| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ জাকির হোসেন রাজু
সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত লিখার জন্যই আমার এই ব্লগে আগমন। আমার পরিচয় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১ম বর্ষে পড়ছি। আর টুকটাক সাংবাদিকতা করছি
শুনশান শব্দ করেই যাচ্ছে এসিটা। তবুও গরম লাগছে খুব। অথচ বাইরে হাড়কাপা শীত। কত মানুষ রাস্তার পাশে পাতলা কিছু একটা গায়ে দিয়ে গুটিশুটী হয়ে শুয়ে আছে। কি আজব এক ঢাকা শহর।
অফিসের ভেতরটা খুব গরম। মৌচাকের কসমস বিল্ডিং এর নয় তলা। শীতকালেও এসি ছাড়া হয়না। ঐ যে পাশে বসা তৌহিদ ভাই এইবার ফ্যানটাও ছেড়ে দিলেন। এসির শুনশান এর সাথে ফ্যানের শো শো আওয়াজ এক মধুর ছন্দ সৃষ্টি করছে।
তৌহিদ ভাইটা খুবই কাজের ভাই। ইউনবি এর ডেস্ক এর অর্ধেকটা কাজ উনি একাই করেন। আমাদের সাথে ও খুব ফ্রি। কত ফ্রিলি কথা বলেন, মনে হয় আমাদের ১-২ বছরের সিনিয়র। কিন্ত উনি আমাদের প্রায় ৮ বছরের সিনিয়ির।
আমি আর হাসান ইউনবিতে ঢুকলাম ৫ মাসের মত হল। প্রথম প্রথম খাপ খাইয়ে নিতে একটু কষ্ট হয়েছিলো আমার। এখন খুব মিশে গেছি ইউনবি পরিবারের সাথে। সবাইতো পায় আমার ই ডিপার্ট্মেন্ট বড় ভাই।
হাসান খুব স্মার্ট ছেলে। খুব ম্যাচুয়র্ড ও। সব কিছুই কত সহজের মানিয়ে নেয়। ওর থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এখনো শিখেই যাচ্ছি।
এখানে আমাদের কাজটা হল নিউজ আসলে ওগুলা আপলোড দেয়া। অনলাইন নিউজ পোর্টাল তো। এ সাথে আরো অনেক কাজ করি। মাঝে মাঝে নিউজ ও করি। অনেক ভুল হয়। তাতে কি। আমরা এখনো অনেক ছোট।
সেমিস্টার ফাইনাল শেষ হয়েছে ১৯ তারিখ। বন্ধুরা সব বাড়ি চলে গেছে। আমি একাই হলে আছি। খুব একা লাগে। সারাদিন শুধু মুভি দেখা আর এক ঘুমানো। একাত্তরের ডায়েরী টা কিনেছি। মাঝে মাঝে পড়ি। আর বন্ধুদের ও মাঝে মাঝে বিরক্ত করি। এই মুহূর্তে বাড়ির সবাইকে খুব মিস করছি। খুব।
চাকুরী টা নেয়ার পর থেকে অনেকের থেকেই অনেকরকম মতামত পেয়েছি। কেউ বলেছে ভালোই করেছিস। ঢুকে গেছিস। এক্সময় তো ঢুকতেই হত। আবার কেউ বলেছে খারাফ হয়েছে। পড়ালেখার ক্ষতি হবে। তাতে অবশ্য আমার কিছু যায় আসেনা।
ফার্স্ট সেমিস্টার এর রেসাল্ট টা একটু বেশিই খারাফ করে ফেলেছি। তাই সেকেন্ড সেমিস্টার টা ভালো করে পড়ার চেষ্টা করেছি। তার পেছনে অবশ্য আমিনা ম্যামের অনেকখানি অবধান আছে। পরিক্ষা ভালই হয়েছে। বাকিটা রেসাল্টের পর.........
ছন্দময় শব্দটা আর কানে লাগছে না। সয়ে গেছে। আসলে প্রত্যেকটা ব্যাপারই এমন। প্রথমে আমরা নতুন কিছু আসলে খুব হৈ চৈ করি। পরে সয়ে যায়। যেমন বলা যায় আমাদের সমাজে নতুন কোনো নিয়ম বা পূর্ববর্তী নিয়মের ভঙ্গ হলে হৈ হৈ রৈ রৈ পড়ে যায়। হায় হায়। একি হলরে। জাত গেলরে। কলি যুগ চলে আসলো। আস্তে আস্তে সয়ে যায়। পরে দেখা যায় যে প্রথমে এগুলা বলে সেই সবার আগে নতুন নিয়ম মানে। যেমন টিভি।
আরেকটা ব্যাপার ঘটে।কোনো একটা নতুন ইস্যু আসলেই আমরা কত উত্তেজিত হয়ে পড়ি। আন্দোলন করি, মানববন্দন করি, কিন্ত কিছুদিন পর আর মনেই থাকেনা। যেমন তনুর ব্যাপারটা।
২টায় অফিস শেষ হবে। কাজ নেই একদম। নাইট ডিউটি তে ১১টার পর কাজ থাকেনা। সামনে ১২ টা টিভি চলছে। বিভিন্ন চ্যানেল। কিন্ত একটার সাউন্ড নেই। বোবা টিভি। তাই দেখতে ভালো লাগেনা। বিরক্র লাগে।
মাঝে মাঝে ফেচবুকিং করি। পুরনো অনেক বন্ধু হারিয়ে গেছে। তাদের নক করলে বলে আমি নাকি ভুলে গেছি। কি অদ্ভুত।
রাজু ৩৭ নাম্বার স্টরি টা উপরে দাও। পিছন থেকে ভাই বলে উঠলো। ও হ্যা, দিচ্ছি ভাই। শুনশান এর সাথে শো শাও আওয়াজ করেই যাচ্ছে।
©somewhere in net ltd.