নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

বই নিয়ে আলোচনা- রক্তে ভেজা একাত্তর

১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:২৬



বই এর নামঃ রক্তে ভেজা একাত্তর
বই এর ধরণঃ মুক্তিযুদ্ধের দিনলিপি, সম্মুখ সমরের স্মৃতিচারণ
লেখকের নামঃ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম
প্রকাশকের নামঃ মফিদুল হক, সাহিত্য প্রকাশ, ৮৭, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা-১০০০
প্রচ্ছদঃ অশোক কর্মকার
উৎসর্গঃ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর প্রথম ব্যাটালিয়ন দি সিনিয়র টাইগার্স এর স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল সহযোদ্ধার উদ্দেশ্যে নিবেদিত
প্রথম প্রকাশঃ ফাল্গুন ১৪০৩, ফেব্রুয়ারী, ১৯৯৭
দ্বিতীয় সংস্করণঃ ফাল্গুন ১৪১০, ফেব্রুয়ারী, ২০০৪
তৃতীয় সংস্করণঃ চৈত্র ১৪১৯, এপ্রিল ২০১৩
মূল্য: ২০০.০০ টাকা

লেখক পরিচিতিঃ
এক সময়ের দেশের ক্রীড়াঙ্গণের অতি পরিচিত মুখ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম, যিনি মেজর হাফিজ নামেই সমধিক পরিচিত, ১৯৪৪ সালের ২৯শে অক্টোবর ভোলার লালমোহনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এ অধ্যয়ন শেষে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৬৮ সালে দ্য ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এ কমিশন লাভ করেন। তিনি ফুটবলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের “ব্লু” ছিলেন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য নির্বাচিত হন এবং এর পরে পাকিস্তান জাতীয় দলের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এক সময় ঢাকা লীগে তিনি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করতেন। ১৯৮০ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারেও ভূষিত হন। তিনি ঢাকা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নির্বাচিত সহ সভাপতি ছিলেন। ভোলা-৩ আসন থেকে তিনি মোট ছয়বার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতিক জীবনে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীসহ অন্যান্য আরো কয়েকটি মন্ত্রকের মন্ত্রী হয়েছিলেন। তার পিতা ডা. আজহার উদ্দিন ১৯৭০ সালে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর পূর্বে তিনি প্রাদেশিক পরিষদেরও সদস্য ছিলেন। আব্দুল মালেক উকিল যখন প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলের নেতা, তার পিতা তখন উপনেতা ছিলেন। তার স্ত্রী দিলারা হাফিজ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক।

আলোচনাঃ
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন সামরিক অফিসারের লেখা দিনলিপি তথা স্মৃতিকথা নিয়ে লিখিত বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কর্তৃক রচিত “রক্তে ভেজা একাত্তর” এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করার মত একটা বই। এর মূল কারণ সম্ভবতঃ ঘটনাসমূহের আনুপূর্বিক বর্ণনা তিনি নির্মোহভাবে এবং বিশ্বস্ততার সাথে করেছেন এবং তা প্রাণবন্ত ভাষায় পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। বইটি পাঠকালে পাঠকগণ যুদ্ধক্ষেত্রের দামামা যেন নিজ কানে শুনতে পান। রণতূর্য, বিজয়োল্লাস, যুদ্ধাহতদের গগনবিদারী আর্তনাদ, সব কিছুই যেন বাস্তব হয়ে তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করে। লেখকের নিজের ভাষায়ঃ “ এ বইতে বর্ণিত প্রতিটি ঘটনা সত্যি, এতে কোনপ্রকার রঙ চড়ানো হয় নি, নিজেকে জাহির করার চেষ্টাও করিনি”। বইটি পাঠ করার সময় বিবৃত ঘটনার পরম্পরা এবং সেই সাথে মাঝে মাঝে উল্লেখ করা লেখকের নিজস্ব মন্তব্যগুলো বিশ্লেষণকালে পাঠকগণ অতি সহজেই লেখকের উপরোক্ত ঘোষণার সাথে একাত্ম বোধ করেন। লেখক বলেছেন, “জনতার একজন হয়ে জনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি”। ইংরেজীতে একটা কথা আছে- “Fortune favours the brave”। আসলেই তিনি ভাগ্যবান, কারণ তিনি অদম্য সাহস, প্রজ্ঞা আর প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের বলে বলীয়ান হয়ে সঠিক সময়ে বিদ্রোহ করার সঠিক এবং সাহসী সিদ্ধান্তটি নিতে পেরেছিলেন। আর ঠিক একই কারণে তার অধিনায়ক লেঃ কর্নেল রেজাউল জলিল ছিলেন একজন চরম অভাগা, কারণ বিদ্রোহ করার মত যথেষ্ট সাহস তিনি বুকে সঞ্চয় করতে পারেন নি। অথচ তিনি সঠিক সময়ে বিদ্রোহের সঠিক সিদ্ধান্তটি নিয়ে ১ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নেতৃ্ত্ব দিতে পারলে বাংলাদেশের ইতিহাসে তার নাম আজ স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকতো। তার জন্য এটা চরম দূর্ভাগ্যজনক যে আজ তিনি আলোচিত হন সঙ্কটকালে ভয়ে সঙ্কোচে দোদুল্যমান একজন কাপুরুষ হিসেবে। ১ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর বাঙালী সদস্যদেরকে যখন অস্ত্রহীন (disarm) করার আদেশ এসেছিল, ঠিক তখনই বা তার কিছু আগে পরিস্থিতি আঁচ করে তিনি সময়োচিত সিদ্ধান্ত নিলে বহু বাঙালী সৈনিক এবং অফিসার প্রাণে রক্ষা পেতেন এবং অবাঙালী অফিসারগণকে বন্দী করে আরো বেশী অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করা যেত। অথচ তিনি ছিলেন “আমেরিকায় ট্রেনিংপ্রাপ্ত দক্ষ অফিসার। রাশভারী, স্বল্পবাক, ক্যারীয়ার সচেতন”।

“গ্রামের নাম জগদীশপুর। ১৯৭১ সাল”। এই দুটি সংক্ষিপ্ত বাক্য দিয়ে বই এর শুরু। ক্রীড়ামোদী হাফিজ মূলতানে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী দলের সদস্য হিসেবে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিতা শেষে নিজ ইউনিটের শীতকালীন প্রশিক্ষণ এলাকা যশোরের জগদীশপুরে যোগদান করেন। দেশের উত্তাল পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি মোটেই অবহিত ছিলেন না, কেবলমাত্র ১৬ মার্চ ৭১ তারিখে ঢাকা বিমান বন্দরে নেমেই তিনি পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক নয়, তা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন। ২৯ মার্চ ৭১ তারিখে হঠাৎ করে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে তার ইউনিটকে সেনানিবাসে ফেরত আসার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ এলাকা থেকে সবাই পায়ে হেঁটে যশোর সেনানিবাসে ফেরত আসে। নিয়ম অনুযায়ী কোন প্রশিক্ষণ এলাকা থেকে সেনানিবাসে ফেরত আসার পরদিন যার যার অস্ত্র শস্ত্র পরিস্কার করার কথা। কিন্তু পরের দিন ৩০শে মার্চ ১ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর সৈনিকেরা অস্ত্র পরিস্কার করতে অস্ত্রাগারে গিয়ে জানতে পারে যে তাদেরকে অস্ত্রহীন করা হয়েছে এবং পাঞ্জাবি ব্রিগেড কমান্ডার প্রত্যুষে এসে অস্ত্রাগারের চাবি নিজেই নিয়ে গেছেন। তাদের পরিবর্তে ২৫ বালুচ রেজিমেন্টকে অস্ত্র দেয়া হবে। এই ঘটনায় ১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধে অংশ নেয়া এবং প্রচুর বীরত্বসূচক খেতাবের অধিকারী ১ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর গর্বিত সৈনিকরা অপমানিত বোধ করে এবং তাদের মধ্যে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। অচিরেই বিক্ষোভ থেকে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়, সৈনিকরা কারো আদেশের অপেক্ষা না করে অস্ত্রাগার ভেঙ্গে যার যার অস্ত্র নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে। সুবেদার মজিদ লেখকের কাছে এসে বলেন, “.... স্যার, একটা কিছু করুন!” ‘কি করবো’? লেখকের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “.... আমরা পাক সেনাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি। বাঙালী অফিসার হিসেবে আপনি আমাদের নেতা। এখন এ যুদ্ধে আপনাকেই নেতৃত্ব নিতে হবে”। ‘আমি কেন, আমাদের কমান্ডিং অফিসার আছেন, তাঁর কাছে যান’- লেখকের পরামর্শ। “গিয়েছিলাম স্যার। ওনার বয়স হয়েছে। বিদ্রোহ করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। আমার অনুরোধ, আপনি আমাদের পরিচালনা করুন”।

এভাবেই ১ ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর বিদ্রোহের সূচনা হয়। লেখক শেষবারের মত সিদ্ধান্তের জন্য অধিনায়কের কাছে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে হঠাৎ করে একজন পাঞ্জাবি অফিসার উপস্থিত হওয়ায় অধিনায়ক লেখককে কিছু একটা বলতে চেয়েও বলেন নি। তিনি নীরব থেকে যান। লেখক অগত্যা ফিরে আসেন অধিনায়কের অফিসের পেছনে ডোবার ধারে, ‘সেই আমবাগানে’। বাকীটা লেখকের ভাষায়ঃ “উপলব্ধি করলাম দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারাদেশে কোথায় কী হচ্ছে কিছুই জানিনা। আমাদের বিদ্রোহকে দেশের জনগণ কিভাবে নেবে সে সম্পর্কেও কোন ধারণা নেই। শৃঙ্খ্লা রক্ষা করাই সৈনিক জীবনের মূল মন্ত্র। সেনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। মিনিটখানেক চিন্তা করে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম বিদ্রোহের পক্ষে। ... সবাইকে ডেকে জানিয়ে দিলাম যুদ্ধ চলবে আমার নির্দেশে। ... সৈনিকদের মনোবল চাঙ্গা হলো, ফিরে এল শৃঙ্খ্লা। শুরু হলো এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের নতুন অধ্যায়”।

লেঃ আনোয়ার হচ্ছেন দ্বিতীয় বাঙালী অফিসার যিনি নির্দ্বিধায় লেখকের সাথে বিদ্রোহে যোগ দেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তিনি প্রথম দিনেই, যশোর সেনানিবাস থেকে অকুতোভয়ে শত্রুপক্ষের গুলিবৃষ্টির মাঝ দিয়ে সৈনিকদের নিয়ে বের হবার সময় কোমরে মেশিনগানের একটি বার্স্টবিদ্ধ হন এবং প্রচুর রক্তক্ষরণের মধ্য দিয়ে অকুস্থলেই শহীদ হন। সৈনিকরা তার মরদেহ বহন করে হযরতপুর গ্রামে নিয়ে আসে এবং সেখানে যশোর কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশে নজরুল ইসলাম কলেজের সামনে তাঁকে সমাহিত করা হয়। শিক্ষক পিতার প্রথম সন্তান, বুয়েটের (তখনকার EPUET) কৃতি এ্যাথলিট লেঃ আনোয়ার এর রক্তমাখা ওয়েব বেল্টটি যখন কেউ একজন লেখকের হাতে তুলে দিলেন, তখন তিনি ভীষণ বিষাদাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। নিজের বেল্টটি খুলে রেখে তিনি নীরবে শহীদের রক্তমাখা বেল্টটি পরে নিলেন এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন যথোপযুক্ত প্রতিশোধ নেয়ার। পুনরায় লেখকের উদ্ধৃতিঃ “সবাই মিলে শপথ নিলাম বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করতে জনতার হয়ে জনযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবো। আনোয়ার এবং অন্যান্য শহীদ সৈনিকরা তাদের অমূল্য জীবন দিয়ে যে সংগ্রামের সূচনা করেছে, তার সাফল্যের জন্য আমরা সর্বশক্তি নিয়োগ করবো। ৩১ মার্চ তারিখে এভাবেই নবজন্ম লাভ করে প্রথম ব্যাটালিয়ন, দ্য ঈস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট”।

সৌভাগ্যক্রমে, সে সময় পাকিস্তানের জাঁদরেল প্রশাশনিক ক্যাডার CSP এর তিনজন মেধাবী বাঙালী অফিসার বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে একই সাথে মহকুমা প্রশাসক (SDO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মেহেরপুরে ছিলেন তওফিক এলাহী, যিনি ১৭ এপ্রিল ৭১ তারিখে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় (ঐ দিন থেকে মুজিবনগর) প্রথম স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে ছিলেন। ওয়ালী উল ইসলাম ছিলেন মাগুরার এসডিও এবং কামাল সিদ্দিকী ছিলেন নড়াইল এর এসডিও। এঁরা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু থেকেই মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া পাবনার জেলা প্রশাসক নূরুল কাদের খান একজন সামরিক কর্মকর্তার মতই চৌকষভাবে প্রথম দিকের সামরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেছিলেন। ঝিনাইদহের SDPO মাহবুবও তার ফোর্স নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বীর যোদ্ধারা শুধু যুদ্ধই করেন না, শত্রু হত্যাই তাদের একমাত্র কর্মযজ্ঞ নয়। তাদেরও একটা আবেগ প্রবণ মন আছে, যার পরিচয় পাওয়া যায় মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত লেখকের এসব কথায়ঃ “অনুষ্ঠানের পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। মনে হচ্ছিল চলচ্চিত্রের কোন দৃশ্যপটের অভিনয় দেখছি। একটি জাতি, একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হচ্ছে আমাদের চোখের সামনে, আমরা এ নাটকের কুশীলব। বসন্তের শেষ লগ্নে প্রকৃ্তি যেন তার নিজের হাতে আম্রকাননকে সাজিয়েছে, বাতাসে ভেসে আসছে ভেজা বাতাবী লেবুর সুঘ্রাণ। .... কমলা রঙের নরম রোদ সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে লুকোচুরি খেলছে। কোকিলের ডাকও শুনতে পেলাম। পলাশীর আম্রকানন এখান থেকে বেশী দূরে নয়, দু’শতাধিক বছর পর মেহেরপুরের আরেক আম্রকাননে আজ আবার বাঙালীদের স্বাধীনতার সূর্যোদয় দেখার সুযোগ পেয়ে আনন্দে, ভাবাবেগে বিহ্বল হয়ে পড়ি”।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অনেক ভারতীয় সামরিক অফিসার এবং জওয়ানদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ এবং নীরব নৈতিক সমর্থন ছিল। তাদের মধ্যে যেমন ছিলেন এ দেশে নাড়ী পোতা বাঙালী, যেমন ৭২ বিএসএফ এর কমান্ডার মুখার্জী (আদি নিবাস ফরিদপুর জেলায়), ভারতীয় সাঁজোয়া বাহিনীর ব্রিগেড মেজর শঙ্কর রায় চৌধুরী (পরবর্তীতে জেনারেল, ভারতীয় সেনা প্রধান) বা সিগন্যালস কোরের লেঃ কর্নেল রায়, তেমনি ছিলেন অবাঙালী, রাজস্থানে জন্ম নেয়া ভারতীয় “স্পেশাল ফোর্সেস” এর জনক লেঃ কর্নেল মেঘ সিং, ৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য যিনি ‘বীরচক্র’ (VC) পদক লাভ করেছিলেন। এই মেঘ সিং মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত হয়েছিলেন। তার প্রসঙ্গ যতবারই এসেছে, ততবারই তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গিয়েছে। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং সাহায্যকারী। প্রবল গোলা বর্ষণের মাঝেও তিনি কখনো জীপ চালিয়ে কখনো পায়ে হেঁটে সীমান্ত অতিক্রম করে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হতেন শুধু বাঙালীদেরকে সাহস যোগানোর জন্যই নয়, তাদেরকে যথাসম্ভব অস্ত্র ও সরঞ্জামাদি দিয়ে সাহায্য করতে এবং যুদ্ধাহতদেরকে তাঁর সদর দপ্তরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে। তিনি নিজ উদ্যোগে পেট্রাপোলে তাঁর দপ্তরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতীয় বাহিনীর পূর্বাঞ্চলের কমান্ডার লেঃ জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা সেখানে পরিদর্শনে আসেন এবং লেখককে তার বেনাপোল রক্ষণব্যুহ থেকে পেট্রাপোলে ডেকে নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধের তৎপরতায় ইতি টেনে গেরিলা কায়দায় যুদ্ধ শুরুর পরামর্শ দেন। জেনারেলের এই বক্তব্য শুনে লেখক যেমন একটু ইতস্ততঃ করছিলেন, মেঘ সিং এরও তেমনি তা পছন্দ হয়নি। লেখকের ভাষায়ঃ “(মেঘ সিং) স্যালুট করে ফ্ল্যাগস্টান্ডে উড্ডীয়মান বাংলাদেশের সবুজ পতাকাটি দেখিয়ে পরিষ্কার ইংরেজীতে জেনারেল অরোরাকে বললেন, ‘স্যার, আমি মুক্তিবাহিনীর এ অফিসারটিকে কথা দিয়েছি যে এই পতাকাটিকে আমার মৃতদেহের ওপর দিয়েই কেবল নীচে নামানো সম্ভব (This flag will come down only over my dead body)’”। লেঃ জেনারেলের সামনে লেঃ কর্নেলের এ মন্তব্য ঔদ্ধত্যের সামিল হলেও জেনারেল অরোরা কৌ্তুকভরে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন।

এ বই পড়ে পাঠক জানতে পারেন, পরাধীনতার শেকল ভাংগার এবং স্বাধীনতা অর্জনের নেশা যখন একটা জাতিকে পেয়ে বসে, তখন কিভাবে ধর্ম গোত্র নির্বিশেষে জাতির আবালবৃদ্ধবণিতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অসম সাহসী বীর যোদ্ধায় পরিণত হয়ে যায়। চৌগাছার, কুষ্টিয়ার, বেনাপোলের বীর জনগণ, মহেশপুরের ট্রাক্টর চালক আলী মিয়া, নাভারনের বার বছরের কিশোর তোতা মিয়া, যার পিতামাতাকে চোখের সামনে পাক সেনারা গুলি করে হত্যা করেছিল, এদের সবার কাহিনীই যেন একেকটা বীরত্বগাঁথা। ১ ইস্ট বেঙ্গলের ড্রাইভার কালা মিয়াকে অপর দুইজন চালকসহ লেখক কোটচাঁদপুরে পাঠিয়েছিলেন কয়েকটা জীপ আর বাস সংগ্রহ করে নিয়ে আসার জন্য। ওরা পথিমধ্যে খবর পেল যে পাক সেনাদের একটা কনভয় যশোর থেকে কালীগঞ্জ পৌঁছবে সেদিনই বিকেলে। মুহূর্তেই এই তিন ড্রাইভার যোদ্ধায় পরিণত হয়ে গেল। ওরা কোটচাঁদপুর থেকে দশজন রাইফেলধারী মুজাহিদ সংগ্রহ করে কালা মিয়ার নেতৃত্বে যশোর-কালীগঞ্জ সড়কে একটি পানের বরজের কাছে অ্যাম্বুশ (ফাঁদ) পাতে। কনভয় রেঞ্জের মধ্যে আসা মাত্র তাদের অস্ত্র গর্জে ওঠে। দুঃসাহসী যোদ্ধা কালা মিয়ার ছোঁড়া গ্রেনেড বিস্ফোরণে পাক বাহিনীর মোট চারটি গাড়ী ভস্মীভূত হয় এবং এ অভিযানে মোট দশজন শত্রুসেনা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তবে কালা মিয়াও এক সময় বুকে এলএমজি বার্স্ট বিদ্ধ হয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে শহীদ হয়।

ইপিআর জওয়ানেরা সবসময় মান্ধাতার আমলের .৩০৩ রাইফেল ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিল। গোলন্দাজ সাপোর্টযুক্ত কনভেনশনাল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের কখনো ছিলনা। বেনাপোলের সম্মুখবর্তী সেই ইপিআর অবস্থানের উপর যখন মুহুর্মুহু পাকিস্তানী কামানের গোলা এসে পড়ছিল, তখন সৈনিকেরা শেল-শকড হয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিল, কিন্তু ইপিআর হাবিলদার মুজিব চীৎকার করে সহযোদ্ধাদের সাহস যোগাচ্ছিলেন। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়াই করে তিনি ট্রেঞ্চের মধ্যেই শহীদ হন। যদিও তারা আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাক আক্রমণকারীদেরকে বেশীক্ষণ প্রতিহত করতে পারেনি, তথাপি তাদের মরণপণ লড়াই এর ফলে শত্রুপক্ষের অন্ততঃ পঞ্চাশজন নিহত হয়। নিখাদ দেশপ্রেম ছাড়া এমন সাহস এমনি এমনি আসে না। সুবেদার আফতাব নামে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের জনৈক জেসিও মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায় থেকে রৌমারী এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করে বিশাল এক এলাকা জুড়ে স্বাধীনভাবে সামরিক তৎপরতা চালাতে থাকেন। তার সম্পর্কে লেখকের একটি মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য বলে মনে করিঃ “পরিস্থিতি অনেক ন্যাচারাল লীডার তৈরী করে, এ সাহসী সৈনিক তার এক বাস্তব উদাহরণ”।

১২ নং অধ্যায়টি পুরো বই এর মধ্যে সবচেয়ে লোমহর্ষক এবং বিষাদময়। শেরপুর জেলার কামালপুর বিওপি সরাসরি আক্রমণ করতে গিয়ে জান মালের সবচেয়ে বেশী ক্ষয়ক্ষতি হয়, ৩০ জন নিহত, ৬৬ জন আহত। নিহতদের মধ্যে ডেল্টা কোম্পানী কমান্ডার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিন মমতাজও ছিলেন। তুমুল গুলিবর্ষণ উপেক্ষা করে শত্রু বাঙ্কারের সামনে থেকে তার লাশ উদ্ধার করার জন্য সৈনিক হায়াত আলী ও সিরাজ স্বেচ্ছায় জীবন বিসর্জন দেন। তবে তার লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, আরো অনেকের মত। লেখক নিজেও এ অভিযানে আহত হয়েছিলেন। এ্যাটাকিং ফোর্স কমান্ডারের সাথে সময় সমন্বয় ছাড়াই ভারতীয় আর্টিলারীর প্রি এইচ আওয়ার বোম্বার্ডমেন্ট শুরু হলে এ্যাটাকিং ফোর্স এর সারপ্রাইজ লস্ট হয়ে যায়। তা ছাড়া একটি গোলাও শত্রু অবস্থানে পড়েনি, সবই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। মনটা খারাপ হয়ে যায় যখন জানতে পারি ঘাসীপুর রক্ষণব্যুহে নিহত সুবেদার মোজাম্মেলের ডায়েরীতে লেখকের উদ্দেশ্যে লেখা একটা চিরকুট পাওয়া যায়। তার শেষ অনুরোধ, তিনি মৃত্যুবরণ করলে লেখক যেন তার দৌলতখানের বাড়ীতে খবরটা পৌঁছে দেন। চারদিকে জঙ্গল বেষ্টিত একটা অসমতল মাঠে ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় অস্ত্র পাশে রেখে ঈদুল ফিতরের মোনাজাতের পর কোলাকুলির সময় যখন সকল যোদ্ধাদের সমবেত সশব্দ ক্রন্দন শুরু হয়, সে দৃশ্য কল্পনা করেও মনটা বিষন্ন হয়ে যায়। বিপদসঙ্কুল বর্তমান আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়ানো এসব যোদ্ধারা মারণাস্ত্রের ছোবলের মুখে নির্বিকার ও শঙ্কাহীন থাকতে পেরেছিল, কিন্তু পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে মাতৃভূমিতে শত্রুবেষ্টিত প্রিয়জনদের কথা ভেবে অশ্রু সংবরণ করতে পারেনি। এতদিন তো তাদের কথা ভাবারও সময় তারা পায়নি। অবসরে এদের কেউ কেউ এসে লেখককে প্রশ্ন করতো, স্যার, দেশ কি আমাদের কথা মনে রাখবে? লেখক নিজেও বই এর কয়েকটি জায়গায় স্বগতোক্তি করেছেনঃ এরা নিজেদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন জাতির ভবিষ্যতের জন্যে। জাতি কি এদের কথা মনে রাখবে?

যুদ্ধের সময় অনেক নিরীহ মানুষও মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হয়ে থাকে। এমনই হয়েছিলেন তৎকালীন চুয়াডাঙ্গার মহকুমা প্রশাসক দম্পতি। লেখকের ভাষায়ঃ “এসডিও সাহেব এবং তার নব পরিণীতা স্ত্রী উভয়েই পাঞ্জাবি। মারমুখী জনতার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাদের দু’জনকে কয়েকদিন আগে হাজতে এনে রাখা হয়েছে। নবদম্পতির শয়নকক্ষে সুকোমল বিছানায় শুয়ে আমাদের চোখে ঘুম আসছিল না। তাদের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। মধুময় দাম্পত্য জীবনের ঊষালগ্নে তাদের ভাগ্য বিপর্যয় ঘটেছে। তওফিক (মেহেরপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক) মৃদুস্বরে জানালো, ভাই নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে। এ বাসার গৃহকর্তা ছিলেন আমার বন্ধু। কতদিন এই দম্পতির আতিথেয়তা উপভোগ করেছি, আজ তাদের বাঁচিয়ে রাখাই মুশকিল। উন্মত্ত জনতা তাদের হত্যা করার জন্য হাজত ভেঙে ফেলতে চাইছে। অবশেষে একমত হ’লাম যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের দুস্তর বন্ধুর পথে অনেক বলিদান নিয়তির অমোঘ বিধান, এদের কেউ কেউ ঘটনার নির্দোষ শিকার মাত্র”। ইঙ্গিতপূর্ণ শেষ বাক্যটি, বিশেষ করে ‘নির্দোষ শিকার মাত্র’ শব্দ তিনটি মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। হায়, যুদ্ধ কতটা অন্ধ ও নির্মম হতে পারে!

স্বল্প পরিসরে হলেও বইটাতে কন্ঠ শিল্পী, শব্দ শিল্পী এবং খেলোয়াড়দের স্বতঃস্ফূর্ত অবদানের কথা উল্লেখ আছে দেখে খুশী হয়েছি। জাকারিয়া পিন্টুর অধীনে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল জায়গায় জায়গায় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ খেলে সংগৃহীত অর্থ অকাতরে সরকারের কল্যান তহবিলে দান করেছিলেন। কন্ঠ শিল্পী ও শব্দ শিল্পীরাও শরনার্থী শিবিরগুলোতে এবং মুক্তাঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে দেশাত্মবোধক গান গেয়ে তাদের মনোবল উজ্জীবিত করতেন। তাছাড়া এঁরা অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিয়মিতভাবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অনুষ্ঠান প্রচার করে মুক্তিযোদ্ধাদের তথা দেশবাসীর মনোবল চাঙ্গা রাখতেন। এম আর আখতারের “চরমপত্র” এর উল্লেখ না থাকলে বইটি অসম্পূর্ণ থেকে যেত, কেননা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধারা এবং সমগ্র দেশবাসী তাঁর এই অনুষ্ঠানটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতো এবং তা শোনার পর তারা নতুন উদ্যম, উচ্ছ্বাস আর সাহসে বলীয়ান হতো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিসটিক্স বিভাগের তৎকালীন শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বেনু’র লেখকের ব্যাটালিয়নে ভর্তি হবার তথ্যটি বেশ চমকপ্রদ। আরো চমকপ্রদ যুদ্ধ চলাকালীন তার কয়েকদিনের ছুটি নিয়ে দেশে এসে তার তৎকালীন প্রেমিকা নজরুল সঙ্গীত শিল্পী শাহীনকে (আজকের প্রখ্যাত শিল্পী শাহীন সামাদ, যিনি তখন বেনুকে বিয়ে করে শাহীন মাহমুদ নামে পরিচিত হয়েছিলেন) ‘গেরিলা কায়দায়’ বিয়ে করে সুকৌশলে কোলকাতায় নিয়ে আসার তথ্যটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বেনুকে যখন প্রশিক্ষণের জন্য লেখক তার পাইওনিয়ার প্লাটুনে সংযুক্ত করলেন, যাদের কাজ বিস্ফোরক ব্যবহার, মাইন বিছানো, পুল ওড়ানো, ইত্যাদি, তখন তিনি স্বল্প শিক্ষিত সৈনিকদের সাথে একাত্ম হয়ে বেশ আন্তরিকতার সাথে কাজ শুরু করেছিলেন। তার সম্পর্কে লেখকের সাথে পাইওনিয়ার প্লাটুনের কমান্ডার হাবিলদার তাজুল ইসলামের একদিনের কথোপকথন এখানে তুলে ধরছিঃ “স্যার, নতুন দুই রিক্রুট (বেনু’র সাথে নাট্য জগতের তার এক বন্ধুও যোগ দিয়েছিলেন) নাকি আপনার বন্ধু? ... আর বেনু সাহেব নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক? ওনাকে অর্ডার দিতে শরম লাগে, কড়া কথাও বলতে পারিনা। ... স্যার, ওনাদের কষ্ট দেখে মায়া লাগে, তবে শেখার খুব আগ্রহ ওনাদের”।

লেখক বলেছেন, “এটি আমার প্রথম বই। তাড়াহুড়ো করে লিখেছি, সহৃদয় পাঠক ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন বলে আশা রাখি”। লেখককে আমি বলবো, যেমনই লিখুন, যেভাবেই লিখে থাকুন, আপনার এ বই স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় এক অমূল্য অবদান। ‘আজি হতে শত বর্ষ পরে’ যারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবে, তারা এ বই পড়তে পড়তে রোমাঞ্চিত, শিহরিত এবং গর্বিত বোধ করবে আপনার মত আরো অসংখ্য বীর বাঙালীর শৌর্য বীর্য আর দেশমাতৃকার জন্য আপনাদের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের কথা ভেবে। সেই সাথে স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্মুখ সমরে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এখনো যারা তাদের স্মৃতিকথা বা যুদ্ধের বয়ান লিখেন নি, তাদের প্রতি একটা অনুরোধ রাখছি। আপনারা যাই পারুন, যতটুকুই এখনো মনে আছে, সেসব লিখে যান। আপনাদের উত্তরসূরীরা এসব পড়ে একদিন গর্ব বোধ করবে।

ঢাকা
১০ এপ্রিল ২০১৭

মন্তব্য ৬৭ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৬৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৩১

অতঃপর হৃদয় বলেছেন: পড়তে চেষ্টা করবো। অনেক সুন্দর রিভিউ!!!! লোভ হচ্ছে আমার।

১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। প্রথম মন্তব্যে, প্রথম প্লাসে অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা...

২| ১০ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫৮

ধ্রুবক আলো বলেছেন: শেয়ার করার জন্যে অনেক ধন্যবাদ সময় পেলে বইটা সংগ্রহ করবো।

১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: সময় নিয়ে এ দীর্ঘ লেখাটি পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আজ এটাকে আরেকটু দীর্ঘতর করলাম আরো কিছু কথা যোগ করে, একেবারে শেষে।
প্লাসে অনুপ্রাণিত।

৩| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:১১

অগ্নি সারথি বলেছেন: ইঙ্গিতপূর্ণ শেষ বাক্যটি, বিশেষ করে ‘নির্দোষ শিকার মাত্র’ শব্দ তিনটি মনকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। হায়, যুদ্ধের কি নির্মম পরিহাস! - ইতিহাস বিষয়টা বস্তুত প্রতিনিধীত্বশীলদের দ্বারা লিখিত হয় বিধায় এসডিও সাহেব এবং তার নব পরিণীতা স্ত্রীর গল্পগুলো উঠে আসবার প্রয়াস পায় না। লেখায় সাব-অল্টার্ন ইস্যু সামনে নিয়ে আসাটা বোধ করি লেখাটিকে অনেক উচ্চ মর্যাদায় অধীষ্ট করেছে।
আপনার রিভিউ ভাল লেগেছে খায়রুল ভাই। বইটা কি অনলাইনে পাওয়া যাবে?

১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: ইতিহাস বিজয়ীদের প্রতিনিধিত্ব করে, কখনো বিজিতদের নয়।
বইটি অনলাইনে পাওয়া যাবেনা, তবে আজিজ সুপার মার্কেটের দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে। আর প্রকাশকের নাম ও ঠিকানা পোস্টে উল্লেখ করেছি।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হয়েছি।

৪| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:০২

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন:
রিভিউ দারুন হয়ে । বইটি সংগ্রহ করে পড়ার চেষ্টা করবো ।

অগ্নি সারথি বলেছেনঃ বইটা কি অনলাইনে পাওয়া যাবে? বইটির অনলাইন ভার্সন কোন লিংক পেলে পড়ে নিতাম ।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:২৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: রিভিউটি আপনার মতে ভাল হয়েছে জেনে প্রীত ও অনুপ্রাণিত বোধ করছি। বইটি নিজে পড়লে আপনার আরো ভাল লাগবে।
বইটি অনলাইনে পাওয়া যাবেনা, তবে ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটের দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে। আর প্রকাশকের নাম ও ঠিকানা এবং বইটির মূল্য পোস্টে উল্লেখ করেছি।

৫| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:০৯

বিলিয়ার রহমান বলেছেন: রক্তে ভেজা একাত্তর সফলতা কামনা করছি!:)


রিভিউতে অবশ্যই প্লাস!:)


এই পোস্টটিতে আপনার মন্তব্য প্রত্যাশা করছি

১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:২৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: রিভিউতে অবশ্যই প্লাস এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্লাসে অনুপ্রাণিত।
আর আপনার প্রত্যাশিত মন্তব্যটি যথাস্থানে রেখে এসেছি।

৬| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:৪৭

সুমন কর বলেছেন: ‘আজি হতে শত বর্ষ পরে’ যারা স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করবে, তারা এ বই পড়তে পড়তে রোমাঞ্চিত, শিহরিত এবং গর্বিত বোধ করবে।

চমৎকার রিভিউ হয়েছে। এ ধরনের বইগুলো সকলের পড়া উচিত।

শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৩:০৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: চমৎকার রিভিউ হয়েছে -- এই প্রশংসার জন্য এবং প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভেচ্ছা জানবেন।

৭| ১১ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:২৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমি উনার সম্পর্কে জানি, বই কখনো পড়া হয়নি; আপনার আলোচনা থেকে উনার শুরুটা নতুন করে শুনলাম।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। প্রীত হ'লাম।
শুভেচ্ছা রইলো...

৮| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৪৫

সায়ান তানভি বলেছেন: দারুন রিভিউ।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: দীর্ঘ পোস্ট, মানুষের হাতে সময় নেই পড়ার। তবুও আপনি পড়েছেন এবং "দারুন রিভিউ" বলেছেন, কষ্ট সার্থক হলো।

৯| ১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:১৬

সামিয়া বলেছেন: বইটি সম্পর্কে অনেক কিছু জানলাম, ধন্যবাদ রইলো।

১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

১০| ১৩ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৩৬

সিনবাদ জাহাজি বলেছেন: বইটা সংগ্রহের ইচ্ছা থাকল
সুন্দর রিভিউ

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: এই দীর্ঘ রিভিউটি পড়ে এখানে মন্তব্য রেখে যাবার জন্য অনেক ধন্যবাদ। রিভিউ এর প্রশংসায় প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।

১১| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ২:০০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন: ভাল লাগল বই পর্যালোচনা । সংগ্রহ করে পড়ার মত একটি বই ।

১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, ডঃ এম এ আলী। মন্তব্যে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪ !!!

১২| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৩৫

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন: খায়রুল আহসান ভাই,

আপনার চমৎকার রিভিউ পড়ে পুরো বইটা পড়ার অনুপ্রেরণা পেলাম। আপনাকে ধন্যবাদ এই বইটার সকলের সমানে তুলে ধার জন্য। পোষ্ট টা ভাললাগার লিস্টে রাখলাম।

শুভ নববর্ষ।


১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:১৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোষ্ট টা ভাললাগার লিস্টে রাখলাম -- কৃতজ্ঞ বোধ করছি, এ উদারতার জন্য। মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত।
আপনার পুরনো পোস্ট বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ আমদানী ও ভারত প্রদত্ত শর্তগুলো পড়ে মন্তব্য করে এলাম।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৩| ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৪৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার এ লেখাটি অন্যত্র পড়ে আমার এক বন্ধু কিছু মন্তব্য করেছেন, যা এই ব্লগের পাঠকদের সাথে শেয়ার করছিঃ

মেজর হাফিজের "রক্তে ভেজা একাত্তর" সম্বন্ধে অপূর্ব উপস্থাপনাটির জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। যারা ইতিপূর্বে বইটি পড়েনি তারা তোমার লেখাটি পড়ে অবশ্যই উৎসাহিত হবে। আমি বহুদিন পর্যন্ত ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ আনোয়ার বিদ্যালয়টিকে শহীদ "আনোয়ারা" বিদ্যালয় হিসাবেই জানতাম। সম্ভবত মেয়েদের স্কুল বলে। বইটি পড়ার পর শহীদ আনোয়ার সম্বন্ধে জানতে পারলাম এবং ভুলটি চিরতরে শুধরে গেল।
১ ই বেংগলের প্রাক্তন অফিসারদের কাছ থেকে শুনেছি যে মেজর হাফিজ এডুকেশান কোরের অফিসার হিসাবে নির্বাচিত হয়ে পি এম এ তে গিয়েছিলেন, সেখানে প্রশিক্ষনরত অবস্থায় তিনি তার প্লাটুন কমান্ডারের দ্বারা উদবুদ্ধ হয়ে বেংগল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। ভাগ্য মানুষকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে আসে এবং মানুষ কি ভাবে বৈরি পরিবেশে স্বাধীন সিদ্ধান্তের দ্বারা জীবনের মোড় ঘুড়ায় তার একটি উদাহরন বোধ করি মেজর হাফিজের সে সময়কার জীবন। লে: কর্নেল রেজাউল জলিল হচ্ছেন সিএসপি আজিজুল জলিলের বড় ভাই এবং ব্রিগেডিয়ার সানোয়ার হুদার দুলাভাই। জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী যখন ১ ই বেংগলের অধিনায়ক ছিলেন তখন তিনি তার এডজুটেন্ট ছিলেন। এখন তো তিনি ইতিহাসের এক ট্র্যাজেডি, বেংগল রেজিমেন্টের স্কার্ফ গলায় পেচিয়ে মাঝে মাঝে সেনা গ্রন্থাগারে আসেন বই নেয়ার জন্য।
কামালপুর যুদ্ধের উপরে ১৯ পদাতিক ডিভিশন একটি ডকুমেন্টারী সিনেমা করেছিল চাষী নজরুলের পরিচালনায়, সেখানে মেজর হাফিজ একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র। মেজর কামরুল সিনেমাটির উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছিলেন। সিনেমাটি এখন কোথায় আছে জানি না।

১৪| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:২১

করুণাধারা বলেছেন:
আপনার রিভিউ পড়ে বইটি আগ্রহদ্দীপক হবে বলে মনে হচ্ছে। আমি বই সংগ্রহ করি রকমারি ডট কম থেকে। সেখানে এই বই পেলাম না। দেখি নিউ মার্কেটে পাই কিনা।

ধন্যবাদ বইটির সন্ধান দেবার জন্যে। ভাল থাকুন।

১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এই দীর্ঘ পোস্টটি সময় নিয়ে পড়বার জন্য অশেষ ধন্যবাদ।
বইটি ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটের দোকানগুলোতে পাওয়া যাবে বলে লেখক আমায় জানিয়েছেন। আপনি না পেলে আমায় জানাবেন। আমার কপিটাই নাহয় আপনাকে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যাবে।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৫| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:৫৭

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েকজন অফিসারের লেখা মুক্তিযুদ্ধের বই আমার সংগ্রহে আছে, এটা ছাড়া। রক্তে ভেজা একাত্তর সংগ্রহের আশা রাখছি।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৮:৪২

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক প্রীত হ'লাম এ কথাটা জেনে। আশাকরি, ঢাকায় এলে আজিজ সুপার মার্কেটের দোকানগুলো থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৬| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৩

পুলহ বলেছেন: আন্তরিক রিভিউ, ভালো লাগলো পড়ে। আগেই পড়েছিলাম এ পোস্টের অধিকাংশ, আজ শেষ করলাম শেষের দুই প্যারা ...

এম্নিতে আমার ছোট একটা খটকা আছে, যতদূর জানি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উল্লেখ আছে ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন জনাব মান্নান, কিন্তু এখানে ভিন্ন আরেকজনের নাম (তওফিক এলাহী) উল্লেখ দেখলাম....

নববর্ষের বিলম্ব শুভেচ্ছা জানবেন স্যার ! ভালো থাকুন- এই শুভকামনা সব সময়।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৩৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: সর্বাগ্রে আপনাকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, অনবধনতা বশতঃ ছোট্ট একটি শব্দের জায়গায় স্মৃতি থেকে অন্য একটি শব্দ বসিয়ে যে বিরাট একটা ভুল করে ফেলেছিলাম, সেটা ধরিয়ে দেয়ার জন্য। শব্দটা ছিল ব্যবস্থাপনা এর জায়গায় পরিচালনা। আপনার মনযোগী পাঠ এবং সতর্ক দৃষ্টিতে এ ভুলটুকু ধরা না পড়লে হয়তো আমার এ পোস্টটা এ বিরাট ত্রুটিটাকে বয়ে নিয়ে বেড়াতো আরো বহু দিন। ভুলটা আমি ইতোমধ্যে সম্পাদনা করে নিয়েছি, এবং বিদগ্ধ পাঠককূলের জ্ঞাতার্থে লেখকের বই থেকে সংশ্লিষ্ট অংশটুকু হুবহু এখানে তুলে ধরলামঃ
"এই অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্বে ছিলেন মেহেরপুরের এসডিও তওফিক এলাহী" (পৃষ্ঠা নং ৪১)।
এই ব্লগে আপনার মত পাঠকের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক, এই কামনায় রইলাম।
আপনাকেও নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৭| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৯:১৬

ফরিদ আহমদ চৌধুরী বলেছেন: কিছুটা পড়লাম। পরে আরো পড়ার জন্য প্রিয়তে নিলাম।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৩০

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রিয়তে নেয়ার জন্য কৃতজ্ঞ বোধ করছি। প্লাসে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আশাকরি পরেরবার পড়েও একটা মন্তব্য রেখে যাবেন।
ভাল থাকুন। বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৮| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:০৩

সায়ান তানভি বলেছেন: মেজর হাফিজ আমার এলাকার সন্তান, তাই আগ্রহ কাজ করেছে বেশি, বইটা বোধহয় বহু আগে পড়েছিলাম কিছুটা।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:৩৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: পুনঃমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

১৯| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:২৭

নীলপরি বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম ।পোষ্টে ++

নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো ।

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: এই দীর্ঘ রিভিউটি পড়ে এখানে মন্তব্য রেখে গেছেন, এজন্য অনেক ধন্যবাদ। প্রীত হ'লাম।
ভাল থাকুন। বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

২০| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৪১

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান ,




ভালো লাগলো, মুক্তিযুদ্ধের উপরে লেখা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার বইয়ের রিভিউ দেখে । মূলত এর টানেই মন্তব্যের জন্যে এখানে আসা যদিও আগেই পড়েছিলুম লেখাটি ।
রিভিউটি ঠিক বই যেভাবে রিভিউ করা হয় তেমনি করেই করা হয়েছে । এতে লেখকের পান্ডিত্য সুষ্পষ্ট । সাধুবাদ লেখককে ।

একজন সৈনিকের কলমে যখন লেখা হয় , "হায় ! যুদ্ধ কতটা অন্ধ ও নির্মম হতে পারে! " তখন বুঝতে কষ্ট হয়না সব মানুষের ভেতরেই একটা শান্তির কপোত ওড়ে চুপিচুপি ।

আপনার করা ১৩ নম্বর মন্তব্যটিও একটি ইতিহাস ঘনিষ্ঠ সংযোজন । ব্লগে অসংখ্য নতুন প্রজন্মের মানুষ আছেন , যারা এই লেখাটি পড়বেন তারা মুক্তিযুদ্ধের অনেক অলিখিত ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে সত্যি সত্যিই উপলব্দি করতে পারবেন এই গানটির মর্মকথা ----- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা.....

বৈশাখের বিলম্বিত শুভেচ্ছা ।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার এতটা এ্যাপ্রিশিয়েটিভ মন্তব্য পেয়ে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম। পোস্টে প্লাস পেয়েও। :)
অনেক অনেক ধন্যবাদ এ উদার প্রশংসার জন্য।
পোস্টটা লিখতে কিছুটা পরিশ্রম তো করতে হয়েছেই। ফাঁক ফোঁকর দিয়ে যেন কিছু বেড়িয়ে না যায়, সেজন্য প্রতিটা লাইন মনযোগ দিয়ে পড়েছি। তার পরেও ভুল হয়ে গিয়েছিল, যা পুলহ এর ছোট একটা খটকার কারণে (১৬ নং মন্তব্য) সংশোধন করার সুযোগ পেয়েছি। আপনাদের মত বিদগ্ধ পাঠকের এ্যাপ্রিশিয়েটিভ মন্তব্য পেয়ে শ্রম সার্থক বলে তৃপ্তি বোধ করছি।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:৩০

খায়রুল আহসান বলেছেন: তখন বুঝতে কষ্ট হয়না সব মানুষের ভেতরেই একটা শান্তির কপোত ওড়ে চুপিচুপি - চমৎকার এ পর্যবেক্ষণটার প্রশংসা না করলেই নয়, তাই পুনরায় আপনার মন্তব্যে ফিরে এলাম। সব মানুষ এর ভেতরেই তো মানবতাবোধ থাকার কথা! তাই আপনি ঠিকই বলেছেন, সব মানুষের ভেতরেই একটা শান্তির কপোত ওড়ে চুপিচুপি !

২১| ১৫ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৩৩

TaবিZ FaরুK বলেছেন: Fortune favors the brave!

মুক্তিযুদ্ধের উপরে লেখা একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার বইয়ের রিভিউ দেখে ভাল লাগল।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:০৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার কোন লেখায় আপনি এই বুঝি প্রথম এলেন। আমার লেখায় আপনাকে সুস্বাগতম!
দীর্ঘ এ রিভিউটি পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
মন্তব্যে প্রীত হ'লাম, প্লাসে অনুপ্রাণিত।

২২| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:১৪

করুণাধারা বলেছেন:

"আমার কপিটাই নাহয় আপনাকে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। "

অজস্র ধন্যবাদ, এই সহৃদয়তার জন্য। আপনার কপিটি আমাকে পৌঁছে দিলে চলবে কি করে! এই বই নিয়ে ব্লগারদের আগ্রহ তৈরি করেছেন, এখন বেশ কিছুদিন তাদের অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।বইটির প্রয়োজন হবে নানা রেফারেন্স দিতে।

আজিজ সুপার মার্কেট থেকে বইটা সংগ্রহ করতে পারব ইনশাল্লাহ।

ভাল থাকুন- যেন এরকম ভাল পোস্ট উপহার দিতে পারেন নিয়মিত।

১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৪৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: বইটির প্রয়োজন হবে নানা রেফারেন্স দিতে। -- আপনার এ কথাটি অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হলো। ১৬ নং মন্তব্যে পুলহ যে ছোট একটা খটকার কথা বলেছেন, সেটার নিরসনকল্পে আমাকে আবার বইটির পৃষ্ঠা ওল্টাতে হয়েছে। ভাগ্য ভাল যে অতি সহজেই রেফারেন্সটা পেয়ে গেছি।
আশাকরি, আজিজ সুপার মার্কেট থেকে বইটা আপনি সংগ্রহ করতে পারবেন।
মন্তব্যে প্রীত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

২৩| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:০১

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া শুভ নববর্ষ!!!!!

কেমন আছো????

কোথায় আছো???

এই বইটা কিনে আমিও রিভিউ দেবো একদিন তার আগে আরও আড়ও রিভিউ বাকি আছে।

১৮ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৪১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও নববর্ষ ১৪২৪ এর শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
ভাল আছি, এই ব্লগেই তো আছি। :)
আচ্ছা। রিভিউ এর অপেক্ষায় থাকলাম।
এই দীর্ঘ পোস্টটি সময় নিয়ে পড়বার জন্য এবং মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

২৪| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ৯:৫৫

জুন বলেছেন: শুভ নববর্ষ খায়রুল আহসান :)
আশাকরি অনেক আনন্দে কাটিয়েছেন নতুন বছরের প্রথম দিনটি ।
আর আপনার রিভিউ পড়ে আমি চমকৃত হয়েছি । অসাধারন বল্লেও কম বলা হয় । যাকে বলে রীতিনীতি মেনে একেবারে পারফেক্ট রিভিয়ু । আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সেতো আমাদের চরম গৌরবের ইতিহাস । বইটি পড়বো অবশ্যই ।
+

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ৮:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি, জুন।
রিভিউটির এই উদার প্রশংসায় একই সাথে অনুপ্রাণিত এবং অভিভূত হয়েছি। প্লাস দেয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।

২৫| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৫৪

রাশিদা রাজাপুর বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট

২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:০৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ, প্রীত হ'লাম।
শুভেচ্ছা রইলো। ভাল থাকুন।
শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

২৬| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১:০২

রোকসানা লেইস বলেছেন: শুভ নববর্ষ খায়রুল আহসান।
রক্তে ভেজা একাত্তর পড়েছি। আপনিও খুব নির্মোহ ভাবে বইটির আলোচনা করেছেন।
প্রতিটি লাইনে লাইনে রক্তে ভেজা কান্না অনুভব করে আর ভয়ের শিহরণ নিয়ে এক বসায় আমিও শেষ করেছি।
শব্দমালায় আলোড়িত হয়েছি একাত্তরের স্মৃতি ধারন করে দুঃসহ সময় অনুভবে জাগে বাস্তব হয়ে।
কিছুদিন ধরে একটা কথাই মনে হচ্ছিল যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে অথচ ঢাকা থেকে দূরে অবস্থিত যশোর ক্যান্টেনমেন্টে ২৫শে মার্চের বর্বর হত্যাকাণ্ডের খবর কঠিন ভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ২৯ মার্চ চারদিন পরেও সেনাবাহিনীর লোকজন জানতে পারেনি নির্মম হত্যা কাণ্ডের খবর।
আরো একটা বিষয় মনে হয়েছে আজকাল কত দ্রুত সব খবর পৌঁছে যায় আর কোন বিচার বিবেচনা ছাড়াই মানুষ পক্ষে বিপক্ষে কত রকম মতামত দিতে থাকে। কিন্তু তখনকার সময় ছিল কঠিন।পরিবারের লোকজন কে কোথায় আছে সে খবর জানতে পারেনি মানুষ। জীবন তুচ্ছো করে মুত্যুর মুখে ছুটে গিয়েছে দেশকে শত্রু মুক্ত করতে। যুদ্ধ অবস্থা ছাড়াও সেই সময়ে মানুষের সহজ চলার বিষয়, জীবন যাপনের ছবি লেখকের লেখায় খুব সুন্দর উঠে এসেছে।বর্তমানের মানুষ যদি সে সময়টাকে অনুধাবন করে একাত্তরের যুদ্ধের বিষয়টি ভাবে তবে এত সহজে কাউকে অপবাদ দিতে পারবে না। আরো আন্তরিক হয়ে উঠবে দেশমাতৃকার প্রতি। কত কষ্ট কত কান্নার বিনিময়ে দেশ পাওয়া হয়েছে, তা উপলব্ধি করে বিনম্র হতো।
আপনার লেখাটি লেখককে পৌঁছে দেব।

২০ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১১:৪৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ, রোকসানা লেইস, আমার এ লেখাটি পড়ে এখানে মন্তব্য রেখে যাবার জন্য।
আপনিও খুব নির্মোহ ভাবে বইটির আলোচনা করেছেন -- সত্যিই খুব প্রীত হ'লাম।
আপনার সুবিবেচিত মন্তব্যগুলোর সাথে একমত পোষণ করছি। অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আপনার লেখাটি লেখককে পৌঁছে দেব - অনেক ধন্যবাদ এ জন্যেও।

২৭| ১৬ ই এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১০:৩৭

মাঈনউদ্দিন মইনুল বলেছেন:

একটি পেশাদার গ্রন্থালোচনা পড়লাম। লেখক এবং পাঠক উভয়ের মননকে দেখার সুযোগ হলো। এবং মুগ্ধ হলাম।

ঠিকই বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে একজন বীরবিক্রমের অভিজ্ঞতা দেশের ইতিহাসের জন্য অমূল্য তথ্যসূত্র। শতবর্ষ পড়ে নয়, এখনই এর বেশি দরকার।

নববর্ষের শুভেচ্ছা রইলো.... :)

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: ধন্যবাদ, এ দীর্ঘ লেখাটি পড়ে এখানে মন্তব্য রেখে যাবার জন্য।
শতবর্ষ পড়ে নয়, এখনই এর বেশি দরকার। -- অশেষ ধন্যবাদ, মন্তব্যের এ অংশটির জন্য।
আপনার পুরনো পোস্ট যে লেখাগুলো নির্বাচিত হতে পারতো! পড়ে সেখানে মন্তব্য রেখে এলাম।
আপনাকেও বাংলা ১৪২৪ নববর্ষের শুভেচ্ছা! ভাল থাকুন!!!

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৩:৫৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার পুরনো পোস্ট ভালো লেখার তিনটি গোপন রহস্য আছে, কেউ কি তা জানেন? পড়ে সেখানে একটা মন্তব্য রেখে এসেছিলাম। সময় করে দেখে নেবেন।

২৮| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১০:১০

বিজন রয় বলেছেন: শুভেচ্ছা জানাতে এলাম।
কেমন আছেন।

লেখাটি পড়ে কথা বলবো।

ভাল থাকুন প্রিয় শ্রদ্ধেয়।

২১ শে এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৪:৫৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: অত্যন্ত প্রীত হ'লাম, শুভেচ্ছা জানাতে এখানে এলেন বলে। আমি ভাল আছি, আশাকরি আপনিও কুশলেই আছেন। ধন্যবাদ, কুশল জিজ্ঞাসার জন্য।
লেখাটি পড়ে কথা বলবো -- খুব খুশী হবো, যদি আবার এসে কিছু বলে যান।
আমি চেক করে দেখলাম, এখানে পোস্ট করা আপনার সব ক'টি লেখায় আমার অন্ততঃ একটি করে মন্তব্য আছে। কয়েকটাতে একাধিক আছে। নতুন পোস্ট দিন। মন্তব্য করার জায়গা পাচ্ছিনা যে!!! :)

২৯| ০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৩

ভ্রমরের ডানা বলেছেন:




প্রচ্ছদের মানুষটি কি উনি?



চমৎকার রিভিউ! পড়ে শিহরিত হ'লাম, গর্বিত হ'লাম! বইটি কেনার অভিপ্রায় রয়েছে তাই লেখাটি প্রিয়তে গেল! লেখকের প্রতি অনন্ত শ্রদ্ধা ও বিনম্র সালাম জানাই! আপনার লেখাটির জন্য অশেষ ধন্যবাদ!

১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:০০

খায়রুল আহসান বলেছেন: প্রচ্ছদের মানুষটি কি উনি? - আমার মনে হয়, প্রচ্ছদের মানুষটি লেখক স্বয়ং নন। তবে হতেও পারেন, এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই।
অনেকদিন পরে এসে এ লেখাটা খুঁজে বের করে পড়ে গেলেন, প্রশংসা করে গেলেন, প্লাস দিয়ে গেলেন-- এসব কিছুর জন্যই জানাচ্ছি অনেক অনেক ধন্যবাদ।
আন্তরিক শুভকামনা...






৩০| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১:০০

রাজীব নুর বলেছেন: এক কথায় অসাধারন।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সকাল ৮:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। প্রশংসায় অনুপ্রাণিত।
শুভেচ্ছা জানবেন।

৩১| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

রাজীব নুর বলেছেন: বইটা সংগ্রহ করবো।
আমার নতুন বই সংগ্রহ'র লিস্টে নামটা টুকে রাখলাম।

ভালো থাকুন।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১০

খায়রুল আহসান বলেছেন: জেনে প্রীত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা....

৩২| ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৮

অভীক অর্ণব বলেছেন: আপনার রিভিউ ভাল হয়েছে। বইটি আমি পড়েছিলাম প্রায় চার পাঁচ বছর আগে।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার রিভিউ ভাল হয়েছে - অনুপ্রাণিত হ'লাম আপনার এ প্রশংসাটুকু পেয়ে।
ভাল থাকুন, শুভেচ্ছা---

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:২৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: লক্ষ্য করলাম, আমার এ লেখাটি আপনি "প্রিয়" তে নিয়েছেন। এটাও আমার জন্য অনেক প্রেরণাদায়ক, কারণ এই প্রথম আমার কোন পোস্ট ৪ জন পাঠক "প্রিয়"তে নিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.