নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

একজন সুখী মানুষ, স্রষ্টার অপার ক্ষমা ও করুণাধন্য, তাই স্রষ্টার প্রতি শ্রদ্ধাবনত।

খায়রুল আহসান

অবসরে আছি। কিছু কিছু লেখালেখির মাধ্যমে অবসর জীবনটাকে উপভোগ করার চেষ্টা করছি। কিছু সমাজকল্যানমূলক কর্মকান্ডেও জড়িত আছি। মাঝে মাঝে এদিক সেদিকে ভ্রমণেও বের হই। জীবনে কারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করিনি, এখন তো করার প্রশ্নই আসে না। জীবন যা দিয়েছে, তার জন্য স্রষ্টার কাছে ভক্তিভরে কৃতজ্ঞতা জানাই। যা কিছু চেয়েও পাইনি, এখন বুঝি, তা পাবার কথা ছিলনা। তাই না পাওয়ার কোন বেদনা নেই।

খায়রুল আহসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ এর বিস্তার পরিস্থিতিঃ এক পর্যটকের দৃষ্টিতে......

১৬ ই মার্চ, ২০২০ সকাল ১১:৩৮

অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ এর আক্রমণ এখনো সহনীয় পর্যায়ের শেষ মাত্রায় রয়েছে। ১৫ মার্চ ২০২০ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৯, তন্মধ্যে ২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ী ফিরেছেন এবং ৩ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে, ১১১ জন। তার পরেই রয়েছে আমাদের (অর্থাৎ আমি যে প্রদেশে বর্তমানে অবস্থান করছি) ভিক্টোরিয়া প্রদেশ, ৪৯ জন এবং তার পরে কুইন্সল্যান্ড, ৪৭ জন। সমগ্র বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫৪৫০০, মৃতের সংখ্যা ৫৭০০।

ইতোমধ্যে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন, তার সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন এবং দেশবাসীর প্রতি সামাজিক সমাবেশ সাময়িকভাবে বর্জন করার আবেদন জানিয়েছেন। কিছু জরুরী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উপরেও তিনি আলোকপাত করেছেন। কয়েকটি দেশের সাথে সাধারণ জনগণের এবং যাত্রীবাহী বিমানের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অস্ট্রেলীয় স্বাস্থ্য দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কভিড-১৯ সম্পর্কিত ওয়েবসাইটের তথ্যসমূহ হালনাগাদ করে যাচ্ছে, যেখানে অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের এবং বহির্দেশীয় নাগরিকদের জানা প্রয়োজন এমন সব তথ্য সন্নিবেশ করা হচ্ছে। যেমন জনসমাবেশ সম্পর্কিত তথ্য, সবচেয়ে বেশী হুমকির সম্মুখীন (Vulnerable Group) মানুষদের জন্য তথ্য, পর্যটকদের জন্য তথ্য, স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য তথ্য, সরকারের নেয়া পদক্ষেপসমূহের তথ্য, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাপ্ত, প্রাপ্য এবং প্রয়োজনীয় সম্পদ এর চাহিদা সম্পর্কিত তথ্য, ইত্যাদি। প্রতিদিন অন্ততঃ একবার করে এ ওয়েবসাইটটির উপর চোখ বুলালে কারো আর অজানা কিছু থাকে না।

মেলবোর্নের স্কুলগুলো এখনো বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি, তবে খুব শীঘ্রই হবে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। সরকারী ও বেসরকারী সব অফিসগুলোতে অন্তর্জাল যোগাযোগের মাধ্যমে ঘরে বসে কাজ করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং এতদুদ্দ্যেশ্যে সবাইকে তাদের সেলফোনে ও ল্যাপটপে প্রয়োজনীয় এ্যাপস ডাউনলোড করে রাখার জন্য বলা হয়েছে। ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোর সামনে পাহারা মোতায়েন করা হয়েছে যেন একসাথে বেশি লোকজন ভেতরে প্রবেশ করে ভিড় করতে না পারে। তবে স্টোরের তাকগুলো নিমেষেই খালি হয়ে যাচ্ছে, মানুষের প্যানিক বায়িং এর কারণে। মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার এখনো দোকান থেকে উধাও, আমি চেষ্টা করেও কোথাও খুঁজে পাইনি। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে পাবার সম্ভাবনাও কম বলে মনে হচ্ছে। রাস্তা ঘাট, ট্রেন বাস এখনো খালি হয়নি, তবে ভিড় ভাট্টা অনেক কমেছে। আমার কাছে যেটি সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছে তা হলো, এখন এখানে যে জিনিসটির চাহিদা সবচেয়ে বেশী প্রকট এবং সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে তা চাল ডাল জাতীয় কোন খাদ্য দ্রব্য নয়, কোন ঔষধপত্র নয়, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা মাস্ক চেয়ে না পেলে মানুষ ততটা ক্ষুব্ধ হচ্ছে না, যতটা হচ্ছে টয়লেট টিস্যু পেপার না পেয়ে! আর তা পাওয়া মাত্রই ছুটে যাচ্ছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামগ্রী করায়ত্তের জন্য। তাদেরকে নিবৃত করতে দোকানী ও নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে!!!

মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া
১৬ মার্চ ২০২০, সকাল দশটা।
শব্দসংখ্যাঃ ৪০২

সর্বশেষ আপডেটঃ ২০ মার্চ ২০২০

এই পোস্টটা লিখার ৫ দিন পর, আজ ২০ মার্চ ২০২০ তারিখ সকাল ০৬৩০ ঘটিকা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অস্ট্রেলিয়ায় কভিড-১৯ দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৭০৯, তন্মধ্যে ৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৪ জন। সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস প্রদেশে, ৩০৭ জন। তার পরেই রয়েছে আমাদের (অর্থাৎ আমি যে প্রদেশে বর্তমানে অবস্থান করছি) ভিক্টোরিয়া প্রদেশ, ১৫০ জন এবং তার পরে কুইন্সল্যান্ড, ১৪৪ জন। সমগ্র বিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা ২২৬৮০০, মৃতের সংখ্যা ৯৫০০। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমার স্বদেশ প্রত্যাবরতন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সবাই দোয়া করবেন।

মন্তব্য ১৩ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৩) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪৮

রাজীব নুর বলেছেন: আমি আজ করোনা নিয়ে একটা কবিতা লিখেছি।
আজ সকালে পোষ্ট করেছি।
সময় পেলে কবিতাটায় চোখ বুলাবেনম

১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০৬

খায়রুল আহসান বলেছেন: পড়েছি, এবং একটা মন্তব্যও রেখে এসেছি। ভাল লিখেছেন।

২| ১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:০৫

খাঁজা বাবা বলেছেন: টয়লেট টিসুর চাহিদা বাড়ার কারন কি?

১৬ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৫:০২

খায়রুল আহসান বলেছেন: ওরা তো মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করে না, তাই ওদের টয়লেট টিস্যু পেপার ব্যবহারের পরিমাণ আমাদের চেয়ে অনেক গুণ বেশী। দোকান পাট বন্ধ হয়ে গেলে কোথায় তা পাবে, এ চিন্তাটাই মূল কারণ হবে হয়তো।

৩| ১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৩৫

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: আপনি ভালো থাকুন । করোনা থেকে নিরাপদ থাকুন।

১৬ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:২৫

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে, সহৃদয় মন্তব্যের জন্য। দোয়া করবেন, যেন 'করোনা'র মারণ ছোবল থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারি।
আপনার জন্যেও একই দোয়া রইলো।
প্লাসে অনুপ্রাণিত।

৪| ১৬ ই মার্চ, ২০২০ দুপুর ২:৩৮

নেওয়াজ আলি বলেছেন: ভালো থাকুন। একমাত্র আল্লাহই রক্ষাকর্তা ।

১৬ ই মার্চ, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৮

খায়রুল আহসান বলেছেন: একমাত্র আল্লাহই রক্ষাকর্তা - অবশ্যই, অবশ্যই!
মন্তব্যের জন্য অশেষ ধন্যবাদ।

৫| ২০ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আজ ২০ মার্চ ২০২০ তারিখ সকাল ০৬৩০ ঘটিকা পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য পোস্টের নীচে সংযোজিত হলো।

৬| ২১ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:০১

মিরোরডডল বলেছেন: টিল টুডে ৯২৮ কেইস আর ৭ ডেথ । ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে ।
ম্যাক্সিমাম সিডনীতে । ৩৮২ আর ৬ ডেথ ।
বাসা থেকেই অফিসের কাজ করছি ।
আপনি কি ফিরেই যাচ্ছেন ।
এসময় ট্র্যাভেল না করে এক্সটেণ্ড করে থেকে গেলেই ভালো হতো মনে হয় ।

২১ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৮:৫২

খায়রুল আহসান বলেছেন: পরিস্থিতি সত্যিই এক কথায় ভয়াবহ! বাংলাদেশ এর পরিস্থিতি সত্যিকার অর্থে কেমন, তা অস্পষ্ট। আমার পরিচিত অনেক ডাক্তারের কথা শুনে অনুমান করতে পারি, প্রতিদিন সরকারীভাবে যে পরিসংখ্যান দেশবাসীকে জানানো হচ্ছে, তা সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে সেখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, মারাও যাচ্ছে তিন জন এর অনেক বেশী করে। সেখানকার পরিস্থিতি ইতোমধ্যে ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে। আক্রান্তদের এক দশমাংশেরও পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছেনা, পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও রাসায়নিক দ্রব্যাদির অভাবে। বেপরোয়া জনগণের লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি তখনই শান্ত হবে বলে মনে হচ্ছে, যখন জনপদে ক্ববরের নিস্তব্ধতা নেমে আসবে।
অনেকদিন হয়ে গেল নিজের ঘরবাড়ী ছেড়ে প্রবাসে ঘুরছি। দেশে অনেক কাজ জমে গেছে। সেখানে ছোট ছেলে রয়ে গেছে। তার জন্য দুশ্চিন্তা হয়। দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে, সাথে নিয়ে আসা ঔষধপত্র শেষ হয়ে যাচ্ছে। সে জন্যেই ফিরে যাচ্ছি।
তপ্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে ঝাঁপ দিতে যাচ্ছি কি না, সে কথাই ভাবছি!

৭| ২১ শে মার্চ, ২০২০ সকাল ৯:৪১

মিরোরডডল বলেছেন: এটা একটা ওপেন সিক্রেট ।
সবাই জানে যেটা নিউজ হচ্ছে নাম্বারটা আসলে আরও অনেকি বেশী ।
আর এটাই ভয়াবহ সত্যিটা গোপন রাখা । সোসাইটির সবার জন্য ক্ষতিকর ।
যার যার জায়গা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতেই হবে এখন । নো আদার অপশন ।

আই নো বাসার জন্য মন কেমন করাটা খুবই স্বাভাবিক ।
আমি এখানে একা । ফ্যামিলির সবাইতো ঢাকাতেই । সারাক্ষণই ওদের নিয়ে টেনশন হয় ।

যেতেই যদি হবে নো নেগেটিভ থিঙ্কিং ।
সাবধানে যাবেন । মাস্ট সেলফ কোয়ারেণ্টিন এ থাকবেন ।
ভয়ের কিছু নেই ।ইউ উইল বি ফাইন ।

২৮ শে মার্চ, ২০২০ রাত ১১:৫০

খায়রুল আহসান বলেছেন: অনেক বাধা-বিঘ্ন ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গত ২৫ তারিখ মধ্যরাতে সস্ত্রীক ঢাকা এসে পৌঁছেছি। এখন গভর্ণমেন্ট ইম্পোজড বাট সেল্ফ সুপারভাইজড হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। আগামী অন্ততঃ ১৪ দিন তাই থাকবো, কঠোরভাবে নিয়ম নীতি মেনে চলে। অস্ট্রেলিয়ার অবস্থা খুব দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। তাই আমরা চলে এলেও ছেলে এবং বৌমার জন্য চিন্তা হচ্ছে।
২০ মার্চের আপডেট অনুযায়ী মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০৯, মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে তা বেড়ে আজ দাঁড়িয়েছে ৩৬৩৫ এ। তার মধ্যে ভিক্টরিয়ায় ছিল ১৫০ জন, আজ তা ৬৮৫ জন। মৃতের সংখ্যা ছিল ৬ জন, আজ তা ১৪ জন। খুবই, খুবই উদ্বেগজনক একটা চিত্র!!!!
পুনঃমন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.