| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রামিসা—একটি নাম, একটি নিষ্পাপ মুখ, একটি অসমাপ্ত শৈশব।
যে বয়সে শিশুরা স্কুলব্যাগ কাঁধে স্বপ্ন বুনে, মাঠজুড়ে দৌড়ে বেড়ায়, পৃথিবীকে রঙিন চোখে দেখতে শেখে—সেই বয়সেই তাকে বিদায় নিতে হলো এক নির্মম অন্ধকারের কাছে হার মেনে। দরজার সামনে পড়ে থাকা ছোট্ট একজোড়া জুতার একটি, এক মায়ের বুকের ভেতর হঠাৎ করে জাগিয়ে দিয়েছিল অজানা আশঙ্কা। তারপর শুরু হয়েছিল ছুটে বেড়ানো, খোঁজ, কান্না আর আতঙ্কে ভরা অপেক্ষা। কিন্তু সেই খোঁজের শেষটা ছিল এমন এক বিভীষিকা, যা কোনো পরিবার, কোনো বাবা-মা যেন কখনো না দেখে।
রামিসার মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আমাদের সমাজের গভীরে জমে থাকা ভয়ংকর মানসিক বিকৃতির নির্মম প্রতিচ্ছবি। আমরা প্রায়ই ভুলে যাই—অপরাধীরা সবসময় ভয়ংকর চেহারা নিয়ে সামনে আসে না। অনেক সময় তারা আমাদের আশপাশেই থাকে, পরিচিত মুখের আড়ালে লুকিয়ে রাখে অসুস্থ মানসিকতা। নারীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য, শিশুদের প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহ, অনলাইনে অপমান বা বিকৃত রসিকতা—এসবকে আমরা অনেক সময় “মজা”, “ট্রল” বা “বুলিং” বলে এড়িয়ে যাই। অথচ এসবই একসময় ভয়ংকর অপরাধের পূর্বাভাস হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সবচেয়ে আতঙ্কের সত্য হলো—আজ এই সমাজে কোনো শিশুই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। শুধু মেয়েশিশু নয়, ছেলেশিশুরাও ঝুঁকির বাইরে নয়। তাই কেবল সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ কিংবা ক্ষোভ দেখানো যথেষ্ট নয়। পরিবার থেকেই শিশুদের আত্মরক্ষার শিক্ষা দিতে হবে। “গুড টাচ” ও “ব্যাড টাচ” সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অপরিচিত মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করতে হবে, কোথায় ভয় পেলে সাহায্য চাইতে হবে—এসব শিক্ষা শিশুর নিরাপত্তার জন্য আজ অপরিহার্য।
একই সঙ্গে সমাজকেও বদলাতে হবে। অনলাইন কিংবা বাস্তবে যেকোনো যৌন হয়রানি, বিকৃত মানসিকতা, সহিংস আচরণ ও অসুস্থ মন্তব্যের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কারণ অপরাধ শুধু আইন দিয়ে থামে না; থামে সচেতনতা, মানবিকতা ও সম্মিলিত প্রতিবাদের মাধ্যমে।
আজ যদি আমরা অন্যের সন্তানের কান্নাকে নিজের মনে না করি, তবে কাল সেই নীরবতার আগুন আমাদের ঘরেও পৌঁছে যেতে পারে। নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। তাই রামিসার জন্য শুধু বিচার চাইলেই চলবে না; তার স্মৃতিকে সামনে রেখে আমাদের এমন এক সমাজ গড়ার শপথ নিতে হবে, যেখানে কোনো শিশুকে আর ভয় নিয়ে বড় হতে না হয়, কোনো মায়ের বুক আর সন্তানের জন্য শূন্য না হয়।
©somewhere in net ltd.