| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন আহমেদ নিঃসন্দেহে ভদ্র, শিক্ষিত ও অভিজ্ঞ একজন রাজনীতিবিদ। বাংলাদেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে তাঁর ব্যক্তিত্ব অনেকের কাছেই ব্যতিক্রম মনে হতে পারত। একজন গুমের শিকার মানুষ হিসেবে তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ভয়াবহতা দেখেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষ আশা করেছিল—ক্ষমতার অবস্থানে গিয়ে তিনি হয়তো জনমানুষের অনুভূতি আরও গভীরভাবে বুঝবেন, ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আরও সংবেদনশীল হবেন। কিন্তু বাস্তবতা এখন ভিন্ন এক চিত্র দেখাচ্ছে।
মাত্র কিছুদিন আগেও যিনি ছিলেন সহানুভূতির প্রতীক, আজ তাঁকেই জনতার সামনে “ভুয়া” স্লোগানের মুখে পড়তে হচ্ছে। ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে নির্মমভাবে নিহত শিশু রামিসার পরিবারের বাড়ি—সব জায়গাতেই একই প্রতিক্রিয়া। প্রশ্ন হচ্ছে, কেন? একজন রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে জনরোষ রাতারাতি তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে মানুষের জমে থাকা হতাশা, ক্ষোভ এবং প্রত্যাশা ভাঙার বেদনা।
মানুষ মনে করছে, আপনি জনগণের আবেগ ও বাস্তবতাকে উপলব্ধি করার চেয়ে বারবার আইনি ব্যাখ্যা, সাংবিধানিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশকে সামনে এনেছেন। দেশের মানুষ যখন দ্রুত বিচার, দৃশ্যমান কঠোরতা এবং নৈতিক অবস্থান দেখতে চেয়েছে, তখন তারা আপনার বক্তব্যে পেয়েছে কূটনৈতিক ভাষা, সময়ক্ষেপণের ইঙ্গিত এবং দূরত্ব। জনগণ এটাকে বিচক্ষণতা হিসেবে নেয়নি; বরং অনেকেই এটাকে জনমতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকা এক ধরনের রাজনৈতিক আত্মতুষ্টি হিসেবে দেখছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু কথার রাজনীতি দেখে না; তারা অবস্থান বিচার করে। জনগণ খুব ভালো করেই বোঝে, কে তাদের অনুভূতির পাশে দাঁড়াচ্ছে আর কে কৌশলী ভাষায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। আপনি হয়তো মনে করেছেন, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক যুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যখন মানুষের আবেগ ক্ষোভে পরিণত হয়, তখন কেবল আইনগত ভাষা তাদের সন্তুষ্ট করতে পারে না।
আওয়ামী লীগের বহু নেতা-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হতে লেগেছিল দীর্ঘ ১৫ বছর। অথচ আপনার ক্ষেত্রে সেই প্রতিক্রিয়া এসেছে অল্প সময়েই। এর কারণ মানুষ আপনার কাছে বেশি প্রত্যাশা করেছিল। তারা ভেবেছিল, নির্যাতনের অভিজ্ঞতা যার নিজের জীবনে আছে, তিনি হয়তো জনগণের কষ্টের ভাষাও বুঝবেন। কিন্তু এখন অনেকের কাছেই মনে হচ্ছে, আপনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে গিয়ে সেই পুরোনো রাজনৈতিক দূরত্বের অংশ হয়ে উঠছেন।
রাজনীতিতে সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা হলো তখন, যখন একজন নেতা ভাবতে শুরু করেন—“আমি যা বুঝি, জনগণ তা বোঝে না।” অথচ গণতন্ত্রের মূল শক্তিই হলো জনমত। মানুষ কী চায়, সেটি জনগণ নিজেরাই সবচেয়ে ভালো বোঝে। আর যখন সেই জনমতকে বারবার উপেক্ষা করা হয় বা দলীয় স্বার্থের আড়ালে ঠেলে দেওয়া হয়, তখন জনতার প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে প্রতিবাদে রূপ নেয়।
আজ যে “ভুয়া” স্লোগান উঠছে, সেটি শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্ষোভ নয়; এটি মানুষের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। মানুষ আসলে বলতে চাইছে—তারা আর ভাষণের রাজনীতি চায় না, তারা বাস্তব পরিবর্তন চায়। তারা এমন নেতৃত্ব চায়, যারা জনগণের অনুভূতিকে রাজনৈতিক কৌশলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবে।
©somewhere in net ltd.
১|
২২ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ভয়াবহতা দেখেছেন।
................................................................................
স্বাভাবিকভাবেই তিনি নির্যাতিতের পক্ষে থাকবেন ।
কিন্ত তিনি দ্রুত জন-মানুষের আস্হা হারাচ্ছেন নিজ
কৃতকর্মর কারনে ।
দেখা যাচ্ছে, মির্জা ফখরুল যা বলেন তা তিনি উল্টে দেন ।
মির্জা ফখরুল পুলিশ হত্যার বিচার করতে চাইছিলেন
তিনি তা হতে দিলেন না ।
.....................................................................................
এমন চলতে থাকলে বিএনপি জন সাধারণের সমর্থন দ্রুত হারাবেন ।