| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বর্তমান সময় টিভি, পত্রিকা খুললেই একটা বিষয় সবার আগে দেখা যায় তা হল কিশোর অপরাধ ও খুন। কিশোর কারা? ওরা কি সমাজ বা পরিবেশের আলাদা কোন প্রাণী? ওরা তো আমাদেরই সন্তান, ভাই, বোন, নাতি-নাতনি তাই নয় কি? তাহলে প্রশ্ন হল কেন বাড়ছে এই অপরাধ? ঐশী ট্রাজেডি আমরা সবাই জানি কেন করেছিল নিজের বাবা-মা কে খুন। সঙ্গ দোষেই তো। আরও একটা বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে ভার্চুয়াল জগৎ। ভার্চুয়াল জগৎ আমাদের থেকে আমাদের সন্তান বা পরিবারকে অনেকটাই আলাদা করে দিয়েছে। একবার পত্রিকায় পরেছিলাম যে আমেরিকায় শতকরা ২ ভাগ মানুষ তাদের পরিবারকে সপ্তাহে সম্মানজনক সময় দিয়ে থাকে। অন্যদিকে শতকরা ৭৮ ভাগ মানুষ তাদের পরিবারকে কোন সময় দিতে পারে না। এই যদি হয় পরিস্থিতি তাহলে আমাদের সন্তান বা কিশোরদের খেয়াল কিভাবে রাখা সম্ভব? পশ্চিমা এই সংস্কৃতিগুলো আমাদের দেশের উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত সমাজের মাঝে অতিরঞ্জিত ভাবে প্রভাব ফেলছে। কিশররা তাদের হাতের মুঠোয় এমন গেজেট পাচ্ছে যে তারা যা চায় তাই দেখতে বা পরতে বা শুনতে পারে। আবার আমাদের মিডিয়া জগতে এমন কিছু প্রোগ্রাম দেখায় যা থেকেও কিশোর-কিশিরীরা তাদের চিন্তাকে পরিচালিত করে থাকে। মিডিয়াকে উচিৎ যেভাবে ক্রাইম সিন গুলো যেভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখায় এর শাস্তিও সেভাবে দেখানো উচিৎ। ঐশীর ঘটানো হত্যাকাণ্ড ঐ সময় কোনএক মিডিয়ায় দেখেছিলাম ইন্ডিয়ান একটা টিভি শো এর সাথে ম্যাচ করিয়েছিল। আমার কর্মক্ষেত্রের জন্য কছু দিন নরসিংদি ছিলাম এখানে আমি অনেক দেখেছি উঠতি বয়সের ছেলেরা লেখাপড়া তেমন করে না কিন্তু তারা কোন চ্যানেলে কোন ক্রাইম সিন দেখায় তা মুখস্ত বলে। অর্থাৎ তারা সামাজিক বা শিক্ষনীয় বা বিনদনের চেয়ে ক্রাইম সিন অনুষ্ঠানগুলো বেশি দেখে। আমি দুই বছর ঐ এলাকায় ছিলাম তাঁর মধ্যে চারটি খুনের ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে একটা খুনের ঘটনায় ১৩ বছরের ও ১৫ বছরের দুটি ছেলেকে গ্রেফতার করে পুলিশ পরে জানতে পারলাম ঐ খুনটা এই ছেলেদুইটা সহ আরও একজনকে নিয়ে ঘটানো হয়েছে কারন ছিল প্রেমের রেশারেশি ও মাদক। আমার কাজের জন্যই স্থানীয় পুলিশ ও আইনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখতে হত তাই অধিক জানতে পেরেছিলাম। আরও একটা ঘটনা ঐ জায়গারই এক অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র একজন মাঝবয়সী লোকের চোখ তুলে দিয়েছে কারন জানা যায় ছেলেটি গাঁজা সেবন করার সময় ঐ লোকটি চড় মেরেছিল তাই।
আরও একটা ঘটনা একবার কোন এক লোকাল নিউজপেপারে পরেছিলাম একটা খুনের ঘটনা। যেখানে উল্লেখ করা হয় দুইটি ছেলে এক ইঞ্জিনিয়ারকে খুন করে প্রকশ্যে। পরে তদন্তে বের হয় ঐ ছেলেদেরকে স্থানিয় আর এক নেতার ছত্রছায়ায় দেখা যায় এবং গোপন সুত্রে আরও জানা যায় যে এই ছেলেদের পরিবেরের সদস্যদের সংসার চালান ঐ নেতা। কিশোর এই ছেলেদের ব্যবহার করা হয় কারন এরা ছোট বলে অনেকেই সন্দেহ করে না কাজ হয় ঠিক।
কোন সন্তানই খারাপ হয়ে জন্মায়না খারাপ তাদের আমরা করি, আমাদের পরিবেশ করে, নয়ত ভার্চুয়াল জগৎ করে অথবা আমাদের সমাজের আলট্রামোডার্ন বাবা-মায়েদের অবহেলা, সময় না দেয়া ও অবাধে তাদের সকল চাহিদা পুরন করার জন্যই হচ্ছে। আরও একটা ঘটনা মনে পরে গেলো, আমার এক বন্ধুর মটরসাইকেলের শরুম আছে মাঝে মাঝে ওখানে গিয়ে আড্ডা দেই। একদিন এস এস সি পরিক্ষার ফল প্রকাশ হয় ঐ দিন। সন্ধ্যা ছয়টা নাগাত এক ভদ্র মহিলা আসেন তাঁর সুযোগ্য সন্তানকে নিয়ে। এসে বলেন দেখ বাবা তোমার যে বাইকটি পছন্দ হবে সেটাই পাবে যাও পছন্দ কর আমি বসি। ছেলেটা ইয়ামাহার আর১৫ পছন্দ করে। ভদ্র মহিলা বলেন ঠিক আছে। এরপর কাগজ পত্র লেখার সময় শুনলাম যে ঐ ছেলে যদি পরিক্ষায় পাশ করতে পারে তবে তাকে বাইক কিনে দেয়া হবে এই প্রমিজ তিনি ও তাঁর স্বামী করেছিলেন তাই ফল প্রকাশের পর আর অপেক্ষা করেননি। আমি কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ভাই তুমি কত পয়েনট পেয়েছ? ও অনেক গর্ব নিয়ে বলল ২,১৯ পেয়েছি কমার্স থেকে। এখন প্রশ্ন হল এই ছেলে কতটা আগ্রাসী হতে পারে।
যাইহোক আর লিখলাম না আমার মনে হয় কিশোর অপরাধ ও কিশোর দ্বারা খুন একমাত্র পরিবারই পারে রুখে দিতে।
( ছবি ক্রেডিট- ইত্তেফাক)
©somewhere in net ltd.