| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কোথায় জানি পরেছিলাম নিঃস্বতা মানুষকে ধীরে ধীরে কুরে খেয়ে নেয়। রাতের আকাশকে ভালো লাগতে শুরু করে, নির্জনতা বড়ই আপন মনে হতে থাকে। ইলেক্ট্রিসিটি থাকা অবস্থায়ও বাতি বন্ধ করে বসে থাকা, বিশেষ কারন ছারাই মন উদাসীন হওয়া। আজ মনের মাঝে এক অকুল পাথার ঢেউ বইছে। কারো পথ পানে আজও বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এল। বাড়ির কাছের রাস্তার ধারের নির্বাক লাইটটি আজও কোন অজানা সংকেতে জ্বলে উঠল। সারা রাত ধরে জ্বলতেই থাকবে, যতক্ষণ না সকাল বেলায় মোয়াজ্বীন সাহেব বা সবার আগে উঠা কোন প্রতিবেশি সুইচটি বন্ধ না করে। মাঝে মাঝে না বড় হিংসা হয় বাতিটির প্রতি কেন ওঁর কোন মন নেই কেন ওঁর কোন ব্যাথা নেই? যতক্ষণ ওঁর ভিতর কপার-কার্বনেট/ফিলামেন্ট আছে ও জ্বলতেই থাকবে। আজও জানালার ধারে বসতে থাকতে দেখে মা এক পশলা বকে গেছে, জানি প্রতিবার বকার সঙ্গে সঙ্গে তার মায়াবী চোখদুটোও জ্বলে ছল ছল করে। তিনি তো আর ইচ্ছে করে আমায় বকে না। তার বকা আমার বিষণ্ণ মনে একটুও দাগ কাটতে পারে না।
পাশের বাড়ির বন্যা ভাবী এসেছে অনেকক্ষণ হল। আমার বিছানার এক পাশে নিরব বসে আছে। আমি টের পেয়েছি কিন্তু ফিরে তাকাইনি। ভাবীও জানে আমি বুজতে পারেছি তার আগমনের কথা তবুও একটি কথাও তিনি বলছেন না। আমি জানি ভাবী একা বসে কি করছে আমার পরার টেবিলে ও টেবিল সংলগ্ন বুক শেলফে রাখা প্রায় দেড়শ বইয়ের দিকে তাকিয়ে শুধু নাম গুলো পরছেন। এই বন্যা ভাবীকে নিয়ে কত না মজা করতাম। দরজার সামনে দেখলেই চিৎকার দিতাম মা তারাতারি জানালা গুলো আটকাও বন্যা বন্যা আসলো তো সব ডুবে যাবে। আর ভাবী তখন এক দৌড়ে আমার ঘরে ঢুকে আমার কান মলে দিত। কত গল্প করতাম কোন বইয়ে কোন কাহিনী তা শুনাতাম, ভাবী ইংরেজী উপন্যাস বুঝতনা। ভাবীটা রুপে খুব সুন্দর তাই উচ্চ মাধ্যমিক দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাফিক ভাই তাকে বিয়ে করে নিয়ে আসে। তারপর আর লেখাপরা করেনি, রাফিক ভাই আবার ব্যবসা করেন ভালো পয়সাওয়ালা মানুষ ব্যক্ততিও ভালো যতদূর জানি আর দেখি বন্যা ভাবী সুখে আছে। আগে যাও লেখাপড়া নিয়ে কিছু বলত এখন আর বলে না। বলে কি আর দরকার লেখাপড়া করে তোমার ভাই তো আর আমাকে চাকরী করতে দেবেনা তাহলে কে করে এত কষ্ট। দিনের প্রায় অর্ধ সময় ভাবী আর আমি একসাথেই কাটাই গল্প করি।
একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না'---- কেউ বলেছিল। কি হল আজ, আমার কি ঐ আনন্দ কপালে নাই। একটা চড়ুই পাখি বহুদিন আগেই আমার ছোট্ট বারান্দার পাশে রাখা এসি আর ওয়ালের মাঝের ফাঁকে বাসা গেড়েছে কয়েকদিন আগে শুনেছি কিচিরমিচির আওয়াচ শুনেছি হয়তো বাচ্চা দিয়েছিল। এরপর অনেক দিন পর দেখি দুট পাখির জায়গায় অনেকগুলো পাখি। কি সুন্দর উড়ে বেড়ায় মনের সুখে। ভাবী আর আমি প্রায়ই পাশাপাশি দাড়িয়ে ওদের খেলা দেখতাম, ওদের মাঝে মাঝে খাবার দিতাম। আজও একটা পাখি জানালার গ্রিলে বসে আছে কিন্তু কোন নড়াচড়া নেই, একটুও ডাকে না। পাখিটার দিকে তাকাতে কেন যেন আজ ভালো লাগছেনা আবার উরিয়ে দিতেও মন চায়না। কখন জানি ভাবী এসে আমার কাঁধে রেখেছে, কাঁধটা ভারি মনে হওয়ায় ফিরে তাকাই। ভাবী বলে আর কতক্ষন বসিয়ে রাখবে? হটাৎ জানালার ফাক দিয়ে দেখলাম বাবা ধীর পায়ে বাসার ভিতর ঢুকছে। কতক্ষন বাবা একটা ডাক দিল মামনি এদিকে আসবে। 
©somewhere in net ltd.