নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

পৌষের দিনলিপি

১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৮

আজ বাংলা ১৪২৫ সালের পৌষের তিন তারিখ চলে গেল। পহেলা পৌষে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে “শীতকাল”। প্রকৃত অভিজ্ঞতায়ও পহেলা পৌষেই অর্থাৎ ১৫ই ডিসেম্বরের সকাল থেকেই এ বছরে প্রথমবারের মত একটু শীত শীত আমেজ অনুভব করছিলাম। এর আগে শীত এসেছে বা আসছে বলে মনেই হয়নি। পরের দু’দিন সামান্য একটু একটু করে শীতের মাত্রাটা বেড়েছে। গতকাল ছিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় দিবসের ৪৭তম বার্ষিকী। যে এলাকায় থাকি, সেখানের নির্বাচিত পরিষদ কর্তৃক বিজয় দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছিল এবং এতদুপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফিরিস্তি আগে ভাগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের আগের রাতে একটা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে স্মরণিকাও দেয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও দোয়া অনুষ্ঠানে এবং বিজয় rally তে অংশ গ্রহণ করি। rally'র এক পর্যায়ে ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো। মনে মনে ভাবলাম, এই বুঝি rally টা পন্ড হয়ে যায়! তবে যাক, শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিটা আর আসেনি, ফোঁটায় ফোঁটায় কিছুক্ষণ ঝরে তা একসময় থেমে যায়।

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই দেখি আকাশটা মেঘলা, চারিদিক কুয়াশাচ্ছন্ন, শীতের আমেজও একটু বেশী। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দেখলাম, বড় বড় গাছের পাতাগুলো একটু একটু হেলছে, দুলছে- অর্থাৎ একটু একটু বাতাস বইছে। একটু বাইরে যাওয়ার দরকার ছিল, কিন্তু আবহাওয়ার প্রভাবে কিছুটা আলস্য বোধ করায় তা স্থগিত করলাম। ইচ্ছে ছিল, এমন চমৎকার একটা আবহাওয়ায় ঘরে বসে বসেই কিছু একটা লিখবো, নয়তো ভাল একটা বই বের করে পড়া শুরু করবো। কিন্তু দুটোর কোনটাই করতে পারলাম না। কিসের যেন একটা চঞ্চলতা, একটা অস্থিরতা অনুভব করতে থাকলাম। এরকম হলে আমি সাধারণতঃ কবিতা পাঠের আশ্রয় নেই। তাই করলাম। নিজেরই লেখা কিছু পুরনো কবিতা পড়লাম। একটা ভাল লাগা কবিতা কয়েকবার আবৃত্তি করলাম। ভাল লাগলো। দুপুরের দিকে হাল্কা বৃষ্টি ঝরা শুরু হলো, ফলে শীতের মাত্রাটাও বেড়ে গেল। এমন দিনে আমার সবসময় খিচুরি খেতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু আজ গিন্নীর দু’জন বাল্যবান্ধবী এসে ওনাকে নিয়ে তিনজন মিলে একটি পূর্ব নির্ধারিত প্রোগ্রামে বেড়াতে যান। ফলে বাসায় খিচুরির সে বন্দোবস্ত আর হয়নি, তবে যাওয়ার আগে উনি পাবদা মাছ রান্না করে গিয়েছিলেন। খেতে বসে দেখলাম, সেটা খুবই সুস্বাদু হয়েছে। সুতরাং খিচুরির আফসোস আর থাকেনি।

ঋতু হিসেবে শীতের আনুষ্ঠানিক আগমনের মাত্র দুই দিন আগে আমার জন্ম হয়েছিল, তাই হয়তো শীতকালটা সেই ছোটবেলা থেকেই আমার প্রিয় ঋতু। ছোটবেলায় তা ভাল লাগার একটা বড় কারণ ছিল স্কুল ছুটি এবং লম্বা বার্ষিক ছুটিতে নানাবাড়ী দাদাবাড়ী ভ্রমণ। তখনকার দিনে এখনকার মত বার্ষিক পরীক্ষার পর কোচিং ইত্যাদির কোন প্রয়োজন ছিল না, উপরের ক্লাসের পড়াশুনা ছুটির মধ্যে কিছুটা এগিয়ে রাখারও তেমন তাগিদ ছিল না। তাই বার্ষিক পরীক্ষার পর বহুদিন ধরে কাজিনদের সাথে হৈ হুল্লোড় করে নির্ভেজাল আনন্দে নিজেকে রিফ্রেশ করার সুযোগ ছিল। শীত ভাল লাগার আরেকটা কারণ ছিল শীতের পোষাক। বিকেলে সেজে গুজে পাড়ার বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট কিংবা ব্যাডমিন্টন খেলতে ভাল লাগতো। আম্মার নিজ হাতে বোনা শীতের সোয়েটার কিংবা মাফলার পরাতেও একটা ভাল লাগার অনুভূতি ছিল। এখন অবশ্য শীতের সাথে সাথে আর বাকী সব ঋতুই তার নিজস্ব সৌন্দর্য নিয়ে আমার চোখে ধরা দেয়। এমনকি হেমন্তের মত একটা হ্রস্ব ঋতুও আমাকে তার আগমনী জানান না দিয়ে বিদেয় নেয় না।

আগাম সতর্কবাণী ছিল, এবারে শীতের প্রকোপ আগের অন্যান্য বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশী হবে। মনে হচ্ছে, তাই হবে। উত্তরবঙ্গের শীতার্ত মানুষগুলোর কথা ভেবে কষ্ট হয়। আগে যখন বয়স কম ছিল, নিজেই উদ্যোগ নিতাম শীতার্ত অথবা বানভাসি মানুষদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর। এখন আর তা সম্ভব হয় না। তবে পৌষের প্রথম দিনেই একটা পুরনো সংগঠন থেকে আবেদন পেলাম, শীতার্তদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য। বছর পাঁচেক আগে একবার তাদের কার্যক্রমের সাথে জড়িত হয়েছিলাম। খুশী হ’লাম জেনে যে ওরা আমাকে ভুলে যায়নি। আজ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম, এবারেও ওদের কাজে যতটা পারি, সম্পৃক্ত হবো।


ঢাকা
০৩ পৌষ ১৪২৫
১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

মন্তব্য ৫৫ টি রেটিং +১৫/-০

মন্তব্য (৫৫) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫২

ডার্ক ম্যান বলেছেন: স্যার , আপনার লিখা অনেক মিস করতাম। একটা সময় নিয়মিত পাঠক ছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে অন্য কাজে যুক্ত হওয়ায় ব্লগ থেকে অনেকদিন বিচ্ছিন্ন ছিলাম ।
আপনার মেইল আইডি কি পাওয়া যাবে

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:২৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার লেখা আপনার ভাল লাগতো জেনে অনুপ্রাণিত বোধ করছি। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম। প্রথম মন্তব্যের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ।
আমি মেইল খুব একটা নিয়মিত চেক করিনা, মেইল তেমন লিখিও না। লেখালেখি এবং পড়াশোনা নিয়েই বেশীরভাগ সময় কাটাই।

২| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫৭

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আমার মনে আছে আগে শীতকালে গ্রামে গেলে ছোট মামা সকালে লেপ রোদে শুকাতে দিত। যাতে রাতের বেলা তা থেকে ওম পাওয়া যায়। আর কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ধানের বিনিময়ে মোয়া(আঞ্চলিক ভাষায় মোল্লা) খাওয়া। আহ! সেই স্মৃতিগুলো আর ফিরে পাব না...

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:১১

খায়রুল আহসান বলেছেন: ছোট মামা সকালে লেপ রোদে শুকাতে দিত। যাতে রাতের বেলা তা থেকে ওম পাওয়া যায় - হ্যাঁ, আপনার ছোট মামা ঠিক কাজটিই করতেন। তুলো তাপের সুপরিবাহক নয় বিধায় রৌদ্রের তাপ ভাঁজ করা লেপের তুলোয় সঞ্চিত থাকে। রাতে সে লেপ খুলে গায়ে দিলে বেশী ওম পাওয়া যায়।
লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পড়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করায় প্রীত হয়েছি।

৩| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৭

রাজীব নুর বলেছেন: সহজ সরল ভাষায় সুন্দর লিনলিপি এঁকেছেন।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৩১

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনার উদার প্রশংসার জন্য। প্রীত হ'লাম।

৪| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩২

মুক্তা নীল বলেছেন: ধন্যবাদ, সুন্দর একটা লিখা পেলাম। প্রতিটি ঋতুকে আপনি বরণ করেন ঋতুর প্রকৃত রূপের বিবেচনা করে। একেকটার রঙ রুপ কি সুন্দর করেই না তুলে ধরেন। ঋতুর কাছে আমরা কত ই না ঋণী। প্রকৃতির সাথে প্রাকৃতির মানুষ আপনি । শ্রদ্ধা ও সালাম জানবেন।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: লেখাটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ এবং মনোমুগ্ধকর মন্তব্যের জন্য অশেষ কৃতজ্ঞতা!
প্লাসে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম। শুভেচ্ছা জানবেন।

৫| ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: রেস্পেক্টিভ স্যার,

আনুষ্ঠানিকভাবে শীতকালের সূচনা দুদিন আগে আপনার জন্ম হওয়ায় , শীতের প্রতি সেই শৈশব থেকে একটা স্পেশাল আকর্ষণ আপনার মধ্যে রয়ে গেছে । তৈরি হয়েছে শীতকে বরণ করার সহনশীল শক্তিও। 47 তম বিজয় দিবসে শ্রদ্ধা। আপনিও যথাযোগ্য মর্যাদায় অনুষ্ঠানটি উদযাপন করেছেন। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টি এসে যে অনুষ্ঠানটিকে পন্ড করে দেয় নি ,সেটাই অনেক।

বর্ষণমুখর দিনে খিচুড়ির স্বাদই আলাদা। তবে হালকা শীতে দুপুরের মিষ্টি রোদে পাবদার ঝাল যে এহেন খিচুড়ির স্বাদকে ভুলিয়ে জিহ্বাকে অন্য মাত্রা দিতে পেরেছে , শুনে খুশি হলাম। ছোট থেকে জানতাম ঘ্রানং আর্ধায়ানং ভোজনং । আজ থেকে বরং ঘ্রাণের স্থলে শোনানং পড়বো। ।

বার্ষিক পরীক্ষার পর শীতকালীন ছুটিতে আমরাও খুব উপভোগ করেছি আপনার মতই।তবে আমাদের এখানে এখনও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বাদে অন্য ক্লাসগুলোতে কোচিং এর চাপটি এখনো নেই। তবে সমস্যা হলো বাংলা মাধ্যম স্কুলে ডিসেম্বরের শিক্ষাবর্ষ শেষ হলেও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এপ্রিল মাসে হাওয়াই গরমের সময় পড়ুয়াদের উপভোগের তেমন সুযোগ থাকেনা।

বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভকামনা স্যারআপনাকে।




১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার এ লেখাটা আপনি খুবই মনযোগের সাথে পড়েছেন দেখে অত্যন্ত প্রীত হ'লাম। পাঠান্তে আপনাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও দুটো কথা বলেছেন, এটাও খুব ভাল লাগলো। আপনার বিনয় এবং সৌজন্যবোধ সব সময়ই আমাকে অভিভূত করে।
প্লাসে অনুপ্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা----

৬| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:০৭

অগ্নি সারথি বলেছেন: খায়রুল ভাই! ব্লগ থেকে শীতার্তদের জন্য কিছু একটা করা যায় কিনা এমন একটা এজেন্ডা থাকছে আমাদের এবারের গেট টুগেদারটাতে। আপনি তো আসছেন! সেখানে বিশদ আলোচনা করা যাবে। আর হ্যাঁ খিচুরী কিংবা পাবদা মাছ আমরা খাওয়াতে না পারলেও ব্লগারদের অনেকে মুফতে আপনার কবিতা শুনতে চেয়েছে। আশা করি আপনি কাউকে নিরাশ করবেন না।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার এ মন্তব্যটা খুবই প্রাণোদ্দীপক, তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে একটা অনিবার্য আবশ্যকতার কারণে আমি আপনাদের মাঝে এবারের জন্য উপস্থিত থাকতে পারবনা। তবে আমার আন্তরিক দোয়া এবং শুভকামনা রইলো আপনাদের সাফল্যের জন্য। ইন শা আল্লাহ, আপনাদের এ মহতি উদ্যোগ সাফল্যমন্ডিত হবে এবং এর ফলে ব্লগারদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃ্দ্ধি পাবে। আগামী কোন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রবল ইচ্ছা ব্যক্ত করছি।

৭| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:০৪

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: দিনলিপিটা ভালো লাগলো।
এখন থেকে সময় যত যাবে শিতের মাত্রাও তত বাড়বে।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:১৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: দিনলিপিটা আপনার ভালো লেগেছে জেনে প্রীত হ'লাম।
এখন থেকে সময় যত যাবে শিতের মাত্রাও তত বাড়বে - তাই নাকি? তা'হলে তো সামনে কঠিন দিন আসছে!

৮| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:২৯

করুণাধারা বলেছেন: সাবলীল লেখা; পৌষের দিনলিপি পড়তে ভালো লাগলো। যদিও শীত আমার প্রিয় ঋতু নয়। ছোটবেলা থেকে শীতকালে ঠান্ডা এবং ধূলাবালি- দুটোতেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। :(

দিনলিপির শেষে যা বলেছেন, শীতার্তদের সাহায্য করা, এটা খুব প্রয়োজন। আমি দেখেছি পলাশীর মোড়ের ফুটপাতে অনেক পরিবার পলিথিনের আচ্ছাদন দিয়ে ঘর বানিয়ে থাকে, শীতে এদের খুব কষ্ট........

শীতার্তদের সাহায্য করা আমাদের কর্তব্য, যে যেভাবে পারি; দরকারি কথাটা মনে করিয়ে দেওয়ায় ধন্যবাদ।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার ঠিক আগের মন্তব্যটি থেকেই জানতে পারলাম, এখন থেকে সময় যত যাবে শিতের মাত্রাও তত বাড়বে। এটা বেশ চিন্তার কথা, কারণ শীতার্তদের উপর এর প্রকোপ মরার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আসবে।
মন্তব্যে এবং প্লাসে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা....

৯| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৪৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন:
পৌষ আসে হিম হিম ঠান্ডা লয়ে
পৌষ আসে কনকনে হিমেল হা্ওয়া লয়ে
পৌষ আসে পিঠা পার্বনের খুশি লয়ে
পৌষ আসে পথশিশুর কষ্ট লয়ে - - -

পৌষ কাহনে ভাললাগা। +++


১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১০

খায়রুল আহসান বলেছেন: পৌষ কাহন পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম।

১০| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:১০

হাবিব স্যার বলেছেন:




গতকালকের বৃষ্টিতে চড়ে পৌষ ভালোই ঝেঁকে বসছে দেখি।
আপনিও পৌষ বন্দনা করলেন......

আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক.......

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক - আপনার উপরেও শান্তি এবং আল্লাহ'র রহমত বর্ষিত হোক!
হ্যাঁ, পৌষের শীতটা যেন দিনে দিনে জেঁকে বসছে।
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৫:৫৫

স্বপ্নীল ফিরোজ বলেছেন:


সুন্দর পোস্ট। সুন্দরতর।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম, ধন্যবাদ।

১২| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৫

গিয়াস উদ্দিন লিটন বলেছেন: ১৪ তারিখ ঢাকায় ছিলাম, তুলনা মূলক ভাবে সেখানে কম শিত পড়ছে। শিতে শহরের ছিন্নমূল মানুষের কষ্ট খুব বেশি।
আপনার শিতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর অভিপ্রায় ভাল লাগলো।

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৫৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: ঢাকার চেয়ে দূরের শহরগুলোতে শীত একটু বেশীই পড়ে। ঢাকায় জনসংখ্যা আর যানসংখ্যার একটা আলাদা গরম রয়েছে। :)
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা---

১৩| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৮

রূপক বিধৌত সাধু বলেছেন: গাজীপুরের দিকে আছি। শীত বাইরে বেরোবার জো নেই। তার ওপর হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি।
শৈশবের শীত উদযাপন খুব মিস করি।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:৩১

খায়রুল আহসান বলেছেন: শৈশবের শীত উদযাপন খুব মিস করি - আমিও! :)
শীতে খেটে খাওয়া মানুষদের খুব অসুবিধে হচ্ছে। বিপরীতে বিত্তবানদের পিঠে আর রস খাওয়ার ধুম!
মন্তব্যে এবং প্লাসে অনুপ্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!

১৪| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৩৯

আহমেদ জী এস বলেছেন: খায়রুল আহসান,



বরাবরের মতোই কিছু সুন্দর অনুভবের কড়চা।
বৃষ্টির ঝিরঝির নিয়ে বিজয়ের মৌতাতে মেতে ওঠা, গরমা গরম খিচুড়ীর স্বাদ নিতে না পারা, অলস সময় আর মানবিক বিষয়-আসয় নিয়ে কথারা যেন র‍্যালী করে গেলো।
আর পড়তে পড়তে মনে পড়লো ঋতুর সাতকাহন নিয়ে আমিও তো কিছু লিখেছিলুম এখানে। খুঁজে বের করে আবার পড়লুম, আপনার পৌষের স্মৃতি কাতরতায় নষ্টালজিক হয়ে।
আমন্ত্রন রইলো সেখানে -----পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেই দিন, ফিরে আর আসবে কি কখনও ....

শুভেচ্ছান্তে।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১২:৫১

খায়রুল আহসান বলেছেন: বরাবরের মতোই কিছু সুন্দর অনুভবের কড়চা - অনেক ধন্যবাদ, এই মনোগ্রাহী প্রশংসার জন্য।
কথারা যেন র‍্যালী করে গেলো - এটাও একটা চমৎকার কমপ্লিমেন্ট, আবারো ধন্যবাদ! :)
আপনার লেখাটা এইমাত্র পড়ে এলাম। ছবি আর বর্ণনা এক কথায় অসাধারণ! + +

১৫| ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:২৪

নীল-দর্পণ বলেছেন: শীতকাল বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে খালি কলস সরষে ফুলের সাথে বারি দিতে দিতে ক্ষেতের আল ধরে হেঁটে দূরে খেজুর রস আনতে যাওয়া, সর্ষে ফুলের পাঁপড়িতে হলদে হয়ে যাওয়া কলসির পেট! ভোরের শিশির আর ক্ষেতের গুড়ো মাটি একাকার হয়ে স্যান্ডেল ভারী হলে মাঝ পথে বসে পাটখড়ি বা শক্ত ডাল দিয়ে মাটি খুঁচিয়ে ফেলে আবার হাঁটা। বাড়ি ফিরে পাট খড়ি সাইজ মতন কেটে, ধুয়ে তা দিয়ে খেজুর রস খেয়ে ঠান্ডায় হি হি করা...আরো কত্ত কী!!

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৯

খায়রুল আহসান বলেছেন: বাহ, আমার এ লেখাটি পড়ে আপনার চোখের সামনে ভেসে ওঠা দৃশ্যগুলো তো খুব সুন্দর! বিশেষ করে মাঝ পথে বসে পাটখড়ি বা শক্ত ডাল দিয়ে মাটি খুঁচিয়ে ফেলে আবার হাঁটা'র দৃশ্যটা। :)
মন্তব্যে এবং প্লাসে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম। ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা!!!!

১৬| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১:১১

সোহানী বলেছেন: ঋতুর যা আনন্দ তা দেশে। ইউরোপ আম্রিকার ঋতু আমার ঘোরতর অপছন্দ। বর্ষাকালে তুমুল বৃষ্টিতে রিক্সায় হুড ফেলে ঘুরার আনন্দ কি সুইজারল্যান্ড বা বৃটেনের ঝিরঝির ঠান্ডা বৃষ্টির মাঝে পাওয়া যায়? শীতকালের আগুনের চারপাশে বসে পিঠা খাওয়ার যে মজা তা কি কানাডার বরফের মাঝে বারবিকিউতে কি আছে??? কিংবা শরতের হিমেল হাওয়ায় নৈাকা নিয়ে বিলে ঘুরতে যে অনাবিল আনন্দ তা কি আমেরিকার স্প্রিং এ পাবো????????????

ধ্যাৎ কি লিখতে যেয়ে কি শুরু করলাম।....... ভালো লাগলো স্মৃতি চারণ। ও কিছু প্রয়োজনীয় কথা। যেকোন উদ্যোগে সাথে আছি সবসময়, শুধু জানাবেন।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি ঠিকই বলেছেন, ঋতুর যা আনন্দ তা (বাংলা)দেশে। প্রকৃতি তার রূপবৈচিত্রের ডালি এমন উজাড় করে বোধ হয় আর কোথাও ঢেলে দেয় না।
পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ। মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হয়েছি।
শুভকামনা....

১৭| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৩৬

বলেছেন: সবাই শিতার্তদের সাহায্য এগিয়ে আসুক।



শুভ কামনা স্যার।

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: সবাই শিতার্তদের সাহায্য এগিয়ে আসুক - অবশ্যই। আমি দেখেছি, আমাদের দেশে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তদের মাঝেই মানবিকতা ও সংবেদনশীলতার অনুভূতি বেশী। দেশের বিপদে আপদে এরাই সংগঠিত হয়ে ত্রাণকাজে/উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসে। রানা প্লাজা, বন্যা, অগ্নিকান্ড, সড়ক দুর্ঘটনা ইত্যাদি বিপদের সময় এটা বেশ স্পষ্ট হয়ে চোখে ধরা দেয়।

১৮| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:২১

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: সারল্যমাখা দিনলিপি.....
একটি দিনের সুন্দর প্রকাশ......

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: সারল্যমাখা দিনলিপি টা পড়ার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। :)
মন্তব্যে এবং প্লাসে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভকামনা....

১৯| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৪০

মিথী_মারজান বলেছেন: বাহ্!
সুন্দর দিনলিপি।
আপনার স্ব-রচিত কোন কবিতাটি আপনার কাছে এত প্রিয় (যে কবিতাটি বারবার পড়লেন এবং আবৃত্তি করলেন) জানতে ইচ্ছা করছে এবং সেটা একবার পড়তে ইচ্ছা করছে।
কবিতাটি কি আপনার ব্লগে আছে? থাকলে নামটা কাইন্ডলি বলবেন কি? :)
আর শীতার্তদের সাহায্য করার ব্যাপারটা অবশ্যই প্রশংসনীয়।
দেরীতে হলেও জন্মদিনের শুভ কামনা রইল আপনার জন্য।
মনোরম, স্নিগ্ধ আর আনন্দময় হোক আপনার প্রতিটি সময়।:)

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৪৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: কবিতাটি কি আপনার ব্লগে আছে? - না, সেটা এ ব্লগে নেই। তবে অন্যত্র আছে। আমি একটা ইংরেজী কবিতার ওয়েবসাইটেও কবিতা প্রকাশ করে থাকি। আগে বেশ নিয়মিত লিখতাম, এখন একটু ভাটা পড়েছে। সেই কবিতার লিঙ্কটা এখানেঃ
And Softly Silence Speaks.....
মন্তব্য, শুভকামনা, প্লাস - এসব কিছুর জন্যই অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ভাল থাকুন----

২০| ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০৪

ইসিয়াক বলেছেন: সুন্দর লেখা খুব ভালো লেগেছে।ধন্যবাদ

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার কোন লেখায় আপনি এই বুঝি প্রথম এলেন - সুস্বাগতম!
লেখা খুব ভালো লেগেছে জেনে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ’লাম।
শুভেচ্ছা জানবেন।

২১| ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৪

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: আমার এই পোস্টটায় আপনার মতামতের অপেক্ষায়ঃ ❤️LOVE❤️

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:১১

খায়রুল আহসান বলেছেন: পড়ে এলাম,মন্তব্যও রেখে এলাম।

২২| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:১৩

নীলপরি বলেছেন: পড়েছি আগেই । নেট প্রবলেমের জন্য মন্তব্য করা হয়নি ।

খুবই মন ছোঁয়া লেখা । যেন ভাসিয়ে নিয়ে যায় । ++

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:৪৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: নেট প্রবলেমের কারণে প্রথমপাঠে মন্তব্য করতে না পেরে দ্বিতীয়বারে আবার এসে মন্তব্য করে গেলেন, এজন্য খুবই প্রীত হ'লাম।
অনেক, অনেক ধন্যবাদ- প্রশংসায় এবং প্লাসে অনেক অনুপ্রাণিত হ'লাম।
শুভেচ্ছা রইলো...

২৩| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:১০

শহীদুল সোহাগ বলেছেন: অসাধারণ লিখেছেন

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:০৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমার কোন লেখায় আপনি এই বুঝি প্রথম এলেন - সুস্বাগতম!
মন্তব্যে প্রীত ও অনুপ্রাণিত হ’লাম।

২৪| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৪০

প্রামানিক বলেছেন: আপনার লেখায় পৌষ বর্ননা চমৎকার ভাবে ফুটে উঠেছে, খুবই ভালো লাগল। ধন্যবাদ খায়রুল ভাই।

২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ, পৌষ মাসের লেখাটা পৌষ মাসেই পড়ার জন্য। আর সেটা আপনার খুবই ভালো লেগেছে জেনে আমারও অনেক ভাল লাগলো এবং অনুপ্রাণিত হ'লাম।
ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা---

২৫| ২১ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:৩৭

অপু দ্যা গ্রেট বলেছেন:




পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে,
আরে ছুটে আয় আয় আয়

ডালা যে আজ ভরেছে তার পাকা
ফসলে

তারপর মনে নেই

তবে পৌষ মানেই আমার কাছে গ্রাম, কুয়াশা, শিশির ভেজা ঘাস, খেজুরের রস, পায়েস , পিঠা

আহা কি দিন ছিল ।

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৮:৪৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: পৌষের দিনলিপি পড়ে পৌষ নিয়ে আপনার ভাবনাগুলো শেয়ার করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ। মন্তব্যে প্রীত হ'লাম।

২৬| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২৭

কালীদাস বলেছেন: আপনার মত শীত আমারও প্রিয় সিজন। আমি নিজেকে জীবন্ত অনুভব করি, আরও প্রোডাক্টিভ হয়ে উঠি শীতে। তবে এবছর মনে হচ্ছে আমার রেজিস্ট্যান্স আগের চেয়ে খানিকটা কমেছে।

বাইদ্যাওয়ে, আপনাদের সময়ও কি ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় ছিল? আমার বাবার কাছে শুনতাম ফুটবলের কথা সবসময়।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সকাল ৯:৩১

খায়রুল আহসান বলেছেন: আমি নিজেকে জীবন্ত অনুভব করি - আপনার বয়সে আমিও তাই করতাম, কিন্তু এখন শীত ভালবাসলেও খুব বেশী শীত আড়ষ্ট করে দেয়।
আপনাদের সময়ও কি ক্রিকেট খুব জনপ্রিয় ছিল? আমার বাবার কাছে শুনতাম ফুটবলের কথা সবসময় - আমাদের সময়, অর্থাৎ আমার কৈশোরের সময় ফুটবল ও ক্রিকেট, দুটোই জনপ্রিয় ছিল। তবে ফুটবল সারা দেশে জনপ্রিয় ছিল, ক্রিকেট শুধু শহরে। তখন আমরা এখনকার শেরে বাংলা নগরে থাকতাম, যেটার নাম ছিল আইয়ুব নগর। আমাদের বাসার ঠিক সামনের বিল্ডিংটাতে থাকতেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার নিয়াজ আহমেদের পরিবার। নিয়াজ আহমেদ পেস বোলার ছিলেন, ঈস্ট পাকিস্তান ক্রিকেট টীমে খেলতেন। দুই একবার বোধহয় মূল পাকিস্তান টীমেও দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছিলেন। ওদের বাসার পাশে একটূ খালি জায়গা ছিল, সেখানেই আমরা ক্রিকেট খেলতাম।
স্বাধীনতার পর আরো বছর দশেক পর্যন্ত ফুটবলের দাপট ছিল। ঢাকা লীগ এর খেলাগুলো খুবই জনপ্রিয় ছিল। তখন সাধারণ মানুষের আটপৌরে জীবনে বিনোদন বলতে ছিল শুধু ফুটবলই। দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল চালু হবার পর সবাই টিভিতে যখনই যেখানেই ক্রিকেট খেলা হতো, তা দেখতে শুরু করল। এর প্রভাব দেশের ক্রিকেটেও পড়তে লাগলো, ক্রিকেট জনপ্রিয় হতে শুরু করলো। আর বাংলাদেশ যখন থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গণে খেলা শুরু করলো, তখন থেকে ক্রিকেট-ব্যারোমিটারে পারদ শুধুই ঊর্ধ্বমুখী।
স্বাধীনতার আগে ঢাকার মাঠে জৌলুষপূর্ণ আগা খান গোল্ড কাপ টুর্ণামেন্ট হতো। সেখানে দেশ বিদেশের ফুটবল ক্লাবগুলো খেলতে আসতো। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, চীন, আফগানিস্তান, তুরস্ক প্রভৃতি দেশ থেকে টীম আসতো। প্রেসিডেন্ট'স কাপ টুর্ণামেন্ট হতো। সেটাও অনেক জাঁকজমকের সাথে হতো। এসব খেলা দেখার জন্য আব্বা মাঝে মাঝেই টিকেট যোগাড় করে এনে আমাকে স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতেন। আব্বা অবশ্য রেডিও কানে লাগিয়ে ক্রিকেট কমেন্টারীও শুনতেন। তবে ক্রিকেটের ব্যাপারে ওনার চেয়ে ওনার এক বন্ধু/কলীগ, যাকে আমরা সিদ্দিক চাচা বলে ডাকতাম, খুব বেশী অনুরক্ত ও আসক্ত ছিলেন। রেডিওতে কোথাও কোন ক্রিকেট খেলার ধারা বিবরণী শোনা গেলে উনি নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দিতেন। আল্লাহ রাব্বুল 'আ-লামীন উভয়কে জান্নাত নসীব করুন!

২৭| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:১৯

কালীদাস বলেছেন: ডিটেইলড রিপ্লাইয়ের জন্য থ্যাংকস। আরেকটু বাড়িয়ে নতুন পোস্ট হিসাবে দিতে পারেন। এই শতাব্দিতে যারা শৈশব পার করেছে, করছে, ক্রিকেট ছাড়া অন্য স্পোর্টসও যে ছিল হয়ত জানেই না।

আগা খান গোল্ডকাপ নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত বেশ জমজমাট ছিল বলেই মনে পড়ে, প্রেসিডেন্ট কাপও দুয়েকটা সিজন দেখেছি মনে হয় সেসময়। ঢাকার প্রিমিয়ার ফুটবল লীগের আবাহনী-মোহামেডানের খেলায় উত্তেজনা এখনকার ওয়াল্ড কাপ ফুটবলের চেয়ে বেশি দেখেছি নব্বইয়ের দশকে। ক্রিকেটের উত্থানের পাশাপাশি, ফুটবলের ব্যাপারে অথরিটির হাস্যকর ভুল ডিসিশনগুলোই একে প্রাগৈতিহাসিক খেলায় পরিণত করছে বাংলাদেশে। সবচেয়ে হাস্যকর লাগে যেটা: ক্রিকেট যখন মাত্র সাফল্যের মুখ দেখা শুরু করেছে, তৎকালীন পন্ডিতেরা ব্যাপক লাফালাফি শুরু করেছিল ক্রিকেটের আগ্রাসনে ফুটবল হারিয়ে যাবে তাই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামকে চিরতরে ফুটবলকে দেয়া হোক। আগে সিজন ভাগ করে দুইটা খেলাই চলত। ফলশ্রুতিতে ক্রিকেটকের জন্য মিরপুরকে দেয়া হয় এবং বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে চিরতরে বহিঃষ্কার করা হয় ক্রিকেটকে। বিশ বছর পরে, ক্রিকেট এখন কই আর ফুটবলে কই? এভাবেই আমরা ডিসিশন নেই =p~

অনেক কথা বলে ফেললাম। এনিওয়ে, ভাল থাকবেন :)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৪

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনিও এরই মধ্যে আমার বেশ কয়েকটি পোস্ট পড়ে গেলেন বলে আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ।
ব্লগে ফিরেই যেভাবে ব্লগারদের পোস্টগুলো পড়ে যাচ্ছেন, অবলীলায় একের পর এক চমৎকার সব মন্তব্য করে যাচ্ছেন, এটা আপনার অসাধারণ মেধা, ধৈর্য আর grasping ability এর পরিচয় দেয়। আমার তো মনে হয়, আপনি এই গত দেড় দিনে যতগুলো পোস্ট পড়েছেন, মন্তব্য করেছেন এবং আপনার পোস্টে দেয়া মন্তব্যের উত্তর দিয়েছেন, অনেক ব্লগার গোটা এক বছরেও এতটা করেনি। ব্লগের এবং ব্লগারদের প্রতি আপনার এ অনুরাগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি।

আমাদের সময় ঢাকা ফুটবল লীগের সবচেয়ে প্রাণবন্ত দর্শক ছিলেন পুরনো ঢাকার অধিবাসীরা। খেলার পরে বাড়ী ফিরতে ফিরতে ঢাকাইয়া কুট্টিদের খেলা নিয়ে হাসি ঠাট্টার সেই নির্মল বিনোদনের কথা আজও মনে পড়ে। তখন সিমেন্টের গ্যালারীতে বসে খেলা দেখে যে মজা পেয়েছি এবং খেলার সাথে সাথে দর্শক/সমর্থকদের উল্লাস উত্তেজনা যতটা উপভোগ করেছি, পরবর্তীকালে ভিআইপি গ্যালারীতে সোফায় বসে খেলা দেখেও সে মজা পাইনি এবং ততটা উপভোগ করিনি।

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০০

খায়রুল আহসান বলেছেন: আরেকটু বাড়িয়ে নতুন পোস্ট হিসাবে দিতে পারেন - হ্যাঁ, যখন লেখার খড়ায় ভুগবো, তখন সেটাই করবো ভাবছি।
ধন্যবাদ, এ বুদ্ধিটা দেয়ার জন্য। :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.