| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোঃ জাকির হোসেন রাজু
সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত লিখার জন্যই আমার এই ব্লগে আগমন। আমার পরিচয় আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে ১ম বর্ষে পড়ছি। আর টুকটাক সাংবাদিকতা করছি
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার প্ল্যান নিয়ে রাতে ঘুমালেও, ঘুম থেকে উঠে দেখি দুপুর ১২ টা বাজে। হায় হায়! একি করলাম। আজ না, ২১শে ফেব্রুয়ারী। এখনো শহীদ মিনারেই যাইনি।
দ্রুত উঠে ফ্রেশ হয়ে হল থেকে বের হতেই হলের সামনের ছোট শহীদ মিনার টা চোখে পড়লো। মনে মনে কিছুক্ষণ কি যেন চিন্তা করে, আর সেন্ট্রাল শহীদ মিনারে গেলাম না। হলের সামনের ফুল গাছ গুলিতে খুব সুন্দর সুন্দর ফুল ফুটে আছে। কিছুদিন ধরেই ওগুলো দেখামাত্র আমাকে খুব উত্তেজিত করছিলো। কে জানতো, আজ অমন একটা পবিত্র দিনে পবিত্র কাজেই ওদের মধ্যেই একটা ফুলকে জীবন দিতে হবে। একটা ফুল ছিড়বো, কিন্ত কোনটা ছিড়বো বুঝতেছিলাম না। সবগুলা ফুলকেই অসম্ভব সুন্দর লাগছে। কে জানে তারাই হয়তো অমন পবিত্র একটা কাজে আত্মহুতি দিতে নিজের রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে সেজে এসেছে। সবগুলা ফুল কেমন জানি আমার দিকে নুয়ে পড়ে আছে। মনে হচ্ছে, তারা চিৎকার করে করে বলছে আমাকে নাও, আমাকে নাও, আমাকে গ্রহণ কর, আমাকে ধন্য কর..........
ফুল দিয়ে ক্যম্পাসে বের হলাম, একটু ঘুরে আসি, কি অবস্থা। সত্যি মনটা একদম ফুরফুরে মনে হচ্ছে। বাংলা ভাষার প্রতি ভেতর থেকে এক অন্যরকমের টান অনুভব করছি। সূর্যসেন হল ক্যাফেটেরিয়া পার হয়ে সবুজ চত্বর এর দিকে চোখ পড়তেই, একটু আশ্চর্য হলাম। আজকের দিনটা অন্তত মানুষকে পরিষ্কার মনে চলতে দেখবো এটাই আশা ছিল। কিন্ত আড়ালে আর ঝোপ-ঝাড়ের সেই নোংরামীরগুলো আজও চলছে, বরং আজ ও আরো ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে, বর্নিল সাঁজে।
স্কুল জীবনের কথা মনে পড়লো। যখন গ্রামের সেই ছোট স্কুল থেকে খালি পায়ে বের হয়ে সম্পূর্ণ গ্রাম ঘুরে এসে শহীদ মিনারে ফুল দিতাম। মানুষগুলো রাস্তার পাশে দাড়িয়ে দেখতো আমাদেরকে। ঘরের জানালার পর্দাটা সরিয়ে উঁকি দিত পর্দাশীল মহিলারা। তাদের মনের ভেতরটাও হয়তো ভরে উঠতো ভাষা শহীদদের প্রতি অকৃতিম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায়......
হাটতে হাটতে টিএসসির কাছাকাছি চলে আসলাম। চারদিকেই কেমন যেন রঙ্গিন রঙ্গিন সাঁজ সবার মাঝে। অনেককেই দেখলাম মাথায় ফুলের চাকা দিয়ে আছে, আবার একজন কে দেখলাম মাথায় অমর একুশে এর কাপড় বেঁধেছে, কিন্ত সানগ্লাস মাথায় উঠার কারনে অমর টাই দেখা যাচ্ছে, একুশে টা ঢাকা পড়েছে কালো আয়নার ঢাকনায়।
কালকে রাতে একুশের গানটা অনেক শুনেছিলাম। এখনো ভেতরে বাজছে। জোরে জোরে গাইতে ইচ্ছা করছে, কিন্ত মানুষ পাগল বলবে যে। পাগলদের এই এক সুবিধা, তারা যা ইচ্ছা তা করতে পারে......। সাধারণ মানুষ পারেনা। আমিও না।
এতক্ষনে ক্ষুধাটা ভেতরে জানান দিচ্ছে, প্রচন্ড রকমের ক্ষুধা পেয়েছে তো। আজকাল ক্ষুধা লাগলে বুঝতে পারিনা, কোন একটা বইতে পড়েছিলাম, এটা নাকি বয়স বাড়ার লক্ষণ। কিন্ত...... মাত্র তো একুশ.......
হলের দিকে পা বাড়ালাম। অজান্তেই অস্ফুস্ট স্বরে গেয়ে উঠলাম
#আমার_ভাইয়ের_রক্তে_রাঙানো_একুশে_ফেব্রুয়ারী_আমি_কি_ভুলিতে_পারি......
স্বরটা আস্তে আস্তে অস্পষ্ট থেকে স্পষ্ট হতে লাগলো......
©somewhere in net ltd.