নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার কথা - ৪

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ ভোর ৬:৫৭

"আমার কথা - ৩" পড়ুন এখানেঃ আমার কথা - ৩

ভেবেছিলাম, এখান থেকেই চলে যাবো আমার ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার কাহিনীতে। কিন্তু একজন পাঠকের কৌতুহল মেটাতে তার আগে আরো কিছু কথা বলে নিচ্ছি। এই সিরিজের আমার আগের লেখাগুলো পড়ে জনৈক পাঠক একদিন আমাকে কথাচ্ছলে বললেন, “আপনাদের ক্লাসের সবচেয়ে অবহেলিত ছেলেটির কথা জানতে চাই।" তার প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি যার কথা আমার মনে এসেছিলো, এখন তার কথা দিয়েই এ লেখাটা শুরু করছি।

সে ছিলো যেমন সবচেয়ে অবহেলিত, তেমনি সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতিভা। যে ক’টা বছর ঐ স্কুলে ছিলাম, দুই সেকশন মিলে তাকে বরাবরই প্রথম হতে দেখেছি। শিক্ষকগণ যেমনি তাকে ভালোবাসতেন, আমরাও তেমনি। আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্ট ছেলেরাও কোনদিন তার সাথে দুষ্টামি করতোনা। তার প্রথম নামটাই শুধু আজ মনে আছে- শহীদ। মোটা পুরু ফ্রেমের সস্তা চশমা পড়তো। প্যান্ট শার্টে তালি রিপু থাকলেও তা পরিস্কার থাকতো। মুখে লেগে থাকতো বিনম্র হাসি। অত্যন্ত নম্র ভদ্র ছেলে। কখনো খেলার মাঠে যেত না। ক্লাস শেষে তড়িঘড়ি করে বাড়ী দৌড়াতো। প্রথমে বুঝতে পারিনি, তাই কারণ জিজ্ঞেস করতাম। জবাবে পেতাম শুধুই তার একটা বিনম্র হাসি। পরে ফাহিয়ানের কাছে জেনেছিলাম, বাড়ীতে তার সৎ মা ছিলো। তাকে স্কুলে পড়তে অনুমতি দিয়েছিলো শুধু এই শর্তে যে সে স্কুলে যাবার আগে ও পরে বাড়ীর ধোয়া পাকলা, সাফ সুতরোর মত ডমেস্টিক কাজগুলো করে যাবে। মোটকথা, বাসার সবার কাপড় কাচা, থালা বাসন ধোয়া, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বাজার করা ইত্যাদি ছিল তার নিত্যদিনের কাজ। এর মাঝে যেটুকু সময় সে পেতো, সেটুকুই অধ্যয়নের কাজে ব্যবহার করে ক্লাসে প্রথম হতো। তবে একটু উপরের ক্লাসে উঠে সে তার এই স্থানটা আর ধরে রাখতে পারেনি। শুনেছিলাম, মেট্রিক পরীক্ষায় সে শুধু সাধারণ একটা ফার্স্ট ডিভিশন পেয়ে স্বাধীনতার ঠিক আগে আগে স্টেট ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তানে (বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক) একটা নিম্ন পদের চাকুরীতে যোগ দিয়েছিলো। নয় মাসের স্বাধীনতা যুদ্ধে সে কোথায় যে হারিয়ে গেলো, তার খোঁজ আর কেউ রাখেনি। আসলে তার কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলনা, যাকে জিজ্ঞেস করে কিছু জানতে পারতাম। ওর পরিস্থিতিতে কারো সাথে বন্ধুত্ব রাখাটাও বড় কঠিন বিলাসিতা ছিলো, তা আজ বেশ সহজেই বুঝি।

স্মৃতি আজকাল বড়ই প্রতারণা করে। তাই ভুলে যাবার আগে আমি এই পর্যায়ে কিছু ভালোলাগা বন্ধুদের নামোল্লেখ করতে চাই এই আশায়, যে হয়তো পরিচিত কারো নজরে লেখাটা পড়ে গেলে তাদের সাথে একটা যোগসূত্রের সম্ভাবনা দেখা দিলেও দিতে পারে। ইগ্নিশিয়াস গোমেজ ওরফে বিজু নামে আমার একজন ভালো বন্ধু ছিলো। নামেই বোঝা যায়, সে খৃষ্টান ছিলো। নিবাস কর আর সুবাস কর নামে দুই ভাই ছিলো। ওরা হিন্দু ছিলো। পূজো পার্বনে বাতাসার ভাগ পেতাম। ওদের বড় বোন দীপালী কর আমার বোনেরও বান্ধবী ছিলেন। মহীউদ্দীন আব্দুল কাদের নামে আমাদের চেয়ে বয়সে বড় একজন নামাযী ছেলে ছিলো, খুবই ভদ্র। তার দাঁতগুলো খুবই চকচকে সাদা ছিলো। রেজাউল করিম নামে একজন চঞ্চল প্রকৃ্তির বন্ধু ছিলো। সে প্রশংসনীয় প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের অধিকারী ছিলো। আর ইকবাল নামে আরেক ভালো বন্ধু ছিলো, যার সাথে পরে যোগাযোগ হয়েছিলো তার ছোটভাই ইসতিয়াক এর মাধ্যমে। তার বড় বোন লাইলীও আমার বড় বোনের বান্ধবী ছিলেন।

এখন ফিরে আসছি আবার ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার কথায়। ফরম পূরনের পর থেকে মূলতঃ আব্বার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই আমার প্রস্তুতি পর্ব শুরু হলো। আব্বা অঙ্ক আর ইংরেজীটা খুব ভালো পড়াতেন। অঙ্ক এমন করে বুঝাতেন যে একবারেই বুঝে যেতাম। ইংরেজী ট্র্যান্সলেশনের উপর খুব জোর দিতেন। ওটা করতে গিয়েই স্টক অব ওয়ার্ডস বেড়ে যেত। বাসায় ইংরেজী পেপার রাখা হতো রেগুলার। সেখানেও ইংরেজী চর্চার উপকরণ পাওয়া যেতো। তখনকার দিনে “গেট এ ওয়ার্ড” নামে পেপারে একটা সাপ্তাহিক প্রতিযোগিতা হতো। সেখান থেকেও নতুন নতুন কঠিন ইংরেজী শব্দের সাথে পরিচিত হওয়া যেতো, তবে কাঠিন্যের কারণে ওটা আমার ততটা কাজে দেয়নি এবং আমিও মোটেই উৎসাহী ছিলাম না। আব্বার দেখিয়ে দেয়া টেকনিক ধরেই আমি অনুবাদ করতাম এবং ক্লাসে সবসময় অনুবাদের জন্য সর্বোচ্চ নম্বরটা আমারই জন্য বরাদ্দ থাকতো। বড় হয়ে একদিন আব্বাকে লেখা পোস্ট কার্ডে (তখনকার দিনের দুই পয়সার) আমার দাদার ইংরেজীতে লেখা একটা চিঠি পড়ে বুঝতে পেরেছিলাম, আব্বার ইংরেজী শেখাটাও আমার দাদার কল্যানেই হয়েছিলো। অথচ আমার দাদার শিক্ষাগত ডিগ্রী খুব বেশী ছিলনা। তিনি দেওবন্দে আরবী ও ধর্মশিক্ষায় শিক্ষাগ্রহণ করে নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে আরবীর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং অবসর গ্রহনের পর আমাদের বাড়ীর কাছের মাসজিদে আজীবন ইমামতি করে গেছেন। তিনি আমার জন্মের আগেই প্রয়াত হন, সে কারণে তাঁকে চোখে না দেখলেও তাঁর একটা ইমেজ আমার মনে গেঁথে আছে। তিনি আরবী ও ফারসী ভাষায় একজন বিজ্ঞ ও পারদর্শী ব্যক্তি হিসেবে দূরদূরান্তে বেশ সুপরিচিত ছিলেন বলে লোকমুখে শুনেছি।

একদিন স্কুল থেকে বাসায় ফিরে দেখি সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে কিছু একটা আলাপ করছে। বুঝতে পারলাম, আমার ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত কিছু হবে। আব্বার হাতে একটা লম্বা খোলা হলুদ খাম ধরা। আমাকে দিলেন। খামের উপরটা মনোনিবেশ সহকারে পড়লাম। আমাদের বাসার ঠিকানা লেখা, আর খামের বামদিকে একটা সীলমোহরে “MOMESHAHI CADET COLLEGE” কথাটা গোল করে লেখা। মোমেনশাহী নামটা শুনতে আমার খুব ভাল লাগতো, এর ইতিহাস কিছুটা জানা ছিলো বলে। লক্ষ্য করেছিলাম, সীলে ইংরেজী N অক্ষরটা মিসিং ছিলো। অনেকদিন ঐ সীলটা ওভাবেই ব্যবহৃত হয়েছিলো। বোধকরি, স্বাধীনতার পরে সব সীল বাংলায় পরিবর্তনের আগে পর্যন্ত ওটা ওভাবেই ছিলো। খাম খুলে দেখি সেখানে আমার ছবি সম্বলিত একটা এডমিট কার্ড। ভেতরে ভেতরে একটা আশঙ্কা এবং সেই সাথে চ্যালেঞ্জের অনুভূতি স্পর্শ করে গেলো।

চলবে......
(ইতোপূর্বে প্রকাশিত)

ঢাকা
০৭ জুলাই ২০১৫
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।


মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৭:২৮

জুন বলেছেন: আপনার আমার কথা পর্বগুলো খুব মনযোগ দিয়ে পড়ছি। যেহেতু আমার হাসবেন্ডের মুখে শুনে শুনে স্কুলটা আমার অনেক পরিচিত। তার দুটো বিশাল এলুমুনাই হয়েছিল সে ও পার্টিসিপেট করেছিল তাতে। নতুন করে আবার পুরনো হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সাথে পরিচিত হয়েছি।।
আমার শশুড় মশাই অত্যন্ত কড়া প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। জন্মের সময় মাকে এবং সাত বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দূর সম্পর্কের মামার বাসায় মানুষ। মামা গরু পালতে দিতেন। কিন্ত ওনার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ দেখে স্কুলের হেড মাষ্টার তাকে বিনে পয়সায় স্কুলে ভর্তি করে নিলেন। সেই অবস্থান থেকে উনি বৃটিশ পিরিয়ডে গ্রজুয়েশন করে। পাকিস্তান আমলে সে ইসলামাবাদ কোন মিনিস্ট্রিতে জানি ছিল। অতদুরে তার ভালো লাগেনি তাই সেই চাকরী ছেড়ে ঢাকায় এসে গেজেটেড অফিসার হিসেবে রিটায়ার করেন। এত কথা বলার কারন তার কাছে লেখা পড়ার মূল্য ছিল অপরিসীম। তাই তার সব সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাপারে খুব সচেতন ছিলেন। সকালে অফিসে যাবার আগে আর রাতে নিজে এক ঘন্টা করে মাদুর বিছিয়ে বসে সব ছেলেমেয়েদের পড়াতেন।
উনি চেয়েছিলেন তার প্রথম সন্তান অর্থাৎ আমার স্বামীকে ক্যাডেট কলেজে পড়াতে। কিন্ত সে বাবা মা ছেড়ে অতদুর সেই ফোউজদারহাট যেতে চায়নি। কিন্ত আমার শ্বশুড় এডামেন্ট। আমার স্বামীও বাবাকে তার মনের কষ্ট বুঝাতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত উপায়ন্তর না দেখে চালাকি করে ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করলো।সারা জীবনে সব পরীক্ষায় স্থান লাভ করা ব্যাক্তি এখনো বলে, 'পরীক্ষায় ফেল করে মানুষ যে এত খুশি হয় সেদিন আমাকে না দেখলে বুঝতে না '।
অনেক বড় মন্তব্য হয়ে গেল খায়রুল আহসান। ভালো থাকুন। শুভকামনা রইলো :)

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: পাঠকের মন্তব্য মূল লেখার চেয়ে বড় হয়ে গেলেও লেখক তা মাইন্ড করেন না। এ আর এমন কি বড় মন্তব্য হলো!
আপনার শশুড়ের কথা জেনে খুব ভালো লাগলো, মনে শ্রদ্ধা জন্মালো। প্রতিভার আগুন কখনো ছাই চাপা পড়ে থাকেনা, তা আবারো জানা গেলো।
আপনার হাসব্যান্ডের মত অনেকটা একই ধরণের কম্ম করেছিলো আমার মেজ ছেলে। সে ক্যাডেট কলেজের ভর্তি পরীক্ষাায় ফেল করতে সাহস পায় নাই, তবে ভাইভাতে সোজা সাপ্টা বলে দিয়েছিল যে ক্যাডেট কলেজ ওর ভালো লাগেনা। তাকে যদি জোর করে সেখানে ভর্তি করানো হয়, তবে সে সেখান থেকে পালিয়ে আসার সব চেষ্টাই করবে। চরম প্রতিযোগিতামূলক যুগে একটা অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের মনে এর পরে আর তাকে নেয়ার কোন আগ্রহ জন্মেনি। পরে কথাটা আমি জেনেছিলাম আমারই এক শিক্ষকের কাছ থেকে, যিনি ঐ ভাইভা বোর্ডের একজন সদস্য ছিলেন।
আমার লেখাটা পড়া ও মন্তব্য করার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৩৭

শামছুল ইসলাম বলেছেন: শহীদের স্মৃতিটা মনে দাগ কেটেছে।
যারা সফল হয়, তাদেরটাই প্রকাশ ও প্রচার হয়, ব্যর্থরা হারিয়ে যায় কালের অতলান্ত গহ্বরে।

বাকীটা সুখদ অনুভূতি নিয়ে সকালটা রাঙিয়ে তুলেছে।

ভাল থাকুন। সবসময়।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: যারা সফল হয়, তাদেরটাই প্রকাশ ও প্রচার হয়, ব্যর্থরা হারিয়ে যায় কালের অতলান্ত গহ্বরে।
-চমৎকার বলেছেন, শামছুল ইসলাম।
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

৩| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:৪৯

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: এবার বিসিএস এ মেধা তালিকায় প্রথম হওয়া ওয়ালিদ বিন কাশেম (আমার বড় ভাইএর ছেলে ) , কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে
কয়েক মাস ক্লাস করে পালিয়েছিল । এজন্য আমার ভাইকে মোটা দাগে জরিমানা গুনতে হয়েছিল , অথচ তিনি ছেলেকে এ বিষয়ে
একদম বকাঝকা করেন নি ।
এখনকার মা বাবারে ছেলে মেয়েদের উপর নিজের মতটা ছাপিয়ে দেন । এতে তাদের মেধার সঠিক বিকাশ ঘটেনা ।
জুন আপুর হাজব্যান্ড আর আপনার ছেলের কথা শুনে কথাগুলির অবতারণা ।

আপনার স্মৃতি চারণ ভাল লাগছে । (ইতোপূর্বে প্রকাশিত) লিখেছেন , কিছুটা কৌতূহলী :D

শুভ কামনা জানবেন ।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: এজন্য আমার ভাইকে মোটা দাগে জরিমানা গুনতে হয়েছিল -
আমার ছেলে এভাবে সোজা কথা বলে নিজের পরিত্রাণ খুঁজেছিলো বলে আমি বরং খুশীই হয়েছিলাম। কারণ আমি জানতাম, ওর ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওকে সেখানে জোর করে ভর্তি করালে আমাকে খুব ঘন ঘন কলেজে দৌড়াাতে হতো, পুত্রের অপরাধের ফিরিস্তি শুনতে আর মুচলেকায় স্বাক্ষর করে আসতে। অবশ্য ও ক্যাডেট কলেজে না পড়াতে তেমন কোন ইতর বিশেষ হয়নি। ও বড় হয়ে আইবিএ থেকে বিবিএ এবং এমবিএ করে বর্তমানে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে কর্মরত। আপনার ভাই ও ভাতিজার কথা প্রসঙ্গেই এ কথাগুলো বললাম।
স্মৃতিচারণ ভাল লাগছে জেনে অনুপ্রাণিত বোধ করছি। আর আপনার কৌতুহল নিরসনের জন্য বলছি, এই লেখাগুলো আমি কিছু ফেইসবুক গ্রুপে পোস্ট করেছিলাম। আমি অন্য একটা ব্লগেও লিখে থাকি। সেখানেও ভিন্ন শিরোনামে লিখেছি।

৪| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪৮

মাহমুদ০০৭ বলেছেন: শহীদের কথা পড়ে খারাপ লাগ ল । জীবন এমনই ।
কত শহীদ ঝরে যায় ..।
ভাল লাগল এই পর্ব

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: এইমাত্র আপনার প্রথম গল্প 'ম্যাজিক' পড়ে অভিভূত হয়ে আসলাম। লেখা চালিয়ে যান, অনেকদূর যেতে পারবেন।
আমার লেখাটা পড়ার জন্য এবং শহীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আশাকরি সাথে থাকবেন আর মূল্যবান মন্তব্য দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন।

৫| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:০২

অপর্ণা মম্ময় বলেছেন: ভালো লাগলো আপনার স্মৃতিচারণ পড়তে।
চলতে থাকুক।
শুভকামনা রইলো

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:১৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: 'আমার কথা' শোনার জন্য অনেক ধন্যবাদ, অপর্ণা মম্ময়। মন্তব্যে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।
আপনাদের শুভকামনা থাকলে সিরিজটা অবশ্যই চলবে।

৬| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:১০

ডার্ক ম্যান বলেছেন: পর্বগুলো আরো বড় করলে লিখলে ভালো হয়।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: বড় লেখা পড়ার মত মানুষের হাতে সময় আছে নাকি, ডার্ক ম্যান? এর চেয়ে বেশী বড় করলে তো মানুষ স্কিপ করে চলে যাবে।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

৭| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৬

ডার্ক ম্যান বলেছেন: আপনি যেহেতু স্মৃতিকথা লিখছেন, তাই একটু বড় পরিসরে লেখা উচিত। যে কোন স্মৃতিকথা পড়ার সাথে সাথে সবাই শৈশবের স্মৃতি হাতড়িয়ে ফিরে।
আর হ্যাঁ, আপনি যদি ব্লগের পাশাপাশি ফেসবুকেও নোট আকারে এই স্মৃতিকথা লিখতে থাকেন তাহলে আরো ভালো রেসপন্স পাবেন। ভাগ্য ভালো হলে হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের খুঁজে পেতে পারেন।

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ, ডার্ক ম্যান। প্রীত। হ'লাম

৮| ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৪৪

দৃষ্টিসীমানা বলেছেন: ভাল লাগা রইল ।

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ, দৃষ্টিসীমানা।
আপনার 'প্রত্যাশা' কবিতাটা পড়লাম। ভালো লেগেছে।

৯| ১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৩৪

রাশেদ মহাচিন্তিত বলেছেন: এটা তো অটোবায়োগ্রাফি হয়ে যাচ্ছে। চালিয়ে যান। ধীরে ধীরে এগুচ্ছি।

১৪ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:৪৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: হ্যাঁ, অনেকটা তাই। আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা আর চারপাশে যা কিছু দেখেছি, তার উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু পর্যবেক্ষণ- এসবের মিশেলেই চলবে আমার কথা।
"আমার কথা - ৩" বোধহয় আপনার তেমনটা ভালো লাগেনি?

১০| ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১১:১৭

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

আপনার শান্ত বিনম্র বিমাতাপুত্র বন্ধুটির বিষয় আমাকেও স্পর্শ করেছে। এরকম অনেক ছেলেমেয়ে আমাদের অগোচরেই বড় হচ্ছে। কারও নাম আমাদের মনে আছে, কারও নাম আমরা স্মৃতিতেই রাখি না। এরাই হলো সুবিধাবঞ্চিত মেজোরিটি, যারা আমাদের সমাজের বড় অংশটিকে ধরে রেখেছে। প্রশ্ন হলো, তাদের জন্য প্রিভিলিজড অংশটুকু কতটুকু সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

অন্যান্য বন্ধুদের কথাও ভালো লেগেছে। জানি না আমার প্রাইমারি স্কুলের কতজনের নাম এমুহূর্তে মনে করতে পারবো। বিশাল বড় কাজ করে যাচ্ছেন।

ইংরেজির প্রতি আপনার দাদার এবং আপনার পিতার গুরুত্ব অবশেষে আপনাকে প্রভাবিত করেছে। আপনিও কি আপনার সন্তানদেরকে একই ভাবে ইংরেজির প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন? জানতে ইচ্ছে হয়। :)

১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ দুপুর ১২:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, আমার এ লেখাটায় ফিরে আসার জন্য।
আমার বড়ছেলেটাকে আমি ইংরেজী শিখিয়েছি, অনেকটা যেমন করে আমার বাবা আমাকে শিখিয়েছিলেন। মেজ আর ছোটটার উপর ক্রমান্বয়ে আমার নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়েছে। প্রথমতঃ আমার ব্যস্ততার কারণে, দ্বিতীয়তঃ ওদের মায়ের প্রশ্রয়ে। ফলে, বড়টা ইংরেজীতে খুবই ভালো। পরের দুটো আনুপাতিকভাবে ওর তুলনায় দুর্বল। তবে সৌভাগ্যক্রমে, ওদের রেজাল্টে সে দুর্বলতাটুকু প্রতিফলিত হয়নি। ফলে ওরা পার পেয়ে গেছে এবং আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ভালোই করছে।

১১| ৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৮:৩৭

আরজু পনি বলেছেন:

অন্যদের মন্তব্য পড়ার মতো অবস্থায় নেই ।
প্রথম প্যারাটা পড়ার পর মাথা আর কাজ করছে না, শুধু রোবটের মতো পরের অংশটুকু পড়েছি।
একজন দূর্দান্ত মেধাবী কীভাবে শেষ হয়ে যায় তাই দেখলাম চোখের সামনে...একটু যত্নের দরকার ছিল !
আমার খুব ইচ্ছে করছে শহীদ নামে ওই মানুষটাকে খুঁজে বের করে সালাম করে আসি ।
ভেবেছিলাম আজ সকালটাতে আপনার কথাই পড়বো...এখন আর ব্লগই পড়তে ইচ্ছে করছে না ।

৩০ শে নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: অন্যদের মন্তব্য পড়ার মতো অবস্থায় নেই -- আমার লেখাটা আপনাকে এতটাই আবেগাপ্লুত করে ফেললো? এরকমের বহু ঘটনা আমাদের সমাজের চারিপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এটা ঠিক যে জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সময়টাতে আরেকটু আদর যত্ন এবং সঠিক অভিভাবকত্ব পেলে শহীদ হয়তো আজ বড় কেউ হয়ে থাকতো।
ভেবেছিলাম আজ সকালটাতে আপনার কথাই পড়বো...এখন আর ব্লগই পড়তে ইচ্ছে করছে না -- সময় নিন, সমস্যা নেই।
পুরনো লেখাটা পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

১২| ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৪:২২

রাতুল_শাহ বলেছেন: আপনার বন্ধু সম্পর্কে জানার পর মনটা খারাপ হয়ে গেল।

সবার মন্তব্য পড়ে বেশ ভালো লাগলো।

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: জ্বী, মন খারাপ করার মতই ছিল সেই দূুর্ভাগার জীবন কাহিনী।

১৩| ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১১:৪৮

কালীদাস বলেছেন: ফিনিশিংটা পারফেক্ট হয়েছে যে কোন টিভি সিরিয়ালের মত =p~
যাচ্ছি পরের পর্বে!

১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ, মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।
'আমার কথা-৫' পর্বটি কি স্কিপ করে গেলেন নাকি? কোন মন্তব্য নেই, এজন্য বললাম।

১৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:১৬

কালীদাস বলেছেন: পড়েছি ৬ নাম্বার পর্যন্ত সব কয়টাই, ৫ নাম্বারটা বেশি ছোট হওয়ায় কমেন্টের কন্টিনিউটি ধরে রেখে ৬ এ চলে গেছি।

১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:০১

খায়রুল আহসান বলেছেন: ও আচ্ছা! বুঝতে পারলাম। ধন্যবাদ।

১৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ১:২০

কালীদাস বলেছেন: স্যরি ৮ পর্যন্ত, সাত নাম্বারেও সেইম কারণে কমেন্ট করিনি।
৯ থেকে শুরু করব নেক্সট টাইম যখন আসি :)
আপনি অনেক লিখেছেন ব্লগে, কিছুটা খুঁজতে হয়েছে সিরিজটা পাওয়ার জন্য :)

১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: নভেম্বর ২০১৫ থেকে সিরিজটা লেখা শুরু করেছি। আর্কাইভে গিয়ে নভেম্বরে ক্লিক করলেই সিরিজগুলো পেয়ে যাবেন।
লেখাগুলো খুঁজে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৬| ১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ রাত ২:০৫

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:

ইতিহাসে আপনার ছোট থেকেই আগ্রহ ছিল বেশ দেখা যায়! ভাল লাগল! ইতিহাস আমারো প্রিয়! অনেক পড়েছি ও শুনেছি। কিন্তু আফসোস সালগুলো সবই ভুলেছি মনে হয়! আজ এপর্যন্ত। পরবর্তী দিন আরো তিনপর্ব একসাথে! ভালোই লাগছে। ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ের কিছু লেখকের মতই। দারুণ!


১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:২৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাগুলো খুঁজে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ, ভ্রমরের ডানা।
ক্লাস সিক্সে পড়ার সময়ের কিছু লেখকের মতই -- :)

১৭| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৪

সোহানী বলেছেন: এরকম হাজারো মেধাবী হারিয়ে যায় কেউ কি তার খোঁজ রাখে!!!!

আরজু পনির মতো আমারো মন খারাপ নিয়ে পড়া শেষ করলাম। এমনই ব্যার্থ রাস্ট্রে জন্ম আমাদের যে পরিবার কিছু না করলে রাস্ট্র কোনভাবেই দায়িত্ব নেয় না।

২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: পুরনো পোস্টে কেউ চোখ বুলালে খুব ভাল লাগে। আপনার মন্তব্যটিও খুব ভাল লাগলো।
আকাশ থেকে যেসব তারা ঝরে পড়ে, তাদের খোঁজ কেউ রাখেনা।
মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হ'লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.