কেও নেইই, বাধা দিবে কার সাধ্য। তাঁরা এখন ট্র্যাডিশনাল কলেজ ষ্টেজ পার করছেন। কলেজে এমন পারফরমেন্সের ফলাফল আন্দাজ করতে যেয়ে আমি উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত। আগের ব্যাচের ছাত্ররা ৪০০ দিনের মধ্যে ১৩৫ দিন অনুপস্থিত ছিল, আর কারেন্ট ইয়ারের গুণধররা ৩৮২ দিনের মধ্যে ১৬৩ দিন স্কুল পালায়ে নতুন রেকর্ড করেছেন, ভালো পারফরমেন্সের জন্য বেতন, ভাতা, স্কলারশিপের পরিমাণও বেড়েছে আগের থেকে। প্রস্তুতি এবং পারফরমেন্স তো ভালোই মনে হচ্ছে, কিন্তু রেজাল্ট কি অপেক্ষা করছে ?
“তুমি অধম, তাই বলে আমি উত্তম হইবনা কেন” ? ---- জনপ্রিয় এই বাংলা প্রবাদটা নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছে নিজেকে, “তুমি অধম, তাই বলে আমি আরও বেশী অধম হইবনা কেন”? দুনিয়ার সবাই এগিয়ে চলেছে, কিন্তু আমার আর এগোতে মন চাই না, আমি পিছিয়ে যেতে চাই, স্কলারশিপধারী কলেজের ছাত্রগুলোকে ডিমোসান দিয়ে পুনরায় প্রাইমারী স্কুলে ভর্তি করা হোক। হেডস্যারের একটা শক্ত নোটিস আজ বড়োই প্রয়োজন। হইতো একটু তিতা লাগবে, তবে ফল হবে শুমধুর -- কনফার্ম। আমি সত্যিই এদের ডিমোসান চাই -----
(ইফতি শিমুল)
©somewhere in net ltd.