নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভালো কিছু চিন্তা করো আর ভালো না লাগলে বইয়ের পাতায় নিজেকে ডুবিয়ে দাও। অনেক কষ্টে নিজেকে শান্ত রাখার পথ তুমি নিজেই খুজে নেও।

জহির আসাদ

জহির আসাদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আইন কি আমাদের বান্ধব?

২১ শে মার্চ, ২০১৮ দুপুর ১২:২২


দিন দিন আমাদের উপযোগী করে দেশের বিজ্ঞ নীতি/আইন প্রণেতাগণ বিভিন্ন আইন ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে বরাবর আমরা একটা বিষয় লক্ষ্য করে আসছি তা হল 'যদি/অন্যথায়' কথাটি যুক্ত থাকে। আর অন্যথায় কথাটি দিয়ে যে কত অপরাধী পার পেয়ে গেল তাঁর কোন ইয়াত্তা নেই। যাকে আবার শুদ্ধ বাংলায় বলা হয় আইনের মারপ্যাঁচ। একথাগুলো আবার আমাদের দেশের আইনজীবীগণ বিশেষভাবে অবগত। সমাজের প্রতিটা মানুষ যতই অপরাধ করুকনা কেন তাঁরা সবাই দুটো স্থানে কখনই মিথ্যা বলে না, এক- ডাক্তার, দুই- উকিল/আইজীবী। কিন্তু দেখা যায় এই সুবর্ন সুযোগটাই গ্রহণ করেন আমাদের দেশের বিজ্ঞ এই মহোদয়গণ। ডাক্তার করেন টেস্ট নামের ডাকাতি আর আইনজীবী বা উকিল করেন দ্বৈত বাণিজ্য ( বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ থেকেই দেখা যায় টাকা নেন আবার তারিখ এর পর তারিখ নিয়ে দৈনন্দিন হাজিরার টাকাটা লম্বা করেন)। সরকারি আমলাদেরও আছে আবার সুবিধাবাধী আইনের প্রয়োজন। তাঁরা ভিআইপি বলে এখন দেখা যায় রাস্তায় এক দেড় ঘণ্টার জ্যাম তৈরি করেন। মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে জনগণ নেতার নাকি নেতা জনগণের জন্য যে কোনটা তাই বোঝা দায়। যখন নির্বাচন আসে তখন দেখি এই ভিআইপি গণই তো সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে ভোট ভিক্ষা করেন, তখন কি তাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় না? তখন তাদের যদি নিরাপত্তা না লাগে তবে নির্বাচিত হওয়ার পর কেন এত নিরাপত্তার ভয়? আবার দেখা যায় জাতীয় সংসদে প্রস্তাব রাখা হয় ভিআইপিদের জন্য আলাদা লেন করা হউক। যেখানে আমরা উন্নত দেশের দিকে তাকালে, দেখা যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী চলেন সাঁটলট্রেনে। মোঘল যুগের গল্প শুনি দেশের রাজা-বাদশাগন তাদের প্রজাদের সুখ-দুখ দেখার জন্য সদ্দবেশ নিয়ে গুরে বেড়াতেন আর আমাদের নেতাদের দেখা পাওয়ার জন্য সাধনার প্রয়োজন পরে।
যাইহোক, কিছুদিন আগে দেখলাম বাল্যবিবাহ নিয়ে এক আইন। আইন করা হল আঠার বছরের আগে কোন মেয়ের বিয়ে দেয়া যাবে না। সঙ্গে এও লেখা হল 'যদি' বাবা-মা চায় তবে ষোল বছরে বিয়ে দেয়া যাবে। তাহলে প্রশ্ন আঠার বছর পারনা হলে জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হয়না কারন সে সাবালিকা/সাবালক নন। তাহলে সাবালিকা/সাবালক যদি নাই হয় তো ষোল বছরে বিয়ে কেন অনুমোদন দেয়া হয়? যখনি এই আইন হল তার কিছুদিন পর সংবাদ এল স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে মেয়ের বাবারা মেয়ের বয়স বারিয়ে নিচ্ছেন টাকার বিনিময়ে। দেখা গেলো আইনের এই 'যদি' দিয়েই নতুন অপরাধ সৃষ্টি হল, মধ্যসত্তবোগীরা আবার তাদের আয়ের পথ ও কিশরী/কিশরদের সর্বনাশ করতে লাগলো।
আজকের পত্রিকায় দেখলাম বিয়ের পর স্ত্রী তার বরের নামের অংশবিশেষ লাগাতে পারবে না, খুশি হলাম কিন্তু পুরো সংবাদ পরে আবার সেই 'যদি' দেখতে পেলাম। যদি কেউ পরিবর্তন করতে চায় তো আবেদন করতে হবে। এখনে আমাদের প্রশ্ন যে কেন নির্ধারিত একটা আইন ঘোষণা করা হয়না। সরকার বা আমাদের দেশের বিজ্ঞ আইন প্রনেতাদের কাছে অনুরোধ যেন এই যদি বাদ দিয়ে আইন পাশ করা হয়। আমাদের বিশ্বাস তাহলে যেমন অপরাধ কমবে তেমনি আইনের ব্যাবহারও যথাযথ হবে। সৌদি আরবে চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়া সেটা যে চুরিই হোক, তাই তাঁরা চুরি করে না। এখনে যদি বলা হত চুরির ধরন অনুযায়ী বিচার হবে তাহলে হয়ত চুরি থামত না তদ্রুপ আমদেরও উচিৎ একটা আইন বিশ্লেষণ করে নির্ধারিত আইন পাশ/ঘোষণা করা। এখানে আর একটা উদাহরন দিতে চাই- আমার এলাকায় কিছু দিন আগে হটাৎ করেই ডাকাতি হতে শুরু করল। দু'ই- তিনটা খবর এর পর আমাদের স্থানীয় এসআই সাহেব প্রতিটা ওয়ার্ডে মিটিং করে বললেন প্রত্যেককে পালা করে পাহারা দিতে হবে রাত্রি দ্বিপ্রহর পর্যন্ত না হলে যে পাহারা না দিবে তাকে গ্রেফতার করা হবে, ব্যাস যেই কথা সেই কাজ এখন আর ডাকাতি তো দুরের কথা চুরিও হয়না। আমরাও চাই সুন্দর একটা সমাজ, সুন্দর নিরবিচ্ছিন্ন একটা জীবন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.