নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমিই।

মোঃ জাকির হোসেন রাজু

সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত লিখার জন্যই আমার এই ব্লগে আগমন। আমার পরিচয় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১ম বর্ষে পড়ছি। আর টুকটাক সাংবাদিকতা করছি

মোঃ জাকির হোসেন রাজু › বিস্তারিত পোস্টঃ

নাড়ির টানে বাড়ির পানে

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১৭

আজকে বাসায় যাবো। প্রায় তিন মাস পর যাচ্ছি। বাড়ি ছেড়ে আসার পর মনে হয় এটাই দীর্ঘতম ফারাক বাড়ির সাথে। আম্মুর চাঁদমুখ খান আবার দেখবো, এই মূহুর্তে পৃথিবীর সবছেয়ে খুশির সংবাদ আমার জন্য এটাই।

আমার স্কুল জীবনে গ্রামেই ছিল। সাধারণত গ্রামের স্কুল লাইফ যেমন হয়, আমার টাও তেমনি। খুব বেশি পার্থক্য নেই। প্রতিদিন আম্মুর বকুনি ছিল ডেইলি রুটিনের একটি অংশ। মাঝে মাঝে অবশ্য বকুনিটা শুধুমাত্র বকুনিতে সীমাবদ্ধ থাকতো না। ঘরে নারকেল পাতার মধ্যখানের অংশ দ্বারা তৈরি এক ধরনের কাঠি ছিল, আমাদের দেশের ভাষায় যাকে শলা বলা হয়। অনেকগুলো নারকেল পাতাদন্ড একসাথে বেধে এটি তৈরি করা হয়। ঘরের দুষ্টু ও বজ্জাত প্রকৃতির বাচ্চাগুলাকে শাস্তি প্রদানে এটি ব্যাবহার করা হত। আমার উপর ও সেটির ব্যবহার নেহাত কমনা।

গ্রামের যত ধরনের খেলা আছে সব কিছুতেই ছিলাম একেবারে পাক্কা। কয়েকটার নাম বলি, অনেকেই হয়তো চিনেবেন, গোল্লাচুট, কাবাডি/হা ডু ডু, কুতকুত, বৌ-চি, সাত-ঝিক, জুতা চুরি, মাংস চুরি, বাবু-বাস, রাম-সাম, বোম্ভে বল, জাইল্লা, এক্সপেরেস-টিলার, লুকোচোরি ইত্যাদি। খেলাগুলার কোনো শুদ্ধ ভাষার নাম আমার জানা না থাকায় আমার এলাকার ভাষাটাই ব্যাবহার করলাম। বিভিন্ন ছন্দ কেটে কেটে এসব খেলা হত। কয়েকটা এখনো মনে আছে,


আমার ঘরে তরবারি ঝিকিমিকি করে, কোন শালা আমাকে ধরতে পারে


নাহ! আর মনে করতে পারছি না। এরকম প্রায় ৫০টা ছন্দ মুখস্ত ছিল। এগুলার প্রথম আবিষ্কারক সম্পর্কে আমাদের কারোরই কোনো ধারণা ছিল না। বংশ পরম্পরায় চলে আসছে। এবং এখনো চলছে।

এমন হাজার স্মৃতি আছে । লিখতে ইচ্ছে করছে। কিন্ত সুযোগ নাই। অন্য একদিন লিখবো। আজকে সকালে অফিসে চলে আসলাম। ২টায় অফিস শেষ করে বাড়ি যাবো।

আম্মু হয়তো অপেক্ষা করছে সেই সকাল থেকে আমার জন্য। কেউ দরজায় টোকা দিলেই দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলছে আমাকে ভেবে। আমি আসছি মা। আমি আসছি। তোমার কোলে। আবার তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাবো, তোমার হাতের ভাত খাওয়া ছাড়া ঘুম না আসার বায়না ধরবো।

জানি গেলেই সম্পুর্ণ শরীরের শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে ইচ্ছে মত কাদবে। সেই কান্না দেখে আমার ও চোখে পানি চলে আসবে। তারপর ধমক দিয়ে বলবে কিরে তুই কাদস কেনো??

আমার পাগলী মেয়েটা কাদলে আমি কিভাবে নিজেকে ধরে রাখবো। তোর আব্বু চলে আসছে রে। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.