নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

সহমর্মিতা, শিষ্টাচার এবং ভব্যতার নান্দনিক দৃষ্টান্তঃ

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৮:৫৬

গতরাতে ইংল্যান্ড আর কলাম্বিয়ার খেলাটা টান টান উত্তেজনা নিয়ে ১-১ গোলে শেষ হলো। ঘরোয়া আলোচনায় কেউ কেউ রেফারীর বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আনছিলেন। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের পক্ষে দেয়া ঐ পেনাল্টি কিকের বৈধতা নিয়ে। আবার কেউ কেউ কলাম্বিয়ার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অত্যধিক ফাউল করে খেলার অভিযোগ আনছিলেন। এসব আলোচনা সমালোচনার মাঝেই পেনাল্টি শুট আউট শুরু হলো। প্রথম মিসটা অবশ্য একজন ইংলিশ খেলোয়াড়ই করলেন। তারপরে একই অকাজ করলেন কলাম্বিয়ার দু’জন খেলোয়াড়। ফলে পেনাল্টি শুট আউটে ইংল্যান্ড ৪-৩ গোলে জিতে গেলো। শুরু হলো মাঠব্যাপী ইংলিশ খেলোয়াড় আর সমর্থকদের উল্লাস, অপরদিকে কলাম্বিয়ার খেলোয়াড়দের মুখে নেমে এল আষাঢ়ের কালো মেঘ। বিশেষ করে যে দু’জন খেলোয়াড় পেনাল্টি মিস করেছিলেন, ওরা জার্সি দিয়ে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। গোল কীপার বেচারার আর দোষ কি! কিন্তু সে বেচারাও কাঁদছিলেন না বটে, তবে মুখে রাজ্যের বিষণ্ণতা নিয়ে শ্লথ পায়ে, অনেকটা পা টেনে টেনে মাঠ ত্যাগ করছিলেন। কেউ কেউ উদাস দৃষ্টি মেলে ইংলিশ খেলোয়াড়দের উল্লাস দেখছিলেন।

জর্ডান পিকফোর্ড ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক। চটপটে সুদর্শন যুবক, বয়স মাত্র ২৪। কলাম্বিয়ার দুটো মিস এর মধ্যে একটা পিকফোর্ড ফিরিয়ে দেন, অন্যটা মিস। ফলে পিকফোর্ড মাঠের বীর, বীরোচিত সম্বর্ধনাই তিনি পেয়ে যাচ্ছিলেন। আলিঙ্গণ, চুমু, পিঠ চাপড়ানি, আদরে মাথার চুল বুলানি, ইত্যাকার সব ধরণের আদর আপ্যায়নের মাঝ দিয়ে তিনি মাঠ ত্যাগ করছিলেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি গেল এতক্ষণের যুদ্ধক্ষেত্রের প্রতিপক্ষ কলাম্বিয়ান গোলরক্ষক ড্যাভিড অসপিনার উপর। অসপিনা তখন মাঠের একটা জায়গায় থির হয়ে বিষণ্ণ মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অসপিনার বয়স ২৯, তার চেয়ে বয়সে ৫ বছরের বড়। দেহের গড়নেও তার একটু ভারিক্কী ভাব ছিল, কিন্তু মুখে সরলতার ছাপ। পিকফোর্ড আস্তে আস্তে অসপিনার কাছে গেলেন, তাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। অসপিনা তার কাঁধে মাথা রেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। বাকরুদ্ধ পিকফোর্ড তার মাথায় হাত বুলাতে থাকলেন। একসময় আবেগ স্তিমিত হয়ে আসলে ওরা পৃথক হয়ে যার যার জায়গায় চলে গেলেন। প্রতিপক্ষের প্রতি এমন সহমর্মিতা, শিষ্টাচার এবং ভব্যতার নান্দনিক দৃষ্টান্ত দেখে আমার চোখ মন জুড়িয়ে গেল। আমি মনে একটা প্রশান্তি নিয়ে বাকী রাতের ঘুমের জন্য শয্যায় ফিরে এলাম।

ঢাকা
০৪ জুলাই ২০১৮

মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +৮/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:০৭

মোঃ খুরশীদ আলম বলেছেন: আহ! আমাদের দুই নেত্রীকে এই ভূমিকায় দেখবো কবে, কে জানে।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: সেটা আর এই ইহজীবনে দেখে যেতে পারবেন বলে কোন লক্ষণ দেখছিনা। তাই আপাততঃ খেলার মাঠের কথাই বলেছি।

২| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:১২

শামচুল হক বলেছেন: অনেক সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ খায়রুল আহসান ভাই।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৪০

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ, শামচুল হক। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।

৩| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২৩

রাজীব নুর বলেছেন: শুভ সকাল।
এই কর্পূরের মতো উবে যাওয়া জীবন নিয়ে কিসের এত বড়াই, মৃত্যুর গন্ধ কী পাওনা।

আজ খুব ভোরে ঘুম ভেঙ্গেছে। বিছানায় শুয়েই একটা বই হাতে নিলাম। (আমার মাথার কাছে সব সময় কিছু বই থাকে)
''এই কর্পূরের মতো উবে যাওয়া জীবন নিয়ে কিসের এত বড়াই, মৃত্যুর গন্ধ কী পাওনা।'' এই লাইনটা চোখে পড়লো আর মনটা বিষন্ন হয়ে গেল।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৪২

খায়রুল আহসান বলেছেন: বইটা পড়ে একটা রিভিউ লিখে দিয়েন এখানে।

৪| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৪৫

চাঁদগাজী বলেছেন:


খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মনের সমন্ময় ঘটিয়ে, মানুষকে কোমল, দয়ালু, সহনশীল ও শক্তিশালী করে তুলে

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:১৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মনের সমন্ময় ঘটিয়ে, মানুষকে কোমল, দয়ালু, সহনশীল ও শক্তিশালী করে তুলে - চমৎকার কথা বলেছেন। ধন্যবাদ।
আমি যারপরনাই চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন হই এ কথা ভেবে যে আজ আমাদের কোন পাড়া মহল্লায় বাচ্চাদের খেলার কোন মাঠ নেই। মফস্বলের স্কুল কলেজের খেলার মাঠে ভাগ বসিয়েছে হাট বাজার। ফলে যাদের মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা, তারা আজ ঘরকুনো, হাতের মুঠোয় নীল ছবি ও সাহিত্যের সম্ভার নিয়ে।

৫| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: শিষ্টাচার ও ভব্যতার আরেকটি দৃষ্টান্তের কথা জানলাম জাপানী খেলোয়াড়দের ব্যাপারে। ওরা হেরে যাওয়ার পর মাঠের দর্শক এবং সমর্থকদের সম্মানে অনেকক্ষণ "বাও" করে (মাথা নুইয়ে) দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাওয়ার আগে তাদের লকার রুম "স্পটলেসলী" পরিষ্কার করে টেবিলের উপরে রাশিয়ান ভাষায় লেখা একটি "থ্যাঙ্ক ইউ" নোট রেখে গিয়েছিলেন। আমাদের অনেক কিছুই শেখার আছে এসব দৃষ্টান্ত দেখেঃ
https://edition.cnn.com/2018/07/03/football/japan-belgium-russia-thank-you-locker-room-trnd/index.html

৬| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:১৬

তারেক_মাহমুদ বলেছেন: কলম্বিয়া বরাবরই মেরে খেলতে ওস্তাদ, গতবার ওরা নেইমারকে আহত করে ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়। কালকের এই খেলাটা দেখা হয়নি। ভাল লাগলো আপনার লেখাটি।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ, তারেক_মাহমুদ। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।

৭| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:১৯

সিগন্যাস বলেছেন: ফুটবল পছন্দ করিনা।দেখিও না।আপনি এইসব দৌড়াদৌড়ি দেখে কি মজা পান কে জানে

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি এইসব দৌড়াদৌড়ি দেখে কি মজা পান কে জানে - যে বিষয়টি নিয়ে লিখেছি, সেগুলোই খুঁজে বেড়াই পৃথিবীর আনাচে কানাচে, মাঠে প্রান্তরে, বনে বাঁদারে। যেখানেই যাই, এরকম কিছু দেখতে পেলে কলমে তুলে আনি। এগুলোতেই মজা পাই।
জীবনের সুকুমার বৃত্তিগুলোর যেখানেই দেখা পাই, সেখানেই থমকে দাঁড়াই দেখার জন্য, ভাবার জন্য, লেখার জন্য।

৮| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:২৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখক বলেছেন, "আমি যারপরনাই চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন হই এ কথা ভেবে যে আজ আমাদের কোন পাড়া মহল্লায় বাচ্চাদের খেলার কোন মাঠ নেই। মফস্বলের স্কুল কলেজের খেলার মাঠে ভাগ বসিয়েছে হাট বাজার। ফলে যাদের মাঠে ছুটে বেড়ানোর কথা, তারা আজ ঘরকুনো, হাতের মুঠোয় নীল ছবি ও সাহিত্যের সম্ভার নিয়ে। "

-মাঠ হারায়েছে আমাদের নতুন জেনারেশন, ইয়াবা তাদের দিচ্ছে এক নতুন বিশ্ব!

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:৩৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: গ্রাউন্ড রিয়েলিটি অনেকটা সেরকমই।

৯| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৪৪

রানা আমান বলেছেন: খেলাটা দেখতে পারিনি তবে আপনার রিভিওটা পড়ে খুবই ভালো লাগলো । খেলা দেখতে না পারার অতৃপ্তিটা আর নেই ।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: খেলা পরবর্তী একটি ছোট্ট ঘটনাকে আমি ব্লগে তুলে এনেছি কারণ আমি মানব হৃদয়ের এই সুকোমল প্রবৃত্তিগুলোকে শ্রদ্ধা করি। এসব গুণাবলী অন্য মানুষকেও মানবিক হতে প্রেরণা যোগায়।
লেখাটা আপনার ভাল লেগেছে জেনে প্রীত হ'লাম। মন্তব্য এবং প্লাসের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

০৬ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১০:৩৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার কাকতালীয় অবশ্যই পোস্টে একটা মন্তব্য রেখে এসেছিলাম। আশাকরি, একবার সময়ও করে দেখে নেবেন।

১০| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:১৯

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: কলম্বিয়া দারুন ভাবে ফিরে এসেছিল। । ট্রাইব্রেকারে পেরে উঠলো না। বৃটিশ রাজ রেফারির আনুকূল্য পেয়েছে আমার তাই মনে হলো।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: হ্যাঁ, রেফারির আনুকূল্যের কথাটা অনেকেই বলছেন।
মন্তব্যে প্রীত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

১১| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:০৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:


আমি খেলাটি দেখেছি; কিন্ত খেলা শেষ হতেই টিভি বন্ধ করে দেওয়ায় অসপিনা আর পিকফোরডের এ বিষয়টি দেখিনি।

আসলে বিশ্বকাপ খেলা হলো বিশ্বের মানুষের মিলনমেলা। পরস্পরের প্রতি সম্মান, বিশ্ব মঞ্চে নিজেকে, নিজের দেশকে তুলে ধরা। খেলাধুলা স্রেফ একটা বিনোদন; আর হেরে যাওয়া দলের খেলোয়াড়দের সহমর্মিতা জানানোও এক প্রকার ভদ্রতা। হারাটা খেলার অংশ; একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করতেই খেলা হয়। এজন্য হেরে যাওয়া দলটির লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৩:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: এজন্য হেরে যাওয়া দলটির লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই - আপনার সাথে একমত, শুধু আমিই না বরং বোধকরি দর্শক খেলোয়াড় সকলেই একমত হবেন। কিন্তু তার পরেও, টাই ব্রেকারে হেরে গেলে বিজিত দলের সবার মনোবল ভেঙে পড়ে।
লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।

১২| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৫:৪৩

রাকু হাসান বলেছেন: বাহ,দৃশ্যটি দেখেছি ........।মনে থাকে এগুলো .....।খেলার সৌন্দর্য তো এটাই ।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: খেলার সৌন্দর্য তো এটাই - আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় কর্পোরেট বিনিয়োগের পর খেলাধুলার জৌলুস যেমন বেড়েছে, তীব্র প্রতিযোগিতাও তেমন বেড়েছে যা অনেক সময় খেলার মূল স্পিরিটকে ব্যাহত ও বিঘ্নিত করে। একই সাথে খেলা ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির সম্ভাবনাও তেমন বেড়েছে। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে আমি এখানে দু'জন ব্যক্তির কথা বলেছি, একটি সদাচরণের কথা বলেছি, যা দেখে আমার ভাল লেগেছে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। প্রীত হ'লাম।

১৩| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৮

নাহিদ০৯ বলেছেন: খেলাধুলা মানুষের স্বাস্থের জন্য ভালো। আমাদের এই টিভি’র খেলায় ধুলা মিসিং। তাই রাতের ঘুম, দিনের খাওয়ার ব্যাঘাত ঘটছে অনেকের ই। আশা করি এই খেলা আপনার জীবনে কোন নিরানন্দ নিয়ে আসবে না।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: খেলা দেখে থাকি আনন্দের জন্যে, বেছে বেছে। আর খেলা দেখার সময়েও শুধু খেলাই দেখিনা, অন্য কিছুও দেখি, যা আশাকরি আমার এ পোস্ট পড়েও আপনি বুঝতে পেরেছেন। এ পোস্টে খেলা সম্বন্ধে ফোকাস করা হয় নাই, হয়েছে খেলোয়াড়ের মানবিক আচরণের উপরে।
আশা করি এই খেলা আপনার জীবনে কোন নিরানন্দ নিয়ে আসবে না - আমার জীবনে কোন কিছুই সহজে নিরানন্দ নিয়ে আসতে পারেনা। আমি খুব ছোট খাট সৌন্দর্য এবং নিতান্ত ক্ষুদ্র সাফল্য ও অর্জন থেকেও আনন্দ আহরণ করে নিতে পারি। তবে আপনার এ কথাটার অর্থ আমি হয়তো সম্যক উপলব্ধি নাও করে থাকতে পারি।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১৪| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:২৪

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: ইংরেজরা কাউকে অন্যায়ভাবে মেরেও তার লাশের উপর স্যালুট দেয় ।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:১৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: এখানে আমি দু'জন ব্যক্তির কথা বলেছি, একটি সদাচরণের কথা বলেছি, যা দেখে আমার ভাল লেগেছে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।

১৫| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:১৫

করুণাধারা বলেছেন: আপনি যে সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও ভব্যতার উদাহরণ দিলেন তা খেলার মাঠে, অথবা বলা যায় খেলোয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আমিও একবার এমন সহমর্মিতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। কি একটা ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানের সাঈদ আনোয়ার রান করছেন- বিপক্ষ দলের ভারতীয়রা বহু চেষ্টা করেও তাকে আউট করতে পারছে না, তিনি কেবলই রান তুলছেন!! যখন রান হয়েছে 194 তখনই তিনি আউট হয়ে গেলেন, এটা একটা রেকর্ড রান ছিল কিন্তু তার হয়তো আশা ছিল ডাবল সেঞ্চুরি করার তাই কিছুটা মন খারাপ করেই তিনি ফিরে আসছিলেন। তখন সকল ভারতীয় খেলোয়াড়রা তাকে বিদায় সম্বর্ধনা জানাবার মত এসে হ্যান্ডশেক করছিল এবং পিঠ চাপড়ে দিচ্ছিল- এই সহমর্মিতা দেখে খুব ভাল লেগেছিল সেদিন।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:০৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি যে সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও ভব্যতার উদাহরণ দিলেন তা খেলার মাঠে, অথবা বলা যায় খেলোয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় - আগে এসব আরো বেশী করে দেখা যেত। খেলাধুলার সাথে বাণিজ্য যুক্ত হওয়ার পর থেকে কিছু কিছু নোংরামিও আসা শুরু করে।
ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা - এটা একটা প্রবাদসম উক্তি। মাঠে তুমুল যুদ্ধের পর হোটেলে ফিরে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় একে অপরের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু হয়ে গেছে, এমন চিত্র বিরল ছিলনা।
লেখাটা পড়ে আলোচনায় অংশ নিলেন, এজন্য ধন্যবাদ। শুভকামনা রইলো।

১৬| ০৪ ঠা জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৪৯

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: বাহা!! খুব সুন্দর একটি বিষয় তুলে ধরেছেন স্যার। গতকাল গভীররাতের ঐ খেলাটি দেখা হয়নি। তবে জাপানের ড্রেসিংরুম পরিষ্কার ও তার আগে ফেয়ার প্লের তকমা - স্থানীয় সংবাদ পত্রের মাধ্যমে জেনিছি। জেনেছি এমবাপের এবার বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচ থেকে উপার্জিত ভারতীয় মুদ্রায় ২০ লক্ষ টাকা চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দান করার ঘটনাও। আর এসবের মধ্যেই চলে আসে অন্তরের শ্রদ্ধা মিশ্রিত কুর্ণিশ ।

আপনার রিভিউটি বলার ও দেখানোর ভঙ্গিটি খুব সুন্দর । এই মেসেজ আমাদের অন্তরের ভালো আমিকে জাগিয়ে তুলুক,আমরা প্রার্থনা করি।

অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোলাগা স্যার আপনাকে।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:২২

খায়রুল আহসান বলেছেন: আর এসবের মধ্যেই চলে আসে অন্তরের শ্রদ্ধা মিশ্রিত কুর্ণিশ - আপনি ঠিকই বলেছেন, অন্যের ভাল কিছু দেখলে নিজেও ভাল কিছু একটা করার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উদ্বুদ্ধ হয়ে যাই। ভাল কিছু করতে না পারলেও, তাদের ভালত্ব দেখে অন্তর বিগলিত হয়ে যায়।
আপনার রিভিউটি বলার ও দেখানোর ভঙ্গিটি খুব সুন্দর । এই মেসেজ আমাদের অন্তরের ভালো আমিকে জাগিয়ে তুলুক,আমরা প্রার্থনা করি - আমারও কামনা তাই। এ আশাতেই পোস্টতা লিখেছি।
মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। ভাল থাকুন---

১৭| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৩১

বিপরীত বাক বলেছেন: এসব কথা বাংলাদেশের ওই সাকিব বাস্টার্ড টাকে আর ক্রিকেট টিমের আর যেকটা বিশ্ব বেয়াদপ জাত আছে সেগুলো কে একটু শিখতে বলিয়েন


আর কলম্বিয়ার প্রতি এতটুকু দরদ দেখানো নয়। বেটারা খেলেছে বেয়াদপের মত । অযথা অবৈধ ট্যাকল, অসহিষ্ঞু আচরণ ইত্যাদি করেছে। হাফ আওয়ারের পরেই ওদের লাত্থি মেরে মাঠ থেকে বের করে দেয়া দরকার ছিল। পুরো টিম লাল কার্ড পাওয়ার যোগ্য। মাদক ব্যবসায়ীর জাত আর কতটুকুই বা হবে।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১১

খায়রুল আহসান বলেছেন: একটু ভাল খেললেই আমরা আমাদের খেলোয়াড়দেরকে মাথায় তুলে ওদের বারটা বাজিয়ে দেই।
লেখাটাতে আমি কোন দলের খেলার উপর আলোকপাত করতে চাইনি। এখানে আমি দু'জন ব্যক্তির কথা বলেছি, একটি সদাচরণের কথা বলেছি, যা দেখে আমার ভাল লেগেছে।

১৮| ০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৩৩

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদের জন্য খেলার কোন মাঠ নাই। আমরা খেলা দেখেই খুশী।

০৫ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর একটা অবিচার বৈ কিছু নয়। খেলাধুলাই তরুণ ও যুবাদেরকে সবচেয়ে নির্মল আনন্দ দিতে পারে, সেই সাথে তাদের স্বাস্থ্য গঠনেও ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে। আমরা সেটা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করছি। ধন্যবাদ, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করার জন্য।

১৯| ০৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:০৪

নীলপরি বলেছেন: খেলাটা দেখা হয়নি । তবে ঘটনাটা জেনে খুব ভালো লাগলো । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ স্যর ।

০৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ, নীলপরি। মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।

২০| ০৭ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৩০

সোহানী বলেছেন: সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও ভব্যতা!!!!!!!

এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন যা নিয়ে পাতার পর পাতা লিখা যায়। খেলার মাঠের উদাহন টেনেছেন সত্য কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন উদাহরন পাওয়া খুব কঠিন মনে হয়।

মাঝে মাঝে মনে হয় স্কুল থেকে দেশের সবাইকে সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও ভব্যতার শিক্ষা দিতে হবে। আপনার মনে পড়ে, আপনারা যখন স্কুলে পড়তেন তখন নীতিকথা বলে একটি বই পড়তাম আমরা। ইশ্বর চন্দ্রের সেই নীতিকথার বই ধরে ধরে প্রতিদিন হাতের লিখা লিখতে হতো। ওটা লিখতে লিখতে মাখস্থ করতাম। আর এখন!!!!!!!!!!! এমন কিছু কেউ বলে বা শেখায় বাচ্চাদের??

খুব ইচ্ছে আছে এখনকার বাচ্চাদের এডুকেশান নিয়ে কিছু লিখার তাহলে সবাই চোখে দেখবে পার্থক্য কতটুকু। এখানে গ্রেড ৩ পর্যন্ত তেমন কিছুই শেখায় না শুধু শেখায় সহমর্মিতা, শিষ্টাচার ও ভব্যতা!!!!!!! কারন ওরা বলে বাকী পড়াশুনা যেকোন সময় শিখতে পারবে কিন্তু এ ধরনের গুন শিশু বয়সেই মগজে ঢুকাতে হবে। এবং সত্যিই তাই, ওরা জানে কখন সরি বলতে হবে, কখন থ্যাংস বলতে হবে, কখন হাগি দিতে হবে, কখন নিজের আসন ছেড়ে দিতে হবে, লাইনে দাড়াঁতে হবে, অন্যকে আগে সুযোগ দিতে হবে, সর্বোপরি ভালোবাসতে হবে।..................

সরি অনেক লম্বা মন্তব্য করলাম। ভালো থাকেন।

০৭ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: পোস্টটা পড়ে দীর্ঘ, সুচিন্তিত মন্তব্য করেছেন, এজন্য ধন্যবাদ।
মানুষের জীবনে প্রথম বিদ্যালয় তার পরিবার। এখান থেকে সে যা শিখবে, তা আজীবন তার মনে গেঁথে থাকবে। আর তার পরের স্থানটি তার প্রাথমিক বিদ্যালয়, যেখানে সে বর্ণমালা ও সংখ্যার সাথে পরিচিত হয়, যা তার পরবর্তী পড়াশোনার সোপান গড়ে দেয়, সেই সাথে সে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার শিক্ষা পায় (পাবার কথা)। এই দুই জায়গায় যদি সঠিক শিক্ষাটি সে না পায়, তবে সে একজন ভাল মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে পারেনা।

২১| ১২ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:১৫

ধ্রুবক আলো বলেছেন: খেলা শুধুই একটা খেলা, কেউই এটা নিয়ে বাসায় ফিরতে পারবে না। মাঝখানে হারজিতের হিসাব নিকাশ। একদল হারবে আরেক দল জিতবে, খেলা চলার সময় সবারই কমবেশি মাথা একটু গরম থাকেই। এর জন্য অনেক সময় হাতাহাতি, কিঞ্চিৎ ঝগড়া, কথা কাটাকাটি হয়। এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু খেলা শেষ সব ভুলে একজন আরেক জনকে আলিঙ্গন করে, বুকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেয়, সত্যি...খেলায় এমন দৃশ্য গুলো খুবই অপূর্ব।

১৩ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ে আপনার ভাবনাগুলো এখানে শেয়ার করেছেন, এজন্য অনেক খুশী হ'লাম, ধ্রুবক আলো
"খেলা শেষ সব ভুলে একজন আরেক জনকে আলিঙ্গন করে, বুকে জড়িয়ে ধরে সান্তনা দেয়, সত্যি...খেলায় এমন দৃশ্য গুলো খুবই অপূর্ব" - এরকম একটা দৃশ্য দেখেই এ পোস্টটা লিখেছি।
মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.