| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
একটা ফ্লাইওভারের পিলারে কিছু তরুণ-তরুণী গ্রাফিতি আঁকতে চেয়েছিল। ঘটনাটা শুনতে খুব সাধারণ। পৃথিবীর বহু শহরে দেয়াল, ব্রিজ, আন্ডারপাস—সবই মানুষের অনুভূতি প্রকাশের ক্যানভাস হয়ে ওঠে। কোথাও প্রতিবাদ, কোথাও স্মৃতি, কোথাও স্বপ্ন। কিন্তু আমাদের দেশে সেই রং-তুলির ঘটনাই হঠাৎ রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিল। প্রশ্ন উঠল—কেন?
“জুলাই গ্রাফিতি” নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটার মূল জায়গা আসলে শুধু ছবি আঁকা নয়; বরং স্মৃতি ও প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ। রাজনীতিতে প্রতীক খুব শক্তিশালী জিনিস। একটি দেয়ালচিত্র কখনও কখনও একটি বক্তৃতার চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। কারণ দেয়ালের ভাষা সরাসরি মানুষের চোখে পড়ে, মানুষের মনে ঢুকে যায়।
যারা গ্রাফিতি আঁকতে চেয়েছে, তাদের কাছে এটি হয়তো একটি সময়, একটি আন্দোলন বা একটি প্রজন্মের অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই এমন প্রকাশকে “নিরপেক্ষ শিল্প” হিসেবে দেখে না। তারা মনে করে, যে দেয়ালে একটি প্রতীক উঠছে, সেটি হয়তো ভবিষ্যতের জনমতও তৈরি করছে। এখানেই শুরু হয় ভয়।
বিএনপির আপত্তির জায়গাটা সম্ভবত এখানেই—তারা হয়তো মনে করেছে, এই গ্রাফিতির পেছনে রাজনৈতিক বার্তা আছে, অথবা এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে ব্যঙ্গ বা আক্রমণ করতে পারে। আমাদের রাজনীতিতে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমালোচনা আর শত্রুতাকে অনেক সময় এক করে দেখা হয়। ফলে একটি ছবি, একটি স্লোগান, এমনকি একটি রঙও দলীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে যায়।
কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—একটি গ্রাফিতি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা কেন?
এখানেই নতুন প্রজন্মের আপত্তি সবচেয়ে বেশি।
এই প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় হয়েছে। তারা প্রশ্ন করতে শেখেছে। তারা জানে, মত প্রকাশ দমন করে চিন্তা থামানো যায় না। বরং দমন যত বাড়ে, প্রতিরোধও তত দৃশ্যমান হয়। তাই কয়েকজন তরুণ দেয়ালে ছবি আঁকতে গেলে সেখানে পুলিশি বাধা, নারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বা প্রশাসনিক কড়াকড়ি—এসব অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর মনে হয়।
কারণ মানুষ এখন আর শুধু “কি হলো” দেখে না, “কেন হলো” সেটাও বিচার করে।
ইতিহাস বলছে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ কখনও দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতি নিশ্চিত করতে পারেনি। দেয়াল মুছে ফেলা যায়, কিন্তু মানুষের ভেতরের প্রশ্ন মুছে ফেলা যায় না। বরং যে রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক শক্তি শিল্প, ব্যঙ্গ কিংবা ভিন্নমতকে সহ্য করতে পারে না, মানুষ ধীরে ধীরে তাদের আত্মবিশ্বাস নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো—আমাদের রাজনীতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একটি ফ্লাইওভারের পিলারও নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। সেখানে আঁকা একটি ছবি নিয়েও দলীয় পরিচয়ের চশমা পরে বিচার হয়। কেউ ভাবে এটি প্রতিবাদ, কেউ ভাবে অপমান, কেউ ভাবে ষড়যন্ত্র।
কিন্তু শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—এটি প্রশ্ন তোলে। আর প্রশ্নকে ভয় পেলে সমাজ কখনও পরিণত হয় না।
হয়তো সময় এসেছে দেয়ালকে শুধু দেয়াল হিসেবে দেখার। প্রতিটি রঙকে রাজনৈতিক যুদ্ধ হিসেবে না দেখে, কখনও কখনও মানুষের অভিব্যক্তি হিসেবেও দেখার। কারণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য শুধু নির্বাচনে নয়; মানুষের কথা বলার অধিকারেও।
২|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৩
সৈয়দ কুতুব বলেছেন: সমাধান হয় নি ?
১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩
জুয়েল তাজিম বলেছেন: না, হয়নি এখনো
৩|
১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪
নূর আলম হিরণ বলেছেন: গ্রাফিতের সাথে সাথে তারা যে অনুচ্চারণযোগ্য ভাষায় লিখা লিখে সেগুলো লেখারও অধিকার চায় তারা!
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৯
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: একটি গ্রাফিতি ঠেকাতে ১৪৪ ধারা কেন?
................................................................
যেখানে সেখানে গ্রাফিতি হোক তাই বা একটি সুষ্ঠু দেশের নাগরিক
চাইবে কেন ? স্বাধীনতা মানে এই নয় যে, যা খুশী করব,
দেশের বাহিরে গিয়ে দেখেন তো , কোন সুষ্ঠু রাষ্ট্র এটা
মেনে নেয় ? প্রতিবাদ করার ভাষা আছে, আছে পদ্বতি
সেগুলো শিখুন, নিয়ম মেনেও প্রতিবাদ করা যায় ।